#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্বঃ 66
“জীবন আমাদেরকে সুযোগ দেয়।কিছু পেতে হলে স্বার্থপর হতে হয়।আর কাউকে কিছু দিতে হলে বিসর্জন দিতে হয়।আমি নিজেকে বিসর্জন দিলাম এমপি মশাই,এবার আপনার পালা।স্বার্থপর হয়ে জিতে নিন আপনার ভালোবাসা।”
আগুন দাউদাউ করছে।আগুনের উত্তাপে ঝলসে যাচ্ছে গায়ের চামড়া।শরীরে কিছু অংশের চামড়া বটে গিয়েছে ইতমধ্যে।অথচ তারা তর্কে লিপ্ত,একে অপরকে বাঁচানো তীব্র প্রচেষ্টায় লোপ পেয়েছে জ্ঞান বুদ্ধি।তাকরিম তর্কে না পেরে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের গলা, গিজগিজিয়ে বললো,
“জানো*য়া*রের বা*চ্চা আমাকে দয়া দেখাচ্ছিস?তোর দয়া নিতে বসে আছি আমি?”
ত্রিজয় ঝাড়ি মেরে ছাড়িয়ে নিলো তাকরিমের হাত,তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো,
“এটা দয়া নয়,ইট’স আ প্ল্যান টু চেঞ্জ ডেস্টিনি।”
“হোয়াট!”
ত্রিজয় রাগ ঝেড়ে বললো,
“এতো মাথামোটা কেন আপনি? ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে দেখতে পাচ্ছেন না?”
তাকরিম বুঝতে না পেরে বললো,
“কি বলতে চাইছিস তুই?”
ত্রিজয় শ্বাসরুদ্ধকর কন্ঠে প্রত্যুত্তর করলো দ্রুত,
“আমাকে ম/রতে হবে।আমি না ম/রলে সেই একইভাবে মা/রা পরবে সবাই।এই আ/গুন পঞ্চাশ বছর আগেও লেগেছিলো তখন যদি আমি ম/রে যেতাম হয়তো সবার মৃ/ত্যু আঁটকে যেত।কিন্তু ভুল করে ওই আ/গুন থেকে বেঁচে গিয়েছি আমি।আমার নিয়তিতে এই আ/গুনে পুড়ে মৃ/ত্যু চিরধার্য তাই ঘুরেফিরে একই ঘটনা বারবার ঘটছে।”
তাকরিমে নিঃশ্বাস উঠানামা করছে,সত্যিটা মাথায় ঢুকলেও মানতে পারছে না সে,তাই বিরোধ জানিয়ে বললো,
“এসব মানি না আমি।”
নিস্পা নিচে নেমে গিয়েছে ততক্ষণে,দূর থেকে ভেসে আসছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির সাইরেন শব্দ।ত্রিজয় নিশ্চিন্তে একটা শ্বাস ফেলে আওড়াল,
“আমার মৃ/ত্যু নিয়তি পাল্টে দেবে।হয়তো এটাই শেষ সুযোগ।”
একটা কাঠের তক্তা পুড়তে পুড়তে পরে গেলো তাকরিমের মাথার উপর,ত্রিজয় ব্যাপারটা খেয়াল করে দ্রুত ধাক্কা দিয়ে দূরে সরালো তাকরিমকে, ক্ষুব্ধ কন্ঠে চেচিয়ে বললো,
“জাম্প করুন এমপি মশাই,সময় বেশি নেই।আপনার শরীর জ্বলে যাবে।”
তাকরিম দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“তুইও তো জ্বলে যাবি।আগে তুই জাম্প কর।”
ত্রিজয় তাকরিমকে রাগাতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বললো,
“মন্ত্রী হয়ে মোটা চালের ভাত খেয়েছেন নাকি এতোদিন?আপনার মোটা মাথায় আমার কথা ক্লিয়ার ভাবে ঢুকছে না?”
