#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________২৭
জানালার ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে রুপোলি আভার একফালি আলো এসে পড়েছে সাদের বিছানায়। সাদের ঘুমটা হঠাৎই ভেঙে গেল। বিছানার পাশটা খালি। মুহূর্তেই সাদের বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠল। গতকালের ভয়াবহ স্মৃতি—হামজার ডেরা, সেই জঙ্গল, ফালাকের হারিয়ে যাওয়া—সবকিছু এক নিমেষে মস্তিষ্কে ঝিলিক দিয়ে গেল।
সাদ ধড়ফড় করে উঠে বসল। পিঠের জখমটা টান লাগায় একটা যন্ত্রণাকাতর শব্দ করল, কিন্তু সেদিকে ওর খেয়াল নেই। অস্থির চোখে রুমের চারপাশটা দেখল। ঠিক তখনই ওর নজর গেল রুমের জানালার পাশের কোণটিতে।
সেখানে জায়নামাজ বিছিয়ে শান্ত হয়ে বসে আছে ফালাক। মাথায় একটা বড় ওড়না খুব যত্ন করে জড়ানো, যা মুখমণ্ডলকে এক অপার্থিব আবরণে ঢেকে রেখেছে। ফালাক ফজরের নামাজ পড়ছে। ওর চোখ দুটো বন্ধ, ঠোঁট দুটো খুব ধীরলয়ে নড়ছে, সাদের মনে হলো ফালাক যেন কোনো মানবী নয়, বরং স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো নূর দেখছে।
সাদ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। ফালাকের এই রূপটা সাদের কাছে একদম নতুন। জানত ফালাক নামাজ পড়ে, ফালাককে আগে কখনো লক্ষ্য এভাবে করেনি।
ফালাক যখন মোনাজাতের জন্য হাত তুলল, স্পষ্ট দেখতে পেল ফালাকের বন্ধ চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল।
“হে আল্লাহ, তুমি ওনাকে সুস্থ করে দাও। ওনার সব জখম আমার শরীরে দিয়ে দাও, কিন্তু ওনাকে আর কোনোদিন যন্ত্রণায় ফেলো না।
নামাজ শেষ করে ফালাক জায়নামাজ ভাঁজ করতে যাচ্ছিল, তখনই দেখল সাদ বিছানায় বসে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ফালাক কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। ওড়নাটা আরও একটু টেনে ঠিক করে সাদের কাছে এগিয়ে এল।
“ঘুম ভেঙে গেল আপনার? পিঠে কি খুব ব্যথা করছে? ওষুধটা এনে দেব?”
সাদ কোনো কথা বলল না। শ সাদ তখনো একদৃষ্টিতে ফালাকের দিকে তাকিয়ে। ফালাক কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল—
“চা বানিয়ে দেব? আপনি তো এত সকালে ওঠেন না সাধারণত। আজ হঠাৎ খুব ভোরে জেগে গেলেন যে?”
সাদ জানালার বাইরের ঝাপসা আলোটার দিকে তাকাল। গলার স্বর কিছুটা ভারী।
“ঘুম ভেঙে গেল।
ফালাক আর কোনো কথা না বাড়িয়ে ধীরপায়ে রুম থেকে নিচে নেমে এল। ফালাক রান্নাঘরে ঢুকে চুলাটা জ্বালাল।
খুব যত্ন করে চা বানাতে লাগল। সাদ কড়া চা পছন্দ করে, চিনি থাকবে একদম সামান্য। ফালাক কেটলিতে পানি ফুটিয়ে তাতে আদা আর এলাচ দিল। আদার ঝাজালো ঘ্রাণ রান্নাঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। এরপর পরিমাপমতো চা পাতা দিয়ে লিকারটা যখন গাঢ় খয়েরি রঙ ধারণ করল, তখন কাপে ঢেলে নিল। ওপর থেকে সামান্য দুধের সর আর একদম এক চিমটি চিনি মিশিয়ে চা-টা তৈরি করল ফালাক। ট্রের ওপর চায়ের কাপ সাজিয়ে আবার ওপরে সাদের রুমের দিকে রওনা দিল।
রুমে ঢুকে দেখল সাদ বসে আছে, তবে হাতে ফালাক চায়ের ট্রে-টা টি-টেবিলের ওপর রাখল।
“এই নিন চা।
সাদ চায়ের কাপটা হাতে নিল। সাদের প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী ও অনেক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে, তাই এই ভোরের আলোয় ধোঁয়া ওঠা চায়ের স্বাদ ওর কাছে একদম নতুন।
“আমি নিচে যাচ্ছি,
