হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পার্ট:18

0
33

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পার্ট:18
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

আকাশের রং স্থির,দুঃস্বপ্নের চাদরে ঢাকা,ঘন কালো আকাশের নিচে ঝুলে আছে এক ক্ষুদ্র প্রান।যার বুকটা টিপটিপ করছে।প্রতিটি নিঃশ্বাস সংকেত পাঠাচ্ছে তার মস্তিষ্কে, কোন এক ভয়ংকর বিপদ অথচ অন্ধ মেয়েটা উপলব্ধি করতে পারছে না।ক্ষীন প্রান শিকলবন্দী ত্রিজয়ের হাতের মুঠোয়,ছেড়ে দিলেই উড়ে যাবে, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে পথহারা গন্তব্য,যানা হবে না অমিমাংসিত সেই অধ্যায়ের গল্প।

নিস্পাপের মনে ভয়,অথচ সমগ্র মুখ জুড়ে তার তেজের স্ফুলিঙ্গ।মনের ভয়টুকু নিশ্চুপে নিঃশ্বব্দে কাবু করে রেখেছে সে।কিন্তু কোন এক কারনে ভঙুর হয়ে যাচ্ছে সমস্ত সাহস, ভেতরকার অসহায় আত্মাটা ছটপটিয়ে উঠছে বারবার, চিৎকার করে বলছে “তুই অন্ধ নিস্পা, বাস্তবতার শিকলে বাঁধা তুই।”

ভয় আর সাহসের নিরব যুদ্ধে দিশেহারা মেয়েটা কাঁদছেও না,কন্ঠে দৃঢ়তা টানার প্রয়াস চালিয়ে বললো,

“আমি কোথায়?আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে কেনো?”

“আপনি কোথায় একটু পড়েই যানতে পাড়বে,আপনাকে নিয়ে আসা হয়েছে আমার স্যার, মানে ত্রিজয় তেজকে বিয়ে করার জন্য।”

ইভানের উত্তরটা ঝনঝনিয়ে বাজলো নিস্পার কানে, নিস্পা আতংকিত কন্ঠে বললো,

“অসম্ভব! একটা অচেনা লোককে আমি বিয়ে কেনো করবো?আমি কিছুতেই বিয়ে করবো না।”

নিস্পার কথা শুনে মুচকি হাসলো ত্রিজয়, ছাদে এসে দাঁড়িয়েছে পর্যন্ত প্রায় চার টা সিগারেট খাওয়া শেষ।পাঁচ নাম্বার সিগারেট টা ধরাতে ধরাতে বললো,

“তোমার মতামতের প্রয়োজন বোধ করলে তুলে আনতাম না মেয়ে।”

ত্রিজয়ের কথা শুনে রেগে উঠলো নিস্পাপ,তিক্ত কন্ঠে বললো,

“আমাকে বিয়ে করতে হলে অবশ্যই আমার মতামত জানতে হবে মিস্টার ।হটাৎ করে তুলে নিয়ে এসে হুমকি ধমকি দিয়ে বলছেন বিয়ে করবেন,মামা বাড়ির আবদার পেয়েছেন নাকি?আমাকে কি মনে হয় আপনার? বিয়ে করবেন বললেন আর আমি ওমনি নাঁচতে নাঁচতে বিয়ে করে নিবো?অসম্ভব। মরে গেলেও আমি বিয়ে করবো না।”

ত্রিজয় অকস্মাৎ হাতটা ছেড়ে দিলো নিস্পাপের,গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“তো মরে যাও, আই ডোন্ট কেয়ার।”

নিস্পা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো, ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে গেলো সতেরো তলা ছাদের উপর থেকে।
তবে কি সবশেষ! নির্দয় জালিম পুরুষ কি পূনর্জন্মের ইতি এভাবেই টেনে দিলো।নিজের নির্মমতার পরিচয় দিয়ে দিলো এই জনমেও,ফ্লোরেন্সা কি আর সুযোগ পেলো না?মানুষরুপি জানোয়ারের বুকে হৃদয় স্থাপন করার সুযোগ বুঝি অচিরেই শেষ হয়ে গেলো?

