তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ১৬ লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা .

0
34

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ১৬
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
সময় বহমান। কারো জন্য অপেক্ষা না করে সে তার নিজস্ব গতিতে নিজস্ব ইচ্ছেতে চলতে থাকে।তেমনি ভাবে সময় গড়িয়েছে।পেরিয়েছে কিছুদিন।ঈশানির পরীক্ষা শুরু আগামীকাল। এরমধ্যে ঈশানি – আরহানের সম্পর্কের কোনো উন্নতি ঘটেনি তবে বলা যায় অবনতি ঘটেছে।সেদিন রাতে ময়নার থেকে শুনে আরহান গিয়েছিলো ঈশানির নিকট।ঈশানি ঘুমের ভান ধরে মরার মত পড়ে ছিলো।কোনো সাড়াশব্দ করেনি। আরহান কিছু বলেনি।শুধু শান্ত চোখে চেয়ে চলে এসেছে।এরপর থেকে চলছে দুজনের নীরব এড়িয়ে যাওয়া।তাদের দেখা হওয়ার একমাত্র স্থান হলো ব্রেকফাস্ট টেবিল।এছাড়া তারা একে অপরের মুখদর্শন করতে পারে না মূলত তাদের সময় মিলে না।ঈশানি যতটা পারছে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। আগামীকাল ঈশানির পরীক্ষা শুরু । তার প্রস্তুতি ভীষন ভালো হলেও সে খুবই বিচলিত। আজ আরহান তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে। খাবার টেবিলে সকলে খেতে বসেছে।রয়েছে ঈশানি ও।জাহিদ চৌধুরী ঈশানিকে ডেকে বললেন –
“কাল পরীক্ষা কয়টায় তোমার?”
” সকাল ১০ টায় শুরু ।” – ঈশানি প্রত্যুত্তর করে।
জাহিদ চৌধুরী আরহানের দিকে তাকিয়ে বললো –
“পরীক্ষার কদিন তুমি ওকে হলে দিয়ে এসো। আসার সময় বাড়ির গাড়ি করে চলে আসবে।”
আরহান কিছু বলার আগে ঈশানি ধড়ফড়িয়ে বলে উঠে
“আমি একাই যেতে পারবো, চাচ্ছু।”
জাহিদ চৌধুরী ঘোর বিরোধিতা জানালো।ধমক দিয়ে বললেন –
“অতদূর তুমি একা যাবে মাথা খারাপ।সকালে আরহান দিয়ে আসবে আর পরীক্ষা শেষে গাড়ি অপেক্ষা করবে,চলে আসবে।আর কোনো কথা নয় এবিষয়ে।”
জাহিদ চৌধুরী নিজের কথা শেষ করে চলে গেলেন।রয়ে গেলো ঈশানি আর আরহান। আরহান সব শুনলো মুখে কিছু বললো না।ঈশানি চোরা চোখে কয়েকবার দেখে নিলো আরহানকে।তারপর সুরসুর করে চলে গেলো নিজের কক্ষে
.
আরহান গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে ঈশানির জন্য।ঈশানি এলেই বেরিয়ে পড়বে তারা।ঈশানি কলেজ ড্রেস পরে মাথায় দুটো বেনি পাকিয়ে চশমা পরে হাতে বই নিয়ে পড়তে পড়তে বেরিয়ে এলো সদর দরজা দিয়ে। আরহানের কাছে ঈশানিকে আজকে একদম বাচ্চা লাগছে দুইবেনিতে।ঠোঁট ছড়িয়ে হেসে উঠলো অজান্তেই।মনে মনে আঁওরালো – ” বাচ্চা বউ”
ঈশানি এসে বসেছে ড্রাইভিং সিটের পাশে।তার চোখ এবং মন দুটোই বইয়ের পাতায় নিবিষ্ট।যেনো ইহজগতে আর কিছু নেই তার চারপাশে।শুধু সে আর তার বই একমাত্র উপকরণ এই পৃথিবীতে। আরহান গাড়ি চালানো শুরু করলো।৩০ মিনিটের মাঝে তারা হলে পৌঁছায়।ঈশানিকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে দৌড়ে আসে মিথিলা।এসেই রাজ্যের গল্প জুড়ে দেয়। আরহান গাড়ির কাচ নামিয়ে তাকিয়ে দেখছে ।ঈশানি এপর্যায় থামিয়ে দিলো মিথিলাকে।এগিয়ে গেলো আরহানের দিকে।মাথা নামিয়ে কাচের কাছে নিয়ে বলে –
” ধন্যবাদ।যাচ্ছি আমি।”

আরহানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মিথিলাকে নিয়ে চলে যায় ভিতরে। আরহান তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ ।তারপর গাড়ি ঘুরিয়ে নিজেও চলে গেলো।
.
