শুভ্রফুল — ২৬ #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
26

#শুভ্রফুল — ২৬
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি নিষিদ্ধ ]

“লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বসে আছিস নাকি হিয়া? কিভাবে তুই একটা বিবাহিত ছেলের পিছু ছুটছিস বলতো? এটা পাগলামি ছাড়া কি? আমার তো মনে হচ্ছে তোকে ডক্টর দেখনো উচিত।

হিয়া দু’দিন যাবৎ খাওয়াদাওয়া অফ করে দিয়েছে
মুখে কেবল শুভ্র আর শুভ্র। পিছু ঘুরছে বেহায়ার মতো শুভ্রর। বাবা মা মানছে না বলে হিয়া বললো,

” লজ্জা লাগবে কেন মা? আমি শুভ্রকে ভালোবাসি
এটা কি পাপ? ভালোবাসা কোনো অন্যায় নয় মা।
আর আমি শুভ্রকেই বিয়ে করবো নয়তো আর কাউকে নয়। আর আমি এখন সেই সুযোগ ও পেয়ে গিয়েছি। তোমরা এখন ভাইয়ার কাছে চলে যেতে পারো। আমি বাংলাদেশেই থাকবো।

” হিয়া মামুনি পাগলামো করে না। আমরা সবাই তোমার ভাইয়ার কাছে যাবো আর কালই যাবো।
শুভ্র কেবলই তোমার পাস্ট, তুমি ফিউচার নিয়ে ভাবো। আমি চাই না তোমার ক্যারিয়ার শুভ্রর জন্য ধ্বংস হোক। হ্যা শুভ্র ভালো কিন্তু, তার বিয়ে করা বউ আছে। তোমাকে প্রয়োজন নেই তার।

” আমার প্রয়োজন আছে বাবা। আমি থাকবো এখানেই।

চলে গেলো বাবা মায়ের রুম থেকে। হতাশ হয়ে গেলেন দুজন দম্পতি। মেয়েটার অবস্থা এমন হবে
জানলে কখনোই দেশে আসার কথা ভাবতেন না তারা।
________________

শুভ্রর উন্মুক্ত বুকে মাথা রেখে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে আলো। আলো ভাবছে হয়তো, সজাক সে
নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে । শুভ্র ঘুমন্ত অবস্থায় ও আগলে রেখেছে শক্তপোক্ত হাত দিয়ে।
কি মনে করে ঘুমন্ত শুভ্রর দিকে তাকালো আলো। শুভ্রর এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করতে লাগলো।
আস্তেধীরে কানের কাছে মুখ নিয়ে ডাকতে লাগলো আলো,

” শুনছেন আপনি? উঠুন না একটু। বেলা অনেক হয়েছে। ভার্সিটি যাবেন না?

শুনলো না বোধহয় শুভ্র গভীর ঘুমে বিভোর হয়তো। ফের ডাকলো আলো,

” শুনতে পাচ্ছেন আপনি? এতো ডাকছি তবুও উঠছে না লোকটা। রেগে উঠতে নিলেই শুভ্র আর একটু কাছে টেনে নিলো আগলে রাখা হাত দিয়ে। চাইলো জোরপূর্বক, আখিঁপল্লব ডানা ঝাপটালো।

” বলুন ম্যাডাম আমি শুনছি আমি।

কথাটা বলতে উদ্যুত হলে ও বলতে পারছিলো না
আলো। তাই কথা ঘুরাতে বলে উঠলো,

” আজ থেকে আমি ভার্সিটি যাবো। আপনি একা যাবেন না বুঝেছেন?

” এটা বলার জন্য এভাবে ডিস্টার্ব করেছো তুমি?

” সরি ছাড়ুন আমায়। অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে।

” উহুম! ছাড়তে ইচ্ছে করছে না ম্যাডাম।

আলো হাত সরিয়ে নিয়ে বলে উঠলো,

” পারবো না আপনি থাকেন। আমাকে মামুনির সাথে বাইরে হাঁটতে যেতে হবে। মামুনির কোমরে সমস্যা আমি না গেলে একা একা যাবেই না। তারপর রেডি হতে হবে। আটটা বাজতে চলেছে।

” ওকে ফাইন যাও। আন’রোমান্টিক বউ!

