ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব___________২৩

0
20

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________২৩

ফালাক সাদের চুলে আঙুল চালাচ্ছে। হাত কাঁপছে, সাদের ওই পাথরের মতো শীতল চেহারার দিকে তাকালেই ফালাকের বুক ধক করে ওঠে। সাদ চোখ বুজে আছে, কিন্তু চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।
সাদ হুট করেই চোখ না খুলে কর্কশ গলায় বলল—

“হাত থামালি কেন? বলেছি থামতে?”

ফালাক ভয় পেয়ে দ্রুত আবার আঙুল চালাতে শুরু করল। নিচু স্বরে কাঁপা গলায় বলল—

“না… আমি আসলে দেখছিলাম আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন কি না।”

সাদ হুট করে ফালাকের একটা হাত শক্ত করে ধরল। ফালাক ভয়ে আধমরা হয়ে গেল। মনে হলো এই বুঝি সাদ আবার রেগে উঠবে।

“আমার ঘুম আসা না আসা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। যা বলছি তা কর। ফালাক খুব সাবধানে সাদের মাথা টিপে দিচ্ছে।

সাদ সরাসরি ফালাকের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত শীতল গলায় বলল—

সেদিন তো অনেক সাজগোজ করে নিচে ঘুরছিলি। খুব শখ জেগেছিল সাজার? এখন এই মুখটা এমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে কেন?

“ছোট চাচি জোর করেছিলেন তাই…”

সাদ কথা কেড়ে নিয়ে রুক্ষ স্বরে বলল—
“চাচি জোর করলে বিষ খেতে বললে খাবি? নিজের কোনো বুদ্ধি নেই? কাল থেকে যেন তোকে এই রুমের বাইরে বেশি না দেখি। সারাদিন এখানেই থাকবি।

ফালাক আবার মাথা নিচু করে মাথা টিপতে লাগল। সাদ আবার চোখ বুজে ফেলল। ফালাক একমনে সাদের মাথায় আঙুল চালিয়ে যাচ্ছে।

সাদের ভারী নিশ্বাসের শব্দ বুঝিয়ে দিচ্ছে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
সাদ ঘুমিয়ে পড়লে ফালাক একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। সাদের রক্তবর্ণ চোখ আর রুক্ষ চাহনি থেকে এই ক’টা মুহূর্তের মুক্তি ফালাকের জন্য অনেক বড় পাওয়া। খুব সাবধানে সাদের কপাল থেকে হাত সরিয়ে নিল। পা টিপে টিপে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

____________

রান্নাঘরে তখন সাদের মা আর মেজো চাচি দুপুরের খাবারের তোড়জোড় করছিলেন। ফালাককে রান্নাঘরে ঢুকতে দেখে সাদের মা অবাক হয়ে হাতের কাজ থামালেন।

“আরে ফালাক! তুমি এখানে কেন মা? সাদ তো ওপরে অসুস্থ, ও একা আছে। তুমি এখানে কেন এলে ?”
ফালাক সবজি কাটার বঁটিটা বের করতে করতে ম্লান হেসে বলল—

“উনি ঘুমিয়ে পড়েছেন মা।

“সে কী কথা! ও অসুস্থ মানুষ, কখন জেগে উঠে তোমাকে ডাকবে তার তো ঠিক নেই।

সাদের মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেজো চাচির দিকে তাকালেন। বাড়ির সবাই জানে ফালাকের স্বভাবটা কেমন। মেয়েটা এক মুহূর্ত বসতে জানে না। সাদের মতো পাথরের মতো শক্ত আর মেজাজি স্বামীর সেবা করার পাশাপাশি সে বাড়ির প্রতিটি কোণের খেয়াল রাখে। কে খেলো, কার ওষুধ বাকি থাকল, রান্নাঘরের মশলা ফুরিয়ে গেল কি না—সবই তার নখদর্পণে।
সাদের মা মনে মনে ভাবলেন—
“এই এতিম মেয়েটাই আমার বাড়ির লক্ষ্মী। আমার ছেলেটা যে কেন ওকে এতো কষ্ট দেয়!

