#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:51
⭕নিচের নোট টুকু অবশ্যই পড়বেন।⭕
তখন খুব ভোর।চারদিকে আবছা অন্ধকার।এখনো সূর্যের আলো ফোটেনি।অনুর বেলকনি থেকেই দেখা যাচ্ছে বকুল গাছের সমারহে ভরা বাগানটা,এক অপূর্ব মুগ্ধকর সুভাস ভেসে আসছে সেখান থেকে।
শেষ রাতের দিকে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো অনুর,সেই থেকেই ঘুম ধরে নি চোখে, বেলকনিতে একটা চেয়ার পেতে বসেই বাকি সময় টুকু পার করেছে অনায়াসে।ভোরের ফুরফুরে ঠান্ডা বাতাসে মাত্রই চোখ লেগে এসেছিল মেয়েটার,ঠিক তক্ষুনি খুব কাছ থেকে অনুভব করলো কারো প্রতাপী নিশ্বাসের শব্দ,বকুল ফুলের ঘ্রাণের বদলে নাকে এসে বিধলো কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ,মস্তিষ্কে ঘুমিয়ে থাকা স্নায়ুরা সজাগ হলো তৎক্ষনাৎ,বিদ্যুতের গতিতে লাফিয়ে উঠলো অনু।চোখের সামনে জ্বলজ্যান্ত পুরুষ অবয়ব দেখতেই ভয়ে কুকড়ে গেলো কলিজা টা,ধরাস করে উঠে দাড়ালো চেয়ার ঠেলে,ততক্ষনে ভেসে এলো এক নিরেট পুরুষালি কন্ঠস্বর,
“আরেহ!আরেহ। ভয় পেও না।আমি,আমি ইভান।”
পরিচিত কন্ঠ কানে আসতেই বড় করে শ্বাস ছাড়লো অনু,কয়েকবার শুখনো ঢোক গিলে তাকালো ইভানের দিকে,তারপর বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“একি?আপনি এতো ভোরে এখানে কি করে এলেন?”
ইভান বেলকনির রেলিং চেপে ধরে একপাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো,অপকটে বলল,
“দেয়াল টপকে।”
ইভানের নরমাল টোনের উত্তরে অস্বাভাবিক ভাবেই কপাল কুচকালো অনু,তপ্ত কন্ঠে বললো,
“আর ইউ শিউর?সে জন্ম থেকে এজন্ম আপনি দেয়াল টপকানো ছাড়া কিচ্ছু শেখেন নি নাকি?”
ইভান কপাল কুচকলো সঙ্গে সঙ্গে, চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলো,
“সে জন্ম এজন্ম মানে?”
অনু ঠোঁট টিপে চুপ করে গেলো,বুঝতে পারল হয়তো অতিতের কোন কিছুই মনে নেই ইভানের,কিন্তু নিয়তি সব ভুলিয়ে দিয়েও একই জিনিস রিপিট করাচ্ছে,যেই লোকটা আরও কয়েক যুগ আগেও তার সাথে দেয়াল টপকে দেখা করেছিলো, সেই লোকটাই আবার একইভাবে সামনে এসে দাঁড়ালো তার।
অনুর নড়চড় না দেখে তার চোখের সামনে হাত নাড়ালো ইভান,বললো,
“এই যে?কোথায় ডুবে গেলেন?এই মিস বোম্বাই মরিচ।”
ধ্যান ভেঙে নড়েচড়ে উঠলো অনু,
“উফ খোদা!এতো রাতে আপনি এখানে কেন এসেছেন?”
ইভান ভণিতা বিহীন স্পষ্ট জবাবে বললো,
“তোমার কাছে।”
কপাল গোছাল অনু,ভ্রুকুটি তুলে ক্রোধান্ধ কন্ঠে বললো,
“পাগল আপনি? মাথা ঠিক আছে?এটা কার বাড়ি ভুলে যান নি নিশ্চয়ই?একটা গার্ডেরও যদি চোখে পড়েন সোজা কাবাব বানিয়ে খেয়ে ফেলবে।”
ইভান দু হাত ভাজ করে সটান হয়ে দাড়ালো,দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“আই ডোন্ট কেয়ার।”
অনু ঠোঁট উল্টে বাহবা দিয়ে বললো,
“বাহ!খুব সাহসী হয়েছেন দেখছি।আপনার সাহস দেখে খুশি হলাম।”
“এমন ভাবে বলছ যেন এর আগে আমি বোকা ছিলাম?”
অনু বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর তপ্ত কন্ঠে বললো,
“হয়তো ছিলেন।বাদ দিন তো,আগে বলুন এখানে আসার কারণ কি?”
ইভান নির্ভিক কন্ঠে বললো,
“উত্তর যানতে এসেছি।”
অনু প্রশ্নবিদ্ধ লোচনে তাকালো,জিজ্ঞেস করে বললো,
“কীসের উত্তর?”
