#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্বঃ67
(সবাই প্লিজ রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন।পেজের রিচ আপনাদের হাতে।🙏)
সুবিশাল আকাশে বাজপাখির মতো উড়ে চলেছে একটা হেলিকপ্টার। ভেতরে বসে আছে নিস্পা আর ত্রিজয়।ঘটনাস্থল থেকে বেড়োতে পারে নি তাকরিম।হটাৎ করেই মিডিয়া এসে যাওয়ায় পড়েছে চরম ফ্যাসাদে।সেই সুযোগেই ত্রিজয় নিস্পাকে নিয়ে চলে এসেছে।হেলিকপ্টারটার ব্যাবস্থা মূলত ইভান করে দিয়েছে এক ঘন্টার মধ্যেই।
জীবনে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টারে উঠেছে নিস্পা।তাই থেমে থেমে ধড়ফড় করছে বুকটা।অস্থিরতায় একটু পর পর কামড়ে ধরছে ঠোঁট জোড়া।ত্রিজয় বেশ কিছুক্ষণ খেয়াল করছে নিস্পাকে,নিস্পার চোখের কোনে জমে আছে জল,সে হাত বাড়িয়ে বৃদ্ধাঙুল দিয়ে মুছে নিলো সেটুকু,ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
“মন খারাপ কেন?”
নিস্পা চোখ উল্টে তাকালো,অস্ফুটে শব্দ করলো কণ্ঠনালী থেকে,
“হু?”
ত্রিজয় সাবলীল গলায় একই রকম বললো,
“মন খারাপ করে বসে আছো তুমি।”
নিস্পা অস্বীকার করে বললো,
“কই?
ত্রিজয় ম্লান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
” কি ভাবছো?এমপি মশাইয়ের কথা?”
ত্রিজয়ের প্রশ্নে থমথমে ভাব ফুটে উঠলো নিস্পার মুখে,চাপা স্বরে বললো,
“ওই আর কি।”
“কষ্ট হচ্ছে?”
“হওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়?”
“তোমার প্রথম প্রেম ছিলো তাইনা?”
ত্রিজয়ের আচানক কথায় কিঞ্চিৎ বিব্রতকর দৃষ্টিতে তাকালো নিস্পা,তারপর কুন্ঠিত কন্ঠে আওড়াল,
“জানিনা।”
ত্রিজয় ম্লান হেসে বললো,
“ছোট ছিলে তখন,তাই বুঝতে পারো নি।”
কথার পৃষ্ঠে কথা বললো নিস্পা,
“বড় হয়েও কি লাভ হলো?এখনও তো বুঝতে পারছি না।”
“কি বুঝতে চাও?”
“আমার মাথা কাজ করছে না।কি করবো বুঝতে পারছি না।”
ত্রিজয় নিস্পার মুখোমুখি ঝুকলো কিছুটা,কন্ঠ খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আমাকে হাসবেন্ড হিসেবে মানতে অসুবিধা?”
নিস্পা শুখনো ঢোক গিলে নিলো,চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলো তাকরিমের সরলতা আর তার কন্ঠ থেকে ধেয়ে বেড়িয়ে আসা কথাগুলো কানে বাজলো তার,সে ধরা গলায় বলল,
“এমপি মশাইকে রিজেক্ট করতেও তো অসুবিধাই হচ্ছে।কি করবো আমি?”
নিস্পার এমন জবাবে ভীষণ রাগ হলো ত্রিজয়ের, ভেতর ভেতর ঈর্ষান্বিত হলো খুব।চট করেই হাতের আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো নিস্পার থুতনি,রাগচটা কন্ঠে বললো,
“বাহ!তুমি দেখি কালনাগিনী।খেয়ে ছেড়ে দেওয়া পাবলিক।দুই দুইটা রাত আমাকে ভোগ করে এখন হাসবেন্ড হিসেবে মানতে এতো ভাবনা চিন্তা? কেন?ইয়োগা করার আগে মনে ছিলো না?”
ত্রিজয়ের চার আঙুলের চাপে গোল হয়ে গেলো নিস্পার দুই ঠোঁট,সে ওভাবেই জিজ্ঞেস করলো,
“ইয়োগা কি?”
ত্রিজয় বক্র দৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ছেড়ে দিলো নিস্পাকে,তারপর ফোস করে একটা নিঃশ্বাস টেনে বললো,
“কি আবার শরীরের ব্যায়াম।”
ত্রিজয়ের প্যাচানো কথার মানে বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো নিস্পার,তবে কিছু মূহুর্তের মধ্যেই ত্রিজয় ঠিক কি ইঙ্গিত করেছে বুঝতে পারতেই কটমট করে তাকালো,দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“ছিঃ। আপনার মুখের ভাষা এতো অশ্লীল কেন?”