জানে ফালাককে এখন নিষেধ করে লাভ নেই। সে তার নিজের কাজ করেই যাবে। ফালাক খুব নিপুণ হাতে মাছ কাটছে, সবজি কুটছে। কাজ করার সময় মুখটা খুব শান্ত দেখায়, যেন কাজের মাঝেই ও নিজের সব দুঃখ ভুলে থাকতে চায়।

মেজো চাচি ফিসফিস করে সাদের মাকে বললেন—
“ভাবি, মেয়েটা কিন্তু অদ্ভুত! সাদের এই পাগলামি ও সহ্য করে কী করে, কে জানে!”

ফালাক সব শুনতে পাচ্ছে, কিন্তু ও কোনো উত্তর দিল না। ও জানে, সাদের এই শাসন আর রুক্ষতা ওর ভাগ্যের লিখন। শুধু মনে মনে চাইল, সাদ যেন সুস্থ হয়ে যায়।

____________

মিরার সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, তাই সারাদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে।
মিরা’র রুমের দরজায় হালকা টোকা দিয়ে ফালাক ভেতরে ঢুকল। দেখল মিরা টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে খুব মনোযোগ দিয়ে অঙ্ক করছে। পড়ার চাপে মেয়েটার চেহারা শুকিয়ে গেছে। ফালাক পাশে গিয়ে মিরা’র চুলে আলতো করে হাত রাখল।

“মিরা? অনেকক্ষণ তো হলো, এবার একটু ওঠো । খেতে চল।”
মিরা মুখ না তুলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কলমটা খাতার ওপর রেখে ফালাকের দিকে তাকিয়ে করুণ স্বরে বলল—

“ওহ ভাবি! অঙ্কগুলো কিছুতেই মিলছে না। মাথার ভেতর সব জট পাকিয়ে যাচ্ছে। আর শরীরটাও কেমন ম্যাজম্যাজ করছে।”

মিরা ফালাকের হাতটা ধরে নিজের গালের ওপর রাখল। এ বাড়িতে ফালাকই একমাত্র মানুষ যার কাছে মিরা নিজের মনের সব ক্লান্তি প্রকাশ করতে পারে।

“তুমি এখানে কেন ভাবি? ভাইয়া কি ঘুমিয়েছে? ওই বাঘের খাঁচা থেকে বেরোতে দিলে তোমাকে?”
ফালাক একটু ম্লান হাসল। সাদের কথা উঠলে ফালাকের বুকের ভেতরটা এখনো কেমন সংকুচিত হয়ে আসে।

“হ্যাঁ, উনি ঘুমিয়েছেন। শরীরটা খুব দুর্বল তো, তাই কড়া ওষুধের ঘুমে আচ্ছন্ন। তুমি চলো,নিচে মা খাবার নিয়ে বসে আছেন। পরীক্ষার সময় সময়মতো না খেলে মাথা কাজ করবে না।”

মিরা টেবিল থেকে উঠতে উঠতে বলল—
“ভাইয়া যে কেন এতো রাগ করে! জানো ভাবি, ভাইয়াকে ওভাবে পড়ে ছিলো শুনে আমাদের সবার কী যে খারাপ লাগছিল। আর তুমি… তুমি তো সারারাত কেঁদেই কাটিয়ে দিলে। অথচ ভাইয়া জেগে উঠে প্রথম কাজটাই করল তোমাকে বকা দেওয়া।”
ফালাক মিরার কথায় কান দিল না। মিরার পড়ার টেবিলটা গুছিয়ে দিতে দিতে বলল—

“উনি অসুস্থ মিরা, অসুস্থ মানুষের ওপর রাগ করতে নেই। আর তাছাড়া উনি তো এমনই, এটা তো নতুন কিছু না। তুমি তাড়াতাড়ি হাত-মুখ ধুয়ে নিচে আসো।

মিরা ফালাকের দিকে এক পলক তাকিয়ে মনে মনে ভাবল—
“ভাবিটা এতো ভালো কেন? ভাইয়া এতো কষ্ট দেয়, তবুও এক মুহূর্তের জন্য ভাইয়ার ওপর কোনো অভিযোগ নেই। মাঝেমধ্যে মনে হয় ভাইয়ার এই বিষাক্ত রাগের একমাত্র প্রতিষেধক বোধহয় আমার এই শান্ত ভাবিটাই।”