ইভান দ্বিধাগ্রস্ত অনিশ্চিত কন্ঠে বললো,
“তোমাকে কি আমি আগে থেকে চিনি?আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমি তোমাকে আগে কোথাও দেখেছি।”
অনু চোখ রাঙিয়ে তাকালো, অবাক হয়ে মাথায় হাত রেখে বললো,
“হায় খোদা, আপনি এই প্রশ্ন করার জন্য এতো ভোরে এখানে এসেছেন?”
ইভান ঠোঁট কামড়ে এগিয়ে এলো,মোহিত কন্ঠে বললো,
“ঘুম আসছিলো না ডার্লিং।”
অনু মুখ ভেঙালো,
“ওয়াক।এসব বাজে নামে ডাকবেন না,বোমি আসে।”
ইভান ঠোঁট টিপে হাসলো,টলমলে কন্ঠে বললো,
“বাচ্চার মা হওয়ার আগে বোমি আসাটা মোটেও ভালো লক্ষন নয় মেয়ে।”
কটমট করে তাকালো অনু,উত্তপ্ত কন্ঠে বললো,
“ছিঃ।মুখে লাগাম টানুন।কীসব নোংরা কথাবার্তা বলছেন?বেলকনি থেকে নামুন এক্ষুনি, নয়তো ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো।”
ইভান নেশাতুর কন্ঠে প্রত্যুত্তর করলো,
“তুমি তো বড্ড আনরোমান্টিক মেয়ে,কোনটা নোংরামো আর কোনটা রোমান্টিসিজম সেটাই বুঝো না।”
অনু তপ্ত মেজাজ দেখিয়ে কর্কষ কন্ঠে বললো,
“আপনি নামবেন? নাকি ধাক্কা দেবো?”
“ওকে ওকে।এতো রেগে যাচ্ছো কেন? নামছি আমি।”
“হু দ্রুত যান।”
“জান বললে?আবার বলো তো,কি সুইট ডাক।”
“যেতে বলেছি।এতো ওভার থিংকিং বন্ধ করুন।”
ইভান গলার স্বর পাল্টালো,গমগমে কন্ঠে উচ্চারণ করলো কিছু রহস্যময় শব্দ,
“যাচ্ছি মেয়ে।তবে একটা কথা শুনে রাখো,কেউ একজন নিশ্চুপে নিঃশ্বব্দে তোমার সমাধি খুড়ছে একটু একটু করে।”
____________
ঠিক ভোর নয়,সকাল সাতটা বেজে এসেছে।সূর্যের আলো সোজা জানালা দিয়ে এসে পড়ছে ফুলমতির মুখের উপর।রাত দুটোয় ত্রিজয় একা বাসায় রেখে যাওয়ার পরই ঘুমিয়ে পড়েছিলো,সেই ঘুমে রাত পেরিয়ে সকাল।বৃদ্ধ মানুষ,শরীরের শক্তি কমে গেছে প্রায়,তাই বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই ঘুম এসে পরে।
শিয়রেই বসে ছিলো নিস্পা,নিজ থেকে না জাগিয়ে অপেক্ষা করছিলো ফুলমতির ঘুম ভাঙার।ফুলমতিই পৃথিবীতে এক মাত্র আপন মানুষ তার,যার সাথে তার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে,নয়তো এতো বড় পৃথিবীতে নিস্পা একা, বড্ড বেশি একা।
প্রায় বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর ঘুম ভাঙলো ফুলমতির,কুচকানো চোখজোড়া খুলতেই দেখতে পেলো নিস্পাপের তুলোর মতো নরম চেহারা খানা।
এতো দীর্ঘ সময় পর নিজের একমাত্র নাতিকে দেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে তড়িঘড়ি শোয়া থেকে উঠে বসলেন তিনি,ফুলমতিকে উঠতে দেখেই একটু এগিয়ে এলো নিস্পা,তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,
“আস্তে দাদি, আমাকে ধরে উঠো।”
নিস্পার কন্ঠ শ্রবন হতেই ধাতস্থ হলো ফুলমতি,ঝড়ের বেগে নিস্পাকে টেনে নিয়ে ঢোকাল বুকের ভেতর,নিস্পাও লতার মতো দু হাতে পেচিয়ে ধরলো দাদিকে।নারিকে জড়িয়ে ধরে ফুলমতি কাঁদলো কিছুক্ষণ, তারপর গুনগুনিয়ে বললো,
“আমার বইন, কেমন আচছ তুই বইন?কতদিন পর দেখলাম তোরে।”
দাদির কান্না দেখে নিস্পাও কাঁদলো বুক ভেঙে,ভেজা কন্ঠে বললো,
“ভালো আছি দাদি,আগে বলো তুমি কেমন আছো?এতোদিন কোথায় ছিলে তুমি?”
