সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৩২

0
22

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩২
#বিয়ে_স্পেশাল

আশিয়ানের অসুস্থতা ও জাহান-জায়িনের বিয়ের আয়োজন এসব নিয়ে মাঝের দিনগুলো কিভাবে যে হওয়ার মতো উড়ে চলে গেলো কেউ বোধহয় টেরই পেলো না। আজ জাহান-জায়িনের বিয়ে।

এরই মাঝে আশিয়ানের একটা অপারেশনও করা হয়। এক্সিডেন্টের কারণল তার মাথার পেছনের দিকে কিছু কাচ ফুটে থাকায় অপারেশনটা মূলত করা হয়। জাভিয়ান-হানিয়া চেয়েছিলো জাহান-জায়িনের বিয়েটা পেছাতে কিন্তু আশিয়ানই তাদের মানা করে এমনটা করতে। কারণ তার এক্সিডেন্টের আগেই বেশ কিছু আত্নীয়-স্বজন, চেনা পরিচিতদের দাওয়াত দেওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তারা না হয় ছেলে পক্ষ, বিয়ে পেছানোটা নিয়ে তেমন কোন কথা না শুনতে হলেও মেয়ে পক্ষকে কেমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেই বিষয়টা আশিয়ান সবাইকে বুঝায়।

প্রথমে সবাই তার কথা না মানলেও পরবর্তীতে হায়া বুঝালে তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয় তাদের কথায়। প্রাণপ্রিয় ভাইদের বিয়েতে হায়া’র তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। ভাইয়েরা যেমন প্রিয় তেমনি বরটা কেও তো সে পাগলের মতো ভালোবাসে। এই কয়েকদিন হায়া’কে আশিয়ানের পাশ থেকে টেনেও কেউ সরাতে পারেনি। আশিয়ান বলার পরও সে বাসায় যায়নি একেবারের জন্যও। তার এমন পাগলামি দেখে স্পর্শ-আবরার নিশ্চিত হয়ে যায় যে, হায়া থাকতে আশিয়ানের আর কাউকে তেমন প্রয়োজন পরবে না। তারা দু’জন হায়া’কে আশিয়ানের কাছে রেখে তালুকদার বাড়ি চলে যায় হানিয়া-জাভিয়ানকে বিয়ের আয়োজনে সাহায্য করতে।

_______________________

জায়িন সাদা শেরওয়ানি গায়ে জড়িয়ে মাথায় পাগড়ি পরে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে। নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। এমন সাজেই তো তার প্রেয়সী তাকে দেখতে চেয়েছিলো। সে সাজলো প্রেয়সীর মন মতো করে কিন্তু প্রেয়সীর জন্য না, অন্য কারো জন্য।

সমাজ বলে পুরুষ মানুষ কাঁদে না, কিন্তু সমাজের এই তথাকথিত কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে তালুকদার পুরুষদের কাছে, একবার না বারংবার। জায়িন যেদিন থেকে শুনেছে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে সেদিন থেকেই শুরু হয় তার নিরব অশ্রু ঝরানো। রাতের আধার, বদ্ধ রুম ও সেজদার জায়গা জানে সে কত করুণভাবে অশ্রু ঝরিয়েছে। কত আকুতি মিনতি করে নিজের রবের কাছে সাহায্য চেয়েছে নিজের ভালোবাসাকে আপন করে নেওয়ার জন্য। বারবার একটাই কথা বলে–

—এমন কিছু একটা করে দাও মালিক, যাতে আমি সারাজীবনের জন্য তোমার কাছে আরো একবার কৃতজ্ঞ হয়ে যাই। আমার মনের খবর তোমার থেকে ভালো কে জানে? তুমি আমার ধৈর্যগুলোর ফল দাও মালিক।

জায়িন অপেক্ষা আছে এমন এক চমকপ্রদ কিছু দেখার যা সে কখনো কল্পনাতেও আনে নি। এই অপেক্ষা সে “কবুল” বলে সেই অপরিচিত রমণীকে নিজের নামের সাথে জড়ানোর আগ পর্যন্ত করবে।

—জায়িন, হলো তোমার? লেট হয়ে যাচ্ছে তে আব্বু।

মায়ের ডাকে জায়িনের হুশ ফিরে। সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে টিস্যু নিয়ে মুখটা মুছে নেয়। তারপর মাথার পাগড়ি আরেকবার ঠিক করে নিয়ে দরজা খুলে বের হয়ে আসে। মুখে জোড়াতালির হাসি ফুটিয়ে বলে–

