#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:61
সকাল দশটা।নিভু নিভু চোখ খুলতেই নিস্পা নিজেকে আবিষ্কার করলো নরম বিছানায়।কখন এলো সে এখানে?ভুল না হলে এটা ত্রিজয়ের বেডরুম।এখানে কখন নিয়ে আসা হলো তাকে?মনে করতে পারছে না নিস্পা।শেষ রাতের দিকে ত্রিজয়ের মাত্রাতিরিক্ত দংশনে জ্ঞান হারিয়েছিলো মেয়েটা।তারপর তার এই শরীরের উপর ত্রিজয়ের চোটপাট ঠিক আর কতক্ষণ চলেছিলো যানা নেই তার।
সে ধিরে ধিরে উঠে বসলো ।শরীরের প্রতিটি লোমকূপের গোড়ায় গোড়ায় বিষব্যাথা ছড়িয়ে পড়েছে।পুরো শরীর যে কাল সারা রাত একটা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করার অবকাশ রাখে নি ত্রিজয়।
নিস্পার শরীরে ত্রিজয়ের ওভার সাইজ টি শার্টটা কাঁটার মতো বিঁধছে।সে কি করবে ভাবতে পারছে না।কাল রাতের ভয়ংকর অনুভুতি গুলো ছাড়া মস্তিষ্ক আপাতত শূন্য।বর্বর দৃশ্যগুলো যতবার মনে পড়ছে ততবার মনে হচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ড ভয়ংকর, বেঁচে থাকা অর্থহীন।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ডুকরে কেঁদে উঠলো নিস্পা।নিজেকে বড্ড বেশি অসহায় মনে হলো তার।ত্রিজয়ের লেপে দেওয়া কলঙ্কের ভার এই শরীর কিছুতেই নিতে পারবে না।কিছুতেই মেনে নিতে পারবে না এই অনির্বচনীয় সত্য।
নিস্পা পাগলের মতো কাঁদলো আরও কিছুক্ষণ।তারপর? তারপর দ্রুত উঠে দাড়ালো বিছানা থেকে।উন্মাদের মতো এদিক সেদিক তাকিয়ে তুলে নিলো একটা চেয়ার।চেয়ারটা দু’হাতে তুলে এনে রাখলো বিছানার উপর।তারপর ফ্লোরের উপর পরে থাকা তার ওড়নাটা তুলে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর নিঃশ্বাস ছাড়লো বুক চেপে।
জীবনের কঠোর থেকে কঠোরতম সীদ্ধান্তে উপনীত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো চেয়ারের উপর।হাতের ওড়নাটা বাধলো সিলিংফ্যানে,তারপর আরেক অংশ নিয়ে বাঁধলো নিজের গলায়।
কি এক ভয়ংকর মূহুর্ত।মৃত্যুকে উপলব্ধি করার প্রতিটি সেকেন্ডের সাথে বুক টিপটিপ করে উঠলো নিস্পার।চোখ বন্ধ করে ঠোঁট কামড়ে যেই না পায়ের নিচের চেয়ারটা ধাক্কা দিয়ে ফেলতে যাবে ঠিক তক্ষুনি ত্রিজয় ছুটে এলো টগবটে ঘোড়ার ন্যায়।দুইহাতে নিস্পার শরীর টা আগলে নিয়ে ভয়ে বিভ্রান্ত কন্ঠে বললো,
“এই এই কি করছিস তুই?এই কি করছিস তুই?”
