সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৪০

0
21

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪০

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দেখতে দেখতে মেহরিমা নিজের মূল্যবান অশ্রু বিসর্জন দিতে ব্যস্ত। আজ নিজের প্রতি বড়ই আফসোস হচ্ছে তার। কেন অন্যের প্ররোচনায় পড়ে সে জাহানের ভালোবাসাকে পায়ে ঠেলে হারিয়ে এজন্য।

জাহান রুমে এসে মেহরিমাকে দেখতে না পেয়ে একটু চমকে যায়। হাত ঘড়িতে সময় চেক করলে দেখতে পায় বারোটা বেজে বিশ মিনিট। এত রাতে কই গেলো মেয়েটা? সে তো রুমেই পাঠালো ঘুমানোর জন্য, তাহলে কি রুমে আসে নি? আসলে তো বেডেই থাকত, নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই দেয়। মেহরিমাকে বেডে না পেয়ে ওয়াশরুমের দিকে তাকালে দেখতে পায় ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ বাহির থেকে। বেলকনির লাইল নেভানো দেখে সে ধরে নেয় মেহরিমা সেখানে নেই, কারণ মেহরিমা এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারকে ভয় পায়। সে রুমে না ঢুকেই আবার বাহিরে চলে যায় মেহরিমাকে খুঁজতে। মেহরিমার ফোনটাও জাহানের কাছে, তাই ফোন করলেও সে কোথায় তা জানা যাবে না।

নিচের রিসোর্টের গার্ডেন,রিসেপশন এরিয়া ও আশেপাশে সব জায়গাতেই পালাক্রমে খোঁজ চালায় মেহরিমার। কিন্তু কোথাও নেই। এবার সে বেশ ঘাবড়ে যায়। ফোন বের করে বোনকে কল লাগায়। হায়া আর আশিয়ান তখনও ঘুমিয়ে না পড়ায় ফোনটা রিং হওয়ার সাথে সাথে রিসিভ করা হয়। এত রাতে ভাইয়ের ফোন পেয়ে হায়া একটু ভয় পেয়ে যায়। সে ভাইকে জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে বড়দা ভাই? এত রাতে ফোন দিলে যে? কোন সমস্যা হয়েছে?

জাহান উত্তেজিত হয়ে বলে–

—বনু মেহরিমাকে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও। ও আবার আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছে মনে হয়।

শেষের কথাটা কেমন ভাঙা গলায় বলে। যেন কান্নারা ঠেলে বের হয়ে আসতে চাইছে। হায়া ধরফরিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে, তাকে এমন করে উঠে বসতে দেখে আশিয়ানও চমকে যায়। হায়া শুধু বলে–

—আমি আসছি, তুমি উল্টাপাল্টা কিছু করবে না কিন্তু ভাই।

—হুম।

হায়া ফোন কেটে দিয়ে নিজের ড্রেস ঠিক করতে করতে বেড থেকে নেমে পড়ে। আশিয়ান তসর মতিগতি বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে? এমন করছো কেনো হঠাৎ করে? আর জাহান ফোন দিয়ে কি বললো?

হায়া ওয়াশরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে–

—মেহুকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। তাড়াতাড়ি রেডি হন, ওকে খুঁজতে বের হবো।

কথাটা বলেই হায়া ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। আশিয়ানের মস্তিষ্ক তখনও কথাটা ক্যাচ করতে পারেনি। যখন বুঝতে পারে হায়া কি বলে গিয়েছে তখন বিস্ময়ে তার চোখজোড়া বড়বড় হয়ে যায়। সেও রেডি হয়ে অপেক্ষায় থাকে হায়ার বের হওয়ার।

______________________________

হায়া-আশিয়ান দৌড়ে গার্ডেনে এসে দেখে জাহান সেখানে রাখা বেতের সোফায় বসে আছে মুখ নিচের দিকে করে দুই হাতের উপর থুতনি ঠেকিয়ে। হায়া ভাইয়ের কাছে গিয়ে ডেকে উঠে–

—বড়দা ভাই।

বোনের ডাক শুনে মাথা তুলে তাকায় জাহান। জাহানের চোখমুখের অবস্থা দেখে হায়া-আশিয়ানের মায়া হয়। চোখজোড়া লাল হয়ে অশ্রু জমে পড়েছে, যেনো গড়িয়ে পড়ার অপেক্ষা করছে। জাহান ভাঙা ভাঙা গলায় বলে–

—চল রিসোর্টের আশেপাশের এলাকা খুঁজে দেখে আসি, না পেলে কাল না হয় পুলিশ রিপোর্ট করব।

