#শুভ্রফুল — ৩০
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি নিষিদ্ধ ]
“তোমার কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনি হিয়া। তুমি শুভ্রকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দাও তো।
যে মেয়ে সামান্য তেলাপোকার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসতে পারে সেই মেয়ে আরেকটা মেয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রিয় মানুষকে নিজের করতে পারবে বলে আমার তো মনেই হয় না।
হিয়ার ফোন আসাতে রিসিভ করে কানের কাছে নিতেই গড়গড় করে বলে উঠলো আতিকা বেগম। হিয়া অবাকবনে গেলো। তেলাপোকার ভয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে ওনার তো জানার কথা না তাহলে? প্রশ্ন জাগলো হিয়ার মনে। সে বললো,
” তেলাপোকার কথা রাখো আন্টি। আগে বলো তো
তুমি কি করে জানলে আমি তেলাপোকার ভয়ে চলে আসছি চৌধুরী বাড়ি থেকে?
” সেই কথা তোমার জানতে হবে না। তুমি কি চাও
শুভ্র আলোর সাথে ভালো থাকুক? তুমি সহ্য করতে পারবা তো?
” কথা ঘুরাবেন না আন্টি। আমার কথার জবাব দিন আগে।
হাসির শব্দ শোনা গেলো। আতিকা বেগম হাসছেন
শব্দ করে।
” হাসছো কেন আন্টি?
” বোকা মেয়ে। তোমার উপর ভরসা করলে আমি
কখনো সাকসেসফুল হতে পারবো?
ভ্রুঁ কুঁচকালো হিয়া। বললো,
” তুমি তো আমায় সাহায্য করতে চাও তাহলে আর কিসের সাকসেসফুল এর কথা বলছো তুমি আন্টি ?
” ওসব তোমায় জানতে হবে না মেয়ে। তোমার যা কাজ তুমি করো বা না করো এটা তোমার ইচ্ছে আর আমি কি করবো না করবো সেই বিষয়ে না ভাবলে ও চলবে।
কল কেটে দিলো আতিকা বেগম। রেগে ফুঁসে ওঠে
হিয়া। সবাই স্বার্থপর কেউ সাহায্য করে না। যা করার নিজেকেই করতে হবে। ভালোবাসার মানুষ কে পাওয়ার জন্য সব করা যায়। কারোর সাহায্য লাগবে না।
নীহাদ্রের অফিস কক্ষের দিকে যেতে লাগলো হিয়া।
শুভ্র আসেনি অপেক্ষা করতে লাগলো হিয়া। কয়েক মিনিট পর আসলো শুভ্র। হিয়া সাথে সাথে
বলে উঠলো,
” আমার কথা না শুনলে আলোর অসম্পূর্ণতার কথা আন্টি আংকেলের কানে যেতে কয়েক সেকেন্ড ও লাগবে না শুভ্র। এখন পুরোটায় তোমার
উপর নির্ভর করছে। আলোকে ছাড়বে নাকি পরিবার?
সবে ক্লাস শেষ করে এসেছিলো তার কক্ষে শুভ্র।
তিক্ত বাক্য শুনে চোখে মুখে কঠোরতায় চেয়ে যায়। হাত দু’টো মুঠো বন্ধী করে ফেলে। হাতটা ইসপিস করছে দু’চারটে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য। তাকে ব্ল্যক মেইল করছে এই মেয়ে। কিন্তু নাহ এটা অফিস এখানে পার্সোনাল বিষয়ে ঝামেলা না করায় ব্যাটার।
” যা ইচ্ছে তাই কর। এখন চোখের সামনে থেকে দূর হো তো।
হিয়া উল্টো দাঁড়িয়ে না থেকে বসে পড়লো। আয়েশ করে বসে শুভ্রর দিকে একমনে তাকিয়ে
বলে উঠলো,
” তোমার রাগটাকেই আমার ভিষন ভালো লাগে।
আমি তোমার ভালোর জন্য বলছি শুভ্র। নয়তো পরে অনেক পস্তাবে। তোমার কি বাবা হওয়ার ইচ্ছে জাগে না ইচ্ছে করে না তোমায় কেউ বাবা বলে ডাকুক?
” আর একটা ফালতু কথা বললে তোকে এখানে শেষ করে দিবো। আউট!
