#শুভ্রফুল — ২৪
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি নিষিদ্ধ ]
” শুভ্র দাঁড়াও। ইগনোর করছো কেন আমায়? ফোন দিচ্ছিলাম কখন থেকে।
” আমার ক্লাস আছে হিয়া। তুই এখানে আসছিস কেন? আর আমার সাথে তোর তেমন কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে বলে আমার জানা নেই।
করিডোর দিয়ে ক্লাসের দিকে যেতে যেতে বলে শুভ্র
পাশে থেকে হিয়া করুন স্বরে বলে উঠলো,
” আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন শুভ্র? আমার কি তোমার সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কথা থাকতে পারে না? বউকে পেয়ে অনেক বদলে গিয়েছো তুমি?
ক্লাসের সামনে এসে থামলো শুভ্র। সে খানিকটা বিরক্ত হলে ও শান্ত স্বরে বললো,
” হিয়া এটা পার্সোনাল কথা বলার জায়গা নয়। সো চলে যা এখন। আমি পরে তোর সাথে দেখা করবো।
” না আমার কথা শুনতেই হবে তোমায়। আমি সব সময় তোমার পিছু ঘুরেছি। আর নয় কতগুলো দিন তুমি আমায় ইগনোর করছো। আমার থেকে একটা কুকুর ও অনেক ভালো। এতো পিছু ঘুরে না।
জবাব দিলো না শুভ্র ক্লাসের ভেতরে চলে গেলো সে। হিয়া হাত বাড়িয়ে কিছু বলতে নিয়ে ও গুটিয়ে
নিলো। দেওয়ালে হাতটা মুঠো করে বারি মারলো হিয়া। একদিকে বাবা মা বিয়ের জন্য ফোর্স করছে অন্যদিকে এই ছেলেটা কতগুলো দিন ইগনোর করে যাচ্ছে। তবুও নড়লো না হিয়া ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো ক্লাসের বাইরে। ক্ষণে ক্ষণে তাকাচ্ছিলো সে শুভ্রর মুখপানে। বারবার ফোনে টাইম দেখছে কখন ক্লাস শেষ হবে। মুখে টেনশনের চাপ স্পষ্ট। কয়েকদিনের ব্যবধানে চোখের নিচে ডার্কসার্কেল স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সুন্দর ফর্সা মুখটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। শুভ্রর চোখ এড়ায়নি হিয়ার কর্মকান্ডে । মেয়েটার অদ্ভুত আচরনে অবাক হয় শুভ্র হঠাৎ এ ক’দিন এমন আচরনে বেশ সুবিধার ঠেকলো না। তাই এই ইগনোর করা।
__________________
” চাঁচি চুপ করো তো। আমি এসব শুনতে চাচ্ছি না।
আলো শবজি কাটছে পাশেই সাহায্য করছে আলিয়া জাহান। সাথে অনেক করে বুঝাচ্ছিলো আলোর নিজের ভালোটা। তিনি আবার ও বলেন,
” আমাকে ভুল বুঝিস না আলো। বিয়েটা তো আর
আজ কালকার নয়। চারটি বছর হতে চললো। এখন একটা বাচ্চা কাচ্চা নে। পড়াশোনার কথা চিন্তা করতে হবে না তোর। বাড়িতে লোকের অভাব আছে নাকি আর আমি তো আছিই আমি তোকে আদর যত্ন করে বড় করতে পারিনি তো কি হয়েছে তোর সন্তান আমার নাতিনাতনি কে নিজের হাতে মানুষ করবো৷
আলো আলিয়া জাহানের কথা শুনে খুশি হলো।
চাচাকে হারিয়ে চাঁচি এখন নিজের ভুলটা বুঝতে পেয়েছেন। ইশ চাচা যদি বেঁচে থাকতো তাহলে কত খুশি হতো। আবার সন্তানের কথা শুনে খানিকটা লজ্জা ও পেলো৷
” ঠিকই বলেছেন বেয়াইন আমি ও চাই এবার আমার বাড়িতে ছোট্ট অতিথি আসুক। তার ছোট্ট ছোট্ট পা দিয়ে এই চৌধুরী বাড়িটা রাঙিয়ে তুলবে৷
আমি দাদি হবো। আপনি নানু হবেন৷
আলো লজ্জায় তখনই প্রস্থান করলো তাদের সামনে থেকে।
আলোর লজ্জা মাখা মুখ দেখে হেঁসে উঠলেন আলিয়া জাহান। সায় দিলেন আফিয়া চৌধুরীর কথায়। এক গাল হেঁসে তিনি ও বলেন,
” ঠিক বলেছেন বেয়াইন। আমি চাই আমি যার সুখ
পায়নি আমার মেয়েটা সেই সুখ পাক। ও সুখী হোক। আমার মতো অভাগী না হোক। ভালো থাকুক সবসময়। আপনারা ওকে কখনো কষ্ট দিবেন না বেয়ান। মেয়েটাকে আমি সেই ছোট্ট থেকে এই অব্দি কখনোই ভালো থাকতে দিইনি। আর আজ সেই মেয়ের উসিলায় আপনাদের সাথে থাকতে পারছি। নয়তো এখন আমার কি যে হতো!
