ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_________২৯

0
25

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________২৯

সাদের চুম্বনে কোনো রাগ ছিল না, ছিল কয়েক হাজার মাইল দূরত্বের হাহাকার।ফালাক অনুভব করছে সাদের হাতের মুঠো ফালাকের পিঠে আরও শক্ত হচ্ছে।
সাদ যখন ফালাককে ছাড়ল, ফালাক তখনো হাপাচ্ছে।
ফালাক টলমল পায়ে পিছন দিকে সরে গিয়ে বিছানায় বসে পড়ল। হৃৎপিণ্ডটা বিট করছে খুব।
ফালাক ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের লাল হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবছে- “এই পাগলাটে স্বামী নিয়ে যাবে টা কোথায়!

সাদ ফালাককে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর ওপর নিজের পুরো শরীরের ভার ছেড়ে দিল। ফালাকের নরম শরীরটা সাদের কঠিন শরীরের নিচে পিষ্ট হতে লাগল।
সাদ কোনো কথা বলল না। ফালাকের শাড়ির আঁচলটা ধরে টান দিল। ফালাক শিউরে উঠল। লজ্জায়, সঙ্কোচে নিজের মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল,
সাদ এক ঝটকায় ফালাকের শাড়িটা পুরোপুরি খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিল। ফালাকের ফর্সা শরীরটা এক খণ্ড হীরের মতো ঝিলমিল করে করছে যেন সাদের কাছে । ফালাক লজ্জায় আরও বেশি কুঁকড়ে গেল। সাদ ফালাকের এই লাজুক রূপ দেখে এক মুহূর্ত থমকাল, তারপর এক অদ্ভুত মাদকতা ভরা হাসল।
ধীরপায়ে ফালাকের ওপর নেমে এল। ফালাকের গলার খাঁজে মুখ ডুবিয়ে এক গভীর নিশ্বাস নিল। ফালাকের শরীরের, স্নিগ্ধ ঘ্রাণ—যা পাওয়ার জন্য ছটফট করেছে—তা আজ সাদকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দিল।
সাদ এবার ফালাকের অন্তর্বাসের ফিতেয় হাত দিল। সাদের আঙুলের ছোঁয়া ফালাকের পিঠে এক অদৃশ্য আগুনের আলপনা এঁকে দিচ্ছে। সাদ নিজের মুখ দিয়ে অতি সাবধানে ফালাকের শেষ আবরণটুকুও সরিয়ে দিল।! সাদের এই গভীর ভালোবাসার ধরন ফালাককে এক অন্য জগতে নিয়ে যাচ্ছে।
ফালাক আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এতোদিনের জমে থাকা অনুভূতি —সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। সাদের এলোমেলো চুলগুলো শক্ত করে খামচে ধরে । নখগুলো সাদের মাথার চামড়ায় গেঁথে যাচ্ছে, সাদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
সাদ আজ যেন এক ক্ষুধার্ত বাঘ, যে তার শিকারকে সর্বস্ব দিয়ে গ্রাস করতে চায়। ওফালাকের ঠোঁট, গলা, কাঁধ—প্রতিটি ইঞ্চিতে নিজের কামড়ের দাগ আর চুম্বনের মোহর এঁকে দিল। ফালাক যন্ত্রণায় আর এক ধরণের তীব্র সুখে অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠল। সাদের এই উগ্র ভালোবাসা সামলানো ওর এই অল্প বয়সের শরীরের পক্ষে বড্ড কঠিন হয়ে পড়ছে,। সাদ ফালাকের অস্তিত্বে পুরোপুরি মিশে গেল। সাদের প্রতিটি স্পর্শে ফালাক অনুভব করল ফালাক যেন এক অশান্ত সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে লড়াই করছে, যেখানে ডুবে যাওয়ার ভয় আছে কিন্তু ফিরে আসার কোনো পথ নেই।
নিস্তব্ধ ঘরের ভেতর সাদের সেই ‘গভীর’ ভালোবাসা আর ফালাকের ‘কোমল’ আত্মসমর্পণ মিলেমিশে এক নতুন গল্পের সূচনা করল।