উঁহু, বিধাতা হয়তো এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু লিখে রেখেছে।তাইতো মেয়েটা মরতে মরতেও বেঁচে গেলো,সতেরো তলার বিভীষিকাময় পতনের ঠিক শেষ মূহুর্তে নিস্পার তুলতুলে নরম হাতটা শক্ত করে ধরে ফেললো ত্রিজয়।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসাটা এখন হয়ে পড়লো আরেকটু নির্মম যন্ত্রনাদায়ক।সতেরো তলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ঝুলে থাকা শরীর টা কাগজের মতোই হালকা লাগলো।নিস্পাপ নিজেকে সামলাতে পারলো না, পরিস্থিতির চাপে ভঙুর হৃদয়টা আরেকটু ভেঙে গেলো এবার, হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

“আমাকে বাঁচতে দিন প্লিজ।আমি বাঁচতে চাই,আমার অনেক স্বপ্ন দেখা বাকি, আমার স্বপ্ন গুলো এভাবে শেষ করে দিবেন না দয়া করে।”

ত্রিজয়ের ঠান্ডা নির্দয় দৃষ্টিতে নেই কোন অনুশোচনা, তার নীল চোখের মনি এক কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ,যে শৃঙ্খল থেকে নিস্পার মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই।সে শান্ত সাবলীল ভঙিতে একহাতে নিস্পাকে ধরে রেখে আরেকহাতে সিগারেট টানছে, পরম তৃপ্তিতে পোড়া তামাকের ধোঁয়ার কুন্ডলি উড়িয়ে দিচ্ছে খোলা বাতাসে।

ত্রিজয়ের শান্ত, সাবলীল ভঙ্গি নিস্পার অসহায়তাকে আরও জোরালো করে তুললো। তার শক্ত হাতে ধরা নিস্পার নরম, কাঁপতে থাকা আঙুলগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিলো, বেঁচে থাকাটা কখনো কখনো মৃত্যুর চেয়েও কঠিন। এই অমানবিক নির্মমতার জাতাকলে,নিস্পার চোখে লুকিয়ে থাকা অদম্য জেদ পরিনত হলো অসহায়ত্বে,ঝলসে গেলো সিগারেটের ধোঁয়ায়।

নিস্পাপের এমন পরিনতি দেখে হাঁটু কাঁপছে মধ্য বয়স্কা কাজীর।কলিজা টা গলে পানি হয়ে গিয়েছে মনে হয়।একটু এদিক সেদিক হলেই পেন্ট ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।ভয়ে আতংকে গলা শুকিয়ে কাঠে পরিনত হয়েছে তার।সুট বুট পড়া লোক দুটোর নির্মমতার প্রমান পেয়ে, হারে হারে উপলব্ধি করতে পেরেছে এদের দয়া মায়া বলতে কিছু নেই।

ত্রিজয় ঠান্ডা, অবজ্ঞা মূলক দৃষ্টিতে তাকালো কাজীর দিকে, ভরাট কন্ঠে বললো,

“বিয়ে পড়ানো শুরু করুন।”

কাজী এবার ভিষণ ভাবে বিব্রত হলো,আর চোখে তাকালো হাওয়ায় ঝুলে থাকা নিস্পাপের দিকে।অত:পর শুখনো ঢোক গলধঃকরণ করে বললো,

“বাবা,না মানে স্যার,বউকে ঝুলিয়ে রেখে কিভাবে বিয়ে পড়াবো?এভাবে তো বিয়ে পড়ানো যাবে না।”

ত্রিজয়ের চোখে মুখে প্রতিক্রিয়া নেই,শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো ইভানের দিকে,হুকুমের স্বরে বললো,

“ফেলে দেও ইভান।”

আঁতকে উঠল কাজী,বিদ্যুৎ গতিতে বললো,

“যাবে, যাবে,যেকোন ভাবেই বিয়ে পড়ানো যাবে।ছাদে, গাছে, এমনকি টিনের চালে ঝুলে থাকলেও বিয়ে পড়ানো যাবে। আমি শুরু করছি স্যার।”

কাজীর কথা শুনে পিক করে হেঁসে দিলো ইভান,পরপরই ত্রিজয়ের দিকে তাকিয়ে শক্ত করলো মুখাভঙ্গি,গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“দ্যাটস গুড।”

_____

বিয়ে পড়ানোর কাজ শুরু করেছে কাজী,কাবিন নামা লেখার সময় কলম থামালো কাচুমাচু ভঙিতে, উসখুস করতে করতে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,নরম, ভয়াতুর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“দেনমোহর কত লিখবো স্যার?”

“এক পয়সাও না।এই কানা তাকরিমের সম্পত্তি,আমি কেড়ে নেওয়ার জন্য বিয়ে করছি, কিনে নেওয়ার জন্য নয়।”

কাজী গলা পরিস্কার করে ভয়ে ভয়ে বললো,

” ইয়ে মানে বিয়ের তো একটা নিয়ম আছে স্যার, দেনমোহর ছাড়া আমি বিয়ে কিভাবে পড়াবো?”

