হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পার্ট:22

0
37

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পার্ট:22
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।⭕
_______________________________

“ও চাঁদ তুমি কি আজ আছো আকাশে?আমাকে কি দেখতে পাচ্ছো তুমি ?তোমার কি ভাগ্য বলো?চোখ নেই অথচ পুরো বিশ্ব দেখার সৌভাগ্য তোমার আছে, আর আমার দুটো চোখ থেকেও অন্ধ আমি, এই বিচিত্র পৃথিবী দেখার সৌভাগ্য আমার নেই।”

করিডরের নির্মল বাতাসে আক্ষেপের সুর তুলে বিরবির করলো নিস্পাপ।বড় ইচ্ছে করলো আকাশের চাঁদ টাকে দু চোখ ভরে দেখার।

ত্রিজয়ের বাড়িতে আজ দুদিন হতে চলেছে, রাত পোহালেই শুরু হবে নতুন আরেকটি দিন।দাদির কথা খুব মনে পড়ছে তার।বৃদ্ধা দাদি কেমন আছে, কি করছে কিছুই তো জানে না সে,কি করেই বা জানবে? এক অজানা ভাগ্য তাকে কোথায় এনে ফেলেছে সেই হিসেব মিলিয়েই তো উঠতে পারলো না এই পর্যন্ত।

নিস্পাপ হতাশার শ্বাস ফেললো,আবার শুধালো আকাশের চাঁদকে,

“ও চাঁদ তুমি কি জানো কি আছে আমার নিয়তিতে?”

“এতো ভেবো না কন্যা,তোমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নিয়তি যে তোমার চেয়েও তড়পাইতাছে।”

একলা, নিঃশব্দ, নির্জন করিডরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসা এক অতি চিকন, রহস্যময় কণ্ঠস্বর কানে আসতেই বিস্ময়ে কেঁপে উঠল নিস্পাপ । বুকের ভেতর বয়ে গেলো এক অজানা শিহরণ,হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এক অদ্ভুত অনুভূতি।

আতংকিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“কে?কে আছে এখানে?”

” ভয় পাইয়ো না কন্যা,আমি পাখি লো পাখি, আমার নাম সত্যবীনা পাখি।”

সুমধুর চিকন কন্ঠ থেকে ধেয়ে আসা অপ্রত্যাশিত উত্তরে আরেকটু ঘাবড়ালো নিস্পা,বললো,

“বিশ্বাস করি না, সত্যি করে বলো কে তুমি?কোন পাখি কি করে এতো সুন্দর কন্ঠে কথা বলতে পারে।”

“কোন পাখি পারে না কিন্তু আমি পারি কন্যা, কারণ আমি সত্য কথা বলি।বিশ্বাস না হয় ছুঁয়ে দেখো আমায়।”

পাখিটি ডানা ঝাপটালো, উড়ে এসে বসলো নিস্পাপের কাঁধের উপর, নিস্পাপের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হলো, উপলব্ধি করলো তার কাঁধের উপর সত্যি সত্যিই একটি পাখি বসে আছে।নিস্পাপ তার কম্পিত হাত তুললো,ধীরে ধীরে স্পর্শ করলো পাখিটিকে, পাখিটির নরম মসৃন পেখমে হাত বুলালো দু বার,বিস্মিত কন্ঠে রিনরিনিয়ে বললো,

“কে তুমি পাখি?আমার কাছে কেন এসেছো এই অবেলায়?”

“আমি সত্যবীনা পাখি,আমারে তোমার নিয়তি পাঠাইছে লো কন্যা।”
চিকন কন্ঠে উত্তর দিলো সত্যবীনা পাখি।

নিস্পা অবাক হয়, আনমনে বিরবির করে ,

“আমি স্বপ্ন দেখছি,আমি স্বপ্ন দেখছি।”

সত্যবীনা পাখি নিস্পার মনযোগ পেতে বললো,

“না লো কন্যা,তুমি স্বপ্ন দেহো না, আমি বাস্তবেই তোমার লগে কথা কইতাছি।”

“সব যদি বাস্তব হয় তবে পৃথিবীর এতো মানুষ থাকতে আমার কাছেই কেন আসলে তুমি?”

