#শুভ্রফুল — ২৭
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি নিষিদ্ধ ]
শুভ্র তার কক্ষে বসে অস্থির চিত্তে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে আলো কখন আসবে। কেন ও কান্না
করছে কি হয়েছে আলোর? ভেবে পাচ্ছে না সে।
পিয়ন ক্লাস রুমে এসে আলোর কাছে যায়। আলো
কে তিনি খুব ভালো করেই চিনেন। বিশেষ করে লাইব্রেরিতে দেখা সাক্ষাৎ হয় তাদের। লোকটা ও খুব বই পড়ুয়া। অবসর সময়ে তার একমাত্র সঙ্গী কেবল বই হয়। প্রিয় মানুষটা মারা গিয়েছে বছর দুই এক আগে। আলোকে তিনি মাঝেমধ্যেই বলেন
অর্ধাঙ্গিনীর কথা। খুবই ভালো মানুষ ছিলেন তিনি।
চোখে হারাতেন সবসময় তাই বোধহয় একবারেই
চোখের আড়াল হয়ে গেলেন।
” আলো মা স্যার তো ডাকছে তোমাকে। এখনই দেখা করতে বলেছেন৷
আহি নেই তার জন্য এমনিতেই খারাপ লাগছিলো আলোর। মাঝে মাঝে ফোন দিতো আহির নাম্বারে
মিহুলের নাম্বারের কিন্তু, ফোন অফ করা হয়তো
সিম বন্ধ করে রেখেছে। সবকিছু থেকে আহি আলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আলো তাকালো
পিয়নের দিকে বললো,
” আমার ইচ্ছে করছে না আংকেল আপনি স্যারকে বলে দিবেন আমি বাসায় চলে যাচ্ছি।
” কেন কোনো সমস্যা?
” না আংকেল এমনি আহির জন্য মন খারাপ করছে শুধু।
” আহি মেয়েটা বড়ই ভালো ছিলো হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেলো। আচ্ছা আমি স্যারকে জানিয়ে দিচ্ছি ।
পিয়ন ক্লাস থেকে যেতেই আলো ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো ক্লাস থেকে। যেতে যেতে দ্বিধা দ্বন্দ্বে
পড়ে গেলো। যদি সত্যি হয় তাহলে কি শুভ্র তাকে
ছেড়ে দিবে? তার ভালোবাসা? এতোদিনের অপেক্ষা সব নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে? নাহ! এটা কখনোই হতে পারে না।
” আমি আপনাকে জীবন থাকতে ছাড়ছি না শুভ্র।
আপনি আমার কেবলই আমার। আমাদের সন্তান,
আমাদের যদি কখনোই সন্তান না হয় তাহলে?
বাবা মামুনি ওরা কি মেনে নিবে আমাকে? কেন আপনি আমায় আবার ও একা করে দিলেন শুভ্র কেন? হলে হতো মরন তবুও তো নিজ চোখে অন্য কারোর হওয়া দেখা লাগতো না
আলো দ্রুত রিকশা নিলো। উদ্দেশ্য তার সিটি হসপিটাল। ডক্টরের সাথে কথা বলতে হবে। সত্যি
মিথ্যা কেবল তিনিই জানেন।
” স্যার আলো আসবে না বলে দিয়েছে। তারপর দেখলাম ও বেরিয়ে গেলো। বাসায় চলে যাবে বললো।
শুভ্র ওঠে দাঁড়ায়। ক্লাস আছে তার কিছুক্ষণ পরই।
” আচ্ছা আপনি এখন আসুন।
” আচ্ছা।
শুভ্র ফোন বের করে আলোকে ফোন দিলো। ধরলো না আলো। কয়েকবার দিলো তারপর ও কোনো রেসপন্স নেই মেয়েটার। রাগ হলো শুভ্রর
মেয়েটা তাকে কখনোই কিছু বলবে না নিজ থেকে
সব নিজের মনের মধ্যে চেপে রাখবে। বের হওয়াটা ও সম্ভব নয় এই মুহুর্তে । ফোনটা টেবিলের উপর শব্দ করে রেখে দিলো। যেনো সব রাগ ফোনের উপর ঝাড়লো সে৷
____________________
” এসকিউস’মি ড. শফিকুর রাহমান আজাদের সাথে দেখা করতে আসছি পাওয়া যাবে ওনাকে এখন?
