#উৎসর্গ
#পর্ব:২৮
#তানজিনা ইসলাম
সকালে ঘুম থেকে মায়াকে টেনে তুললো রুদ্র।মায়া ঘুমু ঘুমু চোখে তাকিয়ে আবার শুয়ে পরলো।রুদ্র গ্লাসে করে পানি এনে কয়েকফোটা ওর মুখে ছিটিয়ে দিলো।মায়া হকচকিয়ে উঠে বসলো।ছোট ছোট চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে।রুদ্র কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁত দেখিয়ে হাসলো।মায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“এক্সাম দিতে যাবি না তুই?নাকি এভাবেই পরে পরে ঘুমাবি?”
-“কয়টা বাজে?”
মায়া হাই তুলে বললো।
-“এক্সাম শুরু হওয়ার আর ত্রিশ মিনিট বাকি আছে।”
-“কী বলিস?”
মায়া হতবাক দৃষ্টিতে তাকালো।
-“হ্যাঁ।দেখ আমি রেডি।কিন্তু তুই এখনো বিছানা ছেড়েই উঠতে পারলি না।”
মায় ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো নয়টা বেজে ত্রিশ মিনিট। দশটা থেকে এক্সাম শুরু।মায়া হন্তদন্ত হয়ে বিছানা ছাড়লো।দৌড়ে চলে গেলো ওয়াশরুমে।রুদ্র বিড়বিড় করে মায়াকে বকতে বকতে বিছানা গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরলো।
এক্সাম শেষে বন্ধুমহলের সবাই বটগাছের নিচে দাঁড়লো,যেখানে ওরা সবসময় দাঁড়িয়ে থাকতো।আজ অনেকদিন পর সবাই একত্র হয়েছে।সবাই খুশিই হয়েছে অনেক,যে এতদিনে রুদ্র আর মায়ার মাঝের সব ঝামেলা ঠিক হয়েছে।শুধু রাহুল রুদ্রর সাথে কথা বলছে না।
মায়া সবাইকে চোখ দিয়ে ইশারা করে দেখলো রাহুল আর রুদ্রর কাহিনি।দুজন গাছের দু সাইডে দাঁড়িয়ে আছে।আর কিছুক্ষণ পর পর একজন আরেকজনের কথায় কথায় খোঁচা মারছে ।মায়া দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“কীরে তোরা একজন আরেকজনের সাথে কথা বলছিস না কেন?তোদের আবার কী হলো?”
-“ফালতু ছেলেদের সাথে কথা বলি না আমি।”রাহুল মুখ বাকিয়ে বললো।”
-“আমিও।”রুদ্র অন্যদিকে ফিরে বললো।
-“আরে ঝগড়া করছিস কেন দুজনে?যেটা নিয়ে ঝগড়া লেগেছিলো সেই সমস্যাটাই তো মিটে গেছে। এখন আর মুখ ফুলিয়ে থেকে লাভ কী!”আরিয়ান বললো দুজনকে।
তারপরও দুজন দু’দিকে ফিরে থাকলো। কেউ কথা বললো না কারো সাথে।
-“রুদ্র এখানে কিন্তু দোষ তুই আগে করেছিলি।তাই আগে গিয়ে তোরই মিটমাট করা উচিত।”রুহানি রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললো।
রুদ্র অবাক হয়ে বললো
-“আমি কী করলাম।সব দোষ আমার??ও কিছু করেনি?”
-“কী করেছে ও?সবতো তুইই করলি।তখন কী ঢুকেছিলো তোর মাথায় কে জানে?তুই নিজেই রাহুলকে বলেছিলি ও যাতে তোর পার্সোনাল লাইফ নিয়ে মাথা না ঘামায়।বন্ধু হয়েছে বলে যা ইচ্ছে তাই বলতে পারে না।ও যাতে নিজের চরকায় তেল দেয়।মায়াকে নিয়ে যাতে তোকে আর কিছু বলতে না আসে।পরেরবার থেকে ভালো হবে না
ব্লা ব্লা।জাস্ট তুই ভাব তুই রাহুলকে বলিসনি কী?আর এসব অস্বীকার করার চেষ্টা করিস না।সব আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে।”আরিয়ান গম্ভীর স্বরে রুদ্রকে বললো।
রুদ্র চুপ হয়ে গেলো।আসলেইতো,ওই তো বলেছে রাহুলকে সব।রাহুল তো কিছু বলেনি ওকে।শুধু এটুকুই বলতে এসেছিলো মায়াকে যাতে কষ্ট না দেয়।নিজের বেস্টফ্রেন্ডের কষ্ট কমানোর জন্য একটু চেষ্টাইতো করতে এসেছিলো ছেলেটা কিন্তু তার বিপরীতে কত কিছু শুনিয়ে দিয়েছিলো রুদ্র।আসলে তখন সিচুয়েশনটাই এমন ছিলো যে রুদ্রর সবাইকে শত্রু সনে হচ্ছিলো। না চায়তেও কষ্ট দিয়ে কথা বলে ফেলেছে রাহুলকে।কিন্তু যেখানে ওর ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো সেখানে ও উল্টো রাহুলের সাথে অভিমান করে বসে আছে যে,কেন রাহুল রাগলো?
