#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪১ (জাহান-মেহুময় একটি পর্ব)
জাহানের কপালে ভাজ পড়ে মেহরিমাকে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সে মেহরিমাকে বলে–
—কি হয়েছে আবার? না ঘুমিয়ে দাড়িয়ে আছো কেনো?
মেহরিমা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে তখনও। হাত দুটো এমন ভাবে মোচড়ামোচড়ি করছে মনে হয় ছুটিয়েই ফেলবে কব্জি থেকে। জাহান তার অঙ্গ ও মুখভঙ্গি সূক্ষভাবে খেয়াল করে। এমনটা মেহরিমা তখন করে যখন যে কিছু বলতে চায়, কিন্তু বরাবরই তার ইন্ট্রোভার্ট স্বভাবের জন্য বলতে পারে না। মেহরিমা তার মনের কথাগুলো খুব কমই প্রকাশ করে।
ছোট থেকে অনাদর, অবহেলায় বড় হওয়ায় নিজেকে সবসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে মনে মনে। হায়ার সাথে কিভাবে কিভাবে জানি ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গিয়েছিল, তারপর থেকে মেয়েটা একজন কথা বলার সাথী পেয়েছিল। হায়া’কে সে তার মনের সব ধারণা, চিন্তা, কথা না বললেও জাহানের থেকে যথেষ্ট বেশি কথা সে হায়ার সাথে শেয়ার করে। জাহান চায় মেহরিমা তাকে হায়ার মতোই প্রায়োরিটি দিক, তার সব গুরুত্বপূর্ণ বা অগুরুত্বপূর্ণ কথা, কাজ, চিন্তাভাবনা মেহরিমা তাকে নির্দ্বিধায় বলুক। সে মেহরিমাকে কয়েক হাজার বার বলেছে তার মনের ছোট থেকে ছোট কথা মেহরিমা যেনো বিনা সংকোচে তাকে বলে। কিন্তু মেহরিমা তো মেহরিমাই।
জাহান তোয়ালেটা হাতে রেখেই বুকে হাত গুঁজে সিনা টানটান করে মেহরিমার একদম সামনে দাঁড়ায়। মেহরিমা তাকে নিজের অতি কাছে দেখে চমকে গিয়ে পেছনে সরে যেতে নিলে জাহান গম্ভীর গলায় বলে–
—খবরদার সরবে না। কি বলবে এভাবেই বলো। যদি সরো তাহলে খবর আছে।
মেহরিমা জাহানের এমন গম্ভীর গলা শুনে ভেতরে ভেতরে ঘাবড়ে যায়। সে নিচের দিকে তাকিয়ে মিনমিনে গলায় বলে–
—আপনি বেডে ঘুমান, আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি। আমি এমন কেউ নই, যার জন্য আপনাকে কষ্ট করতে হবে রোজ রোজ।
একটু আগে জাহানের মাথা যাও একটু ঠাণ্ডা হয়েছিল কিন্তু মেহরিমার এই কথা শুনে আবার দপ করে গরম হয়ে যায়। এমন কেউ না মানে? মেহরিমা বউ হয় জাহানের, তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম একজন, তাহলে এমন কেউ হলো না কিভাবে? এই মেয়ে কি সারাজীবন নিজের এই বোকা বোকা কথা ও কাজ দিয়েই জাহানকে চটিয়ে রাখবে? এমনিতেই তার পূর্বের কাজের জন্য যে জাহান অভিমান করে আছে সেটা ভাঙানোর নাম নেই এখন আবার কিসব উল্টোপাল্টা বলছে। মেহরিমা যদি এমনই করতে থাকে, তাহলে তারা ভালোবাসা বাসি করবে কবে? ফুটবল টিম বানাবে কবে? জাহানের যে পুরো ১১জনের একটা ফুটবল টিম চাই, তার পারসোনাল ফুটবল টিম।
মেহরিমা কথাটা বলে জাহানের দিকে না তাকিয়ে বেডের থেকে একটা বালিশ নিয়ে সোফার দিকে হাঁটা দেয়। বোকা মেয়েটা যদি শান্ত জাহানের রাগান্বিত মুখশ্রী একবার দেখত তাহলে হয়ত বুঝতে পারত সে কতবড় একটা ভুল করে ফেলেছে।
মেহরিমা বালিশ রেখে যেই না শুতে যাবে তখনই জাহান চিলের মতো ছো মেরে মেহরিমাকে কোলে তুলে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে বেডের কাছে এসে তাকে ধপ করে ফেলে দেয় বেডের উপর। বেডটা যদিও তুলতুলে নরম তাও হুট করে কিছুটা উপরে পড়ায় সে হালকা একটু চোট পায়। মেহরিমা কোমড় চেপে ধরে ককিয়ে বলে উঠে
—আল্লাহ গোো, আমার কোমড় গেলো রেেেে….