রিসেপশনিস্ট মেয়েটি বলেন,
” সরি ম্যাম ডক্টর তো দেশে বাহিরে আছেন।
” কখন আসবেন?
” এক মাস অথবা কয়েকমাস লাগতে পারে মেবি,
আই’ম নট শিওর আই ক্যান টেল ইউ।
” থ্যাঙ্ক ইউ!
” ইউ’র ওয়েলকাম ম্যাম!
নিরাশ হলো আলো। ফ্যাকাশে হয়ে আছে মুখখানা
ভার্সিটিতে যাওয়ার ইচ্ছে করলো না। আর না বাড়ি
কারোর সাথে শেয়ার করার উপায় ও নেই। অদ্ভুত ভাবে কিছুক্ষণ বসে রইলো একটা নিরবিলি লেকপারে এসে। গাছের ছায়ার মধ্যে। মন বলছে ওসব মিথ্যা। কিন্তু, যদি সব সত্যি হয় তাহলে?
ভাবলেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা তৈরি হচ্ছে মনের মধ্যে। ভাবনায় ডুবে থাকতে থাকতে কতক্ষণ ছিলো জানা নেই আলো। ধ্যান ভাঙতেই আলো বাড়ির দিকে ছুটলো। সব ভুলে যাওয়ার তীব্র চেষ্টা করলো। নাহ কিছুই হয়নি। সব ভুল! মিথ্যা সব মিথ্যা!
__________________
” আলো বাসায় এসেছে মম?
আফিয়া চৌধুরীর কপালে ভাঁজ পড়লো। বললেন,
” কেন ও বাড়িতে আসবে? ও তোর সাথে গিয়েছে
আর তোর সাথেই তো বাড়িতে আসার কথা। কি হয়েছে বলতো আমায়?
টেনশন হলো শুভ্রর। বাসায় যাওয়ার কথা বলে মেয়েটা কোথায় গেলো? যাওয়ার মতো তেমন কোনো জায়গা ও তো নেই।
” রাখছি মম পরে কথা হবে।
” আলো কোথা…
রেখে দিলো ফোনটা পকেটে পুরে। বেরিয়ে গেলো ভার্সিটি থেকে। পার্কিং এড়িয়ায় এসে দ্রুত গাড়িটা
স্টার্ট দিলো। ভার্সিটি থেকে বাড়ি পুরো রাস্তায় সে
চোখ বুলায় কোথাও নেই মেয়েটা। খুঁজতে লাগলো যতোদূর চোখ যায়।
ফোনটা রেখে আফিয়া চৌধুরী ডয়িংরুমে আসেন।
আলোকে বাড়ির ভেতরে আসতে দেখতেই বলে উঠলেন,
” আলো একা আসছিস কেন? শুভ্র তোকে সেই
কখন থেকে খুঁজছিলো। আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলো তুই আসছিস কি না! না বলে আসছিস কেন?
