#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব : ১৭
লেখনীতে: #রুবাব_ফারহা
.
নিশুতি রাত।বাহিরে বৃষ্টি নেই।সেই সন্ধ্যাতেই থেমে গেছে বৃষ্টি।কিন্তু চারদিকে শীতলতা ছড়িয়ে দিয়েছে।নিস্তব্দ শীতল রাতে সবাই যেখানে ঘুমে কুপোকাত সেখানে এক কিশোরী কন্যা ব্যস্ত অসুস্থ্য রোগীর শিয়রে। আরহানের জ্বর কিছুটা নেমেছে।তবে এখনো পুরোপুরি নামেনি।পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ঈশানির শান্তি হচ্ছে না।সে তখন থেকে স্থির হয়ে বসে আছে আরহানের মাথার কাছটায়।একরাতেই কেমন চোখমুখ শুকিয়ে গেছে।কপালে হাত দিয়ে বারবার দেখছে জ্বর আছে কি না।অবশেষে মধ্যরাতে জ্বর নেমেছে।কিন্তু পুরোপুরি না।ঈশানি ঠাঁয় বসে।শরীর থেকে জ্বর নেমে যাওয়ায় আরহান একটু একটু করে চোখ খুলে।চোখের সামনে ভেসে উঠে এক কিশোরীর চিন্তিত,বিচলিত ক্লান্ত মুখশ্রী। আরহান নড়ে চড়ে জানান দেয় সে উঠেছে। আরহান কে উঠতে দেখে ব্যস্ত হয় ঈশানি।চঞ্চল কন্ঠে সুধায় –
“কি হয়েছে? খারাপ লাগছে? আমি কি চাচ্চুকে ডাকবো?”
আরহান নিজের দুর্বল হাতে আঁকড়ে ধরে ঈশানির হাত। জ্বরে আক্রান্ত দুর্বল কন্ঠে বলে –
“শান্ত হও।আমি ঠিক আছি।ভালো লাগছে আমার এখন।”
ঈশানি শান্ত হয়না।তার উদ্বেগ আরো বাড়ে। হাত বাড়িয়ে কপাল গাল ছুঁয়ে তাপমাত্রা মাপতে যায়।তাপমাত্রা আগের থেকে কম।তবে দুর্বল লাগছে।ঈশানি বলে –
“কিছু লাগবে আপনার?”
“ক্ষুধা লেগেছে।”– আরহানের দুর্বল কন্ঠস্বর
ঈশানি তৎক্ষণাৎ উঠে দাড়ালো।বললো –
“একটু অপেক্ষা করুন।আমি দেখছি রান্নাঘরে কি আছে।”
ঈশানি বস্তপায়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নিচে গেলো।ফিরে এলো দশ/বারো মিনিট পর।দেখতে পায় আরহান হেডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে।চোখের উপর হাত। ঈশানি বেড সাইড টেবিলে স্যুপটা রাখলো। আরহান ঈশানির উপস্থিতি বুঝে চোখ মেলে তাকায়।ঈশানি বসে আরহানের পাশে। বাটি থেকে একটু একটু স্যুপ নিয়ে ফু দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে আরহানকে। আরহান কয়েক চামুচ খেয়ে আর খায়না। ঈশানিও আর জোড় করেনা।ঈশানি তাকায় আরহানের দিকে।যে এই মুহূর্তে ঈশানির দিকে চেয়েই।ঈশানি আবার আরহানের কপালে হাত দেয়। জ্বরটা এখন মোটামুটি কমেছে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। হাত সরাতে নিলে আরহান ধরে ফেলে।ঈশানি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে –
“কিছু লাগবে আপনার?”
