#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:20
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕
“যদি টাইম ট্রাবল করা যেতো তবে আমি আরো একশ বছর পেছনে যেতাম, যেনে নিতাম আমার নিয়তিতে কি ছিলো।”
কথাটা বলতে বলতে নিজের দিকে ধেঁয়ে আসা ছুরিটা কোমল হাতের মুঠোয় চেপে ধরলো নিস্পাপ,শান্ত সাবলীল কন্ঠে বললো,
“মেরে ফেলার প্লেন যখন করেছেন তবে কেনো বাঁধলেন বিয়ের বাঁধনে?
ত্রিজয় হতভম্ব। তার চোখদুটো বিস্ময়ে ছানাবড়া।
একটা অন্ধ মেয়ে, সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে এত নিখুঁতভাবে আঘাত প্রতিহত করল? কিভাবে সে তার আক্রমণ বুঝে নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাল সঙ্গে সঙ্গে ?
তাহলে কি ত্রিজয়ের ধারণাই সত্যি?মেয়েটা অন্ধ নয়,অন্ধের ভান করে, তার সাথে কি ডাবল গেম খেললো?
প্রশ্নগুলো মাথায় আসতেই নিজেকে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় লাগলো,ত্রিজয় রাগে ফুসে উঠে নিস্পাপের হাতের মুঠোয় ধরে রাখা ছুড়িটা আরেকটু মুচড়ে ধরলো।
নিস্পাপ আর সহ্য করতে পারল না।
হাতের তালুর পাতলা চামড়া বিদীর্ণ হয়ে তৈরি হলো গভীর ক্ষত । উষ্ণ রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল কনুই বেয়ে
নরম মাংস এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যেতেই, কাঁপল তার শরীর, টলে গেলো দৃঢ় হাতের বাঁধন।গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বললো,
” জালিমের বাচ্চা, আমাকে বাঁচিয়ে রাখিস না, আমি বেঁচে থাকলে তোর মৃত্যু নিশ্চিত।”
এবার আরেকটু তেঁতে উঠলো ত্রিজয়,ছুড়িটা টেনে এনে চেপে ধরলো গলায়, রাগে জেদে হিসহিসিয়ে বললো,
“কানার বাচ্চা সত্যি করে বল উদ্দেশ্য কি তোর?আমার তো মনে হচ্ছে তুই ইচ্ছে করে আমার ঘাড়ে চেপে বসেছিস।”
ঘৃনায় আর যন্ত্রনায় মুখ বিকৃত করলো নিস্পাপ,দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“কোন না কোন উদ্দেশ্যই মানুষকে পৃথিবীতে বাচিঁয়ে রাখে,উদ্দেশ্যবিহীন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা অনর্থক।আর আমার উদ্দেশ্য আপনাকে শেষ করা।”
“এই চুপ,একদম গলাবাজি করবি না, ভুলে যাস না তুই নিছক একটা নিরীহ মেয়ে হয়ে একটা পুরুষ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছিস।”
নিস্পাপ নাক ছিটকালো,ঠোঁট বাঁকিয়ে ব্যাঙ্গার্থক কন্ঠে বললো,
“ভাগ্যিস অন্ধ আমি, নয়তো আপনার মতো কাপুরুষের মুখ দেখলে ঠোঁটের সাথে চোখ দুটোও হাঁসতো আমার।”
ত্রিজয় রাগে আক্রোশে বললো,
“আজরাইল আমি,মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে গলাবাজি করতে ভয় করে না?”
“আমি যে আপনাকে কাপুরষ বললাম, আপনার লজ্জা করে না?লজ্জায় তো আপনার কঁচু গাছে ফাসি দেওয়া উচিত।”
ত্রিজয় দাঁতে দাঁত পিষে রাগ নিয়ন্ত্রণ করলো, নিজেকে স্থির করে নামালো ছুড়ি,শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কে তুই?”
নিস্পা দৃঢ় কন্ঠে উত্তর দিলো,
“আমি কে না জেনেই বিয়ে করে নিলেন?”
“এই বারবার বিয়ে বিয়ে করবি না,তোর মতো কানাকে বউ বানানোর জন্য বিয়ে করি নি আমি ।”
“তবে?”
“ওই তাকরিম, ওই তাকরিমের কাছ থেকে কাগজে কলমে তোকে কেড়ে নিতে বিয়ে করেছি আমি।শালা এখন বুঝবে ভালোবাসা হারানোর যন্ত্রণা কতটা ভয়ংকর।”
“তার মানে আপনি কাউকে হারিয়েছেন?”