ঈশানির পরীক্ষা শেষের দিকে। আর দুটো বাকি।এখন সে অনেকটায় নিশ্চিত আর মুক্ত পাখি। দুটো এক্সাম হয়ে গেলে সে প্যারামুক্ত।ঈশানি প্রতিদিন সকালে আরহানের সাথেই যায়।তবুও তাদের মধ্যে একটা বাক্য বিনিময় হয় না।যেনো দুজন নীরব যুদ্ধে নেমেছে।রুমের দুরত্বের সাথে বেড়েছে তাদের নিজেদের দুরত্ব।ঈশানি খুশি হয়।সে নিজের কাজে সফল হচ্ছে। আরমাত্র কিছুদিন।কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেই সে চলে যাবে এ বাড়ি থেকে।লোকটাকে চিরতরে মুক্তি দিয়ে।যাতে নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখে সংসার বাঁধতে পারে।সে কারো জীবনে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে থাকতে চায় না। আর না চায় নামমাত্র সম্পর্কে কাউকে বেঁধে রাখতে।
.
দিনটা শুক্রবার।বিকেলে থেকে আকাশে মেঘ করেছে।সাদা মেঘগুলো ধূসর বর্ণে রূপান্তর হয়েছে।বাতাস ছড়িয়েছে মৃদু।ঝড়ের আগে এই মুহূর্ত ঈশানির ভীষন প্রিয়।সে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলো ছাদে।ঠাণ্ডা, তাজা হাওয়া ছুঁয়ে দিলো ঈশানির তনুমন।ঈশানি চোখ বন্ধ করে উপভোগ করতে থাকলো।বিন্দু বিন্দু পানিকনা এসে ভিড় জমায় ঈশানির মুখে। আস্তে আস্তে বৃষ্টিকনা বড় হয়।ঝমঝমিয়ে নামে ধরিত্রীতে।ঈশানি নড়েনা।সেখানেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয় দুহাত মেলে । নিমিষেই ভিজে যায় ঈশানির শরীর।ঈশানির মধ্যে কোনো উল্লাস নেই,নেই কেনো বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ। সে যেনো পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছে শুধু।আকাশপানে চেয়ে বোঝাপড়া করছে নিজের সাথে।
তখনি দূর থেকে ভেসে আসলো পুরুষালি আওয়াজ ।উচ্চস্বরে তবে ঠাণ্ডা আওয়াজ –
” অসময়ে বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো? ”
ঈশানি চট করে চোখ খুললো।তড়িৎ পিছু ফিরলো।দেখতে পেলো লম্বা,সুদর্শন পুরুষকে।কিছু বললো না। আস্তেধীরে মাথাটা আবার ঘুরিয়ে সামনে তাকালো। আরহানের যেনো মেজাজ চটে গেলো।মুহূর্তেই ঈশানি নিজের হাতে টান অনুভব করলো। কেউ তার হাত ধরে ঘুরিয়ে সোজা করেছে।ঈশানি তাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আরহানের বুকে। নাক ও কপাল গিয়ে ঠেকে শক্তপোক্ত বুকে।ঈশানি চোঁখ খিঁচিয়ে নেয়।বৃষ্টির পানি ভিজিয়ে দিচ্ছে আরহানকেও। ঈশানি মাথা তুলে তাকায়।দেখতে পায় আরহানের লাল হয়ে যাওয়া রক্তাভ নয়ন। শিউরে উঠে ঈশানি।তখনি আরহান নিজের হাতের বাধন শক্ত করে চেপে ধরে ঈশানিকে।ব্যথায় ছটফটিয়ে উঠে ঈশানি। আরহান ভ্রুক্ষেপ করেনা।কন্ঠে তেজ ও ঝাঁঝ নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে –
“কি সমস্যা? আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছো কেন এভাবে?”
