#তোমার_আমার_প্রেম
#বোনাস_পর্ব
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।অন্ধকারের মাঝে প্রাণপণে দৌড়ে যাচ্ছে ঈশানি।কিন্তু রাস্তা যেনো ফুরোচ্ছে না।বারবার ঘুরেফিরে একই জায়গায় এসে আটকে যাচ্ছে। চারদিকে মানবজীবনের কোনো অস্তিত্ব নেই।এ যেনো গোলকধাঁধা।ঈশানি ক্লান্ত হয়ে হাঁটুতে দুই হাত রেখে হাল্কা উবু হয়ে দাড়িয়ে পড়ে। জোরে জোরে নিশ্বাস ছাড়তে থাকে।ঠিক তখনই দূর থেকে এক স্বচ্ছ, তীক্ষ্ণ আলো এসে পড়ে তার মুখের উপর, মুহূর্তেই অন্ধকার ভেদ করে যেন সবকিছু স্থির হয়ে যায়। স্থির অবিচল হয়ে পড়ে ঈশানি নিজেও। আলোর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে ভয়ানক এক দানব। যে দেখতে হবুহু মানুষের মতো হলেও আচরণ জানোয়ারের থেকেও নিকৃষ্ট।ঈশানি ভয়ে , আতঙ্কে নিজেকে বাঁচাতে আবার দৌড় দেয়।যেখানে সে শুনতে পায় পিছন থেকে বিশ্রী হাসির শব্দ আর ঝংকার তোলা শব্দগুচ্ছ –
“তোর রেহাই নেই।তোকে আমি ধরে ফেলবো।মেরে ফেলবো।তোর রেহাই নেই।”
ঈশানি প্রাণপণ ছুটে চলেছে।তবুও সেই রাক্ষুসে দানব লোক আঁকড়ে ধরে ফেলে ঈশানিকে।
জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে বসে ঈশানি।কপালে তার বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে,ছেড়ে ছেড়ে শ্বাস বেরোচ্ছে,বুকের হাপর অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে।চারপাশে তাকিয়ে বাস্তবতা ও কল্পনার পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে।ঈশানির চিৎকার শুনে ছুটে আসে আরহান।ঈশানি আরহানকে দেখে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো বলে-
” কোথায় চলে গিয়েছিলেন আমাকে রেখে? আমাকে নিয়ে যেতে এসেছিলো ও।আমাকে মেরে ফেলবে বলছে। ও আবার এসেছিলো।”
আরহান ঈশানির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।ঈশানি আরহানের বুকের মধ্যেই বিড়বিড় করছে। আরহান ঈশানির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে –
“কেউ নেই এখানে। এটা শুধু তোমার স্বপ্ন ছিলো। আমি আছি এখানে।কিচ্ছু হবে না তোমার।শান্ত হও।”
ঈশানি শান্ত হয় না।সেভাবেই বিড়বিড় করতে থাকে।পরপর দুবার একই ঘটনার স্বীকার হয়ে ঈশানির মনে ভয় ঢুকে গেছে।তার অবচেতন মস্তিষ্ক তাকে দুর্বল করে তুলেছে।ঈশানির চিৎকার শুনে মিনারা বেগম,জাহিদ চৌধুরী ও উঠে আসেন।।জাহিদ চৌধুরী এগিয়ে এসে ঈশানির মাথায় হাত রাখলে সে চোখ তুলে যায়।জাহিদ চৌধুরী অভয়বাণী দিয়ে বললো –
“ঈশানি ,আমার কথা শোনো। এগুলো তোমার মনের ভয় মা।রনি তো এখনো জেলে। ও কিভাবে আসবে?তুমি অযথা ভয় পাচ্ছো।”
ঈশানি তাকায়।স্থির অবাক চাহনি।সুধায় –
“জেলে মানে? এটা …এটা সত্যি। সে এসেছিলো।আমি দেখেছি।এটা আমার কল্পনা না–হতেই পারেনা।”
জাহিদ চৌধুরী ভাতিজিকে আগলে নিলেন।তারপর আদুরে হাত বুলিয়ে দিয়ে স্নেহভরা কন্ঠে বললেন –