তাকরিম ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে বললো,
“না ঢুকছে না।আমার কথা আগে তোর মাথায় ঢোকা।”
পাল্টা জবাবে ত্রিজয় কিড়মিড় করে বললো,
“কি ঢোকা-ঢোকি লাগিয়ে রেখেছেন এমপি মশাই?আগুনে পুড়ে মারা যাবেন একটু পর অথচ অশ্লীল কথাবার্তা মুখ থেকে যাচ্ছে না।”
আগুন প্রায় তাদের শরীর স্পর্শ করবে ভাব,পাশের বড় কেবিনেটটার জন্য রক্ষা কিছু মূহুর্তের জন্য, কিন্তু এই তর্কাতর্কি এভাবে চলতে থাকলে,কেবিনেনটা আগুনকে আটকে রাখতে পারবে না বেশিক্ষণ।
ত্রিজয়ের এবারের কথায় বেশ অসন্তুষ্ট হলো তাকরিম,চাপা রাগ গিলে নিয়ে বললো,
“শা*লা জা*নোয়ার আমি যাচ্ছি,তুই মর।”
তাকরিম আর দাড়ালো না, এক পা বাড়িয়ে দিলো জানালার বাইরে।নিচে সুরোক্ষার জন্য কার্পেট বিছানো হয়েছে,উদ্ধারকর্মিরা আগুন নেভানোর কাজে লেগে পড়েছে ইতিমধ্যে।
তাকরিম জানালার ওপাশে যেতেই ত্রিজয় পিছু ডাকলো,
“এমপি মশাই!
তাকরিম ফিরে তাকাতেই ত্রিজয় ধরা গলায় উগড়ে দিলো কিছু বিষাক্ত বাক্য,
” আমার কলিজাটা ছিড়ে আপনার হাতে দিয়ে যাচ্ছি, নিস্পাকে আমার থেকে বেশি ভালোবাসবেন।”
তাকরিম ম্লান হাসলো।ত্রিজয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলো তার হাত,ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
“শেষ বারের মতো হাত মেলানোই যায় কি বলো?আমার চিরশত্রু।”
ত্রিজয় জানালার উপর উঠে দাড়ালো,দূর থেকে দেখলো নিস্পাকে।উদ্ধারকর্মিরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে তাকে।সেদিকে তাকিয়ে বুকটা মুচড়ে এলো ত্রিজয়ের।মুমূর্ষু বেদনা গলা চেপে ধরলো তার,সে কল্পনা করলো,স্পষ্ট কল্পনা করলো তাকরিমের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে নিস্পা।বুকটা চৌচির হলো, আর কিচ্ছু ভাবতে পারলো না।মলিন হেসে তাকরিমের দিকে এগিয়ে দিলো হাতটা,হ্যান্ডশেক করে বললো,
“মৃত্যু পর্যন্ত আমরা শত্রুই রইলাম।”
তাকরিম কুটিল হাসলো, ত্রিজয়ের হাতটা চেপে ধরে একসাথে ঝাপ দিলো নিচের দিকে।ত্রিজয় হতচকিত, বিহ্বলিত কন্ঠে চেচালো,
“এটা আপনি কি করলেন,,,,,,,,”
তাকরিম ত্রিজয়ের হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“তোকে বাঁচাই নি,আমার আলোকে বাঁচিয়েছি।তুই আমার আজীবনের শত্রু।তুই হেরে গিয়েছিস।”
“আপনিও তো জিততে পারেন নি এমপি মশাই।আমাদের শত্রুতা ইতি টেনেও টানা হলো না।”
_____
ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলো সবাইকে।নিস্পা পাগলের মতো ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো ত্রিজয়কে,হেচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“ঠিক আছেন আপনি?কিচ্ছু হয় নি তো?”