রাহুল গাছের অন্যদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে।রুদ্র গুটিগুটি পায়ে গেলো রাহুলের কাছে।রাহুল মুখ ঘুরিয়ে ফেললো।
রুদ্র আবার গিয়ে ওর সামনে দাঁড়ালো।রাহুল হনহনিয়ে ঐ জায়গা ছেড়ে চলে গেলো।রুদ্র দৌড় দিলো ওর পিছে।
মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
-“এখন দুটোর মধ্যে সব মিটমাট হয়ে গেলেই হয়।”
-“আরে এখনই দেখবি দুজনে কাঁধে হাত দিয়ে হাটছে।”সাহিল হেসে দিয়ে বললো।
সবাই হাটছে আর দুচোখ ঘুরিয়ে রাহুল আর রুদ্রকে খুঁজছে।ছেলে দুটো কোথায় জানি চলে গেছে।রুহানি হেঁটে হেঁটে বললো
-“গেলো কই দুজনে?পুরো ক্যাম্পাসইতো মনে হয় চক্কর দিয়ে ফেলেছি।কোথাও তো দুজনের টিকিও দেখা গেলো না।”
-“সেটাইতো।উবে গেলো নাকি ছেলেদুটো।”রিয়ানা চিন্তিত স্বরে বললো।
-“একি সামনে কী হচ্ছে!”মায়া আতঙ্কিত স্বরে বললো।
মায়ার দেখাদেখি সবাই সামনে তাকায়।
রুদ্র আর রাহুল স্মৃতিসৌধের মোড়ে প্রায় দশ-বারোজন ছেলের সাথে মারামারি করছে।রাস্তায় দাড়ানো সবাই এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে।কারণ কেউই এসব ঝামেলার সামনে পরতে চায়বে না।
সাহিল আর আরিয়ান দৌড় দিলো।বিপক্ষ দলের ছেলেগুলোকে গিয়ে মারা শুরু করলো।চারজন মিলে ইচ্ছেমতো পিটছে ছেলেগুলোকে।সাথে ওদের মারো খাচ্ছে।তবে ওদের মার খাওয়ার চেয়ে মার দিচ্ছে বেশি।সাহিল একজনকে রাস্তায় শুইয়ে মারছে।কিন্তু ওর মনে হচ্ছে ও নিজের মনপুত ভাবে মারতে পারছে না।কিন্তু ওদিকে ছেলেটাকে আধমরা করে ফেলেছে। সাহিল দৌড়ে গিয়ে রাস্তার পাশ থেকে একটা বাঁশ হাতে নিলো।এইতো এবার এইটা দিয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে মারা যাবে।কিন্তু তার আগেই ছেলেগুলো পালালো।যারা হাটতে পারলো না তাদেরকে অন্যরা ধরে ধরে নিয়ে গেলো।যাওয়ার আগে থ্রেট দিয়ে গেলো দেখে নিবে সবাইকে। সাহিল ঠোঁট উল্টে বাঁশ টা হাত থেকে ফেলে দিলো।ইশ!কতো শখ করে এনেছিলো বাঁশটা। কিন্তু কোনো কাজেই লাগাতে পারলো না।ভেবেছিলো বাঁশের ছোয়া লাগিয়ে সবার পিঠ ধন্য করবে।কিন্তু কিছুই হলো না।
মায়া, রুহানি আর রিয়ানা রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলো।ছেলেগুলো যেতেই ছুটে গেলো ওদের কাছে।মায়া ভয়ার্ত গলায় বললো
-“ঠিক আছিস তোরা সবাই?”
-“আরে হ্যাঁ।কী হবে আমাদের আবার?ক্ষমতা আছে নাকি ওদের আমাদের সাথে লড়াই করে জেতার!”