” যাবো না আমি।
রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না শুভ্র। বললো,
থাপ্পড় দিলো তারপর বললো,
” ভালোভাবে বললে শুনবি না জানি তাই ভালো রুপ দেখিয়ে লাভ নেই। ওঠ! আর কখনো আসলে
গাল দু’টো আস্তো থাকবে না বলে দিলাম।
” ছাড়ো শুভ্র। আমি যাবো না। তুমি আলোকে ছেড়ে দাও। আমি আলোর থেকে কোন দিক দিয়ে
কম? আলোর থেকে ও তোমায় বেশি ভালোবাসবো আমি।
শুভ্র হাত ধরে টেনে কক্ষের বাইরে এনে ধাক্কা দিয়ে
রুমে বাইরে ফেলে দিলো। বললো,
” নেক্সট টাইম আসলে তোর অবস্থা খুব খারাপ হবে।
” ইস! এভাবে কেউ ধাক্কা দেয়? হাতটা লাল হয়ে গিয়েছে। আমি ভালোবাসি তোমায় অন্যায় তো করিনি।
” ষ্টুপিড গার্ল!
দরজা লাগিয়ে ফেললো।
বাইরেই দাঁড়িয়ে রইলো। নড়লো না সে বললো,
” আমি যাচ্ছি না এখানেই দাড়িয়ে থাকবো৷
ক্লাস শেষ হতেই বাইরে আসলো আলো। আজ পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছে আলো। অনেকদিন যাবত ভালো ভাবে ক্লাস করতে পারেনি
আলো। অবশ্য সব নোটই দিয়েছে শুভ্র তবে নিজের মতো করে বুঝতে পারলে সুবিধা হয় তার।
ভেবেছিলো শুভ্রর অফিস কক্ষে যাবে অতঃপর দেখা মিললো হিয়ার। দেখেই রাগ শরীরে টগবগিয়ে উঠলো আলোর৷ হিয়ার জয়েনিং আজকে এই ভার্সিটিতে। শুভ্র বলেছিলো। দ্রুত পা চালিয়ে হিয়ার কাছে পৌঁছালো সে।
” আসসালামু আলাইকুম। ভালো আছেন?
হিয়ার আলোকে দেখে একটু ও ভালো লাগলো না। সে বললো,
” ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমার ভালো থাকার বারোটা বাজিয়ে এখন জিজ্ঞেস করছো কেমন আছি? ফাজিল মেয়ে কোথাকার।
আলো ঠোঁট চেপে হাসলো। বললো,
” হিয়া আপু সরি ম্যাম আপনি এখানে ক্লাস করাতে আসছেন নাকি অন্যের জামাই কে নিয়ে টানাটানি করতে? যায় হোক! তেলাপোকার দৌড় কেমন লাগলো? একেবারে ভালোবাসা ভুলিয়ে দিয়েছে চৌধুরী বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছেন দেখছি। আরেকবার ট্রায় করতে হবে যদি আপনার মন থেকে আমার স্বামীর নামটা ও ভুলিয়ে দিতে পারে।
হিয়া রেগে আছে বেশ। জোর গলায় বলে,
” আমি চৌধুরী বাড়ি থেকে চলে এসেছি বলে আমি সব মেনে নিয়েছি এটা ভাবলে ভুল ভাবছো বোকা মেয়ে। সামান্য তেলাপোকার জন্য ভালোবাসা ভুলে যাওয়ার মতো মেয়ে আমি না। আমি শুভ্রকে আজ হোক বা কাল আমার করেই ছাড়বো।
আলো নিজেকে সামলাতে পারলো না। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
” থাক তোকে বুঝিয়ে লাভ নেই। তোর মতো মেয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা অযথা। এই নে তেলাপোকা দেখি এখন কোথায় যাস। গিফ্ট এনেছিলাম তোর জন্য । বাধ্য হয়ে এখনই দিতে হচ্ছে।
হিয়া তেলাপোকার নাম শুনে এক লাফ দিয়ে দূরে চলে যায়। চিৎকার করে বলে উঠলো,
” আমি তোমায় শেষ করে দিবো আলো। বড্ড বাড়াবাড়ি করছো তুমি।
আলো তেলাপোকা একটা ডিল মারলো হিয়ার দিকে। হিয়া তৎক্ষনাৎ দৌড়ে চলে গেলো ভয়ে।
আলো হাসতে হাসতে বলতে লাগলো,
” তার আগে তেলাপোকার হাত থেকে বাঁচেন ম্যাম।
আলো শান্ত তবে নিজের জিনিস নিজের কাছে রাখতে জানে। আর সাথে এই গিফ্ট বক্সটা ও।
ভাগ্যিস রাবারের তৈরী তেলাপোকা ছিলো। ভয় পেয়েছে নিশ্চয়ই।
নক করলো আলো, শুভ্র রেগে কিছু বলতে নিবে তখনই আলোকে দেখে থেমে গেলো কথা বলা। রাগ আর বিরক্ত সরে গিয়ে মৃদু হাসলো শুভ্র, বললো,
” বাহ! চৌধুরী সাহেবা দেখছি নিজেই ধরা দিয়েছে আমার কাছে।
আলো ভেতরে না গিয়ে মৃদু রাগ করে বললো,
” বাসায় যাবো।
” বউ রাগ করেছেন?