“কারণ তুমি হইলা গিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্ভাগিনি এবং সৌভাগ্যবান কন্যা।”

নিস্পা অবাক হয়,চোখ অন্ধ বলে কখনো তো সে নিজেকে দূর্ভাগিনি ভাবে নি, তার চেয়ে হাজার গুন দূর্ভোগ বয়ে বেড়ানোর মতো মানুষের তো অভাব নেই,তবে এই পাখি তাকেই কেনো বললো দূর্ভাগিনি?মনের ভেতর জেগে উঠা কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারলো না নিস্পা,সন্দিহান কন্ঠে বললো,

“আমি অন্ধ বলে দূর্ভাগিনি হয়ে গেলাম বুঝি?তবে আমার চেয়ে আরও বেশি অসহায় মানুষ গুলোকে কি বলবে তুমি?”

“নালো কন্যা আমি তোমার অন্ধত্বের জন্য দূর্ভাগিনি কই নাই।”

“তবে? তবে কেন বললে আমি পৃথিবীর সবচাইতে দূর্ভাগিনি?”

“কারণ তুমিই একমাত্র কন্যা যে দুই দুইবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবা।”

নিস্পা চমকালো,কেঁপে উঠলো তার বুক,আতংকিত কন্ঠে বললো,

“মানে?মানে কি বলতে চাইছো তুমি?একটা মানুষ দুই দুইবার কীভাবে মারা যাবে?”

“ভয় পাইয়ো কন্যা, ভয় পাইয়ো না।তোমারে সচেতন করার লাইগাই তোমার নিয়তি আমারে পাডাইছে, তুমি মন দিয়া হুনো আমার কথা।”

“কি শুনবো আর?আরও কি কিছু শোনার আছে আমার?”

“ওমা, দূর্ভাগ্য হুনলা , সৌভাগ্য হুনবা না?”

“হু,সৌভাগ্য?” অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো নিস্পা।

সত্যবীনা পাখিটি সুরেলা কন্ঠে বললো,

“হ লো কন্যা, তুমিই হইলা পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান কন্যা, যে সময় ভ্রমণে যাইতে পারবো,যে ছুঁইয়া দেখতে পারবো তার ফালাইয়া আসা আরেক জন্ম।”

সত্যবীনা পাখির কথা শুনে এবার আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলো না নিস্পা,ঘূর্ণির মতো মাথা ঘুরতে শুরু করলো তার,2024 সালে দাঁড়িয়ে এমন আজগুবি অলৌকিক কথা কি বিশ্বাস করার যোগ্য?নিস্পা ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিলো, কন্ঠ শক্ত করে বললো,

“তুমি আমার সাথে মজা করছো পাখি?তোমাকে কে পাঠিয়েছে সত্যি করে বলো,কে পুষে তোমায়?তোমার মালিক কে? আমায় সত্যি করে বলো।”

সত্যবীনা চিকন কন্ঠে বললো,

“আমি সত্যবীনা পাখি,আমি যা বলি তার সবই সত্যি বলি।আমি তোমারে সত্য কথাই কইতাছি কন্যা।বলো তোমার কি জানার আছে আমার কাছে?”

নিস্পা হতহ্বিবল, মন মস্তিষ্ক অকেজ লাগছে,মনটা কেমন যেনো ছটপট করছে থেকে থেকে, মনে হচ্ছে ভেতর থেকে লাল এক খন্ড পিন্ড চিৎকার করে পাখিটিকে বিশ্বাস করতে বলছে।নিস্পা ঢোক গিললো, ওড়না দিয়ে মুছলো কপালে লেপ্টে থাকা ঘাম, বললো,

“জানার তো অনেক কিছুই আছে, সব সত্যি বলতে পারবে তো?”

উত্তরে ভেসে এলো সত্যবীনা পাখির কন্ঠ,

“অনেক কিছু হইলে তো হইবো না কন্যা,তোমার কাছে সুযোগ আছে তিনটা, তুমি আমাকে যেকোনো তিনটে প্রশ্ন করতে পারবা।”

নিস্পা হতাশ হলো, অস্ফুটে বললো,

“মাত্র তিনটে?

” হ লো কন্যা, শুরু করো তোমার প্রথম প্রশ্ন।”

নিস্পা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, অনেক ভেবে বললো,

“তুমি যে বললে আমার দুটো জন্ম হয়েছে এটা কি সত্য?সত্যিই কি আমার আমাদের পূনর্জন্ম হয়েছে?”