রুদ্র শার্ট ঝারতে ঝারতে বললো।
-“কিন্তু হয়েছিল কী সেটাতো বল।এভাবে মারপিট শুরু করলি কেন? আরিয়ান আর সাহিলতো কিছু না বুঝেই দৌড় দিলো মারার জন্য।”রুহানি বললো
-“তো!আমাদের বন্ধুদের মারছে আর আমরা না গিয়ে তোদের মতো দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি।দোষ যদি রুদ্র আর রাহুলের থাকতো তাহলেও আমরা ওদেরই মারতাম।”
-“আমরা যদি ছেলে হতাম তবে অবশ্যই আমরা তোদের সাহায্য করতে যেতাম।কিন্তু আমাকে এটা বল তোরা মারপিট শুরু করেছিলি কেন?”রুহানি রাহুলের দিকে তাকিয়ে বললো।
-“আর বলিস না।আমি যখন সামনে হাটছিলাম তখন রুদ্র পিছু পিছু আসছিলো আমার।এক পর্যায়ে ও আমার হাত ধরতে গিয়ে ওদের সাথে ধাক্কা লাগে।রুদ্র সরিও বলেছে ওদেরকে তারপরও ওরা রুদ্রর কলার ধরলো।আমি ছাড়াতে গেলে আমাকে থ্রেট দিলো।ওর কোন আত্মীয় বড় ভাই বলে কোন পর্যায়ের নেতা।আমাদের নাকি ছাড়বে না।মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো তাই মেরে দিয়েছি।”
রুদ্র গিয়ে রাহুলের কাধে হাত রাখলো।শান্তস্বরে বললো
-“ঠিক আছিস?”
-“হুম।” বলেই রাহুল রুদ্রকে জড়িয়ে ধরলো। রুদ্র মুচকি হেসে রাহুলের পিঠে হাত রাখলো।
রুদ্র রাহুলকে ছেড়ে দাঁড়ালো।আরিয়ান আর সাহিলকে জিজ্ঞেস করলো
-“তোরা কোথাও ব্যাথা পাসনি তো? ”
দুজনেই মাথা নাড়লো।কিন্তু সাহিলের হাত কেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো।রিয়ানা দ্রুত পায়ে গিয়ে সাহিলের হাত ধরলো।নিজের ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে সাহিলের হাতে বেধে দিলো।সবাই মিটিমিটি হাসছে।
রিয়ানা সবার হাসি দেখে আমতা আমতা করে বললো
-“আরে ওর হাত কেটে গিয়েছিলো।এখন যদি কিছু দিয়ে না বাঁধতাম তাহলে ইনফেকশন হয়ে যেতো।”
আরেক দফা হাসির রোল পড়ে গেলো।তবে এবার সবাই জোরেই হেসে দিলো
মায়া সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“এবার যাওয়া যাক।অনেক লেইট হয়ে গেছে।সবাই এতক্ষণে নিজের বাড়ি গিয়ে একদফা রেস্টও নিয়ে নিয়েছে।”
সবাই মায়ার কথায় সাই জানালো। যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
,
দিনগুলো ভালোয় কাটছে।এক্সাম,বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি,বাসায় এক্সামের প্রিপারেশনের সাথে টুকিটাকি কাজে মায়ার ব্যাস্ত সময় পার হচ্ছে। রুদ্রর তো অবস্হা আরো খারাপ,এক্সাম দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন অফিসের কাজ সামলাতে হচ্ছে পুরো দমে।এক্সাম শেষ হয়েছে দুদিন হলো।মায়া বেলকনিতে আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র কক্ষে এসে বেলকনির দিকে তাকালো। মায়াকে আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলো।এক আকাশ সামান ভাবনা তার মনে।আচ্ছা মানুষটাকে কী বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেলেছে?ওর চঞ্চল মানুষটা আসার পর থেকেই কেমন চুপচাপ হয়ে আছে।ও না বললে,তেমন একটা কথা বলে না নিজ থেকে।সবসময় গম্ভীর আর শান্ত হয়ে থাকে।রুদ্রর কোনো কাজ পছন্দ না হলে সেটা নিয়ে বকে না ওকে,আগের মতো ঝগড়া আর মারপিট হয়না ওদের মাঝে।কিন্তু রুদ্র হাল ছাড়েনি।সবসময়ে চেষ্টায় আছে মায়াকে ঠিক করার,তার মনটা ভালো করার।অতীতের করা সকল খারাপ ব্যবহার ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছে ও,যদিও তা সহজ না।শরীরে দাগ কাটলে তা হয়তো কিছুদিন পর বিলিন হয়ে যায়।কিন্তু মনের দাগ মোছা কী এতই সোজা?রুদ্র দাগ কেটেছে মায়ার মনে যা সে চাইলেও ভুলতে পারছে না।রুদ্র এই কয়দিনে মায়ার কাছে হাজার বার ক্ষমা চেয়েছে। বারংবার কথা দিয়েছে, যে ভুল ও করেছে সে ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।মায়া যাতে শেষবারের মতো ক্ষমা করে দেয়।সেই ছোটবেলা থেকেই তো প্রতিবার ক্ষমা করেছে মায়া।রুদ্র প্রতিবার ভুল করতো আর ক্ষমা চাইতো।ক্ষমা না করলে বন্ধুত্বের দোহায় দিতো।হাজারবার ভুল করেও ক্ষমা পেয়েছে মায়ার কাছে।এবার যাতে শেষবারের মতো হলেও ক্ষমা করে দেয়।