—আমি রেডি আম্মু, চলো যাওয়া যাক।

হানিয়া ছেলেকে মন ভরে দেখতে থাকে। তার ছোট্ট জাহান-জায়িনের আজ বিয়ে। এই তো সেদিন না সে জানতে পারলো তার গর্ভে তার আর জাভিয়ানের ভালোবাসার অংশ ঠায় নিয়েছে, সেদিন কি কান্নাটাই না কাঁদল দু’জনে। তারপর আস্তে আস্তে বাবার পাগলামি ভরা ভালোবাসা আর মায়ের উজার করা স্নেহে বড় হতে শুরু করলো তারা। দিন কত তাড়াতাড়ি চলে যায় তাই না? হানিয়া যেটাকে “সেদিন” মনে করছে, সেই দিনটা ছিলো আজ থেকে আরো ২৬বছর আগে। মাঝে দিয়ে ২৬ টা বছর, দুই যুগেরও বেশি হয় কেমনে পার হয়ে গেলো তারা টেরই পেলো না।

হানিয়া ছেলের দুই গালে হাত রেখে তার মাথাটা নিজের মুখের কাছে এনে কপালে স্নেহের পরশ দেয়। তারপর কিছু একটা বিরবিরিয়ে পড়ে তার মাথা থেকে শুরু করে পুরো শরীরে ফু দেয়। চোখে অশ্রু নিয়ে বলে–

—আমার জাহান-জায়িনটা কবে এত বড় হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। আজ তাদের বিয়ে, কয়েকদিন পর আমি দাদী হবো ভাবতেই মনটা ভরে উঠছে খুশিতে।

জায়িন মায়ের চোখে চোখ রাখাই ছিলো, সে সহজেই বুঝতে পারে আজ তাদের মা কতটা খুশি তাদের জন্য। মায়ের খুশি দেখে জায়িনের মনে প্রশান্তির হওয়া বয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই আদিবার কথা মনে করে বুকে চিনচিনিয়ে ব্যথা করতে শুরু করে।

এরই মাঝে জাভিয়ান তড়িঘড়ি করে এসে বলে–

—কি হলো নাকি তোমাদের? সেন্টারে পৌঁছাতেও তো টাইম লাগবে। চল তাড়াতাড়ি।

হানিয়া নিজের চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে–

—হ্যাঁ, এই তো রেডি জায়িন। তোমরা এখনি রওনা দিয়ে দাও।

জাভিয়ান হানিয়ার কথা শুনে বলে–

—আমরা রওনা হবো মানে? তুমি যাবে না আমাদের সাথে?

হানিয়া হালকা হেঁসে বলে–

—মায়েদের ছেলের বিয়ে দেখতে হয় না জানো না। এখন কথা না বাড়িয়ে রওনা দেন তো আপনারা।

জাভিয়ান হানিয়ার এমন কথা শুনে প্রচন্ড রেগে যায়। সে রাগান্বিত গলায় বলে–

—দেখো, মেজাজ খারাপ করবে না আজকের মতো একটা দিনে। আমি অবাক হয়ে গেলাম তোমার কথা শুনে। এসব কুসংস্কার তুমি কবে থেকে মানা শুরু করলে?

—যবে থেকে নিজে মা হয়েছি তবে থেকে। আমার কাছে সব কিছুর আগে আমার পরিবার ও সন্তানের সুরক্ষা।

জায়িন মায়ের আঁচল নিজের হাতে পেঁচিয়ে বলে–

—তুমি না গেলে আমিও যাবো না। এখন তুমি ডিসাইড করো তুমি যাবে কি না। আর আমি কিন্তু সিরিয়াস আম্মু আজ।

হানিয়া জায়িনের কাজ আর কথায় হেসে দেয়। সে হাসতে হাসতে বলে–

—একটু পর বউয়ের আঁচলে বাধা পরবে যে ছেলে সে নাকি এখন মায়ের আঁচল ধরে ঘুরছে।

জায়িন হানিয়ার কথা শুনে রেগে যায়। সে গম্ভীর গলায় বলে–

—আমার মা আমার কাছে সবার আগে। বউ থাকবে বউয়ের জায়গায় আর মা থাকবে মায়ের জায়গায়। আমার মা বউ ও মায়ের মধ্যে সমতা কীভাবে করতে হয় তা আমাদের শিখিয়েছে। তাই এসব কথা বলে লাভ নেই।

