তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ১৫ লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা

0
30

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ১৫
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.

ভোরের হাল্কা আলোয় ঘরটা ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠে।জানালার পর্দা হাল্কা ভেসে উঠছে বাতাসের ছোঁয়ায়। আরহানের চোখ মেলে তাকালো ঘড়ির দিকে।ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে এখন ৬:১৫ । আরহান উঠে বসলো।পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে কোথাও কাউকে দেখতে পেলো না।মাথা ঘামালো না বেশি।নিজের মতো ফ্রেশ হয়ে শরীরচর্চায় মনোযোগী হয়।এরমাঝে একবার ময়না এসে কফি দিয়ে গেছে। আরহান নিজ কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।
.
ঈশানি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছে রান্নাঘরে।ছোটমাকে টুকিটাকি কাজে সাহায্য করছে। মিনারা বেগম না করলেও শুনেনি।ব্রেকফাস্ট সব তৈরি করেছেন মিনারা বেগম ।টেবিলে এগিয়ে দিচ্ছে ঈশানি।টেবিলে খাবার সাজাতে সাজাতে মোটামুটি সবাই চলে এলো।জাহিদ চৌধুরী এসে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারে বসে পড়েন। আয়রা ও ইয়াসিন ও এসে বসে পড়ে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা যায় আরহানকে।একদম ফরমাল পোশাকে।এসে বাবার পাশের চেয়ারে বসে পড়ে। আরহানকে তৈরি হয়ে নামতে দেখে আয়রা মুখ বাঁকিয়ে বলে –
” কি ভাইয়া? তুমি বিয়ের দুদিন যেতে না যেতেই ডাক্তারি করতে চলে যাবে? বিয়ের পানিই তো এখনো শুকালো না।”

ইয়াসিন কিছু বললো না মিটিমিটি হাসছে শুধু।জাহিদ চৌধুরী তাল মেলালেন সাথে –
” আরু তো ঠিকই বলছে।কয়েকটাদিন ছুটি নিতে পারতে।”

আরহান কোনো ভ্রুক্ষেপ করলো না। ভাবলেশহীন ভাবেবললো –
” আমার বিয়ের জন্য পেশেন্টের চিকিৎসা আটকে মা*র*বো নাকি।”

ঈশানি কেবলই ব্রেড/পরোটা রাখতে টেবিলে এসেছিলো।ঈশানিকে দেখেই আরহানের মেজাজ খিঁচিয়ে উঠলো।তিরীক্ষে মেজাজে বললো –
“এই মেয়ে,তোমাকে না বলেছি আজ থেকে কলেজ যেতে।তুমি কলেজের জন্য তৈরি না হয়ে রান্নাঘরে কি করছো।”

ঈশানি ভীষন কষ্ট পেলো।সকলের সামনে এভাবে চিল্লিয়ে বকা দেয়ার কি আছে।সে তো এখনি যেতো রেডি হতে।মুখটা ছোটো করে ফেললো ঈশানি।মুখে কিছু বললো না।জাহিদ চৌধুরী আরহানকে ধমকে উঠলেন –
“মেয়েটার সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো? সুন্দরমতো বুঝিয়ে বললেই তো হয়।”

ঈশানি গাল ফুলিয়ে উপরে চলে গেলো। পনেরো মিনিট পর নেমে আসে।দেখে প্রায় সবার খাওয়া শেষ তারা চলে গেছে। আয়রা বসে আছে টেবিলে।ঈশানি আসলে তাকে উদ্দেশ্য করে বলে –
“দ্রুত খেয়ে নে।ভাইয়া অপেক্ষা করছে বাহিরে।”

ঈশানি মুখ বাকালো।তারপর বললো –
“উনি দাড়িয়ে আছে কেনো?”

আয়রা ফোন টিপতে টিপতে প্রত্যুত্তর করলো –
” বাবা বলেছে তোকে কলেজে পৌঁছে দিতে।তাই দাঁড়িয়ে আছে।জলদি যা নাহয় আবার ধমক খাবি।”

ঈশানি ব্রেডে কামড় বসিয়ে বললো –
“আমি একাই যেতে পারবো।যাবো না ওনার সাথে।”

আয়রা বেশি ঘটালো না ঈশানিকে। সেও দ্রুত খাবার শেষ করে কাধে ব্যাগ নিয়ে ছুটলো।গাড়ি নিয়ে আরহানকে দাড়িয়ে থাকতে দেখেও পাত্তা দিলো না। উল্টো দিকে মুখ দিয়ে ছুটলো গেটের দিকে।অপেক্ষা করছে রিক্সার জন্য। আরহান শান্ত হয়ে সব দেখলো।তারপর গাড়ি নিয়ে এগিয়ে গেলো ঈশানির দিকে।ঈশানির সামনে গাড়ি থামিয়ে জানালার কাঁচ নামিয়ে বললো –
“তুমি কি গাড়িতে উঠবে?নাকি আমি কোলে করে নিয়ে আসবো?”

