তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ১৯ লেখনীতে : #রুবাব_ফারহা

0
31

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ১৯
লেখনীতে : #রুবাব_ফারহা
.
আলো ও অন্ধকারের সংমিশ্রণে ধরণীতে নতুন প্রহর নেমেছে।রাস্তার পাশের জ্বলে ওঠা স্ট্রিট ল্যাম্প জানান দিচ্ছে এই প্রহরের নাম সন্ধ্যা।ঈশানির আপাতত পড়াশোনা নেই।পরীক্ষা শেষে তার সময় কাটছে অলস ভঙ্গিতে।দুপুরবেলা ছোটমার সাথে মান অভিমানের পালা শেষ হলে পুরোটা বিকেল ছোটমার গা ঘেঁষেই বসে ছিলো সে।একটু আগেই রুমে এসেছে।ভালো লাগছে না তার।তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এক কাপ চা নিয়ে পা বাড়ায় বেলকনির দিকে। কতটা সময় কেটে যায় সে জানে না।মেয়েটা দারুণভাবে আকাশপ্রেমী।আকাশ দেখতে বসলে যেনো তার বাহ্যিক আর কোনো দিকে নজর যায় না।আকাশ তার নিজস্ব ঠিকানা।

ঘেমেনেয়ে ফিরে আসে আরহান।এসে রুমে কাউকে দেখতে পায় না। সে ভ্রুক্ষেপও করলো না।ময়না পানি নিয়ে আসলে আরহান প্রশ্ন করে –
” তোর আপামনি কোথায়?”

ময়না প্রত্যুত্তর করার আগেই বেলকোনি থেকে বেরিয়ে আসে ঈশানি।এসে জিজ্ঞেস করে –
“আপনি কখন এলেন?আমি তো বেলকোনিতেই ছিলাম।”

ময়না চলে যায়। আরহান ঈশানিকে একবার দেখে নেয়।তারপর প্রত্যুত্তর করে –
“মাত্রই এসেছি।”

তারপর হাতের ইশারায় ঈশানিকে কাছে ডাকে।ঈশানি মৃদু পায়ে এগিয়ে যায়। আরহান টেবিলের উপর আঙুল দিয়ে ইশারা করে তাকাতে।ঈশানি দেখতে পায় বিশাল বড় একটা ব্যাগ।ঈশানি প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে চায় আরহানের পানে।

আরহান নিজেই এগিয়ে যায়। ব্যাগের ভেতর থেকে একে একে বের করে অ্যাডমিশনের বইগুলো।তারপর ঈশানির দিকে তাকিয়ে বললো –
“গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়ালে হবে না।পড়তে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে।নাহলে আমি ডাক্তারি ছেড়ে একটা রিক্সা কিনে সেটা চালাবো।তখন তুমি হবে রিক্সাওয়ালার বউ।”

ঈশানি ফিক করে হেসে ফেললো। চোখমুখ উজ্জ্বল হলো।এগিয়ে গিয়ে বইগুলো ধরে খুলে খুলে দেখলো।চোখে তৃপ্তি ও অবাকের সুরে বললো –
“আপনি কি করে জানলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই?”

আরহান একটু এগিয়ে গেলো।ঈশানির নাক টান দিয়ে কৌতুক স্বরে বলে –
“বউয়ের মন পড়ার একটা কোর্স করেছিলাম।সেটা থেকেই জানতে পারি তুমি কখন কি চাও আর কি ভাবো।বুঝেছো?

আরহান শরীর দুলিয়ে ওয়াশরুমে যায়।ঈশানি বোকার মতো তাকিয়ে থাকে। কথার মানে ধরতে পেরে নিজেও হেসে উঠে।মন নেচে উঠে খুশিতে।হৃদয়ে যেনো বসন্তের হাওয়া লেগেছে। আর সে যেনো সেই হাওয়ার তালে তালে দুলছে।
.
আরহান শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসে।দেখতে পায় ঘরের কোথায় মেয়েটার ছায়াও নেই।মাথা মুছতে মুছতে বেলকনির দিকে পা বাড়ায়।সেখানটায় টাওয়াল নেড়ে দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখে ঈশানি কফি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আরহান উন্মুক্ত শরীরে ছিলো।হঠাৎ করে ঈশানি আরহানকে এই অবস্থায় দেখে অপ্রস্তুত হয়। চট ঘুরে দাঁড়ায়।হঠকারিতায় সামান্য চা তার হাতের উপর পড়ে। জ্বলে উঠে জায়গাটা।ঈশানি কুকিয়ে উঠে। আরহান ঈশানির কন্ঠস্বর শুনে এগিয়ে আসে,লোকটা তখনো খালি গায়ে।ঈশানি এবার চোখ বন্ধ করে মৃদু চিৎকার করে বলে –
“কিছু পড়ে নিন দয়া করে।”