ফুলমতি চোখের পানি মুছে সরে এসে কাঁপা কন্ঠে বললো,
“সেদিন দুইজন লোক আইয়া আমারে কেন যানি ধইরা নিয়া গেছিলো বইন।একমাসের মতো আটকাইয়া রাইখা একটা আশ্রমে থুইয়া চইলা গেছে গিয়া।তহন থিকা ওই আশ্রমেই আছিলাম।”
নিস্পা নাক টানলো,বিস্ময়ে কুচকে এলো তার কপাল,দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“তোমাকে কিডন্যাপ করেছিলো? কিন্তু কেন?তোমার সাথে কার কি শত্রুতা থাকতে পারে।”
ফুলমতি ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে নিয়ে বললো,
“তা আমি কেমনে কইতাম বইন।যারা ধইরা নিয়া গেছিলো হেরাই ভালো জানবো।”
কথাটা বলতে বলতেই ফুলমতি তাকালো নিস্পার চোখের দিকে,অবাক হয়ে বললো,
“তুই চোখে দেখতে পাইতাচছ বইন?আমারে দেখতে পাইতাচছ? তোর চোখের অপারেশন করাইলো কেডা?কোন দয়াবান লোক এতোগুলা টাকা দিয়া তোর চোখ ভালো করলো?”
নিস্পা আমতা আমতা করে উত্তর দিতেই যাবে তার আগে ভেসে এলো ত্রিজয়ের রঙ্গরসাত্মক কন্ঠ,
“আপনার নাতিন জামাই বুড়ি,এতোগুলো টাকা দিয়ে চোখ ঠিক করলাম অথচ সেই চোখ দিয়ে আমাকেই দেখতে পারে না।কি কপাল আমার।”
ত্রিজয়ের কথা শুনে ফুলমতি রাঙা চোখে চাইলো নিস্পার দিকে,কিঞ্চিৎ গরম কন্ঠে বললো,
“নাতিন জামাই এইসব কি কইতাছে বইন?তুই তারে দেখতে পারস না কেন?”
ফুলমতির মুখে নাতিন জামাই শুনেই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হলো নিস্পা,তেতে উঠে বললো,
“নাতিন জামাই বলবা না তো দাদি,কীসের নাতিন জামাই?ওনাকে স্বামী হিসেবে মানি না আমি।”
নিস্পার কথা শুনে অসন্তুষ্ট হলো ফুলমতি,অসহিষ্ণু কন্ঠে বললো,
“এসব কথা কইতে হয় না রে বইন,স্বামী হইল গিয়া গলার অলংকার, স্বামী সেবা করা উত্তম কাজ,স্বামী কাছে যাইতে কইলে কাছে যাইতে হয়,পাশে বসতে কইলে বসতে হয়,শুইতে কইলে শুইতে হয়।”
হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলালো ত্রিজয়,চপল কন্ঠে বললো,
“একদম ঠিক কথা বুড়ি,কাছে আসতে হবে না, পাশেও বসতে হবে না জাস্ট শুইলেই হবে,আমার আবার বেশি চাহিদা নেই।”
রেগে লাল হয়ে গেলো নিস্পা,কর্কষ কন্ঠে বললো,
“ছেঃ আপনি এতো অশ্লীল কেন?”