ত্রিজয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,
“মুখের ভাষা শালীন বলেই ওইটাকে ইয়োগা বলেছি, নয়তো সোজাসাপ্টা সে,,,,
নিস্পা বিদ্যুতের গতিতে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের মুখ,তারপর ঘাবড়ে যাওয়া দৃষ্টিতে হেলিকপ্টারের পাইলটের দিকে তাকিয়ে একটা চাপা শ্বাস ফেলল, মিনমিনে কন্ঠে বললো,
” চুপপ।প্লিজ চুপ করুন।”
ত্রিজয় আস্তে করে সরিয়ে নিলো নিজের মুখের উপর নিস্পার হাত।দৃষ্টিতে স্থিরতা এনে নয়নে রাখলো নয়ন,নিস্পার তনু অস্তিত্ব খানি দু’হাতে আগলে নিয়ে বললো,
“ভালোবাসো আমায়?”
নিস্পা নির্দিধায় উত্তর দিলো,
“খুব।”
“ছেড়ে চলে যাবে?”
“সাহস নেই।”
“তাহলে থেকে যাও পুরো সাত জনমের জন্য।”
নিস্পা উত্তর খুঁজে পেলো না,লাজে রাঙা মুখটা লুকানোর পয়তাড়ায় জায়গা খুজলো নিস্পা।কিন্তু সে ইচ্ছে সফল হতে দিলো না ত্রিজয়,নিস্পার দুই গাল দু’হাতে আগলে ধরে চোখে চোখ রাখতে বাধ্য করলো সে।নিস্পা ধড়ফড়িয়ে উঠলো, ত্রিজয়ের নেশাধরা নীল নেত্রমনীর দিকে তাকিয়ে অস্ফুটে আওড়াল,
“কি দেখছেন?”
ত্রিজয় পরিস্কার কোন উত্তর দিলো না, ভনিতা করে বললো,
“পুরো তিন লাখ টাকা দিয়ে হেলিকপ্টার টা ভাড়া করেছি।”
নিস্পা বুঝতে না পেরে আওড়াল,
“তো?”
ত্রিজয় কন্ঠে সিরিয়ানেস ধরে রেখে বললো,
“তো আবার কি? টাকা টা উশুল করতে হবে।”
নিস্পা কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কীভাবে? ”
“বাসর করে।”
ত্রিজয়ের এই কথাটা ব্লাস্ট করলো নিস্পার কানে,উত্তপ্ত শীশা ঢেলে দেওয়ার মতো অনুভব হলো খুব,সে দু’হাতে ত্রিজয়ের বুকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বললো,
“নির্লজ্জ পাগল লোক আপনার মতো আমি এতো নির্লজ্জ হতে পারবো না।””
ত্রিজয় ঠোঁট কামড়ে বাঁকা স্বরে বললো,
“কেন পারবে না শুনি?ঝুলে ঝুলে বিয়ে করতে পারলে উড়ে উড়ে বাসর করতে পারবে না কেন?”
“মাথা নষ্ট লোক পাইলট কে আটলান্টিক মহাসাগরে ছুড়ে মারার পরিকল্পনা করছেন নাকি অবশিষ্ট মান ইজ্জত নিলামে তুলতে চাইছেন?”
নিস্পা কিড়মিড়িয়ে কথাটা বলতেই শ্লেষ হাসলো ত্রিজয়,ভ্রু নাচাতে নাচাতে বললো,
“মহাসাগরে ছুড়ে মারার পরিকল্পনা টা কিন্তু মন্দ নয়।”
নিস্পা চোখ রাঙিয়ে তপ্ত স্বরে বললো,
“আপনি সত্যিই অসভ্য।”
ত্রিজয় নিস্পার হাত ধরে নিজের কোলের উপর এনে বসালো,নিস্পার গলায় নাক ঘষে বললো,
“সুন্দরী বউ এতো কাছে থাকলে সভ্য হওয়ার সব চেষ্টা বৃথা ।”
নিস্পার পুরো শরীর শিরশির করে উঠলো,ত্রিজয়ের আলিঙ্গন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বললো,
“ছাড়ুন।শরীরের দিকে তাকিয়েছেন?কি অবস্থা হয়ে আছে।”
ত্রিজয় ছাড়লো না নিস্পাকে, বরং কায়দা করে ঘুরিয়ে বসালো নিজের দিকে,মাদকিয় কন্ঠে বললো,
“তুমি আমার চোখের দিকে তাকাও, ভেতরকার অবস্থা আরও নাজেহাল।”
নিস্পা মুচড়া মুচড়ি শুরু করলো, তার ভড়কানো চাহনি ঘুরেফিরে বর্তাচ্ছে পাইলটের দিকে, লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তার,সে লঘু কন্ঠে বললো,
“উফফ ছাড়ুন।ভাল্লাগছে না।”
ত্রিজয় নিস্পার ঘারে অনবরত চুমু দিতে দিতে ফিসফিসিয়ে বললো,
“পাইলট কে বলি নিরাপদ যায়গায় ল্যান্ড করতে কি বল?”
