#উৎসর্গ
#পর্ব:২২+২৩
#তানজিনা ইসলাম
মায়া ব্যাগ গোছাচ্ছে এমন সময় রুদ্র এসে ওর হাত থেকে ব্যাগ কেড়ে নিয়ে নিলো।মায়া বিরক্তি নিয়ে তাকালো রুদ্রর দিকে।ব্যাগটা নিতে যাবে তখনই রুদ্র আবার ব্যাগটা সরিয়ে দিলো।মায়া বিরক্তি নিয়ে বললো
-“ব্যাগ নিয়ে নিয়েছিস কেনো?এখন কী আমার ব্যাগ গোছানো নিয়েও সমস্যা হচ্ছে তোর? ব্যাগ দে বলছি।”
রুদ্র মায়ার কথা উপেক্ষা করলো। কাঠ কাঠ গলায় বললো
-“চুল কেটেছিস কেন?”
-“মন চেয়েছে তাই।আমার চুল আমার ইচ্ছা।আমি কাটবো নাকি রেখে দিবো সেটাও আমার মর্জি। “মায়া শান্ত স্বরে উত্তর দিলো।
রুদ্র মায়ার চুলে হাত ছোয়ালো। মুখ কালো করে বললো
-” কালকে রাতের কথাগুলোর জন্য কেটেছিস তাই না?”
-“নিজেকে এতটাও ইম্পর্ট্যান্ট দিস না যে তোর ফালতু কথার জন্য আমি আমার চুলগুলো কেটে ফেলব।”
-“আমি তোকে ওভাবে বলতে চাইনি রে।আমার মাথা ঠিক ছিলো না কালকে।বিশ্বাস কর আমার কী যে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে আমি নিজেই বুঝতে পারছি না।কেন তোর সাথে এরকম করছি আমি জানি না মায়ু।কেন তুই চুলগুলো কেটে ফেললি?”
-“আমার কাটতে ভালো লেগেছে তাই কেটেছি।তোর কোনো দোষতো দিই নি আমি।তবুও এতো এক্সিউস দিচ্ছিস কেন?”
রুদ্র মায়ার হাত ধরে ফেললো।অসহায় কন্ঠে বললো
-“আমার খারাপ লাগছে অনেক।কেন তুই চুল কাটলি বল। কত্তো লম্বা লম্বা চুল ছিলো। এটা কেন করলি তুই!”
-“হাত ছাড়।”
রুদ্র হাত ছাড়লো না, ওভাবেই বললো
-“আমি বুঝতে পারছিনা আমি কী করব।আমি তোকে কষ্ট দিতে চাই না রে।তারপরও প্রতিনিয়ত কষ্ট দিচ্ছি।প্লিজ আমার একটা কথা শোন।”
-“আমি তোর কোনো কথা শুনতে ইচ্ছুক নই।”
-“শুনবি, শুনতে হবে তোকে।তুই কোথাও চলে যা কয়েকদিনের জন্য। ”
মায়া ভ্রু কুচকে তাকালো রুদ্রর দিকে।বললো
-“মানে?কোথায় যাবো?”
-“জানি না। শুধু আমার থেকে দুরে চলে যা।”
মায়া তাচ্ছিল্য হাসলো।গমগমে কন্ঠে বললো
-“কোথায় যাবো? কোথায় যাওয়া জায়গা আছে আমার”
আমার থেকে ছাড়া পেতে চাইছিস?কিন্তু তোর মনস্কামনা পূর্ণ হবে না।মৃত্যু ছাড়া এই বাড়ি থেকে বের হব না আমি।সরি রে তোর কথা রাখতে পারলাম না।”
-“এভাবে কেন বলছিস তুই?মায়ু তুই ভুল বুঝছিস আমাকে।আমি তোকে সারাজীবনের জন্য যেতে বলছি না।শুধু কয়েকদিনের জন্য। আমি আমার মনটাকে একটু শান্ত করি।একটু সামলাই নিজেকে।আমি কষ্ট দিতে পারছি না তোকে আর।তুই কয়েকদিনের জন্য চলে গেলেই আমি নিজেকে সামলাতে পারবো।”
-“ও আচ্ছা। আমি চলে গেলেই সামলাতে পারবি নিজেকে? আর আরশির সাথেও শান্তি মতো কথা বলতে পারবি, কেও বিরক্ত করবে না তোকে। তাই তো? এটার জন্যই আমি যাবো না বুঝছোস। নয়তো তুই যেরকম বিহেভিয়ার করছিস না আমার সাথে, কোনদিন সব ছেড়েছুড়ে চলে যেতাম।ওই আরশি, বেয়াদবটা সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোচ্ছে।”
রুদ্র দু’পাশে মাথা নাড়লো। ঢোক গিলে বললো
-“না,ভুল বুঝছিস। আমি শুধু একটু একা থাকতে চাই।একটু একা থাকতে দে আমাকে।”
মায়া ব্যাগ কেড়ে নিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো
-“তো তুই একা থাক।আমি এই বাড়িতে থাকবো কিন্তু তোর সামনে আসবো না তাহলেইতো হলো।”
-“না, তাহলে হলো না।আমার নিজেকে বোঝানোর জন্য তোর এই বাড়ি থেকে দুরে যাওয়া প্রয়োজন। প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর।”
মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেললো।নিজের আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে আর রুদ্রকে বোঝাতে মন চাইলো না।যতই এই বাড়িতে বউ হয়ে আসুক, কিন্তু এটাই তো সত্যি যে এটা রুদ্রর বাড়ি। রুদ্রর বাড়িতে যদি রুদ্র ওকে রাখতে না চায়,তাহলে নিশ্চয়ই ও জোর করে থাকতে পারবে না।মায়া নিজের ভাগ্য মেনে নিলো।যার কাছে বেহায়ার মতো বারংবার থাকতে চাচ্ছে,সেই তো তাড়িয়ে দিচ্ছে ওকে। আর কতো বেহায়া হবে ও। এই কষ্ট গুলো নিজের দোষেই পাচ্ছে। কেন শুধু শুধু নিজের রুহটাকে এখানে রেখে কষ্ট দিচ্ছে ও।
মায়া কিছু একটা ভেবে রুদ্রর দিকে তাকালো। মলিন হেঁসে বললো
-“ঠিক আছে বাড়িতে চলে যাবো আমি।কিন্তু তোকে একটা কথা দিতে হবে তুই নিজে আমাকে খান মঞ্জিলে দিয়ে আসবি।কথা দে।”
মায়া হাত বাড়ালো, রুদ্র ওর হাত চেপে ধরে বললো
-“দিলাম কথা।ছুটির পর আমিই তোকে দিয়ে আসবো।
,
আজকে ফোর্থ ইয়ারের শেষ ক্লাস।বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে হ্যাড স্যার অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে লেকচার দিচ্ছে।ক্লাসের উপস্থিতরা মনোযোগ সহকারে তা শুনছে বিশেষ করে মেয়েরা।ক্লাসে হাতেগোনা কয়েকজন ছেলে আছে বেশিরভাগ ছেলে ক্লাসের বাইরে বন্ধুদের সাথে আছে।যে যার মতো বাইরে চলে গেছে।কেউ কেউ তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসটাকে ঘুরে ঘুরে দেখছে।আজ পুরো ভার্সিটির ক্যাম্পাস জুড়ে শুধু ফোর্থ ইয়ারের ছেলে -মেয়েরা।হয়তো আগামী বছর অনেকেই মাস্টার্স কমপ্লিট করার জন্য থাকবে।কিন্তু জীবনের যাঁতাকলে পরে অনেকেই হারিয়ে যাবে।চারটা বছর যাদের সাথে ক্লাস করেছে,নোট শেয়ার করেছে,সুখ -দুঃখ ভাগ করেছে, হৈ-হুল্লোড় করেছে তারা আগামী বছর নাও থাকতে পারে।তাদের সাথে হয়তো দেখা নাও হতে পারে। ছেলেদের বন্ধুত্বটা অটুট থেকে যায়,তারা যখন তখন দেখাও করতে পারে কিন্তু মেয়েরা?চার বছর একসাথে ক্লাস করা হৃদয়ে থাকা মানুষগুলোকে হারিয়ে ফেলে তারা।
মায়া থার্ড বেঞ্চে বসে আছে।তার দুইপাশে রুহানি আর রিয়ানা। রুদ্র,রাহুল,আরিয়ান আর সাহিল ক্লাসের বাইরে চলে গেছে।যদিও ওদের তিনজনকে ডেকেছিলো তারা।কিন্তু মায়া যেহেতু যায়নি তাই রুহানি আর রিয়ানাও ক্লাসে থেকে গেছে। রুহানি বারবার জেরা করছে মায়া চুল কেটে ফেললো কেন?ওর চুলগুলো ছোট হওয়ায় ওর সবসময় মায়ার চুল পছন্দ ছিলো।ওই যে অনেকে বলে না, এক নারী অন্য নারীর সৌন্দর্য সহ্য করতে পারে না।কিন্তু রুহানিতো কোনোদিন মায়ার সৌন্দর্য নিয়ে জেলাস ফিল করেনি।উল্টো মায়ার ভালো কিছু নিয়ে খুশি হয়েছে,গর্ববোধ করেছে।খারাপ কিছুকে অন্য কেউ খারাপ বললে তার প্রতিবাদ করেছে। তাই মায়ার চুল কাটা নিয়ে রুহানির খারাপ লাগছে।একের পর এক প্রশ্ন যেন শেষই হচ্ছে না।
ক্লাসে সবাই মোটামুটি নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।হ্যাডস্যারের লেকচারে মেয়েরা একটু বেশিই ইমোশনাল হয়ে পরেছে, তাই অনেকের প্রায় কান্না করে দেওয়ার মতো অবস্থা।
ছেলেরা চারজন ক্যাম্পাসের মাঠে একটা যায়গায় বটগাছের নিচে বসে আছে।সামনে কয়েকজন ছেলে মিলে ফুটবল খেলছে ।সেটাই দেখছে তারা।আজকে আর ফুটবল খেলতে গেলো না চারজনে।এসব তো প্রায় খেলা হয়।কিন্তু আজকে কেন জানি এই প্রিয় মাঠে বসে গল্প করতে মন চাচ্ছে।
আরিয়ান,রুদ্র আর রাহুল মিলে সাহিলকে খেপাচ্ছে রিয়ানার নাম ধরে।তাদের তিনজনের ধারণা সাহিলের মনে রিয়ানার জন্য কিছু একটাতো আছেই।সেটা নিয়েই পিঞ্চ মারছে তিনজনে মিলে।সাহিল মুখ কালো করে বসে আছে।বারবার তাদের মানা করছে এসব যেন না বলে।অন্যরকম কিচ্ছু নেই ওর মনে। রিয়ানা শুনতে পেলে ওর খবর আছে।কিন্তু তিনজন ওর কথা শুনলেতো।
এসব কথার মাঝেই আরিয়ান রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“কাল রাতে তোকে কল দিয়েছিলাম। ধরিসনি কেন?”