ত্রিজয় হাত চালালো,খুলে ফেললো নিস্পার গলায় বাঁধা ওড়নার গিট।অথচ ঘৃনায় রিরি করে উঠলো নিস্পার শরীর।ত্রিজয়ের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে বললো,
“আমি মরে যাবো।মরে যাবো আমি।আপনি আমাকে কলঙ্কিত করেছেন।”
নিস্পা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটপট করছে,ত্রিজয় শক্ত দুইহাতে চেপে ধরেছে নিস্পার দুই গাল।নিস্পাকে স্থির করে চোখে চোখ রাখলো, মনে হচ্ছে ত্রিজয়ের রক্তাক্ত দুই চোখ থেকে সত্যি সত্যিই রক্ত বের হচ্ছে।কি ভয়ানক অগ্নি চাহনি তার,যেকোনো মূহুর্তে নিস্পাকে ভস্ম করার কাজে উঠে পড়ে লাগবে বোধহয়।অথচ তেমন কিছুই হলো না,মস্তিষ্কের সমস্ত জেদ চোখের কোটরে চেপে রেখে দাঁতে দাঁত খিচে বললো,
“কথা কি বুঝে শুনে বলছিস নাকি ডেট ওভার গাজা খেয়ে কথা বলছিস?”
নিস্পা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ধাক্কা দিলো ত্রিজয়ের নগ্ন বুকে,চেচিয়ে বললো,
“এই একদম বাজে কথা বলবেন না।আমাকে ছাড়ুন।”
নিস্পার কোমল হাতের ধাক্কা এক বিন্দুও নড়াতে পারলো না ত্রিজয়কে,ত্রিজয় যেমনটি ছিলো ঠিক তেমনটিই নিস্পার দুইগাল আরও জোরে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো,
” এই আমি তোর হাসবেন্ড,আমি তোকে মারবো কাঁটবো,কামড়াবো,চুম্মাবো যা ইচ্ছে করবো,তাতে তুই কলঙ্কিত কেন হবি?”
নিস্পা হাঁপালো,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“কীসের হাসবেন্ড? আপনাকে হাসবেন্ড হিসেবে মানি না আমি।কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিলো।”
“তো? হয় তো নি এখনো। আর ভবিষ্যতে হবেও না।মাথায় ঢুকিয়ে নে,আমি তোকে এজন্মে তো নয়ই আগামী সাত জন্মেও ছাড়বো না।”
“কিন্তু আমি আপনাকে সুযোগ দেবো না, আমি আগামী সাত জন্ম মৃত্যু দিয়েই আপনার সাথে বিচ্ছেদ চাইবো।”
ত্রিজয় আর সহ্য করতে পারলো না,রাগে জেদে ফেটে গেলো তার চোয়াল,রাগে গজগজ করে সে জোড়ালো একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো নিস্পার গালে,জ্বলন্ত কন্ঠে বললো,
“কারণ টা কি?কারণ টা কি হ্যাঁ? শুধুমাত্র আমি খুনি বলে?তবে যেনে রাখ আজ পর্যন্ত কোন নির্দোষ প্রাণী কে আমি সজ্ঞানে হত্যা করি নি।”
থাপ্পড়ের তোপে ছিটকে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো নিস্পা,ত্রিজয় চট করেই চেপে ধরলো তার হাতের কব্জা,হেচকা টানে টেনে আনলো নিজের বুকের কাছে,অথচ নিস্পার মাথার রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো,ত্রিজয়ের এমন মিথ্যা কথার বিপরীতে ব্যাঙ্গ করে বললো,