জাহান তার ব্যথার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে তার মুখের কাছে ঝুঁকে এসে মেহরিমার থুতনি দুই আঙ্গুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—যাক শেষ হয়ে তোর কোমড় আর পা। পরে আমার কোলে করে সব জায়গায় যাবি, ঘুরবি। বেশি বড় হয়ে গিয়েছে তোর পা। একবার আমায় ছেড়ে যেতে চাস আরেকবার বেড ছেড়ে সোফায় থাকতে চাস। একবার যদি তোকে ধরি না মেহরিমা, একদম চাবানো ছাড়া আস্ত গিলে ফেলবো। জন্মের মতো ছেড়ে যাওয়া বের করে দিবো, আমার খারাপ রূপটা দেখিস নি এখনও তুই।
থুতনির ও কোমড়ের ব্যথা তারউপর মনের ব্যথা তো আছেই, সব ব্যথায় মেহরিমা একদম ভেঙে পড়তে চায়। এতক্ষণ ধরে চেপে রাখা কান্নাটা আর চেপে রাখতে পারে না। ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে আর বলতে থাকে–
— ধরেন না, ভালো করেই ধরেন। বিয়ের এতগুলো দিন হয়ে গিয়েছে একবারও ধরেছেন? ধরবেন কেনো? মাথায় তো এখনও রাগ চেপে আছে। আরে ভাই একটা ভুল করে ফেলেছি, ছোট মানুষ ভেবে মাফ করে দেন না। তা না, খালি বকেন, চোখ গরম করেন, দূরে দূরে থাকেন। ভাল্লাগে না আপনার এই দূরত্ব। এ্যা….এ্যা…..
চোখ দুই হাত দিয়ে কচলাতে কচলাতে বাচ্চাদের মতো ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে থাকে মেহরিমা। মেহরিমার এমন কান্না আর আচরণ দেখে জাহান থতমত খেয়ে যায়। মেহরিমার থুতনি ছেড়ে তার উপর থেকে সরে আসতে নিবে তখনই মেহরিমা তার কলার চেপে ধরে তাকে আবারও নিজের কাছাকাছি নিয়ে আসে। একবার নাক টেনে বলে–
—মাফ করে দেন না জাহান। ভুল করে ফেলেছি, আর কখনো এমন বোকামি করবো না। প্রমিজ করছি, আর রাগ করে থাকবেন না। আমার কষ্ট হয় তো রে বাবা!!!
ইশশশশ রে! এত কিউট করে বললে কে রাগ করে থাকতে পারবে? তারউপর মেহরিমা আজ প্রথমবারের মতো তার নাম ধরে ডাকল। জাহান চোখ বড় বড় করে মেহরিমাকে দেখছে। এই মেয়ের যে এত কিউট একটা রূপও আছে সেটা তাদের দেড় বছরের সম্পর্কে অজানা ছিলো। জাহান পলকহীন ভাবে মেহরিমাকে দেখতে থাকে।
কয়েক মিনিট অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও জাহান যখন কিছু বলছে না তখন মেহরিমা কান্না কোনমতে থামিয়ে তার চোখে চোখ রাখে। মেহরিমা আবারও মোহনীয় গলায় বলে উঠে–
—জাহান কিছু বলুন।
হুট করে জাহানের কি যেনো হলো, সে মেহরিমার হাতজোড়া নিজের কলার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হনহনিয়ে বেলকনিতে চলে যায়। তার যাওয়া দেখে মেহরিমা আবারও কেঁদে দেয় সশব্দে। তার এমন ভাবে ছেড়ে যাওয়া মেহরিমার হৃদ কষ্টটাকে আরো বাড়িয়ে দিলো। মেহরিমা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, সে যখন জাহানকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল তখন জাহানের কেমন লেগেছিল। সে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকে।
বেশ কিছুক্ষণ হয়ে যাওয়ার পর জাহান যখন মেহরিমার কান্নার আওয়াজ আর পাচ্ছিল না তখন সে বেলকনিতে দাঁড়িয়েই উঁকি দেয়। দেখতে পায় মেহরিমা নড়চড় বিহীন উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে আরো কিছুক্ষণ বেলকনিতে দাঁড়িয়েই মেহরিমাকে দেখতে থাকে।
রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় সে নিঃশব্দ পায়ে রুমে আসে। বেডের কাছে এসে আলতো হাতে মেহরিমাকে টেনে সোজা করে শোয়ায়। যেভাবে বাকা ত্যাড়া হয়ে শুয়ে আছে, সেভাবে সারারাত থাকলে সকালে শরীর ব্যথায় চিৎপটাং হয়ে থাকবে। তাদের আর বাসায় ফেরা লাগবে না।
মেহরিমাকে ভালো করে শুয়ে দিয়ে জাহানও তার পাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ে। হাতের উপর মাথা রেখে একধ্যানে দেখতে থাকে তার ভালোবাসাকে। ছোঁয়ার আগেই ভালোবাসা যে গভীর হতে পারে, তার নিখুঁত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে জাহান। তার দৃষ্টি যেন নিঃশব্দ কোনো কবিতা, যার প্রতিটি পঙক্তি নিবিষ্টভাবে পড়ছে মেহরিমার চোখের পাতায় জমে থাকা নীরব অশ্রুবিন্দুর উপর। কখনও চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে তার মুখশ্রীর প্রতিটি রেখায় যেখানে একাকিত্বের কালিতে লেখা এক বিষণ্ন মহাকাব্য।
জাহান চাইলেই এই মুহূর্তে মেহরিমাকে নিজের করে নিতে পারে। এবং এও জানে, মেহরিমার মনেও নেই কোনো বাধা, নেই কোনো সংশয়। বরং সে নিজে থেকেই সঁপে দিতে চায় নিজেকে এক নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে। তবু জাহান থেমে থাকে। ছুঁয়ে দিতে পারার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে স্পর্শ করে না। কারণ তার ইচ্ছা মেহরিমা আরেকটু উপলব্ধি করুক সেই ব্যথার গভীরতার, যা ফেলে যাওয়া একজন মানুষের অনুপস্থিতি সৃষ্টি হয়।
তারপর, ঠিক তারপর নিজের ভালোবাসার সমস্ত আলোকচ্ছটা দিয়ে সে মেহরিমাকে আগলে নেবে। জাহান চায় মেহরিমার জীবনজুড়ে জমে থাকা না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসগুলো সে মুছে দিতে। যত্নে, স্নেহে, আর অপার মমতায় বোনা এক অনন্ত আশ্রয়ে তাকে ঢেকে দিতে—যেখানে ব্যথার, অবহেলার, অনাদরের আর কোনো ঠাঁই নেই। আছে কেবল ভালোবাসা, অনুরাগ আর চিরস্থায়ী নৈঃশব্দ্যের মাঝে জেগে থাকা এক নিরন্তর প্রতিশ্রুতি।
জাহান নিজের হাতটা মেলে দিয়ে মেহরিমাকে সেই হাতের উপর শুয়ে দেয়। তারপর চার হাত-পা দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে মেহরিমাকে। তার বউ প্রথমবারের মতো একটা আবদার করেছে সে তা পূরণ না করে পারে বুঝি? মেহরিমাকে জড়িয়ে ধরার পর যেনো জাহানের নিজের করা সব প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়তে চাইছে। মেয়েটাকে একটু স্পর্শ করার পরই তার মন চাইছে, তাকে একদম নিজের বুকের ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে। সে ঘোরের মধ্যে থেকেই আরো শক্ত করে মেহরিমাকে জড়িয়ে ধরলে মেহরিমা ঘুমের মধ্যেই গুঙিয়ে উঠে।
তার গুঙানোর আওয়াজে জাহানের ঘোর ভাঙে। সে নিজের হাত-পায়ের বাঁধন গুলো কিছুটা হালকা করে কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেয় না। নিজের মুখ এনে মেহরিমার চুলের ঘ্রাণ শুঁকতে থাকে। যতই তার কালোকেশের সুবাস নেয় ততই যেনো তার প্রতিশ্রুতি গুলো তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পালিয়ে যেতে যায়। সে মেহরিমাকে তো বলেই ছিলো একবার –