-“রাতে আমি অনেক লেইট করে বাড়ি ফিরেছিলাম।আর ফোনে হয়তো চার্জও ছিলো না।সুইচড অফ হয়ে গিয়েছিল। সকালে তো তোর সাথে দেখা হতোই তাই আর কল ব্যাক করিনি।কোনো দরকার ছিলো ? ইম্পর্ট্যান্ট কিছু?”
-“আরে না।দরকার ছাড়া কল দিতে পারি না!এমনিই কথা বলার জন্য। ”
-“হুম।”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো
-“একটা সত্যি কথা বলবি?সত্যি সত্যি উত্তর দিতে হবে কিন্তু। ”
-“হুম বল না।মিথ্যা কেন বলতে যাব।”
-“মায়ার সাথে কী তোর ঝগড়া লেগেছে?কিছু কী হয়েছে তোদের মধ্যে? না মানে অনেকদিন ধরেই দেখছি ও আর তুই তেমন ভালো করে কথা বলিস না।কেমন জানি এড়িয়ে যাস দুজনকে দুজনকে।মানছি এটা তোদের পার্সোনাল ম্যাটার।বাট তোরা দুজনেই আমাদের ফ্রেন্ড। তাই তোদের নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।”
রুদ্র গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসলো।সামনে তাকিয়ে বললো
-“ঝগড়া লাগেনি। আমাদের ঝগড়া হয় না। আমাদের কী হয় আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি নাআমি ওর সাথে খুব বেশিই খারাপ বিহেভিয়ার করছি ইদানীং। ওর মন খারাপ অনেক।”
তিনজনে অবাক হয়ে তাকালো ওর দিকে।রাহুল বিহ্বল হয়ে বললো
-“খারাপ বিহেভ করিস,আবার সেটা বড় মুখে বলছিসও।”
-“হু।বলছি।কী করবি তুই আমার?”
রুদ্র গা-ছাড়া ভাব নিয়ে উত্তর দেয়।
রাহুল গম্ভীর কন্ঠে বললো
-“দেখ রুদ্র।তুই কিন্তু এটা ঠিক করছিস না।আমার বেস্টফ্রেন্ডের সাথে এমন করতে পারিস না তুই।আমিও তো বলছি কয়েকদিন ধরে মায়ার মন এতটা খারাপ কেন?”
-“কেন? মায়া তোর বেস্টফ্রেন্ড কিন্তু আমি তোর কেও না?সবসময় ওর জন্য দরদ উতলে পরে কেন তোদের সবার? ওর মন খারাপ হতে না হতেই কনসার্ন হয়ে পরিস তোরা।আর আমার মন খারাপ তো চোখেও দেখিস না। ”
রুদ্র উদাস স্বরে বললো।
আরিয়ান রুদ্রকে শান্ত কন্ঠে বললো
-“আমাদের কাছে সব ফ্রেন্ড ই সমান রুদ্র।তোর মন খারাপ হলেও আমাদের চোখে পরে।কিন্তু তোর সবসময় এটাই মনে হয় যে আমরা মায়াকে তোর থেকে বেশি প্রাইয়োরিটি দেয়। যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা তোর।”
-“হ্যাঁ।সবে তো আমিই ভুল।কিন্তু যদি একিই প্রাইয়োরিটি দিয়েই থাকবি, তাহলে তোরা জানতি আরশির সাথে সম্পর্কে ছিলাম আমি।ভালোবাসি বা না বাসি ওটা পরের কাহিনি।কিন্তু সম্পর্কে তো ছিলাম।মায়া কীভাবে বিয়ে করেছে সেটাও জানিস তোরা।তারপরও মায়ার পক্ষ কী করে নিলি তোরা?”
