সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৩৮

0
21

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৮

দিনগুলো বেশ ভালো ভাবেই কেটে যাচ্ছে সকলের। আশিয়ান-হায়া, জায়িন-আদিবা, আফিফ-রাহা এই তিন জুটি তাদের সংসার জীবনটাকে বেশ ইনজয় করছে। কিন্তু বাকি আরেক জুটি জাহান-মেহরিমা তারা যেন একটা রেখায় আঁটকে গিয়েছে।

জাহান-মেহরিমার বিয়ের দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ দিন পার হয়ে গিয়েছে কিন্তু তাদের সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি। জাহান এখনও কঠিন অভিমান করে রয়েছে মেহরিমার সাথে। কেন মেহরিমা তাকে ছেড়ে গেলো? সে কি মেহরিমাকে বারবার বলেনি, সে মেহরিমাকে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসেছে, নিজের আত্নাটাকে তার কাছে সপে দিয়েছে, তাহলে মেহরিমা কেন তাকে ছেড়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখালো? জাহান তো শয়তানের প্ররোচনায় পরে নিজের ক্ষতিও করে দিতে পারত, তখন? তখন জাহানের কোন ভালোটা হতো মেহরিমার এই ত্যাগের?

_____________________________

তালুকদার বাড়িতে সবাই ব্রেকফাস্ট করতে বসেছে একসাথে। হানিয়া তার দুই পুত্রবধুদের বসিয়ে নিজেই বরাবরের মতো সার্ভ করছে। সে এখনই সংসারের দায়িত্ব পুত্রবধুদের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চায় না। হাতে হাতে সাহায্য করে ঠিক আছে কিন্তু পুরোপুরি দায়িত্ব দেয়নি সে। দেখুক, শিখুক বাকি জীবন তো পরেই আছে সংসার করার জন্য।

জাভিয়ান খেতে খেতে তার বাবাকে বলে–

—বাবা, জাহান-জায়িনের বিয়ের তো অনেকদিনই হলো কিন্তু ওদের রিসেপশন করা হলো না। আমি ভাবছিলাম ভালো একটা ডেট দেখে ওদের রিসেপশনের ব্যবস্থা করে ফেলবো। তোমার মতামত কি এই বিষয়ে?

বৃদ্ধ মি.তালুকদার ছেলের মতামত চাওয়া দেখে মনে মনে বেশ খুশি হলেন। ছেলেদের বিয়ে দিয়েছে তাও এখনও সে বাবার থেকে মতামত না নিয়ে কাজ করে না। মি.তালুকদার ক্ষীণ স্বরে বলেন–

—তুমি যেটা ভালো মনে করছো করো। আমি তোমার সব বিষয়ে পূর্ণ আস্থা রাখি জাভিয়ান।

—তাও তুমি তোমার মতামত দাও।

—হুম করতে পারো। দাদু ভাইদের বিয়ে হয়েছে, অনেকেই বিয়েতে আসতে পারে নি আবার জাহান দাদু ভাইয়ের বিয়ে সম্পর্কে অনেকই জানে না। তাই রিসিপশনটা তাড়াতাড়ি করে ফেলাই ভালো হবে।

—আচ্ছা। মাম্মা (রোজি বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে জাভিয়ান) তুমি কি বলো এবিষয়ে?

রোজি বেগমকে তখন খাইয়ে দিচ্ছিল আদিবা। দুই নাতিবউ ভীষণ ভালোবাসে ছোট দাদীকে। তার শরীরের অবস্থা এতটাই নাজুক যে নিজ হাতে খেতে পর্যন্ত কষ্ট হয়। তাই তাকে হানিয়া বা মেহরিমা-আদিবা খাইয়ে দেয়। কাজটা তারা বেশ ভালোবাসার সহিত করে।

রোজি বেগমের খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। আদিবা তার মুখ ধুয়ে আলতো হাতে মুছে দেয়। রোজি বেগম কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–

—ভাইয়ার সাথে একমত আমি বাবা।

—আচ্ছা। খারাপ লাগছে তোমার? তুমি কি এখানে থাকবে নাকি শুয়ে দিবে আসবে তোমাকে?