ত্রিজয়ের ঠোঁটের স্পর্শ আর জাদুকরী নিঃশ্বাসের উত্তাপ দিশেহার করে দিচ্ছে নিস্পাকে,নিস্পা ত্রিজয়ের মুখে হাত চেপে দূরে ঠেলতে ঠেলতে বললো,
“আমার মোটেও মশকরা করতে ইচ্ছে করছে না।”
ত্রিজয় নিস্পাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে মাথা রাখলো নিস্পার বুকের উপর,তারপর বেশ কয়েকটি বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো,
“কিন্তু সময় থাকতে করে নেওয়া উচিত।”
নিস্পা বুঝতে না পেরে আওড়াল,
“মানে?”
“মানে খুব সহজ।হিসেব মতো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে দেখতে পাচ্ছো তো?”
“আপনি বলতে চাইছেন আমাদের হাতে সময় কম।”
ত্রিজয় নিস্পার বুক থেকে মাথা তুলে তাকালো নিস্পার চুপসে যাওয়া মুখের দিকে,বিধ্বস্ত কন্ঠে বললো,
“হতে পারে একদিন কিংবা একমাস।এর বেশি থাকলে বিধাতা যানে।”
নিস্পার বুকের ভেতরটায় চিনচিনে ব্যথা শুরু হলো,একই চিন্তা যে তার মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছিলো এতোক্ষণ,কিন্তু ত্রিজয় এখন কথাটা মনে করিয়ে দিয়ে কাটা যায়গায় লবন ছিটানোর কাজ করলো বোধ হয়।যন্ত্রনায় তার কণ্ঠনালী চেপে এলো,শুরু হলো বিক্ষোভ।
নিস্পা একটা শুখনো ঢোকের সাথে গিলে নিলো উথলে উঠা চাপা ব্যাথা,কন্ঠে স্বকীয়তা ধরে রেখে জিজ্ঞেস করলো,
“আয়মানের কি করেছেন?”
“ওকে কেউ খুন করে দিয়েছে।”
“সত্যি!”
“হুম।কে করেছে সেটাই বুঝতে পারছি না।”
নিস্পা ক্ষনকাল চুপ থেকে আওড়াল,
“আমি বোধহয় বুঝতে পেরেছি।”
ত্রিজয় ভ্রুকুটি তুলে তড়িৎ প্রশ্ন করলো,
“কে?আমি আর এমপি ছাড়াও তৃতীয় ব্যাক্তি কে ছিলো?”
নিস্পা ভাঙাচোড়া কন্ঠে বিরবির করে আওড়াল,
“আগের জন্মে যে ছিলো, সেই।”
_______
তাকরিমের মা জেসমিন বেগমের কানে ফোন চেপে ধরা।প্রায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে কাউকে অনবরত ফোন করতে করতে বিরক্তির শেষ সীমানায় পৌছেচে সে,অথচ ওপাশের ব্যাক্তির ফো৷ ধরার নামগন্ধ অব্দি নেই।
এভাবে অনেক্ষন চলতে থাকার পর অবশেষে ফোন রিসভ হলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো গমগমে কন্ঠস্বর,
“হ্যালো।”
জেসমিন বেজায় চটে আছে,সে ফুসে উঠা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় ছিলে তুমি?”
“আমি কোথায় ছিলাম সেটা জেনে আপনার কি কাজ?”
