#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:63
🚫হাত ভেঙে যাওয়ায় বাঁ হাতে টাইপ করতে হয়েছে, প্রচুর ভুল ত্রুটি হতে পারে, বানানেও সমস্যা থাকতে পারে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ)
“সেদিন বিয়ে বাড়ির পরিবেশ ছিলো ভয়ংকর রকমের থমথমে।আমি প্রতিটি সেকেন্ড সময় গুনছিলাম হাতের করে,সেকেন্ডে সেকেন্ডে আবার বুকের ভেতর একটা শব্দ হতো, সেটা নিশ্চয়ই আতঙ্কের শব্দ ছিল।ধরা পড়ার ভয় ছিল,কিন্তু আমার মনে প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল।আমি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম আমার আইরিশ ভাইকে হারিয়ে,আর কিছু সময় পর তার বিয়ে দেখতে হবে আমার,এটা আমার কাছে নরক সমতুল্য ছিল।
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই পরিবারের সবাইকে আমি শেষ করে দেব।যে পরিবার আমাকে অধিকার দেয়নি আমাকে স্বীকৃতি দেয়নি, যে পরিবারটা শেষ পর্যন্ত আমাকে আমার ভালবাসাটাও পেতে দেয়নি সেই পরিবারকে আমি কি করে ক্ষমা করি।তাই আমিও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম সবাইকে আমি নিজের হাতে খুন করব ,আমার আম্মার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিবো।
প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম আমি,তাই ছবির সাথে হাত মিলিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করার পরিকল্পনা করলাম।ছবি সাথে করে ঘুমের ওষুধ নিয়ে এসেছিল,আমি সুযোগ বুঝে সেই ওষুধ খাবারের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলাম।খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার অপেক্ষায় ছিলাম আমি।
কিন্তু না আমার পরিকল্পনা মতো কিছুই হলো না,খাবার খাওয়ার আগে যারাই পানি মুখে দিচ্ছিল তারাই বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল।তখনই আমার মনে পরল ওই একই পানি আমিও খেয়েছিলাম,তারমানে বিষক্রিয়া আমারও শুরু হতে চলেছে।আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না,আমি ছুটে গেলাম ফ্লোরেন্সার কাছে ।গিয়ে দেখলাম ফ্লোরেন্সা ঘরে নেই,কিন্তু আমার আর ঘর থেকে বের হওয়ার সামর্থ্য হলো না,সে বিষক্রিয়া সম্পূর্ণ কাবু করে ফেলেছিল আমার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।আমি মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সেখানে লুটিয়ে পড়েছিলাম।প্রতিশোধস্পৃহা বুকে নিয়ে আমি একবার তাকিয়ে ছিলাম ঘরের বাইরে।তারপর আর তাকানোর সুযোগ হয়নি,মৃত্যু আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল।বন্ধ করে দিয়েছিল আমার দু চোখ।
“তাহলে তুই যে বললি তুই বকুল গাছে ফাঁসি দিয়েছিস? মিথ্যে কেন বললি তাহলে?”
প্রভার কথার মাঝে ফোড়ন কাটলো তাকরিম।প্রভা শুখনো ঢোক গিলে পুনরায় বলতে শুরু করলো ফেলে আসা বীভৎস অতীত,
“সেদিন মৃত্যু বুকে নিয়েও মৃত্যু হয়নি আমার।আমি জেগে উঠেছিলাম।আমার বিষক্রিয়া কেটে গিয়েছিল পুরোপুরি।এমন একটা মিরাক্কেল সম্ভব ছিল না, কিন্তু এই অসম্ভব সম্ভব হলো কি করে সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।তখন আমি চোখের সামনে দেখতে পেলাম একজন অজ্ঞাত রমণীকে।সে আমার দিকে তাকিয়ে কে আমার বিদঘুটে হাসি দিচ্ছিল। ভয়ে আমার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল।আমি হন্যে হয়ে চারপাশে তাকালাম।আমার চারপাশে তখন লাশ আর লাশ।কত লাশের মধ্যে শুয়ে আছি আমি,গা হিম করা অনুভূতিতে আমার কলিজায় শুকিয়ে এলো। আমি ভয়ে লাফিয়ে উঠে বসলাম। তাকালাম সেই রমণীর দিকে।আতঙ্কিত কন্ঠে প্রশ্ন করলাম,
“আমি কোথায়? আমি তো মরে গিয়েছিলাম।”
রমণী কেমন উচ্চ স্বরে ভেসে উঠলো,অশরীর কন্ঠে উত্তর দিল,
“মর নাই মেয়ে তোমাকে আমি মরতে দেই নাই।”
আমি উম্মাদের মতো নিজের শরীর হাতড়ালাম, নাক মুখ চোখ ছুয়ে ছুয়ে দেখলাম, সব ঠিক ছিল।তখন আমার মাথায় শুধু একটাই প্রশ্ন, আমি তো মরে গিয়েছিলাম তাহলে বাঁচলাম কি করে?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয় নি আমার।সেই রমণী নিজ থেকেই বললেন,