ঝুঁকে কানের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো শুভ্র।
আলো সেভাবেই বললো,
” হুহ! এখন রাগ ভাঙান।
ভেতর থেকে ফোন টা এনে আলোর হাত ধরলো শুভ্র। বললো,
” চলুন তাহলে শুরু করা যাক কারনহীন রাগ ভাঙার অহেতুক চেষ্টা।
” ঠিক আছে, আমি কারনহীন নয় কারন যুক্ত রাগ করেছি কারন, সরি আমি রাগ করে আছি।
হাসলো শুভ্র। গাড়ির কাছে এসে দরজা খোলে দিলো। আলো বসতেই তার পাশের সিটে বসলো শুভ্র। ড্রাইভিং করবে সে। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে বললো,
” তো রাগ ভাঙাতে হলে কি করতে হবে শুনি?
” অন্যের কথায় নয় জনাব, নিজের ট্যালেন্টে বউয়ের রাগ ভাঙাবেন। আমি বড়সড় রাগ করেছি
আজ।
আলোর হাতের উপর হাত রাখলো শুভ্র। শক্তপোক্ত ভাবেই ধরলো হাত খানা । বললো,
” ওকে বড়সড় রাগ বাঙানোর প্ল্যান করছি। সেটা না হয় সারপ্রাইজ থাকুক।
হাত ছাড়িয়ে নিলো আলো। বললো,
” ছাড়ুন! আমি রাগ করেছি।
এভাবেই বাড়িতে গেলো তারা দুজন। তারা ও অবাক হল। আফিয়া চৌধুরী সহ সবাই রেডি হয়ে কোথাও যাবে নাকি? আলো ও শুভ্রকে দেখে আসিফ চৌধুরী বলে উঠলো,
” শুভ্র আমরা একটু বাইরে যাচ্ছি। কালকে বিকেল
হবে ফিরতে আলোর খেয়াল রেখো। আর আলিয়া আপা ও আমাদের সাথে যাবেন।
” আমি থেকে গেলে ভালো হতো না।
” না না আপনি কখনো কোথাও যান না তাই আজ
সবাই মিলে যাবো আপনার ও ভালো লাগবে।
আফিয়া চৌধুরীর কথায় আর কিছুই বললো না আলিয়া জাহান। আলো খুশিই হলো বললো,
” আমাদের কথা চিন্তা করতে হবে না চাঁচি তুমি যাও মামুনিদের সাথে।
” শুভ্র আলো আমরা আসি।
আসিফ চৌধুরী, আফিয়া চৌধুরী, আরিফ চৌধুরী ও নীলিমা চৌধুরী তাদের মধ্যে আলিয়া জাহান তিনি যেতে চেয়েছিলেন না কিন্তু না ও করতে পারেনি। দুজন সার্ভেন্ট আছে শুধু পুরো বাড়িতে।
তাদের একজন কাজ গুছিয়ে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। আরেকজন শুভ্রকে
দেখে জিজ্ঞেস করলো,
” কিছু লাগবে?