“রনি কীভাবে আসবে এখানে বলো? ও তো জেলে।এখনো ওর বেল হয়নি। ও নিজেই জেলে পচে মরছে তোমাকে কিভাবে নিতে আসবে?মনের এসব ভয় ঝেড়ে ফেলো।আমরা সবাই আছি।কিচ্ছু হবে না”
ঈশানি এবার চমকালো।থমকালো।তারপর অবিশ্বাস চাহনি দিয়ে বললো –
” না চাচ্ছু, ও জেলে নেই। ও বাহিরে আছে।কলেজের ওয়াশরুমে…
বলতে বলতে আরহানের দিকে তাকালো।তারপর আরহানকে বললো –
“আপনি তো ছিলেন সেখানে।বলুন না।ওখানে ওই রনি এসেছিলো না।বলুন।”
আরহান নরম করে ঈশানির হাত ধরলো।তারপর শান্ত স্থির কন্ঠে বললো –
“তোমার মনের ভুল ওটা ঈশানি।সেখানকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করা হয়েছে।রনিকে কোথাও দেখা যায়নি— না ঢুকতে না বেড়োতে।সবচেয়ে বড় কথা পুলিশ জানিয়েছে ওকে এখনো মুক্তি ‘ ই দেয়া হয়নি। ও এখনো জেলেই আছে।”
ঈশানি বিস্ফোরিত নয়নে তাকালো।তার স্পষ্ট মনে আছে ওয়াশরুমের কাহিনী। আর ওইটা রনি ‘ ই ছিলো।ঈশানি মানলো না।বরং নিজে জোর দিয়ে বললো –
“বিশ্বাস করুন ওটা রনি ছিলো। ও বলেছে আমাকে ধ্বংস করবে সসব শেষ করে দেবে।”
মিনারা বেগম এবার তেঁতে গেলেন।ঝাঁঝালো কন্ঠে বললেন –
“আমার ভাইয়ের ছেলে নাহয় একটা ভুল করে ফেলছে তাই বলে তুই ওর জীবন এভাবে নষ্ট করবি।ছেলেটা এখন জেলে আছে তবুও সহ্য হচ্ছে না।মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছিস।”
ঈশানি করুণচোখে তাকালো ছোটোমার দিকে।ছোটমা ইতোমধ্যে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেছেন।কারণ জাহিদ চৌধুরী ধমকে উঠেছেন নিজের সহধর্মিণীকে।ঈশানি আর কিচ্ছু বললো না।একদম চুপ হয়ে গেলো।জাহিদ চৌধুরী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে নিজের কক্ষে চলে গেলো।ঈশানি নিস্তব্দ বিমূঢ় হয়ে বসে আছে।তার মাথা ভার হয়ে আছে।মনে হচ্ছে চারপাশ থেকে অদৃশ্যভাবে ভেসে আসছে ছোটমা,অলিভিয়া,রিমি ও রনির কথা।নিজেকে পাগল পাগল লাগলো ঈশানির।দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের কান।আরহান ঈশানিকে আগলে নিলো।মুখে কিছু না বলেও নীরব শান্তনা দিতে লাগলো। ঈশানি করুন নিরুপায় হয়ে বললো –
“বিশ্বাস করুন ওটা রনিই ছিলো।আমার মনে ভুল না।”
“হুস।আর কথা না এবিষয়ে।ভুলে যাও এসব। রনি আর কখনো তোমার ত্রিসীমানায় আসতে পারবে না।” – আরহান বললো
ঈশানি শান্ত হলো কিন্তু মন অশান্ত রয়ে গেলো।মনের ভেতর ভয়টা দানা পাকিয়ে যাচ্ছেবুকের গভীরে জমে থাকা ভয়টা আস্তে আস্তে দানা বাঁধছে, যেন একটা অজানা ঝড় তার ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
চোঁখ তুলে তাকালো আরহানের দিকে।মনে পড়ে গেলো রিমির বলা কথা গুলো,অলিভিয়ার ভাঙ্গা কান্না, ছোটোমার তিরিক্ষি স্বরে ছুঁড়ে দেয়া একেকটা কথা।
একমুহূর্তের জন্য ঈশানি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় উপসর্গ মনে হচ্ছে। যে না থাকলেই সবার সব সমস্যা দুর হয়ে যাবে।.