“তুই এমনে এমনে বাছস নাই সুফি,তুই বাইচা আছোস অশরীরি শক্তির দ্বারা।”
আমার হৃদপিণ্ডটা থর থর করে কেঁপে উঠল,শব্দ ঘুম থেকে জেগে উঠা শিশুর মতো আমি ফুফিয়ে কেঁদে উঠলাম।রুদ্ধশ্বাসক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“কিভাবে বাঁচিয়েছেন আপনি আমাকে? একটা মৃত মানুষকে কিভাবে ভাসিয়েছেন আপনি? ”
উনি স্পষ্ট স্বরে জবাব দিল,
“কালো জাদু, কালো জাদু করে বাঁচিয়েছি তোমায়।তোমার জন্য একজন সন্তানকে নরবলি দিতে হয়েছে আমার। ”
ভয়ে আতঙ্কে নীল হয়ে গেলাম আমি, কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“কাকে?কাকে বলে দিয়েছেন আপনি সবাই তো বিষক্রিয়ায় মরে গিয়েছে।”
“একজন ছিল যে মরেনি।তাকেই বলে দিয়েছি ।”
রমণীর কথায় আমার হাত পা কাঁপছিল রীতিমত,আমি কোথা থেকে কি প্রশ্ন করব খুঁজে পাচ্ছিলাম না,অকেজ ও মস্তিষ্ক খালি একটা কথাই জানতে চাইছিল, এই রমণী কেন আমাকে বাঁচালো?আমাকে জীবিত করে তার কি লাভ হল?আমার সাথে তার কিসের সম্পর্ক? আর এই পরিবারের সাথেই কেন তারা তো শত্রুতা?”
আমি প্রশ্ন করলাম একে একে,
“আমাকে কেন বাঁচাতে গেলে আপনি সবাই মরে গেছে আমি বেঁচে থেকে কি করব?”
উনি সোজা সাপ্টা উত্তরে বললেন ,
“কারণ আমি জানতে পারছি সামনে সবার পুনর্জন্ম হইবো।নিজেদের অপূর্ন ইচ্ছাকে পূর্ণ করার আরেকটা সুযোগ পাইবো সবাই।”
“আপনি বুঝেশুনে কথা বলছেন?”
“আমি না বুঝে কথা বলি না সুফি।”
আমি হঠাৎ রেগে গেলাম,শঙ্কিত কন্ঠে বললাম,
“তাহলে আপনি আমাকে বাঁচাইলেন কেন?সবাই মরে গেছে আমিও সবার সাথে মইরা যাইতাম, সবার পুনর্জন্ম হলে আমারও তো হইত।”
রমণী তাচ্ছিল্য করে বলল,
“তোমার হইত? কিন্তু তোমার কিসের জন্য হইত তোমার পুনর্জন্ম?তোমার তো কোনো অপূর্ন ইচ্ছা নাই, কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাসনা নাই।”
রমনীর এমন হেঁয়ালিপনা কথায় ক্রোধে ফেটে পড়লাম আমি ,দ্বিমত জানিয়ে বললাম,
“কে বলেছে আমার আকাঙ্ক্ষা বাসনা নাই?আইরিশ ভাইকে ভালোবাসি আমি, তাকে পাওয়ার এক বুক আকাঙ্ক্ষা আমার।”
আমার কথা শুনে রমনীর ঠোঁটে তার ছেলের হাসি কেন যানি গাড়ো হয়ে উঠলো,সে বলল,
“সত্যিই?সত্যি তারে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তোমার।তাহলে তারে আর তার পরিবারকে মারার পরিকল্পনা কেন করছিলা?”
রমণীর কথায় আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনি সব জানেন?”
মহিলা স্পষ্ট জবাবে বলল,
“কোন কিছু আমার অজানা নয়।”
আমি শুকনো ঢোক দিলাম,নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য বললাম,
“আমি আইরিশ ভাইকে মারতে চেয়েছিলাম কারণ আমি তাকে হারানোর কষ্ট সহ্য করতে পারতাম না।সে ফ্লোরেন্সার নামে কবুল পড়ছে এমন নির্মম দৃশ্য আমি দেখতে পারতাম না।”
“তার মানে তো দাঁড়ায় তুমি মেনে নিয়েছিলে আইরিশ ভাইকে তুমি আর পাবে না।তুমি কবুল করে নিয়েছিলে তোমার প্রেম, তোমার ভালোবাসা ব্যর্থ।”
“হ্যাঁ নিয়েছিলাম। তো? তাতে কি হয়েছে”
আমি চিৎকার করে কথাটা বলতেই হেসে উঠলো রমণী,ব্যঙ্গ কণ্ঠে বলল,
“তাইলে তুমি পুনর্জন্মের আশা কেমনে কর সুফি?তুমি তো এই জন্মেই ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছো?তোমার আকাঙ্ক্ষা রূপ নিয়েছে হিংস্রতায়?তুমি কিভাবে মনে কর তুমি পুনর্জন্ম পাবে?শুনে রাখ পুনর্জন্ম শুধু তারাই পাবে,যাদের মনে না পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল,যারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চেয়েছিল তার প্রিয় মানুষটা তার হোক।”
আমি হার মেনে নিলাম,মনে মনে ভাবলাম সত্যিই তো মৃত্যুর আগে আমি তো আইরিশ ভাইকে চাইনি,আমি তো চেয়েছি শুধু আইরিশ ভাইয়ের বিয়েটা বন্ধ হোক,আইরিশ ভাই অন্য কারো না হোক।কিন্তু একবারের জন্য তো নিজের জন্য চাইনি তাকে।তাহলে কি করে হতো আমার পুনর্জন্ম।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোখের কোন থেকে জল গড়িয়ে পড়লো আমার।আহত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“আমাকে কেন বাঁচালেন আপনি?আমাকে বাঁচিয়ে কি এমন স্বার্থসিদ্ধি হলো আপনার?”