আরহান ভ্রু কুচকে তাকায়।হাত বাড়িয়ে টি – শার্ট পড়ে নেয়।তারপর ঈশানিকে তাকাতে বলে।তার হাত থেকে কফির মগ নিয়ে টেবিলে রাখে।ঈশানিকে বিছানায় বসিয়ে বার্নার মলম এনে লাগিয়ে দিতে দিতে বলে –
“এভাবে চিৎকার করার কি আছে? আর অপ্রস্তুত হওয়ার কি আছে? তোমার জিনিসই দেখেছো শুধু সময়ের আগে দেখে ফেলেছো এই আর কি।তবে ব্যাপার না,একসময় অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।কি বলো?”

ঈশানি শিরদাড়া সোজা করে বসলো।লজ্জায় মরি মরি হয়ে মুখ লাল হয়ে উঠলো।মাথা নুইয়ে ফেললো। কান দিয়ে যেনো গরম ধোঁয়া বেরোচ্ছে।মনে মনে ভাবছে – লোকটা দিন দিন কেমন লাগামছাড়া হচ্ছে।হুটহাট কাজকর্ম আর লজ্জা দিতে দিতেই আমাকে মেরে ফেলবে বোধহয়।

আরহান ঈশানির প্রতিক্রিয়া গভীরচোখে খেয়াল করলো ।মেয়েটা ভালো হিমসিম খেয়েছে বলে আর ঘাটালো না। অন্য প্রসঙ্গ টেনে এনে বললো –
“কালকে থেকে তোমার কোচিং শুরু।সকালের শিফটে তোমার ক্লাস।১১ টা থেকে।বাড়ির গাড়ি করে যাবে।বাড়ির গাড়ি করে চলে আসবে।এদিক ওদিক সেদিক বান্ধবীর তিনদিনের বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে গেলে পা ভেঙে বসিয়ে রাখবো বুঝেছো?

শীতল ধমকিতে খানিক কেঁপে উঠলেও বেশ লজ্জা পেলো।এভাবে বলার কি আছে? সে কি সবসময় যায় নাকি? ওইদিনই তো প্রথমবার গেলো।এসব ভেবে নিজেই ভেংচি কাটলো।

আরহান এক ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করছে –
“কি ব্যাপার? গালি দিচ্ছো আমায়,?”

ঈশানি দ্রুত মাথা ডানে বামে করলো।তারপর তাড়া দিয়ে বললো –
“দ্রুত খেতে চলুন।ছোটমা ডাকছে।”

ঈশানি দৌড়ে দরজা পর্যন্ত গেলো।গিয়ে থেমে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলে –
“ধন্যবাদ আপনাকে।আপনার জন্যই আমি আমার ছোটমাকে ফিরে পেয়েছি। খেতে আসুন।”

আরহান হেসে উঠে।তার নিজেকে এখন সুখী মানুষ মনে হচ্ছে।একজন পরিপূর্ণ মানুষ।
.
খাবার টেবিলে খেতে বসেছে সকলে। মিনারা বেগম খাওয়া থামিয়ে স্বামীর দিকে চাইলেন। স্বামীর সাথে তার মান অভিমান এখনো কমেনি।তপ্ত নিশ্বাস ফেলে এবার ছেলের দিকে চাইলেন ।তারপর বললেন –
“আয়রাকে দেখতে যাওয়া উচিৎ। মেয়েটাকে দেখি না অনেকদিন।তারউপর আবার মেয়েটা আমার অসুস্থ্য।”

আরহান খেতে খেতেই নিরুত্তাপভাবে বলে –
“বাবাকে বলো কাল তোমায় নিয়ে যাবে।আমার কাল কাজ আছে।”

জাহিদ চৌধুরী নিশ্চুপে খেয়ে যাচ্ছেন। মিনারা বেগম খাবারের দিকে চোখ দিয়ে বললেন –
“জিজ্ঞেস কর তাকে তার সময় হবে কি না।”

আরহান ঠোঁটে আসা হাসিটুকু বহু কষ্টে আড়াল করলো।তারপর গম্ভীর হয়ে বললো –
“তুমি নিজেই জিজ্ঞেস করে নেও।আমার খাওয়া শেষ আমি যাচ্ছি।”
যাওয়ার আগে ঈশানিকে বলে গেলো কফি নিয়ে যেতে।