____________
সব সামলে ফালাক নিজের রুমে ফিরে এল। সাদ তখনো গভীর ঘুমে। ফালাক আলমারি থেকে একটা কমলা রঙের শাড়ি বের করে নিল। শরীরটা কেমন ভারী হয়ে আছে ওর।
আধঘণ্টা পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল ফালাক। কমলা রঙের শাড়িটায় অদ্ভুত স্নিগ্ধ আর সতেজ দেখাচ্ছে। ঠিক যেন বিকেলের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে । ভেজা চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া, সেখান থেকে টুপটুপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে পিঠের ওপর।
ফালাক ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা শুকনো তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়তে শুরু করল। ঠিক তখনই সেই ঝাড়ার ঝাপটায় চুলের কয়েক ফোঁটা ঠান্ডা জল ছিটকে গিয়ে পড়ল সাদের মুখের ওপর।
হিমশীতল জলের স্পর্শে সাদের ঘুমটা পাতলা হয়ে এল। খুব ধীরে চোখ মেলল। কিন্তু পুরোপুরি চোখ না খুলে আধো-আধো দৃষ্টিতে সামনে তাকায় ।
সাদের চোখের সামনে তখন এক মায়াবী দৃশ্য। কমলা রঙের শাড়িতে ফালাককে অবিকল এক অপার্থিব পরীর মতো লাগছে। ভেজা চুলে জলের কণাগুলো আয়নার আলোয় চিকচিক করছে। ফালাকের শান্ত আর সপ্রতিভ রূপ দেখে সাদ এক মুহূর্তের জন্য সব ভুলে গেল। বুকের ভেতরটা হঠাতই শান্ত হয়ে এল।

“How can someone look so pure after all that chaos? She’s like the orange glow of a setting sun… calm and beautiful. I want to freeze this moment forever.” (“এতসব কিছুর পরও কেউ এতটা পবিত্র দেখাতে পারে কীভাবে? যেন অস্তগামী সূর্যের কমলা আভা… শান্ত আর অপরূপ সুন্দর। আমি চাই এই মুহূর্তটাকে চিরদিনের জন্য থামিয়ে রাখতে এই মুহূর্ত শেষ না হোক ।)

সাদ লুকিয়ে ফালাকের প্রতিটি নড়াচড়া দেখছে। ফালাক শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে কাঁধে রাখল, বারবার মনে হলো কেউ ওকে দেখছে।
ফালাক পূর্ণ দৃষ্টিতে বিছানার দিকে তাকাতেই সাদ চট করে চোখ বন্ধ করে ফেলল। এমন একটা ভান করল যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, কিছুই দেখেনি।
ফালাক কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আয়নার সামনে থেকে সরে এল। সাদ তখনো চোখ বন্ধ করে আছে, হৃদস্পন্দন তখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত বইছে।

ফালাক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভেজা চুলগুলো সামলে নিল। আয়নায় সাদের প্রতিফলন দেখে মনে হলো অনেকটা সময় হয়ে গেছে। ওষুধের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, খালি পেটে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক হবে না। ফালাক ইতস্তত করে বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। কমলা শাড়ির আঁচলটা আঙুলে জড়িয়ে খুব নিচু স্বরে ডাকল—

“শুনছেন?…….

দুইবার ডাকার পর সাদ খুব ধীরে চোখ মেলল। ফালাক সাদের চোখের দিকে তাকিয়ে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল। চোখ সরিয়ে নিয়ে দ্রুত বলল-

“আপনার ওষুধের সময় হয়েছে। আপনি একটু উঠে বসেন, আমি খাবার আর পানি নিয়ে আসছি।”

ফালাক যেমনই ঘুরে দাঁড়িয়ে চলে যেতে চাইল, অমনি সাদের বলিষ্ঠ হাতটা খপ করে ফালাকের কবজি ধরে ফেলল। ফালাক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদ এক হেঁচকা টানে বিছানায় নিজের বুকের ওপর আছড়ে ফেলল। ফালাক আতঙ্কে একটা ছোট চিৎকার করে উঠল, কিন্তু সাদের হাতের বাঁধন থেকে বেরোতে পারল না।
সাদ এক হাত দিয়ে ফালাকের কোমর জড়িয়ে ধরল আর অন্য হাতে ফালাকের ভেজা চুলের গোছাগুলো সরিয়ে দিল। ফালাকের শরীর থেকে সুগন্ধ আর ভেজা চুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ সাদের মস্তিষ্ককে যেন অবশ করে দিচ্ছে। ফালাকের কাঁধের ওপর থেকে কমলা রঙের আঁচলটা সরিয়ে দিয়ে গ্রীবায় মুখ ডোবাল। ফালাকের সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ খেলে গেল, আপনাআপনি চোখের পাতাগুলো বন্ধ হয়ে এল।
সাদ নেশাতুর হয়ে আরও এগোতে চাইল, তখনই ফালাক হুট করে ডুকরে কেঁদে উঠল। কান্নার শব্দে সাদের ঘোর কেটে গেল। সাদ থমকে গিয়ে মাথা তুলে ফালাকের দিকে তাকাল। ফালাকের গাল বেয়ে নোনতা জল গড়িয়ে পড়ছে।

