আমার_উপমা_তুমি [সূচনা পর্ব]

0
37

১.
“হাটুর বয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে করতে লজ্জা করল না তোমার, ইয়াশ?”

ঘরভর্তি লোকের সামনে মায়ের মুখে এমন কথা শুনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল ইয়াশ। বয়স তার কতোই বা হয়েছে ৩০ কি ৩১। এমনভাবে বলছেন, মনে হচ্ছে সে ৫০ পেরিয়ে ৬০-এ পা রেখেছে! বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে তাকাল মায়ের দিকে। বলল ওনাকে,
“আমি ওতোটাও বুড়ো হয়ে যাইনি, আম্মু।”

“বুড়ো হয়ে যাওনি মানে! এই মেয়ের বয়স কম,ওর কাছে তো তুমি বুড়োই।”

মায়ের সাথে তাল মিলিয়ে বলল আফিয়াও,
“বুঝতে পারছো না, আম্মু? এই জন্যই এতবার বলার পরেও তোমার ছেলে রাজি হচ্ছিল না বিয়েতে। কে জানে, কে এই মেয়ে! কোথা থেকেই বা ধরে নিয়ে এসেছ একে।”

ইয়াশের রাগ হচ্ছিল বোনের কথা শুনে।বাড়ি ফিরেই এমন হবে জানলে এখানে আসতোই না আজকে। সবাইকে থামাতে ইয়াশ ধমক দিয়ে বলে উঠল ওদেরকে।

“তোমাদের মেলোড্রামা বন্ধ করবে?”

“আমরা মেলোড্রামা করছি? বিয়ে করতে না করতেই এমন কথা! কই, ভেবেছিলাম ভাই লন্ডন থেকে এসেছে এত বছর পরে। দেখেশুনে বিয়ে করাব তাকে, কত মজা করব তার বিয়েতে। তা আর হলো কোথায়…”

পুরো কথাটা শেষ করার আগেই আবারও ধমক দিয়ে উঠল ইয়াশ। কান ওর জালাফালা বোনের বকবকানিতে।

“চুপ করবি তুই?”

ভাইয়ের এত বড় ধমকে কেঁপে উঠল আফিয়া। রাগী মুখ করে তাকিয়ে রইল অন্যদিকে। ইয়াশ শান্ত হলো, একবার তাকাল ওর পেছনে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে। পরে আবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল ওনাকে।

“বিয়ে করছি না বলে তুমিই তো এতদিন আমার মাথা খাচ্ছিলে, আম্মু। বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছি এখন তাকে বরণ করতে এত কথা কিসের?”

“আমি তোমাকে বিয়ে করতে বলেছি, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে উপযুক্ত মেয়েকে। এমন বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে বলিনি তোমাকে,ইয়াশ। কে এই মেয়ে? পরিচয়ই বা কী?”

“পরিচয়! ও খন্দকার ইয়াশ রায়হানের ওয়াইফ। তোমার আর আব্বুর বউমা, এই বাড়ির একমাত্র ছেলের বউ। আর কোনো পরিচয়ের দরকার আছে, আম্মু?”

ছেলের উত্তরে হতভম্ব বনে গেলেন সুফিয়া বেগম। যে ছেলে কখনোই ওনার মুখের উপরে কথা বলতো না সে আজকে ঘরভর্তি মানুষের সামনে এভাবে কথা বলছে ওনার সাথে! ছেলের মুখপানে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললেন সুফিয়া বেগম,
“ইয়াশ, তুমি কবে থেকে আমার মুখে মুখে কথা বলতে শিখলে? বড় হয়ে গেছ বলে কি তোমাদের জীবনের সব সিদ্ধান্ত একা একাই নিবে?”

এত দূর জার্নি করে এসে এত কথা ভালো লাগছে না ইয়াশের। মাথাটা ঠান্ডা হওয়া চাই আপাতত। ইয়াশ ওর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার হাত ধরে সামনে নিয়ে এল। চোখ দিয়ে ইশারা করতেই মেয়েটা পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে চাইল ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুফিয়া বেগমকে। মেয়েটা নিচু হতেই সরে গেলেন সুফিয়া বেগম। ইয়াশের ভালো লাগল না বিষয়টা। মেয়েটির হাত ধরে নিয়ে গেলো তাকে নিজের রুমে। ঘরের মানুষজন সবাই তাকিয়ে রইলেন ওদের যাওয়ার পানে।

রুমে এসেই কোনোদিকে না তাকিয়ে কাবাড থেকে জামাকাপড় বের করে ওয়াশরুমে চলে গেছে ইয়াশ। প্রায় অনেক সময় পরে বেরিয়ে এসেছে সে। মাথাটা এখন ঠিক লাগছে। এত সময় কিসের মধ্যে দিয়ে গেছে কেবল ইয়াশ নিজেই জানে। রুমে আসতেই বিছানায় গুটিশুটি মেরে বসে থাকা মেয়েটাকে চোখে পড়ল ওর। মেয়েটা প্রচণ্ড রকমের ভয় পেয়েছে। ভয় পাওয়ারই কথা বাচ্চা মেয়েটার সাথে চোখের সামনে এতো কিছু হয়ে গেছে ভাবলেও খারাপ লাগছে ওর। হাতের টাওয়েলটা রেখে আস্তে আস্তে হেঁটে কাছে গেলো মেয়েটার, বলল ওকে,

“নাম কী তোমার?”

