তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ১৪ লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা

0
32

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ১৪
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
রৌদ্রতপ্ত দিন।চারদিকে এক ভ্যাপসা ছেড়েছে। সূর্যটা যেনো রাগ করে প্রখর দীপ্তি ছড়িয়েছে চারদিকে।চৌধুরী বাড়িয়ে সকলেই কিছুক্ষণ আগে ইয়াসিনের বাড়িতে এসেছে। আয়রা বাবা , মা, ভাইকে দেখে কেঁদে ফেলে।একদিন বাড়ি থেকে দূরে অথচ মনে হয়েছে কত বছর হয়ে গেছে।জাহিদ চৌধুরী মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে শান্ত করেন।বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষ হলেই তারা মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে বের হবে।
ঈশানির অবস্থা গরমে নাজেহাল।একে তো অসহ্যকর গরম।তার উপর শাড়ি,গয়না চুল ছেড়ে তার আরো বেহাল দশা।কমিউনিটির সেন্টারের হলরুম জুড়ে মানুষের আনাগোনা যেনো এসি রুমটাকেও উতপ্ত করছিলো। আরহান দাড়িয়ে কথা বলছিলো অন্যদের সাথে।কিন্তু তার নজর ছিলো ঈশানির উপর।দুর থেকেই খেয়াল করলো মেয়েটার অস্বস্থি,বিরক্তিতে নাকমুখ কুচকে ফেলা, বিচলতা,ক্লান্তি। আরহান কথা শেষ করে সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তির সাথে।তারপর পা বাড়ায় ঈশানির দিক।কিন্তু ঈশানির দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে ঈশানির টেবিলে একজন অপরিচিত ছেলে বসা।কপালে ভাঁজ পড়ে আরহানের।সেভাবেই এগিয়ে যায় টেবিলের দিকে।ছেলেটা আরহানকে মোটেও পাত্তা দেয় না।নিজের কাজ করে যায়।ঈশানিকে বলে –
“এই যে মিস,আপনার নাম আর নম্বরটা দিন না প্লীজ।”

ঈশানি এতক্ষন বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিলো।কিন্তু এ তো পুরোই নাছোড়বান্দা।এমনিতেই গরম যাচ্ছে – তাই অবস্থা।এখন এই লোকের প্যানাপ্যানাতি আরো বিরক্ত হয়।শক্ত কন্ঠে কিছু বলার জন্য মুখ ঘুরালেই আরহানের শক্ত নজরে আটকে যায়।সে কিছু বলার আগেই আরহান গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে –
” মিস না মিসেস হবে।ওনার নাম মিসেস ঈশানি চৌধুরী। আর নম্বর ওনার হাজবেন্ডেরটা নিতে পারেন।বিকজ শি ইজ নট অ্যাভেইলেবল।*

সামনে বসা ছেলেটি থতমত খেলো।কোনরকম দুঃখিত বলে কেটে পড়লো।ঈশানি মাথা নিচু করে ফেলেছে। আরহান ঈশানির পাশে বসে
পানির বোতল এগিয়ে দেয়।পকেট থেকে টিস্যু বের করে দেয়।ঈশানি ঘাম মুছে,ঢকঢক করে পানি খেয়ে একটু স্বস্তি অনুভব করে। আরহান ঈশানিকে পর্যবেক্ষণ করে বলে –
“কোনো সমস্যা? তোমাকে দেখে ঠিক লাগছে না।”

ঈশানি মাথা ডানে বামে নেড়ে বুঝালো কোনো সমস্যা নেই। আরহান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।পরক্ষণেই উঠে চলে গেলো।ঈশানি সেভাবেই বসে রইলো।

মিনিট দশেক পর আরহান ফিরে এলো।ঈশানিকে বললো –
“গাড়িতে গিয়ে বসো।”

ঈশানি পলক ঝাপটে চাইলো।ফের শুধালো –
” গাড়িতে বসবো কেনো?”