” সরি মামুনি।
আলো রুমের দিকে যেতে যেতে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো। সাইলেন্ট করা ছিলো তাই বুঝতে পারেনি। বিছানায় এসে বসে পড়লো ইচ্ছে করলো না শুভ্রকে কল ব্যাক করার। ফ্রেস হয়ে এসে বসে রইলো লিভিংরুমে। বুক সেল্ফ থেকে বই নিয়ে পড়তে বসলো। তবুও মন বসছে না কিছুতেই। তবে মনস্থির করলো কথাটা শুভ্রর মতোই আড়াল থাকবে মনে মধ্যে।
” আপনি যতোদিন আমায় নিজ মুখে সত্যিটা না বলছেন আমি ও চুপ থাকবো। আমি আপনাকে হারাতে পারবো না। শুধুই সুখের লোভি চৌধুরী সাহেব। আপনি আপনার আর পরিবারকে আমি কখনোই ছাড়তে পারবো না। আমি চুপ থাকবো, চুপ! একদম চুপ।
মন বসলো না বই পড়াতে। নিচে আসলো আলো।
নীলিমা চৌধুরী আরিফ চৌধুরী আর আঁধার তারা
কেউই আসেনি এখনো ও বাড়িটা একদম ফাঁকা ফাঁকা লাগে।
কিচেনে যায় আলো শুভ্রর পছন্দের খাবার খিচুড়ি রান্না করবে ভাবছিলো। আবহাওয়া ও বৃষ্টিময় মনে হচ্ছে। আকাশে মেঘ জমেছে। ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আলো।
” আলো রুমে আসো।
সোফায় বসা ছিলেন আফিয়া চৌধুরী। শুভ্র রেগে
আছে বেশ। সে নিজের রুমে চলে যায়। তিনি ওঠে
দাঁড়ালেন। আলো শুনে ও কিচেনেই কাজ করছিলো। আফিয়া চৌধুরী আলোর হাত ধরলো। কাজ করা আটঁকে দিয়ে রাগী স্বরে বললো,
” আলো কি হয়েছে তোর? ছেলেটা ডাকছে তোকে রুমে যা। আমি রান্না করছি।
” আমার ভালো লাগছে না মামুনি। আমি রান্না করি প্লিজ!
” শুভ্রর চেয়ে রান্না বড় তোর কাছে? ওর সাথে কিছু হয়েছে তোর?
” না তো কিছুই হয়নি।
” তাহলে এখনই যা। ওকে রাগিয়ে দিস না। সম্পর্ক
সুন্দর রাখতে শিখ ভাঙতে নয়। দুজন দুজনকে
প্রায়োরিটি দিতে হবে।
আফিয়া চৌধুরী আলোর হাত ধরে জোর করে বের করে দিলেন কিচেন থেকে। আলো রুমের দিকে এগুতে থাকলো। কেমন দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেলো মনে হচ্ছে। এমন লাগছে কেন? কেন আমি নিজেকে ছোট করছি? এতে আমার কি দোষ?
আলো তুইনিজেকে কন্ট্রোল কর। তোর কিছুই হয়নি। সব ঠিক হয়ে যাবে। আলো রুমের ভেতর আসতেই হাত টান পড়লো আলোর। শুভ্র তড়িৎ গতিতে দরজাটা লাগিয়ে দরজায় চেপে ধরলো আলোকে। আকস্মিক ঘটনায় ভড়কে গেলো আলো। আলোর মুখ বরাবর ঝুঁকে বলে উঠলো শুভ্র,
” আমাকে কেন বারবার টেনশনে ফেলো তুমি? তোমার কিছু হলে আমার কি অবস্থা হবে ভেবে দেখেছো? দিশেহারা হয়ে এদিকসেদিক খুঁজছিলাম। কেন এমন করো আমার সাথে কি পাও এমন করে? কেন লুকোচুরি খেলছো?
ভয়ে চোখমুখ খিচিয়ে ফেলে আলো। শুভ্র বেজায় রেগে গিয়েছে।
” আমার হাতে ব্যাথা পাচ্ছি ছাড়ুন।
” আমি যে কষ্ট পাচ্ছি তার কি হবে? কোথায় ছিলে তুমি?
” বা’বাসায় আসছি।
” মিথ্যা বলো না আলো। বলো আমায় কোথায় গিয়েছিলে?
” এভাবে কথা বলছেন কেন আপনি? আমাকে আপনি বিশ্বাস করেন না?
