#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤
#শার্লিন_হাসান
|২|
“এই মেলিচার বাচ্চা, যতবড় মুখ নয় ততোবড় কথা। ওকে আর তৃপ্তিকে , মুখ বন্ধ রাখতে বলবে। এসব প্যানপ্যানে আমি বিরক্ত হই।
(দম নিয়ে),
মেলিচা তোর ধারণাও নেই তোর সাথে আমি ঠিক কী কী করতে পারি।মুড নষ্ট।”
তখন আদনানের আম্মু ঈশিতা জবাব দেয়, “আওয়াজ নিচে করো বেয়াদব ছেলে। লজ্জাও করেনা, বাইরে মাস্তানি কর ঘরেও শুরু করে। আজকে তোমার বাবা আসুক, এসবের একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়ব। এতো টাকাপয়াসা খরচ করেছি বেয়াদব, অসভ্য,মাস্তান,ইভটিজার তৈরি করার জন্য। নিজের তো মান-সন্মান নেই,পরিবারের টাও খোয়ানোর ধান্দা। তোমাকে দেখে ছোটটাও খারাপ হচ্ছে। ”
ঈশিতার কথায় তৃপ্তি অভিমানী স্বরে বলে, “তোমার ছেলের জন্য কলেজ যেতে মন চায়না। লজ্জা হয় লজ্জা।”
তৃপ্তির আহত কন্ঠ ইলমার বুকে এসে সুচের মতো করে বিঁধে। ঈশিতা মেয়ের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। সবার মনেই একটা চাপা অভিমান রয়েছে। আদনানকে নিয়ে সবার একেক’টা দীর্ঘশ্বাস যে কতটা ভয়াবহ সেটা কী টের পায় আদনান? এর পরিণতি কী হবে ভাবে তো ছন্নছাড়া ছেলেটা? নেশায় বুদ হয়ে থাকা ছেলের আবার ভাবা! তাকে নিয়ে একেকবার ঝামেলা লাগলে সপ্তাহ পেরিয়ে যায় সমাধান হতে। সবার মনে একরাশ ঘৃণা, বিতৃষ্ণা জন্মেছে। এই ছেলের পরিবর্তনের নাম-গন্ধ ও নেই। সবার মুখ থমথমে। তখন ফরিদা বলে, “জেরা ওরে লাড়া দিতে গেলি কেন? এহন ঘরডার ভিতরে অশান্তি করবো।”
তখন ঈশিতা গর্জন দিয়ে বলে, “লাড়া দেওয়া লাগে নাকী? ও তো সবসময়ই ক্ষ্যাপা কু’কুর হয়েই বাড়ি আসে৷ দেখেননি, ইলমার কী অবস্থা করেছে।”
আদনান চোখমুখ শক্ত করে ইলমার দিকে তাকায়। আদনানের চাহনি দৃষ্টিতে আসলেও পাত্তা দেয়না ইলমা। বরং তার জেঠিমাকে শান্ত হতে বলে। আদনান কোন কথা না বলে ভেতরে চলে যায়। তার পেছন দিয়ে তৃপ্তি নিজের রুমে চলে যায়। ইলমার কপালে ঔষধ ঢলে দেয় ঈশিতা। কিছু বলার মতো ভাষা তার নেই। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া।
ইলমা নিজেকে সামলে নেয়। সোফায় বোসে টিভি দেখার জন্য। হানি বানির কার্টুন লাগিয়ে সেটাই উপভোগ করতে থাকে। ভুলে যায়, আদনানের করা আঘাত। জানে, সন্ধ্যায় আরেক দফা ঝামেলা হবে বাড়িতে। আদনানের কথা ভাবলেই দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। এখানে বেশ নাম ডাক আছে ইলমাদের পরিবারের। তার জেঠু এখানকার চেয়ারম্যান।বেশ সন্মানিত ব্যক্তি। ইলমার বাবা নিজেও একজন আইনজীবী। কিন্তু তাঁদের পরিবারের বড় ছেলে আদনান, না বাবার মতো হয়েছে, না চাচার মতো। সে কার মতো হয়েছে অজানা। এই পরিবারের কেউই তার মতো এতোটা উশৃংখল না। ভার্সিটি গিয়ে কী উদ্ধার করে কে জানে! উশৃংখল চলাফেরা, ইভটিজিং, মাস্তানি, মাঝেমধ্যে ক্লাবে গিয়ে ম’দ গিলে আসে এই তো তার নিত্য দিনের রুটিন। কারোর সাথেই তেমন ভালো আচরণ করে না। কথাও তেমন বলেনা, তবে ইলমার সাথে মাঝেমধ্যে দুদণ্ড কথা বলে তাতেও ঝামেলা লেগে যায়। একটু আগেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ কারণ ছাড়াই নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করবে। তার পুরো নাম, “জেহেরা ইলমা ম্যালিসা” কিন্তু একেকজন একেকটা ডাকে। কেউ ইলমা কেউ জেহেরা। একমাত্র আদনান তাকে মেলিচা বলে ডাকে। এই নামের উচ্চারণ পরিবর্তন হয়নি এখন অব্দি। যেটা নিয়ে প্রায়শ ঝগড়া লাগে আদনানের সাথে। কিন্তু লাট সাহেব এটার নির্দিষ্ট কারণ বলতে পারেনা। শুধু ইলমার কড়া কথা শোনে। মাঝেমধ্যে প্রতিত্তোর করে। এতো সুন্দর সবকিছু, চাইলেই জীবনটা সুন্দর করে সাজানো যায় অথচ আদনান বুঝেনা। নিজের মর্জি মতো যা-তা করে বোসে।
