#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_______২৮
লন্ডনের মেফেয়ার (Mayfair) এলাকার একটি তিনতলা ভিক্টোরিয়ান স্টাইলের বাংলো। এটি সাদের ব্যক্তিগত আবাস। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি আর কনকনে ঠান্ডা বাতাস। বাংলোর ভেতরে সেন্ট্রাল হিটিংয়ের কারণে এক আরামদায়ক উষ্ণতা বিরাজ করছে। সাদের এই বাড়িটি ওর ব্যক্তিত্বের মতোই গম্ভীর—সবকিছু সাদা, ধূসর আর কালোর মিশেলে সাজানো। কোনো বাড়তি চাকচিক্য নেই, কেবল আভিজাত্য।
বিশাল কিং সাইজ বেড, তার পাশে একটি ছোট স্টাডি টেবিল। টেবিলের ওপর সাদের ল্যাপটপ আর কিছু বিজনেস ফাইল এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। রুমের একদিকের পুরো দেয়ালটা কাঁচের, যেখান থেকে লন্ডনের রাতের আলো ঝলমলে রাস্তা দেখা যায়। সাদ তখন মাত্র অফিস থেকে ফিরেছে। পরনের কোটটা সোফায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
হাতে এক কাপ ব্ল্যাক কফি। সাদের চোখে ক্লান্তি থাকলেও মস্তিষ্কে তখনো চলছে পরের দিনের বিজনেস ডিল।
সাদ কফিতে একটা চুমুক দিয়ে আবার ল্যাপটপের সামনে বসল। মাউস ক্লিক করে বাড়ির বেডরুমের সিসিটিভি ফুটেজটা বড় করল। দেখল ফালাক অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ফালাকের শান্ত মুখটা দেখে সাদের পাথরের মতো মনে এক অদ্ভুত শীতলতা নেমে এল।
সাদের যখন অনেকদিন করে খোঁজখবর থাকতো না তখন সাদ আসলে লন্ডন এসে কাজ সামলাতে।
সাদ ফালাককে দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গেলো।
পরদিন সকালে ফালাক সিদ্ধান্ত নিলো বাড়ি গিয়ে থেকে আসবে কয়দিন। নিজের ব্যাগটা গুছিয়ে সাদের মায়ের রুমে গিয়ে দাঁড়াল।
“মা, একটা কথা ছিল।”
“কী হয়েছে মা? শরীর খারাপ লাগছে?”
“না মা। আমি চাচ্ছিলাম… যদি অনুমতি দেন তবে দুটো দিনের জন্য ভাইয়ার বাড়ি থেকে ঘুরে আসতাম। মনটা খুব ছটফট করছে।”
সাদের মা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“ঠিক আছে মা। যাও একটু ঘুরে এসো ।
ফালাক ওর ভাইয়ার বাড়িতে পৌঁছাল।
“আরে ফালাক! তুই হঠাৎ এই সময়ে? একা এসেছিস কেন?”
ফালাক একটা ম্লান হাসি দিয়ে ভেতরে ঢুকল। ভাবি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
__________
সাদের পার্সোনাল শেফ এসে ডাইনিং টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে দিয়েছে। আভিজাত্যপূর্ণ ডাইনিং রুমে সাদ একাই বসে আছে। হাতে ট্যাব, যেখানে স্টক মার্কেটের খবর চলছে। খুব দ্রুত ব্রেকফাস্ট শেষ করে গ্যারেজে নামে ।
গ্যারেজে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সাদের শখের গাড়িগুলো—রোলস রয়েস থেকে শুরু করে ল্যাম্বরগিনি। সাদ আজ বেছে নিল ওর প্রিয় ব্ল্যাক মার্সিডিজ বেঞ্জ। নিজেই ড্রাইভ করে অফিসের দিকে রওনা দিল।
সাদ লিফট থেকে নামতেই পুরো ফ্লোরে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল। এমপ্লয়িরা দ্রুত নিজ নিজ ডেস্কে সোজা হয়ে বসল। নিজের কেবিনে ঢোকার আগেই সেক্রেটারি লিসা ফাইল হাতে পিছু নিল।
“গুড মর্নিং স্যার। আজকের শিডিউলে তিনটা ইন্টারন্যাশনাল মিটিং আর বিকেলে একটা প্রেস কনফারেন্স আছে।”
সাদ চেয়ারে বসতে বসতে ল্যাপটপ অন করল। চোখের দৃষ্টি এখন তীক্ষ্ণ।
“প্রেস কনফারেন্সটা আধঘণ্টা এগিয়ে আনো। আর সিঙ্গাপুর ডিলের পেপারসগুলো এখনই টেবিলে চাই। কোনো ভুল যেন না হয়।”
সাদ কাজে ডুবে গেল।
