হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:17

0
37

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:17
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

রাত প্রায় নয়টার ঘর ছুয়েছে।আবছা অন্ধকার ঘরের জানালা দিয়ে সাইসাই করে প্রবেশ করছে হিমেল হাওয়া।ত্রিজয়ের উড়িয়ে দেওয়া সিগারেটের ধোঁয়া বারবার গিয়ে ঢুকে যাচ্ছে ইভানের নাসিকাগ্রন্থের দুটো ছিদ্রপথ বরাবর।ইভান দাতে দাত চেপে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এমন অবস্থায় তার ঠিক কার প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করা উচিত সেটাই বুঝতে পারছে না।ত্রিজয়কে তো কিছু বলার সাহস তার নেই, তাই অগত্যা বাতাসকেই দু একটা গালাগাল দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সটান হয়ে।

ত্রিজয় চুপচাপ শেষ করলো সিগারেটের সম্পূর্ণ অংশ,অত:পর প্রতিদিনের মতোই ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিয়ে ভিজিয়ে নিলো গলা, নিস্পল তাকালো ইভানের দিকে, ক্ষীণ কন্ঠে জিজ্ঞেস বললো,

“কিছু শব্দগুচ্ছ ছাড়া আমার স্মৃতিতে সব ঝাপসা,
যেনো কেউ ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছে এক একটা কল্পনা।”

ত্রিজয়ের হেয়ালি কথায় ক্ষানিক ভ্যাবাচেকা খেলো ইভান, ঝটপট বললো,

“কি বললেন স্যার?সব তো আমার মাথার উপর দিয়ে চলে গেলো।”

ত্রিজয় ঠোঁট বাকালো কেবল,হাসলো কিনা বুঝা গেলো না,প্রসঙ্গ পাল্টে ফের বললো,

“পূনর্জন্মে বিশ্বাস করো তুমি?”

ত্রিজয়ের অদ্ভুত প্রশ্নে দ্বিতীয়বারের মতো ভ্যাবাচেকা খেলো ইভান, বললো,

“এই যুগে এসে এসব বিশ্বাস করা মানে সময় নষ্ট করা।আমার এসবে বিশ্বাস নেই স্যার।”

“আমার দাদা একটা ভবিষ্যৎ বলে গিয়েছিলেন,আমার নাকি পূনর্জন্ম হয়েছে, আর এমপি তাওসিফ তাকরিমের সাথে আমার শত্রুতা নাকি আমাদের ভাগ্যের অনিবার্য অংশ হয়ে থাকবে চিরকাল।”

“আপনি বলতে চাইছেন আপনার দাদার কথা বিশ্বাস করেছেন আপনি? আপনার সত্যিই পূনর্জন্ম হয়েছে।”

“এটা 2024 সাল ইভান।এসব কাল্পনিক বিষয় বস্তু কি বিশ্বাস করার যোগ্য?”

“কিন্তু আপনি তো বললেন আপনার দাদা আপনার ভবিষ্যৎ বলে দিয়েছে।এবং সেই হিসেব অনুযায়ী সব মিলে গিয়েছে। এমপির সাথে আপনার শত্রুতা,তারপর একটা মেয়ে ঘটিত সংঘাত, এতোগুলো বিষয় কি কাকতালীয় ধরা যায় স্যার ?”

“যেহেতু পূনর্জন্মের প্রতি আমার কোন বিশ্বাস নেই, সেহেতু এ সবকিছু কাকতালীয়ই বলা যায়।”

“কিন্তু স্যার,,,” হাত উঁচিয়ে ইভানকে থামিয়ে দিলো ত্রিজয়।ইভান চুপ করে গেলো, কিছুক্ষণ কাচুমাচু করে, আবারো সটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো চুপচাপ।

ত্রিজয় বেশকিছুক্ষন হেলান দিয়ে বসে রইলো চেয়ারে, চোখ বন্ধ করে ভাবলো কিছু একটা, তারপর বললো,

“মেয়েটাকে খাবার দিয়েছো?”