________

ফালাক আজ নিজে হাতে বরফি বানাচ্ছে। প্রথমে চুলায় একটা প্যান বসিয়ে তাতে ঘি দিলো এরপর বেসন দিলো। ঘি দিয়ে বেসন ভেজে নিলো একদম হালুয়া এর মতো দেখাচ্ছে।তারপর এতে চিনি দিয়ে দিলো আর ফুট কালার অল্প চিনি মিশে গেলে আস্তেআস্তে shape এ চলে এলো। ফালাক নামিয়ে নিলো কতক্ষন রেখে দেওয়ার পর শক্ত হয়ে গেলো এরপর বরফি শেপে কেটে নিলো।

এই বরফি টা সবাই খুব প্রশংসা করেছে। নীলা আর রিমাও শিখে নিলো রেসিপি।
ফালাক এবার একটা প্লেটে সাদের জন্য নিলো।
ফালাক দেখল সাদ বেলকনির দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে খুব দ্রুত কথা বলছে। ফালাক কিছুটা ইতস্তত করতে লাগল। সাদ কি এখন বরফি খাওয়ার মুডে আছে? যদি রেগে গিয়ে বলে—”দেখছ না আমি কাজে ব্যস্ত? এসব কেন এনেছ?”
ঠিক তখনই নিচ থেকে নীলা ডাকল, “ভাবি! ও ভাবি!
ফালাক আর দেরি করল না। টি-টেবিলের ওপর সাবধানে বরফির প্লেটটা রেখে দ্রুত পায়ে নিচে নেমে গেল।
সাদ ফোন রাখা মাত্রই ওর নজর গেল টেবিলের ওপর। সুন্দর করে সাজানো চারকোণা বরফির টুকরোগুলো থেকে একটা সুঘ্রাণ আসছে। সাদ বুঝতে পারল এটা কার কাজ। ওফোনটা বিছানায় ছুড়ে দিয়ে টেবিলের কাছে এগিয়ে এল।
সাদ এমনিতে খুব একটা মিষ্টি পছন্দ করে না, ফালাকের হাতের ছোঁয়া আছে জানলে রুচি বদলে যায়। একটা টুকরো মুখে দিল। সাদ একটা একটা করে সব কটি বরফি মুখে পুরতে লাগল। লন্ডনের ফাইভ স্টার হোটেলের কোনো ডেজার্টও আজ ওর কাছে এই সাধারণ বরফির কাছে হার মেনে গেল।
এদিকে ফালাক নিচ থেকে কাজ সেরে আবার ওপরে আসছিল। রুমের দরজার পর্দাটা একটু সরানো ছিল। ভেতরে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। আড়াল থেকে দেখল, সেই গম্ভীর আর মেজাজী সাদ মির্জা—যে কিনা সবসময় শাসনের বুলি আওড়ায়—সে খুব তৃপ্তি করে প্লেটের প্রতিটি বরফি শেষ করছে।
ফালাক পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ চেপে ধরল। ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ী হাসি। ফালাক আড়াল থেকে সবটা দেখে চুপিচুপি আবার সিঁড়ির দিকে পিছিয়ে গেল। ফালাকের মনে হলো, ওর হাতের বানানো মিষ্টির চেয়েও সাদের ওই তৃপ্তিভরা মুখটা ওকে বেশি সুখ দিচ্ছে।

মনে মনে ভাবলো এমনটা হলে আমি রোজ বানিয়ে দিতে রাজি।
______
পরদিন সকালে মির্জা ড্রয়িংরুমে সাদের বাবা, মা, ফারদিন, ঈশান,নীলা সহ সবাই উপস্থিত। সাদ গম্ভীর মুখে বসে আছে