অজ্ঞাত ব্যাক্তির হেয়ালি উত্তরে দাঁতে দাঁতে পিষলো জেসমিন,ক্ষোভ ঝেড়ে বললো,
“তুমি কিন্তু অতি বার বেড়েছ।মনে রেখো আমিই কিন্তু তোমাকে এতোদূর এনেছি।”
“কেন এনেছেন সেটা ভালোই যানা আছে আমার ।নিজের স্বার্থে নিজের সন্তানকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলেছেন আপনি।”
ওপাশ থেকে ধেয়ে আসা ভারী কন্ঠে আগ্নেয়গিরির উত্তাপ টের পেলো জেসমিন।তাই কন্ঠ কিঞ্চিৎ নরম করে বললো,
“তাতে কিন্তু তোমার লস হয় নি,বরং লাভ হয়েছে।”
“আমি নিজের লাভ নিজে অর্জন করে নিয়েছি।ফাঁকা ক্রেডিট আদায় করার চেষ্টা বন্ধ করুন।”
“তোমার সাথে আমি এসব কথা বলার জন্য ফোন করিনি।”
“কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।”
“শহরের বাইরে আগুন লাগার ঘটনা টা শুনেছ?টিভিতে ব্রেকিং নিউজ হয়ে গিয়েছে।”
“সাংবাদিকদের আগেই খবর আমার কাছে পৌঁছেচে।তাকরিম ত্রিজয় নিস্পা তিনজনেই বেঁচে গিয়েছে।ডেস্টিনিতে ওদের মৃত্যু ভিন্নভাবে লেখা আছে তাই।”
অজ্ঞাত ব্যাক্তির শান্ত স্বাভাবিক কথায় চোয়াল বেঁকে এলো জেসমিনে,কৌতুহলি কন্ঠে আওড়াল,
“কি করতে চাইছো তুমি?”
“বিয়ে।একটা বিয়ের আয়োজন করুন ম্যাডাম।আপনার ছেলের তো বয়স কম হয় নি।”
বরাবরের মতো এবারেও ভেসে এলো হেয়ালি উত্তর,জেসমিন বেগম তেঁতে উঠলেন তাতেই,চাপা স্বরে বললো,
“নির্বোধ।তাকরিম বিয়ে করবে তোমার মনে হচ্ছে?নিস্পাকে ছাড়া ও এই জীবনে বিয়ে করবে না।”
“ছেলের বিয়ে না দিন তো অন্যকারো দিন।অনেক দিন হলো একটা বিয়ের দাওয়াত খাওয়া হয় না।”
“তোমার মাথায় আসলে কি চলছে আমাকে বুঝিয়ে বল তো।হটাৎ বিয়ে নিয়ে পড়েছ কেন?”
লোকটা সোজাসাপ্টা উপর দিলো না একদম,বরঙ কুটিল হেসে বললো,
“ধরে বেধে এমন একজনকে বিয়ে করান যেন আইটেম বেশি হয়।দেশের বড়ো বড়ো মন্ত্রী মিনিস্টার সবাই যেন কব্জি ডুবিয়ে খেতে পারে।”
“তুমি,,,,”
জেসমিন কিছু একটা বলতে গেলেই ওপাশ থেকে ভেসে আস্লো লোকটার তাচ্ছিল্যের স্বর,
“আপনি এতো বোকা কেন হ্যাঁ?আগের জন্মে কে আপনাকে রানী বানিয়েছিলো বলুনতো? রানী বা প্রাক্তন এমপির ওয়াইফ হিসেবে আপনি বড়ো-ই বেমানান।”
“মুখ সামলে কথা বল,,,,”
জেসমিনের ওমন কর্কষ কন্ঠের ধমকিতে কিছুই এলো গেলো না অপর পাশের লোকটার,বরং লোকটা জেসমিনকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
“হুশশশ,,,নামটা একদম উচ্চারণ করবেন না মেডাম।দেয়ালেরও কান আছে।”
জেসমিন দমে গেলো কিছুটা,কিড়মিড় করে বললো,
“তোমার কিন্তু ডানা গজিয়েছে, আমি কি করতে পারি তোমার ধারণাও নেই।”
“ধারণা আছে মেডাম।খুব ভালো ধারণা আছে আপনার ব্যাপারে।আপনি সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস।”
“হোয়াট!”
“ভুল কি বলেছি?আগের জন্মে লর্ড মাউন্টের দ্বিতীয় রানী ছিলেন আর এ জন্মেও এমপির সেকেন্ড ওয়াইফ।ছেঃ।”
“আমি রেগে গেলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।”
“খারাপ তো জীবনে অনেক করেছেন।এখন একটা ভালো কাজ করে দেখান তো, দেখি পারেন কিনা।”
সুযোগ বুঝে কোপ মারার প্ল্যান করলো জেসমিন,ধূর্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“বিনিময়ে কি পাবো?”
ওপাশ থেকে ভেসে এলো ডেবিল কন্ঠ,
“আমি ক্ষমতা পাবো আর আপনি রাজত্ব।”
জেসমিন শয়তানি হেসে বললো,
“ওকে ডিল ফাইনাল।”
“আসবো?”