রুদ্র পিছন থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো মায়াকে।মায়া চমকে গেলো। পরপর সামলালো নিজেকে। এ কয়েকদিন ধরে রুদ্রর এসব ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে মায়া।কয়েকদিন ধরে ছেলেটা একটু বেশিই ভালোবাসা দেখাচ্ছে।মায়া জানে ও স্বাভাবিক আচরণ না করা পর্যন্ত ও এরকম অতি ভালোবাসা দেখাতে থাকবে।ছোটবেলা থেকে দেখে আসছে রুদ্রর এসব উদ্ভট আচরণ। এক একবার এক এক বিহেভিয়ার করে।মানে গিরগিটির মতো রং বদলানো কেও ওর কাছে শিখুক।
রুদ্র মায়াকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় বললো
-“কী করছিস এখানে দাঁড়িয়ে?”
-“কিছু না।এমনিই দাঁড়িয়ে আছি।”মায়া উদাস স্বরে উত্তর দিলো।
রুদ্র মায়াকে ছেড়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।সামনে তাকিয়ে বললো
-“মন খারাপ? ”
-“না।”
-“এখনো কী ক্ষমা করতে পারিসনি আমাকে?”
-“ক্ষমা করার প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? ”
-“অনেক আগে থেকেই ছিলো প্রশ্নটা।আমাকে বল মায়ু,কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোর। আমাকে বল।”
মায়া রুদ্রর দিকে ঘুরলো।শান্ত কন্ঠে প্রশ্ন করলো
-“বললেই কী কষ্ট কমিয়ে দিতে পারবি?”
-“কষ্ট কমাতে হয়তো পারব না।কিন্তু চেষ্টাতো করতে পারি।কষ্টগুলো যখন আমিই দিয়েছি তখন কমানোর উপায়ও তো আমাকেই খুজতে হবে।”
-“তোর খুঁজতে হবে না।শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক।বিরক্ত করিস না।বিরক্ত লাগে সবকিছু আমার।”
রুদ্র চুপ করে গেলো।ক্ষণকাল অতিবাহিত হওয়ার পর মায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“রুহানি কল করেছে।সবাই নাকি ঘুরতে যাচ্ছে আজকে।আমাদেরও বেরোতে বললো।”
-” কোথায় যাবে?”
মায়া ভ্রু কুচকে বললো।
-“সেটা সবাই একসাথে হওয়ার পরই ডিসাইড করবো।”
কিয়ৎকাল চুপ থাকলো দুজনে। রুদ্র কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো
-“রেডি হয়ে নে।তোর তো রেডি হতে চার-পাঁচ ঘন্টা লেগে যায়।”
-“হ্যাঁ।সবকিছু একটু বাড়িয়েই বলিস।”মায়া যেতে যেতে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো।
মায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরী হচ্ছে। সাদা রঙের একটা হাফ গাউন পরেছে মায়া।কানে ছোট ছোট পুতি ডিজাইনের দুল।বামহাতে স্মার্ট ওয়াচ।চুলগুলো আঁচড়িয়ে ছেড়ে দিয়েছে।রুদ্র সঠিক বলেছিলো এটুকু তৈরী হতেও মায়ার পয়তাল্লিশ মিনিট সময় লেগেছে।
রুদ্র পিছন থেকে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে মায়ার দিকে না তাকিয়ে বললো
-“হয়েছে তোর?”
একটা সাদা রঙের শার্ট পরণে রুদ্রর।
মায়া পিছনে ফিরে রুদ্রকে বললো
-” হুম। রেডি আমি।”
রুদ্র চোখ তুলে তাকালো মায়ার দিকে। মায়ার মুখে কোনো সাজসজ্জা নেই।কৃত্রিম সাজগোছ বিহীন একটা মুখ।
রুদ্র মায়ার কাছে গিয়ে হাত দিয়ে মায়ার চিবুক ধরলো।নম্র কন্ঠে বললো
-“সাজলিনা যে একটুও?তুইতো সাজতে ভালোবাসিস!”