সাদ মাথা নাড়ল। ফালাক ট্রে-টা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সাদের শান্ত আর স্বাভাবিক আচরণ ফালাককে এক অদ্ভুত স্বস্তি দিচ্ছে।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সাদ ধীর পায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় চারপাশটা এক মায়াবী রূপ নিয়েছে। বাইরের ঠান্ডা বাতাস এক অন্যরকম সতেজতা দিচ্ছে।
সাদ কাপে চুমুক দিতে যাবে, ঠিক তখনই ওর নজর গেল নিচে বাগানের দিকে। সেখানে ফালাক খুব মনোযোগ দিয়ে ছোট ছোট চারাগাছগুলোতে পানি দিচ্ছে। ভোরের বাতাসে অবাধ্য কয়েকটা চুল বারবার মুখে এসে পড়ছে, আর ফালাক হাত দিয়ে সেগুলো সরিয়ে দিচ্ছে।
সাদ চায়ের কাপটা ঠোঁটের কাছে ধরে স্থির হয়ে গেল। ওপর থেকে বাগানটাকে একদম স্পষ্ট দেখা যায়। ফালাক একটা ঝরনা (watering can) দিয়ে গাছে পানি দিচ্ছে, ফালাকের চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ।
ফালাক একটা গোলাপ গাছের কাছে গিয়ে থামল। পরম মমতায় ফুলটাকে একটু ছুঁয়ে দেখল। সাদের মনে হলো, ফালাক নিজেই যেন ওই বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুল। সাদের গম্ভীর ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল।
চা শেষ হয়ে এল, কিন্তু সাদের ওখান থেকে সরতে ইচ্ছে করছে না।
নিচে ফালাক আপন মনে বাগানে ব্যস্ত। এদিকে জানেও না যে ওপর থেকে এক জোড়া গভীর চোখ ওকে পরখ করছে।
____________
সাদ বাড়িতে নেই। সেই যে কাটাছেঁড়া শরীর নিয়ে বেরিয়ে গেল, আর ফেরেনি। ফালাক বারবার ফোন করেছে, কিন্তু ওপাশ থেকে শুধু যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর ভেসে আসে—”দুঃখিত, এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
ফালাক জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে। মনের ভেতর এক দলা কান্না দলা পাকিয়ে আসছে।
রুমটা বড্ড ফাঁকা। সাদের জ্যাকেটটা এখনো সোফার একপাশে পড়ে আছে, যেখান থেকে সাদের পারফিউমের হালকা ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। ফালাক সেই জ্যাকেটটা বুকে জড়িয়ে ধরল। মনে হচ্ছে, সাদ পাশে নেই মানে ওর চারপাশের পৃথিবীটাই যেন স্থবির হয়ে গেছে।
অন্ধকার রুমের নির্জনতায় ফালাকের চোখ ফেটে জল নামল। অস্ফুট স্বরে শোনা গেলো —
“তুমি চোখের আড়াল হও,
কাছে কি বা দূরে রও,
মনে রেখো আমিও ছিলাম।
এই মন তোমাকে দিলাম, এই প্রেম তোমাকে দিলাম…….”
ফালাকের কান্না এখন বাঁধ ভেঙেছে। সাদ ওকে কতটা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়েছে, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। জানালার গ্রিলটা শক্ত করে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—
“আল্লাহ, ওনাকে ফিরিয়ে দাও। আমি আর পারছি না। ওনার শাসন, ওনার রাগ—সবই আমার সয়ে গেছে। শুধু এই শূন্যতা আমি সইতে পারছি না।”
রাতের ডাইনিং টেবিলে সবাই । সাদ দুই দিন ধরে বাড়িতে নেই, কারো ফোন ধরছে না।
ঠিক তখনই ওপরতলা থেকে শোরগোল করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নেমে এল ফারদিন। হাতে ফোন,।
“মা! বাবা! বড় আব্বু! ভাবি! তাড়াতাড়ি দেখো কী হয়েছে! বিশ্বাস করতে পারবে না!”
ফারদিনের এমন উন্মাদের মতো আচরণে সবাই খাওয়া থামিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। সাদের বাবা ভ্রু কুঁচকে বললেন, “কী হয়েছে? এভাবে চিৎকার করছিস কেন?”
