হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:27

0
31

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:27
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

ঘরজুড়ে পিনপতন নীরবতা।এসির ঠান্ডা হাওয়া স্বস্তি দেওয়ার বদলে কাঁটা তুলছে গায়ে।ভয়ে সিটিয়ে আছে অনুরিকা।বাড়ি থেকে পালানোর অপরাধে ভেবেছিলো যদি ধরা পরে তবে কেবল দুটো পা হারাবে, কিন্তু নিয়তি যে তার সাথে এমন বেঈমানী করবে সে কথা কি ঘুনাক্ষরেও টের পেয়েছিলো মেয়েটা?নয়তো কি আর স্বইচ্ছায় স্বয়ং তাকরিমের মাথার উপর পা রেখেই পালানোর মতো মূর্খতা করতো?এখন এই অপরাধে যে এমপি মশাই তার মাথাটা কেটে গুম করে দিবে সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত অনু।

জ্ঞান ফিরেছে অনেকক্ষন হয়েছে, তবে চোখ খুলছে না ইচ্ছে করেই,যদি না চোখ খোলার সাথে সাথেই ওই রাক্ষসটার ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে।কিন্তু কি করার খুব বেশিক্ষণ এভাবে থাকতে পারবে বলে তো মনে হচ্ছে না,তাই পিটপিট করে খুললো একচোখ,বাঁকা চাহনি ঘুরিয়ে তাকালো পুরো ঘরের দিকে,তাকানোর এক পর্যায়ে ফট করেই চোখটা পুনরায় বন্ধ করে ফেললো দ্রুত গতিতে,ঠিক তার বিছানার বা পাশে একটি চেয়ার টেনে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে তাকরিম।
বাজ পাখির মতো এক জোড়া চোখ যে এতক্ষণ তার উপরই নিবদ্ধ ছিলো একথা বুঝতেই দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে অনু।

এদিকে তাকরিমের চোখে মুখে জ্বলজ্বল করছে রাগ,চোয়ালে চাপ ধরা, রাগের তোপেই হয়তো শক্ত হয়ে আছে কণ্ঠনালী,

“তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি মেয়ে।তুমি কি যানো এই বাড়ি থেকে পালানোর শাস্তি কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে?”

ভয়ে আর আতংকে চোখের পাতা গুলো বন্ধ করে রাখার দুঃসাহস হলো না অনুরিকার, চট করেই বিদ্যুৎ গতিতে উঠে বসলো তাকরিমের সামনে,ভয়মিশ্রিত কন্ঠে বললো,

“বিশ্বাস করুন আমি ইচ্ছে করে আপনার মাথার উপর পা রাখি নি।ওটা তো ভুল করে মিস্ট্রেক হয়ে গিয়েছিলো,আমি কি জানতাম নাকি দেয়ালের ওপাশে আপনি ছিলেন, আমি ভেবেছিলাম কোন গাছ,,,,,,,

বাকি কথাটুকু শেষ করা হলো না অনুরিকার,শক্ত হাতের একটা জোড়ালো থাপ্পড়ে গালে হাত দিয়েই স্তব্ধ হয়ে গেলো মেয়েটা।অশ্রুতে ছলছল করে উঠলো তার নয়ন জোড়া,টুপ করে এক ফোটা জল গড়িয়েও পরলো গাল বেয়ে,আজ অব্দি কারো হাতে মার না খাওয়া মেয়েটা হুট করে পুরুষালি হাতের থাপ্পড় খেয়েই চুপসে গিয়েছে, নাকের পাটা লাল করে তাকিয়েছে তাকরিমের দিকে।

তাকরিম রাগে গজগজ করছে, এতোক্ষণের শান্ত অভিব্যক্তি রুপ নিয়েছে ভয়ংকর ক্ষোভে,প্রচন্ড আক্রোশে আরেকটি থাপ্পড় দেওয়ার জন্য তেড়ে এসে কিছু একটা ভেবে হাতটা থামিয়েছে ঠিক অনুরিকার গালের এক ইঞ্চি দুরত্বে।