ঈশানি একবার ছোটমার দিকে তাকাচ্ছে একবার চাচ্ছুর দিকে।তারপর ছোটমার উদ্দেশ্যে বললো –
“মনে হয় চাচ্ছুরও সময় নেই ,ছোটমা।তুমি আর আমি যাবো বরং আরুপুকে আনতে।”

জাহিদ চৌধুরী ভাতিজির দিকে তাকালেন।মনে মনে আওড়ালেন “বিচ্ছু একটা”। খাবার শেষে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন –
“কাল বিকেলে তৈরি হয়ে থাকতে বলো।”

ঈশানি এঁটো থালাবাসন নিতে নিতে বললো –
“আমাকে কি তোমার ডাকবাক্স মনে হচ্ছে , চাচ্ছু? যে কথা চিঠি প্রেরকের মতন কথা প্রেরক হবো?নিজেদের কথা নিজেরা বলো।আমার অনেক কাজ আছে।ঘুম ও পেয়েছে।”

হাই তুলতে তুলতে চলে গেলো ঈশানি।রয়ে গেলো মিনারা বেগম আর জাহিদ চৌধুরী নিশ্চুপে।কিছুক্ষণ চললো এই নীরবতা।নীরবতা ভেঙে দুজন একই সঙ্গে বলে উঠলেন –
“কাল বিকেলে….”

দুজনেই থেমে গেলেন।জাহিদ চৌধুরী হেসে ফেললেন। মিনারা বেগম মাথা নিচু করে হাসলেন।জাহিদ চৌধুরী মিনারা বেগমের মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কন্ঠে বললেন –
“এ বাড়িতে যখন তুমি আসো,তখন তোমার বয়স কতইবা হবে ।১৫/১৬ বোধ হয়।আমার বাবা খুঁজে খুঁজে চৌধুরী বাড়ির জন্য হিরের টুকরো বউ এনেছিলো।তার বিশ্বাস ছিলো তুমিই একমাত্র যে কিনা চৌধুরী বাড়িকে আমাদের দুভাইকে একই সাথে বেঁধে রাখতে পারবে।তুমি পেরেছো।যখন জাকির মারা গেলো–ঈশানিকে নিয়ে একটু সংশয়ে ছিলাম আমি।তুমি কিভাবে নেবে মেয়েটাকে?আপন করে নেবে কি না? এরকম নানাপ্রশ্নে জর্জরিত ছিল আমার অন্তর।কিন্তু আমার সকল ধারণা ভুল করে দিয়ে তুমি ঈশানিকে আগলে নিলে। আয়রা থেকে কখনো ওকে ভিন্ন নজরে দেখোনি এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবো।আমার ভিতরটা ভরে গিয়েছিলো সেদিন।আমি নতুন করে আমার সহধর্মিনীর প্রেমে পড়েছিলাম সেদিন মিনা।”
একটু দম নিলেন জাহিদ চৌধুরী। মিনারা বেগমের চোখে পানি।মাথা নিচু।জাহিদ চৌধুরী এবার বললেন –
“যেদিন সবাই ঈশানিকে লাঞ্ছনা দিলো।বাজেকথা বললো সেদিন ও তুমি ওকে আগলে রেখেছিলে।কিন্তু হঠাৎ করেই বিপক্ষে চলে গেলে আরহানের সাথে বিয়ে নিয়ে।তোমার কি মনে হয় আমাদের ঈশানি বউ হিসেবে খারাপ হবে? ওকে তো তুমিই মানুষ করেছো? নিজের শিক্ষার উপর কি তোমার ভরসা ছিলো না? আবার কালকের তোমার করা আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি মিনা।আমার এই সংসার,আমার জগৎ ,ছেলেমেয়ে সব তোমার।তোমার নিজহাতে গড়া এসব।তুমি যদি নিজের অস্তিত্বে প্রশ্ন তোলো লোকে কি করবে বলো? আমাদের তো উচিৎ বাবা – মা হয়ে মেয়েটার পাশে থাকা।মেয়েটার অবস্থা দেখেছিলে কাল?”

