আপনার_হৃদয়ে_আমি #সূচনা_পর্ব #জান্নাত_সুলতানা

0
42

স্কুল থেকে ফিরেই সানায়া নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলো। আজ সে ভয়ংকর এক কান্ড ঘটিয়েছে। বাড়ির কেউ এই খবর পায় বা না পায়। কিন্তু একজন ঠিকই সেই খবর পেয়ে গেছে। সানায়া জানে, আজ তার কপালে দুঃখ আছে। এখন কী করবে সে? কোথায় লুকবে? কার কাছে আশ্রয় চাইবে? সে যা করেছে এই কথা শোনার পর কেউই তাকে সাহায্য করবে না। সানায়া ইউনিফর্ম চেঞ্জ করে বিছানায় এলো। খাবার-দাবার সব ভুলে সে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। চিন্তায় অস্থির তার মাথাটাও যন্ত্রণা করতে শুরু করেছে। আর এ-সব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখের পাতা ঘুমে বন্ধ হয়ে এসছে টেরই পায়নি সে। তবে মস্তিষ্কে চলছিল ছুটির পর কলেজ থেকে বেরিয়ে আসার পরের দৃশ্য।

ছুটির বেল পড়তেই বান্ধবীদের সাথে নিত্যদিনের ন্যায় হেলে-দুলে হাঁটতে হাঁটতে গেইট দিয়ে বেরুনো মাত্র একটা ছেলে এসে সানায়ার সম্মুখে দাঁড়াল। ছেলেটাকে সানায়া চিনতো মুখ চেনা। সিদ্দিকী বাড়ির বড়ো ছেলের আশেপাশে কিছু ছেলেপেলে ঘুরঘুর করে। আর তাদের মধ্যে এই ছেলেটা একজন। সানায়া ভ্রু কুঁচকে যখন ছেলেটার দিকে তাকিয়ে তখনই ছেলেটা একটা ফোন ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বেশ ভদ্রতার সাথে বলে উঠলো,

“ভাই লাইনে আছে, আপু। আপনার সাথে কথা বলতে চায়।”

সানায়ার কুঁচকানো ভ্রু জোড়া টানটান হয়ে এলো। ওই ভদ্রলোক কেনো ওর সাথে কথা বলতে চাইছে এই অসময়ে? চিন্তিত সানায়া হাত বাড়িয়ে ফোন টা নিয়ে কানে ধরে বললো,

“হ্যালো?”

“গান খুব সুন্দর হয়েছে। সিরিয়াসলি। খুব তাড়াতাড়ি গানের স্কুলে অ্যাডমিশন করিয়ে দেব।”

যার কণ্ঠস্বর শুনলেই রক্ত হিম হয়ে আসে সেই মানুষ টার এমন শান্ত হুমকি সানায়ার অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে। তিরতির করে কাপে হাত। কল লাইন টা তৎক্ষনাৎ কেটে দেওয়া হয়েছে ওপ্রান্ত হতে। সানায়া ফোন টা ফিরে দিলো ছেলেটার কাছে। দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওর তিনজন ফ্রেন্ডই কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানায়ার দিকে। তাদের মধ্যে রিক্তা জিজ্ঞেস করলো,

“কে ছিলো? নির্ভাণ ভাইয়া?”

সানায়া মাথা নাড়ে। আর কিছু বলতেই পারে না মেয়ে টা।

“কী বললো?”

স্মৃতি জিজ্ঞেস করে সানায়া ভয়ার্ত ঘামাক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে। সানায়া গুটিয়ে গেলো। কথাগুলো আবারও মনে পড়তেই কেঁপে ওঠে সে। ঢোক গিলে বলে,

“গান ভালো হয়েছে।”

কথাগুলো শোনা মাত্র সবার চক্ষুদ্বয় বড়ো বড়ো হয়ে আসে। গানের খবর তবে নির্ভাণ ভাই জেনে গেছে? কিন্তু কিভাবে? ওরা একজন আরেকজনের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে। আতংক সৃষ্টি হয়েছে চার বান্ধবীর মধ্যে। ওদের মাথায় আসে না নির্ভাণ ভাই কিভাবে এটা জানলো? সানায়ার পা তখন থরথর করে কাঁপছিল। কিন্তু তবুও সানায়া বান্ধবীদের সাথে হেলে-দুলে সামনের দিকে পা ফেলে এলোমেলো।

—–

“সকালে খেয়ে স্কুল গেলি। ফিরে এসে দরজা বন্ধ করে বসে আছিস। রাত হয়েছে সে খবর আছে?”