“সে কৈফিয়ত নিশ্চয়ই তোকে দিবো না।”
“একশোবার দিবেন।”
নিস্পাপের কথায় কপাল কুচকালো ত্রিজয়,বললো,
“কে তুই?আমার কাছ থেকে কৈফিয়ত চাইছিস?”
নিস্পা মুচকি হাসলো, ভরাট কন্ঠে উত্তর দিলো,
“কাগজে কলমে লিখিত বউ হই আপনার, আমাকে অবশ্যই কৈফিয়ত দিতে হবে।”
“বউ মাই ফুট।”
নিস্পাপ অন্ধকার হাতরে দু পা এগিয়ে গেলো,ত্রিজয়ের গাঢ় নিঃশ্বাসকে অনুভব করে রহস্যময় কন্ঠে বললো
“বউ ইস ইউর মাথার মুকুট।”
নিস্পাপ কাছে আসতেই মন্ত্রমুগ্ধ হলো ত্রিজয়। অন্ধকার ঘরের ডিম লাইটের ম্লান আলোয় ফুটে উঠল নিস্পাপের অনিন্দ্যসুন্দর মুখ।এই স্নিগ্ধ মুখটাকে কোনো রূপকথার পরির মতো লাগছিল ত্রিজয়ের কাছে। ঘন পেল্লব আঁধারে আবৃত দুটি চোখের গভীরতায় এক অজানা মোহে হারিয়ে গেল ত্রিজয়ের হৃদয়। এক মুহূর্তের জন্য ইচ্ছে হলো,এই অপরুপা রমনীর চোখের নিস্তেজ মনিতে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।
ত্রিজয় আরেকটু গভীর ভাবে তাকাতেই হারালো কোন এক অস্বচ্ছ স্মৃতির পৃষ্ঠায়,মন মস্তিষ্ক সুর ধরলো অন্য নিয়মে,সেই সুরের বিষাদ যন্ত্রণা মিশে গেলো শিরা উপশিরায়, অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে একাকার হয়ে তৈরি হলো এক মোহময় মূহুর্ত,এক অদৃশ্য বশিকরনের নিয়ন্ত্রণে নড়ে উঠলো ত্রিজয়ের অধরযুগল,ফিসফিস করে বললো,
“আমার রক্তাক্ত হৃদয়ের বিষপাখি,
তোমার বিষাক্ত ঘৃনা আমার ভালোবাসার সঞ্জিবনী।”
কথাটা বলতে বলতে রোবটের মতো নিজের হাতটা এগিয়ে নিলো ত্রিজয়,নিস্পাপের কপালের উপর পড়ে থাকা অবহেলিত কেশ গুচ্ছ কানের পেছনে আলগোছে গুজতে গুজতে বললো,
“সায়ানাইডের বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে ব্লু ব্লাড গার্ল।”
ত্রিজয়ের শেষ কথাটি নিস্পাপের কানে পৌঁছানো মাত্রই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল তার। “ব্লু ব্লাড গার্ল” শব্দটা লোহার মত ভারী হয়ে আঘাত করলো তার মস্তিষ্কে ।নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠতেই ধকধক করে উঠলো বুক।
চারপাশের পরিবেশ অস্পষ্ট হয়ে গেল হঠাৎ করেই, সব শব্দ স্তব্ধ হয়ে শুধু সেই শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো মস্তিষ্কে। অবচেতনেই শক্ত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো হাতের আঙুলগুলো, গলা শুকিয়ে পরিনত হলো কাঠ । চোখের সামনে ভেসে উঠলো অসংখ্য পুরনো স্মৃতি। তীব্র কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়লো সারা শরীরে, মনে হলো শীতল অদৃশ্য হাত মেরুদণ্ডের শিরদাঁড়া বেয়ে বেয়ে উঠছে।
এক বিভীষিকাময়, দুঃসহ ভয় জমাট বাঁধতে শুরু করলো শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।কম্পিত হাতটা এগিয়ে নিয়ে হাতড়ালো ত্রিজয়ের নাক, মুখ, চোখ, ঠোঁট, চাপা আতংকিত কন্ঠে বললো,
“কে আপনি? বলুন কে আপনি? এই নামটা কি করে জানলেন আপনি? এই নামটা তো আমি আমার স্বপ্নে শুনতে পাই, একটা লোক ঠিক এইভাবে আমাকে ব্লু ব্লাড গার্ল বলে ডাকে।আপনি কি কিরে জানলেন এই নাম?”