ত্রিজয় ঠোঁট কামড়ে হাস্যোজ্জ্বল কন্ঠে বললো,
“অশ্লীলতা বউয়ের সাথেই করে মিসেস চাটনি”
ক্রোধে অগ্নিমূর্তি ধারণ করলো নিস্পা,চোখ লাল করে বিস্ফোরিত কন্ঠে বললো,
“এই একদম মিসেস চাটনি বলবেন না,আমি কিন্তু আপনার কলিজা ভুনা করে খেয়ে ফেলবো।”
“শুধু কলিজা না,আমার পুরো শরীর টাই তোমার খাদ্য হিসেবে নিবেদন করতে প্রস্তুত বেবি।এই রুপ যৌবন দিয়ে কি করবো যদি বউয়ের পেট ভরিয়ে বউকে গর্ভবতিই করতে না পারি।”
দুজনের খুনসুটি দেখে মুচকি মুচকি হাসলো ফুলমতি,রঙ্গরসিক কন্ঠে বললো,
“বাহ!নাতিন জামাই তুমি তো বেশ রসিকতা করতে জানো।তোমার দাদাও তোমার মতই ছিলো।”
“কেমন ছিলো বুঝাই আছে বুড়ি,একটা সন্তান জন্ম দিয়েই হাওয়া উড়ে গেছে,আমি হলে এক প্রসেসিং এই চারটা সন্তান জন্ম দিতাম।”
নিস্পা রেগে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই ভেসে এলো ইভানে কন্ঠ,
“যা বলছেন ভেবে বলছেন তো স্যার?যত বাচ্চা তত খরচ।”
গ্রিবা বাকিয়ে দরজার দিকে তাকালো ত্রিজয়,ততক্ষণে ইভান ভেতরে এসে দাঁড়িয়েছে।এক প্রশ্নে ত্রিজয়কে কাবু করতে পেরেছে ভেবে ত্রিজয়ের দিকে তাকিয়ে নাচাচ্ছে বা পাশের ভ্রু।ইভানের এমন কান্ডে পিচলে হাসলো ত্রিজয়,কুটিল কন্ঠে বললো,
“সেজন্যই তো বলছি ইভান,একসাথে চারটা বাচ্চা হলে এক ফিডারেই চারটাকে খাওয়ানো যাবে,চারটার জন্য আলাদা আলাদা কিনতে হবে না।একটা কিনলেই বাচ্চা সহ বাচ্চার মাকেও কভার করা যাবে।”
ফোস করেই চুপসে গেলো ইভানের মুখটা,ভেতর ভেতর কিড়মিড় করে বললো,
“শালা কিপ্টা চারটা না দশটা বাচ্চা হোক তোর।তখন বুঝবি ঠেলা।”
ধৈর্যের সমস্ত বাধ ভাঙলো নিস্পার, এদের কথা শুনে অস্বস্তিতে ফেটে গেলো ভেতরটা।আর সহ্য করতে না পেরে আগুনঝরা অগ্নি কন্ঠে বললো,
“আল্লাহর দোহাই লাগে এখান থেকে বেড় হোন আপনারা।”
দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো ত্রিজয়,ইভানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“চল ইভান,বউ তো সুযোগ দিচ্ছে না,তোমার সাথে বসে না হয় পরিবার পরিকল্পনা টা সেরে ফেলি।”
রা রু করলো না ইভান।ত্রিজয়ের কথামতোই দ্রুত প্রস্থান করলো কক্ষ।
ত্রিজয় আর ইভান চলে যেতেই স্বস্তির শ্বাস ফেললো নিস্পা,ফুলমতির দিকে তাকিয়ে বললো
“তুমি ফ্রেস হয়ে নেও দাদি,আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসছি।”
বলেই উঠে দাড়ালো নিস্পা,ঘর থেকে বেড়োনোর জন্য উদ্যত হতেই ডেকে বসলো ফুলমতি,
“দাড়া বু।”
নিস্পা ঘুরে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বললো,
“কিছু বলবা দাদি?”
ফুলমতির চোখে মুখে স্পষ্টত ভয়,কন্ঠতালু কেঁপে কেঁপে উঠছে তার,যেন মনে হচ্ছে অন্য জগতে ডুবে গিয়েছে।
নিস্পা একটু বিব্রত হলো,উদ্বিগ্ন কন্ঠে ডাকলো,
“দাদি।”
ঘোর কেটে বেড়িয়ে এলো ফুলমতি,প্রলম্বিত শ্বাস টেনে প্রকম্পিত কন্ঠে বললো,
“তোর মনে আছে তোরে আমি ব্রিটিশ পুত্র আর ফ্লোরেন্সার গল্প কইছিলাম?নাতিন জামাইরে হুবহু সেই ব্রিটিশ পুত্রের লাহান লাগে।”
_____________
ডাইনিং টেবিলে বসে আপেল কাটছে প্রভা,ছুড়ি চালানোর প্রতিটি ধাপে ক্যাচ ক্যাচ শব্দ হচ্ছে।শব্দটা আলগোছে ভেঙে দিচ্ছে সকালের নিরবতা।ঠিক তখনই সেই শব্দটা ডিঙিয়ে ভেসে এলো আরও একটি শব্দ।প্রভার হাত তৎক্ষনাৎ থেমে যায়,তাকরিমের হটাৎ পদচারণায় শুরু হয় বুকের মধ্যকার ধুকধুক আওয়াজ।
বরাবরের মতোই তাকরিমের পায়ের গতি ব্যাস্ততায় মোড়ানো, তবে প্রতিদিনের তুলনায় আজ জেন একটু বেশিই ব্যাস্ততা দেখাচ্ছে তাকরিম।নিচে নেমে সোজা হাটা ধরেছে সদর দরজার দিকে।
প্রভা তৎক্ষনাৎ উঠে দাড়ালো,পেছন ডেকে বললো,
“কোথায় যাচ্ছেন?”
থমকালো তাকরিমের পা,গ্রিবা ঘুরিয়ে তাকালো প্রভার দিকে, গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“যেনেও জিজ্ঞেস করার ব্যাপারটা আমার অপছন্দ প্রভা।”
প্রভা ঠোঁট টিপে প্রসঙ্গ পাল্টালো,চিবুক নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“অনু মেয়েটার কি করবেন?”
