#আমার_উপমা_তুমি —০২
#আফরোজা_আঁখি
❌অনুমতি ব্যাতীত কপি নিষিদ্ধ।
কাশফিয়া মাত্রই বেরিয়েছে শাওয়ার নিয়ে। পরনে থাকা বিয়ের শাড়িটা পালটে পড়েছে একটা থ্রি পিস। জামাটা পুরোপুরি ফিট হয়েছে ওর শরীরে। মাঝপথে এসে গাড়ি থামিয়েছিল ইয়াশ, ফোন বের করে কাউকে কল দিয়েছিল তখন। কিছু সময় অপেক্ষা করতেই দুটো ছেলে-মেয়ে এল সেখানে, হাতে থাকা শপিং ব্যাগগুলো ধরিয়ে দিল ইয়াশকে। ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা ইয়াশের পাশের সিটেই ছিল কাশফিয়া। ছেলে মেয়ে দুটো উৎফুল্ল হয়ে কথা বলতে চেয়েছিল তার সাথে, কিন্তু তাদের খুশিতে জল ঢেলে গাড়িটা স্টার্ট করে দিল ইয়াশ। গাড়ির জানালা দিয়ে কাশফিয়া তাকিয়েছিল পিছনে, দেখতে পেয়েছিল ছেলে-মেয়ে দুটোর রাগান্বিত মুখশ্রী।
রুমে কেউ নেই দেখে স্বস্তি পেল কাশফিয়া। এই বাড়িটা আর বাড়িতে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ পুরোপুরি অচেনা তার কাছে। ইয়াশের সাথে পরিচয় কিছুক্ষণ আগে। ওই পরিচয়টা যে বিয়ে পর্যন্ত চলে যাবে, ধারণাতেও ছিল না ওর। কি যেন ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল কাশফিয়া, বিছানায় রাখা ল্যাপটপটাতে হাত দিলেই কানে ভেসে আসল কারো কর্কশ কণ্ঠ।
‘হাত দিবে না ওটাতে।’
ভয়ে হাতটা সরিয়ে নিল কাশফিয়া। ভাবুক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ইয়াশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল।
‘কেন, এটাতে কি আছে?’
আপনা আপনি ভ্রু কুঁচকে এল ইয়াশের। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কথা কোনো কালেই পছন্দ নয় তার। এই মেয়ে কিনা কিছুক্ষণের পরিচয়ে কৈফিয়ত চাইছে তার থেকে! রেগে বলল ইয়াশ।
‘নিজের মতো থাকো, আমার কোনো বিষয়ে ভুলেও নাক গলাবে না। বেশি কথা বললে যেখান থেকে নিয়ে এসেছি, সেখানেই ছেড়ে আসব।’
কাশফিয়া কথা বলল না আর। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো ওখানেই। ইয়াশ দ্রুত এসে নিয়ে গেল নিজের ল্যাপটপটা। কাশফিয়া কেবল নীরব চোখে তাকিয়ে রইলো ওর যাওয়ার দিকে। নিজেকে কেমন ফেলনা মনে হচ্ছে ওর। ফেলনাই তো, বাবা মা ছাড়া বড় হয়েছে সে। মামা যদিও নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন সবসময়। কিন্তু মামী কখনো আপন করে নেননি তাকে। তাই তো জেনেশুনে সবসময় পড়াশোনা করতে চাওয়া ১৮ বছরের কাশফিয়াকে তুলে দিচ্ছিলেন এক চল্লিশার্ধ বয়সের লোকের কাছে। পৃথিবীতে আপন বলতে কাশফিয়ার এক ভাই-ই আছে, নাম ওর কৌশিক, যে কিনা বাইরে থাকে। নিয়ম করে প্রতিমাসে টাকা পাঠাতো বোনের জন্য। সেজন্য মামীও উপরে উপরে ভালো মানুষি দেখাতেন সবসময়। কিন্তু দুই তিন মাস হলো কোনো খোঁজখবর নেই কৌশিকের। মামীর আসল চেহারা বেরিয়ে আসতেও সময় লাগেনি খুব একটা। কানের কাছে বারবার বলছিলেন, বিয়ে করে নিতে, কৌশিক নাকি মারা গেছে, আর আসবে না দেশে। রাগ লাগছিল কাশফিয়ার, ভাই সম্পর্কে এমন কথা শুনেই মাথায় আগুন ধরে যাচ্ছিল ওর। মুখের উপর যাতা বলেও দিয়েছে ওনাকে। ফলস্বরূপ মামীর শক্তপোক্ত হাতের থাপ্পড় পড়েছে কাশফিয়ার গালে। বিছানায় বসে কথাগুলো ভাবছে কাশফিয়া। চোখ বেয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়েছে ওর। অন্য হাতের সাহায্যে মুছে নিয়েছে চোখের সেই পানিটুকু।