“দিয়েছিলাম স্যার, কিন্তু মেয়েটা খুব জেদি,এক ফোটা পানিও মুখে তুলে নি।”

ইভানের কথা চুপচাপ শুনলো ত্রিজয় অস্ফুটে আওড়াল,
“জেদ?নাকি তেজ?কিন্তু দুটোর একটাও তো এই অন্ধ মেয়েটার জন্য নয়।”

ত্রিজয়ের কথায় মুচকি হাসলো ইভান,গলা পরিস্কার করে বললো,
“সরি টু সে স্যার,মেয়েটা কিন্তু তার অন্ধত্ব দিয়েই আপনাকে প্রথমবারের মতো হারিয়ে দিয়েছে।”

কপাল কুচকালো ত্রিজয়,চোখ ছোট ছোট করে তাকালো ইভানের মুখের দিকে,সন্দিহান কন্ঠে বললো,

“কি বুঝাতে চাইছো তুমি?”

ত্রিজয়ের শানিত দৃষ্টির খপ্পরে পড়তেই মিইয়ে গেলো ইভান,ঠোঁট টিপে শুখনো ঢোক গিলে বললো,

“না মানে স্যার,মেয়েটা অন্ধ বলেই আপনি তাকে সম্মোহন করতে পারলেন না।এটা তো আপনার হার তাই না?”

ইভানের কথাটা তেতো হলেও সত্যি,সত্যিই সে ওই অন্ধ মেয়েটাকে সম্মোহন করতে পারে নি,উল্টো ওই মেয়ের চোখের গভীরে যতবার তাকাতে চেয়েছে ততবারই ঝাপসা হয়ে এসেছে চারপাশ,যেনো মেয়েটার ওই চোখে এক অদ্ভুত শক্তি বা কোন রহস্যময় আকর্ষণ আছে, যা তাকে বশ করে নিতে চাইছিলো, ভিষণ বাজেভাবে ডুবিয়ে দিতে চাইছিলো এক অস্বচ্ছ স্মৃতির পাতায়।

ত্রিজয় তাকাতে পারে নি, বেশিক্ষণ তাকাতে পারে নি ওই মায়াবী চোখের মালকিনের দিকে,সে চোখ ফেরাতে বাধ্য হয়েছে, নাকোচ করেছে তার অসাধু উদ্দেশ্য।না চাইতেও পরাজিত হয়েছে, এক অসহায় অন্ধ মেয়ের কাছে।
এমন অপমান জনক বিষয় টা যতবারই ভাবে, চোখ বন্ধ হয়ে আসে ত্রিজয়ের, কানের কাছে বাজতে থাকে কোন এক রমনীর তিক্ততা মিশ্রিত স্বর,

“পূনর্জন্ম বলে যদি কিছু হয়,
তবে যেনো আমি দৃষ্টি হারাই।
আপনার বিশাক্ত চাহনির প্রতিঘাত,
আমার অন্ধত্ব দিয়েই করতে চাই।”

বারবার একই শব্দ শুনতে শুনতে ধৈর্য হারালো ত্রিজয়, প্রচন্ড ক্ষোভে ওয়াইনের গ্লাস টা আছড়ে ফেললো হাত থেকে।আক্রোশের সহিত চিৎকার করে উঠলো,

“ত্রিজয় হারবে না ইভান, ত্রিজয় কেবল জিততে ভালোবাসে।জান্নাতকে হারানোর পর ত্রিজয় হারার কথা ভুলে গিয়েছে,ত্রিজয় জিতবে ইভান। এমপির সাথেও জিতবে আর ওই অন্ধ মেয়েটার সাথেও জিতবে।”

ত্রিজয়ের হটাৎ রেগে যাওয়ায় বেশ ভয় পেলো ইভান,তবে গুটিয়ে গেলো না,ত্রিজয়কে সামলে নিতে বললো,

“কুল ডাউন স্যার, এতো বেশি হাইপার না হয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন।পরবর্তী চাল কিভাবে ফেলবেন সেটা ভাবুন।মেয়েটাকে তুলে তো এনেছেন, কিন্তু কি করবেন ভেবেছেন কিছু?”