রমণী কেমন মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে , এগিয়ে এসে আমার গালে মমতার হাত রেখে বলল,
“আমি তোমার মায়ের ছোট্ট বোন সুফি।হুজুর আব্দুল খালেক এর সেই ছোটকন্যা যাকে লালন পালনের জন্য অন্য মায়ের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছিল।”
বিস্ময়ে আমার দু ঠোট ফাঁকা হয়ে এলো,তাজ্জব হয়ে আওড়ালাম,
“আ আ আপনিই সে, যার কথা ছবি বলেছিল?”
“হ্যাঁ আমি একমাত্র, যে বেঁচে গিয়েছিল এই গান পরিবারের বেইমানি থেকে।”
আমার মাথায় তখন আরো অনেক প্রশ্ন কিলবিল করে উঠলো,আমি উত্তেজিত কন্ঠে রমনী কে জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনি আমাকে বাঁচিয়েছেন কেন আগে সেটা বলুন? পুনর্জন্ম যদি সত্যি হয় তাহলে তো ওদের পুনর্জন্ম হতে আরো ৫০ বছর লেগে যাবে, ততদিনে তো আমি বুড়ি হয়ে যাবো, তখন আমার কি কাজ?আমি বেঁচে থেকে বুঝি ওদের পূর্ণতা দেখব?
“বুড়ি হইবানা সুফি, তুমি কিছুতেই বুড়ি হইবানা।প্রতিবছর এই দিনে এই সময় তুমি যদি একটা মানুষের মাথা বলি দাও তুমি এখনকার মতো যুবতী থাকবা আজীবন।”
রমণীর কথা শুনে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।আকস্মিকতায় থো হয়ে রইলাম কিছুক্ষণ,তারপর বিহ্বলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“পুনর্জন্ম হলেও তো আইরিশ ভাই শুধু ফ্লোরেনসাকে চাইবে,আমি তাদের মাঝে দ্বিতীয়বার ঢুকে কি করবো?”
রমণী মুচকি হাসলো,আস্তে করে ধরল আমার হাত,তারপর নিজের কাপড়ের আঁচলের গিট খুলে বের করল একটা আংটি।আংটিটা দেখতেই চমকে উঠলাম আমি,এটা সেই মহামূল্যবান আলেকজান্ডার খচিত আংটি, যে আংটি ফ্লোরেন্সাকে পরিয়ে দিয়েছিল আইরিশ ভাই, আমি চমকে উঠা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
“এ আন্টি কোথায় পেলেন আপনি? এটাতো ফ্লোরেন্সার হাতে ছিল।
“এটা ফ্লোরেন্স আর হাতে ছিল না, যার হাতে ছিল সে তার সময় ফিরে গিয়েছে, আমি এটা মাটি থেকে কুড়িয়ে পেয়েছি।”
রমণীর এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কথায় আমি ঘাবড়ে গেলাম,একের পর এক প্রশ্ন করতেই পেলাম রহস্যজনক উত্তর।জানতে পারলাম ফরেন্স সেজ আমাদের মাঝে যে ছিল সে ফ্লোরেন্সারই পুনর্জন্ম।আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরল। কিছুতেই সুরাহা করতে পারছিলাম না এই রহস্য। সামনে কি হবে সেটাও ভাবতে পারছিলাম না। তবে এটা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম , ফ্লোরেন্সের সময় ভ্রমণের কারণেই আমার চাওয়া-আকাঙ্ক্ষা বদলে গিয়েছে। আর চাওয়া-আকাঙ্ক্ষা বদলে গিয়েছে বলেই আমার পুনর্জন্ম অসম্ভব হয়ে গিয়েছে।
যদি ফ্লোরেন্সের সাথে আইরিশ ভাইয়ের বিয়ে ঠিক না হতো তাহলে আমি তখনও আইরিশ ভাইকেই চাইতাম, ওনার বা ওনার পরিবারের মৃত্যু চাইতাম না।ভালোবাসা হারানোর ব্যর্থতা স্বীকার করতে হতো না এত তাড়াতাড়ি।যেখানে আগেই হেরে বসে আছি সেখানে কি আর পুনর্জন্মের আশা করা যায়। এই আশা আমি ছেড়ে দিলাম, বুকে বাধলাম নতুন আশা,
বছরের পর বছর বেঁচে থাকার আশা,আরো হাজার বছর যুবতি থাকার আশা।
এই নতুন আশা আমার নেশায় পরিণত হলো।আমরা সাজালাম আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।নরেন স্যার লাশ বয়ে নিয়ে এনে রাখলাম দুজনের মাঝখানে।সবার নতুন জন্ম আর পরিচয় পৃথক করার জন্য করা হলো আরো এক দফা কালো জাদু।
প্রেম জোসেফ এর সাথে ভবিষ্যৎ ফ্লোরেন্সের মিলন করার জন্য বলে দিলাম নিজের হাতের আঙ্গুল,যে আঙুলে আলেকজান্দ্রা ঘোষিত আংটিটি ছিল।
তারপর ৫০ বছর অতিবাহিত হল। ঘটনা ক্রমে তাই হলো যা হওয়ার ছিল।যা আপনি হতে দেখেছেন।”
প্রভার মুখে সম্পূর্ণ ঘটনাটা শুনে পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইলো তাকরিম।তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।মেরে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে ততটুকু পর্যন্ত মানা যায়, কিন্তু লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করার বিষয়টা কিছুতেই মানতে পারছি না তাকরিম।
তার ভেতরকার ক্রোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো,সে ক্ষোভে আক্রোশে গলা টিপে ধরল প্রভার,ক্রোদিত কন্ঠে চেচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“সেই রমনী কে প্রভা?সত্যি করে বল সে কি এখনো বেঁচে আছে?”