-“যখন মনের অনুভূতি গুলো মরে যায়।তখন আর এই শখের জিনিসগুলোও ভালো লাগে না।”
রুদ্র নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকলো মায়ার দিকে।মায়াকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে মাশকারা আর লিপবাম হাতে নিলো।মায়ার হাত ধরে নিয়ে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনের সাইড টেবিলে বসালো।মায়া অবাক হয়ে দেখছে রুদ্রকে।রুদ্র যত্ন করে মায়ার চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগিয়ে দিলো। ঠোঁটে লিপবাম লাগিয়ে দিলো।মায়া গোল গোল চোখে দেখছে রুদ্রকে।
রুদ্র মায়ার গাল টেনে দিয়ে মিষ্টি হেসে বললো
-“দেখেছিস কতো সুন্দর করে সাজানো শিখে গেলাম।”মায়া চোখ নামিয়ে ফেললো।রুদ্রর চোখে ভালোবাসা দেখলেই ওর ভয় লাগে।কারণ অতি ভালোবাসা দেখানোর পর পরই রুদ্র পল্টি নেয়।
দুজনে গাড়িতে বসে আছে।রুদ্র শিষ বাজিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।চোখে সানগ্লাস পড়া। গোধূলি বিকেল।গাড়ির জানালা ভেদ করে সূর্যের আলো পরছে সিটের উপর। মায়া অপলক বাইরে তাকিয়ে আছে।শহরের যানজট পূর্ণ রাস্তা পেরিয়ে ওরা গ্রামের মেঠোপথ ধরে এগিয়ে চলেছে।চারিদিকে প্রাকৃতিক সবুজের সমোরোহ।পিছনের সিটে রহানি আর রাহুল বসা। ওদের সামনে আরেকটা গাড়ি চলছে।সেখানে রিয়ানা, সাহিল আর আরিয়ান বসেছে।
ওয়াহেদপুর গ্রামে ছোট কোমলদহ বাজারের কাছেই অবস্থিত নীলাম্বর লেক।রাস্তার দুপাশ জুড়েই কাশফুলের রাজ্য।সাদা সাদা কাশফুলের বিচারণে মনে হচ্ছে এক টুকরো আকাশ মাটিতে নেমে এসেছে।সবাই মুগ্ধ চোখে দেখছে গ্রামের কাশফুলের মনোরম সৌন্দর্য।
অবশেষে গাড়ি লেকের পাশে গিয়ে পৌঁছালো।চারিদিকে সুন্দর বাতাস বইছে।দুই পাশের সুউচ্চ পাহাড় থেকে পানির অবিরাম লেকে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ও শব্দ পর্যটকদের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দুর করে দেয়।মায়া দু’হাত প্রসারিত করে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালো।আশেপাশে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।কিন্তু অনেক বড় যায়গা জুড়ে লেক হওয়ায় মানুষের ভিড় অতটা ঠাওর করা যাচ্ছে না।
সবাই দৌড় দিলো লেকের কাছে।লেকের স্বচ্ছ পানিতে মায়া নিজের পা ভেজালো। নিঃসন্দেহে বলা যায় জায়গাটা হাইকিংয়ের জন্য বেস্ট।রুহানি মোবাইল বের করে বেশ কয়েকটা সেলফি তুলে নিলো মায়া আর রিয়ানার সাথে। আরিয়ান, রুদ্র,রাহুল আর সাহিল একটু দুরে দাঁড়িয়ে পানি ছিটাছিটি করছে।রাহুল সাহিলের মাথা চুবিয়ে ধরেছে পানির সাথে।আরিয়ান ওদেরকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।আর রুদ্র হেঁসে হেঁসে মজা নিচ্ছে। মানে এগুলা শোধরাবে না।যেখানে যাবে সেখানেই আজাইরা কাজকাম করতে হবে এদেরকে।