অনুরিকা দু চোখ খিচে খামচে ধরেছে চাদর, দুমিনিট,তিন মিনিট করে প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো সময় কেটে যাওয়ার পরেও যখন কোন আঘাত উপলব্ধি হলো না,তখনি ভাজ পড়লো কপালে, ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালো সামনের দিকে,এলোমেলো বিধ্বস্ত পুরুষ শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,কোন কথা নেই, নিঃশ্বাসের শব্দ টুকুও নেই, নিরবতাতেই যেনো ঝলসে দিচ্ছে সব।

অনু ঢোক গিললো ঘনঘন,মুখে কুলুপ এঁটে বসলো এবার,তাকরিমের অনুমতি ছাড়া আর একটা টু শব্দও করবে না ভেবে রেখেছে সে।

অথচ তাকরিম নড়লোও না,সেই সটান হয়েই দাঁড়িয়ে রইলো আরো পাঁচ মিনিট।অনু ভড়কালো পুরো দমে, মনে মনে ভাবলো, ‘নিশ্চয়ই তাকে মেরে কোথায় গুম করবে সে পরিকল্পনা করছে চুপচাপ।’

অনু সাত পাঁচ ভাবর সময় পেলো বড়জোর দু সেকেন্ড, তার মাঝেই ভেসে এলো তাকরিমের অপারগ কন্ঠ,

“তোকে আটকে রাখার কারণ জানতে চাস?”

তাকরিমের শান্ত বিধ্বস্ত কন্ঠ শুনে চকিতে তাকালো অনু,তবে শব্দ করলো না,তাকরিমের অনুরাগী চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে মাথা কাত করলো হ্যাঁ সম্মতিতে।

তাকরিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

“আগে আমার একটা জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবি?”

অনু ফ্যালফ্যাল করে চাইলো,অস্ফুটে বললো,

“কী প্রশ্ন?”

“একজনকে ভালোবেসে আরেকজনের কাছে শান্তির আশা করাটা কীসের মধ্যে পরে?অপরাধ নাকি পাপ?”

“আপনার প্রশ্নটা সত্যিই অনেক জটিল।”

তাকরিম নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে আবার বললো,

“তোকে আমার খুব চেনা লাগে।মনে হয় কোন এক রজনির নক্ষত্র আমাদের পরিচয়ের সাক্ষী ছিলো।সত্যি করে বলতো তোর পরিচয় কি ?”

“বাপ মা মরা অভাগী মেয়ের কোন পরিচয় হয় না এমপি মশাই,আমি বোধহয় নক্ষত্রের মতোই একা গন্তব্যহীন।”

“ফ্লোরেন্সাকে চিনো?”

“নাম শুনিনি কখনো।”

“আমার আলেকজান্দ্রা।”

“সে তো জানি নিস্পাকেই বলেন।”

“ফ্লোরেন্সাই নিস্পাপ।”

“কই কখনো তো শুনি নি, নিস্পার এমন কোন নাম আছে।”

“সেটা তার আগের জন্ম ছিলো।”

অনুরিকা চোখ ছোট ছোট করে বিস্মিত নয়নে তাকালো, ভাবুক কন্ঠে বললো,

“আপনি কি ঠিক আছেন?”

তাকরিম এগিয়ে এসে চেয়ারটা টেনে বসলো,ভরাট কন্ঠে বললো,

“বিশ্বাস না হওয়াটা স্বাভাবিক।”

অনু বুঝলো না এবারেও,কেমন উজবুকের মতো তাকালো তাকরিমের দিকে,তাকরিম গম্ভীর্যতা বজায় রেখে বললো,

“তোমাকে এসব আজগুবি কথা বলার কারণ কি জানো?”

অনু এবারেও কিছু বললো না,কেবল দুপাশে মাথা নাড়ালো না বোঝার ভঙিতে।

তাকরিম জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,

“কারণ আমি কিছু একটা টের পাই,আমার মনে হয় তুমি আমার অতীত জুড়ে কোথাও একটা ছিলে,কোথাও তোমার অস্তিত্ব ছিলো গভীর।কিন্তু কে তুমি?কেন তোমার কাছে এতোটা শান্তি পাই আমি?কেনো নির্দিধায় নির্বিগ্নে শত কথা বলে ফেলি নিজের অজান্তেই?”