” সেটাই ভালো চৌধুরী সাহেব।

ওঠে বসলো আলো। ওয়াশরুমে চলে গেলো সে।
ফ্রেস হতে হবে তারপর আফিয়া চৌধুরীর সাথে বাগানে হাঁটতে হবে খানিকক্ষণ।
_________________

কফিশপে বসে আছেন আতিকা বেগম। একদম এক কোণে নিজেকে খানিকটা আড়াল করে। কারোর জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। কিছুক্ষণ বাদেই একজন আসলো।

” এতে সকাল সকাল আসা যায় আপনিই বলুন আন্টি?

” কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ করতে হয় বুঝলে মেয়ে? শুভ্রের থেকে সামান্য ঘুম তোমার কাছে কি খুব বড় হয়ে গেলো নাকি?

” না না আন্টি আমি শুভ্রকেই চাই। ও আমাকে ছাড়া কেন সুখে থাকবে বলুন? সবসময় ও কিসে কিসে ভালো থাকবে, কিসে হাসিখুশি থাকবে সেটাই খেয়াল রেখেছি। এই তিন বছর জাবত ওই মেয়েটার জন্য শুভ্র তার মা বাবার থেকে দূরে থেকেছে কষ্ট পেয়েছে। আর আজ সেই মেয়ে ওর সাথে থাকবে ইম্পসিবল আন্টি আমি কখনোই মানবো না।

” হয়েছে হিয়া আমার সব জানা আছে। কিন্তু কিছুটা রিস্ক আছে বটে। ওই কথাটা জানাজানি হলে ডক্টর ফেঁসে যাবে। সাথে আমি ও কারন সব কিছুর মাস্টারমাইন্ড তো আমি। এতোকিছু করে ও আফিয়া আমায় ও আমার মেয়েকে চৌধুরী বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি সুযোগ পেয়েও হারিয়ে ফেলেছি। হয়তো আমার মেয়ে চৌধুরী বাড়ির বউ হবে না কিন্তু তুমি তো হতে পারবে। তাই আলোকে সরিয়ে নিজের জায়গা করে নাও। আলোকে তোমার কষ্ট করে সরাতে হবে না এই নাও এখানে সব রিপোর্ট আছে আলোর। ও কখনোই মা হতে পারবে না। চৌধুরী বাড়িতে নতুন প্রজন্ম আসবে না। আফিয়া জানলে আলোকে এমনিতেই মেনে নিবে না। হয়তো থাকবে আলো কিন্তু, শুভ্রকে দ্বিতীয় বিয়ে করাতে পারে এটা আমি শিউর।

হিয়া রিপোর্ট গুলো পড়লো। সস্থির নিঃশ্বাস নিলো
বললো,

” কাজ তো হবেই কিন্তু, আপনার জন্য নাকি ওই মেয়েটা যে আঘাত পেয়েছিলো সেই কারনে এই অপারেশন করা হয়েছে আন্টি?

সয়তানি হাসি দিলো আতিকা বেগম। পরপর মুখের রং বদলে গেলো। চোয়াল শক্ত করে বলে উঠলেন তিনি,

” আমি খেলতে ভিষনই ভালোবাসি হিয়া। আমাকে
ওরা অপমান করেছে দু’টাকার মেয়ের জন্য। তাই
আমি ও দেখি ওই মেয়ে কিভাবে থাকে। যেভাবেই হোক না কেন মা শব্দটার সাথে আকাশপাতাল দূরত্ব এখন আলোর। শুধু আলোকে তার ব্যর্থতার কথাটা জানিয়ে দিলেই হবে। হয়তো দেখতে পারো নিজ থেকে সরে যেতে পারে কারন সে খুবই নরম মনের স্বামীভক্ত আবার।

” তা-ই করবো আন্টি। আমি চেষ্টার কমতি রাখবো না।

” আচ্ছা ওসব রাখো কি খাবে বলো?