“তার ব্যাবস্থা করতেই যাচ্ছি।”
তাকরিমের সংক্ষিপ্ত জবাবে চিবুক তুললো প্রভা,অবিলম্বে প্রশ্ন ছুড়লো,
“কোন দেশের?”
“আমেরিকার অনেক বড় স্মাগলার।তার একমাত্র ছেলে।”
“ব্লাড স্যাম্পল মিলেছে?”
“বলেছে তো মিলেছে, তাও একবার নিজে গিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে।”
প্রভা তপ্ত শ্বাস ফেললো,চাপা স্বরে বললো,
“যা করার দ্রুত করুন,মেয়েটাকে আমার একটুও সহ্য হচ্ছে না।”
তাকরিম ঘাড় কাত করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো প্রভার দিকে,সন্দিহান কন্ঠে আওড়াল,
“তার মানে তো তোর আলেকজান্দ্রাকেও সহ্য হতো না প্রভা।”
তাকরিমের এমন বাক্যে থতমত খেলো প্রভা,অপ্রস্তুত কন্ঠে বললো,
“ফ্লোরেন্সা আর এই মেয়েটা আলাদা ব্যাপার।”
“কিন্তু আমার কাছে তো ভয়ংকর ব্যাপার মনে হচ্ছে।”
তাকরিমের গমগমে কন্ঠস্বরে ভড়কালো প্রভা,কপাল কুচকে বললো,
“কিসব বলছেন আপনি?”
তাকরিম তাচ্ছিল্য হাসলো,রুদ্ধশ্বাসে বললো,
“কোনভাবে খুনিটা তুই নয়তো সুফি?”
তাকরিমের এবারকার কথায় ফুফিয়ে উঠলো প্রভা,কোটর ছাপিয়ে এলো তপ্ত জলে,মিনতি ভরা কন্ঠে বললো,
“আপনার পায়ে পরি ভাইয়া,ভালোবাসতে না পারেন,কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিবেন না দয়া করে।”
তাকরিমের কন্ঠ শক্ত,অবিশ্বাসী কন্ঠে বললো,
“মিথ্যা? তাহলে সত্যি কোনটা? তুই নিজের মুখেই বল।”
প্রভা শুকনো ঢোক গিলে বিগলিত কন্ঠে বললো,
“সত্যি, সত্যি এটাই যে আমি কাউকে মারি নি।কারো ক্ষতি করিনি।”
“তাহলে মিথ্যা বলেছিলি কেন?চাচি তো সন্তান জন্মাতে ব্যার্থ ছিলো তাহলে তুই কি করে জন্মেছিলি?”
“আপনিও তো আমাকে মিথ্যা বলেছিলেন,আপনি ফ্লোরেন্সাকে ভালোবাসার দোহাই দিয়ে আমাকে বিয়ে করতে চান নি, অথচ কি সুন্দর ফ্লোরেন্সাকে আঁটকে রেখে এক বহুরুপী কে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন।”
“সেটা করা আমার ঠিক হয়নি কিন্তু ভুলও তো হয় নি প্রভা।কারণ সেই বহুরূপী আর কেউ ছিলো না সে ফ্লোরেন্সাই ছিলো ফ্লোরেন্সার পূনর্জন্ম।”
প্রবল অধিকার বোধ দেখিয়ে তাকরিমের হাতটা টেনে নিলো প্রভা,তাকরিমের হাতের কালো রঙের গড়িটার দিকে তাকিয়ে বললো,
“দেরি হয়ে যাচ্ছে আপনার।”
তাকরিম এক পলক তাকালো ঘড়ির দিকে তারপর প্রচন্ড আক্রোশে প্রভার হাতের ছুরিটা টেনে নিয়ে চেপে ধরলো প্রভার গলায়,রুক্ষ স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
“এড়িয়ে যাচ্ছিস যা,কিন্তু আমার উপর দিয়ে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করিস না।”
ছুরির আচরে কিঞ্চিৎ বিদীর্ণ হলো প্রভার গলার পাতলা চামড়া,ব্যাথায় চোখ খিচে অস্পষ্ট আওড়াল,
“আহ ছাড়ুন।”
তাকরিম এক ধাক্কায় ছেড়ে দিলো প্রভাকে,তারপর রুদ্র কন্ঠে বললো,
“খোদার কসম যদি কখনো টের পাই তোর দ্বারা আমার আলেকজান্দ্রার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সোজা জান নিয়ে ফেলবো তোর।”
আর এক মূহুর্ত দেরি করলো না তাকরিম,প্রভাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে গটগট পায়ে প্রস্থান করলো দ্রুত।প্রভা ছিটকে গিয়ে পড়লো ডাইনিং টেবিলের চেয়ারের উপর, টাল সামলাতে গিয়ে চেপে ধরলো কাঠের চেয়ার,তারপর ধিরে ধিরে উঠে দাঁড়িয়ে হাত ছোয়াল গলার কাঁটা স্থানটায়।ঠিক তখনই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা,ছুরির আচরে বিদীর্ণ হয়ে যাওয়া স্থান টা মিলিয়ে গেলো, ক্ষত চামড়া অক্ষত রুপে ফিরে এলো এক লামহায়।অদ্ভুত স্বরে বিরবির করে আওড়াল,
“আপনাকে ভালোবেসে অভিশপ্ত আমি, মৃত্যুর আকাঙ্খায় ছটফটাই প্রতিদিন।”
______________
ইভানকে নিয়ে সোজা নিজের অফিস কক্ষে এসে থেমেছে ত্রিজয়।লেদারে মোড়ানো নান্দনিক চেহারটাতে বসেই পূর্ণ দৃষ্টিতে ইভানের দিকে তাকালো সে,নির্লিপ্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো,
“রাতে কোথায় গিয়েছিলে ?”