“জানা নেই,আমি শুধু জানি মুক্তি।এই বদ্ধ ঘরের বদ্ধ বাতাস থেকে মুক্তি চাই আমি।”

“সে আশায় মরিচিকার প্রলেপ লেগেছে মেয়ে,মুক্তি সম্ভব নয়।”

“আমার আশায় মরিচিকার প্রলেপ লাগিয়ে আপনি কীসের আশা করেন এমপি মশাই?”

“শান্তির।”

“একজনকে ভালোবেসে আরেকজনের কাছে শান্তির আশা করার কারন?”

“ধোঁয়াশা।”

“অথচ আমি আপনার ধোঁয়াশাতেও থাকতে চাই না, শান্তিতেও চাই না।”

“থেকে যাও বাধ্য হয়ে কিছু করার নেই।”

“কেনো?”

“যতদিন না ধোঁয়াশা কাটিয়ে আলোর দেখা পাবো, যতদিন না জানতে পারবো এই অযাচিত শান্তির কারণ ততদিন তো থাকতেই হবে।”

“নিস্পাকে ভালোবাসেন আপনি।”

“সে বিষয়ে সন্দেহ নেই,আমার আলেকজান্দ্রার জন্য ভেতরটা পুড়ে আমার।অঙ্গার হয় হৃৎপিন্ড।আমার আলেকজান্দ্রার পিছু নিয়ে আমি আরো একজন্ম জয় করেছি।”

তাকরিমের কথা এবারেও বুঝলো না অনু, ওসব জন্ম জন্মান্তরের কথা তার মাথার উপর দিয়ে যায়।এ যুগে এসে এমপি মশাই কেন যে এজন্ম ওজন্মের কথা বলে সেটাই বুঝে উঠতে পারে না অনু।

ত্রিজয় উঠে দাড়ালো এবার, দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার বললো,

“যে ভালোবাসা মৃত্যুকে আপন করে নিতে শেখায় সে ভালোবাসায় কোন সন্দেহ নেই মেয়ে।সে ফ্লোরেন্সা হোক আলেকজান্দ্রা হোক বা নিস্পা,তার একমাত্র পরিচয় সে আমার ভালোবাসা, আমার হৃদয়ের রঙধনু।তাকে ভালোবেসে আরো সাত জন্ম পিছু নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আমি।”

_______________

সময়ের এক জীবন্ত স্মারক রুপে বসে আছে এক থুলথুলে বুড়ি,চামড়া কুচকানো তবে ধবধবে ফর্সা।বয়সের ভারে গালের চামড়া ঝুলে গিয়েছে অনেকটা। নরম খাজে খাজে আটকে আছে কোন এক দূর্বিষহ স্মৃতি, না পাওয়ার আক্ষেপ।চোখ গুলো কুচকে গিয়েছে,চারপাশে ছড়িয়ে আছে কুচকানো রেখ।ঠোঁট গুলো ফ্যাকাসে, হয়তো পান চিবোনোর অভ্যাস করে নি কখনো।কথার ফাঁকে ফাঁকে নড়ছে দু ঠোঁট, দেখা যাচ্ছে সামনের কয়েকটা দাঁত,সবগুলো নেই বোধহয়।

কন্ঠ ফ্যাসফ্যাসে অথচ নিরলস,

“সম্মুখে আসার সময় বোধহয় হয়েছে এবার।”

“সম্মুখে এসেই বা কি লাভ?আপনি তো বর্তমানকে পাল্টে দিয়েছেন জনাবা।”অপরপাশ থেকে বলে উঠলো একজন।

সম্পূর্ণ অন্ধকারে বসে আছে সে,শরীরের কোন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।তবে কন্ঠ চিকন,ফ্যাসফ্যাসে নয়।হয়তো কোন মহিলার।

বৃদ্ধা মহিলা ম্লান হাসলো,উত্তরে বললো,

” মেয়েটা অতীত বদলে আমার জীবন করেছে দূর্বিষহ।কেড়ে নিয়েছে আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকে, এতটুকু তো পাপ্য ছিলো ওর।”

“বর্তমানকে বদলে দেওয়ার অপরাধে কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া ঘটবে নাতো জনাবা?”