ত্রিজয় উঠে দাড়ালো,নিস্পার মাথায় শুখনো চুমু খেয়ে ধীরেসুস্থে বললো,
“কুলডাউন। আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি কলিজা।দেখো,একদম ফিট।”
পাশেই বসে ছিলো তাকরিম।ডক্টর ট্রিটমেন্ট করছিলো তার।নিস্পার এমন পাগলনা দেখে কলিজাটা চাতক পাখির মতো ছটফটালো তার,নিস্পার মনযোগ আকর্ষনের জন্য বললো,
“আগুনে তো আমিও পুড়েছি আলেকজান্দ্রা।”
নিস্পা হকচকালো,ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে সড়ে দাড়ালো ত্রিজয়ের কাছ থেকে।তারপর চোখ তুলে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,একটা শুখনো ঢোক গিলে এগিয়ে এলো তাকরিমের কাছে,মিনমিনে কন্ঠে বললো,
“ঠিক আছেন আপনি?”
তাকরিম উত্তর দিলো না।কর্মরত ডক্টরকে চোখের ইশারায় যেতে বললো সেখান থেকে।ডক্টর সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রস্থান করতেই তাকরিম আহত কন্ঠে বললো,
“আমার ভালোবাসায় কি কমতি ছিলো আলো?”
নিস্পা কি উত্তর দিবে ভেবে পেলো না,গলার ভাজে চিবুক নামিয়ে বললো,
“কিছু না।”
তাকরিম পুনরায় প্রশ্ন করে বললো,
“তহলে?আমাকে কেন ভালোবাসা গেলো না?”
“যদি বলি উত্তর শুন্য?”
“কিন্তু আমি তো অফুরন্ত ভালোবেসেছি।এক সমুদ্র বা তারও বেশি।”
“সেই সমুদ্রে ঝাপ দিয়ে ম*রে যান এমপি মশাই,ভবিষ্যতে কচু গাছে ফাসি দেওয়া থেকে বেঁচে যাবেন।”
তাকরিমের কথার উত্তরে উত্তর দিয়ে বসলো ত্রিজয়।তাকরিম রাগে নিসপিস করলো,ক্ষিপ্র কন্ঠে বললো,
“চুপ শালা কথার মধ্যে বাঁ হাত ঢোকাবি না।”
ত্রিজয় ঠোঁট বাকিয়ে কুটিল কন্ঠে বললো,
“ঢোকাতে ঢোকাতে সব ঢুকিয়ে দিয়েছি আর আপনি হাত পা মাথা নিয়ে পড়ে আছেন।”
“শা*লা রা*স্কেল।”
পুনরায় তর্কে গেলো না তাকরিম,মনে মনে কথাটা বিরবির করে তাকালো নিস্পার দিকে,আকুল কন্ঠে বললো,
“আমি তোমার সাথে দু মিনিট আলাদা করে কথা বলতে চাই আলেকজান্দ্রা।”
নিস্পা বাঁকা দৃষ্টিতে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,ত্রিজয় চোয়াল শক্ত করলো অসম্মতিতে মাথা নাড়ালো দু’দিকে। নিস্পা চোখের ভাষা নরম করলো,ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ইশারা করলো,
“প্লিজ!”