—না খারাপ লাগছে না। এখানেই থাকি। খাওয়া ছেড়ে উঠতে হবে না কাউকে।

আদিবা বসে পড়ে ব্রেকফাস্ট করতে। এতক্ষণ তারা সকলেই চুপচাপ জাভিয়ানদের কথা শুনছিল। জাভিয়ান এবার ছেলেদের দিকে ফিরে। তাদের উদ্দেশ্য করে বলে–

—তোমাদের কি মতামত বয়েজ? কবে রাখলে তোমাদের সুবিধা হয়?

জায়িন বলে–

—আমার অফিসে আপাতত কোন প্রেশার নেই। আমি এইমাসটা ফ্রীই আছি। সামনে মাসের সেকেন্ড উইকে একটা নতুন ডিল সাইন করবো, তারপর থেকে হয়ত আবার বিজি হয়ে যাবো।

জাভিয়ান জাহানকে উদ্দেশ্য করে বলে–

—জাহান তুমি ফ্রী আছো এই মাসে? নাকি তোমার কোন ক্যাম্প বা সার্জারি আছে?

—তেমন কোন প্ল্যান নেই বাবা। সার্জারি একটা আছে কিন্তু সেটা এই সপ্তাহতেই হয়ে যাবে। তারপর ইমার্জেন্সি কোন কেস না আসলে আমি ফ্রী আছি।

জাভিয়ান মেহরিমা-আদিবা ও হানিয়ার কাছ থেকেও মতামত নেয়। তাদেরও কোন সমস্যা নেই দেখে ঠিক করা হয় সামনের সপ্তাহের শেষের দিকে জাহান-মেহরিমা ও জায়িন-আদিবার রিসিপশন। হানিয়াকে জাভিয়ান বলে মির্জা বাড়িতেও যাতে খবরটা পৌঁছে দেয়। এবং ঐ বাড়ির সবাই যাতে এই সপ্তাহেই এই বাড়িতে এসে পড়ে।

_____________________________

হাায়া-আশিয়ান, মেহরিমা-জাহান ও আদিবা-জায়িন আজ প্রথম বারের মতো সকলে বাহিরে বের হয়েছে সময় কাটানোর জন্য। তাদের তিন জুটিরই বিয়ের পর একের পর এক ঝামেলায় ঘোরাঘুরি মন মানসিকতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আজ আশিয়ানই প্রস্তাব দেয় একটু আলাদা, নিভৃতে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর জন্য।

আশিয়ান এখন মোটামুটি ভালোই সুস্থ। মাথার ইয়া বড় ব্যান্ডেজটা খুলে ছোট্ট একটা ওয়ান টাইম লাগানো রয়েছে বর্তমানে। তারা সকলে একটা রিসোর্টে এসেছে ঘুরতে। শহর থেকে একটু বাহিরের সাইডে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সেই রিসোর্টের নাম
❝পুষ্পের নীরব নিকুঞ্জ❞ রিসোর্টের মালিক ভদ্রলোক নিজের ও তার প্রিয়তমার নামের সাথে মিলিয়ে রিসোর্টির নাম রাখেন। রিসোর্ট টি দেশি-বিদেশি নানান ধরণের ফুল দিয়ে সুরভীত হয়ে আছে।

আশিয়ানদের প্ল্যান আজকের দিন ও রাতটা তারা এখানে কাটিয়ে কাল সকালের ব্রেকফাস্ট সেড়ে বাসায় রওনা হবে। এসেই তারা সকলে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আধা ঘণ্টার মাঝে ফ্রেশ হয়ে সকলে বের হয় আশেপাশে ঘুরতে।

আশিয়ান-হায়া, জায়িন-আদিবা বেশ ইনজয় করছে শর্টটাইমের এই অঘোষিত ট্রিপটা। শুধু ব্যতিক্রম অবস্থানে আছে জাহান-মেহরিমা। অন্য দুটো জুটি যেখানে হাতে হাত রেখে কাঁধে মাথা রেখে হাঁটছে সেখানে জাহান এই মুল্লুকে মেহরিমা আরেক মুল্লুকে। মেহরিমা আগে আগে হাঁটছে আর জাহান তার থেকে কিছুটা পেছনে পকেটে দুই হাত গুঁজে তাকে পাহারা দিতে দিতে যাচ্ছে।