ত্রিজয় শান্ত হলো তবে উত্তর দিলো না, চুপ করে গেলো ফের।ইভান একটু ভয়ে ভয়ে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,তারপর গলার স্বর নিচু করে জিজ্ঞেস করলো,

“মেয়েটাকে কি আপনি মারার প্লেন করছেন স্যার?না মানে এমপি যেভাবে আমাদের স্পাইয়ের কাটা মাথা পাঠালো, আপনিও কি একইভাবে,,,,

ত্রিজয়ের ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেখা ফুটে উঠতেই থেমে গেলো ইভান।অস্ফুটে বললো,
” স্যার,,,,

“আমি এর চেয়েও বাজে গেম খেলবো ইভান।” অদ্ভুত রহস্যময় কন্ঠে বললো ত্রিজয়।

“কি করতে চাইছেন স্যার?”

ত্রিজয় ধপ করে চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো,ধির কদম এগিয়ে নিয়ে দাড়ালো ভেঙে যাওয়া ওয়াইনের গ্লাসের কাছে,ভাবলেশহীন ঝুকে বসলো কিছুটা, কাচের গ্লাসের ভাঙা টুকরোতে স্পষ্ট ফুটে উঠলো তার নীল নেত্রমনি,সে অদ্ভুতভাবে এগিয়ে নিয়ে হাতের মুঠোয় চেপে ধরলো একটি কাচের টুকরো,ফিসফিসিয়ে বললো,

“আই উইল মেরি ইভান,মেয়েটাকে বিয়ে করে তিলে তিলে মারবো এমপি তাওসিফ তাকরিমকে।”

ত্রিজয়ের কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো ইভান,হতহ্বিবল হয়ে বললো,
“স্যার আপনি ভেবে কথা বলছেন তো?প্রতিশোধ নিতে হলে বিয়েই কেনো করতে হবে?তারউপর মেয়েটা অন্ধ।”

“সো হোয়াট? খেলা তো ইকুয়েল ইকুয়েল হলে চলবে না ইভান, ত্রিজয় সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকে।ওই এমপি আমার জান্নাতকে কেড়ে নিয়েছে, আর আমি ওর জানপাখি কেড়ে নিবো।”

____________

সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে নিস্পাপের ছোট্ট স্টলটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো তাকরিম।কিন্তু নিস্পাপের দেখা মিলে নি একবারের জন্যও।দুপুর গড়িয়ে বিকেল, আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলো,সাত পাঁচ না ভেবেই সোজা উপস্থিত হলো নিস্পাপের বাড়িতে।
সদর দরজা খোলা দেখেই ভেতরে পা বাড়ানোর জন্য উদ্যত হলো তাকরিম।ডান পা এগিয়ে দেওয়া মাত্রই পেছন থেকে ডেকে বসলো তাকরিমের পিএ চিত্রা,

“স্যার,,,”

বাড়িয়ে দেওয়া পা গুটিয়ে নিয়ে দাড়ালো তাকরিম,পেছনে তাকিয়ে দেখলো চিত্রাকে,প্রশ্নবোধক দৃষ্টি তাক করতেই মেয়েটা ভয়ে কাচুমাচু করে উঠলো, নড়েচড়ে বললো,

“না মানে কারো বাড়িতে নক না করে ঢুকে যাওয়া কি ঠিক হচ্ছে?”

“আমাকে ঠিক ভুল শেখাচ্ছ?”