“ওই মেয়েটা পঞ্চাশ বছর পেছনে না গেলে আমার আর আইরিশ ভাইয়ের সংসার হতো।থুলথুলে বুড়ি হয়ে আমাকে পচে মরতে হতো না এই বদ্ধ ঘরে।”

“আপনার কি মনে হয়?প্রিন্স জোসেফের সাথে বিয়ে দিয়ে আপনি মেয়েটার সময় ভ্রমণ আটকাতে সফল হবেন?এতো কিছুর পরেও যদি মেয়েটা সময় ভ্রমণ করেই ফেলে?”

“তবে আমার অপেক্ষার খাতায় জমা হবে আরো একটি শুন্য।প্রতিশোধের বোঝা হবে আরো দুগুণ ভারি।”

“আমার মন কু ডাকছে জনাবা,আমার মনে হচ্ছে আমাদের সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে,নিস্পাপের সময় ভ্রমণ হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই।নিয়তি পাল্টানোর ক্ষমতা বোধহয় আমাদের হাতে নেই।”

“সেতো আমি আরো কয়েক যুগ ধরেই যানি।তবুও বিশ্বাস করি, স্বপ্ন দেখি, নিয়তি পাল্টে যাবে।”

“তাতে লাভ কি জনাবা?আপনার নসিব খারাপ,ওই নিস্পাপ আপনার অস্তিত্বে ঘাটি গেড়েছে।আইরিশ বা প্রিন্স জোসেফ কেউই তো আপনাকে চাইবে না।তাদের নতুন জন্ম হয়েছে ওই মেয়েটাকে পিছু করে, তারা সময়ের সাথে দৌড়াচ্ছে জন্ম জন্মান্তর।তাদের লক্ষের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু নিস্পাপের ভালোবাসা জয় করা।”

“বড্ড আফসোস হয়,সেদিন আমিও যদি মরে যেতাম হয়তো আমারও আরও একটি জন্ম পাওয়া হতো।”বড় আক্ষেপের সাথে কথাটা বললো বৃদ্ধা।

“সত্যবীনা পাখির কথা ভুলে গেলেন জনাবা?আরো পঞ্চাশ বছর আগে সত্যবীনা পাখি কিন্তু বলেছে, আপনার বংশের কন্যা ভবিষ্যতে জন্মেছে, আর সে এসেই দখল করেছে আপনার অস্তিত্ব।আপনি সেদিন মরে গেলে নতুন কোন জন্ম লাভ করার সুযোগ পেতেন না।”

“নিয়তির নির্মম পরিহাস আমার মৃত্যু কিনা ওই তুচ্ছ মেয়েটার সাথে বেধে দিয়েছে।এই অকাল দেখার জন্যই বেঁচে আছি বোধহয়। ” কথাটা বলতে বলতে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল বৃদ্ধা।

অপর প্রান্তের অন্ধকার থেকে ভেসে এলো পাল্টা উত্তর,

“মৃত্যুর আগে প্রতিশোধের নকশা আঁকুন জনাবা।পঞ্চাশ বছর আগে নীল রঙের মৃত্যু হয়েছে এবার না হয় লাল রঙের মৃত্যু ধার্য করা হলো।”

________________

“যদি পূনর্জন্ম বলে কিছু থাকে তবে আপনি ‘আমি’ হয়ে জন্ম নিবেন,ভালোবাসার হিসেব বুঝতে পবিত্র মন প্রয়োজন।”

“আর তুমি?তুমি কি হয়ে জন্মাবে ব্লু ব্লাড গার্ল?”

“কদম ফুল হবো, শিশির ছোঁয়া গায়ে মেখে সৌরভ ছড়াবো এক খন্ড লাল পিন্ডে।”

ঠিক তখনই অন্ধকারে মোড়ানো আবছা অবয়ব তার হাতের জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরলো মেয়েটির নাভিপদ্মের পাশে,দাম্ভিক কন্ঠে বললো,

“যদি সেই একখণ্ড পিণ্ডের দিশেহারা অনুভূতি পথ ভুলে? যদি কভু কড়া নাড়ে তোমার দ্বারে?”