আরহান ঈশানির হাত ধরে টান দিলো।তারপর প্রত্যুত্তর করলো –
“বাসায় যাবো আমরা।তাড়াতাড়ি বের হও।”

ঈশানি বোকা বোকা চাহনী নিক্ষেপ করে আবার বললো –
“বাসায় যাবো এখনি?ছোটমা, চাচ্ছু, আরুপু ভাইয়া ওরাও যাবে তো।আমরা একা কেনো যাবো।”

আরহান এ পর্যায় বেশ বিরক্ত হলো।মেয়েটা বেশি প্রশ্ন করে।কপালে ভাঁজ ফেলে চাইলো ঈশানির দিকে।তারপর জবাব দিলো –
” আমরা এখনি যাবো।ওরা পরে আসবে।এখন চল।”

ঈশানি আর কিছু বলতে পারলো না। আরহান টানতে টানতে নিয়ে গেলো।যেখানে শাড়ি পরে ঈশানি হাঁটতেই পারে না সেখানে টানাটানিতে শাড়িতে পা বেজে যাচ্ছে।বারবার পা আটকে যাচ্ছে।সে এবার বিরক্ত হলো।মৃদু চিল্লিয়ে বললো –
“এভাবে গরুর মতো টানছেন কেনো? পড়ে যাচ্ছি তো।”

আরহান এপর্যায়ে থেমে গেলো। পিছনে ফিরে চাইলো ঈশানির দিকে।তারপর আলগোছে নরম হাতে ধরলো ঈশানির হাত।তারপর নিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসে।তারপর সামনের দিকে তাকিয়েই ঈশানিকে বলে –
“চুলগুলো বেঁধে নেও।”

ঈশানি খুব বিরক্ত আরহানের ব্যবহারে।এরকম করে হুটহাট বদলায় কেনো এই লোক। আরহানের দিকে তাকিয়ে থেকে বিরক্তসুরে মুখ বাঁকিয়ে বলে –
“এভাবে নিয়ে আসলেন কেনো?আমরা একা যাবো নাকি?”

আরহান এবার শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ঈশানির দিকে। তার শান্ত দৃষ্টি ঈশানির ভিতরের সত্তা নাড়িয়ে দেয়।ঈশানির এতক্ষণের হম্বিতোম্বি সব এক নিমিষেই গায়েব হয়ে যায়।মাথা নিচু করে ফেলে। আরহান এপর্যায়ে মুখ খুলে।মুখ থেকে নিঃসৃত হয় শান্ত শীতল গভীর কন্ঠস্বর –
” বের হও।”

ঈশানি যেনো তাজ্জব বনে গেলো। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।কিছু বলতে পারলো না। আরহান এবার ধমকে উঠলো –
“কি বললাম শুনতে পাওনি? গাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।”

ঈশানির খুব আত্মসম্মানে লাগলো।চোখদুটো টলমল করে উঠলো।নাকের পাটা ফুলে ফুটলো খানিক।তিরতির করে ঠোঁট কাপছে।কোনরকম সিটবেল্ট খুলে বের হতে নিলে শাড়ির আঁচলে টান পড়ে।ঈশানি পিছনে না ফিরেই অভিমানী বদনেই কান্না আটকে বলে –
” এভাবে আঁচল ধরে রেখেছেন কেনো? অপমান করে সাধ মিটেনি?নিজেই অপমান করে গাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নিজেই আটকাচ্ছেন।ছাড়ুন আমার আঁচল।”

ঈশানির নাকের পাটা আরো ফুলে উঠে।কিন্তু শাড়ির আঁচল ছাড়া পায়না।ঈশানি এবার রেগে পিছু ফিরে বলতে নেয় –
” দেখুন……..