ফারদিন টেবিলের মাঝখানে মোবাইলটা রাখল। স্ক্রিনে একটা লাইভ নিউজ ফিড চলছে— লন্ডনের এক জমকালো অডিটোরিয়ামে বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান। সেখানে ঘোষণা করা হচ্ছে বছরের সেরা ব্যবসায়ীর নাম।
স্পিকার থেকে ভেসে এল— “And the winner of the Best Businessman Award this year is… Mr. Arham Sad Mirza!”
পুরো ডাইনিং টেবিল যেন পাথরের মতো জমে গেল। স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে, সাদ —সেই গম্ভীর, কালো কোট পরা মানুষটি—খুব শান্ত পায়ে স্টেজে উঠে অ্যাওয়ার্ডটা গ্রহণ করছে। চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী চাহনি, চোখেমুখে জয়ের নেশা।
সবাই স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। সাদ যে লন্ডনে এত বড় একজন ব্যবসায়ী—এটা বাড়ির কারো ধারণাতেই ছিল না।
ঈশান বলল “বলেছিলাম না বড় আব্বু? ভাইয়া আমাদের গর্ব! মুখ ফুটে কিছু বলে না, কিন্তু ও যা করে সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। আমাদের ভাইয়া এখন গ্লোবাল আইকন!”
সাদের মায়ের চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। তাঁর ছেলে যে এত বড় সম্মানের অধিকারী হয়েছে, এটা দেখে মা হিসেবে বুকটা গর্ভে ভরে গেল। তিনি আঁচলে মুখ ঢাকলেন।
এদিকে সাদের বাবা স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। তিনি সবসময় সাদকে বকাঝকা করতেন, ওকে ‘মাস্তান’ ‘উশৃঙ্খল’ বলে গালমন্দ করতেন। আজ নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে তাঁর চোখ ভিজে এল। মনে মনে ভাবলেন— “আমার ছেলেটা তিল তিল করে নিজের এই সাম্রাজ্য গড়েছে,।
ফালাক একদৃষ্টে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। ভেতরটা এখন হাজারো আবেগের সংমিশ্রণ। সাদ মির্জা—ওর স্বামী—আজ বিশ্বসেরা। এই খুশিতে ওর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। আল্লাহ er কাছে শুকরিয়া আদায় করলো মনে মনে সাদ er এতো বড় সাফল্য দেখে।।
সাদের বাবা সোফায় ধপ করে বসে পড়লেন। তাঁর চশমার কাঁচটা ঝাপসা হয়ে এসেছে। তিনি সবসময় ভাবতেন সাদ শুধু মারপিট আর মাস্তানি করেই জীবনটা নষ্ট করছে।
সাদের মা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে হাসলেন। এক বুক গর্ব নিয়ে বললেন, “ও তো ছোটবেলা থেকেই এমন। কাউকে কিছু বুঝতে দেয় না, নিজের জেদ দিয়ে সব জয় করে নেয়।
“ভাইয়া তো আমাদের হিরো! বাড়িতে সব ভাই বোনেরা হৈহৈ করলো।
__________
জানালার বাইরে টেমস নদীর ধারের আলোকোজ্জ্বল শহরটা দেখা যাচ্ছে। সাদ তীক্ষ্ণ মেধার গ্লোবাল বিজনেসম্যান।
সাদ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ড্রেস-আপ ঠিক করছে। পরনে তার চারকোল ব্ল্যাক স্যুট, ভেতরে তুষার শুভ্র শার্ট আর কন্ট্রাস্ট গাঢ় নীল টাই। কবজিতে চিকচিক করছে রোলেক্সের লিমিটেড এডিশন ঘড়ি। ভেজা চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করা, চোখে চিরচেনা গম্ভীর শীতলতা। পিঠের ব্যান্ডেজটা স্যুটের নিচে ঢাকা।
স্যুটের পকেটে হাত দিয়ে করিডোর দিয়ে হাঁটছে, কারো কাছে মাথা নত করতে আসেনি, ও এসেছে জয় করতে।
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ (Canary Wharf) এলাকার সুউচ্চ কাঁচঘেরা অফিস বিল্ডিং।