-“মায়া তোকে ভালোবাসতো রুদ্র।তাই আমরা চেয়েছি ও ভালো থাকুক তোর সাথে।”
রাহুল রুদ্রের প্রশ্নের ঝটপট উত্তর দিলো।
-“আর আমার ভালো থাকা?আমার ভালো থাকার কথা একবারো চিন্তা করেছিস?একবারো ভেবে দেখেছিস আমি ভালো থাকবো কিনা মায়ার সাথে?”রুদ্র প্রশ্ন করলো।
সাহিল উৎকন্ঠা নিয়ে বললো,
-“কেনো ভালো থাকবিনা রুদ্র?মায়া অনেক ভালো একটা মেয়ে।ও তোর বেস্টফ্রেন্ড রুদ্র।তোর সমস্যাটা আসলে কী নিয়ে হচ্ছে আমাদের বলবি?”
-“আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি ওর সাথে থাকতে পারছি না।এই জোর-জবরদস্তির বিয়ে আমি মানতে পারছি না।বেস্টফ্রেন্ড বলে ওর খুশির জন্য আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মুখ বুজে সংসার করতে হবে, এটা আমি পারবো না সাহিল। এতো মহান আমি নই!”
রুদ্র অত্যন্ত শান্ত কন্ঠে বললো।কিন্তু শান্ত থাকতে পারলো না রাহুল।চকিতে উঠে দাড়ালো সে।রাগীস্বরে বললো
-“বিয়ের এতোদিন পর বলছিস বিয়ে মানতে পারছিস না।মগের মুল্লুক পেয়েছিস নাকি তুই?কই, এতদিন তো কোনো সমস্যা হয়নি।আরশি সুই*সাইড এটেম্প করার পরপরই কেন তুই বিয়ে মানতে পারছিস না?”
-“সেই ঘটনার পরই আমি নিজের প্রতি হওয়া অন্যায় রিয়ালাইজ করতে পেরেছি রাহুল।সবাই কীভাবে অন্যায় করেছে আমার সাথে!আমার মা-বাবা পর্যন্ত। আর এই সব করেছে শুধু মাত্র মায়ার জন্য। এতসব কিছু ভুলে আমি ওর সাথে সংসার করতে পারছি না।”
-“তুই কী ডিভোর্স দেওয়ার কথা চিন্তা করছিস?”
রাহুল ভ্রু কুচকে বললো।
রুদ্রর ভাবলেশহীন উত্তর দিলো
-“এখনো চিন্তা করিনি।তবে করবো।”
রাহুল অনুরোধ করে বললো
-“রুদ্র প্লিজ এমন করিস না।মায়া অনেক কষ্ট পাবে রে। অনেক কষ্ট পাবে। নিতে পারবে না। তুই জানিস না ও কেমন? ও কতোটা পাগল জানিস না তুই?
-“ওর পাগলামিই তো আমার সবকিছু শেস করে দিচ্ছে। এমন পাগলের সাথে বন্ধুত্ব করা যায়। সংসার করা যায় না।
ওর কষ্টের কথা আমি ভাবতে যাবো কেন?আমার কষ্টের কথা কেউ ভেবেছে?”
-“রুদ্র, এতদিনেও তুই বুঝতে পারিসনি,ঠিক কতটা ভালোবাসে ও তোকে।নিজের চেয়েও বেশি।ও সইতে পারবে না রুদ্র।এতটা কষ্ট দিসনা ওকে।তুইতো জানিস ওর মন কতটা নরম।তোকে হারানোর যন্ত্রণা ও সহ্য পারবে না। ও মরে যাবে রুদ্র।”
রুদ্র তাচ্ছিল্য হাসলো।দাড়ানো রাহুলের দিকে দৃষ্টি তাক করে বললো
-“কেউ কারো জন্য মরে না রাহুল।ওর ভালো থাকার জন্য আমি কষ্ট করতে পারবো না।এই সম্পর্কের দায়ভার আমি আর বয়ে বেড়াতে পারছি না।”
-“রুদ্র তোর এসব কাহিনির জন্য যদি মায়ার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে আমি তোকে ছারবো না।”
-“কী করবি তুই?”রুদ্র ত্যাড়া কন্ঠে বললো।
-“সেটা তখনই দেখাবো।”বলেই রাহুল বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো।
সাহিলও উঠে দাড়ালো।যাওয়ার আগে রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলে গেলো
-“কাউকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না রুদ্র।তোর কী মনে হয় কাউকে কষ্ট দিয়ে ভালো থাকতে পারবি তুই?যে ভালো থাকার আশায় সম্পর্ক শেষ করে দিতে চাচ্ছিস,এতো বিশ্রীভাবে কষ্ট দিচ্ছিস ওকে সেই ভালো থাকা কোনোদিন ধরা দিবেনা তোর কাছে। সময় থাকতে নিজের ভুল বুঝতে শিখ।সময় চলে গেলে কষ্ট টা তুই সবচেয়ে বেশি পাবি।”
রুদ্র চেয়ে থাকলো দুজনের যাওয়ার দিকে।চোখ জ্বলছে,এতক্ষণের সুন্দর পরিবেশটাও বিষাক্ত লাগছে।মায়া ওর বন্ধুদেরও ওর কাছ থেকে কেড়ে নিলো।আজও ওর বন্ধুরা মায়ার পক্ষই নিলো।রুদ্র পাশে বসে থাকা আরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“তুইও চলে যা।বসে থাকিস না আমার পাশে।সবাই যখন চলেই গেলো, আমার মতো খারাপ একজন মানুষের সাথে তুই বসে থাকবি কেন?”