ঘরের বাইরে প্রভার কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে চমকে গেলো জেসমিন, দ্রুত ফোন কেটে নড়েচড়ে দাড়ালো।তারপর পেছনে তাকিয়ে দরজার সামনে প্রভাকে দাঁড়িয়ে থাককে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“তুই?”
প্রভা মাথা নিচু করে এগিয়ে এলো,ম্রিয়মাণ কন্ঠে বললো,
“আমি চলে যাচ্ছি জেঠীআম্মু।”
প্রভার আসল পরিচয় জেসমিন জানে,তাই তার চলে যাওয়া না যাওয়ায় তার কোন মাথাব্যথা নেই।তার সমস্ত মাথাব্যথা শুরু হয় যখন তার স্বার্থে আঘাত আসে।
তবে ভেতরের ভাবনা বাইরে প্রকাশ করলো না জেসমিন,বরং প্রভার সাথে চালিয়ে গেলো নিজের নাটক,চমকে উঠার ভাণ করে বললো,
“এমা কোথায় যাচ্ছিস তুই?আর কেনইবা যাচ্ছিস?”
প্রভা জড়ানো কন্ঠে উত্তর দিলো,
“আমি এখানে থাকলে তোমার ছেলে বাঁচতে দিবে না।যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে গলা টিপে মেরে ফেলবে।”
জেসমিনের মাথায় খেলে গেলো এক কুটিল বুদ্ধি,সে প্রভার গালে নিজের হাত রেখে কোমল কন্ঠে বললো,
“আমার ছেলেকে খুব ভালোবাসিস তাই না?”
প্রভা সুস্পষ্ট জবাবে বললো,
“না বাসার তো কোন কারণ নেই।”
জেসমিন ঠোঁটের কোনে ক্রুর হাসি টেনে বললো,
“তোর কোথাও যেতে হবে না।তুই আমার ছেলেকে ভালোবাসিস না?তবে তুই হবি আমার পুত্রবধূ।তুই ছাড়া আমার ছেলেকে এতো বেশি ভালো কেউ বাসতে পারবে না।”
“মাপ করো জেঠিআম্মু। তোমার ছেলে আমাকে ঘৃনা করে।আর তাই উনাকে আমি আমার চাওয়ার তালিকা থেকে মুছে ফেলেছি স্বইচ্ছায়।”
“তাহলে তুই আমার পুত্রবধূ হতে চাস না তাই তো?”
“আপনার পুত্রবধূ হিসেবে নিস্পাকে খুব মানাবে।”
“ওই মেয়েটাকে আমার একদম পছন্দ হয় না প্রভা।ওর কথা আর কখনো বলবি না।”
“কেন পছন্দ হয় না?আপনার চেয়ে বেশি সুন্দরী তাই?”
প্রভার ধারালো কথার বাণে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো জেসমিন।প্রভা যে সব বুঝে এতোক্ষণ তার সাথে নাটক করছে সেটা বুঝতে সময় লাগলো না তার,সে ঘাবড়ে অস্পষ্ট আওড়াল,
“তুই!”
প্রভার মুখাবয়বে প্রতিক্রিয়ার লেশ মাত্র নেই,সে শান্ত কন্ঠে বললো,
“আমার মুখোশ খুলে গিয়েছে আপনার ছেলের সামনে।যদিও আমি জানি তাকরিম আপনার নয় আপনার সতীনের সন্তান।”
“তুমি কি আমার কথাও,,,,”
“বলিনি।ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।আর বলবোও না।”
“তাহলে নিশ্চয়ই বিনিময় চাইবে।”
“বিনিময় তো অবশ্যই চাইবো।বিনিময় হলো আপনি এমপি মশাইয়ের কোন ক্ষতি করতে পারবেন না।”
“তাহলে আমারও যে শর্ত আছে।”
“কি?”
“জবাই করার মতো একটা বকরি খুঁজে দিতে হবে।”
“মানে?”
“ভয় পেয়ো না।আমি এতোটাও পাষন্ড নয়।বকরিটা জবাই দেবো না আমি, বিয়ে দেবো।”
“কেন?”
“অতিরিক্ত প্রশ্ন না করে বল জোগাড় করে দিতে পারবে কিনা।এমন একজন, যার বিয়েতে বড়ো বড়ো মন্ত্রী মিনিস্টার সবাই আসবে।”
“জোগাড় করার কি আছে?এমন একজন তো আমাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যেই আছে।”
“কে?”
“ইভান।এডভোকেট ত্রিজয় তেজের পিএ ইমতিয়াজ ইভান।”
চলবে,,,,,,