প্রভার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো, হ্যাসহ্যাসিয়ে বললো,
“উনি আর বেছে নেই আইরিশ ভাই।”
আইরিশের বিশ্বাস হলো না প্রভার কথা,বরং আরো একটি নতুন মিথ্যা কথা বলায় প্রচন্ড ক্ষেপে উঠলো সে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে একটা জোরে সোরে থাপ্পড় মেরে দিল প্রভার গালে। থাপ্পরের তোপে ছিটকে পড়ল প্রভা,অথচ এক ইঞ্চি ও ক্রোধ কমলো না তাকরিমের। সে তেরে গিয়ে চেপে ধরল প্রভার চুলের মুঠি, ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল,
“মিথ্যা বলছিস তুই, আমি জানি সে এখনো বেঁচে আছে। সত্যি করে বল সে কে? ”
প্রভা আর কিছু বলার অবস্থায় রইল না, পুরো শাড়ি শক্ত হাতের এতগুলো আঘাতে ঠিক থাকতে পারলো না আর, তাকরিমের শেষ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে জ্ঞান হারালো সে।
এদিকে উত্তর না পেয়ে আরো বেশি হাইফার হয়ে উঠল তাকরিম,উন্মাদের মতো জোরে জোরে থাপ্পড় দিল অচেতন হয়ে পড়ে থাকা প্রভার গালে,দুই কাঁধ ধরে ঝাঁকালো উত্তরের আশায়।কিন্তু নাহ! কোনভাবে চোখ খুলল না প্রভা।উত্তরে বলল না কে সেই রমনী, কি তার আসল পরিচয়।
______
প্রায় শেষ রাত।হয়তো ফজরের আযান পড়বে একটু পর।সারাদিন অজ্ঞান থাকার পর হুসে এসেছে কিয়ান।পাশে হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে আছে অনু।লোকটা এতক্ষন অচেতন অবস্থায় পড়েছিল অথচ জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা অব্দি করেনি সে।
কিয়ানের জ্ঞান ফিরেছে।সে মাথায় হাত চেপে উঠে বসল ধীরে ধীরে।উঠে বসেই সবার প্রথম দেখতে পেল অনুকে।মনে পড়ে গেল দুপুরের সেই ঘটনা।অনু সে দুঃসাহসের কথা ভাবতেই রাগে শরীর কেঁপে উঠল তার।রাগে হিসহিস করতে করতে হাতড়ালো মেঝে, হাতে তুলে নিলো, তখনকার পড়ে যাওয়া ছুরিটা। শব্দ পেয়ে মাথা তুলে তাকাল অনু। দর্শন হলো কিয়ানের হিংস্র দুটো চোখের সাথে। অথচ তার চোখে ভয় দেখা গেল না কেন জানি, মনে হলো সে ক্লান্ত।নিয়তির এই অবিচার আর নিষ্ঠুর খেলায় সত্যিই ক্লান্ত সে।
“কুত্তার বাচ্চা তোরা তুই আমার গায়ে হাত তোলার সাহস কি করে পেলি।”
কথাটা বলেই ছুরি হাতে তেরে এলো কিয়ান।ভেতরকার ক্রোধ সামলাতে না পেরে ছুরি চেপে ধরল অনুর গলায়।অথচ অনু নির্লিপ্ত,আগের মতো পালাই পালাই ভাব নেই তার মধ্যে,কেমন শান্ত নদীর মতো শীতল তার দৃষ্টি।তার চোখে মৃত্যু ভয় আর বাঁচার হাসফাস না দেখে ভ্রু ঘোটালো কিয়ান।ছুরিটা একইভাবে গলায় চেপে রেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো অনুর দিকে।
কিয়ানের অমন বিভ্রান্ত চেহারা দেখে মুচকি হাসলো অনু।তারপর পাশ থেকে একটা বড় ছুরি হাতে তুলে নিয়ে এগিয়ে ধরলো কিয়ানের সামনে, বিমুর্ষ কন্ঠে বলল,
“ওটা ফল কাটার ছুরি,গলাকাটার মত ধার নেই বোধহয়,আপনি এই ছুড়িটা দিয়ে কেটে দেখতে পারেন।”
কিয়ান ভড়কালো, চকিতে তাকালো অনুর দিকে। মেয়েটা কাঁদছে, কিন্তু শব্দ হচ্ছে না।মেয়েটা কি কান্নাও গিলে নিচ্ছে নাকি?