“তোমরা তো জানেনই লন্ডনের বিজনেসটা এখন কতটা বড় হয়ে গেছে। আমি চাইছি ফালাককে এবার আমার সাথে নিয়ে যেতে। ওর পাসপোর্ট আর ভিসার কাজ আমি অলরেডি শুরু করে দিয়েছি।”
সাদের এই সিদ্ধান্তে বাড়ির সবাই এক মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে গেল। তারা খুশি যে সাদ অবশেষে ফালাককে নিজের স্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছে, তার সাথে সংসার করতে চাইছে। কিন্তু পরক্ষণেই এক বিষণ্ণতা গ্রাস করল সবাইকে। এই কদিনেই ফালাক তার নম্রতা আর মায়াবী স্বভাব দিয়ে বাড়ির সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। ফালাক ছাড়া বাড়িটা যেন আবার প্রাণহীন হয়ে পড়বে।

” তুমি ফালাককে মেনে নিয়েছো , সংসার করবে —এটা শুনে খুশি হয়েছি । কিন্তু ফালাক চলে গেলে এই বড় বাড়িটা যে একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আমার তো মেয়েটার মুখ না দেখলে দিনই কাটে না।”

ফারদিন আর ঈশানও মুখ কালো করে ফেলল। নীলা তো ফালাকের হাত ধরে কেঁদেই ফেলল,
সাদের বাবা এতক্ষণ গম্ভীর হয়ে শুনছিলেন। তিনি শান্ত গলায় বললেন—
“সাদ, তোমার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। ফালাক তোমার স্ত্রী, ওর জায়গা তোমার পাশেই। তবে একটা কথা… আজ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। আমি চাই একবারে ঈদটা সেরে তোমরা লন্ডনে যাও।

সবাই সাদের বাবার কথায় সায় দিল। মীরাও সাদকে অনুরোধ করতে লাগল।

“ভাইয়া, প্লিজ! ঈদের আগে যেও না।

সাদ ফালাকের দিকে একবার আড়চোখে তাকাল। ফালাকের চোখদুটোও ছলছল করছে। ও যেমন সাদের সাথে যেতে চায়, তেমনি এই পরিবারটার মায়াও ওকে টানছে। সাদ বুঝতে পারল সবার এই আবেগ উপেক্ষা করা ওর পক্ষে সম্ভব নয়।

“ঠিক আছে। সবার যখন এতো আবদার, তবে ঈদের পরেই যাব।
সাদের কথা শুনে পুরো বাড়িতে যেন আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। —ফালাক মনে মনে ভাবল, “আল্লাহ, আমার এই ছোট জীবনটাতে এতো সুখ কি সত্যিই পাওনা ছিল?”

পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। চারদিকে এক স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতা। ফালাক আলতো করে সাদের বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল। সাদের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ধীরপায়ে ওজু করে জায়নামাজে দাঁড়াল।

তাহাজ্জুদের নামাজে ফালাক আজ দীর্ঘক্ষণ সিজদায় পড়ে রইল। চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া নোনা জল জায়নামাজ ভিজিয়ে দিচ্ছে। শুকরিয়া জানাল আল্লাহর কাছে, যিনি ওর মতো এক অনাথ মেয়েকে আরহাম সাদ মির্জার মতো একজন মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন।
ফালাক নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নামল। ভেবেছিল হয়তো ও-ই প্রথম উঠেছে, কিন্তু রান্নাঘরের কাছাকাছি আসতেই দেখল সেখানে এলাহি কাণ্ড।
রান্নাঘরে সাদের মা, ছোট চাচি, মেঝো চাচি,নীলা আর রিমাও আছে। সবাই মিলে সেহরির তদারকি করছেন। ফালাককে দেখে সাদের মা মৃদু হাসলেন।