মিনারা বেগম এবার ফুপিয়ে উঠলেন। কান্নারত কন্ঠে বলে উঠলেন –
“আমি নিজেও অনুতপ্ত।মেয়েটার সাথে আমি অন্যায় করেছি জানি। কি করবো বলো? মায়ের মতো আদর দিয়ে যে ভাইকে মানুষ করেছি তার কষ্ট সয়নি।তাইতো নিজের মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।আমাকে ক্ষমা করে দেও।”

জাহিদ চৌধুরী জড়িয়ে ধরলেন নিজ স্ত্রীকে। মিনারা বেগম ও আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলেন ব্যাকুল হয়ে।রান্নাঘরে থেকে নিজের চোখ মুছে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসে ঈশানি।তারপর তড়িঘড়ি করে চোখে আঙুল দিয়ে বলে –
“আমি কিন্তু কিছু দেখিনি।সত্যি দেখিনি কিছু আমি।”

দুইদিকে ছিটকে সরে যান মিনারা বেগম আর জাহিদ চৌধুরী। মিনারা বেগম লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেলে জাহিদ চৌধুরী নিজেও লজ্জা পায়।ভাতিজির সামনে এমন অবস্থায় পড়তে হবে ভাবেনি।
ঈশানি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়।তারপর রেলিং ধরে ঠাট্টা করে বলে –
“ছোটোমা, চাচ্ছু তোমরা এখন আবার কন্টিনিউ করতে পারো।আর কেউ ডিস্টার্ব করবে না।”

জাহিদ চৌধুরী লজ্জায় ধমকে উঠলেন –
“তোমার হচ্ছে।কালকে এসো শুধু তুমি সামনে।”

ঈশানি হাসতে হাসতে নিজের রুমে দৌড় দেয়।
জাহিদ চৌধুরী নিজেও হেসে দেয়। মিনারা বেগম লজ্জা পেয়ে স্বামীর ঘাড়ে সব দোষ দেয় –
“সব আপনার জন্য হয়েছে।মেয়েটা কি ভাবলো!”

মিনারা বেগম চলে যায় রুমে।জাহিদ চৌধুরী হেসে নিজেও পা বাড়ায় সেদিকটায়।
.
ঈশানি হাসতে হাসতে রুমে প্রবেশ করে। আরহান সোফায় বসে ল্যাপটপে গুতোগুতি করছে।ঈশানিকে দেখে ল্যাপটপেই দৃষ্টি রেখে প্রশ্ন করে –
“শশুড় – শাশুরির রোমান্স দেখে খুব আনন্দিত হয়েছো দেখি।”

ঈশানি থতমত খেলো।তারপর মাথা এদিক ওদিক নাড়িয়ে বলে –
“না,আমি কিচ্ছু দেখিনি।একদম সত্যি।”

আরহান ল্যাপটপ থেকে চোখ ফিরিয়ে চায় তার দিকে।ল্যাপটপ পাশে রেখে দাঁড়িয়ে যায়।সামনে সামনে এগোতে এগোতে বলে –
“তাহলে আমি দেখাই?”

ঈশানি কথার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে আর একমিনিট ও দাড়ায় না। ভো দৌড় দেয় ওয়াশরুমের দিকে।ঈশানির দৌড়ানো দেখে হেসে ফেলে আরহান।
.
ঈশানি শুয়ে পড়েছে অনেকক্ষন।কিন্তু আরহান প্রতিদিনের অভ্যাসের মতো এখনো কাজ করে যাচ্ছে।ঈশানি নিজের মোবাইল সময় দেখে নিলো। রাত ১২:৩০ ।ঈশানি উঠে বসলো।চুল গুলো হাতখোপা করে নিচে নামলো।এগিয়ে গেলো আরহানের দিকে। পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।ল্যাপটপে এতোই মগ্ন আরহান ঈশানির উপস্থিতি এখনো টের পায়নি।ঈশানি তার কাধের দিকের টি – শার্টের কিছুটা অংশ ধরলো নরম হাতে।তারপর টানতে লাগলো। আরহানের হাত থেমে গেলো।চোখ তুলে চাইলো।অন্ধকারের ড্রিম লাইটের মৃদু আলোতে স্পষ্ট হলো ঈশানির মুখশ্রী।ঈশানি কন্ঠস্বর নিচু করে অনুরোধে করে বললো –
“অনেক রাত হয়েছে।আসুন শুয়ে পড়ুন।”

আরহান আবার দৃষ্টি ল্যাপটপে রাখলো।কিবোর্ডে হাত চালালো ব্যস্ত আঙ্গিকে।কাজ করতে করতেই বললো –
“তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।আমার একটু দেরি হবে।”

ঈশানি গেলো না।আবার টানাটানি করতে লাগলো আরহানের কাঁধের জামার অংশ। আরহান এবার ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাড়ালো।তারপর বললো –
“কি ?”