ইভান থমথমে কন্ঠে উত্তর দিয়ে বললো,
“মার্কেটে গিয়েছিলাম স্যার।”
তরাগ করে চোখ উল্টে তাকায় ত্রিজয়,ভ্রুকুটি করে শুধায়,
“কেন?”
ইভান চুপসে যায়,ইনিয়েবিনিয়ে ছোট্ট করে বলে
“এমনি।”
ত্রিজয়ের কন্ঠে কঠোরতা,সে পুনরায় একই ক্রোধ চেপে বললো,
“কেন গিয়েছ সেটা বলতে বলেছি।”
ইভান দাঁতে দাঁত পিষে রক্ত জমাট কন্ঠে এক নিঃশ্বাসে উত্তর দিলো,
“আন্ডারওয়্যার কিনতে গিয়েছি স্যার!গত দুই বছর আপনার জাইঙ্গা পড়তে পড়তে জীবনের সাথে মেইন সুইচও ত্যানাত্যানা হয়ে গিয়েছে ।আমার কপালের মতো জাইঙ্গার অবস্থাও এখন টুটাফুটা।”
ত্রিজয়ের অভিব্যক্তি তখনও একই রকম,আঙুলের মাথায় একটা পেন্সিল ঘুরাতে ঘুরাতে বললো,
“তোমার একাউন্টে কত টাকা আছে এখন?”
ভ্রুকুটি তুলে চাইলো ইভান,কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কেন স্যার?”
“বলতে বলেছি বল।”
“দশ লাখ।”
“ওখান থেকে এক লাখ আমার একাউন্টে ট্রান্সপার করে দিবে।”
“কেন স্যার?”
ত্রিজয় একটা সিগারেট ধরালো ততক্ষণে,তারপর ইভানের পানে তাকিয়ে বললো,
“দু বছরে পঞ্চাশ হাজার করে হলেও এক লাখ টাকার আন্ডারওয়্যার কেনা লাগতো তোমার,আমি তো তোমাকে ফ্রিতে দান করে এতোগুলো টাকা বাচিয়ে দিলাম।”
সিগারেটের বাষ্পিভূত ধোয়া উড়িয়ে দিয়ে আবার শান্ত কন্ঠে বললো,
“কিন্তু তোমার তো টাকার মায়া নেই ইভান,তাই ভাবলাম তোমার টাকার প্রতি মায়া দেখিয়ে বস হিসেবে আমার দায়িত্ব টা পালন করা উচিত।”
পুরো দমে বিরোধিতা জানালো ইভান,চাপা ক্রোধিত স্বরে বললো,
“কিন্তু ওইগুলা আপনার ইউজ করা ছিলো স্যার!”
“তোমাকে না দিলে ওগুলো আমি আরও চার বছর ইউজ করতে পারতাম।”
ত্রিজয়ের সোজাসাপ্টা উত্তরে রাগে ভেতর ভেতর কিড়মিড় করে উঠলো ইভান,বিরবির করে বললো,
“শালা কিপ্টার বাচ্চা অভিশাপ দিলাম তোর মেইন শুইচে আগুন লাগুক।”
ত্রিজয় ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো,প্রশ্নবিদ্ধ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু বললে?”
