#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_________২০

0
25

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________২০

সাদ ওপরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। ওপর থেকে স্পষ্ট দেখতে পায়— সাদের হাতের সিগারেটের আগুনটা যেন ওর নিজের বুকেই এসে লাগে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
সাদ হাতের কাছের ছাইদানিটা সজোরে মেঝেতে আছাড় মারে। ঝনঝন শব্দে কাঁচগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সাদের দুচোখ এখন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। গটগট করে বারান্দা থেকে ভেতরে ঢুকে যায়।

ফালাক আরিয়ানের বাহুডোর থেকে ছিটকে সরে দাঁড়ায়। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।

আরিয়ান পকেটে হাত দিয়ে খুব স্বাভাবিক স্বরে ফালাককে বলল—
“, সাবধানে থাকা উচিত ছিল।

ফালাক কোনো উত্তর দিতে পারে না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। তবে এইবার উপর তোলা ফালাক দের ঘর থেকে ভাঙচুর এর আওয়াজ আসছে। ফালাক তড়িঘড়ি করে বাগানের পেয়ারা আর অন্যদের ফেলে রেখে দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢোকে।

সেসময় আরিয়ান ডাকলো পিছন থেকে কিন্তূ ফালাক সাড়া দেয় না।।

ভাবি ভাবি বলে ডাকল অন্যরাও।।।
ভাবি শব্দটা শুনতেই আরিয়ান অবাক হলো।

ভাবি মানে??”

ফারদিন বললো ভাবি তো ফালাক ভাবি সাদ ভাইয়ের বউ। এই বাড়ির বড় বউ।

“কিহ আমি তো জানতাম ওনার বউ অন্য কেউ ছবি দেখেছিলাম।
ফালাক ভাবির সাথে ভাইয়ার দ্বিতীয় বার বিয়ে হয়েছে!

______

সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ফালাকের পা কাঁপছে। নিজের রুমের সামনে আসতেই দেখল দরজাটা খোলাই আছে। ভেতরে পা রাখতেই দেখল সাদ জানালার সামনে দাঁড়িয়ে। হাতের মুঠি এত শক্ত করে বন্ধ যে রগগুলো ফুলে নীল হয়ে আছে। পুরো রুমে এক ভয়ংকর গুমোট স্তব্ধতা।

ফালাক হন্তদন্ত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে। বুকটা ধড়ফড় করছে, পেয়ারা বাগানের ঘটনাটা মাথার ভেতর সজোরে হাতুড়ি পেটাচ্ছে।
রুমের দরজার সামনে আসতেই ফালাকের বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। ভেতর থেকে ভাঙচুরের বিকট শব্দ আসছে। ফালাক ভয়ে ভয়ে ভেতরে পা রাখতেই থমকে দাঁড়ায়। কাঁচের ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, —সব মেঝেতে চুরমার হয়ে পড়ে আছে। সাদ তখনো উন্মাদের মতো হাতের কাছে যা পাচ্ছে ছুড়ে ফেলছে। সারা শরীরে এক হিংস্র আক্রোশ।
ফালাক কিছু বলবে, সেই সাহস ওর নেই। শুধু একপাশে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সাদ হঠাত করেই ফালাকের দিকে ঘুরে তাকায়। সাদের চোখের রক্তবর্ণ চাহনি দেখে ফালাকের আত্মা কেঁপে ওঠে।

সাদ ফালাককে একটা শব্দও বলে না। কোনো অভিযোগ না, কোনো চিৎকার না। শুধু বিষাক্ত রাগী চোখে কিছুক্ষণ ফালাকের দিকে তাকিয়ে থাকে। এরপর এক ঝটকায় জানালার পর্দাটা টেনে দিয়ে গিয়ে সজোরে বিছানায় শুয়ে পড়ে।
সাদ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, এক হাত কপালে। পুরো রুমে এখন নিস্তব্ধতা। ফালাক মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলোর দিকে তাকিয়ে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে। খুব সাবধানে ভাঙা কাঁচগুলো এড়িয়ে বিছানার কাছে যায়।
সাদের মুখটা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু ঘাড়ের রগগুলো এখনো ফুলে আছে। ফালাক বিছানার এক কোণে খুব সন্তর্পণে বসে। আন্দাজ করতে পারছে, প্রচণ্ড রাগে সাদের হয়তো মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। ফালাক খুব ভয়ে ভয়ে নিজের কাঁপা হাতটা বাড়িয়ে সাদের ঘন কালো চুলে রাখে।
প্রথম স্পর্শেই সাদ একটু শক্ত হয়ে যায়, ফালাককে সরিয়ে দেয় না। ফালাক সাহস পেয়ে খুব আলতো করে সাদের চুলে আঙুল চালিয়ে বিলি কেটে দিতে থাকে। সাদের কপালে জমে থাকা ঘামগুলো ফালাকের নজরে আসে। খুব যত্ন করে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে দেয়।
সাদ এতক্ষণ পাথরের মতো শক্ত হয়ে ছিল, ফালাকের শীতল হাতের ছোঁয়ায় ভেতরের আগ্নেয়গিরিটা যেন আস্তে আস্তে নিভতে শুরু করে। সাদের ভারি নিশ্বাসগুলো একটু স্বাভাবিক হয়ে আসে। চোখ বন্ধ করে ফালাকের এই সেবাটা গ্রহণ করতে থাকে।
সাদ এবার পাশ ফিরে শোয়। এখনো চোখ খোলেনি, শুধু ফালাকের একটা হাত শক্ত করে নিজের হাতের মুঠোয় নেয়।
ফালাক সাদের চুলের ভাঁজে আঙুল চালাতে চালাতে গভীর বিস্ময়ে ডুবে যায়। বুঝে উঠতে পারছে না মানুষটা এমন কেন।