ঈশানি মিহি আদুরে কন্ঠে বললো –
“আসুন।ঘুমাবেন।বাকিকাজ কাল করবেন।”

আরহান একটু ঝুঁকে গেলো ঈশানির মুখের নিকটে।তারপর ফিসফিসিয়ে বললো –
“কি ব্যাপার?স্বামী ছাড়া ঘুম আসছে না বুঝি?”

ঈশানি লজ্জায় মিইয়ে গেলো।কিন্তু নড়লো না জায়গা থেকে। লজ্জামাখা মুখ নিচু করে আরো দৃঢ় ও অধিকারী কণ্ঠে বললো –
“আসুন।অনেক রাত হয়েছে।”

আরহানের একগাল হেসে উঠলো। ঈশানির মুখের উপর নরম নিশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আড়মোড়া দিয়ে বলে –
“বউ যখন চায় তখন তাই হোক।সব কাজ পরে।আগে বউয়ের ইচ্ছে।চলেন ,মহারানী।”

ঈশানি আবার লজ্জা পেলো।মাঝেমাঝে সে নিজেই ভেবে পায়না। এতো লজ্জা কোথায় থেকে আসে তার।আবার পরক্ষণেই ভাবে – এই লোকের কথা লজ্জা না পেয়ে উপায় আছে?

আরহান ঈশানির হাত ধরে নিয়ে যায় বিছানায়।দুজনে পাশাপাশি শুয়ে কিন্তু তাদের মাঝে দুরত্ব। আরহানের বোধ হয় সেই দুরত্ব পছন্দ হলো না।ঈশানিকে ডেকে বললো –
“ঈশানি,আমার বুকে না ভীষন ব্যথা করছে।কেমন ভারী লাগছে।”

ঈশানি অস্থির হয়ে পড়ে।তৎক্ষণাৎ উঠে বসে এগিয়ে আসে আরহানের দিকে।অস্থির আতঙ্কিত কন্ঠে বলে –
“কি হয়েছে? কিসের ব্যথা? কোথায় ব্যথা করছে?”

আরহান ঈশানির হাত ধরে বুকের বাম পাশে রেখে বলে –
“এখানে।”
ঈশানি আরেকটু এগিয়ে দেয় মাথা।অন্ধকারে দেখার চেষ্টা করে করে। তখনি আরহান ঈশানির হাতে টান দিয়ে বুকে মাথা ফেলে।ঈশানি ঘটনার আকস্মিকতায় অবাক ও নির্বাক। আরহান ঈশানির মাথা বুকে চেপে রেখে বলে –
“এবার ভালো লাগছে।আর ব্যথা নেই।”

ঈশানি ছটফটিয়ে উঠে মাথা তোলার চেষ্টা করলে আরহান চেপে ধরে।তারপর গম্ভীর ও স্থির হয়ে বলে –
“তুমি জানো না,বিবাহিত পুরুষদের বউ বুকে না ঘুমালে হার্টের সমস্যা হয়?জেনেশুনে নিজের স্বামীকে অসুস্থ্য বানাতে চাচ্ছো।তুমি তো ভারী বদ মহিলা!”

আরহানের এমন নাটকীয়তা দেখে নিঃশব্দে হেসে উঠলো ঈশানি।সর্বাঙ্গে বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে যেনো।শিহরণ জাগানো অনুভূতিকে লুকিয়ে ঈশানি কন্ঠে একটু অবাকতার রেশ এনে বললো –
“আপনি কি নকল ডাক্তার?এসব উদ্ভট রোগের ব্যাপারে পড়েছেন কোথায়?

আরহান এবার ঈশানির মাথা ছেড়ে কোমরে হাত রাখলো।কোমরে চাপ প্রয়োগ করে নিজের দিকে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে আসলো।তারপর দুহাতে জড়িয়ে ঘুমন্ত কন্ঠে বলে –
“তুমি বড্ড কথা বলো।ঘুমাও তো।”

ঈশানি আর কিছু বললো না। দমবন্ধ করা অনুভূতি নিয়ে জর বস্তুর মতো পড়ে রইলো আরহানের বক্ষস্থলে। পেটে যেনো হাজারো প্রজাপ্রতি উড়ে যাচ্ছে।শরীর জুড়ে অন্যরকম শিহরণ নিয়ে ঈশানি বাকি রাত না ঘুমিয়েই দেখে গেলো সামনের অতি সুপুরুষকে।উহু,একান্ত নিজের সুপুরুষ।

~চলবে

{ গল্প সম্পৃক্ত সকল অনুভূতি প্রকাশ করার অনুরোধ রইলো।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here