.
বাহিরে সুন্দর থলের মতো চাদ উঠেছে।চাদের দীপ্তিময় আলোয় ফুটে উঠেছে চারপাশ।বাতাস বয়ে যাচ্ছে ছন্দময় গতিতে।রাস্তার হলদে স্ট্রিতলাইটের হলদে আলোয় দেখা যাচ্ছে দু/চারজন পথচারী।বেলকনির গ্রিল ধরে উদাস চোখে এসবই অবলোকন করছিলো আয়রা।চোখে তার উদাসীনতা,বিষন্নতা।
পিছন থেকে আয়রার কোমর পেঁচিয়ে ধরলো ইয়াসিন।হঠাৎ ছোঁয়ায় খানিক কেঁপে উঠলো আয়রা।পরমুহুর্তেই নিজস্ব পুরুষের ছোঁয়া চিনতে পেরে আগের ন্যায় শান্ত অবিচল হয়ে দাড়িয়ে রইলো।
ইয়াসিন আয়রার ঘাড়ে নাক ঘষে মাদককন্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
“আয়রাবিবি,কি হয়েছে? এভাবে উদাস হয়ে দাড়িয়ে আছো কেনো?”
আয়রা ঘুরে ইয়াসিনের সম্মুখে দাড়ালো।জিহ্ববা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলোতারপর নিচু কন্ঠে বলে –
“আপনাকে একটা কথা বলার আছে।”
ইয়াসিন আয়রার উপর দৃষ্টি দেয়।না ,মেয়েটার অবস্থা ঠিক নেই।কেমন যেনো নার্ভাস লাগছে।এবার ইয়াসিন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়। আয়রা ইয়াসিনকে পেড়িয়ে রুমে যায়।পিছু নেয় ইয়াসিন। আয়রা ওয়াশরুম থেকে কিছু নিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায়।ইয়াসিনের চোখে প্রশ্ন।
আয়রা মাথা নীচু করে নেয়।সেভাবেই পিছন থেকে প্রেগন্যান্সি স্ট্রিপটা বের করে ইয়াসিনের হাতে দেয়।ইয়াসিন নির্বাক,বিমূর্ত হয়।মুহূর্তের মাথায় আয়রা অনুভব করে সে শূন্যে ঘুরছে।ইয়াসিন তাকে কোলে নিয়ে পুরো ঘর ঘুরছে। আয়রা ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।সেভাবেই ভয়ার্ত কন্ঠে বলে –
“আরেহ কি করছো? নামাও আমাকে ।ভয় করছে আমার ।”
ইয়াসিন সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিছানায় বসালো।তারপর আয়রার পেটে কাপা হাত রেখে কাপা কাপা কন্ঠে বললো –
“এখানে আমার অংশ আছে?তোমার আমার ভালোবাসার অংশ,তাই না?”
আয়রা কেঁদে ফেললো।ঝরঝরে কেঁদে ফেললো।ইয়াসিন জড়িয়ে ধরলো তাকে।ব্যস্ত হয়ে পড়ল।অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
“এই জান,কাদঁছো কেনো? ব্যথা হচ্ছে?ডাক্টার ডাকবো?”
আয়রা এবার হেসে ফেললো কাদার মাঝেই।তারপর ইয়াসিনের দিকে বললো –
“জানেন,আমি না অনেক ভয় পেয়েছিলাম।ভেবেছিলাম আপনি রেগে যাবেন।”
ইয়াসিন ভারী অবাক হয়।কি বলে এই মেয়ে।নিজের বাচ্চা আসবে এটা শুনে কেউ কেনো রাগ করবে।কথাটা নিজের মনে চেপে না রেখে অতি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো –
“পাগল হয়েছো?আমার অংশ আসছে।আমার সন্তান।আমি কেনো রাগ করবো?”