আরহান বলে –
“ঘুমাবো।”
ঈশানি সঙ্গে সঙ্গে বলে –
“হ্যাঁ,শুয়ে পড়ুন।ঘুমান একটু ভালো লাগবে।”
ঈশানির কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাকে টেনে নিজের পাশে শুইয়ে দেয় আরহান।ঘটনার আকস্মিকতায় অবাক,নির্বাক,বিমূঢ় হয় কিশোরী।ঈশানিকে কিছু বলতে না দিয়ে আরহান তার শরীরে ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে দেয়।লাইট নিভিয়ে দিয়ে পিছন থেকে ঈশানির পেটে হাত রেখে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে –
“তুমি ঘুমাও। কাল তোমার পরীক্ষা আছে।রাত জেগে স্বামীর সেবা করলে পরীক্ষা দিবে কিভাবে?ঘুমাও একটু ।”
ঈশানির কথা দলা পাকিয়ে গেছে যেনো। আরহানের শরীরের উত্তাপ ঈশানির শরীরেও ছেয়ে গেছে। আরহানের গরম নিশ্বাস এসে পড়ছে ঈশানির কানে।চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে নেয়। জোরে জোরে নিশ্বাস নেয় ঈশানি।খিঁচে পরে রইলো সেভাবেই।কিন্তু অস্বস্তি ছেয়ে যাচ্ছে ঈশানির সর্বস্ব জুড়ে। ছটফটিয়ে উঠে আরহানের উদ্দেশ্যে বলে –
“আমি রুমে গিয়ে ঘুমাবো।ছাড়ুন।”
আরহান সেভাবে ধরে রেখে বললো –
“তুমি নিজের রুমেই আছো।”
ঈশানির শরীরের শিহরণ বাড়িয়ে দিতে আরহান এবার মুখ গুঁজে দিলো ঈশানির চুলে ।তারপর মাদককন্ঠে বলে উঠে-
“ঘুমিয়ে পড়।আমাকেও ঘুমাতে দেও।”
ঈশানি গাট হয়ে পড়ে রইলো সেভাবেই। নিশ্বাস ও যেনো নিতে ভুলে বসেছে।সেভাবেই পরে রইলো বাকিরাত।কেউ যেনো তার হৃদস্পন্দন আটকে রেখেছে।অসস্তিতে গাট হয়ে রইলো বাকিরাত।
.
কালকের ঝড়ো আবহাওয়া ছাড়িয়ে ধরণীতে আজ ঝলমলে রোদ উঠেছে। রোদের উজ্জ্বল তির্যক আলো আরহানের মুখের উপর পড়লে তার ঘুম ভেঙে যায়।চোখ মেলে তাকায় বদ্ধ রুমের চারদিকে।তারপর ঘড়ির দিকে চোখ দেয়।সকাল ১১:৪৫ মিনিট।দুই হাতের উপর ভর দিয়ে উঠার চেষ্টা করে সে। সারাশরীর কেমন ম্যাজমেজে লাগছে।কিছুক্ষণ বসে থেকে সে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে।তারপর নিচে নেমে যায়।
আরহান সিঁড়ি বেয়ে নামতে দেখে ব্যস্ত হয় মিনারা বেগম এগিয়ে এসে কপালে হাত ছুঁইয়ে বিচলিত বললেন –
“নিচে নেমেছিস কেনো?আমি যেতাম এখন খাবার নিয়ে।কিভাবে জ্বর বাঁধলি বলতো?”
আরহান প্রত্যুত্তর করলো –
” ঠিক আছি এখন আমি। জ্বর নেই আর।”
মিনারা বেগম টেবিল খাবার দিতে দিতে বললেন –
“আয় কিছু খেয়ে নে। ঈশু কিছু না বললে তো জানতেই পারতাম।ভাগ্যিস মেয়েটা ছিলো।”
বলতে বলতে মিনারা থেমে গেলেন।তারপর আবার খাবার খাওয়ার তাগিদ দেয়।
আরহান নাকচ করলো।তারপর কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো।পিছন থেকে শোনা গেলো মিনারা বেগমের চেঁচামেচি –
“এই জ্বর শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস আবার?”
আরহান উত্তর করলো না।মিলিয়ে গেলো চক্ষুসিমানার বাহিরে।
.
আজ ঈশানির শেষ পরীক্ষা ছিলো।পরীক্ষা দিয়ে সবেই বের হয়েছে।পথিমধ্যে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগে ঈশানির।মেয়েটার হাতে থাকা আইসক্রিম পুরোটাই পরে যায় ঈশানির পোশাকে।পাশ থেকে মিথিলা খেঁকিয়ে উঠে বলে –
“এই মেয়ে দেখতে পাও না?কানা নাকি?”
সামনের মেয়েটা তড়িঘড়ি করে বলে –
“সরি সরি…..”
তখনি থেমে যায় মেয়েটি।কন্ঠস্বর শুনে তাকায় ঈশানি ও। খুশি হয় ভীষন।দীপ্তিময় কন্ঠে বলে –
“রিমি? কেমন আছিস?”
কিন্তু রিমির মুখ আধার।সে কিছু না বলে চলে যেতে নেয়।তখনি ঈশানি এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে।জিজ্ঞেস করে –
“কথা বলছিস না কেনো? কি হয়েছে?”
রিমি এক ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে দেয়।তারপর ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে –
“কি বলবো?তোর মতো মেয়েকে কি বলা যায়? আমার ভাইয়ের জীবন শেষ করেছিস সাথে আমারও।তোকে দেখলেই আমার ঘৃণা হচ্ছে।”
ঈশানি অবাক হয়ে।বিস্মিত কন্ঠে সুধায় –
“কি বলছিস? আমি নষ্ট করেছি? আর তোর জীবন ?”
