#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ১৩
লেখনীতে – রুবাব ফারহা
.
আজকের সকালটা ছিলো অন্যরকম।জানালা দিয়ে সূর্যের মৃদু আলো আয়রার চোখে মুখে পড়লে চোখ মুখ কুচকে ফেলে।শেষরাতের দিকে সে ঘুমিয়েছে।এখনো ঘুম কাঁচা।শরীরজুড়ে অসহ্য ব্যথারা যেনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মুহূর্তেই ভেসে উঠে কালরাতের স্বামী নামক মানুষটার পাগলামি,উন্মাদনা।লজ্জায় লাল হয়ে উঠে আয়রার মুখশ্রী। আয়রা একটু নড়েচড়ে ওঠার চেষ্টা করলে কারো শক্ত হাতের বাঁধনে বাঁধা পড়ে।চোখ ঘুরিয়ে দেখতে ইয়াসিন তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে।। আয়রার নড়াচড়ায় বেশ বিরক্ত বোধ করছে হয়তো।চোখ নাক কুচকে ফেলেছে।সেভাবেই আয়রাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমন্ত নেশাক্ত কন্ঠে বললো –
“আয়রাবিবি,এখনো নড়াচড়া করার শক্তি পাচ্ছো কিভাবে? আমি কি তাহলে তোমায় ঠিকভাবে আদর করতে পারিনি?”
বলেই চাইলো আয়রার পানে। আয়রার মুখশ্রী লাল বর্ণ ধারণ করেছে।অসভ্য লোকের বেসামাল কথা শুরু হয়েছে। আয়রা মুখ ঝামটা দিয়ে বলে –
“অসভ্য লোক,ছাড়ুন বলছি।”
ইয়াসিন বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলালো।তারপর আবার চোখ বন্ধ করতে করতে বললো –
“তোমার বরের এখনো ঘুম সম্পূর্ণ হয়নি।”
“তো আপনি ঘুমান।আমাকে ছেড়ে দিন।”
আয়রা প্রত্যুত্তর করলো –
ইয়াসিন ঠোঁট উল্টে বিগড়ে যাওয়া বাচ্চাদের মতো বললো –
“বউ ছাড়া আমার ঘুম হয়না।আমার একমাত্র ঘুমের ওষুধ বউ।বউকে না জড়িয়ে ঘুমালে ঘুমরা টাটা বায় বায় দিয়ে গায়েব হয়ে যায়।”
আয়রা নড়াচড়া করছে।ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত পা ছুড়ছে।আর বলছে –
“ইশ,একদম নাটক করবেন না।ছাড়ুন না, প্লীজ।নতুন বউ এতক্ষন ঘুমালে লোকে মন্দ বলবে।”
ইয়াসিন এবার চোখ তুলে তাকালো।তারপর আয়রার বুকে মাথা রেখে বললো –
” নতুন বউয়ের অনেক কাজ থাকে রাতে লোকে জানে।তাই তাড়াতাড়ি উঠলে উল্টো আমার দিকে আঙুল উঠবে, জান।”
বেসামাল লোকের নির্লজ্জ কথায় আয়রার বেগতিক অবস্থা হয়।লজ্জায় কুকড়ে উঠে।তখনি দরজায় কড়া নাড়ে কেউ।বাহির থেকে ভেসে আসে-
“ভাইয়া – ভাবি ,তোমাদের খেতে ডাকছে নিচে ।তাড়াতাড়ি আসো।”
আয়রা ভীষন লজ্জা পেলো।ইয়াসিনের দিকে করুন দৃষ্টি ফেললো।ইয়াসিন আর জ্বালালো না মেয়েটাকে।ছেড়ে দিলো। আয়রা যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।কোনরকম গায়ে চাদর জড়িয়ে ওয়াশরুমে গেলো।ইয়াসিনের ঠোঁটে তৃপ্তের হাসি।
.