” নাহ আন্টি যা দিয়েছো আমায় সেই আনন্দে আজ খাওয়া দাওয়া বন্ধ। আগে আলোর সাথে দেখা করবো। সব দেখাবো আর ওর ইনোসেন্ট ফেইসটা দেখবো অতঃপর পেট পুরে খাবো।

” পাগলি মেয়ে। আচ্ছা আজ তাহলে উঠি।

” আচ্ছা আন্টি। বাবা মা বুঝলো না আমার কষ্টটা
তাই তো বাসায় নিতে পারলাম না। আপনি নিজ থেকে আমায় হেল্প করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আন্টি।

” ধন্যবাদ দিতে হবে না হিয়া। তুমি ও আমার মেয়ের মতো। আমি চাই তুমি শুভ্রর বউ হও অন্তত ওই মেয়ে বিদায় হোক তাতেই আমি শান্তি।

” অবশ্যই আপনার কথা রাখবো আন্টি। দু’জনের
ইচ্ছেই যে এক ।

” আসি তাহলে।

” আচ্ছা আন্টি সাবধানে যাবেন। বাসায় যেয়ে ফোন করে জানাবেন।

চলে গেলো আতিকা বেগম মুখটা স্কাফ দিয়ে ডেকে। হিয়া রিপোর্ট এর ফাইলটা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেলো হাসিমুখে।
__________________

” আজ অনেকটা ভালো লাগছে রে।

” মামুনি প্রতিদিন হাঁটলে আরো ভালো লাগবে।

” কি কথা হচ্ছে মা মেয়ের?

আসিফ চৌধুরী আসেন বাগানের দিকটায়। আলো
মুচকি হাসলো। বললো,

” বাবা মামুনি তো এখন অনেকটা সুস্থতা বোধ করছে। তুমি মামুনিকে নিয়ে প্রতিদিন বাগানেই তো হাঁটতে পারো। বাইরে যাওয়ার কি প্রয়োজন বলো তো?

” ঠিকই বলেছিস আলো তোর বাবা বোঝে আমার
কষ্টটা?

” ওরে বাবা! মা মেয়ে মিলে আজ আমায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। বেশ কাল থেকে মর্নিং ওয়ার্ক বাগানেই হবে।

” হয়েছে ভেতরে আসো তোমরা।

” শুভ্র উঠেনি আলো?

আফিয়া চৌধুরীর কথায় আলো বলে,

” উঠেছে হয়তো। আমি দেখে আসছি।

” যা তো দেখে আয়। ওর তো ভার্সিটি আছে।

” আফিয়া তোমার ছেলেকে বোঝাও ওসব জবটব না করে আমার বিজনেসটা সামলাতে। আমি আর আরিফ তো হিমশিম খাচ্ছি। তাছাড়া আমাদের ও তো বয়স হচ্ছে ও ছাড়া এই বিজনেস এর দায়িত্ব কে নিবে বলো?

আফিয়া চৌধুরী বলেন,

” কিভাবে বলো বলি? ছেলেটার ইচ্ছে এই জবটা করার। আমি না করলে হয়? কারোর ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু হয়?

” তবুও চেষ্টা করতে হবে। এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিলে হবে না।

” আচ্ছা আমি বুঝিয়ে বলবো।
___________________

” আপনার আসার সময় হলো তাহলে ম্যাডাম?

ভয়ে আৎকে উঠলো আলো। এভাবে কেউ পেছন থেকে কথা বলে? শুভ্রকে না দেখে মিররের সামনে এসে লম্বা চুল গুলো হাত খোঁপা করে কাটি দিয়ে বাঁধতে ছিলো আলো ওমনি শুভ্র এসে পেছন থেকে কোমর জড়িয়ে ধরে আলোর কাঁধে থুতনি রেখে বলে কথাগুলো।

” ছাড়ুন ভয় পাইয়ে দিয়েছেন আমায়।

” আমাকে ভয় পাও নাকি?

” এভাবে পেছন থেকে কেউ কথা বলে?

” আমি বলি?

” স্যার মানুষ এতো নির্লজ্জ হয়? স্যার তো সম্মানের জায়গায় থাকে আপনি তো দিন দিন অসম্মানিত হতে চাইছেন চৌধুরী সাহেব?