কিয়ানের হাতে চেপে ধরে ছুরিটা আলগা হয়ে এলো,সে অনুর বিমুরা বিধ্বস্ত মুখের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট আওড়াল,
“আমার কখনো কারো বিষয়ে জানার ইচ্ছে হয়নি,কিন্তু আজ বড্ড জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, কি হয়েছে তোমার?”
অনু দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরল,চোখ বন্ধ করে নিঃশেষিত কন্ঠে বলল,
“জানেন আমার আরও একটি জন্ম হয়েছিল।সালটা ছিল ১৯৪৭।আমার বাবা সাত মেয়ের মধ্যে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট।আমার বাবা আমার বোনের একটা ছেলে আশা করেছিল,কিন্তু আমি মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে তার সমস্ত আশায় পানি ঢেলে দিলাম।আমার প্রতি জন্মালো আমার বাবার এক রাশ অসন্তুষ্টি।
ছোট থেকে অবহেলা পেতে বড় হওয়া মেয়েটি যখন ভালোবাসা পায় তখন কি হাতছাড়া করে বলুন?কিন্তু সেটা আমার ভালোবাসা ছিল না, ছিল কেবল একটা ঘোর একটা মোহ, সম্মোহনের মোহ।
ব্রিটিশ ফ্রেন্ড জোসেফ তার নীল চোখ দ্বারা সম্মোহন করলো আমাকে,সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা আলো আমার পরিবার-পরিজন থেকে।এমনিতেই তো বাবার চোখের বিষ ছিলাম,প্রেম জোসেফ এর সম্মোহন এর শিকার হয়ে যখন তাদের ছেড়ে চলে এলাম,তখন আমার বাবাও সুযোগ বুঝে নিল,তেজ্য করলো আমাকে।সেই থেকে বন্দী হয়ে রইলাম ব্রিটিশ মহলে।কারণ আমার যাওয়ার কোন জায়গা ছিল না।
তারপর কোন এক সন্ধ্যার সাক্ষাতে আমার জীবনে এলো এক সুপুরুষ,তার চোখের সম্মোহন ছিল না,অথচ আমি প্রথম দেখাতেই সম্মোহিত হয়েছিলাম, হুট করেই মুগ্ধ হয়েছিলাম ওই নিষ্ঠুর পুরুষের তরে,প্রথম দেখাতে ভালোবাসা হয় বুঝেছিলাম সেই পুরুষকে ভালোবেসে।
কিন্তু সেই নিষ্ঠুর পুরুষ ভালবাসে নি আমায়,আমাকে আশা দিয়ে আশাহত করেছে বারবার।অথচ আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালোবেসে গিয়েছিলাম ওনাকে।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার আকাঙ্ক্ষা বাসনা সমস্তটা জুড়ে ছিল ওনাকে পাওয়ার তৃষ্ণা।
সে আকাঙ্ক্ষা বাসনা না পাওয়ার তৃষ্ণা বুকে নিয়ে আবারো পুনর্জন্ম হল আমার।কেন জানি আমি নতুন করে ভালোবাসলাম তাকে।কিন্তু উনি আবারও আমাকে ঠকালেন।ভালোবাসবেন না বলে দিলেই তো হতো,আমি সরে যেতাম আজীবনের মত।কিন্তু উনি করলেন নিজ স্বার্থে।
উনার জন্য আমার ভেতরকার সব ভালোবাসা সেদিনই মরে গিয়েছিল জানেন।আমার আর সাহসে কুলোয় নি ওই নিষ্ঠুর পুরুষকে ভালবাসতে।ভালোবাসা আমার কাছে একটা আতঙ্ক এখন।
আমাকে মেরে দিন প্লিজ।আমার না পাওয়া আকাঙ্ক্ষা বাসনা সব আমি জলাঞ্জলি দিলাম এই জন্মে।এত অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাসনা বুকে চেপে পুনর্জন্ম পাইয়া কি লাভ হইল বলেন?যারে ভালোবাসলাম তারে পাইলাম না,উল্টো তার প্রতি জমা হইল ঘৃণা আর ঘৃণা।এটা বোধহয় হওয়ার ছিল,নিয়তি বোধহয় আমার জীবনের শেষ পরিণতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্যই আরেকটা সুযোগ দিয়েছে।যার জন্য আমার এত আকাঙ্ক্ষা বাসনা সে আসলে আমার না,সে আমার পবিত্র ভালোবাসার যোগ্য ছিল না,আর আজও নেই।”