ইয়াশ দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাশফিয়ার দিকে। মেয়েটা কান্না করছে, কোনোভাবে কি ইয়াশের কথায় রাগ করেছে সে! করলে করুক, ইয়াশের কি আসে যায় তাতে? বাড়ির গৃহকর্মী নূরী বেগম এসেছেন ইয়াশের দরজার সামনে। ডাকতে এসেছিলেন খেতে যাওয়ার জন্যই। ইয়াশ ওনাকে দেখলেই ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করল। উনিও হেসে উত্তর দিলেন ওর কথার। চোখের ইশারায় কিছু বললেই, মহিলা বুঝতে পেরে চলে গেলেন ওখান থেকে। ইয়াশ আস্তে আস্তে হেঁটে গিয়ে পাশে বসল কাশফিয়ার, শান্ত কণ্ঠে বলল ওকে।
‘এই মেয়ে, কাঁদছো কেন তুমি? আমি কি তোমাকে মারধর করেছি? একটা ধমকই তো দিয়েছি।’
নাক টেনে লাল লাল চোখ দুটো নিয়ে ইয়াশের মুখপানে তাকাল কাশফিয়া, বলল ওকে।
‘এমনভাবে বলছেন, মনে হচ্ছে মারধর করলেই আপনি খুশি হতেন।’
ইয়াশের হয়তো পছন্দ হলো না মুখের উপর কথা বলাটা। ভ্রু জোড়া কুঁচকে তাকিয়েছে কাশফিয়ার দিকে, ধমকের স্বরে বলে উঠেছে ওকে।
‘বাবাহ! তোমাকে দেখে তো মনে হয় না এত কথা জানো। শুনো, “উপমা”, আমার সামনে মোটেও নিজেকে চালাক প্রমাণ করতে আসবে না।’
মুখ ফিরিয়ে নিল কাশফিয়া। সে তো বরাবরই এমন। দুই মিনিট কথা না বলে থাকলেই কেমন দম বন্ধ লাগে ওর। এই লোকটাই বা এমন কেন? বারবার ধমক দিয়ে কথা বন্ধ করতে চাইছে তার। হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে ইয়াশের রুমে প্রবেশ করেছেন নূরী বেগম। ওনার হাত থেকে খাবারের প্লেটটা নিয়ে চলে যেতে বলল ইয়াশ। ভদ্রমহিলা দাঁড়ালেন না এক মুহূর্তও, মাথা নাড়িয়ে চলে গেলেন ওখান থেকে। কাশফিয়ার চোখের সামনে খাবারের প্লেট ধরে বলল ইয়াশ।
‘খাবারটা খেয়ে নাও।’
খাবারের প্লেটের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল কাশফিয়া। অসহায়ের মতো বলল ইয়াশকে।
‘আমার ভাইয়াকে এনে দিন। আপনি না বললেন ভাইয়ার ঠিকানা আপনার জানা আছে।’
মুহূর্তেই চোখ-মুখে অন্ধকার জমলো ইয়াশের। বলেছিল তো ঠিকই, কিন্তু কোথা থেকে নিয়ে আসবে কৌশিককে! পরিস্থিতি সামলাতে আবারও বলে উঠল কাশফিয়াকে।
‘তুমি কি খাবারটা খাবে?’
‘আমার খিদে নেই।’
‘খেলে খাও, নইলে বসে থাকো।’
কথাটা বলেই উঠে চলে গেল ইয়াশ। কাশফিয়া কেবল শূন্য চোখে তাকিয়ে রইলো ওর যাওয়ার দিকে। মনে মনে বকাঝকা করল ইয়াশকে। ফর্সা মুখটা অন্ধকারে ঢেকে গেছে কাশফিয়ার। ভাবছে ইয়াশের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে—– ‘লোকটা এমন কেন? সুন্দর করে কথা বললে কি আল্লাহ পাপ দিবেন ওনাকে!’
–—–
রাত হয়েছে অনেকটা, দিনের আলো কেটে গিয়ে অন্ধকার নেমেছে চারিদিকে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে কাশফিয়া। পুরো রুমে সে ছাড়া আর কেউ নেই, একা একা বসে থাকতেও বিরক্ত লাগছে। বাইরে গিয়ে যে কারো সাথে কথা বলবে, ওই সাহসটাও নেই। এখানের সবাই তো অচেনা তার কাছে, তার মধ্যে আবার বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেখেছিল সবার ব্যবহার কেউ-ই যে খুশি হয়নি তাকে দেখে, বুঝতে বাকি নেই এটা কাশফিয়ার।হুট করেই মনে হলো, কেউ দাঁড়িয়ে আছে ওর পিছনে। ঘুরে তাকালেই রাগত্ব স্বরে বলে উঠল কেউ।
‘এই মেয়ে, নাম কী তোমার?’