“হ্যাঁ লো কন্যা এহন থেকা 50 বছর আগে 1930 সালে তোমার জন্ম হইছিলো আবার মৃত্যুও হইছিলো।”

“50 বছর আগে জন্মেছি মানে?” অস্ফুটে বললো নিস্পা।

“সে উত্তর তোমারই খুইজা লইতে হইবো, তোমার নিয়তি তোমারে সে উত্তর দেওয়ার লাইগাই তড়পাইতাছে।এইবার তোমার দ্বিতীয় প্রশ্ন করো কন্যা। ”

নিস্পা কিছুক্ষণ ভেবে জিজ্ঞেস করলো,

“তবে এ জন্মে আমার নিয়তিতে কে আছে?এডভোকেট ত্রিজয় তেজ নাকি এমপি তাওসিফ তাকরিম?”

“সে প্রশ্নও তোমারে খুইজা লইতে হইবো কন্যা,তোমার হৃদয় যারে বাইছা নেয় সেই হইবো তোমার আজন্মকালের সঙ্গি।”

“কিন্তু আমার তো ত্রিজয়ের সাথে,,,

” ও বিয়ে কি বিয়ে হয় লো কন্যা?ইসলামের রীতিনিতি কি কিছুই যানো না?জোর কইরা কি আর বিয়া হয়?”

বিস্ময়ে ফাঁক হয়ে এলো নিস্পার গোলাপি রঙের দুই ঠোঁট, বললো,

“তুমি সব যানো?আমাকে যে উনি জোর করে বিয়ে করেছে তাও?”

“হ লো কন্যা আমি সব জানি, এইবার তোমার তৃতীয় প্রশ্নখান করো দেহি।”

নিস্পাপ কিছুটা অপ্রস্তুত হলো, যেহেতু এটাই শেষ সুযোগ, তাই শেষ প্রশ্নটা কি করবে সেটাই ভেবে পেলো না,অনেক্ষন পাইচারি করার পর ঠোঁট কামড়ে নিজেকে স্থির করলো নিস্পা, তারপর বললো,

“তুমি তো বললে আমি দুই দুইবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবো, সেটা কীভাবে?”

“কারণ নিয়তি তোমারে সময় ভ্রমণ করাইবে খুব শীঘ্রই, সেইখানে তুমি তোমার প্রথম জন্ম ছুঁইয়া দেখার সুযোগ পাইবা, এবং মৃত্যুর স্বাদও গ্রহণ করবা।আর তৃতীয় মৃত্যু হইবো এই জন্মে কারণ মানুষ মরনশীল।”

“কিন্তু,,,, ”

নিস্পার কথা থামিয়ে দিলো সত্যবীনা পাখি, বললো,

“আর কোন কিন্তু নাই কন্যা,আমার কাজ শেষ, আমার যাইতে হইবো।”

“কোথায় যাবে তুমি?”

“আমি যেইহান থেকা আইছি সেইহানেই যামু লো কন্যা।”

“তবে আবার কবে দেখা পাবো তোমার?আমার প্রয়োজনে ডাকলে সাড়া দিবে তো?”

“না লো কন্যা, তোমার প্রয়োজনে আমি আসুম না। তোমার লগে আমার আবার দেখা হইবো,যহন প্রয়োজন হইবো আমি নিজ থিকাই আমু, তোমার ডাকতে হইবো না লো কন্যা।আমারে বিদায় দাও।”

“আচ্ছা তবে তাই হোক,বিদায় তোমায় সত্যবীনা পাখি,তোমার বলে যাওয়া নিয়তি আমার দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে।”

নিস্পাপের কথার শেষে ভেসে এলো না আর কোন উত্তর।শীতল বাতাসের সাথে শুধু শোনা গেলো ডানা ঝাপ্টানোর শব্দ।

________________

পরের দিন সকাল বেলা, পিটপিট করে চোখ খুললো নিস্পা,নিজেকে আবিষ্কার করলো করিডোরের মেঝেতে।

তার একটু দূরেই টাউজার আর নগ্ন বুকে দাঁড়িয়ে আছে ত্রিজয়।নিস্পাকে নড়েচড়ে উঠতে দেখেই ক্রোধে তেড়ে এলো সে,সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ছুড়ে ফেললো নিচের দিকে,একটু ঝুঁকে গিয়ে নিস্পাকে বললো,

“নিজেকে সিনেমার নায়িকা ভাবিস নাকি তুই?”