মেহরিমা শুরুতে জাহানের পাশে হাঁটতে থাকে, কিন্তু জাহান মেহরিমার দিকে খেয়াল না করেই ফোন টিপতে ব্যস্ত। আসলে সে মেহরিমার পরীক্ষা নিচ্ছে।

হ্যাঁ, পরীক্ষা। জাহান দেখতে চাইছে তার রাগ ভাঙানোর জন্য মেহরিমা ঠিক কি কি করতে পারে। অনেক তো হলো সে নিজেকে প্রকাশ করেছে, মেহরিমা এখন নিজের দায়িত্ব নিজে বুঝে নিক। বর রাগ করেছে, সে রাগ ভাঙাবে। এখন কিভাবে ভাঙাবে সেটা মেহরিমার বিষয়।

মেহরিমা মন খারাপ করে আনমনে এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে হাটছিল হঠাৎ শাড়ির সাথে বেঝে মুখ থুবড়ে পরে যেতে নিলে জাহান ঝড়ের গতিতে পেছন থেকে হেঁটে এসে মেহরিমার কোমড় আকড়ে ধরে তাকে নিজের বাহুডোরে বন্দি করে নেয়। মেহরিমা বেঁচে যায় নিচে পড়া থেকে।

মেহরিমার মাথা গিয়ে ঠায় পায় জাহানের প্রসস্থ বুকে। জাহানের হার্টবিট এতটাই জোরে বিট করছে যে, সে হয়ত নিজের হার্টবিটের আওয়াজ নিজেও শুনছে। মেহরিমার থেকে জাহান বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ভালোবাসা তো এমনই। প্রিয় মানুষটির ছোট্ট একটি আঘাতও বুকে ভীষণ বাজে ভাবে লাগে।

জাহান মেহরিমাকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে তার দু’গালে হাত রেখে অস্থির হয়ে বলে–

—কোথাও ব্যথা পেয়েছো? নিজের প্রতি এতটা বেখেয়ালিপনা কেন তোমার? একটু কি খেয়াল রাখতে পারো না নিজের? এখন আমি এসে না ধরলে পড়ে গিয়ে ব্যথাটা পেতো কে?

শেষের কথা গুলো বেশ রাগান্বিত গলায় ভর্ৎসনা করেই বলে জাহান। উত্তেজনা বসত কথাগুলো একটু জোরে বলে ফেলায় আশিয়ান রাও শুনতে পায়। আশিয়ান-হায়া, জায়িন-আদিবা নিজেদের হাঁটা থামিয়ে পেছনে ঘুরে দেখে জাহান মেহরিমাকে বকছে।

হায়া ভয় পেয়ে যায় এটা ভেবে, মেহরিমা আবার তাকে কি না কি বলে রাগিয়ে দিয়েছে। সে তাদের কাছে যাওয়ার জন্য ছুট লাগায়। তার পেছন পেছন বাকিরাও যায়। হায়া জাহানদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে বড়দা ভাই? মেহুকে বকছো কেনো?

জাহান তখনও রেগে থাকায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলে–

—বকবো না তো কি করব বল? কি করেছে শুনবি? নিজে একটা হাফ ইঞ্চি পরে আছে দেড় ইঞ্চির শাড়ি। সামলাতে তো পারে না, শাড়িতে বেঁধে মুখ থুবড়ে পড়তে নিয়েছিল। আমি সময় মতো ধরে ফেলেছি নাহলে পড়ে হাত-পা ছিলত হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিউর।

জাহান মেহরিমার দিকে তাকিয়েই কথাগুলো বলে, আর মেহরিমা অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। সেই সাথে মুখটাও ফুলিয়ে রেখেছে। সে হাফ ইঞ্চি কোথায়? পুরো পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি লম্বা সে। হাইটে একদম পার্ফেক্ট। তাও জাহান তাকে হাফ ইঞ্চি বলায় তার অভিমান হয়েছে।