“ওহ রিয়েলি?আপনি সত্যি বলছেন এখন এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?আপনি বলছেন আপনি নির্দোষ কোন প্রানীকে হত্যা করেন নি অথচ আপনি একটা নিস্পাপ শিশুকে হত্যা করেছেন নির্মম ভাবে।”
“ওই শিশুকে হত্যা করি নি আমি।”
ত্রিজয়ের সুস্পষ্ট জবাবে একটুও প্রভাবিত হলো না নিস্পা,বিদ্রুপ কন্ঠে বললো,
“আমি আপনার এই জঘন্য মিথ্যা কথাটা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নই।”
“আমার কাছে প্রমাণ আছে।আমি তোমাকে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রমাণ করে দেবো আমি বাচ্চাটাকে হত্যা করি নি।”
“আপনি নিজেকে প্রমাণ করার আগে আমার মৃত্যু হোক।”
ত্রিজয় আবারও নিয়ন্ত্রণ হারালো,রাগে আক্রোশে আক্রোশে চেপে ধরলো নিস্পার গ্রীবাদেশ, রাগে থরথর করে বললো,
“এতো ঘৃনা আমায়?এতো ঘৃনা? যে বারবার মৃত্যু চাইছিস।”
নিস্পা চোখ খিচে বন্ধ করে উত্তপ্ত কন্ঠে বললো,
“যদি বলি এক আকাশ পরিমাণ ঘৃনা।দুই জনমের সবটুকু ঘৃনা সঞ্চিত হয়েছে শুধু আপনার নামেই।”
ত্রিজয় নিস্পার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলো এবার,ছুড়ে ফেলার মতো করে ধারালো কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,
“তাহলে মরে যা।এতো ঘৃনা নিয়ে বাঁচার প্রয়োজন নেই।”
নিস্পার চোখে পানি।দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে ফুপিয়ে কাঁদছে সে,কান্নার তোপে মৃদু কম্পিত হচ্ছে তার শরীর।অথচ ত্রিজয়ের কিছু এলো গেলো না এবার,বরং পুনরায় বিষাক্ত স্বরে বললো,
“মরে যা।”
নিস্পা খুটির মতো দাঁড়িয়ে ফুপিয়েই যাচ্ছে।কিন্তু মায়াদয়া দেখালো না ত্রিজয়।ভেতরকার অসহনীয় চাপা যন্ত্রণা বারুদের ন্যায় ব্লাস্ট করছে কেবল।সে হাত বাড়িয়ে চেপে ধরলো নিস্পার বাহু।প্রচন্ড ক্ষোভে ফোসফোস করতে করতে নিস্পাকে দু’হাতে তুলে নিয়ে একইভাবে দাঁড় করিয়ে দিলো চেয়ারটার উপর।তারপর সিলিংফ্যানের সাথে বাধা ওড়নাটার ঝুলন্ত অংশ নিস্পার গলায় বেঁধে দিয়ে বললো,
“নে, ওড়নাটা আবার ঠিকঠাক বেধে দিলাম।খুশি খুশি ফাসি দিয়ে বিদায় হ।”
ক্রোধে অভিমানে ফেটে গেলো নিস্পার ভেতরটা, ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো,
“আপনি আমাকে নিয়ে তামাশা করছেন?”
“মোটেও না।তুই কোন বাল আমার?তোকে নিয়ে তামাশা করবো?মর তুই।আফসোস নেই একদম।চাটনির প্যাকেট খোলা থেকে শুরু করে খাওয়া সব শেষ।তুই এখন বাঁচলেই কি মরলেই কি?আই ডোন্ট কেয়ার।”
কান্নার বাধ ভাঙলো এবার।চোখের পানিতে জোয়ার নামলো বোধহয়, অভিমানের পাল্লা ভারি হলো পরতে পরতে, নিস্পা বিষাধ রাঙা কন্ঠে বললো,
“আপনি আমার শরীরের জন্য এতোদিন ভালোবাসার কথা বলতেন?”