ত্রিজয় প্রতিক্রিয়া বিহীন তাকালো ইভানের দিকে, ইভান নরম দৃষ্টিতে ইশারা করলো কিছু একটা,ত্রিজয় সম্মতি জানিয়ে বললো,

“এক টাকা লিখে দিন,এই কানার বাচ্চার জন্য এর চেয়ে বেশি টাকা হোল্ড আপ করার ইচ্ছে আমার নেই।”

___________

প্রায় কয়েকবার বলার পরেও নিস্পাপ মুখ দিয়ে টু শব্দ বের করলো না,নিজের জেদে অটুট থাকার পণে নেমেছে সে।যাই হয়ে যাক কোন অবস্থাতেই কবুল বলবে না।যদি এই সতেরো তলা ছাদ থেকে পড়ে মরে যাওয়াই তার ভাগ্যে থাকে তবে তাই হোক, নিজের ভাগ্যকে না হয় কবুল করে নিবে নির্দিধায়,তবুও অচেনা অজানা একটা জানোয়ারকে কিছুতেই কবুল করবে না।

ত্রিজয়ের শক্ত হাতের মুঠোয় নিস্পার নরম, অবশ হাতটা এখনো একইভাবে ঝুলে আছে। সতেরো তলার ভয়াবহ উচ্চতা থেকে নিচের দিকে ঝুলতে ঝুলতে নিস্পার বুকের ভেতরটা চিৎকার করে উঠছে। মৃত্যুর চেয়েও ভয়ানক হয়ে উঠেছে প্রতিটি মুহূর্ত।

দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে ঝুলে থাকার কারণে নিস্পার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে এসেছে। পা দুটো অনুভূতিশূন্য হয়ে মাটির দিকে টানছে। হাতের রগগুলো টানটান হয়ে তীব্র ব্যথায় ছিড়ে আলাদা হয়ে যাবার উপক্রম।

বুকের ভেতরের চাপা ভয় আর আতঙ্ক টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে নিস্পার নিঃশ্বাসগুলো,ঘন ঘন দম নিয়ে নিস্পাপ অসহায় কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,

“হাত ছেড়ে দিন আমার, মরে যাবো কিন্তু আপনাকে স্বীকার করবো,আমি এই বিয়ে করবো না।”

ত্রিজয়ের নীল চোখের কঠোর শীতলতায় বিন্দুমাত্র করুণার ছাপ নেই।মুহূর্তটা তার কাছে নিছকই এক খেলা, আর নিস্পা সেই খেলারই একটি অংশ।সে একই ঠান্ডা, স্থির ভঙ্গিতে নিস্পার জীবনটাকে একহাতে ধরে রেখে অন্য হাতে সিগারেটের শেষ অংশটুকুর ধোঁয়া ছাড়লো অন্ধকার আকাশের বুকে ,তারপর ঠান্ডা কন্ঠে ইভানের উদ্দেশ্যে বললো,

“আমার মনে এক অদ্ভুত ইচ্ছে জেগেছে ইভান।”

ইভান কপাল কুচকালো, অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,

“কি ইচ্ছে স্যার?”

ত্রিজয় অদ্ভুত ভঙিতে তাকালো সিগারেটের পুড়ে যাওয়া শেষ অংশটুকুর দিকে, তারপর ধীরে ধীরে হাতটা এগিয়ে নিয়ে আগুনের উল্কা টুকু চেপে ধরলো নিস্পাপের হাতের উপর।আগুনের ছ্যাঁকা লাগতেই নিস্পাপ তড়পিয়ে উঠলো, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলো,

“ওহ আল্লাহ গো।”

ত্রিজয় বাঁকা হাসলো, চোখ বন্ধ করে খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নিলো তৃপ্তি সহকারে,শান্ত কন্ঠে আদেশ করলো,

“কবুল বলো সুইটহার্ট।তোমাকে মারলেও আমার লাভ, বাঁচিয়ে রাখলেও আমার লাভ।এমপি মশাই দুটোতেই তড়পাবে।ভয় দেখাচ্ছি ভেবে সাহস দেখাতে যেও না।”

নিস্পা দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো,মরে যাওয়া যতটা না সহজ, মৃত্যু যন্ত্রণা তার চেয়েও বেশি কঠিন।আর সেটা যদি দেওয়া হয় থেকে থেকে,তড়পিয়ে তড়পিয়ে তখন সে যন্ত্রণা মৃত্যুকেও ছাপিয়ে যায়,রুহ টা ছটপট করতে শুরু করে, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার তাড়নায় লোপ পায় বিবেক বুদ্ধি,মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করার জন্য যে কোন সীদ্ধান্ত নিতে পারে অনায়াসে। নিস্পার মুক্তির প্রতিটি সেকেন্ড এখন ত্রিজয়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