তাকরিমের চাপা কন্ঠে চিত্রা আরেকটু চুপসে গেলো, চিবুক নামিয়ে বললো,

“না স্যার, এতোবড় স্পর্ধা বা যোগ্যতা আমার নেই।শুধু বলতে চাইছিলাম বাড়িতে তো তিন তিনটে মেয়ে থাকে তাই আরকি প্রাইভেসির একটা বিষয় তো থাকতেই পারে।”

“ওরা নিজেদের প্রাইভেসির কথা চিন্তা করলে ডোর খোলা রাখতো না নিশ্চয়ই।আর এই ঘরে যে থাকে সে আমার সম্পত্তি,তাকে যে কোন পরিস্থিতিতে দেখার রাইট আমার আছে,কোন প্রাইভেসির দরকার পড়বে না।”

“এতো ভালোবাসেন?”

“ভালোবাসার চেয়েও বেশি ভালোবাসি।”

চিত্রা গভীর ভাবে তাকালো তাকরিমের দিকে, লোকটা ভিজে চুপচুপে, ভেজা চুল থেকে টুপটাপ করে পড়ছে পানির ফোটা,সাদা পাঞ্জাবি টা লেপ্টে আছে সুডৌল বুকের সাথে।হয়তো ভেজা কাপড় টাও নিঃশ্বব্দে অনুভব করছিলো হৃদয়ের স্পন্দন। ভেজা চোখের পল্লবে কতশত অনুভুতির আঁকিবিকু,ঝমঝম বৃষ্টি হাজার চেষ্টা করেও সে অনুভুতি মুছতে পারে নি, চিত্রা অবাক হয় আরেক দফা, যখন মনে পড়ে যায় নিস্পাপ অন্ধ।একটা সাধারণ অন্ধ মেয়ের জন্য এমপি তাওসিফ তাকরিমের এই অগাধ ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে অবাক না হয়ে কি থাকা যায়।

চিত্রা শুখনো ঢোক গিললো,তাওসিফের ভালোবাসা প্রকাশে মুগ্ধ হয়ে, আবেগি কন্ঠে বললো,

“ভালোবাসলে বৈরাগি হতে হয় এমপি মশাই।”

তাকরিম মুচকি হাসলো, চোখে পল্লব ঝাপটালো দুবার, হাতের তালু দিয়ে মুছে নিলো মুখের উপর লেপ্টে থাকা পানির ফোটা,মোহিত কন্ঠে উত্তর দিলো,

“আমি সেই সীমা অতিক্রম করে মৃত্যুর কয়েদি হয়েছি।”

__________

সতেরো তলা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের ছাদ,সময় দশটার কাছাকাছি।রাতের আকাশ পুরোপুরি অন্ধকার।চাঁদ নেই,নেই তারাদের আসর।প্রকৃতিতে কেমন একটা থমথমে ভাব বিরাজমান।হিমেল বাতাস গায়ে কাটা তুলছে মধ্য বয়স্ক সাদা পাঞ্জাবি টুপি পড়া লোকটার।

চারপাশের নিস্তব্ধতা বেধ করে লোকটার নিঃশ্বাসের শব্দটাও শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট।ভয়ে হাঁপাচ্ছে লোকটা,ঘন ঘন তাকাচ্ছে সতেরো তলা বিল্ডিংয়ের নিচের দিকে।ছাদের প্রায় কিনার ঝুকে দাঁড়িয়ে আছে সে,তার একটা হাত চেপে ধরে আছে ইভান,হাতটা ছেড়ে দিলেই সোজা ছাদ থেকে নিচে পরে যাবে যাবে অবস্থা।ভয়ে লোকটা থরথর করে কাঁপছে,ভেজা কন্ঠে বলছে,

“তোমরা কারা বাবা?আমাকে এভাবে তুলে কেনো এনেছো?আমাকে মেরে তোমাদের কি লাভ?”