রুহানি ডাকলো চারজনকে।রুহানির ডাকে সবাই তাকালো।সাহিল, পানির থেকে ছাড়া পেয়ে বড় বড় করে শ্বাস ফেললো। নাকে মুখে পানি ঢুকে অবস্থা কাহিল ওর।সাহিলের হাতে পরার আগে রাহুল দৌড় দিয়ে ওদের সাথে দাঁড়ালো।কিন্তু সাহিলতো ছাড়ার পাত্র নয়।সে এসেই দুমদাম কিল বসিয়ে দিলো রাহুলের পিঠে।
অবশেষে সাতজনে মিলে সেলফি তুললো অনেকগুলো।সবাই উপভোগ করছে মনোরম পরিবেশটাকে নিজেদের মতো করে।
রাহুল গিয়ে গাড়ির ডিকি থেকে বল নিয়ে এলো।এতো সুন্দর একটা লেকে ফুটবল না খেললে জমে নাকি!ছেলেরা চারজনে মিলে ফুটবল খেলছে।মায়া,রুহানি আর রিয়ানা গিয়ে আবদার করলো ওরাও খেলবে।রাহুল আর সাহিল পঁচালো ওদেরকে “ফুটবল মেয়েদের জন্য নয়, পরে হাটু ভেঙে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদবে “এই বলে।রুহানি ফুঁসতে ফুঁসতে চ্যালেঞ্জ ছুড়লো হয়ে যাক একটা ম্যাচ, ওরাই জিতবে।খেলা শুরু হলো। দুইদিকে দাগ টেনে ছেলেদের আর মেয়েদের অবস্থান নিশ্চিত করা হলো।কোনো গোলকিপার থাকবে না।যদি বলে কিক মেরে দাগের বাইরে নিয়ে যেতে পারে তাহলেই গোল হবে।
মেয়েরা তিনজনে মিলে অনেক কষ্টে একটা গোল দিলো।কিন্তু ছেলেরা গুনে গুনে পাঁচটা গোল দিয়েছে ওদেরকে।রুহানিতো বলে দিয়েছে,কিন্তু ফুটবল যাদের রক্তে মেশানো তাদেরকে হারানো কী এতোই সোজা!
পড়ন্ত বিকেল। সূয্যিমামার ডুবো ডুবো ভাব।আকাশ লালচে রঙ ধারণ করেছে।কিছুক্ষণ আগের সুন্দর পরিস্কার আকাশে মেঘ জমেছে।বৃষ্টি হবে হয়তো কিয়ৎকাল পর।ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।লেকের পাড়ে ঘুরতে আসা আরো কয়েকজন ছেলে যোগ দিয়েছে ওদের সাথে।রুহানি আর রিয়ানা সবুজ ঘাসের উপর বসে নিজেদের তোলা ছবিগুলো দেখছে।দুশোর অধিক ছবি তুলে ফেলেছে সকলে এই কয়েক ঘন্টায়। মায়া হ্রদের পাশের পাহাড়ি মনোরম পরিবেশে নিরিবিলি হাটছে।রুদ্র মায়াকে একা হাঁটতে দেখে খেলা ফেলে দৌড়ে এলো।নিজের একহাতে মায়ার একহাত ধরে আঙুলের ভাজে আঙুল জড়িয়ে ধরলো।মায়া একপলক রুদ্রর দিকে চেয়ে আবার সামনে তাকিয়ে হাটতে থাকলো। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে লোক সমাগমপূর্ণ জায়গা থেকে কিছুটা দুরে চলে এলো।
মায়া সামনের দিকে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলো
-“ওরা তো এখনো খেলছে।তুই চলে এলি যে?”
-“এমনিই তোর সাথে হাটার জন্য। ”
-“হুম। সুন্দর বাতাস বইছে। ভালো লাগছে হাঁটতে। ”
অশ্বত্থ গাছের ডালে নাম না জানা দুটি পাখি বসেছে।মায়া আর রুদ্র গিয়ে অশ্বত্থ গাছের শিকড়ের উপর বসলো।দুজনে চুপচাপ গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। রুদ্র মায়ার হাতটা নিজের কোলের উপর রেখেছে।রুদ্র আনমনে সামনে পর্যবেক্ষণ করে মায়াকে ডাকলো
-“জান।”
-“হুম।”
-“একটা কথা বলি তোকে?”
-“বল না।”
-“তুই আমাকে এতো ভালোবাসিস কেন?”