মেয়েটা যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত পিষলো,এক ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে বিবিষ কন্ঠে বললো,

“তার আগে আমি অন্ধ হবো,আপনার পদচিহ্ন দেখার দূর্ভাগ্য আমার না হোক।”

“অন্ধ হবো,অন্ধ হবো আমি।”

কথাটা ঘুমের ঘোরে এক নাগাড়ে বিরবির করতে শুরু করলো নিস্পা।ত্রিজয় চোখ কুচকে তাকিয়ে আছে ভ্যাবলার মতো।এক হাত থুতনিতে রেখে বোঝার চেষ্টা চালালে ঘুমন্ত নিস্পার হাবভাব।

প্রায় মিনিট পাঁচেক সময় কেটে গেলো, নিস্পা আগের মতোই বিরবির করছে, ঘুমের ঘোরে চোখ টিপটিপ করে মাথা নাড়াচ্ছে দু’দিকে।

ত্রিজয় পলক নাড়িয়ে হাত ঘড়িটায় নজর বুলালো, চোখে মুখে বিরক্তির আভা স্পষ্ট।দ্রুত পায়ে কেবল এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।একটা বালতি হাতে নিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যে ফিরেও এলো আবার।

নিস্পার বেডের সামনে দাঁড়িয়ে বড়জোর ভাবলো দু সেকেন্ড,তার পরপরই বালতির সবটুকু পানি ঢেলে দিলো নিস্পার গায়ের উপর।
ঘুমন্ত অবস্থায় শরীরের উপর পানি এসে পড়তেই ধড়ফড়িয়ে উঠলো নিস্পা,আতংকিত কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,

“কে?কে?কি?”

ত্রিজয় চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে,তাকিয়ে আছে নিস্পার ভেজা মুখের দিকে, নিস্পা হতচকিত,স্পষ্ট টের পেয়েছে ত্রিজয়ের উপস্থিতি,আনুমানিক রাত তখন আড়াইটে,একটা মেয়ের জন্য এই সময়টা খুবই ভিতীকর যদি না তার কাছে কোন পুরুষের অস্তিত্ব থাকে।
নিস্পা দু হাতে মুখের উপর পানি মুছলো,তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,

“এতো রাতে একটা মেয়ের বেডরুমে এসে এরকম অসভ্যতামি নিশ্চয়ই সভ্য মানুষের কাজের মধ্যে পরে না।”

“আমি অসভ্য,তাতে কার বাপের কি?” ভেসে এলো ত্রিজয়ের উত্তর।

নিস্পা দমে গেলো না,পুনরায় বললো,

“আপনি নিশ্চয়ই এতো রাতে আপনার চরিত্রের সার্টিফিকেট দিতে আসেন নি?”

“তোর মতো কানার কাছে তো অবশ্যই নয়।অসভ্য হতেও ফিলিংস লাগে।”

“তাহলে কেনো এসেছেন শুনি?”

ত্রিজয় শান্ত চোখে তাকালো নিস্পার দিকে,মিহি কন্ঠে বললো,

“বলবো, চেঞ্জ করে আয় আগে।”

“দরকার নেই, আপনি বলুন।”

ত্রিজয় গলা পরিষ্কার করে সাবলীল কন্ঠে বললো,

“তুই কানা হতে পারিস, আমি তো আর কানা নই, ভেজা জামার ভেতরে ইয়ে দেখা যাচ্ছে।”

নিস্পা চমকালো,দু হাত আড়াআড়ি করে রাখলো বুকের উপর,কর্কষ কন্ঠে বললো,

“ছিঃ আমার দিকে নোংরা ভাবে তাকাতে লজ্জা করলো না আপনার?”