আর বলতে পারেনা।দেখতে পায় আরহান দুইহাত উচু করে বসে আছে।মানে সে শাড়ির আঁচল ধরেনি।ঈশানি এবার লক্ষ্য করলো তার শাড়ির আঁচল স্ট্রিয়ায়িংয়ে আটকে গেছে।লজ্জায় যেনো তার মাথাকাটা গেলো। “ছিঃ,কি ভাববে উনি।এভাবে কেউ নিজের ইজ্জতের ফালুদা নিজে করে।নিশ্চয় ঈশানিকে নিয়ে উল্টা পাল্টা ভাববে” – এসবই মনে মনে বিড়বিড় করছিলো সে। আরহান কয়েকপল চেয়ে বলে –
“এরজন্য বউ হিসেবে এসব বাচ্চা মেয়ে আমার পছন্দ না।এরা বুঝে কম আর ফ্যাচফ্যাচ করে কাদে বেশি।”

ঈশানি এবার চাইলো।ডাগর ডাগর চোখ গুলো মেলে চাইলো।তারপর নির্জীব হয়ে বললো –
“আপনি চাইলেই এটাকে উপড়ে ফেলতে পারেন।আমি কোনো দাবি রাখবো না।”

“কিন্তু আমি তো দাবি রাখবো।” – বলে ঈশানির উপর ঝুঁকে গেলো আরহান।
হুট করে এমন হওয়ায় ঈশানি ভয় পেয়ে যায়।চোখ খিঁচে ফেলে।কানে আসে আরহানের গভীর কন্ঠস্বর-
“আমি স্বামীর দাবি ফলাতে চাই।সেটাও এক্ষুনি।”
বলে ঈশানির মুখের দিকে আরেকটু ঝুঁকে যায়।ঈশানির গোলাপি অধরজোড়া কাপছে। নিঃশ্বাসের গতি বেড়েছে।কিন্তু কন্ঠনালী যেনো আটকে আছে। কিছু চেয়েও বলতে পারছে না।তখনি আবারো শুনতে পায় আরহানের শান্ত সাবধানবাণী-
“শোনো মেয়ে,তোমাকে আগেও বলেছি এখনো বলছি — বাচ্চা হয়ে বড়দের কথা বলবে না। আর এইসম্পর্কে যখন আমরা না চাইতেও জড়িয়ে গেছি তখন এই সম্পর্ক থেকে কারো মুক্তি নেই।না আমার আর না তোমার।তুমি ছোটো বলেই আমি তোমাকে মানিয়ে নেয়ার এতো সুযোগ দিচ্ছি।কিন্তু তুমি যদি বড়দের মতো আচরণ করো তাহলে আমারও বড়দের মতো আচরণ,কাজ করতে দুমিনিট ও লাগবে না। আই ডোন্ট লাইক টু রিপিট। সো ডোন্ট মেক মি রিপিট ইট এগেইন এন্ড এগেইন।”

কথাগুলো বলে সরে আসে আরহান।ঈশানি যেনো দেহে প্রাণ ফিরে পায়।চোখ খুলে তাকায় ।তার গাল গরম হয়ে আছে। কান গাল দিয়ে গরম আভা বের হচ্ছে।এই লোকটার চাহনি,কাছে আশা,স্পর্শ কিচ্ছু নিতে পারে না ঈশানি।কেমন মূর্ছা যায়।ঈশানি মাথা নিচু করে রয়। আরহান একবার দেখে নেয় ঈশানিকে।তারপর গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলে –
“চুলগুলো বেঁধে ফেলো এখন।গরম কম লাগবে।আমরা এখনি বাসায় যাবো।বেশিক্ষণ লাগবে না।”

ঈশানি আর কথা বাড়ালো না। আরহানের প্রতিটি কথা শুনলো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করলো।
.
জাহিদ চৌধুরী এবং মিনারা বেগম মাত্রই মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো।ঈশানি গাড়ির হর্ন শুনেই ছুট্টে এসেছে।এসে আয়রার জিনিসগুলো হাতে হাতে নিয়ে যাচ্ছে আয়রার সাথে । গল্পে মশগুল হয়েছে দুইবোন।ইয়াসিন ড্রয়িংরুমে শশুড়ের সাথে আলোচনায় ব্যাস্ত।