কথাগুলো বলতে বলতে জাহানের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আশিয়ান জাহানের পাশে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে হাত রেখে বলে–

—এত ভেঙে পরছিস কেন? আর এত নেগেটিভ ভাবনাই বা করছিস কেন? থিঙ্ক পজিটিভ জাহান।

জাহান আশিয়ানের কথা শুনে ঠিকই কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। এরই মাঝে জায়িন-আদিবাও ছুটে আসে। হায়াই আসার সময় তাদের জানিয়ে এসেছে। জায়িন এসেই চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করে–

—ভাই, তুমি ভাবীকে সব জায়গায় খুঁজেছো?

জাহান ধরা গলায় বলে–

—হ্যাঁ। রিসোর্টের ভেতরে সব জায়গা খোঁজা শেষ। এখন বাহিরের দিকে খুঁজি। না পেলে কাল না হয়…

হায়া জাহানকে থামিয়ে দিয়ে বলে–

—পাবো না কেন? ইনশা আল্লাহ পেয়ে যাবো কালকের আগে দেখো। তুমি এসব ভেবো না তো বড়দা ভাই। চলো খুঁজতে বের হই।

জাহান না উঠে সেভাবেই বসে বলতে থাকে–

—আমার উপর অভিমান করেই মেহু কোথাও চলে গিয়েছে। মেয়েটা কথায় কথায় শুধু অভিমান করে, আর ভোগান্তি আমায় পোহাতে হয়। আমিও যে কেন ওকে তখন জেলাস ফিল করাতে গেলাম, এখন নিজের উপরই রাগ হচ্ছে ।

আশিয়ান-হায়া, জায়িন-আদিবা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। তারা এই বিষয়টা সম্পর্কে অবগত। কি হয়েছিলো জানতে চান? তাহলে কয়েক ঘন্টা আগের ঘটনা শুনতে হবে।

__________________________

কয়েক ঘন্টা আগে~

রাত বাড়তে থাকার কারণে তারা সকলে ভাবে ডিনার করে তারপর না হয় বাকি আড্ডা দেওয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা একটা টেবিল বুক করে সকলে একসাথে বসে ডিনার করার জন্য। তারা ডিনারের জন্য আসবে তখনই জাহানের হসপিটাল থেকে কল আসে। সে কথা বলার জন্য বাহিরে এসে কলটা রিসিভ করে।

সকলে খাওয়া শুরু করে দিলেও মেহরিমা তার জন্য ওয়েট করতে থাকে। পনেরো মিনিট পর জাহান আসে। একা না সাথে একজন অতিব সুন্দরী রমনীকে নিয়ে আসে। জাহানের সাথে অন্য একটা মেয়েকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় কথা বলতে দেখে মেহরিমার প্রেমিকা সত্ত্বায় জ্বলনের সৃষ্টি হয়। সে জ্বলন ব্যথায় রূপ নেয় যখন সে খেয়াল করে মেয়েটি জাহানের বাম হাতের বাহু বেশ সুন্দর করে ধরে হাঁটছে। তাদের দেখে কিউট কাপল লাগছিলো। এমন দৃশ্য দেখে কোন স্ত্রী কি সহ্য করতে পারবে? মেহরিমাও পারেনি।

সময় যতই বইতে থাকে, মেহরিমার দীর্ঘশ্বাসগুলো আরো ভারী হতে থাকে। সহ্য করার মতো না, তাও সহ্য করতে হয় তাকে কিছু অপছন্দনীয় ঘটনাকে।

জাহানের সাথে আসা মেয়েটি নাম তাসফিয়া তারান্নুম মাহি। তাসফিয়া জাহানের কলিগ প্লাস তাদের স্যারের মেয়ে। জাহান তাসফিয়াকে ভদ্রতা সুলভ ডিনারের অফার করে , তাসফিয়া তা বিনা বাক্যে গ্রহণ করে। সে অন্য একটি টেবিল থেকে চেয়ার এনে জাহানের পাশ ঘেসেই বসে পড়ে। মেহরিমা অভিমানী চোখে সবটা দেখে, এবং এ-ও বুঝতে পারে মেয়েটি তার অঘোষিত সতীন। এক মেয়ে হয়ে আরেক মেয়ের চাহনি মেহরিমা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। খাবারের প্লেটের দিকে তাকিয়ে লোকমা বানাতে বানাতে ভাবে–

—সকলের না চাইতেও সব আছে। বাবা-মা, পরিবার, স্ট্যাটাস। আর আমার নিজের বলতে এই জাহান টাই তো আছে, তাও কেন সকলের আমার টার উপরেই নজর?