মাথাটা নুইয়ে উত্তর দিল কাশফিয়া।
‘জি! কাশফিয়া।’
‘ইয়াশকে তুমি চেনো? কতদিন হলো চেনো? বুঝেশুনে বিয়ে করেছ তো?’
কাশফিয়া তাকিয়ে রইল মেঝের দিকেই। কী উত্তর দেবে ঠিক বুঝতে পারছে না সে। দুজনের কথা বলার মাঝখানেই কারো গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসল তখন। দুজনেই তাকালেন ব্যাক্তিটির দিকে,
‘তুমি আব্বুকে বুঝেশুনে বিয়ে করেছিলে আম্মু?’
রাগ হলো সুফিয়া বেগমের। ছেলের দিকে তাকিয়ে কটমট কণ্ঠে বলে উঠলেন তিনি।
‘কিসের সাথে কী মিলাচ্ছ তুমি ইয়াশ?’
ইয়াশ চোখের ইশারায় রুমে যেতে বলল কাশফিয়াকে। দাঁড়াল না কাশফিয়া, ফটাফট মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো ইয়াশের কথায়। ওর পাশ কাটিয়ে চলে গেল রুমে।
মায়ের মুখোমুখি এসে আবারও জিজ্ঞেস করল ইয়াশ,
‘রাগছো কেন? তুমি আমাকে বলো, আব্বুকে তুমি বুঝেশুনে বিয়ে করোনি আম্মু।’
থমথম খেয়ে গেলেন মিসেস সুফিয়া। এই ছেলের মধ্যে এত পরিবর্তন এলো কী করে? ইয়াশ এতটা পালটে গেছে যে মায়ের মুখে মুখে কথা বলছে! নিজেকে স্বাভাবিক করে বললেন ইয়াশকে।
‘বুঝেশুনেই করেছি। অবুঝের মতো কথা বলছ কেন ইয়াশ?’
‘অবুঝের মতো কথা তো তুমি বলছ আম্মু। ও আমাকে না চিনলে বিয়ে করবে কেন? আমার হাত যখন ধরেছে, বুঝেশুনেই ধরেছে!’
ছেলের যুক্তি শুনে হতভম্ব বনে গেলেন সুফিয়া বেগম। চোখ মুখে বিস্ময় নিয়ে বললেন কেবল।
‘ইয়াশ!’
‘আমার ভালো খারাপ নিয়ে তোমার এত মাথাব্যথা কবে থেকে আম্মু? তোমার ওই ছেলে কোথায়, যার জন্য আমাকে সব সময় নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে!’
ছেলের কথায় অভিমানের আভাস পেলেন সুফিয়া বেগম। আফিয়া বা ইয়াশ কেউ-ই ছিল না তখন। দত্তক নিয়েছিলেন এক-দুই বছরের এক বাচ্চা ছেলেকে। শখ করে নাম রেখেছিলেন ঈশান। তার দুই তিন বছর পর আফিয়া এলো ওনার কোল আলো করে। পরে ইয়াশ। ছোটবেলা থেকেই ইয়াশ আর আফিয়ার তুলনায় ঈশানকে বেশি আদর করতেন সুফিয়া বেগম। এক সময় চঞ্চল ইয়াশকে পাঠিয়ে দিলেন লন্ডনে। ছেলে ওনার আগের মতো চঞ্চল নেই, বড় হয়েছে এখন, বুঝতে শিখেছে বাস্তবতা। সাথে সাথে মায়ের সাথে দূরত্বও বেড়েছে তার। প্রতিদিন ছেলেকে ফোন দিয়ে কত কী বলতেন সুফিয়া বেগম বোঝাতে চাইতেন তিনি কখনোই আলাদা করে দেখেননি কাউকে। মনে হতো ইয়াশের ভুল ভেঙেছে। প্রথম প্রথম ফিরে আসতে চাইত ইয়াশ, কিন্তু সুফিয়া বেগম ফোনেই হম্বিতম্বি করতেন ছেলের উপরে। জেদ করে এতদিন বারবার বলার পরেও আসতে রাজি হয়নি দেশে। হুট করেই দুই দিন আগে ফোন দিয়ে জানালো সে আসছে। খন্দকার মঞ্জিলে খুশি ফিরে এসেছিল যেন, কিন্তু প্রথম দিনই আবার ছেলের সাথে তিক্ততা বাড়বে ওনার ভাবনাতেও ছিল না। সুফিয়া বেগম গটগট করে হেঁটে দরজা পর্যন্ত গেলেন, ফিরে তাকিয়ে আবার শক্ত কণ্ঠে বললেন ইয়াশকে উদ্দেশ্য করে।
‘কিছু শাড়ি রেখে গেলাম, তোমার বউকে বলো শাড়ি পরার অভ্যাস করে নিতে। খন্দকার বাড়ির বউরা এসব থ্রি-পিস পড়ে ঘুরে না।’
ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মায়ের দিকে, কিছু বলল না অবশ্য। সুফিয়া বেগমও আর ছেলের সাথে কথা বাড়াতে চাইলেন না, তাই চলে গেলেন ওখান থেকে।