ঈশানি চকিত নয়নে তাকালো।তখনি আবার গাড়ির হর্ন বেজে উঠেলো।ঈশানি মুখে কিছু বললো না।ঠাঁয় দাড়িয়ে রইলো।ভাগ্যক্রমে সে একটা রিক্সা ও পেয়ে গেলো।দ্রুত সে রিক্সায় উঠে গেলো। আরহান শুধু তাকিয়ে দেখে গেলো।তারপর সে নিজেও হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গেলো।
.
টিফিন পিরিয়ড চলছে।৫ দিন পর কলেজে এসেছে ঈশানি। এ নিয়ে মিথিলার অভিযোগের শেষ নেই।মিথিলার ভাষ্যমতে – ঈশানিকে ছাড়া তার এতিম এতিম দুঃখী দুখী লাগে। আর এরকম বাজে অনুভব করানোর জন্য ঈশানির শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।কঠোর শাস্তি।
ঈশানির মিথিলার কথায় কোনো মন নেই।সে ভাবছে– এই যে তার জীবনের এমন আমূল পরিবর্তন হলো এ সম্পর্কে প্রিয় বান্ধবীকে কিছু জানাবে কি না।দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে সে।কিন্তু সম্পর্কটা এখনো যেখানে অনিশ্চিত সেখানে সেই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে সকলকে জানিয়ে লাভ কি। তাই সে এ ব্যাপারে কিছু জানালো না মিথিলাকে।
এদিকে মিথিলা তখন থেকে বকবক করে যাচ্ছে।ঈশানির থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়েই সে ঈশানির বাহু ধরে ঝাকিয়ে জিজ্ঞেস করে –
” কিরে,শুনছিস আমার কথা ?”

ঈশানি সৎবিত ফিরে পেলো।মাথা নাড়িয়ে বললো –
“হ্যাঁ? কি বলছিস? বল।”

মিথিলা ভীষন হতাশ হলো।তার এই বান্ধবী পরিবর্তন হওয়ার নয়।এমনি থাকবে নাকি এই মেয়ে।তারপর আবার কিছু একটা মনে পড়তেই দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়ে ঈশানির কাছে ঘেষে গেলো।তারপর আদর আদর কন্ঠে বললো –
” এই ঈশু শোন,তুই যে এতোদিন কলেজ আসিসনি আমি তো ভীষন কষ্ট পেয়েছি।তোর কি উচিৎ না এই কষ্ট ভুলিয়ে দেয়ার জন্য আমাকে খুশি করা।”

ঈশানি কপালে কুচকে চোঁখ ছোটো ছোটো করে চাইলো।মেয়েটার মতিগতি তার ঠিক ঠেকছে না।সেভাবেই উল্টো প্রশ্ন করলো –
” কাহিনী কি?ঝেড়ে কাশো দেখি।”

মিথিলা এবার একটু লজ্জা পেলো।আঙুল দিয়ে ঈশানির হাতে আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো –
” আমি ফেসবুকে একটা ছেলের সাথে প্রেম করছি।আজকে আমাকে দেখা করতে ডেকেছে।কিন্তু একা যেতে তো ভয় করছে। তুই চল না আমার সাথে।তুই থাকলে আমি সাহস পাবো।”

ঈশানি অবাক হলো ।সে ছিলো না মাত্র ৫ দিন।এরমধ্যেই সে প্রেমিক জুটিয়ে ফেলেছে।ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো ঈশানি –
” একা একা আমাকে না বলে প্রেমিক জোগাড় করেছো।একা একাই দেখা করো যাও।”

মিথিলা ঈশানিকে জড়িয়ে ধরে ন্যাকামি করে বললো –
“আরেহ জানু,রাগ করছিস কেন?তুই তো ছিলি না। তোর একাকীত্ব অনেক অনুভব করছিলাম।তখন ঐ ছেলেটা তার কাধ মানে অনালাইনে অদৃশ্য কাধ বাড়িয়ে দেয় আমার দিকে।আমি শান্তনা নিতে গিয়ে প্রেমে পড়ি।এটা কি আমার দোষ বল?আমার ভোলাভালা নরম মন,পিছলে গেলো।তারউপর ছেলেটা মেডিক্যালে পড়ে।বুঝিস ‘ ই তো।”