সানায়ার ঘুম ভাঙে নিজের মায়ের হাঁক-ডাক শুনে, বাইরে থেকে মায়ের রাগান্বিত বিরক্তিকর সুর সানায়ার ঘুম উড়ে যায়। সে দ্রুত দরজা খুলে দিলো। আরোরা জাহান মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর স্বরে বললো,

“কী হয়েছে? দুপুরে খেতে যাসনি কেনো?”

মায়ের এমন ব্যবহার সানায়ার মন খারাপ হতো আগে। তবে এখন সে সয়ে নিতে শিখেছে। তাই তেমন খারাপ লাগে না মায়ের ব্যবহার।
দুপুরে ঘুমানোর পরপরই এসে কাজের খালা খাবার খেতে যাওয়ার জন্য ডেকে গেছিলো। সানায়া ইচ্ছে করে খেতে যায়নি। এই কথা জানতে পারলে মা আরও বকাবকি করবে। তাই সে মিথ্যা বললো,

“ঘুমিয়ে গেছিলাম আম্মু।”

“এখন খেতে আয়।”

“তোমার ভাইয়ের ছেলে এসছে আম্মু?”

মা নিজের কথা শেষ করে যখন চলেই যাচ্ছিল সানায়া পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো। আরোরা জাহান মেয়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে জানালো,

“না এখনো আসেনি।”

সানায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো আপাতত। ওই কাঠখোট্টা মামাতো ভাই আসার আগেই খাবার খেয়ে রুমে চলে আসতে হবে। সানায়া তাই মায়ের পেছন পেছন চললো।

—–

ডাইনিং টেবিলে বসে সানায়া আশেপাশে কেউ তেমন নেই। এই বাড়িতে রাত নয়টার মধ্যে সবার খাওয়াদাওয়া শেষ হয়ে যায়। এই বাড়ির নিয়ম এটা। এরপর খেতে এলে শুনতে হয় নানিজানের নানানরকম কথা। নানিজান না দেখে সানায়া স্বস্তি পেলো। তন্বী রহমান রান্না ঘর থেকে খাবার নিয়ে এসে সানায়ার পাশে চেয়ারে বসলো। ভাত মেখে মুখের সামনে ধরে বললো,

“জলদি খেয়ে নে।”

সানায়া মুখে খাবার নেওয়ায় আর কিছু বলতে পারলো না বড়ো মামনিকে। এই বাড়িতে মোট সদস্য পনেরো জন সানায়ার নানা মৃত জয়নাব সিদ্দিকীর ছেলেমেয়ে চারজন। এক মেয়ে তিন ছেলে। বড়ো ছেলে নিজাম সিদ্দিকী। ওনার স্ত্রী তন্বী। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। বড়ো ছেলে তাজওয়ার নির্ভাণ সিদ্দিকী। মেয়ে আফিয়া সিদ্দিকী। ডাক নাম আফি। মেঝো জন ফারাজ সিদ্দিকী। তিনি খুবই প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদ। ওনার এক ছেলে তুষার এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। আর স্ত্রী সর্জিনা বেগম।
সবার ছোট সানায়ার ছোট মামা নেয়ামত সিদ্দিকী তাদের এক ছেলে সেহের আর মেয়ে প্রিয়ম। সেহের এবার সেভেনে পড়ে। প্রিয়ম এইটে। বাড়িতে মেয়ে বলতে এই তিন কন্যা। সিদ্দিকী বাড়িতে তাদের খুবই আদর। এই বাড়ির বড়ো গিন্নি আমেনা খাতুন ছাড়া সবাই তাদের আহ্লাদ করে।

আর আরোরা জাহান। স্বামী আরফাত এহমাদ। যার আপাতত কোনো খোঁজখবর নেই। বেঁচে আছে না-কি মারা গিয়েছে কেউ জানে না। ওনারই একমাত্র কন্যা সানায়া এহমাদ। বিয়ের দেড় বছর পরেই আরফাত এহমাদ হঠাৎ উধাও হয়ে যান। এরপর বিয়ের সাড়ে তিন বছর আরোরা কে নিজের ভাইয়েরা জোর করে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। এবং ভাগ্নি এবং বোন কে কোনো কিছুর অভাবে রাখেনি। ছোট থেকে সানায়া মামা-মামী ভালোবাসা এবং কোনো কিছুর আর্থিক অভাব সে পায়নি। যার ফলস্বরূপ সানায়া একটু ছন্নছাড়া হয়েছে। তবে সবার আদরের হলেও সিদ্দিকী বাড়ির দুই সদস্য তাকে দুই চোখে দেখতে পারে না বলেই সানায়ার ধারণা।
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক বছর আরোরা জাহান স্বাভাবিক আচরণ করলেও ধীরে ধীরে তিনি কেমন খিটমিট হয়ে গেছে। এটা নিয়া কারোর অভিযোগ নেই। বরং সবাই সহানুভূতিশীল আরোরার প্রতি। আর মায়ের ব্যবহারে সানায়া ও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। একজন মানুষ যার হাত ধরে সারাজীবনের জন্য তার সংসারে গেছিলো সুখের আশায় সেই স্বপ্ন ভেঙে আরোরা জাহান এখনো যে ওই মানুষ টা ছাড়া নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে এটাই বা কম কিসে? রূপ-যৌবন সবই তো শেষ করলো ওই একটা মানুষের অপেক্ষায়।