__________
আসবাবপত্র থেকে শুরু করে পর্দার কাপড়—সবকিছুই এখন দামি। মির্জা বাড়ির পাঠানো অর্থে তাদের অভাব এখন নেই।
”আরে ফালাক! আমাদের রাজকুমারী এসেছে! আয় ভেতরে আয়। সাদ আসেনি তাতে কী, তুই তো এসেছিস।”
ভাবি ফালাকের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গেলেন। ফালাক দেখল সব বদলে গেছে। কিন্তু চোখ খুঁজছে সেই পুরনো দেয়ালটা, যেখানে ছোটবেলায় পেন্সিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত। নিজের পুরনো ঘরের দিকে পা বাড়াল।
দরজাটা খুলতেই ফালাক থমকে দাঁড়াল। ঘরটা এখন অনেক সুন্দর করে সাজানো, কিন্তু এই ঘরেই তো কত রাত চোখের জল ফেলেছে। জানালার গ্রিলটা ধরতেই ওর মনে পড়ে গেল—এখান থেকেই আকাশের তারা দেখে নিজের ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনত। অথচ ভাগ্যচক্রে ও আজ মির্জা বাড়ির বড় বউ।
ফালাক বিছানায় বসল। ভাবি নাশতা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।
“মিষ্টিটা খা ফালাক। তোর ভাইয়া একদম দামী দোকান থেকে এনেছে।
ঘরটাতে ফালাক এখন একাই। ড্রয়িংরুম থেকে ভাইয়া আর ভাবির হাসাহাসির শব্দ আসছে। মির্জা বাড়ির পাঠানো টাকা ওদের জীবনটাকে কতটা পাল্টে দিয়েছে, সেটা ভাবলেই ফালাকের অবাক লাগে। কিন্তু ফালাক আজ এসব নিয়ে ভাবছে না। চাচ্ছে নিজের মতো করে একটু সময় কাটাতে।
ফালাক জানালার গ্রিল ধরে বাইরের অন্ধকার আকাশটার দিকে তাকিয়ে আছে। ছোটবেলার কত স্মৃতি এখানে। আলমারি থেকে পুরনো একটা ডায়েরি বের করল। ধুলোমাখা পাতাগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে ওর চোখে জল এল। এই ডায়েরির প্রতিটা পাতায় ছিল অনিশ্চয়তার গল্প,।
বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূরে ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলো। এই ঘরেই কত রাত চোখের জল ফেলেছে, কত আকাশ-পাতাল ভেবেছে। ভাইয়া-ভাবি এখন ওকে সমীহ করে চলে, কিন্তু ফালাকের মনে পড়ে যাচ্ছে সেই দিনগুলোর কথা, যখন এই ঘরেই নিজেকে বড্ড একা আর অসহায় মনে করত।
_________
লন্ডনের সময় তখন বিকেল, আর বাংলাদেশের ঘড়িতে রাত প্রায় নটা। সাদ ল্যাপটপের ওপাশে এখনো মিটিংয়ে বুঁদ হয়ে আছে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও থামার নাম নেই।
সাদ মাউস ঘুরিয়ে ড্রয়িংরুম দেখল, মা বসে আছেন কিন্তু ফালাক নেই। বাগানটা জনশূন্য।
সাদ অস্থির হয়ে উঠে। ফালাক কোথায়!
এতক্ষন ধরে চেক করছে ফালাক কথায়।আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। অফিসের ফাইল, মিটিং, লন্ডনের এই কোটি টাকার সাম্রাজ্য—সবকিছু ওর কাছে এখন অর্থহীন মনে হচ্ছে। ও ল্যাপটপটা সপাটে বন্ধ করল।
সাদ দ্রুত পায়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে লিসাকে চেঁচিয়ে ডাকল।
“লিসা! ক্যান্সেল এভরিথিং! আমার প্রাইভেট জেট রেডি করো। আমি এখনই ফিরছি।”
লিসা হতভম্ব হয়ে বলল— “বাট স্যার, কাল সকালে ব্রিটিশ মেয়রের সাথে আপনার ডিনার! আপনি এখন গেলে সব ডিল ভেস্তে যাবে!”
সাদ লিসার দিকে এমন এক অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাল যে লিসা দু-পা পিছিয়ে গেল।
গেট দ্য জেট রেডি!”
________
পুকুরের শান্ত জলরাশি। ফালাক পুকুরঘাটের সিঁড়িতে বসে অনেকক্ষণ স্মৃতি রোমন্থন করল। ছোটবেলায় কতবার এই পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে ভাইয়ার বকুনি খেয়েছে, কত লুকোচুরি খেলা এই ঘাটে!