তাসফিয়া জাহানের উপর বেশ দূর্বল। হবেই বা না কেনো? ছেলে হিসেবে সৎ, হ্যান্ডসাম, হাই ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে। একটা পার্ফেক্ট ছেলের মধ্যে আর কি কি যোগ্যতা থাকতে হয় তাসফিয়া জানে না, কিন্তু তার কাছে পার্ফেক্ট ছেলে জাহান সবার আগে। বেশ কয়েকবার তাকে পটাতে চেয়েছিল তাসফিয়া, কিন্তু জাহান তো এক মেহরিমায় মত্ত তার কি আর অন্যদিকে নজর দেওয়ার সময় আছে?

জাহান সবসময় গম্ভীর, স্ট্রেটফরওয়ার্ড, স্বল্প ভাষী। সেই ছেলে আজ একটু জেঁচে বেশি কথা বলছে দেখে তাসফিয়া যেমন অবাক হয়, তেমনি খুশিও হয়। যদিপ জাহান একটু আগে মেহরিমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার সাথে তাও তাসফিয়া আরেকবার চান্স নিতে চাইছে তাকে পটানোর।

ডিনারের মেন্যুতে ইলিশ মাছের একটা আইটেম ছিল। তাসফিয়া মাছটার দিকে বলে–

—জানো, জাহান। ইলিশ মাছ আমার ফেভারিট, বাসায় মাম্মাম রান্না করলে আমিই একা ২পিছ খেয়ে ফেলি।

—ওহহ আচ্ছা। তাহলে আজ নিচ্ছ না যে, নাও।

মাছের বাটিটা তাসফিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে জাহান। তাসফিয়া মন খারাপের ভান করে বলে–

—আমি মাছের কাটা বাছতে পারি না।

জায়িনের খাওয়া শেষ তাই সে পানি খাচ্ছিল, এমন সময় তাসফিয়ার কথা শুনে পানি তার মাথায় উঠে যায়। বলে কি এই মেয়ে? তার ভাইয়ের বয়সই ছাব্বিশ হয়েছে কিছুদিন আগে, তার মানে এই মেয়েও তার ভাইয়ের বয়সের কাছাকাছি। ছাব্বিশ বছরের একটা৷ মেয়ে নাকি মাছ বেছে খেতে পারে না। বেচারা কথাটা সহজে হজম করতে পারেনি।

তাসফিয়ার কথা শুনে আদিবা উচ্চস্বরে হাসতে থাকে পেটে হাত চেপে। এদিকে তারা একমাত্র জামাইয়ের যে নাকে মুখে পানি চলে গিয়েছে, তাকে ধরে শান্ত করবে সেদিকে তার হুশ নেই। সে তার মতো করে হেসেই চলেছে। অনেকদিন পর এমন পেট ফাটানো হাসির কথা শুনল, তাই কিছুতেই হাসিটা কনট্রোল করতে পারছে না। হায়া নিজের জায়গা থেকে উঠে এসে ভাইয়ের পিঠে মাথায় ডলে দিতে থাকে। তার মুখের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝতে পারবে সে কঠোরভাবে হাসি আটকে রেখেছে। আশিয়ানের অবস্থাও তাই।

তাসফিয়া তাদের এমন অবস্থা দেখে সহজেই বুঝে যায় তারা তার কথায় হাসছে, কিন্তু সে তেমন একটা গায়ে লাগায় না বিষয়টা। বেহায়ার মতো জাহানকে বলে–

—তুমি একটু আমার মাছের কাটা বেছে দিবে জাহান?

জাহান আঁড়চোখে ডান পাশে বসা বউয়ের দিকে তাকায়। দেখতে পায় মেহরিমা মুখ গম্ভীর করে খাবার নাড়াচাড়া করছে,কিন্তু খাচ্ছে না। কোন বউই তার স্বামীর সাথে অন্য মহিলার লুতুপুতু দেখে হাসবে না নিশ্চয়ই। জাহান বুঝতে পারে মেহরিমা জেলাস, সে ভাবে আরেকটু জেলাস করানো যাক। দেখি যদি কোন ফয়দা হয় তাহলে তো ভালোই।

জাহান তাসফিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলে–

—হ্যাঁ, অবশ্যই। দাও।

তাসফিয়া তো জাহানের উত্তর শুনে খুশিতে গদগদ হয়ে নিজের প্লেটটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজের চেয়ারটাও জাহানের কাছে নিয়ে গিয়ে বসে। সকলে হাসাহাসি বন্ধ করে তাদের কাণ্ডকারখানা দেখছে। তাসফিয়া হঠাৎই খুকখুক করে কেশে উঠে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে বলে গলায় নাকি কাটা বিঁধেছে। ন্যাকা, কাটা তো জাহান বেছেই দিচ্ছিল তাহলে আবার বিঁধল কিভাবে?