শুভ্র আলোর চোখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে
বলে,
” এখানে বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা নয় আলো। কি এমন কাজ ছিলো তোমার যে আমার ফোনটা অব্দি ধরতে পারোনি।
কি বলবে বুঝে পেলো না আলো। মিথ্যা কথা বলা ও যাবে না। কি বলবে কি..
” আআমি একটু শপিং করতে গিয়েছিলাম।
চোখে চোখ রাখতে পারলো না আলো। শুভ্র হাসলো ছেড়ে দিলো আলোকে।
” গুছিয়ে মিথ্যাটা ও বলতে পারো না।
” আ’আমি মিথ্যা ব’বলিনি আপনাকে। আমি সত্যি
শপিং করতে গিয়েছিলাম।
শুভ্র কিছুই বললো না। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা তার। দ্রুত শাওয়ার নিতে চলে গেলো সে। আলো কাচুমাচু করছে। লোকটা বোধহয় তার উপর রেগে আছে। কিন্তু, কি আর বলার আছে মেডিকেলের কথা বললে তো সব জানাজানি হয়ে যাবে। আর তখন নাহ! আমি চুপ থাকবো শুভ্র রাগ হলে হোক।
শুভ্রর পড়ার জন্য টি-শার্ট ও প্যান্ট বের করে রাখে
আলো। শুভ্র বের হলে ফের কাবার্ড থেকে অন্য টি-শার্ট বের করলো। আলো বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শুভ্রের দিকে, এড়িয়ে যাচ্ছে শুভ্র আলোকে।
” আপনি আমার উপর রেগে আছেন চৌধুরী সাহেব?
মুখ ভার করে জিজ্ঞেস করলো আলো। শুভ্র শান্ত চোখে তাকালো আলোর ভার মুখের দিকে। এবং শান্ত স্বরে বললো,
” রাগ করার মতো কোনো কারন আছে?
” সরি।
” কিসের সরি?
” আপনাকে না জানিয়ে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য । আপনি বিশ্বাস করুন আমি কোথাও যায়নি। লেকপারে পারে বসেছিলাম।
ছোট্ট বাচ্চাদের মতো বোঝাচ্ছিলো আলো। শুভ্র
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে শুনছিলো কথাগুলো। হয়তো বিশ্বাস করলো কাছে এগিয়ে আসলো আলোর।
আলোকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে মাথায় চুমু খেলো অতঃপর বললো,
” আমি জানতে চাই না তুমি আমায় সত্যি অথবা মিথ্যা বলছো। আমি শুধু এইটুকু বোঝাতে চাই আমাকে না জানিয়ে কোনো উল্টাপাল্টা কাজ করবা না আর না কোথাও যাবা। বুঝেছো?
আলো শুভ্রকে দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো। মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। মনটা শান্ত হলো বুঝি। তবুও বললো আলো,
” যতো যায় হোক আপনি আমায় কখনো ছেড়ে যাবেন না আর না ভুল বুঝবেন।
” প্রশ্নই আসে না নিসেস শুভ্র। আপনাকে আমি বিশ্বাস করি।
” চলুন খাবেন।
” হ্যা চলো।
খাবার টেবিলে দুজনকে একসাথে হাসিখুশি দেখে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। এভাবেই যেনো একসাথে থাকে ওরা।
_________________
” মামুনি কোথায় তুমমমি…
আপনি এখানে? কেন এসেছেন এখানে?
সোফায় আরামসে বসে আছে হিয়া। পাশে আবার লাগেজ রাখা আছে। আলো বুঝতে পারলো না কিছুই। আবার ও জিজ্ঞেস করলো আলো,
” আপনি এই বাড়িতে আসছেন কেন? যান বেরিয়ে যান।
হিয়া ওঠে দাঁড়ায়। মুখে তার মৃদু হাসি ঝুলিয়ে বলে
উঠলো,
” আমাকে বের করে দেওয়ার তুমি কে আলো?