জাভিয়ান-হানিয়া জায়িনের কথা শুনে তৃপ্তির হাসি দেয়। হানিয়া তাদের বাপ-বেটাকে কত করে বুঝায় সে যাবে না কিন্তু ঘাড়ত্যাড়া তালুকদাররা বুঝলে তো? এরই মাঝে স্পর্শ-আবরার আর বাকিরা এসে জাভিয়ান আর জায়িনের সাথে তাল মেলায়। হানিয়া না পেরে বলে–

—জাহান টা তো এখনো এলো না। আমি না হয় ওকে রেডি করিয়ে তারপর ওর সাথে আসবো নে।

স্পর্শ ফট করে বলে উঠে–

—তুমি যাও জায়িনদের সাথে। আমি আর আশিয়ানের বাবা জাহানকে নিয়ে আসবো নে। একটু আগে উনি জাহানকে ফোন দিয়েছিলো, প্রায়ই এসে পরেছে। আধা ঘন্টার মতো লাগবে নাকি। আমি ওকে ফ্রেশ করিয়ে, খাইয়ে, রেডি করিয়ে নিয়ে আসবো। তুমি টেনশন করো না তো।

স্পর্শ কথার পর হানিয়া না’ বলার আর কোন সুযোগ পায় না। অগ্যাত তাঁকে জাভিয়ান-জায়িনের সাথেই রওনা হওয়া লাগে।

____________________________

জাহান, স্পর্শ-আবরার একটু আগে এসে পৌঁছেছে কমিউনিটি সেন্টারে। জাহানের মন তো খুশিতে উড়ু উড়ু করছে। সে অপেক্ষায় আছে সেই সময়টার যখন সে তিন কবুল বলার মাধ্যমে তার প্রেয়সীকে নিজের রাণী করে নিবে।

জাহান আসার কিছুক্ষণ পরই বর-কনেদের স্টেজে আনা হয়। হাসি-ঠাট্টায় মেতে থাকা হলরুম গম্ভীর রূপ ধারণ করে। জাহান বড় হলেও জায়িনের বিয়েটা আগে পড়ানো হয়। জাভিয়ান-হানিয়া জায়িনের পাশে এসে দাড়ায়।

জায়িন এক প্রকার হতাশ হয়ে, সব আশা ছেড়ে দিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করে সারাজীবন ভালোবাসা না পাওয়ার অনলে জ্বলার জন্য। জায়িন আর কনেকে মুখোমুখি বসানো হয়। তাদের মাঝে ফুল দিয়ে বানানো একটা পর্দা। কাজী আগে কনের কাছে যায় তার সম্মতি নেওয়ার জন্য।

জায়িন নিজের ভাবনায় এতটাই অন্যমনস্ক ছিলো যে এরই মাঝে কনের কবুল বলা হয়ে গিয়েছে। এবার কাজী আসে জায়িনের কাছে। কাজী সাহেব বলা শুরু করেন–

—জায়িন তালুকদার হায়াত, আপনি কি আদিয়াত মাহমুদের একমাত্র কন্যা আদিবা মাহমুদকে, ১০ লক্ষ দেনমোহর ধার্য করিয়া, ইসলামি শরিয়ত মানিয়া নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি আছেন? থাকলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

“আদিবা মাহমুদ” নামটি শুনে জায়িন তড়াক করে তার মাথাটা উঠায়। সে নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। এটা কি তার ভ্রম নাকি বাস্তব? সে গাধার মতো হা করে কাজী সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

কাজী সাহেব আরো কয়েকবার বলেন কিন্তু জায়িন নিজের অবাকতা কাটিয়ে উঠতে পারে না। সবাই অবাক জায়িনের এমন নিস্তব্ধতায়। কেউ কেউ কানাঘুঁষাও শুরু করে দিয়েছে। এমন অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাভিয়ান জায়িনের কানের কাছে ঝুকে এসে ফিসফিসিয়ে বলে–

—আব্বু কবুল বলে দাও। আদিবা মামুনি কিন্তু কেঁদে দিবে দিবে অবস্থা।

জায়িন বাবার কথা শুনে একবার তার মুখের দিকে তাকায়। তারপর হুট করেই হুড়মুড়িয়ে পরপর তিনবার কবুল বলে দেয়।