লন্ডন হেডকোয়ার্টারে বিশাল লবি থেকে শুরু করে বোর্ডরুম পর্যন্ত সবখানে সাজানো হয়েছে নীল আর সাদা অর্কিড দিয়ে।
অফিসের বিশাল কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখল আরহাম সাদ মির্জা। দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকশ ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় এমপ্লয়ি সমস্বরে তালি দিয়ে উঠল। সাদের পরনে আজ নেভি ব্লু থ্রি-পিস স্যুট, ভেতরে তুষার শুভ্র শার্ট আর টাইটা নিখুঁতভাবে সেট করা। হাঁটাচলায় এক ধরণের শিকারি আভিজাত্য। ।
সাদ যখন কনফারেন্স হলের দিকে এগোচ্ছে, এক হাতে গোল্ডেন বিজনেস অ্যাওয়ার্ড। এমপ্লয়িদের তালি আর ‘কনগ্রাচুলেশন্স স্যার’ ধ্বনিতে পুরো অফিস মুখরিত। অফিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস্টার স্মিথ এগিয়ে এসে সাদের সাথে করমর্দন করলেন।
”
সাদ মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াল। সাদের তীক্ষ্ণ চাহনি পুরো হলের ওপর একবার বুলিয়ে নিল। হলের সবাই পিনপতন নীরবতায় দাঁড়িয়ে আছে তাদের বসের কথা শোনার জন্য।
“থ্যাঙ্ক ইউ এভরিওয়ান। এই অ্যাওয়ার্ড শুধু আমার একার নয়, এটা আপনাদের সবার হার্ডওয়ার্কের ফসল। আমি সবসময় বলি, বিজনেস ইজ লাইক আ ওয়ার; আর যুদ্ধে কোনো সেকেন্ড পজিশন নেই। উই ওন দিস টাইম, অ্যান্ড উই উইল কিপ উইনিং।”
পুরো হল আবার করতালিতে ভোরে উঠল । সাদের ব্যক্তিগত সচিব লিসা এগিয়ে এসে হাতে একটা শ্যাম্পেন গ্লাস তুলে দিতে চাইল, কিন্তু সাদ হাত দিয়ে ইশারা করে সেটা মানা করল। সাদ এখন সেলিব্রেশনের মুডে নেই, ওর মাথায় এখন কেবল একটাই চিন্তা—অফিসের কাজগুলো দ্রুত গুছিয়ে ফেলা।
সাদ কেবিনে ঢোকার পর সেখানে সারিবদ্ধভাবে ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় সব এক্সিকিউটিভরা। সাদ নিজের চেয়ারটায় বসে ল্যাপটপ খুলল।
“পরবর্তী কোয়ার্টারলি প্রজেক্টের আপডেট দাও। আর সিঙ্গাপুর ডিলটা কতদূর?”
সাদের এই প্রফেশনালিজম দেখে অফিসের সবাই মুগ্ধ।
বাইরের ব্যস্ত শহরটা তখন সন্ধ্যা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাদ তার ল্যাপটপের সামনে বসে আছে। গত তিন ঘণ্টা ধরে একনাগাড়ে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সেরেছে, কিন্তু এখন ওর মন আর ফাইলে নেই। সাদ মাউসে কয়েকবার ক্লিক করে তার পার্সোনাল সিসিটিভি এক্সেসটি ওপেন করল।
স্ক্রিনটা কয়েকবার বাফারিং করার পর ঢাকার মির্জা বাড়ির অন্দরমহলটা ভেসে উঠল। সাদের চোখজোড়া যেন মুহূর্তেই শান্ত হয়ে এল। হাজার মাইল দূরে থাকলেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ও এখন ফালাকের ঠিক সামনে।
সাদ দেখল, ফালাক সিঁড়ি দিয়ে ধীরপায়ে নিচে নেমে আসছে। ওর পরনে একটা হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি । ।
সাদ ল্যাপটপের সামনে হেলান দিয়ে বসল। অফিসের কর্মচারীরা বাইরে থেকে দেখলে ভাববে তাদের বস কোনো কঠিন বিজনেস ডিল নিয়ে ভাবছে, কিন্তু কেউ জানে না সাদ মির্জা তখন তার জীবনের সবচেয়ে দামী ‘আমানত’কে সিসিটিভিতে পাহারা দিচ্ছে।
প্রতিটা মুহূর্তে ফালাকের নড়াচড়া, ওর দীর্ঘশ্বাস, এমনকি ওর ঠোঁট নাড়ানোর ভঙ্গিও সাদ খুব সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করছে।
“আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা ফালাক।
চলবে ~~~