ত্রিজয় বিষ ছড়ানো স্বরে ছুড়ে দিলো কতগুলো তিক্ত বাক্য,
“তো?তোর কি মনে হয়? তোর মতো মেয়েকে ত্রিজয় তেজ ভালোবাসবে?মাই ফুট।মর বইন তুই।মরে বাঁচা আমাকে।”
নিস্পার গলা চেপে এলো, বিমর্ষ চোখে তাকালো ত্রিজয়ের শক্ত মুখের দিকে,ত্রিজয়ের এই অন্য রুপের সাক্ষাতে চোখ জোড়া অযথাই বেহায়া উপাদি পেতে উঠেপড়ে লেগেছে,এই মানুষ টা সত্যিই কি তার শরীরের জন্য। ছিঃ!কণ্ঠনালী চেপে আসলো নিস্পার,টেনেটুনে গলার স্বর ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে বলতে চাইলো,
“আপনি,,,,, ”
সম্পূর্ণ বাক্য উচ্চারণ করার আগেই থামিয়ে দিলো ত্রিজয়,রাগচটা অগ্নি কন্ঠে বললো,
“এই,, এই একদম প্যাচপ্যাচ করে কাঁদবি না।মরতে হলে মর, নয়তো আমি যাচ্ছি।”
ত্রিজয় আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না।রাগে মাথা ছিড়ে যাচ্ছে তার।এখানে আরও কিছুক্ষণ দাড়ালে হয়তো নিজের হাতে নিজেই এই পাজিল মেয়েটাকে গলা টিপে মেরে ফেলবে।কতবড় সাহস মৃত্যু দিয়ে বিচ্ছেদ চায়,বিচ্ছেদের মায়রে বাপ,এ মরুক তাও বিচ্ছেদ না হোক।কথাগুলো বিরবির করে রাগের মাথায় ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় ত্রিজয়।
ত্রিজয়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ঠোঁট ভাঙা কান্না সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথলে উঠলো নিস্পার,যাতনার দাবদাহে ভেতরটা চৌচির হয়ে খাক হয়ে হয়ে গেলো তার,টের পেলো বুকের কোথাও সুক্ষ্ম ব্যাথা উইপোকার মতো কিলবিল করে ঘুরছে।পুনরায় চোখ জ্বলেপুড়ে এক ছটাক বর্ষা নামলো আচমকা,দু’হাতে চেপে ধরলো গলায় গিট বাঁধা ওড়নাটা।চোখ বন্ধ করে নিজের পরিনতির কথা ভাবলো কিছুক্ষন।নিজেকে সামলে নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেওয়ার জন্য উদ্যত হতেই শুনতে পেলো এক শ্রুতিমধুর চিকন কন্ঠ,
“কিলো অলিক কন্যা?অভিমান কি এখনো ভাঙে নাই?”
তরাগ করে চোখ মেলে চাইলো নিস্পা,হন্যে হয়ে দিকভ্রান্তের ন্যায় তাকালো এদিক সেদিক,উন্মাদের মতো ডাকলো,
“সত্যবীনা পাখি?সত্যবীনা পাখি তুমি এসেছ!”
সত্যবীনা পাখি ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়ে এসে বসলো নিস্পার সামনে,চিকন স্বরে বললো,
“না আইয়া থাকতে পারলাম কই কন্যা।তোমার মান ভাঙার জন্য তো আমার আইতেই হইলো।”
নিস্পা ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠলো,হাহাকার মিশ্রিত কন্ঠে বললো,
“এটা অভিমান নয় সত্যবীনা পাখি, এটা চরম অভিযোগ।জীবনের প্রতি বড্ড বেশি বিতৃষ্ণা।”
“কেন অলিক কন্যা?জীবন তোমারে কত সুন্দর সুযোগ দিলো,অথচ তুমি অভিযোগ কেন তুলছো?”
নিস্পা বুঝলো না সত্যবীনার হেয়ালিপনা,সে ,বেদনাভরা কন্ঠে বললো,
“হেয়ালি কেন করছো সত্যবীনা পাখি?আমি জানি তোমার কোন কিছুই অজানা নয়।”
“তাইলে তো এইডাও জানো যে আমি অতীতেরও কোন কিছু অজানা নয়।”
“সেটা তুমিই ভালো বলতে পারবে সত্যবীনা।তুমি তো কখনোই কোন প্রশ্নের সহজ সমাধান দেওনা।তুমি মানেই তো জটিলতা।তাই তোমার কাছে আমি অতীতের কোন সত্য জানার আশা রাখি না।”
“আইজ কিন্তু আমি তো তোমারে একটা আশা দিতে আইছি কন্যা।”
চাতক পাখির ডানা ঝাপটানোর ন্যায় চোখের পেলব ঝাপটালো নিস্পা,এক বুক হতাশা নিয়ে ব্যাগ্র চিত্তে বললো,
“কি আশা?বেঁচে থাকার ইচ্ছে জীবিত করার মতো আশা দিতে চাইলে প্লিজ দিও না।আমি হাফিয়ে উঠেছি।”
সত্যবীনা কোমল সুর তুলে বললো
“তুমি জানতে চাইছিলানা সত্যের খুনি কে?”