ইভান নড়েচড়ে দাঁড়ায়, ক্ষোভ চেপে রেখে উত্তর দেয়,
“না স্যার তেমন কিছু না।”
পরক্ষনেই চিবিয়ে চিবিয়ে ফের আওড়ায়,
“বলছিলাম রে শালা বলছিলাম তোর ভবিষ্যৎ আমার জাইঙ্গার মতোই টুটাফুটা হওয়ার দোয়া করছিলাম।”
এতোক্ষনে ত্রিজয়ের ব্যাক্তিত্বে ফুটে উঠেছে বিস্তর পরিবর্তন।মুখের ধরন পাল্টেছে,অভিব্যক্তিতে এসেছে কঠোরতা,একটু আগের ত্রিজয়টা পুরোপুরি মিলিয়ে গিয়েছে শক্ত খোলশের আবরনে।পরিস্থিতি আঁচ করেছে ইভান,দাঁড়িয়েছে শক্ত মুখে।
সিগারেটটা ততক্ষণে শেষ করেছে ত্রিজয়,পোড়া অংশ টুকু ফেলে না দিয়ে চেপে ধরলো বৃদ্ধাঙুল দিয়ে,গমগমে স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“খবর নিতে বলেছিলাম নিয়েছিলে?”
হ্যা সূচক মাথা নাড়িয়ে তৎক্ষনাৎ সায় জানালো ইভান,
“হ্যাঁ স্যার।আপনার সন্দেহই ঠিক।এমপি মশাই খুব ঠান্ডা মাথায় এই খেলার গুটি সাজিয়েছে।”
ত্রিজয় নিম্ন ঠোঁট বাকিয়ে বক্র হাসলো, নিরেট কন্ঠে বললো,
“এমপি মশাই এখনো আমাকে চিনে উঠতে পারে নি ইভান।”
কোনরুপ কপটতা দেখালো না ইভান,ত্রিজয়ের সাথে সাথে নিচের ঠোঁট টা কিঞ্চিৎ এলিয়ে দিলো সে নিজেও,অত:পর স্পষ্ট গলায় বলল,
“প্রথমত জান্নাত নামটা তার আসল নাম নয়, তার নাম হলো জেসিকা।সে ছোট থেকে বড় হয়েছে আমেরিকায়।বাংলাদেশে এসেছে কোন এক বিশেষ কাজে।মেয়েটা আপনাকে বিয়ের কথা বলে নিজ ইচ্ছেতেই আমেরিকায় চলে গিয়েছিলো পুনরায়, সেখানে প্রায় বেশ কয়েকজনের সাথে লিভিং রিলেশনে থাকার পর একটা বাচ্চাও জন্ম দেয়।এমপি মশাই ওই বাচ্চাটাকেই গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।ওই বাচ্চাকে মারার ভয় দেখিয়ে দেশে আসতে বাধ্য করেছে জান্নাত অরুপে জেসিকাকে।এবং প্ল্যান অনুযায়ী ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করিয়েছে নিজের বোনকে।যদিও এমপি মশাই এমন কিছু করবে সে ব্যাপারে কিছুই জানতো না জেসিকা।”
ত্রিজয় নির্বিকার শুনলো,ঠান্ডা কন্ঠে শুধালো,
“হসপিটালে গিয়েছিলে?”
ইভান কলের পুতুলের ন্যায় নির্লিপ্ত উত্তর দিলো,
“পুরোপুরি সুস্থ।কাল ডিস্টার্জ করে দেওয়া হয়েছে।”
“কোথায় রেখে এসেছ?”
“গেস্ট হাউজে।”
চেয়ার ঠেলে উঠে এসে দাড়ালো ত্রিজয়,ইভান ভরকে কপাল গোছাল,তড়িৎ জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় যাচ্ছেন স্যার?”