আরিয়ান আরেকটু এগিয়ে এলো।হাত রাখলো রুদ্রর কাঁধে।বললো
-“আমি মানছি তোর সাথে যা হয়েছে তা অন্যায়। কিন্তু তুই ওঁকে ছোটবেলা থেকে দেখছিস না, দোস্ত।তোর তো আরশির সাথে তেমন সিরিয়াস রিলেশন ছিলো না। তুই একবার ভেবে দেখ তুই মায়ার সাথে যা করছিস তা কী ঠিক?ওর সাথে তোর বিয়ে হয়ে গেছে, যেভাবেই হোক না কেন!কিন্তু হয়েছেতো।তুই আরশিকে কমিটমেন্ট ও দিসনি।তাহলে মায়ার সাথে ভালো থাকলে সমস্যা কী?এত ভালোবাসা পায়ে মাড়াস না রুদ্র।কোনো একদিন হয়তো তোর অনেকবেশি আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এইসব।সমঝোতা কর রুদ্র।মেনে নে সব।নিজের আক্ষেপ ছাড়িয়ে ভালোবাসাটাকে দেখ।মায়ার সাথে সংসার করার চেষ্টা কর,ভালোভাবে থাকার চেষ্টা কর,দেখবি জীবনটা সুন্দর হবে।একবার ভালোবাসার চেষ্টা করে দেখ। অনেকদিন কোনো একটা মানুষের সাথে থাকলে তো এমনিতেই তার উপর মায়া বসে যায়।আর তোরা তো এতদিন এক ছাদের তলায় থাকলি।তার উপর ছোটবেলা থেকে একসাথে ছিলি তোরা।আমরা সবাই।রুদ্র,জীবনটাকে একটাবার সুযোগ দে।”
রুদ্র আরিয়ানের হাতের উপর হাত রাখলো।চোখ বন্ধ করে মাথা ঠেকালো গাছের সাথে।
আরিয়ান তাকিয়ে থাকলো রুদ্রর দিকে।মনে মনে আর্তনাদ করে বললো
-“রুদ্র,প্লিজ আমার মায়ার সাথে এমন করিস না।ও কষ্ট পাচ্ছে! অনেক কষ্ট পাচ্ছে। ওর কষ্ট সহ্য হচ্ছে না আমার।ওর সুখের জন্যই তো নিজের সব ইচ্ছে কে দাফন করেছি আমি। আমার যে মাঝে মাঝে তুই হতে মনে চায়।যদি আমি তুই হতাম তাহলে ও তোকে না আমাকে ভালোবাসত।কেন ও আমাকে ভালোবাসলো না রুদ্র?ও আমাকে ভালোবাসলে আমি কখনই কোনোরকম কষ্ট পেতে দিতাম না ওকে।কিন্তু ও কষ্ট পাওয়ার জন্য তোকে ভালোবাসলো।রুদ্র তুই জানিস না,তুই যাকে পেয়েছিস তাকে পাওয়ার জন্য অন্য একজন ঠিক কতটা কষ্ট করেছে।যাকে এতটা অবহেলা করছিস তার জন্য অন্যকেউ কত হাজারবার আল্লাহর কাছে হাত পেতেছে।যদি ও তোকে ভালো না বাসতো তাহলে আমি ওকে তোর কাছ থেকে নিয়ে নিতাম। কিন্তু ও যে তোকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।প্লিজ,ওর এই অগাধ ভালোবাসার বিনিময়ে এক টুকরো ভালোবাসা ওকে ফিরিয়ে দে। এতোটা অবহেলা করিস না।”
,
দুপুর পেরিয়ে বিকাল গড়িয়েছে। সব শিক্ষার্থীরাই একে একে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।আজ অনেক সুন্দর একটা দিন কেটেছে সবার। বন্ধুমহলের সবাই মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে এটা ওটা নিয়ে কথা বলছে। মায়া এদিক ওদিক তাকিয়ে সবাই উদ্দেশ্য করে বললো
-“সবাই তো চলে যাচ্ছে।আমাদরও রওনা দেওয়া উচিত এখন।”
সবাই সায় জানালো মায়ার কথায়।যখনি বেরোতে যাবে ক্যাম্পাস থেকে তখনই কোত্থেকে আরশি দৌড়ে এসে রুদ্রর হাত ধরলো।রুদ্র থেমে গেলো আরশির হাত ধরায়।আরশি হন্তদন্ত হয়ে শ্বাস ফেলে বললো
-“তোমাকে না বলেছিলাম যাওয়ার আগে আমার সাথে কথা বলে যাবে।”
-“ও তোমার সাথে কেনো কথা বলবে?তোমার কথা শুনতে কেন হবে ওর?কে হও তুমি?”রাহুল রুদ্রর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো।
রুদ্র রাহুলকে শান্ত স্বরে বললো
-“সবাইকে নিয়ে বাইরে যা আমি আসছি।”