ত্রিজয় কটমট করে তাকালো,তপ্ত কন্ঠে বললো,
” দু মিনিট মানে দুই মিনিট।বউকে এক মিনিটের জন্যেও চোখের আড়াল করে থাকতে পারি না আমি।দু মিনিট অনেক বেশি সময়।”
তাকরিম ক্ষুব্ধ কন্ঠে বিরবিরালো,
“শা*লা ওভার এক্টিং এর দোকান।”
ত্রিজয় লম্বা লম্বা পা ফেলে যায়গা ত্যাগ করলেই নিস্পা চাপা শ্বাস ফেললো,তাকরিমের দিকে তাকিয়ে বললো,
“বলুন।”
তাকরিম দু পা এগিয়ে এলো নিস্পার দিকে,আকুতি জানিয়ে বললো,
“একবার জড়িয়ে ধরবো?যেভাবে ত্রিজয় ধরেছিলো তার চেয়ে অনেকবেশি শক্ত করে।”
নিস্পা চমকে তাকালো,তবে উত্তর দিলো না।হয়তো যুতসই উত্তর খুঁজেই পেলো না সে।
তাকরিম খপ করে আঁকড়ে ধরলো নিস্পার হাত,বিবষ কন্ঠে বললো,
“প্লিজ!শুধু একবার।জীবনের প্রথমবার,হয়তো শেষবারও।”
নিস্পা এবারেও উত্তর দিলো না।কি উত্তর দিবে সে?একজনের বউ হয়ে কি অন্য কোন পুরুষকে জড়িয়ে ধরার অনুমতি দেওয়া যায়?এতো সহজ বুঝি? এই কাজ তো একটা মেয়ের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল কাজ।
নিস্পার নির্লিপ্ততা বুঝতে পেরে উত্তরের অপেক্ষা করলো না তাকরিম।নিজ উদ্যোমে এগিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নিস্পাকে।
নিস্পা ভয়ে আতংকে রোবটের মতো শক্ত হয়ে গেলো,অস্বস্তিতে গলা কাঠকাঠ হয়ে এলো তার,হাসফাস করে বললো,
“ক,,কি করছেন আপনি।”
তাকরিম আবেগ মাখা কন্ঠে বললো,
“তোমাকে পেয়ে গেলে এভাবে বুকের ভেতর আগলে রাখতাম।”
তারপর একটু থেমে জড়ানো গলায় বললো,
“তোমাকে পেয়ে গেলে একটা শুখনো চুমু খেতাম তোমার ভেজা চোখের পাতায়।”
যন্ত্রণায় বুকের ভেতরটা ছিন্নভিন্ন হয়ে এলো তাকরিমের, এই মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছে সে,তেতো হলেও সত্য এই মেয়েটাকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছে সে,এই আফসোস এই গ্লানি কোথায় রাখবে তাকরিম?তার যে খুব কষ্ট হবে, এতো কষ্ট যে কোন প্রেমিক উপলব্ধি করলে প্রেমে পড়তে ভয় পাবে।
তাকরিমের চোখ ভরে জল এলো,গড়িয়ে পড়তে সময় নিলো না খুব বেশি।জলটুকু গড়িয়ে সোজা গিয়ে পড়লো নিস্পার কাধের উপর, ভেজা কন্ঠে বললো,
“নিজের জন্য করুনা হচ্ছে বুঝলা,তোমারে হারালে কেমন লাগে? কেমন লাগে তুমি ছাড়া রাত জাগনের বেদনা প্রতি মূহুর্তে টের পাবো আমি।তোমারে একবার দেখতে চাওয়ার আঁকুতি আমারে ভীষণ পুড়াইবো বিশ্বাস কর।তোমার স্মৃতিগুলোকে জড়ায় বাঁচার কষ্ট পঁচন ধরাইবে আমার হৃদপিন্ড।”
যন্ত্রণায় কন্ঠ রোধ হয়ে এলো তাকরিমের,পরবর্তী বাক্যগুলো বলতে খুব বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে,ভেঙে ভেঙে আসছে শব্দগুলো,
“তোমাকে হারানোর নিশ্চয়তা পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিলো আমায়।অথচ আমি বেহায়া,পাবো না জেনেও তোমারে পাওয়ার জন্য ছটফট করবো প্রতি রাত ।”
পীড়াদায়ক যন্ত্রণায় কাবু হয়ে এলো নিস্পার মন মস্তিষ্ক,তাকরিমের বুকে দু’হাত রেখে ঠেলতে ঠেলতে বললো,
“আপ,নি প্লিজ থামুন।”