আলোর রাগ তিরতির করে বেড়ে গেলো। নিশ্চয়ই তার সংসার ভাঙতে আসছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো আলো,
” আমি এই বাড়ির বড় বউ মিসেস শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। আর আমার হাসবেন্ড এর বাড়িতে এসে আমাকেই বলছেন আমি কে? আপনার ইন্টেনশন
কি আমি তা খুব ভালো করেই জানি।
হিয়া আলোর থুতনিতে হাত রেখে বলে,
” তুমি খুব চালাক আলো। তবে কি জানো আন্টি জানলে তবেই না খেলাটা জমবে। কথায় আছে না
অভাব এসে দরজায় কড়া নাড়লে ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঠিক তেমনই, যতোই আদরের বউয়ের চেয়ে মেয়ে হয়ে থাকো না কেন,
তারা নাতি নাতনির মুখ দেখতে না পেলে ছেলেকে অবশ্যই দ্বিতীয় বিয়ে করাবে। আর বউ কে হবে?
আমি।
” মুখ সামলে কথা বলুন।
” ওমা আমি তো ভালো কথায় বলছি আলো। তুমি
নিজেকে প্রশ্ন করো তো শুভ্রর কথা ভাবো তো।
” আমার কিছুই ভাবার নেই। আমার হাসবেন্ড এর দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত আর শরীরের সাথে কানেক্টেড থাকবে না মিস হিয়া আহসান।
” হিয়া এসেছো তুমি?
আলো থেমে গেলো। আফিয়া চৌধুরী এসেছেন।
হিয়া হাসি মুখে বলে উঠলো,
” আসসালামু আলাইকুম আন্টি। কেমন আছেন আপনি?
” ওয়ালাইকুম আসসালাম হিয়া। আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? আর তোমার মা বাবা? ওনারা আসলো না? কতদিন পর দেখলাম তোমায়।
” আলহামদুলিল্লাহ আন্টি আপনাদের দোয়ায় আমরা অনেক ভালো আছি। মা বাবা ভাইয়ার কাছে চলে গিয়েছে। আমি একাই দেশে আছি। তাই ভাবলাম সবার সাথে দেখা করে যায়। আচ্ছা আন্টি শুভ্র কোথায়?
ওকে তো দেখছি না?
আফিয়া চৌধুরী উৎফুল্লতার সাথে বলে উঠলেন,
” শুভ্রর কথা বাদ দাও তো তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেই,
আলোর হাত ধরে বলেন,
এই হলো আলো শুভ্রর বউ। আর আলো ও হলো
শুভ্রর ফ্রেন্ড। অর্নব শুভ্র আর হিয়া ওরা একসাথে পড়াশোনা করেছে। একদম ভাই বোনের মতো সম্পর্ক তাদের। এই ঝগড়া, এই খুনসুটি, তো এই মিল।
শেষের কথা হিয়ার পছন্দ হলো না কিন্তু, আলো হাসলো। আলো সাথে সাথে বলে উঠলো,
” ওনার বোন মানে আমার ননদ হয় তাই না মামুনি?