-“সবাই গেলে তোকেও যেতে হবে।এখানে একা তোর কাজ কী?”রাহুল গম্ভীর স্বরে বললো।
-“রাহুল প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর।একটা কথা বলেই চলে আসব।”
-“না কোনো কথা বুঝব না আমরা। চল আমাদের সাথে।”
রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগে মায়া এসে ওর সামনে দাঁড়ালো।রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললো
-” তুই না বলেছিলি আজকে আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিবি।তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?চল তাড়াতাড়ি নয়তো পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে।”
-“কত দেরিই বা হবে।বলছিতো খুবই কম সময় কথা বলবো। তুই গাড়িতে গিয়ে বস,আমি আসছি।”
-“কেন কম সময় টুকুও কথা বলতে হবে তোকে?ওর সাথে তোর কোনো কথা থাকার তো কথা না।তাই বলছি আমাদের সাথেই যেতে হবে তোকে।”
-সিনক্রিয়েট করিস না এখানে।তুই যেটা বলবি সেটাই সবসময়ই মেনে নিতে হবে আমাকে এমন কোনো কথা নেই।”
-” মানতে তো হবেই রুদ্র। না মেনে যাবি কই?”
রুদ্র ভ্রু উচিয়ে ব্যঙ্গ করে বললো
-“কী করবি না মানলে?”
-“তোর তো কিছু করবো না।করার ক্ষমতাও নেই আমাদের। কিন্তু ভেবে দেখ তোর জন্য যদি মামুনি কষ্ট পায় তাহলে, মানতে পারবি তুই? ”
রুদ্র অস্থির স্বরে বললো
-“মায়া।তুই আম্মুকে টানছিস কেন এখানে?নিজের স্বার্থের জন্য আম্মুর নাম ব্যবহার করছিস! তুই এই ছোট কথাটুকুও আম্মুকে বলে দিবি?”
-“করলে করছি।তুইতো জানিস আমি বড্ড স্বার্থপর। এমনিতেই মামনির সাথে ওইদিন তোর অনেক ঝামেলা হয়েছে।এখন যদি এমন কিছু হয় মামনি তোর সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিবে।”
রুদ্র মায়ার দিকে হতবিহ্বল হয়ে তাকালো। পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।আরশি কিছু একটা বলতে চেষ্টা করছে ওকে। কিন্তু ওর বন্ধুদের জন্য বলতে পারছে না। রুদ্রর কানে একটা কথাও ঢুকছে না।অন্যদিকে রুহানি আরশিকে ধরে রেখেছে। মায়া আর রুদ্রর কাছে আসতে দিচ্ছে না। মায়া রুদ্রর হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে গেলো।বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে একেবারে গাড়ির কাছে গিয়ে থামলো।রুদ্রর হাত ঝারা মেরে ছেড়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
-“ড্রাইভিং সিটে বোস।আমার মাথা খারাপ করবি না।আর কিছু বলতে চাচ্ছি না তোকে।”বলেই মায়া গাড়িতে গিয়ে বসে।রুদ্র হনহনিয়ে গিয়ে মায়ার পাশের ড্রাইভিং সিটে বসলো।রাগে গজগজ করতে করতে গাড়ি স্টার্ট দিলো।রুদ্র অনেক স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে।মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।রাগে -ক্ষোভে চোখমুখ রক্তিম লাল হয়ে গেছে। মায়া বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছে ওর দিকে।বারবার অন্য গাড়ির সামনে পরতে পরতে বেঁচে যাচ্ছে ওদের গাড়িটা।
অন্য গাড়ি এলেই জোরে ব্রেক কষছে ও।
মায়া রুদ্রর মুখ থেকে কথা বের করার জন্য গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বললো
-“এভাবে গাড়ি চালাচ্ছিস কেন?এক্সিডেন্ট ঘটাবি দেখছি।মারবি নাকি?”