বিছানার সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে কিয়ান।
তার চোখ বন্ধ, অনুর কথাগুলোর সাথে হয়তো নিজের জীবনের হিসাবটাও মিলিয়ে নিচ্ছে সে।সত্যিই কি তাই,সত্যিই কি নিজের জীবনে শেষ পরিণতি কেমন হতো সেটা বোঝানোর জন্যই পুনর্জন্ম হয়েছে তাদের?কিন্তু সে তো ভেবেছিল তার পুনর্জন্ম শুধুমাত্র তার রুপানজেলকে পাওয়ার জন্যই হয়েছে, তার অধরা ভালবাসা জয় করার জন্যই হয়েছে।
কিন্তু অনু যা বলছে তাও তো ঠিক,পুনর্জন্ম কেবল পাওয়ার আকাঙ্খা মিটানোর জন্য হয় না,পুনর্জন্ম হয় ইতি না টানা সংক্ষিপ্ত জীবনের শেষ অধ্যায় টুকু রচনা করার জন্যও।কারণ পুরো একটা জীবনের শেষ অংশ তাদের জানা হয়নি, শেষ পরিণতি কি হবে তাও জানা হয়নি। তার আগে অপঘাত মৃত্যু তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল,তারমানে এখন যা হচ্ছে নিয়তির ইচ্ছেতেই হচ্ছে,তাদের শেষ না হওয়া জীবনের শেষ পরিনতি রচিত হচ্ছে,হয়তো এটা হওয়ারই ছিল।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ক্লান্তার হাতের ছুরিটা ফেলে দিল।গুমোট কণ্ঠে বললো,
“যাও মুক্তি তোমার, নিজের বাড়িতে ফিরে যাও।”
“কিন্তু এত বড় একটা মেয়েকে অনাথ আশ্রমে জায়গা দিবে না ডক্টর সাহেব।মুক্তি চাওয়ার হলে কি আমি আপনার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় থাকি?আপনাকে মেরে রেখেই তো পালাতে পারতাম।”
কিয়ান অবাক হয়ে তাকালো,তার চোখের পড়তে পড়তে খেলে গেল বিস্ময়।কিয়ান কি বলবে বুঝতে পারলো না,আজ বুঝি তার চুপচাপ বিস্মিত হওয়ার পালা।
জ্ঞানের সাড়া শব্দ না পেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো অনু নিজে নিজেই বলল,
“আগেরবার যেখান থেকে আমার পথ শেষ হয়েছিল,যেখানে থেমেছিল জীবনের যাত্রা,ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে,তাইতো আমি এতিম।আগেরবারও আমার পালিয়ে যাবার মতো কেউ ছিল না, এবারেও নেই।”
এবার আর শব্দ খুঁজে পেল না কিয়ান।মস্তিষ্কে হাজার ভাবনার বিচরণ তার,আপাতত তার ভাবনা গুলো বিশাল সমুদ্রে ডুবন্ত নাও এর মত।সে চাইলেও সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারছেনা,সে ডুবডুবি খাচ্ছে কূল হারা মাঝির ন্যায়।
কেন জানি খারাপ লাগছে, ভীষণ রকম খারাপ লাগছে।এই অচেনা অজানা মেয়েটার জন্য শক্ত হৃদয়টা কাদা মাটির মতো নরম হয়ে যাচ্ছে, যেটা একদমই হওয়ার ছিল না সেটাই হচ্ছে, কিয়ানের ইচ্ছের বিরুদ্ধে হৃদয় বেইমানি করছে তার সাথে।
কিয়ান মেনে নিতে পারল না, কিছুতেই মেনে নিতে পারল না।হৃদয় আর অশুভ আত্মার যুদ্ধে পরাজয়ের গন্ধ পাচ্ছে সে।পরাজয় কখনো মেনে নিতে পারে না
কিয়ান।অথচ সে হলপ করে টের পাচ্ছে বুকের কোথাও আজ রুপানজেলের অস্তিত্ব নেই,হৃদয়ের কোন কোণে আজ আর তার রুপানজেল এর গল্প নেই।
হৃদয়ের এমন বিরোধ, এমন বেইমানি কিছুতেই মেনে নিতে পারল না কিয়ান।একা থাকা প্রয়োজন তার,বেইমান হৃদয়ের সাথে আরো অনেক বোঝাপড়া বাকি,আরো অনেক যুদ্ধ বাকি।কথাগুলো ভেবে উঠে দাঁড়াল কিয়ান।অনুকে একা ফেলে রেখে চলে গেল ঘরের বাইরে।হৃদয়ের সাথে মস্তিষ্কের শেষ বোঝাপড়া হবে আজ।