আয়রা ঈশানি দুজনে আয়রার রুমে বসে আছে। আয়রা তার শ্বশুরবাড়ির গল্প করছে।ঈশানি মন দিয়ে শুনছে।মাঝে মাঝে হেসে কুটি হচ্ছে। আয়রা ঈশানির দিকে তাকালো।মেয়েটাকে কেমন প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে।খুব কম মেয়েটা এভাবে হাসে।আগে থেকেই একটু নীরব,চুপচাপ স্বভাবের ছিলো।একসাথে গল্প করতে বসলে বেশিরভাগ সময় চুপ করে শুনতো কিন্তু এরকম প্রাণবন্ত হাসি ,জীবন্ত ঈশানিকে আগে দেখেনি। আয়রা ঈশানির হাত ধরে জিজ্ঞেস করলো –
” কি ব্যাপার, ঈশুরানি? খুব খুশি লাগছে আপনাকে।স্বামী সোহাগে দেখি ফুটন্ত পদ্মফুলের মতো দীপ্তি ছড়াচ্ছে।আমার ভাই কি এমন করলো বিয়ের পর বল তো দেখি।”

ঈশানি ভীষন লজ্জা পেলো।তার আয়রাপু এসব কি বলছে।লজ্জায় লাল আভা ছড়িয়ে পড়লো মুখশ্রীজুড়ে।লাজুক কন্ঠেই মিনমিনিইয়ে বললো –
“যাও।কি যে বলো তুমি।সেরকম কিছুই না।তুমি তো কত মজার মজার কথা বলছো।না হেসে কি কাদবো বলো?”

আয়রা একগাল হেসে জড়িয়ে ধরলো ঈশানিকে।তারপর আদর দিতে দিতে বললো –
“না,একদম না।তোর মুখে সবসময় হাসি থাকুক।তুই এরকম প্রাণবন্ত, সজীব, শীতের শিশির কণার মতো চকচক করতে থাক।”

ঈশানির হাসি দীর্ঘ হলো।এই মানুষগুলো আছে বলেই তার জীবন স্বার্থক।নাহলে বাবা – মাকে হারিয়ে সে তো কবেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে থাকতো।
.
রাত এগারোটা বাজে ঘরে প্রবেশ করলো ঈশানি।বিকেলে বাসায় এসে যে বেড়িয়েছে এরমধ্যে ঈশানিকে দেখতে পায়নি আরহান।মহারানীর মাত্র সময় হয়েছে ঘরে আসার।
ঈশানি ঘরে এসেই একটা সুতির জামা নিয়ে ওয়াশরুমে যায়।মিনিট পাঁচেক পর বেরিয়ে আসে। বেলকোনির দিকে অগ্রসর হলে শুনতে পায় আরহানের কন্ঠস্বর –
” বিয়ে করে কি পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিয়েছো? ডাক্টার. আরহান মীর চৌধুরী স্ত্রী সামান্য এসএসসি পাশ এটা কিন্তু আমি কিছুতেই মেনে নেবো না।বিয়েশাদী হয়ে গেছে এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে সংসার সামলাবে এরকম মনোভাব থাকলে পাল্টে ফেলো।কারণ পড়াশুনা তোমাকে করতেই হবে।”

ঈশানি বোকার মতো তাকিয়ে থাকে।পরপর চেয়ে থেকে উত্তর দেয় –
“পড়াশুনা বাদ দেবো কেনো? আমি তো চাই পড়াশুনা করতে।”

ঈশানিকে সম্পূর্ণ করতে দিলো না আরহান।আবার বলে উঠলো –
“তাহলে পড়াশুনা না করে ধেইধেই করে এঘর ওঘর বেড়াচ্ছো কেনো? কালকে থেকেই কলেজ যাবে বুঝতে পেরেছো।”

ঈশানি কিছু বললো না।শুধু ঘাড়কাত করে সম্মতি জানালো। আরহান আবারো বললো –
“টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়।”

আরহান সোফার দিকে অগ্রসর হয়।ঈশানি চট করে শুধায় –
“আপনি ঘুমাবেন না?”