মিররের দিকে চোখে চোখ রেখে বলে আলো। শুভ্র
হাসলো। ওভাবেই বললো,

” কি করবো বলো স্টুডেন্ট কথা না শুনলে যা হয় আরকি! এখানে অসম্মানের কিছুই নেই।

” স্যার ভিষন দুষ্টু।

” হুম! এমন মিষ্টি স্টুডেন্ট থাকলে স্যার তো দুষ্টু হবেই ম্যাম তাই না।

” সরুন তো সময় দেখেছেন আপনি? এতো লেইট হলে আপনাকে আর জব করতে হবে না।

” বউ বললে করবো না বউকেই সময় দিবো কি বলো?

” তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আসুন। আমি নিচে
যাচ্ছি।

” সারাক্ষণ এতো লাফালাফি করো কেন? কোথাও যেতে হবে না। একসাথে বের হবো। বসো গিয়ে।

গম্ভীর গলায় বলে উঠলো শুভ্র। আলোকে নিয়ে বসালো বেডে। বাধ্য মেয়ের মতো বসে রইলো আলো। শুভ্র রেডি হতে লাগলো।

দুজনে একসাথেই নিচে আসলো।

” ওরা চলে এসেছে। বেয়ান আপনি বসে পড়ুন তো
সবাই একসাথে খাবো।

” ওদের জন্যই অপেক্ষা করা বেয়ান।

বসতে বসতে বললো আলিয়া জাহান। আলো ও শুভ্র বসতেই আসিফ চৌধুরী বলেন,

” তোর সাথে কিছু কথা ছিলো ইম্পরট্যান্ট!

” বলো ড্যাড!

” তুই এই জবটা ছেড়ে দে বাবা। অনেক তো করলি
তিনটে বছর যাবত।

” আহ শুভ্রর বাবা খাওয়ার সময় কি শুরু করেছো
বলোতো?

” এখনই সময় আফিয়া নয়তো পরে সুযোগ পাবো না।

” ড্যাড! তুমি আছো চাচ্চু আছে তাহলে আমাকে নিয়ে এতোটা সিরিয়াস হচ্ছো কেন?

” আমি চাই তুই আমার বিজনেস সামলাবি।

” আমি ওসবে জড়াতে চাই না।

” বাবার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন? ইচ্ছে না
করলে বুঝিয়ে বলবেন।

” আলো এই বিষয়ে কোনো কথা বলো না।

খাবার খাওয়া ছেড়ে চলে গেলেন আসিফ চৌধুরী।
আফিয়া চৌধুরী স্বামীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলেন মুখ ভার করে। খাবার খাওয়া থেমে গেলো সবার।
আফিয়া চৌধুরী বলেন,

” খাবার খাওয়ার সময় কাজের কথা না বললেই নয় আর তোকে ও বলি শুভ্র এখন না করাটা কি খুব জরুরি ছিলো?

” বাবা কষ্ট পেয়েছেন তো।

শুভ্র ওঠে পড়লো। সদর দরজার দিকে পা বাড়ালো। আলো ও পিছু ছুটলো। হতাশা হয়ে বসে রইলেন আফিয়া চৌধুরী ও আলিয়া জাহান। তিনি বলেন,

” টেনশন করবেন না বেয়ান সব ঠিক হয়ে যাবে ।

” সব তো ঠিকই হয়ে গিয়েছিলো বেয়ান এখন আবার কি অশান্তির সৃষ্টি হলো? শুভ্রর বাবা হঠাৎ এতোটা সিরিয়াস কেন হচ্ছে এই সামান্য বিষয় নিয়ে সেটাই বুঝতে পারছি না আমি৷ আপনি ওঠবেন না বেয়ান আপনার খেতে হবে আপনার তো আবার মেডিসিন নিতে হবে৷

‘ হ্যা বেয়ান।
___________________

” এই মেয়ে দাঁড়াও!

আলো ক্লাসে যাচ্ছিলো হঠাৎ পেছন থেকে অচেনা কন্ঠস্বর শুনে ঘুরে ফিরে তাকালো মেয়েটির দিকে।

” আমাকে বলছেন আপনি?