______
সকাল দশটা বেজে গিয়েছে, সে কখন সূচনা হয়েছে একটি নতুন দিনের।ঘুম ভেঙে নড়ে চড়ে উঠলো নিষ্পাপ,চোখ দুটো ভার তার, সারা রাতে ঘুম হয়নি একদন্ড,কেন ঘুম হয়নি?কারণটা ভাবতে গিয়েই লজ্জায় রাঙ্গা হলো মুখ।পাশ ফিরে চাইলো ত্রিজয়ের মুখের দিকে,ত্রিজয় উপুর হয়ে ঘুমাচ্ছে,তার ফর্সা পিঠ দক দক করছে,তার লম্বা হাতটা পেচিয়ে রেখেছে নিস্পার শরীর।
নিস্পার হঠাৎ করেই মনে হল তার শরীর উন্মুক্ত।এক সুতো পরিমান পোশাক নেই তার শরীরে।কি লজ্জা, কি লজ্জা,লজ্জায় ঠোঁট কামড়ে ধরল নিষ্পা।ত্রিজয় জেগে ওঠার আগে চুপিচুপি সরাতে চাইল তার হাত।
কিন্তু না, সড়াতে গিয়ে ঘটল আরো বিপত্তি,ত্রিজয় তাকে তো ছাড়লোই না, বরং এগিয়ে এসে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে, শুষ্ক ঠোঁট দাবিয়ে দিল তার ঘাড়ের উপর।নিস্পার দম বন্ধ হয়ে এলো।ত্রিজয় তার ঠোঁটের বেশামাল স্পর্শ গভীর করতে শুরু করলো আচমকা। পুরো শরীর ব্যাথা নিস্পার,নড়াচড়ার উপায় নেই।ত্রিজয়ের প্রতিটি স্পর্শে শরীর কেঁপে উঠছে থেমে থেমে।
ত্রিজয় এবার নিজের শক্তপোক্ত শরীর টা দিয়ে চেপে ধরলো নিস্পাকে,ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললো,
“এই সাপের মতো মোচড়াবে না একদম।অসুবিধা হচ্ছে তো।”
নিস্পা শুখনো ঢোক গিললো,ধড়ফড় করে উঠলো তার বুক।সে ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই ত্রিজয় দখল করে নিলো তার ঠোঁট।দীর্ঘ রাতের দংশনেও তৃপ্তি মিলে নি তার।মেয়েটাকে একেবারে নিঃস্ব করেও মিটে নি ক্ষুদা,একের পর এক বেপরোয়া স্পর্শে দলিতমথিত করতে শুরু করলো নিস্পার বিবষ অঙ্গ।
প্রায় দু ঘন্টা পর নিস্তার পেলো নিস্পা,নিজের কাজ মিটিয়ে নিস্পার উন্মুক্ত বুকের উপর মুখ থুবড়ে শুয়ে রইলো ত্রিজয়।দুজনের নগ্ন বুক তখন একে অপরের সাথে চুম্বকের মতো আটকে আছে।ত্রিজয়ের হৃদপিন্ডের ধড়কান স্পষ্ট শুনছে নিস্পা,সে গুনগুনিয়ে বললো,
“ছাড়ুন এবার।আমি মরে যাবো।”
ত্রিজয় ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,
“উমম,,,স্বামীর আদরে মরে যাওয়াও সৌভাগ্য।”
নিস্পা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ত্রিজয়কে,নগ্ন শরীরে একটা চাদর পেচিয়ে উঠে বসলো শোয়া থেকে।ত্রিজয় পেছন থেকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো তাকে,নিস্পার গলায় মুখ দাবিয়ে টেনে সরাতে চাইলো চাদর টা।নিস্পা চোখ বন্ধ করে খামচে ধরলো চাদর, ত্রিজয়ের অবাধ্য স্পর্শকে ডিঙিয়ে সরিয়ে নিলো নিজেকে।এই লোক বড্ড বেশি বেহায়া,মিনিটে মিনিটে মুড চেঞ্জ হয় তার।আবার যদি শুরু করে দেয়,নিস্পার মরন ছাড়া উপায় থাকবে না বোধহয়। কথাটা ভেবেই তাড়াতাড়ি উঠে দাড়ালো নিস্পা,তপ্ত কন্ঠে বললো,
“আপনি অতিরিক্ত বেহায়া হয়ে যাচ্ছেন।”
ত্রিজয় উঠে দাড়ালো,আচমকা কোলে তুলে নিলো নিস্পাকে,নিস্পা নিয়ন্ত্রণ রাখতে জড়িয়ে ধরলো ত্রিজয়ের গলা,অস্পষ্ট আওড়াল,
“আহ!কি করছেন?”