নিস্পাপের আতংকিত কন্ঠে ঘোর কাটলো ত্রিজয়ের,বেড়িয়ে এলো অসচ্ছ অতীতের গহ্বর থেকে,অদৃশ্য দঃস্বপ্নের কবল থেকে ছাড় পেতেই
দৃষ্টিতে তাকালো নিস্পাপের দিকে,নিস্পাপের আতংকিত বড় বড় চোখের দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকালো ত্রিজয়, কৌতুহলি কন্ঠে বললো,
“এই কি হয়েছে তোর? এমন কাঁপাকাঁপি করছিস কেনো?”
“আ,আপনি কি বললেন? এই নাম আপনি কি করে জানলেন।”
এখনো সমান তালে কাঁপছে নিস্পাপের কণ্ঠনালী।
ত্রিজয় চোখ উল্টালো, চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠলো,
“কানার বাচ্চা কাঁপাকাঁপি থামা, নয়তো এক থাপ্পড়ে নিঃশ্বাস থামিয়ে দিবো।কি বলেছি আমি?”
“ব্লু ব্লাড গার্ল,ব্লু ব্লাড গার্ল এই নামটা কি করে জানলেন আপনি?”
ত্রিজয় ভরাট কন্ঠে উত্তর দিলো,
“তোর থেকে জানলাম।”
ত্রিজয়ের উত্তরে ভ্যাবাচেকা খেলো নিস্পা, বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“আমি কখন বললাম।”
“এই যে মাত্রই বললি আর জানলাম।”
বিরক্তিতে ঠোঁট উঁচু করলো নিস্পা,তিক্ত কন্ঠে বললো,
“আমি আমার কথা বলছি না, আমার বলার আগে আপনি এই নামটা আমাকে কিভাবে বললেন?কিভাবে জানলেন এই নামটা?”
“বলেছি?”
নিস্পা দু হাতে চোখের পানি মুছে উপর নিচ মাথা নাড়ালো।
ত্রিজয় ভাবুক কন্ঠে বললো,
“বাট আমার তো মনে পড়ছে না।”
“মিথ্যা বলবেন না, আপনি এই মাত্রই বলেছেন।”
“কি বলেছিলাম আবার বলো তো।”
“ব্লু ব্লাড গার্ল।”
দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো ত্রিজয়,বললো,
“নামটা ইন্টারেস্টিং তো,তোর সাথে পারফেক্ট যায়।”
“মানে?”
“মানে কিছু না, চল ঘরে দিয়ে আসি, কানার কোথাকার একা একা তো আর যেতে পারবি না।”
“আপনি একবার দেখিয়ে দিন আমি এরপর থেকে একাই পারবো।”
“আমার বাড়িতে থেকে যাওয়ার অভ্যাস করে নিস না আবার।”
“রুচি নেই।” সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলো নিস্পা।
বিনিময়ে বক্র হাসলো ত্রিজয়, দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“যদি তোর ওই দুচোখ এই ত্রিজয়কে দেখার ভাগ্য পেতো তবে সাত জনম থাকতে ইচ্ছে করতো আমার সাথে।”
“তবে আমি সাত জনম অন্ধই থাকতে চাই।”
____________
তাকরিমের বাড়ির ড্রইং রুমে বড়সড় কোলাহল বাঁধিয়েছে অনুরিকা।নিস্পাপকে না পেয়ে অনুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে জোর করে।সেই থেকে অনুরিকা চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলেছে।
তাকরিমের মা জেসমিন হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বিস্মিত দৃষ্টিতে একবার তাকাচ্ছে তাকরিমের দিকে, একবার তাকাচ্ছে ক্ষেপা অনুরিকার দিকে।
ছেলেটাকে তার সুবিধার লাগছে না, মায়ের মন উপলব্ধি করছে তাকরিমের মনের ভেতর জ্বলচ্ছাসের ঢেউয়ের শব্দ।তারমধ্যে এই মেয়েটাকে নিয়ে আসার কারণে বেড়েছে কৌতুহল,আর চুপ থাকতে পারলেন না তিনি, কঠোর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“মাঝরাতে এসব কি হচ্ছে তাকরিম?মেয়েটা কে?এই বাড়িতে কেনো নিয়ে এসেছো?”