পরনে থাকা শাড়ির আঁচল মুঠোয় নিয়ে মুচড়ামুচড়ি করছে মেয়েটি। মুখ তুলে তাকাল না ইয়াশের দিকে, নিচের দিকেই তাকিয়ে বলল মিনমিনে কণ্ঠে,

“কাশফিয়া।”

“আগে পিছে কিছু নেই? শুধুই কাশফিয়া!”

মেয়েটা মাথা নাড়াল যার উত্তর হ্যাঁ, তারপর আস্তে আস্তে বলল নিজের পুরো নাম।

“কা…কাশফিয়া জামান উপমা। সবাই কাশফিয়া নামেই ডাকে।”

ভ্রু কুঁচকে মেয়েটির দিকে তাকাল ইয়াশ, গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল ওকে,

“তোমার কি তোতলানোর অসুখ আছে, মেয়ে?”

পটাপট মাথা দুলিয়ে না সূচক উত্তর দিল কাশফিয়া। হাসল হাসল, ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করল মেয়েটিকে। বয়স বেশি হলে ১৮ এর কাছাকাছি হবে। উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙ, টানা টানা চোখ, লম্বা চুল, সঙ্গে সুন্দর হাসির অধিকারিণী মেয়েটি। ইয়াশ মুগ্ধ হয়ে দেখছে মেয়েটিকে এই মেয়েটা কোথায় লুকিয়ে ছিল এতদিন? কেন সে আগে ধরা দেয়নি ইয়াশের কাছে? পরক্ষণেই আবার মাথায় এল সে পাগলের মতো কী ভাবছে এসব? মেয়েটা বাচ্চা, ইয়াশের সঙ্গে তার যায় না কোনোভাবেই। নিজেকে কিছুক্ষণ মনে মনে বকাঝকা দিয়ে বলল ইয়াশ,

“উপমা নামটাই সুন্দর। তুমি যতোদিন এখানে আছো, আমি বরং তোমাকে উপমা নামেই ডাকব।”

মুখ তুলে তাকাল কাশফিয়া, নজরে এল ইয়াশের উদোম চওড়া বক্ষদেশ। মুখের দিকে তাকাতেই কী যেন হলো ওর, মাথার ভিজে চুলগুলো এসে লেপ্টে আছে কপালে, ছুঁয়ে ছুঁয়ে পানি পড়ছে চুল থেকে। ফর্সা মুখশ্রীতে পানির ফোটা যেন মুক্তর দানার ন্যায় চকচক করছে। এভাবে চোখের সামনে ইয়াশকে দেখে অস্বস্তি হলো কাশফিয়ার, লজ্জায় নুয়ে নিল নিজের মাথাটা। ইয়াশ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, মেয়েটা কি লজ্জা পাচ্ছে তাকে দেখে? তবে এই অর্ধ পরিচিত মেয়েটার নামটা মনে ধরেছে ইয়াশের শুনতে বেশ লাগে, উপমা! কী যেন ভেবে অজান্তেই হাসি ফুটল ইয়াশের মুখে। উঠে গিয়ে একটা শপিং ব্যাগ নিয়ে ওর সামনে রেখে বলল,

“চেঞ্জ করো।”

মাথা তুলে ইয়াশের মুখপানে তাকাল কাশফিয়া, লোকটার কথার মানে বুঝে উঠতে পারল না সে। চেঞ্জ করবে মানে,ওনার সামনে কিভাবে চেঞ্জ করবে? ইয়াশ লক্ষ্য করল মেয়েটার চাহনি, নিজেরই কেমন বিভ্রান্তি লাগল। কী বলে দিয়েছে খেয়াল করেনি তখন। গলা খাকড়ি দিয়ে বলল ইয়াশ,

“ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করতে বললাম। আমার সামনে দাঁড়িয়ে চেঞ্জ করতে বলিনি তোমাকে। এত অবাক হলে যে!”

“অবাক হওয়ার মতোই তো বললেন আপনি।”

ভ্রু কুঁচকাল ইয়াশ। মেয়েটাকে দেখে যতটা লাজুক মনে হয়, আদৌ কি সে এমন? ইয়াশের মনে হচ্ছে সে অতি চঞ্চল।

#আমার_উপমা_তুমি [সূচনা পর্ব]
#আফরোজা_আঁখি

#চলবে কী…?

পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে জয়েন হন আমার গ্রুপে।

আমার গ্রুপ—https://facebook.com/groups/569604222322147

রেসপন্স করুন, পরবর্তী পর্বগুলো ১৫০০-২০০০ শব্দেরই দিব।

পরের পর্ব —https://www.facebook.com/61564128154756/posts/122162136026470938/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here