নিস্পা তেমন একটা আগ্রহ না দেখিয়ে বললো,
“প্রিন্স জোসেফ ছাড়া আর কে?এই সহজ প্রশ্ন গুলো করে জটিলতা তৈরি করো না সত্যবীনা।”
“আমি যদি কই প্রিন্স জোসেফ সত্যরে মারে নাই কন্যা?মারছে অন্য কেউ।”
সত্যবীনার মুখে এমন কঠিন সত্য শুনে গলা ধরে এলো নিস্পার,তটস্থ কন্ঠে বললো,
“তুমিও তামাশা করছো সত্যবীনা?”
“সত্যবীনা সত্য ছাড়া কখনো মিথ্যা বলে না কন্যা।সত্যবীনার জবান থেকে মিথ্যা কথা বের হওয়ার আগেই জবানে ক্ষয় হবে।”
নিস্পা ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্বের তোলপাড়,সত্যবীনা সত্য বলছে,অথচ এই সত্য বিশ্বাস করতে এতো বেশি কষ্ট কেন হচ্ছে তার?কোন কিছু ভাবতে পারছে না নিস্পা,কম্পিত কন্ঠে আওড়াল,
“আমি যে চোখের সামনে দেখলাম?”
সত্যবীনা নিজ জবানে বললো,
“চোখের দেখা ভুল হয় কন্যা।তুমি সেই ভুলেই বসত গড়েছ।”
“সত্যকে প্রিন্স জোসেফ মারেনি তাহলে কে মেরেছে সত্যবীনা?”
“সে প্রশ্নের উত্তর নিজে খুইজা লও কন্যা।ভাগ্য কিন্তু সবাইরে এক করার পরিকল্পনায় মেতেছে।”
“কিন্তু,,,,”
নিস্পাকে দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন করার সুযোগ দিলোনা সত্যবীনা,তাড়া দেখিয়ে বললো,
“আর কোন কিন্তু নাই কন্যা।জীবনের সঠিক মানুষ বাইছা লও।সময় খুব কম।আমারে এবার বিদায় দেও।”
নিস্পা ছটপট করে উঠলো,অজানা রহস্যে ঝাকিয়ে দিলো তার মস্তিষ্ক, সে উৎকন্ঠিত স্বরে বললো,
“বিদায় নেওয়ার আগে এটুকু অন্তত বলে যাও ত্রিজয় খুন গুলো কেন করছে?একটা খুনি কি করে আমার জীবনের সঠিক মানুষ হতে পারে?”
সত্যবীনা সাবলীল ভঙিতে বললো,
“যে মারে সে বাঁচানোরও কায়দা জানে কন্যা।সঠিক মানুষ চিনতে আর ভুল কইরো না।আর ভুল কইরো না।”
সত্যবীনা ডানা ঝাপটালো,উড়তে শুরু করলো নিস্পার মাথার উপর,যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে তার,অথচ নিস্পা এখনো সমাধান খুঁজে পেলো না,নড়বড়ে কন্ঠে বললো,
“তুমি চলে যাচ্ছো কেন সত্যবীনা?তুমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দেও নি।আরও জটিল করে দিয়ে গেলে সব।”
সত্যবীনা শুনে না,উত্তরও দেয় না,সে উড়তে উড়তে বেড়িয়ে যায় জানালা দিয়ে,নিস্পা চেচায়, খুব চেচায়, বারবার বলে,
“সত্যবীনা তুমি যেতে পারো না।আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাও।”
সকালের স্নিগ্ধ আলোয় মিলিয়ে যায় সত্যবীনা, শোনা যায় না তার ডানা ঝাপটানোর শব্দ।নিস্পা অসহায় হয়ে ডাকে,তার কন্ঠ নিস্তেজ হয়ে আসে,সে তবুও ডাকে,
“সত্যবীনা!সত্যবীনা!”