আজ অনেকদিন পর সেই পুরনো দিনগুলোকে ছুঁতে ইচ্ছে হলো ওর। ফালাক ধীরপায়ে পুকুরের শীতল জলে নামল। পানির ছোঁয়া লাগতেই শরীরের সব ক্লান্তি যেন নিমেষে উধাও হয়ে গেল। আপন মনে ডুব দিচ্ছে,!
ফালাক যখন পানি থেকে মাথা তুলল, ওর লম্বা ভেজা চুলগুলো পিঠ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। চোখের পাতা ভেজা, মুখটা শুভ্র দেখাচ্ছে। দুই হাত দিয়ে মুখ মুছে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঠিক তখনই ওর মনে হলো, ঘাটের ওপর কেউ একজন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফালাক সচকিত হয়ে তাকাল। মুহূর্তেই হৃদস্পন্দন যেন থমকে গেল। পুকুরঘাটের একদম মাথায় দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। পরনে কালো স্যুট, সাদা শার্টের বোতাম খোলা,।
“সাদ মির্জা!
দামী ব্ল্যাক স্যুটে সাদকে এই পুকুরঘাটে বড্ড বেমানান, অনেকটা অলৌকিক কোনো দৃশ্যের মতো লাগছে।
ফালাক কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে শুধু এটুকুই বলতে পারল
“আপনি… আপনি এখানে?”
সাদ কোনো উত্তর দিল না। কপালে ভাঁজ, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে—হয়তো নির্ঘুম ফ্লাইটের ক্লান্তিতে, ফালাকের ভেজা শরীরের দিকে একবার তাকিয়ে বরফশীতল গলায় শুধু দুটো শব্দ উচ্চারণ করল—
“বাড়ি চল।”
ফালাকের মাথায় তখন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। লন্ডন থেকে মানুষটা হুট করে জাদুমন্ত্রের মতো এখানে কীভাবে উদয় হলো? কিন্তু সাদের থমথমে মুখ দেখে প্রশ্নগুলো গলার কাছেই দলা পাকিয়ে গেল। ফালাক ধীরপায়ে পানি থেকে উঠে সিঁড়িতে এসে দাঁড়ায় । সাদ এক দৃষ্টিতে ফালাকের দিকে তাকিয়ে রইল। ফালাকের মুখটা দেখামাত্রই সাদের বুকের ভেতরের দাউদাউ করা অস্থিরতা যেন এক নিমেষে শান্ত হয়ে এল।
যাকে খুঁজছিল, সে ওর সামনেই আছে—নিরাপদ আর জীবন্ত।
ফালাক মাথা নিচু করে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল, আর পেছনে ছায়ার মতো অনুসরণ করল সাদ। বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই ভাইয়া আর ভাবি থতমত খেয়ে গেলেন। সাদ মির্জা তাদের উঠোনে দাঁড়িয়ে—এটা যেন তাদের কাছে কোনো আকাশ কুসুম কল্পনা।
আপনি এখানে , বসুন বসুন! ওগো, একটা চেয়ার আনো তাড়াতাড়ি!”
ফালাকের ভাই তড়িঘড়ি করে বারান্দার একটা চেয়ার এগিয়ে দিলেন। সাদ কোনো কথা না বলে ধপ করে চেয়ারটায় বসে পড়ল। ফালাকের ভাবি ফালাককে ইশারায় ভেতরে পাঠালেন। ফালাক জানে সাদ এখানে বেশিক্ষণ থাকবে না; আসার ধরনই বলে দিচ্ছে ফালাককে নিতে এসেছে।
ফালাক ঘরে ঢুকে দ্রুত ভেজা শাড়িটা বদলে নিল। একটা নতুন নীল রঙের সুতির শাড়ি জড়িয়ে চুলগুলো একটু মুছে নিল।
ফালাক দ্রুত ওর ব্যাগটা গুছিয়ে নিল। ওজানে সাদকে বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখা যাবে না। গুছিয়ে নিয়ে যখন বারান্দায় এল, দেখল ভাইয়া আর ভাবি সাদের সামনে নানা পদের আপ্যায়ন সাজিয়ে দিয়েছেন—পিঠা, গুড় আর চা। কিন্তু সাদ সেদিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। চোখ শুধু ঘরের দরজার দিকে স্থির ছিল।
ফালাককে ব্যাগ হাতে বের হতে দেখে সাদ উঠে দাঁড়াল। ভাইয়া বা ভাবির দিকে আর একবারও ফিরে তাকাল না। সরাসরি গাড়ির চাবিটা হাতে নিয়ে ফালাকের দিকে এগিয়ে এল।
“হয়েছে? ব্যাগ দেও আমার কাছে।”
সাদ ব্যাগটা একরকম ছিনিয়ে নিয়েই বাইরের দিকে পা বাড়াল। ফালাক শুধু পেছন ফিরে ভাইয়া আর ভাবিকে একটা ম্লান বিদায়ী হাসি দিল।
গাড়িতে ওঠার পর সাদ ড্রাইভ শুরু করল। পুরো রাস্তা নিস্তব্ধ। ফালাক আড়চোখে দেখল, সাদ এক হাত দিয়ে স্টিয়ারিং ধরছে আর অন্য হাত দিয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
___________
সাদ এক হাতে ফালাকের ব্যাগ আর অন্য হাতে ফালাকের হাত শক্ত করে ধরে ড্রয়িংরুমে ঢুকল, তখন সাদের মা সোফায় বসে তসবিহ পড়ছিলেন। ছেলেকে দেখামাত্রই তাঁর হাত থেকে তসবিহটা খসে পড়ল।
“সাদ! তুই? তুই না লন্ডনে ছিলি? আর ফালাক… তুই ওকে নিয়ে কখন আসলি?”