“নবাবজাদী। আহ্লাদ দেখে বাঁচি না বাপু।”

সানায়ার খাওয়া প্রায় শেষ। আর খাওয়ার মাঝপথে আমেনা খাতুনের আগমন। পান চিবোচ্ছে ভদ্রমহিলা। লাল টকটকে ঠোঁট। সানায়া থতমত খেয়ে বড়ো মামির দিকে তাকালো। তন্বী রহমান ওকে ইশারায় চুপচাপ খেতে বলেন। সানায়া তাই করে। তবে খাওয়া শেষ হতেই সে নানিকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“নানিজান, আমি তো নবাবজাদী। তুমি কী নবাব বেগম?”

রসাত্মক স্বর সানায়ার। ঠোঁট টিপে পাশ থেকে হাসে তন্বী। আরোরা রান্না ঘর থেকে মেয়ের মুখেমুখে তর্ক শুনে এগিয়ে আসতে নিলেই তন্বী ইশারায় চোখ পাকাল। বড়ো ভাইয়ের বউকে কে আরোরা বেশ মানে। তাই আর এগিয়ে এলো না।

আমেনা খাতুন থমথমে চেহারায় পান চিবোতে থাকে। এই মেয়ের সাথে কখনোই ঝগড়া করা যায় না। কথা এমন ভাবে বলবে আর ফিরিয়ে কিছু বলাও যায় না। তিনি কিছু না বলে ওঠে রুমের দিকে চলে গেলো। শাশুড়ী যেতেই খিলখিল করে হেঁসে ওঠে বড়ো মামনি। আর ওনার মুখে হাসি দেখে সানায়া ও হাসে।

—–

“Gimme boy, Gimme boy
I’m your lady, I got here,
What you want, Feels so crazy
Gimme boy, Gimme boy
I’m your baby, I’m your ledy
I’m your girl, I’m your girl
I’m your mama”

“এই গানটাই তো গাইছিলি আজ, তাইনা?”

প্রশ্ন টা করার সাথে সাথে একটা থাপ্পড় ও সানায়ার গালে লাগিয়ে দিলো যুবকটা। সানায়া ব্যথায়, লজ্জায় ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। হ্যাঁ, এটা তারই কণ্ঠস্বর। লজ্জায় কান গরম হয়ে আসে। সে আস্তে করে ঢোক গিলে। স্কুলে গিয়ে সে আজ তাদের এক জুনিয়র ছেলে কে ডেডিকেট করে খেলার নিয়ম রক্ষার্থে এই গানটা গেয়েছে। আর এই স্কুলের ভেতরের খবর কিভাবে বাইরে নির্ভাণ ভাই পর্যন্ত পৌঁছে গেলো সানায়া ভেবে কুল-কিনারাহীণ।

“স্কুল গিয়ে এসব করিস মনি জানে?”

কাচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়ানো সপ্তদশী সানায়ার থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে নির্ভাণ এক কদম এগিয়ে এলো। খপ করে মেয়ে টার মোটা চুলের বেণীটা নিজের দানবীয় হাতের মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো। সাথে সাথে ব্যাথাতুর শব্দ করে সানায়া রেলিঙের সাথে সেঁটে গেলো।

“উত্তর দিচ্ছিস না কেনো? আনসার মি।”

নির্ভাণ ফের টানে মেয়ে টার চুলের গোছা। দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন চোখে তাকিয়ে আছে সানায়ার মুখের দিকে। নত করে রাখা দৃষ্টি যে লজ্জায় অশ্রুকণা টলটল করছে সেদিকে দৃষ্টি স্থির করে নির্ভাণ। সানায়া ছোট করে জবাব দেয়,

“না।”

“না? কিসের না? জানাব আমি, হুম?”