-“এটা কেমন প্রশ্ন!”মায়া ভ্রু কুচকে বললো।
-“বলনা দোস্ত। কত খারাপ বিহেভ করেছি আমি তোর সাথে।তোর মনটা বিষিয়ে তুলেছি। তারপরও তুই আমাকে কিচ্ছু বলিসনি।সবসময় আমার সাথে থেকেছিস।নিভৃতে ভালোবেসেছিস। তার বিনিময়ে আমি কিছুই দিতে পারিনি তোকে।”
-“কে বলেছে তুই আমাকে কিছু দিতে পারিসনি?এই যে প্রতিনিয়ত আমার দুর্বলতায় আঘাত করেছিস।তুই আমার দুর্বলতা, সেটা জানা সত্বেও আরশির সাথে আরো বেশি মিশেছিস।তুই জানিস,আমি তোর আশেপাশে কোনো নারীর ছায়াও সহ্য করতে পারি না।তারপরও তুই আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে সব করতি।”
রুদ্র মায়ার হাত নিজের সাথে আরেকটু জড়িয়ে ধরলো। নরম স্বরে বললো
-“কী করতাম আমি?আমার প্রতিনিয়ত মনে হতো তুই আমার উপর খবরদারি করছিস।আরশি সবসময় সিম্প্যাথি দেখাতো আমাকে, আমার তার সাথে সংসার করতে হচ্ছে যাকে আমি ভালোবাসি না।আমাকে নাকি তোর জোর জবরদস্তি মেনে নিতে হচ্ছে। তুই জানিস আমি ডিসিশন নিতে গিয়ে কনফিউসড হয়ে যায়।”
মায়া হাসলো।নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো।উদাস স্বরে রুদ্রকে বললো
-“এখন কনফিউশান হচ্ছে না?এখনতো ভালোবাসিস না আমাকে।এখন মনে হচ্ছে না জোরজবরদস্তি করছি।আমার সাথে অপারক হয়ে সংসার করতে কষ্ট হচ্ছে না?”
-“না।কোনো কনফিউশান হচ্ছে না।তোর সাথে সংসার করতে আমার কোনোকালেই কষ্ট হয়নি।অপারগ হয়ে সংসার করিনি আমি।তা কী করা যায়?
আমি মন থেকেই চেয়েছিলাম সব ঠিক হয়ে যাক।তুই এখন বদলে গিছিস মায়ু।আমাকে আর জোর জবরদস্তি করছিস না।আমার কষ্ট হচ্ছে তোর এই নিরবতা সইতে!”
-“তোর কাহিনী টা কী বলতো?কিছুদিন আগেও না আমার কথায় রাগ উঠে যেতো তোর।এখন আবার আমার কথা না বলায় কষ্ট হচ্ছে। কোনদিকে যাবো আমি বলতো।”
-“আগের মতো হয়ে যা।প্রমিস আর কখনো ওমন করবো না।তুই বদলে যাস না মায়ু।যদি তুই বদলে যাস তাহলে আমার আর তোর মধ্যে কী পার্থক্য থাকলো বল।বদলে যাওয়া তো আমার স্বভাব। আমিই না পল্টি নেই সবসময়। ”
-“কেন?কেন পল্টি নেস?তোর মেইন সমস্যা টা কী আমাকে বল।তোর কী মনে হয় তুই যেভাবে দুইদিন পরপর পল্টি নেস,সেভাবে আরশি জীবনেও সংসার করতো তোর সাথে?শুধু আমি বলেই তোকে ছেড়ে চলে যেতে পারছি না।অন্য কেও হলে ঠিকই এতোদিনে চলে যেতো।”
-“প্লিজ,এমনই থাকিস সবসময়। কোনোদিন ছেড়ে যাস না আমাকে।”
-“হ্যাঁ।তুমি এইভাবেই আমাকে ভেতরে ভেতরে মেরে ফেলবা,আর আমাকে তোমার কাছে পরে থাকতে হবে।আমি চলে যাবো না রুদ্র,কিন্তু হারিয়ে যাবো।যারা চলে যায় তারা আবার ফিরে আসে।কিন্তু হারিয়ে যাওয়া মানুষ কখনো ফিরে আসে না।”
-“তুই যাওয়ার চেষ্টা করিস না একবার।এতো সহজ নাকি আমাকে ছেড়ে হারিয়ে যাওয়া।হারাতে দিবো না তোকে আমি।”
আশেপাশে জোরালে বাতাস বইছে।মেঘ গুরুগুরু করে ডাকছে।রুদ্র চারপাশে তাকিয়ে বললো
-“বৃষ্টি শুরু হবে মনে হচ্ছে। আমাদের এক্ষুণি যাওয়া উচিত। মায়া উঠে দাড়ালো।পা বাড়াতে যাবে তখনই ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হলো।
রুদ্র মৃদু বিরক্ত হলো।সেই নেমে গেলো বৃষ্টিটা।মায়া হাত দিয়ে ছুয়ে দিলো বৃষ্টি। হাতের তালুতে পানি নিয়ে ছুড়ে মারলো রুদ্রর মুখে।রুদ্র চোখ খিচে বন্ধ করতেই খিলখিল করে হেসে উঠলো।রুদ্র শার্টের হাতা দিয়ে নিজের মুখের পানি মুছলো।ছোট ছোট চোখ করে তাকালো মায়ার দিকে।মায়া মুখে হাত চেপে হাসলো।পরপর রুদ্রকে বললো
-“বৃষ্টিতে ভিজবি?”