জাহান তাকে পানি খাওয়ায়, নিজের হাতে কয়েক মুঠ শুকনো তরকারি ছাড়া ভাতও খাইয়ে দেয়, তারপর গিয়ে তাসফিয়ার কাটা সরে। কিন্তু এসব কাজে যে আরেকজন কতটা কষ্ট পাচ্ছে তা হয়ত তাদের ধারণাও নেই। মেহরিমা নিজের খাবারে পানি ঢেলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। স্মিত গলায় বলে–

—মাথা ব্যথা করছে, ভালো লাগছে না। আমি রুমে যাচ্ছি।

বউয়ের মাথা ব্যথা শুনে জাহানও আর বসে থাকতে পারে না, সেও তার সাথে আসতে চায়। কিন্তু মেহরিমা খেয়াল করে জাহান তেমন কিছুই খায়নি তাসফিয়াকে মাছ বেছে দেওয়ার চক্করে। সে জাহানকে বলে–

—আপনার আসা লাগবে না। আমার কাছে মুভ আছে সেটা লাগিয়ে নিলেই সেরে যাবে। আপনি খাবার খান, কিছুই তো খাননি।

জাহান তাও জোর করে যেতে চায় তার সাথে কিন্তু এর মাঝেও তাসফিয়া তার বাম হাতটা ঢুকিয়ে দেয়। সে বলে খাওয়ার পর তার নাকি তাদের পরবর্তী অপারেশন টা নিয়ে কি আলোচনা আছে। জাহান অগ্যাত বউকে একাই রুমে পাঠিয়ে দেয়। মেহরিমার সাথে অবশ্য বাকিরাও নিজেদের রুমে এসেছিল, কিন্তু আশিয়ান ও জায়িনদের রুম জাহানদের রুমের উল্টোদিকে। তাই তাদের রুমের বাক আসায় তারা নিজেদের নিজেদের রুমে চলে যায়। হায়া মেহরিমার সাথে যেতে চাইলেও মেহরিমা তাকে আশিয়ানের সাথে পাঠিয়ে দেয় তাদের রুমে।

_________________________

বর্তমান~

জাহান দূর্বল পায়ে উঠে দাঁড়ায়। প্রশ্ন যখন ভালোবাসার মানুষটির, তখন সবাই দূর্বল হয়ে পড়ে। জাহান হায়া আর আদিবাকে বলে–

—তোমরা দু’জন রিসোর্টেই থাকো, আমরা তিনজন যাচ্ছি মেহরিমাকে খুঁজতে। এর মধ্যে ও এসে পড়লে আমাদের ফোন দিয়ে জানিও।

হায়া আর আদিবা তার কথায় সম্মতি দিলে তারা তিনজন বের হয়ে পড়ে। তিনজন তিনটে আলাদা ডাইরেকশনে খুঁজতে চলে যায়। জাহান মেহরিমা নাম ধরে ডাকত ডাকতে খুঁজতে থাকে। কিন্তু তার পাওয়া যায় না। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুজির পর তাদের তিনজনকেই ফোন দিয়ে রিসোর্টে ফিরে যেতে বলে হায়া। তার কথা মতো তিনজনেই রিসোর্টে এসে দেখে হায়াদের সাথে মেহরিমাও আছে। জাহান আশেপাশের কাউকে তোয়াক্কা না করেই সকলের সামনে মেহরিমাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।

আশিয়ান-জায়িন হায়াকে ইশারা করে জিজ্ঞেস করে কোথায় ছিল সে। হায়া তাদের জানায়–

— মেহরিমা নাকি রুমেই ছিলো, কিন্তু বেলকনিতে। ভাইয়া হয়ত বেলকনি চেক করেনি, কারণ তখন মেহু বেলকনি অন্ধকার করে বসেছিল। ভাইয়া তো জানে মেহু অন্ধকারে থাকতে পারো না তাই ভেবেছে মেহু জয়ত বেলকনিতেও নেই আর ও রাগ করে কোথাও একটা চলে গিয়েছে। এত রাত হয়ে যাওয়ার পরও ভাইয়া রুমে যাই নি দেখে, রিসেপশনে আসলে আমাদের সাথে ওর দেখা হয়। তারপরই আপনাদের আসতে বলি ফোন দিয়ে।