কঠিন স্বর যুবকের। চোখ দু’টো রাগে লাল হয়েছে। চোয়াল টা কাঁপছে। সানায়া ভয় পেলো সত্যি। বলে দিলে তার রক্ষে নেই। মা তাকে মেরে ফেলবে। সানায়া নিজেকে শান্ত করতে চায়। লম্বা নিঃশ্বাস টানে চোখ বন্ধ করে। পরপরই নির্ভাণ ভাই কে উদ্দেশ্য করে অনুনয় করে,

“ভাইয়া না প্লিজ।”

নির্ভাণ কিছু বলার আগেই পকেটে থাকা ফোন টা সশব্দে বেজে ওঠে। আর নির্ভাণের চেহারার রঙ সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। রাগ সরে গিয়ে বিরক্তি দেখা দেয়। নিজের হাতের মুঠোয় থাকা সানায়ার চুল ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে সতর্ক বাণী ছুঁড়ে দিলো,

“এসব যেনো নেক্সট টাইম আর না হয়। মাইন্ড ইট। নাউ গেট আউট।”

ছাড়া পেতেই সানায়া পেছনে সরে গেলো। লজ্জা সংকোচহীনতে মাথা নাড়ে দুই দিকে এবং ত্রস্ত পায়ে ছাঁদ থেকে নেমে গেলো। যাওয়ার আগে অবশ্য একবার পেছনে তাকিয়ে দেখে নিলো। নির্ভাণ ভাই ফোনে কথা বলছে। সব সময়ের মতোই গুরুগম্ভীর ভাবভঙ্গি মুখের। সানায়া যা দেখে মুখ ভেংচি কাটে। এতো রাতে নিশ্চয়ই একটা ছেলে আরেকটা ছেলে কে কল করবে না। শয়তান বেটা৷ নিজের গার্লফ্রেন্ড ও আছে। জীবনে সব আছে। স্বাধীনতা, যা ইচ্ছে তিনি সব করতে পারবে। শুধুমাত্র তার বেলায় এসে এই শয়তান যুবক যতোসব উদ্ভট নিয়ম আছে সব চাপিয়ে দিবে। সানায়া দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। সে-ও স্বাধীনতা চায়। নিজের মতো করে জীবন পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু এটা এই শয়তানের জন্য কোনো দিন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

“আরেহ রাগিস না শ্লা। বাচ্চা মেয়ে। এখন ঠিকবেঠিক বোঝার বয়স হয়নি।”

ফোনের ওপাশ থেকে তিয়ান নির্ভাণের রাগের আভাস পেয়ে বললো। নির্ভাণ সাথে সাথে গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো,

“যার হয় নয় বছরে হয়। যার হয়না তার নব্বই বছরে ও হবে না। ষ্টুপিড একটা।”

“হয়েছে রাগ দেখাস না। শান্ত হ। একটা ইনফরমেশন দেয়ার ছিলো।”

“বল।”

নির্ভাণের গম্ভীর স্বর। ওপাশে কিছু সময় চুপ করে রইলো তিয়ান। যেনো কথা গোছাচ্ছে। আর নির্ভাণ যেনো কিছু টা আচ করতে পারে সেটা। তাই তেমন আগ্রহ দেখা গেলো না।

“ফারাজ সিদ্দিকী বাড়াবাড়ি করছে। খবর পেয়েছি আমি।”

কথাটা শোনার পরপরই নির্ভাণের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। আর চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করতে চেষ্টা করলো। কিন্তু লাভ হলো না। ভার্সিটির প্রোগ্রামের জন্য সারাদিন দৌড়াদৌড়ি ওপর ছিলো সে৷ একটা শাওয়ার নিয়ে ঘুম না দিলে এই চড়া মেজাজ ঠিক হওয়ার নয় আর। সে এব্যাপারে পরে ভাববে। যেহেতু বাড়িতেই আছে মেঝো আব্বুর সাথে কথা বলা যাবে।

“খাবে এসো।”

সে সিঁড়ি বেয়ে করিডরে পৌঁছাতেই মায়ের আগমন। হয়তো ছেলের রুমের দিকেই যাচ্ছিলেন। নির্ভাণ মাকে দেখে থামল। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

“খেয়ে এসছি। তুমি যাও ঘুমিয়ে পড়ো। আমি এখন রুমে যাচ্ছি। সকালে কেউ ডাকবে না আমায়।”

নির্ভাণ কথা শেষ করে নিজের রুমের উদ্দেশ্য হাঁটতে থাকে। পেছন থেকে তন্বী রহমান ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিছু সময়। রাত সাড়ে এগারো টার বেশি বাজে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তন্বী রহমান নিজেও রুমের দিকে গেলেন।

#চলবে……

#আপনার_হৃদয়ে_আমি
#সূচনা_পর্ব
#জান্নাত_সুলতানা

[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here