—কবুল, কবুল, কবুল।

তার এমন কাজে সে যেমন বেক্কল হয়ে যায় তেমনি উপস্থিত সকলেও। কাজী সাহেব এতবার বলার পরও যেই ছেলেটা কবুল বলছিলো সে হঠাৎই এক নিঃশ্বাসে কবুল বলে দেওয়ায় সবাই একটু চমকেই যায়। তারপর হঠাৎই সবাই হাহা করে হেঁসে দেয়।

হাসাহাসি থামিয়ে সদ্য বিয়ে করা বর-বউকে মুখোমুখি করা হয়। তাদের মাঝে থাকা ফুলের পর্দাটা সরিয়ে দেওয়া হয়। জায়িন নিজের জায়গা ছেড়ে আদিবার সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর আদিবার মুখের উপর থেকে ঘোমটা সরিয়ে দেয়। কনের সাজে থাকা প্রেয়সীকে দেখে জায়িন কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজের আশেপাশের সবকিছু ভুলে যায়। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে আদিবার দিকে। তার নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়–

—মাশা আল্লাহ, এ তো সাক্ষাত জান্নাতের হুর।

আদিবা ও তাদের আশেপাশে দাড়িয়ে থাকা কাজিন সমাজ জায়িনের কথাটা শুনে ফেলে। আদিবা এমন কথায় লজ্জা নিজের মুখটা আরো নামিয়ে নেয়। অন্যদিকে কাজিন সমাজ “ওহহহ হোোোো” বলে চেঁচিয়ে উঠে। জায়িনের তাদের চেঁচামেচিতে ঘোর ভাঙে। সে নিজেও কিছুটা লজ্জা পেয়ে গিয়েছে পরপর দু’বার বোকার মতো কাজ করায়।

জায়িন আদিবার পাশে বসে পড়ে। জাভিয়ান জায়িনের কাঁধে হাত রেখে বলে–

—কি বলেছিলাম না, তোমাদের কোন খারাপ চাওয়ার আগে আমরা যেনো নিঃশেষ হয়ে যাই। মিললো তো আমার কথার সাথে?

জায়িন বসা থেকে উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ দিয়ে সুখের অশ্রু গড়িয়ে পরে জাভিয়ানের কাঁধে। সে আলিঙ্গনরত অবস্থায় বলে–

—থ্যাঙ্ক ইউ বাবা। থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ। ইউ আর দ্যা বেস্ট ফাদার ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড।

জাভিয়ান জায়িনের কাঁধ চাপড়ে তাকে স্বান্তনা দেয়। তারপর তাকে নিজের জায়গায় বসিয়ে হানিয়া-জাভিয়ান জাহানের কাছে এসে দাঁড়ায়। কাজী সাহেবও কনের কাছে গিয়ে তার সম্মতি নিয়ে আসেন। তারপর জাহানের কাছে এসে পূর্বের মতো বলতে শুরু করেন–

—জাহান তালুকদার হামজা, আপনি কি রাহাত চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে রাহনুমা চৌধুরী রাহাকে ১০ লক্ষ টাকা ধার্য করিয়া, ইসলামি শরিয়ত মানিয়া নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

জাহান কনের নামের জায়গায় রাহার নাম শুনে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকে কাজী সাহেবের দিকে। মানে কি? মেহরিমা না তার বউ? তাহলে তার জায়গায় রাহা কেনো?

কাজী সাহেব ও সকলে ভাবে জাহানও হয়ত জায়িনের মতো চমকে গিয়েছে, কিন্তু বিষয়টা তো তা না। জাহান অবাক চোখে তার বাবা-মায়ের দিকে তাকায়। দেখতে পায় তারা হাসি হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কাজী সাহেব আবারও কথাগুলো জাহানকে বললে জাহান নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ায়। তার পুরো শরীর কাঁপছে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–

—আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।

সকলের হাসি-তামাশা নিমিষেই শান্ত হয়ে যায়। এবার বাকিরা জাহানের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। জাভিয়ান হানিয়া জাহানের কাছে এসে বলে–

—কি বলছো তুমি এসব জাহান? কেনো বিয়ে করতে পারবে না রাহা’কে তুমি?