ঈশানি হেসে ফেললো। এই মেয়েটার সাথে কি রাগ করে থাকা যায়।এমন আদুরে আদুরে কথা বলে মন চায় গালদুটো টিপে দিক সে।তবু মিছেমিছে রাগ দেখিয়ে বলে –
” হয়েছে হয়েছে।তোমার ভোলাভালা নরম মন যাকে তাকে যেখানে সেখানে দেখে ক্রাশ নামক বাশ খেয়ে চিৎপটাং হয়ে থাকে।এটায় আবার কি হয় কে জানে।”

মিথিলা নিজেও এটা নিয়ে একটু চিন্তায় থাকলেও প্রকাশ করলো না।ঈশানিকে জোর করে রাজি করালো।দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলো কলেজ ছুটির পর যাবে তারা।
.
একটি বিলাসবহুল ফ্যান্সি রেস্টুরেন্টে বসে আছে ঈশানি আর মিথিলা।তাদের সামনেই বসে আছে মিথিলার ফেসবুকে প্রেম হওয়া তিনদিনের প্রেমিক।লোকটা দেখে খারাপ মনে হচ্ছে না।যথেষ্ট ভদ্র,সভ্য লাজুক লাগছে। এই যে যেমন এখন — মাথা নিচু করে,সোজা স্টান হয়ে বসে আছে। না কথা বলছে আর না তাকাচ্ছে।এদিকে তার নির্লজ্জ বান্ধবী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে ছেলেটাকে।যেনো মাথার একটা চুলও বাদ না যায় এমন অবস্থা।ঈশানি একটু ওদের স্পেস দেয়ার জন্য টেবিল থেকে উঠে গেলো।যাওয়ার সময় মিথিলাকে বলে গেলো – ওয়াশরুমে যাচ্ছে।
ঈশানি রেস্টুরেন্টটা একবার ঘুরে দেখতে চায়।দেখতে সুন্দর,আকর্ষণীয় আর চমৎকার লাগছে তার।ডেকোরেশন ও বেশ অন্যরকম।খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এসবই অবলোকন করছিলো সে।তখনি তার চোখ আটকে গেলো একটি টেবিলে।টেবিলে দুটো ছেলেমেয়ে বসা।দুর থেকে দেখে ছেলেটাকে তার আরহানের মতো ঠেকলো। সে আর একটু এগিয়ে গেলো ভালোভাবে দেখার জন্য।দেখতে পেলো ছেলেটা আসলেই আরহান আর তার সামনে আরহানের হাত ধরে বসে আছে অলিভিয়া।অলিভিয়ার কান্নারত মৃদু আওয়াজে বলা কথা ঈশানির বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিলো। সে স্পষ্ট শুনতে পেলো অলিভিয়ার হাহাকার –
” আরহান,আমি তোকে ভীষন ভালবাসি।বিশ্বাস কর।তোকে অন্য কারো সাথে দেখা আমার জন্য মরণ সমতুল্য।আমি ভালো নেই।মনে হচ্ছে আমার হৃদয় কেউ কামড়ে খাচ্ছে।”

ঈশানি আর শুনতে পারলো না।কেনো তার বুক জ্বলছে সেটাও তার বোধগম্য হলো না।এটা তো স্বাভাবিক বিষয়।অলিভিয়া যথেষ্ট সুন্দরী,প্রতিষ্ঠিত ,স্মার্ট রমণী।যেকোনো ছেলেই এমন জীবন সঙ্গী চায়।নিশ্চয় আরহান ও ভালোবাসে অলিভিয়াকে।বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয়েছে ঈশানিকে।ঈশানির শুধুমাত্র আরহানের দায়িত্ব ও দয়া।ইশ,ঈশানির ভিতরটা আবার মোচড় দিয়ে উঠলো। তার এরকম দমবন্ধ হওয়ার কারণ তার মোটেও ভালো লাগলো না।হয়তো তিন কবুল বলে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছে তাই তার ভিতরে এতো জ্বালাপোড়া করছে।কিন্তু আদো কি তিন কবুল বললেই সম্পর্কের পূর্ণতা পায়? তিন কবুল কি পারে দুটো বিচ্ছিন্ন মনকে জোড়া লাগাতে? পারে না তো।উল্টো সে দুজন ভালোবাসার মানুষের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।নিজেকে তার ভীষন নিকৃষ্ট বাজে মেয়ে লাগছে – এসব ভেবে তার চোখ দিয়ে দুফোঁটা অশ্রু ঝড়ে ফেললো।ঈশানি চট করে মুছে ফেললো।নিজেকে শশালো কঠিনভাবে —” খবরদার ঈশানি কাদবি না।এমনটাই হওয়ার ছিলো।তোকে শুধুমাত্র দয়া করে বিয়ে করেছে উনি।চাচ্চুর কথা শুনে তোকে সমাজের মুখ থেকে বাঁচাতে দয়া করেছে। তুই তার সুন্দর ভালোবাসাময় জীবনে বিভীষিকা হয়ে সব শেষ করে দিয়েছিস। এবার সময় এসেছে সেই দয়া ফিরিয়ে দেয়ার।”