আরহানের সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।সকালে উঠে সে তার বারান্দায় শরীরচর্চা করে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।অবশ্য ব্যতিক্রম একটু হয়েছে। আগে যে রুমে নিজে এক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুমাতো আজ সেই রুমে অন্য একজন ও আছে। ঘুম থেকে উঠার পর একপল ঈশানির দিকে তাকিয়েছিলো।মেয়েটা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।ঘুমানোর সময় ওড়নাটা শরীরে জড়িয়ে রেখেছিল সেটা কিছুটা সরে গেছে। প্লাজুটা খানিক উপরে উঠেছে।ঘুমন্ত মুখ আর এমন বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে আরহানের পুরুষালি হৃদয়টা ধক করে উঠে।পরমুহুর্তেই আরহান নিজেকে শাসায়। “তুই এতো নির্লজ্জ হলি কবে থেকে।একটা বাচ্চা মেয়ের দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস।যদিও মেয়েটা তোর বউ তবু এখনো দুরত্ব আছে। আর মেয়েটা নিতান্তই বাচ্চা, শুধরে যা।” নিজে নিজে এসব বিড়বিড় করে সে দ্রুত ওয়াশরুমে যায়।
তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে শরীরচর্চায় ব্যস্ত হয়।এদিকে ঈশানির ঘুম কিছু পাতলা হয়।চোখ মেলে তাকায়।প্রথম দুই সেকেন্ড সব অপরিচিত লাগে তার।পরমুহুর্তেই মনে করে এটা তার স্বামীর কক্ষ । আর সে এখন বিবাহিত।সে রুমের চারদিকে চোখ বুলায়। তার স্বামী নামক মানুষ নেই রুমে। সে উঠে ওয়াশরুমের দিকে আগায়।সেটাও বাহির থেকে লাগানো।ঈশানি ভাবলো হয়তো আরহান নেই রুমে তাহলে। আজ ভোর ভোর উঠেছে ,প্রকৃতির হাওয়া খেতে ব্যালকনির দিকে পা বাড়ায়।মুহূর্তেই পা থেমে যায়।চোখে পড়ে , এক সুগঠিত দেহের পুরুষ শরীরচর্চায় নিমগ্ন। উদাম শরীরে ডাম্বল হাতে শরীরচর্চায় ব্যস্ত। ঘামে চকচকে কপাল, পেশির ভাঁজে আলো পড়ে যেন এক শিল্পীর নিখুঁত তুলির আঁচড়। প্রতিটি মুভমেন্ট যেনো নিয়ন্ত্রিত শক্তি।ঈশানির চোখ আটকে যায় তার হাতে, বাহুর পেশিতে। পেশীবহুল বাহু, চওড়া কাধের গতিবিধিতে বেড়ে যায় কিশোরীর বুকের ধুকপুকানি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ছিল তার মুখের অভিব্যক্তি—একটা শান্ত, মনোযোগী ভাব, যেটা না চাইলেও চোখ টেনে রাখে।ঈশানি অভিভূতের ন্যায় চেয়ে।তখনি আরহান পিছু ফিরে।দুজনের চোখের মিলন ঘটে।ঈশানির ভিতরের সত্তা হাসফাঁস করে উঠে।লুকিয়ে লুকিয়ে দেখার অপরাধে নিজেকে দুটো ভয়ানক গালি দেয় মনে মনে।এভাবে ধরা পড়ে যাবে ভাবেনি। আরহান একপা দুপা করে এগিয়ে আসে।যেটা দেখে ঈশানি ধরা পড়ে যাওয়া চোরের মতো দৌড়ে পালায়। আরহান অবাক হয়ে যায় ঈশানির আচরনে।হতবিহ্বল হয়ে দাড়িয়ে থাকে।
.
ঈশানি নিচে নেমে আসে। বাড়িভর্তি মেহমান আর নেই কালকে বিয়ের পরপর’ই প্রায় সবাই চলে গেছে। গুটিকয়েকজন যারা আছে তারা নিকটস্থ আত্মীয়।আজ’ই হয়তো চলে যাবে। মিনারা বেগম রান্নাঘরে সকালের নাস্তা বানাচ্ছে।হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে ময়না।ঈশানি গুটিগুটি পায়ে গিয়ে দাড়ায় মিনারা বেগমের পিছনে।কিছু বলবে কি না ভাবছিলো।ময়না ঈশানিকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসে।তারপর হেসে হেসে বলে –
“আপামনি,উইঠা গেছেন।ঘুম ভালা হইছেনি?”