তাকরিম থামলো না,বরং উগড়ে দিলো তার না পাওয়ার সমস্ত অভিযোগ,
“ভালোই হইছে বলো।
ত্রিজয় আজ আমার কাছে গো-হারা হেরে গেলো
তোমারে পাইয়া সে বুঝলই না
তোমারে হারাইলে কেমন কইরা দুই ভাগ হইয়া যায় মাথার উপর আকাশটা।
ও আর কখনোই বুঝবে না,তোমারে হারানোর পর দুনিয়াটা কেমনে ফাঁকা মাঠের মতো নিস্তব্ধ হইয়া যায়,
কেমনে আকাশ থেকে নেমে আসা তুমুল বজ্রপাত
বুক পাজরের প্রতিটা হাড় ঝাঝড়া কইরা দিয়া যায় এক নিমিষে।
শেষে জয় আমারই,
যন্ত্রনার এই গভীরতায়, ভালোবাসার এই তীব্রতায়,
ত্রিজয় কোনোদিন আমার মতো ডুবে থাকতে পারবে না তোমাতে।”
নিস্পা নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো তাকরিমের বাহুতল থেকে,চাপা স্বরে আওড়াল,
“আমি সবসময় দোয়া করবো আপনি যেন আমাকে ভুলে যেতে পারেন।”
“তোমাকে ছাড়া আমার জীবনটা শুনশান কবরস্থানে পরিনত হবে আলো।”
“আমি যদি পারতাম শেকল পড়াতাম হৃদয়ে।”
তাকরিম আর কিছু বলার আগেই মাঝখানে এসে দাড়ালো ত্রিজয়,তাকরিমকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“সময় শেষ এমপি মশাই।আমাদের এবার নিজেদের গন্তব্যে ফিরতে হবে।আপনিও ফিরে যান।”
তাকরিম অসহায় কন্ঠে আওড়াল,
“আমার গন্তব্য কেড়ে নিয়েছিস তুই।আমি এখন দিক দিশাহীন।”
ত্রিজয় তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখালো না,একটু আগেও যেই মানুষটাকে বাঁচানোর এতো তোড়জোড় তার,সেই মানুষটার অসহায়ত্বের মজা উড়িয়ে বললো,
“দিশ ফিরলে বাড়ি চলে যাবেন।আমরা যাচ্ছি।”
ত্রিজয় নিস্পার কাছে এসে হাত চেপে ধরলো, নিস্পা তাকরিমের দিকে তাকিয়ে মিনসে কন্ঠে বললো,
“আসি।ভালো থাকবেন।”
ত্রিজয় নিস্পার হাত ধরে এগোতে যাবে ঠিক তক্ষুনি নিস্পার অপর হাতটি কব্জা বন্দি করলো তাকরিম,ভাঙাচোড়া কন্ঠে বললো,
“তোমাকে পেয়ে গেলে কি ভীষণ ক্ষতি হয়ে যেত আলো?”
নিস্পা দম বন্ধকরে শক্ত জবাবে বললো,
“হয়তো হতো।”
“সম্রাট শাহজাহানের তাজমহল খসে যাওয়ার মতো অনাচার তো আর হতো না।”
“হয়তো এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু হতো।”
“আমি দু’হাতে সামলে নিতাম।”
“আমাকে বিহীন আপনিটাকে সেভাবেই সামলে রাখবেন।”
“তুমি বিহীন এই আমিকে আমি ভাবতেই বেসামাল হবো আমি।”
“আপনি আমার পথ রুখে দিচ্ছেন,আপনাকে ফিরিয়ে দিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে আমার।”
তাকরিম বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানলো, নিরুপায় হয়ে বললো,
“বিয়ে করে নেও।প্রতি সপ্তাহের একটি শুক্রবার আমাকে দিও।”
যেকোনো মূল্যে থাকার আর্জি জানিয়ে আবার বললো,
“দুজনকেই রেখে দেও।”
তাকরিমের কথায় ভ্যাবাচেকা খেলো ত্রিজয়,চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
” শালা আমার বউ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে।বাটপার।”
চলবে,,,
(মাঝখানের 500 শব্দ আমার বাচ্চা কিভাবে যেন ডিলিট করে দিয়েছে।তাই বিরক্ত হয়ে আর লিখি নি।পর্ব ছোট হওয়ার জন্য দুঃখিত।)