সাজ সকালে ত্রিজয়ের এমন ব্যাবহার আর কথায় বেশ বিরক্ত হলো নিস্পা,কপাল কুচকে বললো,

“কি সমস্যা কি আপনার?কীসব বলছেন?আমি কোন দুঃখে নায়িকা হতে যাবো?”

“সেটাই তো মনে হচ্ছে, তোর এসব নাটক তো সিনেমায় দেখেছি, নায়িকা বারান্দায় এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে আর নায়ক এসে কোলে নিয়ে তাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়।”

“তো আপনি কি আমাকে বিছানায় শুইয়েছেন? সেই তো অমানুষের মতো সাড়া রাত ফ্লোরেই ফেলে রাখলেন।”

ত্রিজয় তাচ্ছিল্য হাসলো, দাম্ভিক কন্ঠে বললো,

“কারণ আমি নিজেকে নায়ক ভাবলেও তোর মতো কানাকে অন্তত নায়িকা ভাবি না।”

নিস্পা রাগে গজগজ করতে করতে উঠে দাঁড়ালো,মুখ ভেঙিয়ে বললো,

“আমি নিজেকে অন্ধ নই, নায়িকাই ভাবি।কিন্তু আপনার মতো অমানুষ কে নায়ক তো দূর মানুষই ভাবি না।”

“নিজেকে তোর কাছে মানুষ প্রমাণ করতে ঠেকা পড়েছে নাকি আমার।”

“মানুষ প্রমাণ করতে হবে না, কিন্তু আমাকে পোশাক দিতে ঠেকায়ই পড়তে হবে।”

“পোশাক আবার কি?কাল না ইভান কে বললাম আমার পুরনো ড্রেস গুলো তোকে পড়তে দিতে, দেয় নি?”

“আমাকে কি মনে করেন আপনি?আপনার ওসব পুরনো পোশাক আমি পড়বো?”

“অভিয়েশলি পড়বি,তোর ড্রেস কেনার জন্য টাকা খরচ করতে আমার বয়েই গিয়েছে।”

“টাকা যখন খরচ করবেন না আমিও ওসব ড্রেস পড়বো না।”

“না পড়লে খালি গায়ে থাক, কার বাপের কি?”

নিস্পাপ রাগে জেদে নাক ফোলাল, বললো,

“অসভ্য কোথাকার,এসব নোংরা কথা কীভাবে আসে মুখে?”

“ব্রাশ করি নি এখনো তাই নোংরা কথা আসছে, আরো শুনবি?”

নিস্পাপ বিরক্তিতে দাঁত পিষলো, বললো,

“উফ,,,আপনি মানুষ টাই অসহ্য।”

ত্রিজয় ঠোঁট বাকিয়ে বললো,

“সহ্য করতে বলেছে কে?আমার কি ঠেকা পড়েছে নাকি?”

______________

ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে মাত্রই বেড়োলো ইভান,যদিও এতো তাড়াতাড়ি বেড়োতো না, তাও এক প্রকার বাধ্য হয়েই বেড়িয়েছে। একের পর এক ফোন কলের শব্দে ওয়াশরুমে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো।

চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে ফোনটা সামনে ধরতেই থতমত খেলো ইভান, স্ক্রিনে ভাসছে “জল্লাদ” দিয়ে সেভ করা একটা নাম,ইভান শুখনো ঢোক গিললো, স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো ত্রিজয়ের কন্ঠস্বর,

“কোথায় মরতে গিয়েছিলে এতোক্ষণ? কয়টা ফোন দিয়েছি দেখেছো?”

ইভান তোতলালো, আমতা আমতা করে বললো,

“না মানে, ইয়ে মানে, স্যার ওয়াশরুমে ছিলাম।”

“আমি তোমাকে কতবার বলবো ইভান?ওয়াশরুমে যাও আর যেখানেই যাও মোবাইল সাথে করে নিয়ে যাবে, আমার ফোন যেনো রিসিভ করতে লেট না হয়।”

ইভান রাগে দাঁতে দাঁত চাপলো, ইচ্ছে করলো আচ্ছামতো গালাগাল দিয়ে দিতে, কিন্তু মনের ক্ষোভ মনে চাপা রেখে গলা খাকালো, বললো,

“এখন থেকে নিয়ে যাবো স্যার।”

দম নিলো ত্রিজয়, তারপর বললো,

“হ্যাঁ শুনো তাহলে, যেটা বলার জন্য ফোন করেছি।”

“জ্বি স্যার,বলুন না।”

“মেয়েটাকে নিয়ে শপিংমলে যাবে আজ।”

“কোন মেয়ে স্যার?”