ঈশানি ওতো ভাবলো না।স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলো –
“হ্যাঁ,ভালো হয়েছে।”
মিনারা বেগম চোখ রাঙালেন।ময়না আর কিছু বললো না তবে মুচকি মুচকি হাসতে ভুললো না। মিনারা বেগম ঈশানিকে ডাকলেন।তারপর বললো –
“বাবু,উঠেছে?”
ঈশানি কেমন লজ্জা পেলো।ভিতরটা ছটফটিয়ে উঠলো।কোনরকম মুখ দিয়ে বের করলো –
“হু।”
মিনারা বেগম ফের বললেন –
“দ্রুত সকালের নাস্তা খেয়ে তৈরি হয়ে নিবি। আয়রার বৌভাত আজকে।”
ঈশানি মাথা দোলালো।জিজ্ঞেস করলো –
“আরুপু কি আজকে আসবে,ছোটমা?”
মিনারা বেগম কাজ করতে করতেই বললেন –
“হ্যাঁ,জামাই সহ আসবে।”
“আর শোন,আমার রুমের ড্রেসিং টেবিলের উপর শাড়ি আর কিছু হয়না আছে। ওগুলো পরে তৈরি হবি।”
ঈশানি ভীষন খুশী হলো।গদগদ হয়ে বললো –
“আরুপু আসছে ভালো হবে।আমার আপুকে ছাড়া একদম ভালো লাগে না।কেমন একা একা লাগে।”
তারপর হাতে হাতে কাজ করে দিলো। খাবার টেবিলে আস্তে আস্তে সকলে উপস্থিত হয়েছে।জাহিদ চৌধুরী, আরহান সবেই বসেছে খেতে।পাশে বসেছেন এক বৃদ্ধ মহিলা।সম্পর্কে জাহিদ চৌধুরীর ফুফু হয় আর আরহানের দাদী।জাহিদ চৌধুরীর মা মারা যাওয়ার পর এই মহিলা অনেক করেছে।সে হিসেবে তাকে যথেষ্ট মান্য করা হয়।ঈশানি রান্নাঘর থেকে খাবার এনে টেবিলে দিচ্ছে।বৃদ্ধ মহিলা নিখুঁতচোঁখে দেখছে ঈশানিকে।হঠাৎ ঈশানিকে থামিয়ে দিলো । পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে মুখ বাঁকিয়ে বললো –
“নতুন বউ তুমি শাড়ি পড় নাই কেন? এহনো কি বাড়ির মাইয়া আছো তুমি? বউ হইছো বউয়ের মত থাকবা বুঝছো।”
ঈশানি কিছু বললো না।মাথা নিচু করে রইলো।পায়ের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে ঘরের টাইস খুঁটছে।বৃদ্ধা মহিলা এবার সব লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বললো –
“শরীরে তো একছটাক মাংস নাই।আমার ওমন হুস্তুপুষ্টু বলবান নাতিরে খুশি করবা কি দিয়া? বেশি বেশি খাইয়া গতরে মাংস বানাও।স্বামী সামলাইতে হইবো তো।”
আরহান কেবলই জুসের গ্লাসে চুমুক দিয়েছিলো।এরকম নির্লজ্জ কথা শুনে নাকেমুখে উঠে গেলো।কেশে উঠলো সে।ঈশানি লজ্জা শরমে গাট হয়ে রইলো।চলে যাওয়া বেয়াদবি হবে বলে নিজের চিবুক গলায় নামিয়ে দাড়িয়ে আছে।তার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে তাকে যদি এই পৃথিবী থেকে উধাও করে দেয়া হতো তাহলে বোধ হয় সবচেয়ে বেশি ভালো হতো।ছেলে ও ছেলের বউয়ের সম্মুখে এমন কথায় জাহিদ চৌধুরী ও বেকুব বনে গেছে।কোনরকম ফুফুকে বললেন –
“এসব কি বলছো, ফুফু।চুপচাপ খাও তো।”
বলেই সেও পালালো।বৃদ্ধা ভীষন বিরক্ত হলো।নাকমুখ কুচকে বললো –
“আমি কি ভুল কইলাম।দাদুভাই তুমি কও, ওর গতরে গোশতের দরকার আছে না।এই হাড্ডি শরীরে….