ত্রিজয় তার মাথাটা ঝুকিয়ে নাক ঘষলো নিষ্পার নাকে,ফিসফিস করে বললো,
“একসাথে শাওয়ার নিবো কলিজা।আজকের মধ্যেই একটা গেদা ডাউনলোড দিতে হবে।”
নিস্পা লজ্জায় মুখ লুকালো ত্রিজয়ের বুকের ভেতর,রাঙা কন্ঠে আওড়াল,
“ছিঃ, নির্লজ্জ।”
ত্রিজয় শ্লেষ হাসলো,আবারও ঠো দাবালো নিস্পার ঠোঁটে,ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো ওয়াশ রুমের ভেতর।
_____
দুপুর বারোটা।বাড়ি থেকে বেড়িয়েছে ত্রিজয়।সাথে নিস্পাও আছে।হেটে গ্যারেজের দিকে যাচ্ছে তারা।বাড়ি থেকে গ্যারেজের পথ টুকুতে কড়া রোদ।নিস্পা দ্রুত পা চালিয়ে এগোলো সামনের দিকে।তারপরই দেখতে পেলো ত্রিজয় পাশে নেই।রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে পকেট হাতড়াচ্ছে সে।নিস্পা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো,পুনরায় পিছিয়ে এসে ত্রিজয় কে জিজ্ঞেস করলো,
“এখানে রোদে দাঁড়িয়ে কি করছেন?
নিস্পার বিরক্তিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো ত্রিজয়,পকেট থেকে হাতটা বের করে লতার মতো পেচিয়ে ধরলো নিস্পার কোমর।নিস্পাকে টেনে কাছে নিয়ে এসে বলল,
“কাল রাতে তো সব ভিটামিন নিয়ে নিয়েছো তাই সূর্য মামার কাছ থেকে ভিটামিন ধার নিচ্ছি কলিজা।”
নিস্পা চোখ রাঙিয়ে তাকালো।কটমট করে বললো,
“সবসময় অসভ্যতামো না করলে হয় না?”
ত্রিজয় ঠোঁট কামড়ে মাথা চুলকে বললো ,
“গ্যারেজে গিয়ে দাড়াও,গাড়ির চাবি নিতে ভুলে গিয়েছি।”
নিস্পা সম্মতি জানিয়ে বললো,
“আচ্ছা দ্রুত আসবেন।”
নিস্পার ঠোঁটে একটা আলতো চুমু খেয়ে দ্রুত পায়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো ত্রিজয়।নিস্পাও ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো গ্যারেজের দিকে।
প্রায় পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে হেলতে দুলতে ফিরে এলো ত্রিজয়।হাতের আঙুলে চাবির রিংটা ঘোরাতে ঘোরাতে মনের সুখে সিস বাজাচ্ছে সে।মনে মনে আজ ভিষণ সুখি সে,কাল রাত থেকে একটু আগ মূহুর্ত পর্যন্ত প্রতিটি সেকেন্ড তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিলো। সে কল্পনাও করতে পারে নি তার স্বপ্নের রানী এতো সহজে ধরা দেবে তার কাছে,কি অসম্ভব সুন্দর এক অনুভূতি।
ঠোঁটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে ত্রিজয় গ্যারেজে এসে পৌছালো।কিন্তু গ্যারেজ পুরো ফাঁকা।অদ্ভুত ভাবেই ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে গেলো ত্রিজয়ের,নিস্পাকে না পেয়ে গলা ছেড়ে ডাকলো,
“কলিজা!কলিজা?কোথায় তুমি?”
নিস্তব্ধতা ব্যতীত নিষ্পাপ কোন উত্তর ভেসে এলো না।ত্রিজয়ের কেমন জানি সন্দেহ হলো , সে আশপাশটা খুঁজে দেখল আরো ভালোভাবে।কিন্তু না, কোথাও নিস্পা নেই, নিষ্পার চিহ্ন অব্দিও নেই।ত্রিজয়ের মনে খেলে গেল অন্য ভাবনা,সে দ্রুত ফোন বের করে কল করল তাকরিম কে।
তাকরিম এখনো সেই বদ্ধ ঘরে বসে আছে,প্রভার জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষণ হলো।প্রভাকে খেতে দিয়ে সামনে বসে আছে সে,খাওয়া শেষ হলে আবার জিজ্ঞেস করবে, দরকার পড়লে টর্চার করবে, তারপরও আজকে জেনে নিবে কে সেই মুখোশধারি খুনি।
এমন সময় ফোন বেজে উঠলো তার।আননোন নাম্বার, তাই আর ফোন রিসিভ করল না,ফোন আসতেই কেটে দিল দুই দুইবার।হৃদয়ের মাথা গরম। টগবগ করে রক্ত ফুটতে শুরু করল মস্তিষ্কে,সে ধরে নিয়েছে নিষ্পাকে তাকরিম নিয়ে গিয়েছে।তাই লাগাতর আরো কয়েকবার ফোন করল সে,তাকরিম বিরক্ত হয়ে ফোন রিসিভ করলে এবার ,কানে ধরতে ওপাশ থেকে ফেঁসে এলো ত্রিজয়ের ক্রোধিত কন্ঠ,
“কুত্তার বাচ্চা আমার নিস্পা কোথায়?”
আচমকা ত্রিজয়ের এমন প্রশ্নে মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো তাকরিমের।বজ্রপাতের ন্যায় ধড়ফড়িয়ে উঠে দাড়ালো সে,রাগে গর্জে উঠে বললো,
“নিস্পা কোথায় মানে? শুয়োরের বাচ্চা নিস্পার কিছু হলে তোকে টুকরো টুকরো করে ফেলবো আমি।
চলবে,,,,,,