রুদ্র উত্তর দিলো না।টু শব্দ পর্যন্ত করলো না।মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকালো রুদ্রর দিকে।রুদ্র সামনের দিকে তাকিয়ে এমনভাবে ড্রাইভিং করছে যেন ওর পাশে কেউ নেই।পুরো গাড়িতে ও একাই আছে।মায়া রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে উদাস স্বরে বললো
-“এমন করছিস কেন?তুই নিজেইতো বলেছিলি আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিবি। আমি বাড়ি চলে গেলে ইচ্ছে মতো আরশির সাথে কথা বলিস।কিন্তু আমার সামনে না।আমার অসম্ভব খারাপ লাগে রুদ্র।”
রুদ্র গুমোট স্বরে বললো
-“তোর কষ্ট হলে আমার কী?যখন যা বলবি তোর সব কথা মানতে হবে নাকি আমাকে?আমি তোর হাতের পুতুল নই।”
-“কী বলছিস এসব? পুতুল কেনো হতে যাবি তুই?তুইতো আমার জামাই।আর জামাইয়ের উপর এসব অধিকার দেখানো যায়। “মায়া মলিন হেসে বললো।
রুদ্র ড্রাইভিং এর ফাঁকে মায়ার দিকে তাকালো।বাঁকা হেসে বললো
-” অধিকার তাইনা?জোরপূর্বক বাধ্য করা এসব কান্ডকে তুই অধিকার বলছিস তাই না।আচ্ছা, যখন অধিকারের বুলিই আওড়াচ্ছিস তখন এই অধিকার টাও খুব তাড়াতাড়ি কেড়ে নিবো তোর কাছ থেকে।”
-“অধিকার নেওয়া কী এতই সোজা?একটা মানুষের উপর অধিকারবোধ জন্মানো টা যতটা কষ্টকর।অধিকারবোধ কেড়ে নেওয়াটাও ঠিক ততটাই কষ্টের। তুই আমার থেকে আমার অধিকার কেড়ে নিতে পারবি না রুদ্র।”
-যেখান আমাকেই ছেড়ে দিতে হবে তোকে সেখানে অধিকারবোধ থাকবে কোত্থেকে?”
-“এতো সহজে ছাড়া পাবি না। এতো সহজে ছাড়বো না রে তোকে।ডিভোর্স দেওয়ার জন্য দু’জনেরই সম্মতির প্রয়োজন হবে।তোর একার সম্মতিতে ডিভোর্স হবে না।আমার থেকে এই জনমে ছাড়া পাবি না তুই।যতদিন আমি বেঁচে থাকবো ততদিন আমার সাথেই থাকতে হবে তোকে।আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোর মুক্তি নেই।”
-“মুক্তি দিবি না? আর কতো জ্বালাবি? সাইকো একটা!”
-“সাইকো বলছিস? হাহ!তোকে ভালোবেসে আর কি কি বদনাম যে মাথা পেতে নিতে হবে! কবে যে তুই আমাকে একটু ভালোবাসবি। কখন যে একটু কদর করবি আমার!”
-“আমি তোকে কখনো ভালোবাসবো না মায়া!”
-“ভালোবাসবি রুদ্র। একদিন খুব করে ভালোবাসবি। এতোটা ভালোবাসবি যে তোর প্রতিটা নিঃশ্বাসে আমি থাকবো। এতোটা ভালোবাসবি যতটা ভালোবাসলে তোর হৃৎপিন্ডের প্রতিটা ধুকপুকানি আমার নাসে হবে।এতোটা ভালোবাসবি যতোটা ভালোবাসলে আমি বিহীন তুই অসহায় হয়ে পরবি, নিজের মৃত্যু কামনা করবি। কিন্তু সেদিন এই মায়া তোর অসহায়ত্ব,তোর ভালোবাসা দেখার জন্য থাকবে না৷ সেদিন আমি তোকে নিয়ে করা আমার সব পাগলামো ছেড়ে দেবো। আমি হয়তো সেদিন মারা যাবো রুদ্র।”
-“তাহলে মরে যা তুই।”রুদ্র হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে বললো।
মায়া অবাক চোখে তাকালো। রুদ্রর থেকে এই ধরনের কথা আশা করেনি ও।রুদ্র যে কোনোদিন ওর মৃত্যু কামনা করতে পারে সেটা স্বপ্নেও ভাবেনি।
মায়া কাপা কাপা গলায় বললো
-“আমি মরে গেলে খুশি হবি তুই?”
-“হ্যাঁ।” রুদ্রর অকপট স্বীকারোক্তি।
-“কষ্ট হবে না তোর? কাঁদবি না আমার জন্য ?”
-“না।একটুও কাদবো না।উল্টো সেলিব্রেট করবো।”
-“আচ্ছা?কীভাবে সেলিব্রেট করবি?”
মায়া ভাঙ্গা গলায় বললো।
-“তোর চল্লিশায় গলদা চিংড়ি দিয়ে ভাত খাবো।চল্লিশার পর পার্টি থ্রো করবো।তারপর…তারপর ডিজে বাজিয়ে নাচবো!