বাকিটা সম্পূর্ণ করার আগে আরহান বলে উঠলো –
” সমস্যা কি দাদী, ও না পারলে তুমি আছো তো।তোমারে তো দাদা আমার জন্যই রেখে গেছে।তুমি আইসো ওর জায়গায়।”
ঈশানিকে এবার লজ্জায় হেসে ফেললো। আরহান মৃদু ধমক দিয়ে বললো –
“এখানে কি করছো? যাও মার কাছে যাও।”
বৃদ্ধা মহিলা আরহানের পিঠে চাপড় বসিয়ে বলে –
” মেলা দুষ্টু হইছস তুই। তোর দাদাও এমন আছিলো।”
আরহান আর শুনলো না উঠে চলে গেলো।বৃদ্ধা ও খেতে খেতে কল্পনা করতে লাগলো নিজের প্রাণপ্রিয় গত হওয়া স্বামীকে।
.
ঈশানি সবে গোসল করে বের হয়েছে।দেখে ময়না বসে আছে।বিছানার উপর শাড়ি গয়না।ময়না দাঁত কেলালো।যেকোনো মুহূর্তে দাঁত কেলানো এই মেয়ের অভ্যাস।দেখতে খারাপ লাগে না।তারপর ঈশানিকে বললো –
” আপামনি, আমনেরে কিন্তু এহন আমার ভাবিমনি কওয়া উচিৎ কি কন?”
ঈশানি চুলে পেঁচানো টাওয়াল খুলতে খুলতে বললো –
“আপামনি’ই ঠিক আছে।এটায় ডাকবে।”
ময়নার বোধ হয় কথাটা পছন্দ হয়নাই।তবুও কিচ্ছু বললো না।এগিয়ে এসে বললো –
“খালাম্মা কইছে আমনেরে এই শাড়ি পিন্দা রেডি হইতে।”
ঈশানি তাকালো শাড়িটির দিকে।ভীষন সুন্দর পাথরের কাজ করা আকাশী সাদার মিশ্রণে শাড়ি।কিন্তু সে তো শাড়ি পড়তে পারে না। আজ তো আরুপু ও নাই।কিছু একটা ভেবে সে ময়নাকে বলল –
“ময়নাপু,তুমি আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দিবে?আমি তো পড়তে পারিনা।”
ময়না মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বললো –
“আচ্ছা, আমনে সাজুগুজু কইরা নেন।”
ঈশানি মাথা ঝাঁকালো।তারপর হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে নিলো।মুখে ক্রিম দিয়ে হালকা ফেস পাউডার দিলো।ঠোঁটে হাল্কা গোলাপী লিপস্টিক।চোখে হাল্কা করে কাজল আর কপালে একটা টিপ দিয়ে তার সাজ পূর্ণ করলো।এটুকুতেই তাকে বেশ সুন্দর ,স্নিগ্ধ লাগছে।কাজল দেয়া চোখজোড়া বেশ স্থির লাগছিলো।ময়না একটু মনক্ষুন্ন হলো।
বললো –
“আপামনি,এতো কম সাজলেন।আর একটু সাজেন। আমনেরে সাজলে সুন্দর লাগে।”
ঈশানি হাসলো একটু ।তারপর প্রত্যুত্তর করলো –
” এতেই হবে।তুমি আমায় এখন শাড়িটা পড়িয়ে দেও।”
ময়না শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে।আচল ঠিক করতে যেয়ে সেফটিপিন পাচ্ছে না।এটা আরহানের রুম এখানে মেয়েটার জিনিস থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক।ঈশানি ময়নাকে বললো -তার রুমে সেফটিপিন আছে,গিয়ে নিয়ে আসতে। ময়না ও দৌড় লাগালো।