আয়রা মাথা নামিয়ে নেয়।তারপর মিনমিনে কন্ঠে বলে –
“আসলে আমার এক বান্ধবী বলেছে – ও ওর বরকে না জানিয়ে বেবী নিয়েছে।ওর বর পরে অনেক রাগারাগি করেছে।বিয়ের নাকি এখনো বছরও হয়নি তাই। আর আমাদের তো এখনো ছয়মাস ও হয়নি।তার আগেই এমন হলো।এসব ভেবেই ভয় পেয়ে ছিলাম।”
ইয়াসিন বিরক্ত হলো।তারপর আয়রাকে জড়িয়ে ধরে বলে –
“তোমার সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি জিনিস আমার ভালোবাসার,আমার আদরের। আর এই বাচ্চাটা তো আমার অংশ।আমার আর তোমার ভালোবাসার ফসল।এই বাচ্চার আগমনে আমি কখনোই অখুশি হতাম না।আমার সন্তান আসছে।আমার।”
ইয়াসিনের চোখ ঝাপসা হলো। আয়রা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ইয়াসিনকে।তার এখন শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে এভাবেই কেটে যাক শতবর্ষ।
.
ঈশানি হাঁটু জোড়া গুটিয়ে নিয়ে তার উপর মাথা রেখে নিঃশব্দে বসে আছে।দরজা ঠেলে প্রবেশ করে আরহান।ঈশানির পাশে এসে বসে।তারপর নরম করে বলে –
” খাবে না? আসো খাবার খাবে।”
ঈশানি ধীরে মুখ তোলে।চোখে কোনো অভিব্যক্তি নেই—শুধু শূন্যতা। মুখটা শান্ত, অথচ ভয়াবহভাবে নির্জীব।সেই স্বাভাবিক কণ্ঠেই বলে উঠে—
“আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন।”
আরহান যেনো শোনেই নি।এমন করে ঈশানির হাত ধরে বলে –
“উঠো।খাবে চলো।”
ঈশানি রেগে হাত ঝটকা দিয়ে চিল্লিয়ে বললো –
“আপনি শুনতে পাননি আমি বলেছি?ডিভোর্স দেন আমাকে।”
আরহান যেনো খেই হারালো।রাগ সপ্তম আকাশে উঠলো।হাতের কাছে ফুলদানিটা ধরে স্বজোড়ে আছাড় মারে।ঈশানি কেঁপে উঠে খানিক। আরহান রুমজুড়ে পায়চারি শুরু করে।যেনো নিজেকে ঠান্ডা করার অদম্য চেষ্টা চালাচ্ছে।কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না।হুট করে এগিয়ে আসে ঈশানির দিকে।ঈশানি ভয়ে দু হাতে ভর দিয়ে পিছিয়ে যায় খানিক। আরহান এসে ঈশানির বাহু ধরে টেনে নিচে নামায়।তারপর গম্ভীর ভারী গলায় বলে –
“কি বললে ? আবার বলো।”
ঈশানি ভয়ে সিটিয়ে গেলো।কিন্তু দমলো না। মনে মনে কথা সাজিয়ে নিয়ে সাহসের সাথে বললো –
“আমাকে ডিভোর্স দিন।”
ঈশানি নিজের হাতে চাপ অনুভব করলো।ব্যথায় চোখ মুখ কুচকে “আহ্ “প্রতিধ্বনি বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে। করুণচোখে তাকালো আরহানের পানে।
আরহান রাগে লাল হওয়া চোখ নিয়ে তাকালো ঈশানির পানে।তারপর ভারি ভারিক্কি কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো-
“নাটক করছো?বিয়ে তোমার কাছে ছেলেখেলা মনে হয়?”