—তোমার এই সামান্য উপস্থিতিতেই যদি আমার ভিতর এমন ঝড় ওঠাতে সক্ষম হয়, তবে ভেবে দেখো যেদিন তোমায় হালালভাবে স্পর্শ করবো, সেদিন আমার অবস্থা ঠিক কেমন হবে! মেহু, এই অল্পস্বল্প স্পর্শে আমার মন ভরবে না।
যেদিন তোমায় আপন করে কাছে টানব, তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমার নাম মিশে যাবে। শুধু নামহীন ছোঁয়া থাকবে না, থাকবে ভালোবাসাময় অধিকার…
তোমার চোখে, তোমার চুলে, তোমার অস্তিততে আমি আমার ছায়া রাখতে পারব, সেদিন আমার ভেতরে চলতে থাকা তাণ্ডব শান্ত হবে।
নাহ, জাহান আর ভাবতে পারছে না। তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে হবে। নাহলে কখন জানি মেহরিমার ঘুম ভাঙিয়ে তাঁকে নিয়ে পাড়ি দেয় ভালোবাসার জগতে। জাহান মেহরিমার চুলে মুখ গুঁজেই চোখ বন্ধ করে। ঘুমের নাম-নিশানাও চোখের ত্রিসীমানায় নেই, তাও ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে।
সময়ের ব্যবধানে জাহান একসময়ে ঘুমিয়েও পড়ে। জাহানের গাঢ় হয়ে আসা নিঃশ্বাস ও হাত-পায়ের বাঁধনগুলো যখন আরেকটু ঢিলে হয়ে আসে তখনই মেহরিমা বুঝতে পারে জাহান ঘুমিয়ে পড়েছে। সে আস্তে আস্তে নিজের মাথাটা উঠিয়ে জাহানের দিকে তাকায়। হ্যাঁ, মেহরিমা ঘুমায় নি। ঘুমায়নি বললে ভুল হবে, ঘুমিয়েছিল কিন্তু জাহান যখন বেলকনি থেকে এসে তাকে ঠিক করে শোয়ালো তখনই তার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। আসলে মেহরিমার ঘুম অনেক পাতলা। সে ঘুমন্ত অবস্থায় যদি কেউ তার আশেপাশে হাঁটাচলাও করে তাহলেও তার ঘুম ভেঙে যায়। আর আজ সেখানে জাহান তো তাকে নিয়ে কত টানাহেঁচড়ার করল।
মেহরিমা দুরুদুরু বুকে নিজের মাথাটা আরেকটু উঠিয়ে তার মুখটা এগিয়ে নিয়ে যায় জাহানের মুখের কাছে। একবুক সাহস নিয়ে সে নিজের কোমল ওষ্ঠজোড়া আলতো করে ছুঁয়ে দেয় জাহানের দাড়িতে ঢেকে থাকা থুতনিতে।
জাহান যেমন আজ প্রথমবারের মতো মেহরিমাকে এতটা গভীর ভাবে স্পর্শ করল, মেহরিমাও তার জীবনে প্রথমবারের মতো কোন পুরুষকে তার ভালোবাসাময় স্পর্শ দিল। দুইজনই দু’জনার স্পর্শে শিহরিত হয়ে কিছুটা কেঁপে উঠে। মেহরিমা মাথা নামিয়ে পূর্বের জায়গায় শুয়ে পড়ে। নিজেও হাত বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরে তার ভালোবাসার পুরুষ টিকে। খানিক মান-অভিমান ও নিজেদের বুকে একে অপরের জন্য অসীম ভালোবাসা নিয়ে দু’জনই নিদ্রাদেবীর কোলে ঠায় নেয়।
শব্দসংখ্যা~১৫০০
চলবে?
[অ্যাঁই, আপনারা একটু বেশি রেসপন্স করেন না ক্যানননননন?😭😾🔪 আমি কি টাকা-পয়সা চাচ্ছি আপনাদের থেকে? যারা গল্প পড়েন সকলে একটা কমেন্ট আর একটা রিয়েক্ট করলে কি হয়??🥺🥺
আপনারা যেদিন একটু বেশি রেসপন্স করেন সেদিন দৌড়ে লিখতে যাই শত ক্লান্তির পরও। কিন্তু আপনারা তো আপনারাই…..😞😞
আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে সরি। ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🖤]