“কাঁদছিস কেন?

ফালাক কোনো উত্তর দিল না। নিজেকে সাদের বাহুবন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানার অন্য পাশে গিয়ে বসল। দুই হাঁটুতে মুখ গুঁজে অঝোরে কাঁদতে শুরু করল। সাদের বুকের ভেতরটা হঠাতই খালি হয়ে গেল।
ফালাক কান্নাভেজা গলায় বলল “এই গত দুটো দিন আমি কীভাবে কাটিয়েছি।আপনি জ্ঞান ফেরার পর আমাকে কী নিষ্ঠুর অপবাদ দিলেন? আপনি কীভাবে পারলেন বলতে যে আমি আরিয়ানকে বিয়ে করব?”
সাদ নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল। ফালাক বুক চেরা হাহাকার নিয়ে আবার বলল—
“আপনি ছাড়া অন্য কাউকে আমি স্বামী হিসেবে ভাবতে পারি না,। আপনি আমাকে মারেন, কাটুন, ঘরে বন্দি করে রাখুন—আমি সব সহ্য করতে পারি। কিন্তু আমার চরিত্রে কলঙ্ক দেবেন না। আপনি ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার কাছে মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক। অথচ আপনি সেসব অনায়াসেই আমায় বলে দিলেন?”
সাদ ফালাকের প্রতিটি শব্দ নিজের কলিজায় গিয়ে বিঁধতে অনুভব করল। জানে ভুল করেছে,।
সাদ কিছু না বলে ফালাক কে জড়িয়ে ধরে।
সাদের বুকের স্পর্শ পেতেই ফালাকের কান্নার গতি আরও বেড়ে গেল। নিজেকে ছাড়ানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করল না, বরং তপ্ত মরুর বুকে তৃষ্ণার্ত চাতক যেমন জলের খোঁজ পায়, ফালাকও তেমনি সাদের বুকে নিজের আশ্রয় খুঁজে নিল। সাদ ফালাককে নিজের দিকে ঘুরিয়ে সজোরে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। সাদের এক হাত ফালাকের ভেজা চুলে, আর অন্য হাত ওর পিঠকে আগলে রেখেছে।
ফালাক ডুকরে কেঁদে উঠে সাদের টি -শার্টটা খামচে ধরল। গত কয়েক দিনের সবটুকু বিষাদ, অপমান আর হাহাকার আজ এই কান্নার স্রোতে ধুয়ে যাচ্ছে।

“আপনি বড্ড নিষ্ঠুর… বড্ড নিষ্ঠুর। আমাকে মারলেও আমি এতো কষ্ট পেতাম না, যতটা আপনার ওই কথাগুলোয় পেয়েছি।”

সাদ ফালাকের মাথার ওপর নিজের থুতনি ঠেকিয়ে চোখ বুজে রইল। চোখ দুটোও আজ জ্বালা করছে।
সাদ ফালাকের কপালে খুব আলতো করে নিজের ওষ্ঠাধর ছোঁয়ালো। দীর্ঘক্ষণ পর গলা দিয়ে শুধু একটা শব্দই বেরোল—

“ফালাক…”

এই ডাকের ভেতরে কতটুকু আকুতি ছিল, তা ফালাক নিজের হৃৎস্পন্দন দিয়ে অনুভব করতে পারল। আরও শক্ত করে সাদকে জড়িয়ে ধরল। যেন আজ মুক্তি নয়, এই বিষাক্ত মায়ার ভেতরেই সে আজীবন বন্দি থাকতে চায়।

চলবে ~~

#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here