অন্যদিকে হায়া জাহানের কথা শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচে। সে তো ভেবেছিল মেহরিমা হয়ত সেই উল্টাপাল্টা কথা বলা শুরু করেছে। হায়া তার ভাইকে শান্ত করতে বলে–

—আচ্ছা আর রাগ করতে হবে না। মেহু আমার সাথে থাকবে এখম থেকে। আয় আমার সাথে।

কথাটা বলে হায়া মেহরিমার হাত ধরে নিজের সাথে নিয়ে যেতে নিলে জাহান তাকে থামিয়ে দেয়। মেহরিমার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে–

—আমার সাথেই থাক। তুই নিজেও একটা উল্লুক সেটা ভুলে যাচ্ছিস কেন? আশিয়ান ভাইয়ের সাথে থাকতে থাকতে জিনিসপত্রের সাথে ঠোকনাঠুকনি হয়ত কম খাস কিন্তু একেবারে যে খাস না সেটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। তোদের দুটোকে একসাথে ছাড়ি তারপর দুটোই পড়ে গিয়ে হাত-পা ছিলে আমাদের পেরেশানি বাড়া। তুই আশিয়ান ভাইয়ার সাথেই যা, আর এই উল্লুক আমার সাথে থাকুক।

হায়াকে উল্লুক বলায় আশিয়ান, জায়িন আর আদিবা হেঁসে দেয় সমস্বরে। আর এদিকে হায়া-মেহরিমা চোখ ছোট ছোট করে জাহানের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎই হায়া জাহানের কাছে এসে তার বাহুতে ধুমধাম কয়েকটা লাগিয়ে দেয়। আশিয়ান তাকে তাড়াতাড়ি করে সরিয়ে আনে জাহান থেকে। হায়া কপট রাগ দেখিয়ে বলে–

—ছাড়ুন আশিয়ান, আমায় উল্লুক বলা বের করছি। কত বড় সাহস আমাকে আর আমার বেস্টুকে উল্লুক বলে। দাড়াও তুমি, বাসায় গিয়ে পাপার কাছে কান মলা না খাইয়েছি তোমায় তাহলে আমার নাম জেসমিন তালুকদার হায়া না।

আশিয়ান তাঁকে সেখান থেকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যায়। জায়িন-আদিবাও আবারও চলে যায় নিজেদের মতো ঘুরতে। জাহান এবার মেহরিমার হাত ধরে আশেপাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে হাঁটছে। মেহরিমা শুরুতে মুখ ফুলিয়ে রাখলেও পরে তার মনে বলে ‘এখন রাগ দেখিয়ে মুখ ফুলিয়ে রাখার সময় না মেহু, আগে জাহানের রাগ ভাঙা তারপর এই ভদ্রলোককে ইচ্ছে মতো নাকানিচুবানি খাওয়ানো যাবে।’

মনের কথা মেনে নিয়ে মেহরিমা আর রাগ করে থাকে না। সেও জাহানের সাথে প্রকৃতি উপভোগ করতে থাকে। সাহস জুগিয়ে আস্তে আস্তে নিজের মাথাটা জাহানের কাঁধে রাখে। মনে মনে ভয় পাচ্ছে সে, জাহান যদি তার কাঁধ থেকে মেহরিমার মাথাটা সরিয়ে দেয়। কিন্তু না, কয়েক মিনিট হয়ে যাওয়ার পরও জাহান যখন মেহরিমার মাথা নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেয় না তখন মেহরিমার মন খুশিতে নেচে উঠে।

মেহরিমা হাঁটতে হাঁটতে ভাবে–

—ধন্যবাদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে। রোজ এত গুনাহ করার পরও আমার প্রতি এত রহম করার জন্য। আমার মতো একজনকে এতটা ভালোবাসার জন্য জাহানের মতো একজন মানুষকে দেওয়া জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

________________________

রাতের ডিনার করে রাহা বসে বসে ফোন স্ক্রোল করছে আর আফিফ নিজের কিছু কাজ সেড়ে নিচ্ছে। স্ক্রোল করতে করতে একটা গ্রুপ ফটো তে রাহার চোখ আটকে যায়। আশিয়ানদের গ্রুপ ফটো দেখছিল রাহা।