” ইয়েস মিসেস আলো চৌধুরী আপনাকেই বলছি।

শুভ্র পুরো রাস্তায় নীরব ছিলো। আলো ও কিছু বলেনি।
চুপচাপ এসে দুজন দু’দিকে চলে যায়। বাসায় হাসবেন্ড ওয়াইফ হলে ও ভার্সিটিতে স্যার ও স্টুডেন্ট এর সম্পর্ক। আলো অবাক হলো,

” আমায় চেনেন কিন্তু, আমি তো আপনাকে চিনি না? কে আপনি?

ভ্রু জোড়া কিঞ্চিত কুঁচকে তাকিয়ে রইলো আলো,

” হিয়া! হিয়া আহসান! শুভ্রর প্রাক্তন প্রেমিকা বলতে পারো। তোমার কারনে সে আমায় ছেড়ে দিয়েছে। ভাগ্য কি অদ্ভুত তাই না আলো? আমি ভালোবাসি শুভ্রকে আর শুভ্র ভালোবাসে তোমায়। অন্যদিক থেকে মিহুল ভালোবাসে তোমায় আর তুমি ভালোবাসো শুভ্রকে।

” মি. চৌধুরী আমার হাসবেন্ড হয়। আমরা একে অপরকে ভালোবাসবো এটাই স্বাভাবিক। এতে অবাক হওয়ার মতো কিছুই তো আমি দেখছি না মিস হিয়া আহসান।

হিয়া হাতের ফাইলটার দিকে তাকিয়ে হাসলো। তাকায় ফের আলোর উৎসুক দৃষ্টির দিকে,

” অবশ্যই অস্বাভাবিক আলো। তোমার মতো থার্ড ক্লাস মেয়ে আর যে কি না কখনো মা হতে পারবে না সেই মেয়ে কি আদোও ডিজার্ভ করে শুভ্র?

মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হলো আলোর। শরীরটা নাড়িয়ে উঠলো তার। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠলো রেগে,

” ফালতু বকবেন না আপনি। যেহেতু আপনি আমার হাসবেন্ড এর প্রাক্তন সেই সূত্রে আপনি আমাদের ভালো চাইবেন না এটাই স্বাভাবিক। আর আমি আপনার কথা বিন্দু পরিমান বিশ্বাস করি না।

হিয়া ফাইলটা এগিয়ে দিলো আলোর দিকে, বলে উঠলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা কিছু কথা,

” শুনো মেয়ে অল্প বয়স এতোকিছু ভাবার মতো মাথা হয় নি তোমার। যায় হোক! ক’দিন আগে তোমার সেকেন্ড অপারেশন হওয়ার সময় তোমার জীবন বাঁচাতে গিয়ে শুভ্রর অনুমতিতে তোমার মা হওয়ার পথ চিরতরে শেষ করে দিয়েছে। শুভ্র আর কোনোদিন বাবা ডাক শুনতে পারবে না কেবল তোমার জন্য। এই বিষয়টা নিয়ে শুভ্র খুবই কষ্ট পায়। কিন্তু, তোমায় বলে না কষ্ট পাবে বলে।

হতভম্ব হয়ে গেলো আলো। কথা বলার শক্তি বোধহয় হারিয়ে বসে আছে। কান দিয়ে যা শুনছে মনে হচ্ছে আগুনের ফুলকির মতো যাচ্ছে। পুড়িয়ে দিচ্ছে তার মনটা। জীবন যেনো থেমে গিয়েছে।

কোনো কথা বললো না আলো। নিজের ক্লাস রুমে চলে গেলো। বড় করে নিঃশ্বাস নিলো হিয়া চলে গেলো ভার্সিটি থেকে। এখন যা করার আলোই করবে।
_____________________

শুভ্র ক্লাস করাচ্ছিলো মাঝেমধ্যে তাকাচ্ছিলো আলোর দিকে। কিন্তু, মেয়েটাকে কেমন উদাসীন লাগছে। কান্না করছে, কিন্তু কেন? শুভ্রর বার বার ভুল হচ্ছিলো মনটা আলোর কাছে ছুটো যাচ্ছিলো। সময়টা ও বেশ বড় মনে হচ্ছে। খুব দ্রুত ক্লাস শেষ করলো। নিজের অফিস কক্ষে এসে পিয়নকে দিয়ে আলোকে তার কক্ষে যাওয়ার জন্য নোটিশ পাঠালো।

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here