বৃষ্টির পানি ভিজিয়ে দিয়েছে ঈশানির পুরো দেহ। ঝড়ো বাতাসে কেঁপে উঠছে ঈশানির পেলব দেহ।শরীরের সাথে কাপড় লেপ্টে আছে।কাপছে তিরতির করে তার অধর।ঈশানি হাত মোচড়ামুচড়ি করে।ছাড়া পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়। আরহান ঈশানির বাহু ধরে তাকে আরো সন্নিকটে উচু করে নিয়ে আসে।তারপর রাগান্বিত শান্ত কন্ঠে বলে –
“ঈশানি, রাগিও না আমায়।আমার রাগ সামলাতে পারবে না তুমি এখন।”
কি ছিলো কথাটায় কে জানে।ঈশানি আরহানের দিকে চাইলো তারপর ধপ করে নিভে গেলো।কোনরকম মিনমিন করে বললো –
“ছাড়ুন।আমি ঘরে যাবো।”
“তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি।”– শান্ত শীতল অথচ গম্ভীর কন্ঠস্বর
ঈশানি এবার বেশ ছটফটিয়ে উঠলো।ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত পা ছুড়লো।কোনোভাবেই ছাড়া না পেয়ে চিল্লিয়ে বললো –
“ছাড়ুন বলছি। ঘরে যাবো আমি।এভাবে একটা মেয়েকে ধরে আছেন লজ্জা করে না।”
আরহান এক ইঞ্চিও নড়লো না।সেভাবেই দাড়িয়ে ঈশানির দিকে তাকিয়ে বললো –
“বউকে ধরতে আবার কিসের লজ্জা।”
ধক করে কেঁপে উঠলো ঈশানির কিশোরী বক্ষস্থল।আবার মুহূর্তেই একরাশ বিষাদ ছুঁয়ে গেলো।নিজের বেপরোয়া ভাবনা অনুভূতিকে লাগাম টানিয়ে বলে –
“শুধু নামমাত্র বউ।এই নামের সম্পর্ক নিয়ে উদগ্রীব হবেন না।খুব শীঘ্রই আপনাকে আমি সব ফিরিয়ে দেবো।মুক্তি দিয়ে দেবো আপনাকে।”
আরহান একনজর তাকালো ঈশানির সর্বাঙ্গে।শরীরের সাথে লেপ্টে যাওয়া কাপড়ে শরীরে ভাঁজ স্পষ্ট হয়েছে।বৃষ্টির পানি কপাল চুঁইয়ে ঠোঁটে বেয়ে গলায় গিয়ে ঠেকছে।তিরতির করে কেঁপে যাচ্ছে পাতলা গোলাপি অধর। আরহান ঈশানির বাহু ছেড়ে দিয়ে কোমর ধরে উঁচিয়ে উপরে তার মুখোমুখি আনলো।দুজনের মধ্যে দুরত্ব কয়েক ইঞ্চি।ঈশানির সর্ব শরীরে বিদ্যুৎ বয়ে গেলো।বিস্ফোরিত নয়নে তাকালো আরহানের দিকে।হঠাৎ এতো ঘনিষ্ট হওয়ায় যেনো তার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।সে সেভাবেই নির্বাক,নির্বিকার হয়ে তাকিয়ে রইলো। আরহান আরো কাছে টানলো ঈশানিকে।যতটুকু দুরত্ব ছিলো সেটাও ঘুচিয়ে নিলো।ঈশানি মুখের একদম সম্মুখে তার নিজের মুখ আনলো।দুজনের মুখ ছুঁইছুঁই দূরত্বে।একজনের নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে অন্যের মুখে।ঈশানি যেনো নিশ্বাস নেয়া ভুলে গেলো। ছুঁইছুঁই দুরত্বে তাদের ওষ্ঠ জোড়া। আরহান সেভাবেই হাস্কি কন্ঠে বললো –
“নামমাত্র বউ?তুমি কি কাজের বউ হতে চাচ্ছো?”