আর এক সেকেন্ডও ভাবার সময় পেলো না নিস্পা, অসহ্যকর যন্ত্রনা গিলে নিয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরলো লাল টকটকে অধর, চিৎকার করে বললো,

“নরপিশাচের বাচ্চা,,, কবুল,কবুল, কবুল।”

___________

ঘন অন্ধকার রাতের মতোই অবর্ননীয় অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে তাকরিমের জীবন।আকাশের তারা খসে পড়ার মতোই তার জীবন থেকে নিস্পাপ নামক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ার আশঙ্কায় জর্জরিত হয়েছে হৃদয়।

নিস্পাপের বাড়িতে গিয়েছিলো দু চোখের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য, অথচ নিস্পাপকে না পেয়ে সে দু চোখের তৃষ্ণা বেড়েছে মহাসমুদ্রের ঢেউয়ের মতো।তাকরিম কি করবে বুঝতে পারছে না, তার সামনে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে,মনে পড়ে যাচ্ছে প্রিন্স জোসেফের বলা শেষ কথাটা,

“আমি আরো একবার ফিরবো,এ জন্মে না হোক পূনর্জন্ম, আমি পূনরায় ফিরবো ব্লু ব্লাড গার্ল।”

সেই সাথে ভেসে এলো ফ্লোরেন্সার কাঁপা কন্ঠের শেষ বুলি,

“যদি ফেরা হয় কভু,
তবে ফিরি যেনো দাড়কাক হয়ে।
ছোয়ার আগেই মেলবো ডানা,
হারিয়ে যাবো দূর গগনে।”

“হারাবি না আলেকজান্দ্রা, তুই কোথাও হারাবি না।”

নিজের চিৎকারে নিজেই হতচকিত হলো তাকরিম।বেড়িয়ে এলো ভাবনার জগৎ থেকে,চোখের সামনে অনুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই নিয়ন্ত্রণ হারালো মস্তিষ্ক, ক্ষেপে গিয়ে শক্ত হাতের থাবায় চেপে ধরলো অনুরিকার গলা, ক্রোধিত কন্ঠে বললো,

“আমার আলেকজান্দ্রার কোন ক্ষতি হলে আমি কিন্তু তোকে জানে মেরে দিবো।”

গলায় চাপ পড়তেই দম বন্ধ হয়ে এলো অনুর,চোখ দুটো বড় বড় হয়ে কোটর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম, কি করবে বুঝতে না পেরে খামচে ধরলো তাকরিমের লোমশ হাত,ধারালো নখ গেঁথে দিলো তাকরিমের নরম চামড়ায়,দাঁতে দাঁত চেপে হ্যাসহ্যাসিয়ে বললো,

“নিস্পার এই অবস্থার জন্য আপনি দায়ি,আপনার শত্রুই নিস্পাকে কিডনাপ করেছে,অযথা আমাকে ব্লেইম করা বন্ধ করুন।”

তাকরিম গিজগিজ করে কিছু বলতেই যাবে ঠিক তক্ষুনি ঘরের ভেতর থেকে ভেসে এলো চিত্রার আর্তনাদ,

“স্যার,,,,”

তাকরিম অনুর গলা ছেড়ে দিয়ে দ্রুত দৌড়ে গেলো ভেতরের দিকে।চিত্রা ততক্ষণে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে,তাকরিম পরিস্থিতির ভয়াবহতা আন্দাজ করে এগিয়ে গেলো ফুলমতির ঘরের সাথে লাগোয়া বেলকনির দিকে।বেলকনিতে পা রেখেই পুরো পুরি স্তব্দ হয়ে গেলো সে, স্মৃতির চিলেকোঠায় ভেসে উঠলো 1947 সালের অমীমাংসিত লাশের দৃশ্য।চোখের সামনে একটা যুবতী মেয়ের কাটা মাথার লাশ স্পষ্ট স্মরণ করিয়ে দিলো আগের জন্মের ঘটে যাওয়া নিসংসতার কথা।তাকরিম দুই ঠোঁট হা করে তাকিয়েই রইল সেদিকে, বিরবির করে আওড়ালো,

“তবে কি তখনকার খুনগুলোর খুনি ফ্লোরেন্সা নিজেই ছিলো?”

চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here