_________
ইভানের কথামতো চিত্রা হাজির হয়েছে ডক্টর কিয়ানের বাড়ির সামনে,হাত পা কাঁপছে তার।মিথ্যা কথা বলে কারো বাড়িতে প্রবেশ করা যে সে কাজ নয়।তারউপর শুনেছে লোকটা সাইকো প্রকৃতির, যদি একবার যেনে যায় সে এমপির পিএ, তাহলে কি যে হবে ভাবতে পারছে না সে।ভয়ে রুদ্ধশ্বাস আটকে আছে বুকে।ধড়পড় করছে হৃদপিন্ড।
এতো এতো ভয় বুকে চেপে যমের দুয়ারে চলে এলো সে,অথচ যার জন্য এলো সে ভালোবাসে অন্যকাউকে।কি ভাগ্য তার,নসিব বুঝি এজন্মেও মিলন লিখেনি তার ভাগ্যে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কলিংবেল বাজালো চিত্রা।কয়েকবার বাজানোর মধ্যেই ডক্টর কিয়ান দরজা খুললো হাট করে।
চিত্রাকে দেখেনি সে আগে,তাই চিনে উঠতে না পেরে ভ্রুকুটি তুলে জিজ্ঞেস করলো,
“ইউ?”
চিত্রা শুখনো ঢোক গিলে,আইঢাই করে বললো,
“আ,,,আমি অনুর ফ্রেন্ড।”
ডক্টর কিয়ানের মনে সন্দেহ জেগে উঠলো, তীক্ষ্ণ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“অনু এখানে তুমি জানলে কি করে?”
চিত্রা আরও বড় ঢোক গিললো, কি বলবে ভাবতেই হাঁপিয়ে উঠলো পুরো দমে,নিঃশ্বাস আটকে থেমে থেমে বললো,
“অ,,অ,,অনু ফোন করে বলেছিলো।”
কিয়ান যথেষ্ট চালাক,অনুর এমন জবাবে বক্র হাসলো সে,কারণ অনুর হাতে ফোন নেই,ফোনে কারো সাথে যোগাযোগ করার চান্স তো সেখানে জিরো পার্সেন্ট,এই মেয়ের উদ্দেশ্য অন্য,আর সেই উদ্দেশ্য জানার জন্যই কুটিল কন্ঠে ছোট্ট করে বললো,
“এসো।”
চিত্রা হাপ ছেড়ে বাঁচলো,পা টিপে টিপে ভেতরে এসে দাঁড়াতেই কিয়ান আঙুলের ইশারা দিয়ে দেখালো,
“অনু সেকেন্ড ফ্লোরে।”
চিত্রা ঘাড় কাত করলো দু দিকে।আর এক সেকেন্ডও বিলম্ব না করে সিড়ি ধরলো দ্রুত।ধরা পড়ার ভয়ে পায়ের তালু থেকে মাথা অব্দি কাঁপছে তার।
সে ধিরে ধিরে প্রবেশ করলো অনুর ঘরে।
অনু তখন বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে মাথায় হাত রেখে শুয়ে আছে।দো চোখ বন্ধ তার।
চিত্রা গভীর দৃষ্টিতে তাকালো অনুর দিকে,এই মেয়েটা তার সখের মানুষের সখের মানুষ। কি নিয়তি তার।খোদা তার কপালে যখন ইভানকে লিখলো না তাহলে কেনইবা দেখা করাতে গেলো তাদের?এই যন্ত্রণা, এই কষ্ট পুনরায় অনুভব করানো জন্য বুঝি।
তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললো চিত্রা।ছোট্ট করে ডাকলো,
“অনু।”
অনু জেগেই ছিলো, চিত্রার কন্ঠে চোখ খুলে তাকালো দ্রুত।চিত্রাকে চেনে সে,এমপি মশাইয়ের সাথে কয়েকবার দেখেছে তাকে।তাই প্রথম দেখাতে চিনতে অসুবিধা না হলেও, এসময়ে এ বাড়িতে চিত্রার উপস্থিতি বুঝে উঠতে পারলো না সে,এক মূহুর্তের জন্য ভাবলো হয়তো তাকরিম পাঠিয়েছে।কথাটা ভাবতেই বুক ধড়পড় করে উঠলো তার,বাকরুদ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“চিত্রা!আপনি?কেন এসেছেন এখানে?এমপি মশাই পাঠিয়েছে নাকি আপনাকে?”