দুজনের মুখশ্রী অধর এতই কাছে ছিলো যে কথা বলতে টুকটাক ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরকে।ঈশানির হৃদয়ে ঝড় বয়ে গেলো।অজানা অনুভূতিতে সিক্ত হলো।চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।শরীর অস্বাভাবিকভাবে কাপছে।নিজেকে সামলাতে অজান্তেই একহাত চলে গেলো আরহানের বুকের উপর। আরহানের বুকের অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনে ঈশানি ফের ঘাবড়ে গেল। চট করে চোখ খুলে হাত নামাতে নিলে আরহান ধরে ফেলে।নিজ হাত দিয়ে ঈশানির হাত চেপে ধরে রাখে তার বুকের উপর।ঈশানি মূর্ছা গেলো।নিজের শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দিলো সামনে পুরুষের উপর।সুপুরুষ লোকটি আগলে নিলো।কিন্তু ছাড়লো না।সেভাবেই আবার বললো –
“ছোটো মাথায় কি খিচুড়ি পাকিয়েছো বলো?কি থেকে মুক্তি দেবে আমায়? এখান থেকে যে আর মুক্তি নেই।না আমার না তোমার।”
ঈশানির কানে কিছু ঢুকছে না।প্রথমবার কোনো পুরুষের সংস্পর্শে এসে তার নাজেহাল অবস্থা।তারউপর পুরোটা অনাকাঙ্ক্ষিত। মানুষটাও অনাকাঙ্ক্ষিত।ঈশানি কথাও বলছে না।কথা বললেই তার অধর ছুঁয়ে যাবে সামনের লোকের অধর।সে একটু মাথা সরাতে চাইলো। আরহান দিলো না। সেই সাথে বেড়েছে বৃষ্টির প্রকোপ।ঈশানি সেভাবেই কোনরকম করুনস্বরে থেমে থেমে উচ্চারণ করলো –
“যেতে দিন প্লীজ।আমার দমবন্ধ লাগছে।মরে যাবো।”
“মরে যাও তবে।আমার স্পর্শেই মৃত্যু হোক তোমার।আদুরে মৃত্যু।”
ঈশানি ছটফট করলো। আরহান আবার বললো-
“আরো ইগনোর করবে?”
ঈশানি এবার তাকালো আরহানের দিকে।বোঝার চেষ্টা করছে লোকটা কি চায়।কিন্তু মাথা তাকে ভাবতে দিলো না।মস্তিষ্ক বলে গেলো এই লোকের থেকে তোর এখন দুরত্ব প্রয়োজন।নাহলে তোর মরণ নিশ্চিত।ঈশানি অজান্তেই মাথা ডানে বামে নাড়লো। আরহান কিছুটা দুরত্ব দিলো এবার দুজনের মাঝে।ঈশানি ফোস করে আটকে রাখা নিশ্বাস ছাড়লো জোড়ে। আরহান এখনো ছাড়েনি ঈশানিকে। কোমড় পেচিয়ে রেখেছে।সেভাবেই আবার বললো –
“আজকেই আমাদের রুমে শিফট করবে বুঝেছো।”
ঈশানি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে।যেনো তার চিন্তা শক্তি লোপ পেয়েছে। আরহান ছেড়ে দিলো ঈশানিকে।ওকে রুমে যেতে বলে নিজে ডানে বামে না তাকিয়ে চলে গেলো।ঈশানি হতবিহ্বল ,বিমূঢ় হয়ে পড়ে রইলো কিছুক্ষণ।যখন একটু স্বাভাবিক হলো লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেললো। মস্তিস্কজুড়ে হানা দিলো নানান চিন্তা,লজ্জা সাথে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
.