“আপনাকে মেরে আমাদের কোন লাভ নেই।” সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলো ইভান।

লোকটার মুখে অপ্রত্যাশিত উজ্জ্বলতা ফুটে উঠলো, চটপট বললো,

“তাহলে আমাকে যেতে দেন দয়া করে,আমার বউ আমার জন্য ইলিশ মাছ রান্না করে বসে আছে।”

“কিন্তু আপনার তো ইলিশ মাছ খাওয়া হবে না।”

ইভানের উত্তরে ফের চুপসে গেলো লোকটার মুখ, ভয়াতুর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“কেনো স্যার?”

“কারন আমরা আপনাকে যেতে দিবো না।”

লোকটা এবার চরম পর্যায়ে বিস্মিত হলো,মনে মনে ভাবলো এরা হয়তো তাকে ধরে রেখে টর্চার করবে,মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবার থেকে মোটা অংকের টাকা চাইবে।
এসব ভাবতেই লোকটার গলা শুখিয়ে এলো,আতংকিত কন্ঠে বললো,

“স্যার আমি হুজুর মানুষ আমাকে কিডনাপ কইরা কতটাকাই পাইবেন কন, তারচেয়ে বরং আপনারা আমার বউয়ের দুলাভাই মানে আমার সুমুন্দি কে কিডনাপ করেন,হের অনেক টাকা পয়সা, দরকার পরলে আমি নিজে আপনাদের সাহায্য করবো।”

ত্রিজয় রাগে বিরক্তিতে দাতে দাত পিষলো এবার,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,

“একে চুপ করাও ইভান।”

ত্রিজয়ের কড়া ধমক খেয়ে, লোকটাকে পাল্টা ধমকে উঠলো ইভান,

“এই আমাদেরকে কি কিডনাপার মনে হয় আপনার?আপনাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে বিয়ে পড়ানোর জন্য।”

তারপর ইভান তাকালো ত্রিজয় আর নিস্পাপের দিকে, ইশারা করে বললো,

“এদের দুজনের বিয়ে পড়াতে হবে।”

“অসম্ভব।”
ইভানের কথা কানে আসতেই তেঁতে উঠলো নিস্পাপ।এতোক্ষণ চুপচাপ পরিবেশ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চালিয়েছিলো কিন্তু এদের কথা শুনে আর চুপ থাকা গেলো না,অন্ধ হলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পেরেছে নিস্পাপ।
ত্রিজয়ের হাতের মুঠোয় বন্দী নিজের হাতটা ছাড়ানোর জন্য মুচড়ো মুচড়ি করতে শুরু করলো,প্রানপন চেষ্টার পরেও জন্য মুক্তি মিললো না অশুভ শক্তির কবল থেকে,তখন দ্বিগুণ ক্রোধে ভারি হলো মস্তিষ্ক, ক্রোধিত কন্ঠে ঝনঝনিয়ে চেচিয়ে উঠলো,

“জানোয়ারের বাচ্চা ছাড় আমাকে, কে তুই?একটা অচেনা অজানা অন্ধ মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার কথা বলতে তোর লজ্জা করলো না।”

“কোথায় অজানা শুনি?তুমি তো বড্ড চেনা।” নিস্পাপের কথার উত্তরে বললো ত্রিজয়।

নিস্পাপ অবাক হলো, এই লোকটা আর এই কন্ঠস্বরের সাথে আজকেই তার প্রথম পরিচয়, তবে সে কি করে চেনা হলো লোকটার?নিস্পাপ কৌতুহল দমাতে পারলো না, সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“চেনা মানে?আপনি আমাকে কি করে চেনেন?”

“আমি না চিনি এমপি তাওসিফ তাকরিম তো চেনে, তাতেই আমার চলবে।”

ত্রিজয়ের ঠান্ডা স্বরের উত্তরে এবার কিছুটা থমকালো নিস্পা, আতংকিত কন্ঠে বিরবির করলো,

“আপনি কি প্রিন্স জোসেফ?আপনারই কি আসার কথা ছিলো? তবে কি পূনর্জন্ম সত্যিই হয়?

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here