“সকালেও তো সব ঠিক ছিল। এখন আবার কি হলো।

ফালাক আরও বেশি যত্ন নিয়ে সাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। ভাবল, এখন কিছু জিজ্ঞেস করা মানেই আবার ঝড়ের মুখে পড়া। তাই একদম চুপ করে রইল। ফালাকের এই নিস্তব্ধ সেবা সাদের জেদটাকে যেন পুরোপুরি গালিয়ে দিচ্ছে।
সাদ এবার চোখ না খুলেই ফালাকের হাতের আঙুলগুলো নিজের আঙুলের সাথে পেঁচিয়ে নিল। আরিয়ানের ওই ছোঁয়া, ফালাকের ওপর অন্য কারও দৃষ্টি—সবই যেন সাদের মস্তিষ্ক জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মনে মনে আওড়াতে থাকে—

​”Fuck! This girl is mine… only mine!”

সাদ চোখ খুলে। সরাসরি দৃষ্টি যায় ফালাকের গোলাপি ঠোঁটে।

“Damn! I need to touch her right now. I need to claim every inch of her. She’s pulling me in like crazy!”

সাদ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফালাকের ওপর এক আকস্মিক আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফালাক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদের ঠোঁট দুটো তার ঠোঁটকে এক অতৃপ্ত নেশায় গ্রাস করে নিল। এই আক্রমণ এতটাই তীব্র আর আকস্মিক ছিল যে ফালাক কয়েক সেকেন্ডের জন্য পাথর হয়ে গেল।
সাদ যেন ফালাকের নিঃশ্বাসটুকুও নিজের করে নিতে চাইছে। সাদের হাতের আঙুলগুলো ফালাকের চুলে আর কোমরে শক্ত হয়ে বসে গেল। ফালাক বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে— ক্ষুধার্ত সিংহের মতো ওর ওপর অধিকার ফলাচ্ছে।
ফালাকের সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ খেলে গেল। প্রথমে একটু প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সাদের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো। সাদের শার্টটা খামচে ধরে নিজেকে সাদের বাহুডোরে সঁপে দিল।
পুরো ঘরে এখন শুধু সাদের ভারী নিঃশ্বাস আর ফালাকের অস্ফুট গোঙানির শব্দ। সাদ যেন তার ঠোঁট আর হাতের প্রতিটি ছোঁয়ায় ফালাকের শরীরের প্রতিটি কোষে লিখে দিচ্ছে— সে শুধু সাদের।

____________

সিঁড়ি দিয়ে নামছে সাদ একটা শিকারি বাজপাখির মতো চেয়ে আছে সাদ। ফালাকের ওপর অন্য কারও দৃষ্টি—সবই যেন ওর মস্তিষ্ক জ্বালিয়ে দিচ্ছে।তার উপর চোখের সামনে আরিয়ান এখন।

রাতে খাবারের টেবিল। বাড়ির সবাই উপস্থিত— ফালাক ট্রে হাতে সবার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে। আরিয়ানও একপাশে বসে আছে, সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল সাদ। চোখ দুটো এখনো রক্তবর্ণ, চোয়াল শক্ত। সাদ নিজের চেয়ারে বসল না। সরাসরি হেঁটে গিয়ে দাঁড়াল আরিয়ানের ঠিক পেছনে। সবাই অবাক হয়ে দেখছে সাদের এই রুদ্রমূর্তি। ফালাক কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সাদ আরিয়ানের কলারটা পেছন থেকে ধরে এক ঝটকায় ওকে চেয়ার থেকে মেঝেতে আছাড় মারল।

​”সাদ! কী করছিস এসব?” সাদের চাচা চিৎকার করে উঠলেন।

আরিয়ানকে যেভাবে মারছে, তাতে মনে হচ্ছে আজ রক্তারক্তি না হওয়া পর্যন্ত সাদ থামবে না।
​সাদের চাচা আর ফারদিন, আয়ান ঈশান দৌড়ে এসে সাদকে জাপটে ধরল। কিন্তু সাদের গায়ে যেন তখন অসুরের শক্তি। এক ঝটকায় ফারদিনকে সরিয়ে দিয়ে আবার আরিয়ানের কলার চেপে ধরল।

​”সাদ! পাগল হয়ে গেছিস? ছাড় ওকে! কী করেছে ও তোর? ও তো আমাদের মেহমান!”

​সাদ কারো কথা কানেই তুলছে না। আরিয়ানের ওপর উপুর্যপুরি ঘুষি চালাচ্ছে। মাথায় শুধু বিকেলের দৃশ্য ফালাক কে ধরেছিলো।আরিয়ানের নাক-মুখ ফেটে রক্তে শার্ট ভিজে লাল হয়ে গেছে। আরিয়ান আত্মরক্ষার সুযোগটুকুও পাচ্ছে না, শুধু যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে। বাড়ির মহিলারা—সবাই ভয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। ফালাক তো পাথর হয়ে গেছে,
​আয়ান আর ঈশান ফারদিন মিলে সাদের দুই হাত পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ফেলল। সাদ তখনো আরিয়ানের দিকে লাথি চালানোর চেষ্টা করছে। আরিয়ানের মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না, শুধু এক ধরণের গোঁ গোঁ আওয়াজ আর ভারী নিঃশ্বাস।
​ফারদিন-

​”ভাইয়া! থামো প্লিজ!

সাদ ঝাড়া মেরে হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো —!

চলবে —
( Ramadan mubarak সবাইকে ✨🤍)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here