সেই নাজুক অবস্থায় আরহানকে কি বলেছে কিছু মনে রাখেনি ঈশানি।বরং তার পালিয়ে বেড়ানো আরো বেড়েছে।লজ্জায় নাকি সংশয়ে কে জানে।সে আরহানের সামনে তো দুর নিজের রুম থেকেই বের হয়নি আর।নিচে খাবার খেতে অব্দি যায়নি।ময়না ডাকতে আসলে না করে দিয়েছে তার ক্ষিধে নেই বলে।ময়না কিছুক্ষণ বাকা নজরে চেয়ে বলে –
“আমনেগো ঝগড়া হইছে নি?ভাইজান ও খায়না আমনেও খাবেন না।”
ঈশানি প্রত্যুত্তর করেনি।ময়না চলে যায়।ঈশানি ভাবতে থাকে তার উপর কি রেগে আছে।আজ তো ওঘরে শিফট হতে বলছিলো।কিন্তু তার যেতে যে লজ্জা লাগছে। এইলোক কি বুঝে সেটা।ঈশানি দোনামোনা করে বের হলো রুম থেকে। আরহানের রুমের সামনে গিয়ে থেমে গেলো।দরজা আটকানো।ভিতর থেকে লাগানো কিনা চেক করতে মৃদু ধাক্কা দিলো।সহসা খুলে গেলো দরজা।কিন্তু ঘরের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকার। এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে এই লোক ভেবে কিছুটা অবাক হলো ঈশানি।এমনি হলে তো মাঝরাত পর্যন্ত কাজই করে যায়। আজ ঘুমিয়েছে বলে বিরক্ত করতে চাইলো না সে।দরজা আটকে চলে আসতে নিলে শুনতে পায় আরহানের মৃদু দুর্বল কন্ঠস্বর –
“পানি!”
ঈশানির মনটা কেমন খোচখচ করে।সে ফিরে যায় রুমে।লাইট জ্বালালে উজ্জ্বল হয় রুম।দেখতে পায় আরহান শুয়ে আছে ব্লাঙ্কেট জড়িয়ে।ঈশানি এগিয়ে যায়।পানির গ্লাসে পানি ঢেলে মৃদুস্বরে ডাকে –
“এই যে পানি।শুনছেন?”
আরহানের থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে ঈশানি তার বাহু ধরে ঝাঁকি দিতে গেলেই অবাক হয়।জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে।আৎকে উঠে ঈশানি।তড়িঘড়ি ঘরে হাত ছোঁয়ায় আরহানের কপালে, গালে ও গলায়।মারাত্মক মাত্রায় জ্বর এসেছে।ঈশানি ভীষন বিচলিত হয়। আরহানকে ধরে পানি খাওয়ায় প্রথমে। তারপরে কাবার্ড খুলে ফার্স্ট এইড বক্স থেকে থার্মোমিটার বের করে। আরহানের মুখে পুরে দেয়।কিছুক্ষণ পর বের করে দেখে ১০৪° ডিগ্রি তাপমাত্রা।বিকেলে বৃষ্টিতে ভেজার ফলে হয়েছে নিশ্চয়।নিজেকে অপরাধী মনে হলো ঈশানির।এতো রাতে কাউকে ডাকবে কিনা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকলো। কিন্তু পরক্ষনেই দাড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট না করে দ্রুত একটা জ্বরের ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। আরহানের কোনো হুশ নেই।সে জ্বরে বেঁহুশ হয়ে পড়ে আছে।ঈশানি একটা ছোট্ট বোল নিলো তারপর একটি রুমাল নিয়ে আরহানের মাথার শিয়রে বসে জলপট্টি দিতে লাগলো।দৃষ্টি তার আরহানের মুখে।

~চলবে

{ কারেন্ট’টা ইদানিং বড্ড জ্বালাচ্ছে। সেই সন্ধ্যা থেকে নাই।মাত্রই আসলো।তাই পর্ব দিতে দেরি হলো}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here