আফসোস আর হাহাকার করে বলে উঠলেন আলিয়া জাহান। আফসোস করছেন নিজের করা ভুল আর অন্যায়ের জন্য। আফিয়া চৌধুরী কাঁধে হাত রেখে শান্তনা স্বরুপ বলেন,
” কষ্ট পাবেন না বেয়ান। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এটায় অনেক। ক’জন পারে নিজের করা ভুল স্বীকার করতে? দেখুন না আমার ভাবি আলোকে সহ্যই করতে পারে না। তাই বলে সুযোগ পেয়ে আলোকে শিড়ি থেকে ধাক্কা মারতে চেয়েছিলো। যদি সেদিন আমি নিজ চোখে না দেখতাম তাহলে কারোর কথায় বিশ্বাস করতাম না
যতো যা-ই হোক আমার ভাবি এতোটা ও খারাপ নয়। কিন্তু, তা মিথ্যা প্রমান করে ও আমার চোখের সামনে দেখা ঘটনা অস্বীকার করে ফেললো। আচ্ছা যায় হোক আজ আপনার হাতে রান্না খাবো মজা করে রান্না করবেন বেয়ান। আলোর হাতের রান্নার যেই স্বাদ আপনি তো তার চেয়ে ভালো রাঁধেন।
” আলোকে আমিই রান্না শিখিয়েছিলাম। তবুও মেয়েটা পড়াশোনায় কত ভালো। সময় সুযোগ পেতো না কিন্তু সবদিক সামলে নিয়েছে একা হাতে।
দুজন মিলে গল্প করতে করতে রান্না করে৷ নীলিমা
চৌধুরী দুদিন হলো বাবার বাসায় গিয়েছে আঁধার কে নিয়ে। ছেলেটা হোস্টেলে যেতেই চাচ্ছে না। কত করে বুঝাচ্ছে। এখন বায়না তার নানুর বাসায় নিয়ে গেলে তারপর বেড়িয়ে এসে যাবে হোস্টেলে। আবদার পূরন করতে যেতে হলো নীলিমা চৌধুরীকে। আফিয়া চৌধুরীর তাড়া দেওয়ায় যেতে হলো।
আলো রুমে এসে আলিয়া জাহানের কথায় মগ্ন হলো। তার ছোট্ট মনে সন্তানের আশা বাসা বাঁধতে
লাগলো। কল্পনা জল্পনায় নিজেকে জড়িয়ে নিলো।
বেডের এককোণায় হাঁটু মুড়ে বসে হাঁটুতে মাথা রেখে কি যেনো ভাবছে আর মিটিমিটি হাসছে আলো। কেউ দেখলে পাগল ভাববে থাকে। একা একা কেউ হাসে? না কথা বলে?
_________________
” চিতারি মতো যে, বুকেরই ক্ষত যে
কেবলই জ্বলে পুড়ে!
যে ছিলো আমারি, সে হলো ফেরারি
হারালো বহুদূরে!