ঈশানি ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।তারপর অবজ্ঞার সুরে বললো –
“এটা ছেলেখেলা’ই।আপনি সারাজীবন আমার সাথে কম্প্রোমাইজ করে যাবেন এটা হয়না।আপনার ভালোবাসাও পূর্ণতা পাওয়া উচিৎ।”
আরহান যেনো আকাশ থেকে পড়লো।চোখেমুখে বিষ্ময় নিয়ে বললো –
“মানে।”
ঈশানি তাকালো তার দিকে।তারপর সহজভাবেই বললো –
“আমি জানি অলিভিয়া আপুর ব্যাপারে।”
আরহান আরো অবাক হয়।তারপর সুধায় –
“কি জানো?”
ঈশানির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।দুঃখের ছোঁয়া এসে হানা দেয় হৃদয়ে।তবুও নিজেকে স্থির রেখে বলে –
“এটাই যে আপনারা একে অপরকে ভালোবাসেন।আমার জন্য অলিভিয়া আপু কষ্ট পাচ্ছে….রিমি ও পাচ্ছে।রিমিকে তো ফিরিয়ে দিতে পারবো না।অন্তত অলিভিয়াকে আপুকে দেই।”
আরহান ভ্রু কুচকে ফেললো ।একটু বোঝার চেষ্টা করলো।পরক্ষণের হেসে ফেললো সে।ঈশানি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে।ভাবছে এই লোকটার হাসিটাও কতটা আকর্ষণীয়।সম্মোহনী হয়ে তাকিয়ে রইলো।কিন্তু এভাবে সিরিয়াস মুহূর্তে হাসার জন্য বিরক্ত হলো ।
আরহান এবার হাসি থামালো।একটু ঝুঁকে গেলো ঈশানির দিকে।তারপর ঈশানির চোখে চোখ রেখে বললো –
“তো কিভাবে ফেরত দেবে?”
আরহানকে এতো কাছে পেয়ে ঈশানি খানিকটা অপ্রস্তুত হয় ক।মাথাটা পিছিয়ে নেয় সে।তারপর আমতা আমতা করে বল-
“যেভাবে দেয় সেভাবেই ।”
আরহান মাথা আর একটু এগোয়। হালকা দুষ্টুমিমাখা কন্ঠে বলে –
“শুধু অলিভিয়াকে দেবে?রিমির কি দোষ?তুমি কিন্তু বৈষম্য করছো,বউ।”
ঈশানি থতমত খেয়ে যায়।”বউ”শব্দে হৃদয় পুলকিত হয়।কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ টিকে না। আরহান আবার ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলে –
“এককাজ করো।আমাকে দুভাগ করে ওদের দুজনকে দিয়ে দেও।”
এরকম গম্ভীর মুহূর্তে এরকম মজা মোটেও পছন্দ হলোনা ঈশানির।মুখ বাঁকিয়ে থমথমে মুখে বলে –
“মজা করছেন কেনো?আমি সিরিয়াস।”
আরহান এবার একটানে ঈশানিকে নিজের কাছে নিয়ে আসে।বিছানার উপর নিজে বসে ঈশানিকে বসায় তার উরুতে।ঈশানি হতমম্ভ,অবাক ,নির্বাক।উঠে যাওয়ার জন্য ছটফট করে। আরহান ছাড়ে না।ঈশানির পেটে চাপ দিয়ে আরেকটু জড়িয়ে নেয় তাকে।ঈশানি জমে যায়।আবার সব এলোমেলো হয়ে যায়।মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। গলা শুকিয়ে যায়।বরফ হয়ে জমে রয়।
আরহান ঈশানিকে বলে –
“তুমি কিভাবে জানো আমি অলিভিয়াকে ভালবাসি বা কিছু? আমি তোমায় কিছু বলেছি বলে তো মনে পড়ছে না।”
~চলবে
{ রাতে আরেকটা পর্ব দেয়ার চেষ্টা করবো।বেশি বেশি লাইক কমেন্ট করবেন প্লীজ। আর নেক্সট নেক্সট না বলে একটু সুন্দর উৎসাহমূলক কমেন্ট করবেন।আপনাদের কমেন্ট দেখলে অনেক বেশি ভালো লাগে।}