ঈশানি দাঁড়িয়ে শাড়ির কুচি ঠিক করছিলো। তার লম্বা চুল গুলো হেয়ার ক্লিপ দিয়ে উচু করে বেঁধে রেখেছে।আর আচল ঠিক না করায় কোমর ও পিঠের বেশ কয়েকটা জয়গা উন্মুক্ত ছিলো। আরহান নিজের রুমে আসলো।উদ্দেশ্য গোসল করে তৈরি হবে।কিন্তু নিজের রুমে ঢুকে এমন দৃশ্য দেখে তার পা জোড়া আপনা আপনি থেমে যায়। তার গলা যেনো শুকিয়ে গেছে।ভিতর থেকে পানির জন্য ছটফট করছে।শুকনো ঢোক গিললো।ঈশানির ফর্সা আকর্ষনীয় লতানো কোমর ও পিঠে নজর আটকে গেলো না চাইতেও।বিশেষ করে পিঠের উপর কালো কুচকুচে তিলে চেয়েও নিষিদ্ধ ইচ্ছেরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।চেয়েও নজর ফেরাতে পারলো না। সাদা – আকাশির সংমিশ্রণে পরিহিত শাড়িতে যেনো তাকে একটুকরো আকাশ লাগছিলো।তখনি ময়না এসে দাড়ালো আরহানের পিছনে।উকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো ব্যাপারটা।কাহিনী বুঝে মিটিমিটি হাসে সে তারপর টিপ্পনী করে বলে –
“ভাইজান, আমনের’ই বউ তো। ভিতরে গিয়ে ভালোভাবে দেখেন।কেউ না করবোনা। এমনে লুকায় লুকায় দেইখ্যা কি মজা আছে।”
ময়নার কথা শুনে ঈশানি তড়িৎ পিছু ফিরে যায়। আরহানকে দেখে তার শরীরে একটা শীতল ঢেউ খেলে গেলো বোধ হয়।লজ্জা, সরম, সংকোচে মুখ লাল হয়ে উঠে। আজ যেনো তার লজ্জা পাওয়ার দিন।সকাল থেকে লজ্জা পেতে পেতে তার মুখ টমেটো হয়ে গেছে যেনো। আরহান চোখ রাঙিয়ে তাকায় ময়নার দিকে।তারপর দাঁতে দাঁত পিষে বলে –
“আমার বউকে আমি লুকিয়ে দেখি সামনে বসিয়ে দেখি,তোর কি সমস্যা।নিজের কাজ কর,যা।”
“আমার বউ “কথাটা ঈশানির মস্তিষ্ক সবার আগে ধরলো।আবার যেনো বৈদ্যুতিক শকড বয়ে গেলো।শরীর তরঙ্গায়িত হলো।ময়না দাঁত কেলিয়ে রুমে ঢুকলো। আরহান ওয়াশরুমে ঢুকলো।যাওয়ার আগে একবার শুধু বললো –
“বাহিরে যাওয়ার আগে চুলগুলো খুলে বের হবে।”
ঈশানি বলতে চাইলো -” এই গরমে কে চুল খোলা রাখে।” কিন্তু বলতে পারলো না।তার আগেই আরহান ভিতরে ঢুকে গেছে।
ময়না হাসতে হাসতে বলে –
“ভাইজান দেহি একদিনেই বউপাগল হয়ে গেছে।বউয়ের পিঠ পুঠ কাউরে দেখবার দিবার চায় না।”
ঈশানি চোঁখ রাঙালো।ময়না চুপ হয়ে গেলেও মিটিমিটি হেসে যাচ্ছে। আর এদিকে ঈশানি লজ্জা,সংকোচ নিয়ে মরমে মরে যাচ্ছে।ছুঁয়ে যাচ্ছে নতুন নাম না জানা কতো নরম, অদৃশ্য অনুভূতি।
চলবে~
{ আজকে বৃষ্টিময় সুন্দর ওয়েদারে সুন্দর একটি পর্ব দিলাম। পর্ব পরে পাঠ অনুভূতি অবশ্যই জানাবেন। আর আজ থেকে আবার নিয়মিত গল্প পাবেন, ইন শা আল্লাহ }