হিয়া আপু আসুন আপনাকে রুমটা দেখিয়ে দিই।
মামুনি তোমার ছেলে একটু বাইরে বেরিয়েছে আসলে বইলো তার একমাত্র বোনের সাথে গল্প করছি আমি।
হিয়া রেগে কটমট করছে তবে প্রকাশ করতে পারছে না।
” নিজেকে চালাক ভেবে থাকলে ভুল ভাবছো আলো। আমি সবাইকে সবটা জানিয়ে দিবো।
আলো বিছানাটা পরিষ্কার করে বসলো। হিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসলো। বললো,
” যা ইচ্ছে করুন আপনি আমার কোনো আপত্তি নেই। কারন আমার শুভ্র আমারই আছে ও থাকবে। যে মানুষটা সবটা জেনে ও চুপ করে আছে। সে মানুষটা আমাকে ছেড়ে দূরে চলে যাবে আমাকে বোকা পেয়েছেন আপনি? ওহ হ্যা আপনার প্ল্যান ছিলো আমি রাগ করে এই পরিবারের ভালো চেয়ে দূরে সরে যায় কিন্তু, নাহ আমি যাবো না। আমি থাকবো আমার প্রিয় মানুষদের সাথে।
” স্টপ! তোমার লেকচার শুনতে আসিনি আমি।
তোমায় বলতে হবে না আমি বলবো সবাইকে।
” আপনার যা ইচ্ছে তাই করেন।
চলে গেল আলো। মেয়েটা এতো সয়তান ইচ্ছে করছে জুতো মেরে বের করে দিই। তবে উপায় নেই।
_________________
কত কথা বলা হলো না প্রিয়…
কত সূর্যমুখীর মন ভার
আমার শহর জুড়ে কুয়াশা ঘুম
নীরবে জমা ব্যথার পাহাড়
কত পথ হাঁটা বাকি রয়েছে প্রিয়
কত সন্ধ্যের পথ অন্দকার
হেঁটে চলি আজ সে পথ ধরে
যে পথ আমার একার
” আপুনি..
আধশোয়া হয়ে বসে আনমনে গান গায়ছিলো আলো।
চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে ফিরে তাকায়
আলো দরজার দিকে। আঁধার আসছে সাথে শুভ্র ও। শুভ্রর চোখ আলোর ভারাক্রান্ত মুখের দিকে কিছু বোঝার চেষ্টা করছে।
আঁধার এসে জড়িয়ে ধরলো আলোকে। আলো ও
যত্ন করে কপালে চুমু একে দিলো।
” মিস ইউ আপুনি।
” মিস ইউ ভাইইইই! বস আমার পাশে।
” তুমি খুব ভালো গান গাও আপুনি। আমি তো ফিদা!
” চুপ কোনো কথা নয়।
” আঁধার কাকিয়া ডাকছে তোকে।
শুভ্রর কথায় আঁধার শুনার চেষ্টা করলো সত্যিই ডাকছে কি না। বললো,
” কোথায় ডাকছে ভাইয়া?
” আমি শুনেছি তুই যা।
” আচ্ছা যাচ্ছি।
আধাঁর চলে যেতেই আলো নিজেকে ঠিকটাক করে বসলো। চোখটা ফের মুছলো। পানি টানি থাকলে ঝামেলা আবার।
” কাঁদছিলে কেন আলো? কি হয়েছে?
আলো হাসার চেষ্টা করে বললো,
” কই কাঁদছি আমি?
” মিথ্যা আমার একদম পছন্দ নয় আলো।
” এমনি কাঁদছিলাম। আপনার মতো একটা মানুষ পেয়ে যদি হারিয়ে ফেলি সেই ভয়ে।
” কি হয়েছে বলোতো আলো? কয়েকদিন যাবত এমন উদ্ভট আচরন করছো কেন?
” কই না তো আমি ঠিক আছি। আচ্ছা আমরা না গ্রামে যাবো বলেছিলাম। চলুন না যায়?
শুভ্র আলোর হাতটা মুঠোয় নিয়ে চুমু খেলো। বলে উঠলো,
” অবশ্যই যাবো। বউ বলেছে আর তা হবে না এমন হয় নাকি?
” হেসে উঠলো আলো।
লোকটা কখনো গম্ভীর কখনো মিশুক। কত হাসিখুশি থাকে।
” আমার জীবন ধ্বংস হচ্ছে তোমায় পাওয়ার আশায়। তুমি আমাকে অবহেলা করে অন্যকে যত্ন করো শুভ্র। কিন্তু, আমি তা হতে দিবো না। আমার কষ্ট হয় তোমায় অন্য কারোর সাথে দেখে। একপক্ষীক ভালোবাসার বিচ্ছেদ বুঝো? বুঝলে এতো কষ্ট দিতে না।
চলবে,,,,,