সবকিছু শুনে আশিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার থেকেও বড় বউপাগল তার শালা। আশিয়ান হায়া’কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসে। হায়ার কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে–

—আমায় বউপাগল বলো, দেখো তোমার ভাই আমার থেকে বড় বউপাগল। বউকে না পেয়ে আমাদের সকলকে সহ খুঁজিয়েছে, তাহলে বুঝো বউয়ের প্রতি তার উন্মাদনা কতটা।

হায়া কোণা চোখে বরকে একবার দেখে নেয়। সময়-সুযোগ মতো পিঞ্চটা মেরে আশিয়ান দাঁত কেলিয়ে হাসছে। হায়া কোন প্রতিত্তোর না করে আশিয়ান থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে রুমের দিকে হাঁটা দেয়। আশিয়ানও বউয়ের পেছন পেছন যেতে থাকে। জায়িন-আদিবাও নিজেদের রুমের দিকে হাটা দেয়। জায়িন রুমে যেতে যেতে আদিবার দিকে একটু ঝুঁকে এসে তার কানে কানে বলে–

—আব তুমহারা কেয়া হো গা বেব? তখন একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছিলে, এখন গিয়ে আগে ফোনগুলো বন্ধ করবো তারপর তোমার মুখ। আর ইউ রেডি জান?

আদিবা ভয়ে নিজের হাঁটা থামিয়ে জায়িনের দিকে তাকালে দেখতে পায় জায়িন কেমন অদ্ভুত ভাবে হাসছে। তার ওমন হাসি দেখে আদিবার গলা শুঁকিয়ে যায়। আদিবাকে আরো চমকিয়ে দিয়ে জায়িন হুট করে তাঁকে কোলে তুলে নেয়, হাঁটতে হাঁটতে বলে–

—থাক জান, একটু পর কত কষ্ট করা লাগবে। তাই তোমায় আর কষ্ট করে হেঁটে রুমে যাওয়া লাগবে না। আমিই নিয়ে যাচ্ছি।

তার কথা শুনে আদিবার ভয় আরো বেড়ে যায়। সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে–

—আমি তোমার সাথে যাবো না জায়িন ভাই।

আদিবার মুখে “ভাই” ডাক শুনে জায়িনের মেজাজ গরম হয়ে যায়। সে গম্ভীর গলায় বলে–

—আজ তুই রুমে চল শুধু। তোর ভাই বলা ছুটাচ্ছি।

____________________________

মেহরিমার মাথাটা জাহান নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। মেহরিমা জাহানের বুকে কান পাতলে শুনতে পায় জাহানের হার্টবিটের দ্রুত গতিতে চলার আওয়াজ। হুট করে জাহান মেহরিমাকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে তার দুই বাহু চেপে ধরে বলে–

—এই কোথায় গিয়েছিলি? কাকে বলে গিয়েছিলি? আমায় এত কষ্ট দেস কেন? এমন তিলে তিলে কষ্ট না দিয়ে একবারে মেরেই ফেল। এই কষ্ট আমি আর নিতে পারছি না। কোথায় গিয়েছিলি বল?

মেহরিমা বিষাদী কণ্ঠে বলে–

—আমি তো রুমেই ছিলাম, বেলকনিতে।

—এত রাতে অন্ধকার বেলকনিতে কি করছিলি?

—ভালো লাগছিলো না কিছু তাই দাঁড়িয়ে ছিলাম।

মেহরিমা মাথা নিচু করে কথাগুলো বলে। জাহান তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে আর কিছু বলতে পারে না। তার হাত ধরে রুমে নিয়ে আসে। রুমে এসে মেহরিমাকে ছেড়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার পরও দেখে মেহরিমাকে যেখানে দাড় করিয়ে রেখে গিয়েছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে তখনও। জাহানের কপালে ভাজ পড়ে তাকে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সে মেহরিমাকে কিছু বলবে তার আগেই মেহরিমা এমন কিছু কথা বলে তা শুনে জাহানের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়।

শব্দসংখ্যা~২০২৩
চলবে?

[আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। কেমন আছেন আপনারা। দুঃখিত এতদিন অসুস্থতার কারণে গল্প দিতে পারিনি। এখন থেকে রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ। পেইজের রিচ নাই বললেই চলে। সকলে ২/৩ টা কমেন্ট করবেন প্লিজ🥺

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here