“কোন মেয়ে আবার কি?ওই অন্ধ মেয়েটার কথা বলছি।”

“ওহ। আচ্ছা স্যার, আমি আসছি।”

ইভান ফোন কাটার আগে ত্রিজয় আবার বলে উঠলো,

“শুনো।”

“জ্বি স্যার,শুনছি।”

“বেশি টাকা খরচ করবে না, অনলি ফাইভ থাউজ্যান্ড, এর চেয়ে বেশি এক পয়সাও নয়।”

ইভান চোখ উল্টোলো দাঁতে দাঁত খিচলো,দীর্ঘশ্বাস ফেলে কল টা কেঁটে দিয়ে বিরবির করে বললো,

“শালা কিপ্টার বাপ।”

______________

সকাল এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট।সূর্যের তাপদাহ বেড়েছে, ভ্যাপসা গরমে পায়ের তালু থেকে মাথা অব্দি জ্বলছে নিস্পার,তারউপর ঘামে ভিজে একাকার।

ইভানের সাথে বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে গাড়িতে উঠতে যাবে ঠিক এমন সময় একজন মহিলা এসে পা জড়িয়ে ধরলো ইভানের, কাঁদতে কাঁদতে বললো,

“স্যার স্যার, উকিল সাহেবরে একটু বুঝিয়া বলেন না স্যার,আমার কেস টা একটু লইতে কন না স্যার।আমার স্বামি নির্দোশ হইয়া আইজ ষোল ডা বছর জেলে পইচা মরতাছে।”

ইভান বেশ চমকালো না, চোখ মুখের ভঙি দেখে বোঝা যাচ্ছে এসব ঘটনায় অভ্যস্ত সে,খুব স্বাভাবিক ভঙিতে মহিলার হাত থেকে নিজের পা সরিয়ে নিয়ে বললো,

“দেখুন আপনি অন্য কোন উকিলের কাছে যান প্লিজ,আমি স্যারকে বলেছি, উনি এতো পুরনো কেস নিতে রাজি হয় নি।”

মহিলাটি তবুও শুনলো না ইভানের কথা, কাঁদতে কাঁদতে আবার বললো,

“স্যার আমার ভিটা বাড়ি সব বেইছা উকিল সাহেবের ফিস দিমু, আপনে ওনারে বলেন না আমার স্বামীর কেস টা কোডে(কোর্টে) উডাইতে।”

ইভান শান্ত স্বাভাবিক টোনে বললো,

“আচ্ছা আপনি বাড়িতে যান, আমি স্যারকে বলে দেখছি।”

“আইচ্ছা স্যার,আল্লাহ আপনের অনেক ভালা করবো।”
মহিলাটি আর কথা বাড়ালো না,কাঁদতে কাঁদতে প্রস্থান করলো সে স্থান।

নিস্পাপ চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছিলো ইভান আর মহিলাটির কথপোকথন। মহিলার আহাজারি আর ইভানের কথা শুনে কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছে নিস্পাপ।

মহিলাটি চলে যাওয়া মাত্রই এগিয়ে এলো ইভান,গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বললো,

“ম্যাম গাড়িতে উঠুন।”

গভীর ধ্যানে মগ্ন নিস্পা নড়েচড়ে উঠলো, অস্ফুটে বললো,
“হু?”

ইভান আবার বললো,

“ম্যাম গাড়িতে উঠুন, লেট হয়ে যাচ্ছে।”

নিস্পা গাড়িতে উঠলো না, বরং প্রশ্ন করলো,

“মহিলাটি কে ছিলো?”

“সে আপনার না জানলেও চলবে।”ছোট্ট উত্তর দিলো ইভান।

চলবে,,,,,,

⛔গল্পটা যেহেতু পূনর্জন্ম এবং টাইম ট্রাবল নিয়ে লেখা তাই একটু কাল্পনিক বিষয়বস্তু আসবেই।কেউ বাস্তবতা টানবেন না দয়ে করে, আমি আগেও বলছি এখনও বলছি কল্পনা আর বাস্তবতার সংমিশ্রণে গল্পটার একটা জটিল রুপ দিতে চাইছি আমি।আশা করি শেষ পর্যন্ত পাশে থাকিবেন।⛔

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here