সবাই অবাক লন্ডন থেকে এই দশ-বারো ঘণ্টার জার্নি করে ছেলেটা হুট করে এভাবে উদয় হবে, তাও ফালাককে সাথে নিয়ে—এটা কেউ কল্পনাও করেনি।
সাদ কোনো কৈফিয়ত দিল না। ওর চোয়াল তখনো শক্ত, শুধু নিচু স্বরে বলল, “সব পরে বলছি মা।
“আপাতত ঘরে যাচ্ছি।”
ঠিক তখনই ওপরতলা থেকে সাদের ভাই-বোনরা—ফারদিন, ঈশান আয়ান—শোরগোল করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল।
“আরে! বড় ভাইয়া! তুমি কখন এলে? আর ভাবিকেও নিয়ে এসেছো?
“আরে ভাই, তুই বুঝিস না কেন? ভাইয়ার আসল অ্যাওয়ার্ড তো ভাবি!
ছোট ভাইদের এই রসিকতায় ড্রয়িংরুমের গুমোট ভাবটা একটু হালকা হলো। বড়রা মুখে কিছু না বললেও মনে মনে সবাই বুঝে নিলেন—সাদ যতই কঠোর হোক না কেন, এই ছোট্ট মেয়েটার অনুপস্থিতি ওকে কতটা অস্থির করে তোলে টা তাড়াতাড়ি বুঝতে পারছেন ।
সাদের বাবা মুচকি হেসে মনে মনে ভাবলেন, “ছেলেটা বড় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওর জেদ আর ভালোবাসা আজও সেই আগের মতোই পাগলাটে রয়ে গেছে।”
সাদ কাউকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফালাককে একরকম টেনেই ওপরে নিজেদের রুমের দিকে নিয়ে গেল। ফালাক লক্ষ্য করল, পুরোটা সময় সাদ একবারও ওর হাত ছাড়েনি। বাড়ির সবার সেই অর্থপূর্ণ হাসি আর ফিসফিসানি ফালাকের কানে আসছিল ঠিকই, সাদের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে সাহস পেল না।
রুমে ঢুকেই সাদ সপাটে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সাদ কোটটা খুলে সোফায় ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর ফালাকের দিকে ঘুরে দাঁড়ায় ।
ফালাক আলমারির পাশে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সাদের দীর্ঘদেহের ছায়া ফালাকের ওপর পড়তেই ফালাক একটু কুঁকড়ে গেল।
সাদ ফালাকের একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় ফালাকের নাকে তখন সাদের দামী পারফিউম একটা মিশ্র ঘ্রাণ আসছে। ফালাক মুখ তুলে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সাদ কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে এক ঝটকায় ফালাকের কোমর জড়িয়ে ধরল।
পর মুহূর্তেই ফালাক অনুভব করল সাদের ঠোঁটজোড়া ফালাকের ঠোঁটের ওপরে চেপে বসেছে।
মুহূর্তের জন্য ফালাকের পৃথিবীটা যেন বনবন করে ঘুরে উঠল।
বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ!
সাদের চুম্বনে কোনো রাগ ছিল না, ছিল কয়েক হাজার মাইল দূরত্বের হাহাকার।ফালাক অনুভব করছে সাদের হাতের মুঠো ফালাকের পিঠে আরও শক্ত হচ্ছে।
সাদ যখন ফালাককে ছাড়ল, ফালাক তখনো হাপাচ্ছে।
ফালাক টলমল পায়ে পিছন দিকে সরে গিয়ে বিছানায় বসে পড়ল। হৃৎপিণ্ডটা বিট করছে খুব।
ফালাক ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের লাল হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে ভাবছে- “এই পাগলাটে স্বামী নিয়ে যাবে টা কোথায়!
চলবে —
( যারা পেজ ফলো দেয় না ভাবছি ওদের ব্লক মারব। আমি চাই আমার genuine পাঠক, আর প্রাইভেট গ্রুপে গল্প দিবো!)
#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