—কারণ আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে ছাড়া আর কাউকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবো না বাবা।

—হ্যা তো, তার সাথেই তে হচ্ছে তোমার বিয়ে। তোমার ভালোবাসার মানুষ, রাহা মামুনির সাথেই তে আমরা তোমার বিয়ে ঠিক করেছি।

জাহান হানিয়ার কথা শুনে যেমন অবাক হয় তেমন উত্তেজিতও হয়ে যায়। সে চিৎকার করে বলে–

—আমার ভালোবাসার মানুষ রাহা কোন কালেই ছিলো না আম্মু। আমি হায়া’র বান্ধবী মেহরিমাকে ভালোবাসি দুই বছর যাবত।

জাভিয়ান-হানিয়া হতভম্ব হয়ে জাহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। এরই মাঝে স্টেজে হায়া উঠে আসে। সেও প্রচন্ড অবাক রাহা’কে কনের জায়গায় দেখে। তার উপর সে যখন তার মায়ের মুখে শুনলো জাহানের ভালোবাসার রাহা নাকি তার ভাইয়ের ভালোবাসার মানুষ তখন সে আরো অবাক হয়ে যায়।

হায়া তার বাবা-মাকে বলে–

—পাপা, আম্মু তোমরা এসব কি বলছো? রাহা কেন বড় দা’ভাইয়ের ভালোবাসার মানুষ হবে? বড় দা’ভাই আর মেহু তো রিলেশনে আছে দেড়/দুই বছর যাবত।

জায়িন আর আদিবাও একই কথা বলে। জাভিয়ান তাদের কথা শুনে অবাক হয়ে বলে–

—তাহলে রাহাত যে বললো, রাহা মামুনি আর জাহান নাকি একে অপরকে ভালোবাসে। তাই তো আমরা এই বিয়েতে মত দিলাম। রাহাত কি তাহলে মিথ্যে বললো?

কথাটা বলেই জাভিয়ানসহ সকলে রাহাতের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকায়। এদিকে রাহাত ভাবতেও পারেনি, তার তরি তীরে এসে এমন বাজে ভাবে ডুবে যাবে। জাভিয়ান রাহাতের সামনে এসে বলে–

—কি হলো রাহাত, তুমি তো আমায় বললে তোমার মেয়ে আর আমার ছেলে নাকি রিলেশন আছে। কিন্তু আজ তো দেখছি ভিন্ন কিছু। তুমি আমাকে মিথ্যে বললে কেনো?

রাহাতের মুখে কোন কথা নেই। সে আমতাআমতা করতে থাকে। জাভিয়ান এবার প্রচন্ড রেগে যায়। কথা যখন তার পরিবারের সম্মান আর তার ভালোবাসার মানুষগুলোর সুখের বিষয়ে হয়, জাভিয়ান তখন একচুল পরিমাণ কম্প্রোমাইজ করতে রাজি নয়। সে রাগী গলায় চেঁচিয়ে বলে–

—কি হলো বলছো না কেনো? কেন আমাদের মিথ্যে বললে? কেন এমন ছলাকলা করে আমার ছেলের সাথে তোমার মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলে? চুপ করে আছো কেন? বলো।

সেন্টারে উপস্থিত সকলে জাভিয়ানের এমন রাগ দেখে অবাক হয়ে যায়। একসময় এমন রাগী জাভিয়ানকে দেখে সকলের অভ্যাস থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তারা ভুলে গিয়েছিলো জাভিয়ান কতটা রাগী ও ভয়ংকর। সন্তান হওয়ার পর জাভিয়ান ভুলেও কখনো তাদের সামনে রাগারাগি করত না। তাই তার সন্তানেরাও বাবার এমন রাগী সত্ত্বার সাথে পরিচিত নয়। জাহান, জায়িন, হায়া তিনজনেই বাবার এমন রাগ দেখে অবাক ও ভয় পেয়ে যায়।

এরই মাঝে সকলকে শুনতে পায় এক নারী কন্ঠস্বর। সে বলে–

—আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে মি.তালুকদার।

শব্দসংখ্যা~১৯৫০
~চলবে?

[পরবর্তী পর্বে বাকি টুকু খোলাসা করবো। আমি প্রতিদিন গল্প না দিতে পারলেও যেদিন দেই সেদিন বড় বড় করেই দেই। কিন্তু আপনারা রেসপন্স করতে কুণ্ঠাবোধ করেন😞

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🖤]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here