ঈশানি কোনরকম মিথিলাকে গিয়ে জানালো তার শরীর খারাপ লাগছে।এক্ষুনি বাসায় যেতে চায়। মিথিলা ও ঈশানির শরীর খারাপ দেখে আর দেরি করেনি।তক্ষুনি বেরিয়ে পড়ে ওরা।
.
সন্ধ্যার পর আরহান ফিরে এসে দেখে ঈশানি পড়ছে। আরহান ঈশানিকে দেখে সোজা ওয়াশরুমে যায়।তার এখন শাওয়ার নেয়া জরুরি।কিছুক্ষণ পর ময়না আসে আরহানের জন্য কফি নিয়ে।কফি রেখে সে চলে যায়।ঈশানি তখনো পড়ায় ব্যাস্ত। আরহান ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কফি দেখতে পায়।চুল ঝাড়তে ঝাড়তে সে বেলকনিতে যায়।রাতের আকাশ দেখতে দেখতে কফিটা শেষ করে রুমে এসে দেখে ঈশানি নেই। আরহান ভ্রুযুগোল কুঁচকে ফেলে।ভাবে — সকালের ধমকটা দেয়া বোধ হয় বেশি হয়ে গেছে।বাচ্চা মানুষ এখন গাল ফুলিয়ে আছে।ভেবে কপালে আঙুল ঘষে আনমনে ঠোঁট এলিয়ে হাসে।
.
রাতে শোয়ার সময় ঈশানি আগে এসে শুয়ে পড়েছে।শুধু শুয়ে পড়েনি ঘুমিয়েও পড়েছে এমন অবস্থা। আরহান কিছু বলার সুযোগ ও পেলো না। সে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লো,পেন্ডিং কাজগুলো সারতে।আজ মাঝরাতেও ঈশানির ঘুম ভেঙে গেলো।দেখতে পেলো লম্বাটে লোকটা ল্যাপটপে মুখ গুঁজে কিসব টাইপ করে যাচ্ছে।ঈশানির খুব বলতে ইচ্ছে করলো — অনেক রাত হয়েছে।আসুন ঘুমিয়ে পড়বেন।কিন্তু বলতে পারলো না।সেভাবেই শুয়ে রইলো।তার আর ঘুম আসলো না।যতক্ষন আরহান কাজ শেষ করে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো তখন ঈশানি জেগেই ছিলো।দেখছিলো লম্বাটে সুন্দর করে সুদর্শন পুরুষটাকে।
.
সকালে উঠেও রুমে ঈশানির দেখা পেলো না আরহান।একই রুমে থেকেও মেয়েটা কেমন পালিয়ে বেড়ায়।বাচ্চা একটা মেয়ের কিসের এত অভিমান? একটা ধমক ‘ ই তো দিয়েছে।কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে তাতে। আরহান ও খানিক রেগে যায়।পরক্ষণেই ভাবে দূরে থাকতে চাইলে থাকুক,সে নিজেও একটু দুরত্ব চাইছিলো।তার মনের ভিতর ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ অনুভূতি নিয়ে সে নিজেও বিভ্রান্তিতে আছে।তার ২৮ বছরের যুবক জীবনে তার এরকম অদ্ভুদ অনুভূতি হয়নি।ঈশানিকে সে আগেও কখনো অন্য নজরে দেখেনি।কিন্তু সবকিছু বদলাতে শুরু করেছে।একদম হুট করে যেনো।এরকম হুট করে কেনো তার এরকম অনুভূতি হচ্ছে এটা নিয়ে সে নিজেও একটু বিচলিত।তার এসব অনুভূতি কি শুধু বাবার দেয়া দায়িত্ব,কর্তব্য? নাকি দায়িত্বের আড়ালে সুপ্ত অনুভূতি সেটা নিয়ে সে নিজেও নিশ্চিত না।
এদিকে ঈশানি কলেজের জন্য রেডি হয়ে আজ আগে আগে বেরিয়ে গেছে।জাহিদ চৌধুরী, আরহান দুজনেই নিজেদের কর্মস্থলে চলে গেছে। আয়রা আর ইয়াসিন গতকাল সন্ধ্যায় ‘ ই চলে গেছে।বাসায় আছে শুধু এখন মিনারা বেগম আর ময়না।তারা ঘরের কাজকর্ম রান্না বান্না ব্যস্ত।
.
ঈশানির এইচ এস সি পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে।সবমিলিয়ে হাতে সময় আছে আর দশদিনের মতো।
ঈশানি আগে থেকেই পড়াশুনায় ভীষন মেধাবী এবং মনোযোগী।এবার যেনো তার সব ধ্যানজ্ঞান আরো বেশি করে পড়াশুনায় নিবিষ্ট করেছে।