” নাহ আন্টি। আপনি রেস্ট নিন লাগলে আমি নিয়ে নিবো।
চলে গেলো মহিলাটি। শুভ্রর আগে আগে আলো চলে গেলো রুমে। পিছু পিছু গেলো শুভ্র। কেন রাগ করে আছে তার শুভ্রফুল জানা নাই। হাজার চেষ্টা করলে ও বলবে না। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে রুমে আসলো
সে। ইতিমধ্যে জামাকাপড় নিয়ে আলো ছুটেছে ওয়াশরুমে শাওয়ার নিবে। শুভ্র ব্লেজারটা খোলে এসি অন করে দিয়ে বিছানায় বসলো। কিছুক্ষণ পর বের হলো আলো। বেখেয়ালিতে আলোর দিকে চোখ পড়তেই থমকালো শুভ্র। লাল পারের সাদা
শাড়ি পড়েছে আলো সত্যি এযেনো সাদার শুভ্রতায় ফুটন্ত এক ফুল। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষন করলো শুভ্র। আলোর সেদিকে খেয়াল নেই সে লম্বা ঝামেলা যুক্ত চুল গুলো মুছতে ব্যাস্ত, হঠাৎ শুভ্রকে নিজের অনেকটা কাছে এবং মুখের সামনে পড়ে থাকা চুলগুলোকে সরিয়ে দিতেই যেনো শিউরে উঠলে আলো। যত্ন করে কানের পাশে গুঁজে দিলো চুলগুলোকে। আলো যেনো ফ্রিজড হয়ে গেলো। শুভ্র দূরত্ব গুছিয়ে নিলো নিজের সাথে আলোর। আলোর বন্ধ আঁখি পল্লবে চুমু খেলো। আলো ধীরে ধীরে তাকালো শুভ্রর মুখপানে। শুভ্র ধীর কন্ঠে আওড়ালো,
” আমাকে পাগল বানানোর পায়তারা করছেন নাকি চৌধুরী সাহেবা?
বলেই শুভ্র আরো একটু ঝুঁকতে নিলে স্তম্ভিত ফিরতেই ধাক্কা দিয়ে সরে আসলো আলো। লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করেই বলে উঠলো,
” আমি রাগ করে আছি আপনার সাথে মনে রাখবেন ভুলে যান কেন?
শুভ্র হাসলো। বললো,
” ফাইন মিসেস। আমি মনে রাখবো না আপনি অলওয়েজ মনেই আছেন।
” এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত শাওয়ার নিন।
শুভ্র দেওয়ালে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে দাড়িয়ে আলোর দিকে নিগুঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,
আলো বিরক্ত হলো। বললো,
” এভাবে কি দেখছেন? তাকাবেন না।
” আপনাকে দেখছি ম্যাডাম!
” না দেখবেন না। যান!!
” কোথায়? আপনার কাছে যাবো?
আলোর রাগ বজায় রেখে হতাশ গলায় বললো,
” থাক! আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন আমিই তাহলে চলে যাচ্ছি।
” আলো!
” ডাকবেন না আমায়। শাওয়ার নিয়ে নিচে আসবেন খাবার রেডি করছি আমি।
বলেই বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে গেলো আলো।
শুভ্র আলোর যাওয়ার পানে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ হাসলো। চলে গেলো ওয়াশরুমে শাওয়ার নিতে।
_______________
এদিকে আলো ডাইনিংটেবিলে একা একা বসে কিছু ভাবতে লাগলো। শুভ্র টাউজার ও টি-শার্ট পড়ে নিচে আসে। আলোকে আনমনা হয়ে ভাবতে। দেখে পাশের চেয়ারে এসে বসলো।
হালকা শব্দেই ভাবনার ঘোর কাটলো আলোর। সে
সাথে সাথেই সোজা হয়ে বসলো। তড়িঘড়ি করে প্লেট এনে ভাত দিতে লাগলো। শুভ্র খেয়াল করলো বিষয়টা গম্ভীর গলায় শুধালো,
” আলো..
আলো ছোট্ট করে জবাব দিলো।
” বলুন।
” কি হয়েছে হঠাৎ?
” কিছু না তো।
” তাহলে কি ভাবছো এতো?
” নাহ কিছু না। আপনি খেয়ে নিন।
” তুমি খাবে না?
আলোর একটু মনমরা হয়ে বললো,
” খেতে ইচ্ছে করছে না।
শুভ্র কথা না বাড়িয়ে প্লেটে ভাত মেখে লোকমা এগিয়ে দিলো আলোর মুখের কাছে। বললো,
” কোনো বারন নয় খেয়ে নাও।
” বললাম তে ইচ্ছে করছে না।
” বারন শুনতে চায়নি হা করো।
হা করলো আলো। শুভ্র নিজে ও খাচ্ছে আলোকে
ও খাওয়াচ্ছে। শেষে বললো,
” সামান্য বিষয় নিয়ে টেনশন করতে করতে তো দেখছি মনটা অন্যজনকে দিয়ে দিচ্ছো। যেখানে আমি থাকি সেই জায়গা তুমি হিয়াকে দিচ্ছো কেন সেটাই তো আমি বুঝতেছি না মিসেস চৌধুরী।
আলো বোকার মতো তাকিয়ে থাকে শুভ্রর দিকে।
শুভ্র ও দুঃখী ভাব নিয়ে আলোর দিকেই তাকিয়ে আছে। আলো হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতেছে না। এটা ঠিক ভাবনার বিষয়টা হিয়া’ই।
” আপনি আসলেই যা তা।
” মানে?