রিমি খেঁকিয়ে উঠে।বলে উঠে চিল্লিয়ে –
“হ্যাঁ,আমার জীবন।আমার জীবন থেকে আমার ভালোবাসা কেড়ে নিয়েছিস তুই।ছোটবেলা থেকে যে ভালোবাসা আমি পুষে বেড়াচ্ছি নিজের মনে এক নিমিষেই তুই সেটা ছারখার করে দিলি।কিভাবে পারলি? আরহান ভাইকে আমি কত ভালবাসি জানিস তুই?তারপরও কিভাবে পারলি তাকে বিয়ে করতে।নিজের কলঙ্ক নিয়ে তুই দিব্যি ভালো আছিস।আমার ভালবাসা কেড়ে নিতে লজ্জা হলো না তোর।”
রিমি আর দাড়ায় না দৌড়ে চলে যায়।পরীক্ষা শেষ বিধায় এদিকটায় মানুষ কম।ছাত্রছাত্রী সবাই চলে গিয়েছে প্রায়।ঈশানি যেনো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছে।রিমি এসব কথা বলছে?নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।মিথিলা দাড়িয়ে ছিলো সেখানেই।সে নিজেও কিছু বুঝতে পারেনি ।কি হলো।এগিয়ে এসে ঈশানির কাঁধে হাত রাখে।ঈশানি চোখের পানি মুছে কোনরকম বলে –
“তুই চলে যা।আমি ওয়াশরুম থেকে ড্রেস পরিষ্কার করে চলে যাবো।”
মিথিলা কিছু বলতে চাইলো কিন্তু ঈশানি সেই সুযোগ দিলো না।দৌড়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।ওয়াশরুমের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে কেঁদে ফেললো ঝরঝর করে। আর কত?এগুলোর শেষ কোথায়।বুকটা হুহু করে উঠলো।এখানে তার দোষটা কোথায়?কোনো উত্তর পেলো না।বুক চিড়ে বেরিয়ে এলো আর্তনাদ।হঠাৎ ওয়াশরুমের আয়নায় কারো প্রতিচ্ছবি দেখে কেঁপে উঠলো ঈশানি।ভয়েভয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে চাইলো।চোখে তার ভয়,আতঙ্ক ,ঘৃণা।সামনের লোকটি সেই চেনাপরিচিত বিশ্রী হাসি দিয়ে বললো –
“ডার্লিং,নতুন বিয়ে হয়েছে নাকি তোমার?স্বামী সোহাগ করেনা নাকি? তাই কাদঁছো এভাবে? থাক, কাদে না।আসো আমি আদর দিয়ে দেই তোমায়। আসো মামনি।”
ঈশানির শরীর গুলিয়ে উঠলো।চিৎকার করে উঠল –
“কাছে আসবেন না একদম।আপনি এখানে কি করছেন? বেরিয়ে যান।আমি কিন্তু চিল্লাবো এখন।”
রনি দাঁতের কপাটি বের করে হাসলো।তারপর হিংস্র দানবের মতো হয়ে হিসহিসিয়ে ঈশানির সামনে দাড়িয়ে তার গালচেপে ধরে অশ্রাব্য গালি দিয়ে বলে –
“চিৎকার কর, গলা ফাটিয়ে চিৎকার কর!
ভেবেছিস তোকে ছেড়ে দেবো? কিছুতেই না!
তোর জন্য আমাকে জেলে যেতে হয়েছে — হ্যাঁ, তোর জন্য! আমার মা-বাবা মাথা নিচু করে সমাজে ঘুরছে, আর তুই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছিস আরহান তোর নগরের সাথে? শালার সাহস দেখ! আমার গায়ে হাত! ও ভুলে গেছে শিকদার রনি কে? ওকে মনে করানোর সময় এসেছ।প্রথমে তোকে শেষ করবো, রসিয়ে রসিয়ে ধ্বংস করবো — তারপর তোর সেই প্রেমিকটাকে এমন শিক্ষা দিবো, জন্মে ভুলবে আমার নাম!
তোদের ধ্বংস — আমার হাতে, আমার খেলায়, আমার নিয়মে!”
ঈশানি ভয়ে থরথর করে কাপছে আর গোঙাচ্ছে।হাত দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছে ছড়ানোর।তখনি বাহির থেকে আওয়াজ আসে মিথিলা ও আরহানের –
” ঈশু,কই তুই?তুই কি ভিতরে আছিস?”
এবার আরহানের বিচলিত কন্ঠস্বর পাওয়া গেলো –
“ঈশানি,তুমি ভিতরে থাকলে সাড়া দেও।ঈশানি?