” ভাইয়া তুমি কেন পাগলামি করছো? আলো ভালো আছে। তোমাকে ছাড়া সে সুখে আছে স্যারের সাথে। প্লিজ খেয়ে নাও।
মিহুলের হাত পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছ।
চেহেরায় ক্লান্তি আর অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। আহি
নরম স্বরে বলা কথায় মিহুল তাচ্ছিল্যের হাসলো।
বললো,
” আমার অবস্থা এখন মৃত মানুষের থেকে বড় নড়বড়ে আহি। আমার শরীরে আমার সাথে নেই মনে হচ্ছে। এই জামিলা আহমেদ আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছে। আচ্ছা আমার জন্য তো কষ্ট হয় না? আমাকে মুক্তি দিয়ে দে আহি। নিজেকে পুরুষ মানুষ ভাবতে ও লজ্জা করছে। কিছুই করতে পারছি না নিজের জন্য। তুই ও একদিন ওদের মতো আমার মৃত লাশের খুনির খাতায় নাম লিখাবি তাই না? তুই চাস আমি মরে যায়?
” এভাবে বলো না মিহুল ভাইয়া। আমার যে হাত পা বাঁধা।
চেঁচিয়ে উঠলো মিহুল। যথাসম্ভব জোর গলায় বললো,
“ভালোবাসি আমি আলোকে। আই লাভ হার!
এটা কি অন্যায়? হুয়ায় ওন’ট দেয় লেট মি, আমার আলোর কাছে যেতে দে। নয়তো মেরে ফেলবো সবাইকে। আই’ল ডিসট্রয় এভরিওন। আমাকে মুক্ত করে দে, লেট মি বি ফ্রি আহি! যা বলবি তাই করবো, আই’ল ডু হোয়াট এভার ইউ স্যায়, সত্যি আই সয়ার,
আমি আমার আলোকে একবার দেখতে চাই। জাস্ট ওয়ান টাইম, শুধু একবার প্লিজ! দয়া কর।
” তুমি এখন অনেকক দূরে মিহুল। আলোর সাথে তোমার দেখা হবে না কখনো। যতোক্ষণ না তুমি আহিকে বিয়ে করছো৷
আহি খাবার রেখে চলে আয়। ওর ডিসিশন ও ভেবে জানাবে। তাহলেই ওর জন্য মঙ্গল নয়তো আলোর পুরো স্মৃতি আমি ওর মন মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলতে দ্বিতীয়বার ও ভাববো না।
বলেই হনহন করে চলে গেলেন জামিল আহমেদ।
আহি বাধ্য মেয়ের মতো চলে গেলো। মিহুলের ভালোবাসা দেখে মাঝেমধ্যে হিংসে হয় আহির। তাকে মেনে নিলে কি এমন ক্ষতি হবে মিহুলের? আলো তো ফিরবে না কখনো অসম্ভব সেটা। কেন বুঝে না মিহুল ভাইয়া? তুমি কেন নিজের ভালে চাও না?
মিহুল সেই পড়ে রইলো ফ্লোরে। জেলখানার থেকে
করুন অবস্থা তার। একটা শক্তিশালী জোয়ান ছেলেকে তো আর মেয়েদের মতো ঘরে আঁটকে রাখলে এমনি এমনি বসে থাকবে না তাই নেশা জাতীয় মিডিসিন ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয় মিহুলের শরীরে যেন তার শরীরে শক্তি না পায়। পালাতে না পারে। ফের চুপচাপ বসে রইলো মিহুল। এই অশান্ত, এই শান্ত, এই ঘুম। এভাবেই কাটছে মিহুলের দুর্দিন।
______________
শুভ্রকে বের হতে দেখেই পথ অবরোধ করে দাঁড়ায়
হিয়া। একবারে সামনে এসে দাঁড়াতেই শুভ্রর বেখেয়ালি ক্লাস থেকে বের হতেই দুজনের ধাক্কা লেগে যায় কিছুটা। শুভ্রর বুকে এসে বারি খেলো হিয়া। সাথে সাথেই ছিটকে দূরে সরে আসলো শুভ্র।
” সরি সরি শুভ্র আমি দেখতে পায়নি।
” হোয়াট হ্যাভ ইউ স্টার্টেড, হিয়া?