চিত্রা দ্রুত এসে মুখে হাত রাখলো অনুর,কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
“হুশশ,একটু শান্ত হও।”
তারপর ঘনঘন ঢোক গিলে এদিক সেদিক তাকিয়ে বললো,
“আমাকে এমপি মশাই পাঠায় নি।”
অনু অবাক হলো,আশাহত কন্ঠে বললো,
“তাহলে কে পাঠিয়েছে?কেন এখানে এসেছেন আপনি?”
চিত্রা নিজের ফোন্টা ইভানের নাম্বারে ডায়াল করে এগিয়ে দিলো অনুর হাতে,ইশারায় বললো,
“এই নেও।”
স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ইভানের মুখ,অনু চরম বিস্ময়ে ফেটে পড়ে বললো,
“এটা তো,,”
“ইভান।কথা বলো।ও আমাকে এখানে পাঠিয়েছে।”
তন্মোধ্যেই ভেসে এলো ইভানের হাস্যজ্বল কন্ঠ,
“হ্যালো অনু।কেমন আছো তুমি?”
অনু বেশ বিরক্ত হলো,চুপসানো কন্ঠে বললো,
“হ্যাঁ ভালো আছি।আপনি এমপি মশাই এর পিএ কে কেন এখানে পাঠিয়েছেন?”
“আরেহ ভয় নেই।ও আমার খুব বিশ্বস্ত।এমপিকে কিছু জানাবে না।”
চিত্রা মলিন হাসলো,বুক ভরা বেদনা চেপে রেখে আওড়াল,
“বিশ্বাস করতে পারলেন অথচ ভালোবাসতে পারলেন না।”
অনু ইভানকে বললো,
“এখন বলুন ওনাকে এখানে কেন পাঠিয়েছেন?”
ইভান অনুভূতির প্রকাশে কৃপণতা না করে স্পষ্ট কন্ঠে বললো,
“তোমাকে দেখার জন্য। বিশ্বাস করো কলিজাটা ছটপট করছিলো।”
অনু আরেকটু বিরক্ত হলো,ইভানের পাগলামি যে নিতান্তই একপাক্ষিক সেটা তাকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো সে,তাই শান্ত কন্ঠে বলতে চাইলো,
“দেখুন আমার আপনাকে,,,,,
পুর কথা সম্পূর্ণ করার আগেই হাতের মোবাইলে টান পড়লো তার,কিয়ান আচমকা কেড়ে নিলো অনুর হাতে ধরা মোবাইলটা।অনু তড়িৎ উঠে দাড়ালো, মোবাইলটা ফেরত নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই,কিয়ান মুচড়ে ধরলো তার হাত,অত:পর ইভানকে ভিডিও কলে রেখে প্রচন্ড ক্ষিপ্রতায় ঠোঁট ডোবালো অনুর ঠোঁটে।ঘটনার আকস্মিকতায় ভড়কালো অনু চিত্রা দুজনেই।চিত্রা উপস্থিত বুদ্ধি কাজ করা বন্ধ করে দিলো,এদিকে অনু ছাড়া পাওয়ার জন্য কিল ঘুষি দিতে শুরু করলো কিয়ানের বুকে,অস্পষ্ট শব্দ করলো থেমে থেমে,
“উমমমম,,উমমম,,, উমমম।”
চলবে,,,
⭕রেসপন্স করুন।কাল আরেকটা পর্ব আসবে।পুরোটা শেষ করতে পারি নাই তাই যেটুকু লিখেছি সেটুকুই দিলাম।আর অপেক্ষা করাতে মন চাইলো না।পেজের রিচ কমে গেছে সবাই একটু কমেন্ট রিয়েক্ট করবেন।⭕