রনির চোখে প্রতিশোধের নেশা।জ্বলন্ত আগুনের ন্যায় জ্বলছে।কিন্তু এখন তার যাওয়া উচিৎ– ভেবে সে ঈশানির গাল আরো চাপ দিয়ে ধরে বলে –
“আজ চলে যাচ্ছি বলে ভাবিস না আমি আর আসবো না।আমার দাবার গুটি সাজানো শেষ। যার প্রতিটি দানে তোর ধ্বংস লেখা।আমি ফিরে আসবো আবার।সেদিন আর তোর রক্ষা নেই।”
কথা শেষ করে ওয়াশরুমের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায় রনি।
ঈশানি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলে। ঈশানির অবস্থা দেখে মিথিলা ঘাবড়ে যায়। আরহান ব্যস্ত হয়ে এগিয়ে আসে।তার আগেই ঈশানি লুটিয়ে পড়ে আরহানের উপর।হাউমাউ করে কাদতে থাকে। আরহান অবাক হয়।আগলে নেয় ঈশানিকে।ঈশানির কান্না থামার নাম নেই।কাদতে কাদতে কিছু বলছে যেটা আরহানের বোধগম্য হচ্ছে না। আরহান ঈশানির মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে-
“ঈশানি, কাদে না।কি হয়েছে আমায় বলো।”
ঈশানি শুধু পাগলের মতো বলে –
” ও এসেছে।আবার এসেছে।”
কান্নার দমকে আর কিছু বলতে পারেনা।মিথিলা পানি এগিয়ে দেয়। আরহান খাইয়ে দেয় পানি।তারপর ওকে আস্তে আস্তে বলতে বলে ।ঈশানি পানি খেয়ে দম নেয় ।তারপর একে একে সব বলে।ঈশানির কান্নার দমক বাড়ে। আরহানের চোখ লালচে হয়। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জড়িয়ে নেয় ঈশানিকে।তারপর বলে –
“আমাকে ক্ষমা করে দেও প্লীজ।”
ঈশানি আবার পাগলের মতো কান্না করে দিলো।বলতে লাগলো –
“ও বলেছে সব শেষ করে দিবে। ও আবার আসবে।আপনাকেও ছাড়বে না। আবার আসবে।”
ঈশানির মুখ হাতের আজলায় নিয়ে কপালে চুমু খায় আরহান।ঈশানি নিমিষেই শান্ত হয়ে যায়। আরহান কাতর কন্ঠে বলে –
“এমন করো না প্লীজ।কিচ্ছু হবে না।আমি আছি তো।”
“আমি আছি তো।”কথাটায় কিছু একটা ছিলো বোধ হয়।ঈশানি জড়িয়ে ধরলো আরহানকে। আরহানও আগলে নিলো।পরক্ষনেই কোলে তুলে নিলো ঈশানিকে।মিথিলার দিকে তাকিয়ে বললো –
“তোমাকে ধন্যবাদ। আসো তোমায় বাসায় নামিয়ে দেই।”
মিথিলার মাথার উপর দিয়ে সব গেলেও কিছু জিজ্ঞেস করলো না এই পরিস্থিতিতে ।শুধু বললো –
” বাহিরে আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।আমি যেতে পারবো ভাইয়া।”
আরহান মিথিলার থেকে বিদায় নিয়ে চললো।ঈশানি গুটিয়ে রইলো আরহানের বুকে। না নড়চড় করলো না ছটফট করলো।পড়ে রইলো একটি শান্ত শিশুর মতো।ঈশানিকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিলো।তারপর কপালে একটা গাঢ় চুম্বন আকলো।ঈশানি আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলো। আরহানের করুন গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসলো –
“আমাকে ক্ষমা করে দেও প্লীজ।”
ঈশানি চোঁখ খুললো।চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। আরহান মুছে দিয়ে বললো –
“তোমার প্রতিটা চোখের পানির জবাব ওই জানোয়ারের বাচ্চাকে দিতে হবে।প্রতিটি আঘাত আমি ওকে ফিরিয়ে দেবো দ্বিগুণ করে। আই প্রমিজ ইউ ঈশানি।”
ঈশানি ভয়ে কেঁপে উঠলো। আরহানের টি – শার্ট আঁকড়ে ধরে বললো –
“না না।আপনি ওই ধারে কাছে যাবেন না। আপনাকেও ছাড়বে না বলেছে।আপনি যাবেন না।যাবেন না আপনি।আপনাকে যেতে দেবো না আমি।”
আরহান জড়িয়ে নিলো ঈশানিকে। আরহানের বুকে পড়েও ঈশানি বিড়বিড় করে যাচ্ছে। আরহান মুখে কিছু বললো না।ঈশানিকে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলো। আগুন চোখে তাকিয়ে সে।দৃষ্টি বাহিরে।যেনো এই চোখ দিয়েই কাউকে খু*ন করে ফেলবে। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো।
~চলবে
{ সবাই নাইস,নেক্সট এরকম কমেন্ট না করে একটু গঠনমূলক সুন্দর সুন্দর কমেন্টও তো করতে পারো?এতো কিপটে কেনো তোমরা বলো তো?}