উঠে দাঁড়ালো সে রুমে চলে গেলো। শুভ্র ও গেলো
সাথে সাথে।
” আলো আমি ভুল কি বললাম বলো?
” আপনার সাথে কথা-ই বলবো না।
” আমার ভুল?
” জানি না।
” কে জানে?
” আপনি জানেন।
বিছানায় এসে বসলো আলো। মনটা ভার হয়ে আসছে বারংবার। শুভ্র আলোর পাশেই ফ্লোরে বসলো।
” বউ এভাবে রাগ করে থেকো না বুকটা চিনচিন করছে।
” আমি রাগ করিনি। আমার কোনো রাগ নেই আপনার উপর। বুক চিনচিন করলে মেডিসিন খান৷ কতবার বলবো আপনাকে?
” খাবার থেকে আসে না এই চিনচিন ব্যাথাটা। মন থেকে আসে। মুড অফ কেন শুনি? আমার জন্যই তো ?
আলোর পায়ের কাছে বসে হাঁটুতে মাথা এলিয়ে দিয়ে বললো শুভ্র। আলো শুভ্রর মাথায় হাত রাখতে গিয়ে ও রাখলো না। দক্ষিণের জানালা দিয়ে প্রচন্ড বাতাস বয়ছে। দুজনের চুলই এলোমেলো করে দিচ্ছে। আলো বাইরের দিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থা অবলোকন করতে পারছে। প্রকৃতি বাইরে ঝড় হলেও যেমন ঘরের ভেতর শান্ত। তার ও তেমন অবস্থা বাইরে শান্ত হলেও ভেতরকার অবস্থা বাইরের তীব্র জড়ো হাওয়ার থেকে অসহনীয়।
” হিয়ার জন্য ভয় পেয়ে থাকলে আপনি ভুল মিসেস। আমার একজনই তুমি। আর হিয়া হলো আমার বোন। ভাবছি ওর পরিচয়পত্র চেইঞ্জ করে মম ড্যাডের নাম বসিয়ে দিবো কি বলো? না তুমি টেনশন করবে না আমার বুক চিনচিন ব্যাথা করবে। দু’জনেই শান্তি।
” মজা করছেন?
” উহুম! আ’ম সিরিয়াস।
আলো আনমনে বলে উঠলো,
” চৌধুরী সাহেব…?
শুভ্র জবাব দিলো,
” বলেন চৌধুরী সাহেবা।
আলোর উদাসীন দৃষ্টি শুভ্রর দিকে, খুবই কৌতুহল
হয়ে বললো,
” যে যাকে ভালোবাসে সে তাকে পায় না কেন?
শুভ্র আলোর পা কানা নিজের দিকে এনে আলতো
হাতে নিজের আয়ত্তে নিয়ে বললো,
” ভালো তো সবাই বাসতে পারে তবে ক’জনেরই বা মনের মিল হয়? আমি তোমায় ভালোবাসি আর তুমি আমায় এভাবেই তো ভালোবাসা হয়! অমিলের কেবলই বিচ্ছেদ হয় ৷
আলো আফসোস করে বললো,
” জানেন শাঁকচুন্নির জন্য বড্ড মায়া হয়। ও আপনাকে ভিষণ ভালোবাসে।
শুভ্রর সোজাসাপ্টা উত্তর,
” ভালোবাসলে আগলে রাখতে জানতে হয়
ম্যাডাম। হারিয়ে গেলে পিছু ছুটলে কি হবে? ছিলাম তো এতোদিন কই কখনো তো বলেনি৷
আলো সাথে সাথে বললো,
” শাঁকচুন্নি বলে দিলে আপনাকে পাওয়া হতো না চৌধুরী সাহেব। ওর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাকে হারাতে চাই না।
” হারাতে দিচ্ছে কে বলোতো? আর আমি তুমি কি ছোট নাকি যে হারিয়ে যাবো পাগলি বউ
আমার।
চলবে,,,,,