“নিজেকে কি মনে করিস তুই?জাস্ট বোন মনে করেই একবার তাকিয়েছি,তোর ওসবের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো ফিলিংস আমার নেই।”

কথাটা বলতে বলতে কিছুটা ঝুকে এলো ত্রিজয়,বিছানা থেকে ওড়নাটা উঠিয়ে নিয়ে আলগোছে জড়িয়ে দিলো নিস্পার গায়ে,শান্ত মোহনীয় কন্ঠে বললো,

“বউ লাগিস তুই আমার, এর চেয়ে বাজে ভাবে দেখলেও অপরাধ হবে না।”

ত্রিজয়ের কথায় হাসফাস করে উঠলো নিস্পাপ,কুন্ঠায় অস্থির হয়ে উঠলো ভেতরকার মেয়েলি সত্তা।
ত্রিজয় পর্যবেক্ষন করলো সেসব, নিস্পার গোলাপি ঠোঁটের উপর জমে থাকা এক ফোটা পানি মুছে দিলো বৃদ্ধাঙুল দ্বারা,বললো,

“বউ হিসেবে তোকে ছুয়ে দিলে কি অপরাধ হবে?”

নিস্পা দাঁতের সাথে দাঁত কামড়ে ধরলো, চাপা স্বরে বললো,

“আমাকে বিয়ে করাটাই আপনার অপরাধ হয়েছে।হয়তো নিয়তিতে অন্য কিছু থাকার কথা ছিলো।”

“নিয়তির নিয়ম মানি না আমি,যে নিয়তিতে আমার জান্নাতের নাম লেখা নেই সেই নিয়তিকে মানি না আমি।”

“একজনকে চেয়ে আরেকজনকে বিয়ে করতে বিবেকে বাধলো না আপনার?”

“না বাধলো না,তোকে জাস্ট বোন হিসেবে বিয়ে করেছি, তোকে বিয়ে করার জন্য ভেতর থেকে কোন ফিলিংস আসে নি আমার।যেটা জান্নাতের প্রতি ছিলো।”

“ছিলো? তার মানে এখন নেই?”

“বাজে বকিস না।”

“আপনিই তো বকে যাচ্ছেন কখন থেকে।কি জন্য এসেছেন সেটাই তো বলছেন না।”

উত্তরে প্রতিক্রিয়া জানালো না ত্রিজয়,উঠে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে বৃদ্ধা আঙুল চালালো দ্রুত, ভিডিও অন করে অদ্ভুত ভাবে তাকালো নিস্পাপের দিকে।ভরাট কন্ঠে বললো,

“এমপি মশাইয়ের জন্য একটা সারপ্রাইজ রেডি করার জন্য এসেছি।”

নিস্পা কপাল কুচকালো, অস্বাভাবিক লাগলো ত্রিজয়ের কথা বলার টোন,অজানা কারনেই বাড়লো বুকের ধুকধুকানি,অপ্রস্তুত ভঙিতে বললো,

“ক,,কি সারপ্রাইজ? ”

ত্রিজয় ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো,এক হাত বাড়িয়ে চট করেই পেচিয়ে ধরলো নিস্পার ঘাড়,নিজের অধরযুগল নিস্পার ঠোঁটের খুব কাছে নিয়ে যেতেই ঘাবড়ে গেলো নিস্পা,ত্রিজয়ের উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের জাতাকলে ফুরিয়ে এলো তার দম,ঘন ঘন শ্বাস টেনে পুনরায় বললো,

“ক,কি করতে চাইছেন আপনি?”

ত্রিজয় দুরত্ব গুছিয়ে নিলো,নিস্পার বুকের সাথে স্পর্শ হলো তার নগ্ন বুক,ঠোঁটের সাথে মৃদু ঘর্ষন খেলো তার ঠোঁট,হাস্কি টোনে বললো,

“একটা কিস করবো,গড প্রমিজ,বোন মনে করে একটা কিস করবো।”

(এই পর্বটা লিখতে প্রায় এক সপ্তাহ ভাবতে হয়েছে আমার।গল্পটার এক একটা পর্ব মনে রাখার চেষ্টা করবেন।নয়তো পরবর্তীতে হিসেব মিলবে না। বিশেষ করে বৃদ্ধা মহিলা এবং তার কথাগুলো)

চলবে,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here