উত্তর দিলো না ত্রিজয়,বরং রক্ত জমাট কন্ঠে বললো,
“বাসায় যাও তুমি।”
“পরিস্থিতি কিন্তু ভয়াবহ স্যার।জেসিকার উদ্দেশ্য আপনাকে আর নিস্পা ম্যামকে আলাদা করা।”
“তার আগেই ওর শরীর থেকে কলিজাটা আলাদা করে ফেলবো আমি।”
ঠান্ডা কন্ঠে কথাটা বলেই দাম্ভিক পদাচরনে কক্ষ থেকে বেড়িয়ে গেলো ত্রিজয়,যেতে যেতে ফের আওড়াল,
“ডোন্ট ওয়ারি।”
__________
পুরো ঘর অন্ধকার।ঘরের আসবাবপত্র তেমন একটা বোঝা যাচ্ছে না।তবে ঘরের দেয়ালের ফাটল দিয়ে একটা তীর্যক আলোক রশ্মি সরাসরি এসে পড়েছে একটা ঝুলন্ত কাটা মাথার উপর।মৃদু হাওয়ার সাথে মাথাটা এদিক ওদিক ধুলছে,ঠিক তার বরাবরই একটা স্টিলের পাত্র পেতে রাখা নিচে।কাটা মাথাটা থেকে চুইয়ে পড়া ফোটা ফোটা রক্ত বৃষ্টির ফোটার মতো একটা একটা করে গিয়ে পড়ছে সে পাত্রে।
গায়ে কাটা দেওয়ার মতো লোমহর্ষক দৃশ্যে যে কারোরই ভয় জ্ঞান হারানোর কথা।অথচ সেই বৃদ্ধা কি ভয়ংকর তৃপ্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে সেই কাটা মাথার দিকে,এমন বিভৎস দৃশ্যের মাঝে সে খুজে পাচ্ছে অতৃপ্ত আনন্দের খোরাক।
বৃদ্ধা ধীরে ধীরে উঠে দাড়ালো, তার চামড়া কুচকানো হাতটা বাড়িয়ে দু হাতে তুলে নিলো রক্তের বাটিটা,তারপর বড় আনন্দের সাথে সেটা ঢালতে শুরু করলো নিজের মাথায়।মূহুর্তেই তার পুরো মুখ রাঙা হলো রক্তে,দেখতে কোন রক্তচোষা ভয়ংকর পিশাচিনির থেকে কম মনে হচ্ছে না তাকে।তার প্রতিটি প্রদেক্ষেপ ভয়ংকর।এই যে এখন ঘরের অপর কর্ণারে হেটে আসার দৃশ্যটা,কি যে বিভৎস,গায়ে কাটা তুলে দেওয়ার মতো।
সে ধিরে ধিরে গিয়ে দাড়ালো একটা আয়নার সামনে,তারপর একটা ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে মুখের সামনে রাখল নিজের,আয়নায় ভেসে উঠলো তার এক অনন্য প্রতিবিম্ব।ম্যাচের কাঠিতে জ্বলন্ত আগুন যে আলো উৎপন্ন করেছে সে আলোয় আলোকিত হয়েছে তার মুখের ডান পাশ,বিস্ময়কর ভাবে আলো পড়া অংশটুকুতে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা গেলো।বৃদ্ধ্বার পুরো শরীরের চামড়া কুচকানো হলেও মুখের আলোকিত অংশটুকু টানটান কোমলরঙা ত্বক,যেখানে কোন কুচকানো ভাব নেই,নেই বৃদ্ধের কোন চিহ্ন,মনে হচ্ছে এ সম্পূর্ণ এক যুবতি।
তখনই কাঠিটা জ্বলতে জ্বলতে নিভে গেলো,পুরো ঘর পুনরায় নিমজ্জিত হলো অন্ধকারে,সেই অন্ধকার ছাপিয়ে ভেসে এলো বৃদ্ধার গুনগুনিয়ে কান্নার আওয়াজ,ফুফিয়ে কাঁদছেন তিনি,বিরবিরিয়ে বলছেন,
“আমি সুন্দরি হতে চাই ফ্লোরেন্সা,তোর মতো সুন্দরী।আমি অপেক্ষা করতে চাই ধ্বংসের,রচনা করতে চাই আরও একটি পূনর্জন্ম।যেখানে আমি মৃত্যু পাবো,জন্মাবো প্রিন্সেস হয়ে।জয় করে নেবো আমার আইরিশ ভাই কে।”
চলবে,,,,,,,,,,
⭕আমি বোনাস পর্ব সামান্য এডিট করেছি,ওইযে ধলা বু এর অবাঞ্চিত কয়েকটা লাইন লিখেছিলাম সেটা মুছে দিয়েছি ব্যাস এই টুকুই।পুরো গল্পে আর কোন পরিবর্তন নেই।
এই গল্পের মূল কথা হলো নিস্পা ফ্লোরেন্সার পূনর্জন্ম।তবে টুইস্ট এইটুকুই যে নিস্পা নিজের অতীতে মানে নিজের আগের জন্মে গিয়ে সবটা নিজ চোখে দেখেছে তার নিজের সাথেই দ্বন্দে জড়িয়েছে।ব্যাস এই টুকুই।তারপর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ফ্লোরেন্সা মরেছে সবার মতো করে নিস্পা হয়ে জন্মেছে।পুরো গল্পে ফ্লোরেন্সা একটাই।নিস্পাই ফ্লোরেন্সা,দ্বিতীয় কোন নিস্পা বা ফ্লোরেন্সা নেই।আর বুড়ির পরিচয় টা সামান্য ঘুরিয়ে দিয়েছি।গল্পের অনেক জায়গায় বৃদ্ধার কথা উল্লেখ করেছি তাই সবটা এডেটিং করার বোকামি করতে পারছি না।মোটকথা বৃদ্ধা ফ্লোরেন্সা নয় অন্য কেউ।আর সেই অন্য কেউ টা কে যারা বুঝেছ তো বুঝেছ, আর যারা বুঝো নাই তারা টুইস্টের জন্য অপেক্ষা কর।⭕