হায়া তাদের সকলকে ট্যাগ করে পোস্ট করেছে। একক পিকও আছে তাদের সবার। অন্যদের চাইতে সে বারবার জাহান আর মেহরিমার পিকগুলো জুম করে করে দেখছে। একটা একক পিকে মেহরিমা লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, ঠোঁটের কোণে পবিত্র একটা হাসি আর জাহান মুগ্ধ দৃষ্টিতে মেহরিমাকে দেখছে। তখনই পিকটা তুলেছে কেউ। গ্রুপ পিক গুলোতেও জাহান মেহরিমার কাঁধ জড়িয়ে ধরে রেখেছে। জাহান যে মেহরিমাকে পেয়ে কতটা খুশি তা তার চোখ মুখ দেখেই বলে দেওয়া যাচ্ছে।

ছবিগুলো দেখে রাহার বুক ভারী হয়ে উঠে। চোখে অশ্রু জমতে শুরু করে। হাসফাস করতে থাকে একটু নিশ্চিন্তে কান্না করার জন্য। হঠাৎই ফোনটা দূরে ছুঁড়ে ফেলে হনহনিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। এমন অদ্ভুত শব্দ হওয়ায় আফিফ একটু চমকে যায়। সে ল্যাপটপে কাজ করছিল তাই রাহার দিকে এতটা খেয়াল ছিল না তার। রাহাকে এমন তাড়াহুড়ো করে চলে যেতে দেখে তার কপালে ভাজ পড়ে। তার উপর আবার ফোন ছুড়ে মারার আওয়াজও সে বেশ ভালো মতোই পেয়েছে।

সে ল্যাপটপ ছেড়ে ফোনটা হাতে তুলে নেয়। বন্ধ হয়নি ফোনটা, তাই সে সহজেই দেখতে পারে স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করতে থাকা আশিয়ানদের ফটো গুলো। আফিফের বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। বুকের কোথাও চিনচিনে ব্যথাও করছে তার। আফিফ ফোনটা বেডসাইড টেবিলে রেখে নিজেও বের হয়ে আসে রুম থেকে। আন্দাজ করে হাঁটা দেয় তাদের ছাঁদের দিকে।

ছাঁদের কাছাকাছি এসে শুনতে পায় রাহার শব্দ করে কান্না করার আওয়াজ। আফিফ জোরে জোরে কয়েক বার শ্বাস টেনে ভেতরে নেয় তারপর সেগুলো মুক্ত করে দেয়। আবারও হাঁটা লাগায়। ছাঁদে এসে দেখতে পারে রাহা ছাঁদের ফ্লোরে বসে হাউমাউ করে কাঁদছে। ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা, সে যে কি সূচালো আর তীক্ষ্ণ হয় তা যার সাথে না হয়েছে সে অনুভূতিটা বুঝতে পারবে না।

আফিফ নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে রাহার পেছনে গিয়ে সামান্য দূরত্ব রেখে বসে পড়ে। অপেক্ষা করতে থাকে রাহার কান্না থামার। প্রায় ১০/১২ মিনিট পর রাহার কান্নার তোপ একটু একটু করে কমতে কমতে একসময় বন্ধই হয়ে যায়। শুধু মাঝে মধ্যে তার নাক টানার আর ফুঁপানো আওয়াজ পাওয়া যায়।

একসময় সেই শব্দও বন্ধ হয়ে যায়। রাহা চুপ করে বসে অসংখ্য তারায় জ্বলজ্বল করতে থাকা আকাশ দেখতে থাকে। ঠিক তখনই আফিফ এমন কিছু কথা বলতে থাকে যা রাহাকে বিস্ময়ের সাগরে ডুবিয়ে মারতে যথেষ্ট।

শব্দসংখ্যা~১৭৫৮
~চলবে?

[আমি ভীষণ ভাবে দুঃখিত। লাস্ট কয়েকদিন একদম পরাপর পরীক্ষা থাকায় আমি চেয়েও গল্প লিখতে পারিনি। এখন থেকে ইনশা আল্লাহ রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here