আরহান পিছু ফিরে চায়।কি শান্ত নির্মল চাহনি তার।চোখের ভাষা পড়তে অক্ষম হলো ঈশানি।তাই সন্তর্পণে দৃষ্টি নামিয়ে দিলো। আরহান বললো –
” একটু কাজ আছে শেষ করে ঘুমাবো।”

ঈশানি কিছু বললো না।শুয়ে পড়লো বিছানায় এককোনা দখল করে।
.
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় ঈশানির। পানির তৃষ্ণা পেয়েছে তার।উঠে পাশে তাকায়।লোকটা তার পাশে নেই।তারপর চোখ ঘুরিয়ে চায় ডানদিক।ল্যাপটপের মৃদু আলোয় পরিস্ফুটিত হয় আরহানের মুখশ্রী।ঈশানি বালিশের নিচ হাতিয়ে মোবাইল বের করে হাতে নেয়।সময় দেখে নেয়।রাত — ২:৪৫ ।কপাল কুচকে ওড়না ভালোভাবে জড়িয়ে নেয় শরীরে।তারপর এগিয়ে যায় আরহানের দিকে।ঘুমজোড়ানো মিষ্টি ও মধুর কন্ঠে বলে –
” এখনো ঘুমাননি?অনেক রাত হয়েছে তো।”

ঈশানির ঘুমজড়ানো আবেশী কন্ঠে থমকে যায় মানবের হৃদপিন্ডটা।মৃদু কেঁপে উঠে বোধ হয়।চোখ তুলে তাকায়।ঈশানির পানে।ফোলাফোলা মুখ ,এলোমেলো চুলে কেমন যেনো মোহনীয় লাগছে
আরহান চোখ বন্ধ করে নেয়।দুটো জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে।তারপর বলে –
“কাজটা শেষ করে ঘুমাবো।তুমি উঠেছো কেনো? কিছু লাগবে?”

ঈশানি পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে মেঝে খুঁটে যাচ্ছে। ধিমি গলায় বলে –
” পানি খেতে উঠেছিলাম।”

আরহান ওতো গুরুত্ব দিলো না।টেবিলের উপর পানির বটল দেখিয়ে দিয়ে বললো –
“ওখানে আছে খেয়ে নেও।”

ঈশানি এগিয়ে গিয়ে পানি খেলো।ঘুরে আবার আরহানের কাছে দাড়ালো।একটু বেশি কাছঘেষে। আরহান তাকালো ঈশানির দিকে।বোঝার চেষ্টা করলো মেয়েটার অভিব্যক্তি।তারপর ভ্রু উঁচিয়ে সুধালো –
” কি হয়েছে?”

ঈশানি কিছু বললো না।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। আরহান আবার জিজ্ঞেস করলো –
“কি হয়েছে।”

ঈশানি এবার মুখ খুললো।মাথা নুইয়ে ধিমী নরম করুন কন্ঠে বললো –
“আপনিও আসুন,প্লীজ।”

আরহান অবাকনেত্রে চাইলো ঈশানির পানে।ঈশানির হাবভাব বোঝার চেষ্টা করলো।ঈশানি আবার বললো –
“এমনিতেও অনেক রাত হয়েছে।শরীর খারাপ করবে। আর….

ঈশানি থেমে যায়। আরহান তখনো চেয়ে।কিছু বলছে না।ঈশানি আবার বলে –
“আমার ভয় করছে।বাজে স্বপ্ন দেখেছি।”

আরহান কিছু না বলে ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিলো।তারপর সোজা বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।ঈশানি দাঁড়িয়ে দেখলো। পরে সে নিজেও গিয়ে শুয়ে পড়ে আরহানের পাশে।

চলবে ~

{সকলকে জুম্মা মোবারক।আজকে পর্ব কেমন লেগেছে জানান।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here