মায়ের প্রশ্নের উত্তরে তাকরিম কিছু বলার আগেই কর্কষ কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো অনু,
“উনি কি বলবে হ্যাঁ? উনি কি বলবে?আমাকে জিজ্ঞেস করুন উনি আমাকে কেনো ধরে নিয়ে এসেছে।”
জেসমিন অনুর দিকে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,
“এই মেয়ে ভদ্রভাবে কথা বলো,এটা ভদ্র মানুষের বাড়ি।”
“কিন্তু এই বাড়ির সন্তান যে একটা অভদ্র, দিনে দিনে উচ্ছন্নে গিয়েছে সে খেয়াল আছে আপনার?”
“কি বলতে চাইছো তুমি?”
“কি আবার?একটা মেয়েকে জোর করে তুলে আনা কি সভ্যতার উদাহরণ?নাকি অসভ্যতার?আমার তো ভাবতেই ঘেন্না লাগছে এই অসভ্য লোকটা আমাদের এমপি।”
অনুরিকার কথায় বেশ অপমানবোধ করলো জেসমিন,তাকরিমের দিকে তাকিয়ে বললো,
“মেয়েটা এসব কি বলছে তাকরিম?”
তাকরিম ঘুরে তাকালো চিত্রার দিকে, আদেশের সুরে বললো,
“একটা টেপ নিয়ে এসো চিত্রা, কুইক।”
চিত্রা দ্রুত পায়ে স্থান ত্যাগ করলো,তার ফিরে আসা পর্যন্ত পুরো ড্রয়িং রুম জুড়ে বিরাজ করলো শীতলতা।
চিত্রা টেপ নিয়ে এগিয়ে এসে তাকরিমের হাতে দিতেই, তাকরিম চোখ মুখ শক্ত করে টেপ লাগিয়ে দিলো অনুরিকার মুখে,অনুরিকা রাগে গজগজ করে উঠলো, জ্বলন্ত চোখ দিয়েই গিলে নিতে চাইছিলো তাকরিমকে, উম উম শব্দ করে বাঁধা দিতে চাইলো তাকরিমকে, কিন্তু পারলো না, তাকরিম টেপ দিয়ে তার মুখ এবং হাত পেচিয়ে দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়ালো।
তাকরিমের এমন কর্মকান্ডে বিব্রত হলো তার মা, বিব্রতকর কন্ঠেই বলে উঠলো,
“এসব কি হচ্ছে তাকরিম?তুমি ভুলে যাচ্ছ তুমি তোমার মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছো।”
তাকরিম কোনো উত্তর দিলো না। কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলো, সমস্ত শব্দ হারিয়ে গেছে তার ভেতর থেকে। তারপর আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়লো মায়ের বুকে, দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে।সমস্ত অনুভূতি উজাড় করে গভীর আবেগে মায়ের মাথাটা বুকের ভেতর চেপে ধরলো,দীর্ঘ নিঃশ্বাসের সাথে শুষে নিলো মায়ের গায়ের গন্ধ, ভেতরকার যন্ত্রণা ধেঁয়ে বেড়িয়ে এলো দুটো নয়নজোড়ার মধ্যখান থেকে,দু ফোটা জল টুপ করে পরলো তার মায়ের কানের লতিতে,জেসমিন বেগম স্পষ্ট অনুভব করলেন ছেলের চোখের পানি, আবেগাপ্লুত হয়ে শুধালেন,
“কি হয়েছে বাবা?তুই কি কাঁদছিস?”
তাকরিম আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলো তার মাকে, ভাঙা কন্ঠে বললো,
“ভালোবাসা তাকরিমের ভাগ্যে থাকে না কেন আম্মা?”
ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটপট করতে থাকা অনু বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো,হা হয়ে দেখলো লম্বা চওড়া পুরুষটার ভেঙে পড়ার দৃশ্য,মনের অন্তঃস্থল থেকে উপলব্ধি করতে পারলো নিস্পাপের প্রতি লোকটার ভালোবাসার মাত্রা।
হটাৎ করেই গভীর ধ্যানে তাকিয়ে থাকা অনুরিকার কানের কাছে শোনা গেলো ফিসফিসানির আওয়াজ, কেউ স্পষ্টত তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে,
“কেনো এলি ফ্লোরেন্সা?তুই তো জানিস আমি আইরিশ ভাইকে কত ভালোবাসি। পূনর্জন্মেও সুফিকে হারিয়ে দিতে এসেছিস?সুফির ভাগ্যে কি ভালোবাসা আসা বারণ?”
চলবে,,,,,,,,