তার ছোটমা আর চাচ্চুকে বলেছে – পরীক্ষার কয়েকদিন সে নিজের ঘরে থাকতে চায়।কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে –তার অনেকগুলো বই খাতা সেগুলো শিফট করা ঝামেলা আর আরহান নিজেও অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করে।তার পড়াশুনায় সমস্যা হবে এবং আরহানের ও কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।

মিনারা বেগম কিছু না বললেও জাহিদ চৌধুরী রাজি হয়ে গেছেন।পড়ালেখার ব্যাপারে উনি আবার ভীষন সিরিয়াস।সেখানে নো কম্প্রোমাইজ।
.
আরহান আজ একটু রাত করে বাড়ি এসেছে ।এসে রুমে দেখে ঈশানি নেই।সেরকম আমলে নেয়নি মেয়েটা তো এমনিতেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে দুদিন থেকে।নিজের মতো ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে নিচে খাবার খেতে গেছে।সকলে আছে ঈশানি নেই।সে একবার রান্নাঘরে চাইলো।সেখানেও দেখতে না পেয়ে চেয়ারে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো –
“ঈশানিকে দেখতে পাচ্ছি না। ও কোথায়?খাবে না?”

ময়না দাঁত কেলিয়ে বললো –
” আপামনি তো কোনসুম খাইয়া নিজের ঘরে পড়তে বইছে।হের নাকি পরীক্ষার রুটিন দিছে।”

আরহান আর কিছু বললো না।নিজের খাওয়াতে মনোনিবেশ করলো।খাওয়া শেষে নিজের রুমে গেলো।
.
ঘড়ির কাটা ১১.৩০ মিনিটে।ঈশানি এখনো রুমে আসেনি।হাসপাতাল থেকে আসার পর ঈশানির সাথে তার এখনো দেখা হয়নি।এতোরাত হয়েছে এখনো এই মেয়ের হদিস নেই। আরহান দরজার সামনে দাড়ালো তারপর গলা উঁচিয়ে ময়নাকে ডেকে বললো –
“ময়না,আমাকে এক কাপ কফি দিয়ে যা।”

একটু পরেই ময়না এলো। হাতে কফির মগ।টেবিলের উপর রেখে চলে যেতে নিলে আরহান সুধায় –
“তোর আপামনি কোথায়?”

ময়না ঘুরে দাঁড়ায়।তারপর উত্তর করে –
“আপামনি হের ঘরে।মনে হয় পড়তাছে।”

আরহান আবার বলে –
” গিয়ে বলবি – এখন রুমে এসে ঘুমাতে।কালকে যেনো আবার পড়ে।”

ময়না ভ্রু উঁচিয়ে সুর কেটে বললো –
” ও আল্লাহ।ভাইজান, আমনে জানেন না?আপামনি কইছে পরীক্ষার কয়দিন হেই হেরার রুমে থাকপো।”

চলবে~

{ সারাদিন কারেন্ট নেই আমাদের এলাকায়।আমি সেই সকালেই লিখে শেষ করে বসে আছি।কারেন্ট না থাকায় পোস্ট করতে পারিনি। পর্বটা কেমন লেগেছে জানাবেন।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here