”
বলেই রুদ্র নিজে নিজে চুপ হয়ে গেলো।কীসব আবোল তাবোল বকছে ও!মায়াকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কী বলতে কী বলে ফেলেছে?মায়া কতটা সেনসিটিভ সেটা তো জানে ও। তারপরও কেন এটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো।
এখন তো নিজের কষ্ট হচ্ছে। মায়ার মৃত্যুর কথা ও যে স্বপ্নেও ভাবতে পারে না।রুদ্র মায়াকে কিছু বলতে গিয়েও বললো না।কী বলবে ও?এত বড় কথার প্রেক্ষিতে কী কিছু বলা যায়?
মায়া জানালায় মাথা ঠেকালো।শুকনো হেসে রুদ্রকে বললো
-“শুনেছি রাগের মাথায় মানুষ সত্যি কথা বলে দেয়। আজ চাক্ষুষ প্রমানও পেলাম।তোর মনে এই ছিলো?”
রুদ্র কিছু বলতে পারলো না। মায়া শব্দ করে হাসলো। মিষ্টি করে হেঁসে বললো
-“আল্লাহ তোর ইচ্ছে পূরণ করে দিক রুদ্র।আমিন!আমি নিজেও দোয়া করবো যাতে আল্লাহ তোর এই ইচ্ছে খুব তাড়াতাড়িই পূরণ করে।কিন্তু একটা কথা কী জানিস?আমি মরে গিয়েও তোকে ছাড়বো না।আমার মৃত্যুর পরও তুই আরশি বা অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবি না।যদি বিয়ে করিস তাহলে ভুত হয়ে জ্বালাবো তোদেরকে!”
রুদ্রর খারাপ লাগছে। খুব বেশিই খারাপ লাগছে। বার বার মৃত্যু শব্দটা কেন মুখে নিচ্ছে মায়া?রুদ্রর মন চাইলো মায়াকে মানা করতে যাতে এই শব্দ টা মুখে আর না আনে।কিন্তু বলতে পারলো না।যেখানে কিছুক্ষণ আগেই ও এতবড় একটা কথা বলেছে সেখানে মানা করার মতো মুখ খুঁজে পেলো না নিজের।
রুদ্র চুপ করে ড্রাইভিং করছে।কিন্তু বুকের ভেতর যে কী তোলপাড় চলছে সেটা শুধুমাত্র ওই জানে।মায়া চুপচাপ জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে।পুরো রাস্তা এভাবেই চুপ থেকেছে একটা শব্দও বের করেনি মুখ থেকে।গাড়ি এসে খান মঞ্জিলের সামনে থামলো।মায়া সিটে বসেই রুদ্র কে বললো
-“ডাকছি না তোকে ভেতরে। কারণ আমি জানি তুই যাবি না।আমার সাথে একমিনিট কাটাতেও তোর কষ্ট হয় সেটা আমি জানি। আমি আল্লাহর কাছে খুব করে দোয়া করব যাতে তোর উপর থেকে আমি নামক বোঝা খুব তাড়াতাড়ি ই সরিয়ে নেই সে।আমার জানাযা পড়ার মতো কষ্টটুকুও যাতে আল্লাহ তোকে না দেয়।আল্লাহ মাজলুমদের দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল করে! আমি তো খুব বেশি অসুস্থ থাকি, তো দোয়া দ্রুত কবুল হওয়ার চান্স আছে।কি বলিস!”
রুদ্র থমকে তাকিয়ে থাকলো মায়ার দিকে।নিষ্প্রভ ওর দৃষ্টি। জাহির করার মতো হাতড়েও কোনো অনুভূতি খুঁজে পাচ্ছে না।
মায়া গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালো। দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আবার বললো
-“তোর বিরক্তি কমলে নিতে আসিস।যদিও আমি বুঝতে পারছি আমার মৃত্যুর আগে তোর এই বিরক্তি শেষ হওয়ার নয়।তারপরও যদি তুই আসিস আমি আবার বেহায়ার মতো তোর সাথে চলে যাবো রুদ্র।সাবধানে যাস।স্পিডে গাড়ি চালাবি না। অনেকবার এক্সিডেন্ট হতে হতে বেঁচে গেছি। আমি তো মারা যাবোই। তুই নাহয় বেঁচে থাক।”
বলেই মায়া কাঁধে ব্যাগ নিয়ে গেইটের ভিতর ঢুকে গেলো।রুদ্র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ওর যাওয়ার দিকে।বুক জ্বলছে, সাথে মস্তিষ্কেও যন্ত্রণা হচ্ছে।রুদ্র গাড়ির স্টিয়ারিং এ মাথা রাখলো।ফিরিয়ে নিতে চাইলো মায়াকে বলা বিষের চেয়েও বিষাক্ত বাক্যগুলি।কিন্তু পারলো না।তা যে হওয়ার নয়, বন্দুকের গুলি আর মুখের কথা যে কখনো ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।
মায়া ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে বেল বাজালো।মাহেরা খান দরজা খুলে মেয়েকে দেখে অবাক হলেন।মায়া দৌড়ে গিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে।
#চলবে