–—–
ছাদে সুন্দর করে বসার জায়গা আছে, এই সময়টাতে বাড়ির সবাই ই এসে আড্ডা দেয় এখানে। ইয়াশ এতদিন মিস করেছে বাড়ির সবাইকে। ছাদের রেলিঙে হাত ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আনমনে ভাবছে কী যেন। আচমকাই মনে হলো, কেউ দাঁড়িয়ে আছে পিছনে। মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল উজ্জ্বলকে। হাসল ইয়াশ, এই লোকটারই অপেক্ষায় ছিল এতক্ষণ ধরে। উজ্জ্বল হলো আফিয়ার হাজবেন্ড, আবার ইয়াশের চাচাতো ভাই। উজ্জ্বলের আব্বু-আম্মু মা/রা গেছেন সেই কবেই। ও যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে, তখন এক এক্সিডেন্টে মা/রা যান দুজনেই। কোলেপিঠে করে ওকে বড় করেছেন সুফিয়া বেগমই। ছেলেটা ভালো, আর সুদর্শন মেয়েকে তাই তুলে দিয়েছেন ওর হাতে। বয়সে উজ্জ্বল ইয়াশের থেকে অনেকটাই বড়, তবুও দুজনে যেন বন্ধুর মতো। উজ্জ্বল আলতো করে ধাক্কা দিল ইয়াশের কাঁধে, এক গাল হেসে বলল।
‘কেমন আছ শালা বাবু? শুনলাম বউ নিয়ে এসেছ! উনি কি সেই সৌভাগ্যবতী, যার প্রেমে মজেছিলে তুমি?’
মুচকি হাসল ইয়াশ, তাকাল আকাশপানে। কিছুক্ষণ ওভাবে থেকেই বলল উজ্জ্বলকে।
‘তোমার ব্যবসা কেমন চলছে ভাইয়া?’
‘ভালোই। তা কথা কাটালে বুঝি!’
‘কি জানতে চাইছ তুমি?’
‘বিয়েটা হলো কীভাবে? আগে থেকেই কি সব সেট করে রেখেছিলে? এদিক দিয়ে কাজটা কিন্তু মীরজাফরের মতোই করলে। সব কথা এই দুলাভাইকে বলো, আর বিয়ের কথা বললে না!’
‘বলব বলেই তো ডেকেছি। মেয়েদের মতো গাল ফুলিয়ে আমার মুডের বারোটা বাজিওনা তো।’
ইয়াশ আর উজ্জ্বল দুজনে গিয়ে বসেছে চেয়ারে। সিমি এসেছে মামা আর বাবার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে। ইয়াশ আসার পর এই মাত্রই দেখা হলো সিমির সাথে। বয়স ওর ১৬ কি ১৭ হবে, মেয়েটা যখন ক্লাস ফোরে পড়ে তখন দেশ ছেড়েছিলো ইয়াশ।লন্ডনে ওর ফুপির বাসাতেই গিয়ে উঠেছিল সে। মায়ের আদর খুব কমই পেয়েছে যা পেয়েছে সব ফুপির। এই একজন মানুষকেই ইয়াশ ভালোবাসে নিজের থেকে বেশি। ওর ফুপির ছেলেমেয়ে নেই তাই ওনি ইয়াশকেও নিজের ছেলের মতোই আগলে রেখেছিলেন সেই ছোট বেলা থেকে।দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। ছোট্ট সিমি এখন বড় হয়েছে।ইয়াশও এখন আর আগের মতো ছন্নছাড়া, বাউন্ডুলে নেই। বাড়ির পরিবেশ, প্রতিটি মানুষের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে এসেই। সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছে, হয়েছে ইয়াশ নিজেও। সিমি চলে যায়, তার বাবা আর মামার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ইয়াশ ভাবছে কাল সন্ধ্যার কথা। উজ্জ্বল ওদিকে চোখের চশমাটা ঠেলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইয়াশের কথা শুনতে।
#চলবে…..
পড়ুন রোমান্টিক ই-বই “রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM
গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাতে জয়েন হন আমার গ্রুপে।
আমার গ্রুপ—https://facebook.com/groups/569604222322147