ফালাক তড়িঘড়ি করে খাবারগুলো গরম করার কাজে লেগে পড়ল।
মেঝো চাচি: “বড় বউমা আসাতে আমাদের কাজ অর্ধেক হয়ে গেল। দেখছো আপা, ফালাক কেমন লক্ষ্মী মেয়ের মতো সব গুছিয়ে নিচ্ছে।”
ফালাক হাসিমুখে তরকারিগুলো চুলায় বসাল। গরম ভাতের সুগন্ধ আর মাংসের ঘ্রাণে চারপাশ ম ম করছে। ফালাক নিজের হাতে সবার জন্য সালাদ কাটল আর লেবুর শরবত রেডি করল।
ফালাক নিজের হাতের কাজ শেষ করে উপরের ঘরের দিকে পা বাড়াল। মসজিদে তখন মাইকে বারবার ঘোষণা শোনা যাচ্ছে— “সেহরির সময় হয়েছে, সম্মানিত এলাকাবাসী, আপনারা যার যার ঘরে সেহরি খেয়ে নিন। সবাই তাড়াতাড়ি উঠে পড়ুন।”
ফালাক রুমে ঢুকে দেখল সাদ তখনও অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ফালাক ধীরপায়ে বিছানার পাশে গিয়ে বসল।
ফালাক সাদের কাঁধে হাত দিয়ে আলতো করে নাড়া দিল।
“এই যে শুনছেন? উঠে পড়ুন। সেহরির সময় হয়ে গেছে কিন্তু। মসজিদে ডাকছে।”

সাদ একবার চোখের পাতা খুলল। তাড়াতাড়ি উঠুন, হাত-মুখ ধুয়ে নিচে চলুন।”

সাদ এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে বসল। ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে এসে পড়েছে। ফালাকের দিকে এক মুহূর্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল,।
সেহরির টেবিলে সাদ গম্ভীর মুখে খাবার খেলেও ওর নজর বারবার ফালাকের দিকেই যাচ্ছিল। ফালাক ব্যস্ত ছিল সবাইকে পরিবেশন করতে। সেহরি শেষ করে সাদ আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। সবার আগে ধীরপায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
সেহরি শেষ হওয়ার পর ফজরের আজান ভেসে এল। সাদ নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ফালাকের জন্য অপেক্ষা করে ঘুমিয়ে পড়ল।

বিকেল । রান্নাঘরে এখন উৎসবের আমেজ। সাদের মা বেগুনি ভাজছেন, আর ছোট চাচি পিঁয়াজুফালাক আলুর চপগুলো সুন্দর করে শেপ দিয়ে ব্রেডক্রাম্বে গড়াচ্ছে। নীলা আর রিমা ফল কাটতে ব্যস্ত।

নিচে ডাইনিং টেবিলে এলাহি কাণ্ড। মাঝখানে বড় একটা পাত্রে শরবত, চারপাশে ছোলা-মুড়ি, বেগুনি, চপ, জিলাপি আর হরেক রকমের ফল।
আজানের ঠিক আগে পুরো মির্জা পরিবার টেবিল ঘিরে বসল। সাদের বাবা মোনাজাত ধরলেন। ফালাক আড়চোখে দেখল সাদ গম্ভীর মুখে মোনাজাত করছে,
মুয়াজ্জিনের “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি শোনার সাথে সাথে সবাই খেজুর মুখে দিয়ে রোজা ভাঙল।
ইফতারের পর পুরো ড্রয়িংরুমটা যেন হাসিখুশিতে ভরে উঠল। ফারদিন আর রিমা জিলাপি নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে, সাদ সোফায় বসে তৃপ্তির সাথে চা খাচ্ছে। সাদ ধমক দিলো এতো বড় হয়েছে তাও বাচ্চামি যায় না।মির্জা বাড়ির এই রমজানের প্রথম ইফতারিটা ফালাকের জীবনে এক পরম পাওয়া হয়ে রইল। অনাথ মেয়েটা আজ এক বিশাল পরিবারের মধ্যমণি।

চলবে ~~
(কি লিখলাম জানি না 😑 ভালো না লাগলে জানাবেন এই পর্ব ডিলেট করে দিবো। কালকে ভালো মতো লিখে আবার দিবো আজকে মাথায় কিছু আসলো না আর )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here