” সরি বললাম তো। কি শুরু করবো আমি? আমি
তোমায় কিছু কথা বলতে চাচ্ছিলাম। এখন তো ক্লাস নেই ছুটি এখন প্লিজ একটু সময় দাও আমায়৷
শুভ্র কথা না বলে করিডোরের শেষ মাথায় আসলো। বললে,
” হেই , টেল মি কুইকলি!
” আমি তোমায় ভালোবাসি শুভ্র। আমার মা বাবা অন্য জায়গায় আমার বিয়ে ঠিক করেছ কিন্তু আমি তোমায় ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না। আমি সত্যিই তোমায় ছাড়া থাকতে পারবো না।
” কি আবোলতাবোল বকছিস হিয়া?
শুভ্রর গম্ভীর গলায় বলে। হিয়া শুভ্র হাত ধরে মিনতি করে বলে।
” আমি তোমায় অনেক আগেই ভালোবাসতাম।
ভেবেছিলাম তোমার বউ চলে গেলে আমি তোমায়
মা বাবার সাথে দেখা করিয়ে সবটা সবার সামনে বলবো কিন্তু তুমি তা হতে দিলে না। একটা কথা বলি তুমি ওই মেয়েকে তালাক দাও আমি বিয়ে করবো তোমায়।
” হ্যাভ ইউ গোন ক্রেজি?
” হ্যা আমি পাগল। যা ইচ্ছে বলো আমি তোমাকে চাই। ওই মেয়ে কিছুই না। প্লিজ।
রাগ না করে শান্ত হয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে বলে,
” প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড, হিয়া, দিস ইজন্ট পসিবল!
” তুমি চাইলেই সম্ভব শুভ্র। শুধু তুমি হ্যা বলো বাকিটা আমি দেখবো। নয়তো ওই মেয়েটাকে আমাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিবো। কেউ বুঝতে ও পারবে না।
শান্ত হয়ে থাকা হলো না শুভ্রের। হিয়ার হাত ঝাড়ি মেরে ফেলে দিলো সাথো সাথে থাপ্পড় দিলো। বললো,
” ফ্রেন্ড ছিলিস কিন্তু, বোনের মতো ছিলিস । আর তুই আমাকে..
গালে হাত দিয়ে কথা পিটে কথা বলে উঠলো হিয়া,
” হ্যা আমি ভালোবাসি তোমায়। ওই মেয়েকে ভুলে যাও তুমি।
” শি ইজ মাই লাভ! শি ইজ মাই ওয়াইফ। আই লাভ হার। শি ইজ মাই লাইফ ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড?
” নাহ আমি মানি না।
” ইচ্ছে করছে থাপড়াইয়া তোর সবগুলো দাঁত ফেলে দিই। কিন্তু নাহ! ইচ্ছে করছে না তোর সাথে আর একটা কথা ও বলতে। চোখের সামনে থেকে সরে যা। নয়তো আংকেল আন্টি জানলে জানিস কি হতে পারে?
হঠাৎ ভয় পেলো হিয়া। সরে আসলো সে। শুভ্র
রাগান্বিত হয়ে চলে আসলো।
হিয়া কাঁদতে লাগলো শুভ্রের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে।
_________________
” কাছে আসবেন না চৌধুরী সাহেব। পরকিয়ায় জড়িয়ে গিয়েছেন আজকাল মনে হচ্ছে ! আমার কাছে আসবেন না।
” হোয়াট! আমি আর পরকিয়া মানে কি আলো?
শুভ্র আলো কাছে আসতেই কথাটা বললো আলো
শুভ্রের শার্টের দিকে তাকিয়ে বললো,
” কার সাথে ছিলেন আপনি? আজকাল ক্লাস করা নাকি…
” আলো কিসব বলছো হঠাৎ ?
” আমি ঠিকই বলছি আপনার শার্টে লিপস্টিক আসলো কোথা থেকে? আমি ব্যথিত আপনি অন্য নারীর সাথে ফষ্ট…
” আলো! ডোন্ট টক ননসেন্স!
চলবে,,,,,,