রুদ্র চোখ বড় বড় করে বললো
-“মাথা খারাপ।এই সন্ধ্যার বৃষ্টিতে ভিজব।জ্বরে পরার জন্য। আমিতো সুস্থ থাকবো শিউর।কিন্তু তুইতো অসুস্থ হয়ে যাবি।”
-“এতো শিউরিটি দিয়ে কী করে বলছিস অসুস্থ হয়ে যাবো।আর তুই সুস্থ থাকবি কী করে?”
-“কারণ আমি তোর মতো উইক না।উনিশ থেকে বিশ হলেই অসুস্থ হয়ে পরি না।”
-“এতো কথা বুঝি না।আমি যাচ্ছি ভিজতে। তোর যেতে মন না চায়লে যাস না।”
বলেই মায়া পা বাড়াতে যাবে তখনই রুদ্র মায়ার হাত টেনে ধরলো।ধমকে বললো
-“ত্যাড়ামি করবি না একদম।এসময়ের বৃষ্টি ভালো না। জ্বর থেকে সেরেছিস কদিন হলো?আবার অসুস্থ হয়ে পরার জন্য?”
-“রুদ্র শেষবারের মতো বৃষ্টিতে ভিজতে চাই তোর সাথে। প্রমিস,আর কোনোদিন ভিজবো না।এই শেষবার নাহয় জ্বর হোক।তোর সাথে ভেজার জন্য একটু নাহয় জ্বরে পরলাম।”
রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই রুদ্রকে টেনে বৃষ্টির মাঝে দাঁড় করিয়ে দিলো মায়া।রুদ্র নিভু নিভু দৃষ্টিতে দেখলো মায়াকে।মায়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।রুদ্র চোখ ফেরাতে পারলো না।প্রবল বজ্রপাতের শব্দে মাটি সহ কেঁপে উঠল যেন।মায়া শক্ত করে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো রুদ্রকে।রুদ্র প্রথমে হতবম্ব হলো।কিন্তু পরে নিজের হাতের বাধন শক্ত করে দাঁড়ালো।মায়া ফুঁপিয়ে বললো
-“রুদ্র আমি যদি কোনোদিন হারিয়ে যাই মনে রাখবি আমায়।ভুলে যাস না কোনোদিন।বন্ধু হিসেবে হলেও মনে রাখিস।তোকে ছেড়ে যেতে আমার অসম্ভব কষ্ট হবে রে রুদ্র।তোর জীবনে যেই আসুক না কেন আমি যাতে তোর মন থেকে মুছে না যাই কোনোদিন।ভালোবাসি রুদ্র।অনেক অনেক ভালোবাসি তোকে।”
মায়ার কথা শুনে আৎকে উঠলো রুদ্র।সহসা হাতের বাধন শক্ত করে বুকের সাথে আরো চেপে ধরলো।বিড়বিড় করে বললো “আমাকে ছেড়ে যেতে পারবিনা তুই মায়ু।আমি জানি।তোর সেই সাহস নেই।তুই যে সেই ক্ষেত্রে অসম্ভব রকমের ভীতু।অন্য নারীকে আমার জীবনে আসতে না দেওয়ার জন্য হলেও তুই থেকে যাবি,আমি জানি।”
কাছ থেকে কেও একজন বৃষ্টির তালে তালে গিটার বাজিয়ে গান গাইছে।
”কেন মেঘ হাসে হৃদয়ও আকাশে,
কেন মেঘ হাসে হৃদয়ও আকাশে
তোমারে দেখিতে দেয় না।
মহোমেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না।
মাঝে মাঝে তব দেখা পায়,
চিরদিন কেন পায় না।
কেন মেঘ হাসে হৃদয়ও আকাশে
তোমারে দেখিতে দেয় না।”
খোলা আকাশের নিচে ঝুমঝুম বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে দুজন।মায়া রুদ্র বুকের সাথে লেপ্টে আছে। রুদ্রর বুকের ভেতর ঢিপঢিপ আওয়াজ হচ্ছে।বোকা ছেলেটা এখনো বুঝতে পারলো না ঠিক কতটা ভালোবেসে ফেলেছে ও মায়াকে। তার মন-প্রাণ কবেই হারিয়ে গেছে।বন্ধুদের ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। হয়তো খুঁজছে ওদেরকে। কিন্তু দুজনের কর্ণকুহরে সে শব্দ প্রবেশ করছে না।জাগতিক মায়া ত্যাগ করে তারা অন্য জগতে হারিয়ে গেছে।
#চলবে