মাথায় তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে সেজন্য ইলমা উঠে দাঁড়ায়। নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতে আরেকবার আদনানের মুখোমুখি হয়। ফরিদা পারভীন নাতিকে বসিয়ে, বসিয়ে খাবার খাওয়াচ্ছেন। ইলমা সেদিকে একবার তাকিয়ে নজর সরিয়ে নেয়। আদনানকে এখন কেমন নম্র ভদ্র, লাগছে। কিন্তু ও এরকম একদমই নয়। একবারে ক্ষ্যপা কুকুরের থেকেও জঘন্য। দু’দিন পর,পর অশান্তি লেগেই থাকে এই ফ্যামিলিতে। ভাবলেই বিরক্তি চলে আসে। কবে যে এই বাড়ি ছাড়তে পারব সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে সে। নিজের কল্পনাকে বিদায় দিয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়ে ইলমা।
দালানের চারপাশে গাছগাছালি আছে। সামনে সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত খোলা মাঠ। জমিটা তাদেরই। এখনো বিল্ডিংয়ের কাজ ধরেনি। পাশে আবার আরেকটা জমি সেখানেও সারি সারি বড় দালান দাঁড়িয়ে আছে। মাঝেমধ্যে ব্যালকনি থেকে সামনের খোলা মাঠ টায় নজর রাখে ইলমা। নিচ তালার সবচেয়ে সুন্দর রুমটা ইলমার দখলে।
তার রুমের ব্যালকনিতে ঠান্ডা শীতল বাতাস আসে। সেই বাতাস নিঃশব্দে অনুভব করে ইলমা। প্রকৃতির সাথে তার সে কী মিল। একজন প্রকৃতি প্রেমি সে।
★★★★
সাতটার দিকে ইলমার রুমে আসে তার বাবা ইনান শেখ। এসেই ঘুমন্ত ইলমার শিউরে বোসে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে না দিতে ফোলা কপালে নজর যেতে আঁতকে উঠেন তিনি। কে আঘাত করেছে তার মেয়েকে? ফাইজা? কিন্তু আজকাল তো ইলমাকে নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। বাকী সদস্যদের উপস্থিতিতে ইলমার গায়ে হাত তোলার সাহস ও তার নেই। তাহলে এরকমটা হলো কী করে? নিজের আকাশকুসুম ভাবনার সমাপ্তি টানার জন্য আদুরে কন্ঠে বলেন, “মা ইলমা—উঠো মা। পড়তে বসবে না?”
বার কয়েক ডাকার পর ইলমা চোখ মেলে তাকায়। বাবাকে দেখে মনটা ভালো হয়ে যায় তার। কী আদুরে এবং মিষ্টি করে, ‘মা’ বলে ডাকে। ইলমা নড়েচড়ে বোসতে ইনান শেখ প্রশ্ন করেন, “কপালে কী হয়েছে মা?”
“দরজার সাথে ধাক্কা খেয়েছি আব্বু।”
কাঁপা কাঁপা গলায় কথাটা বলে ইলমা। এই প্রথম তার আব্বুকে সে মিথ্যে বলেছে। এখন সত্যিটা বললে হাউকাউ বেঁধে যাবে। শুধু তার আব্বু না। তার জেঠুও আদনানের হালত টাইট করে দিবে। সেই ঝামেলা চলবে এক সপ্তাহ জুড়ে। অশান্তি আর অশান্তি।
ইনান শেখ মেয়ের কথায় খুশি হোননি। কন্ঠস্বরে গম্ভীর্যতা টেনে জবাব দেন, “দেখে শুনে চলতে হয় মা। দেখো, কপালের কী অবস্থা।”
“আরেহ আব্বু, কিছু হবেনা। সকাল হলেই ঠিক হয়ে যাবে।”
“না,না। আমি কিছু শুনতে চাইনা।”
“আব্বু।”
“আমার ফুলের গায়ে দাগ লাগেনি, দাগ লেগেছে আমার কলিজায়।”
ইনান শেখের কথায় ইলমা মৃদু হাসে। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “পড়তে হবে তো। ফ্রেশ হয়ে বাইরে আসো। নাশতা করবে।”
ইলমা মাথা নাড়ায়। ইনান শেখ উঠে বাইরে আসেন। তার ছেলে ইজাজ শেখ তার কাছে আসে। ইজাজ এবার সেভেনে উঠেছে। খুব বাধ্য ছেলে সে। আদনানের থেকে দূরে,দূরে থাকতেই পছন্দ করে। তার আব্বু এবং আম্মু বলেছে, আদনান ভালো না। যতটা সম্ভব দূরে থাকতে। ইজাজও সেটা মেনেই চলে।
ফাইজা এবং ঈশিতা মিলে নাশতা তৈরি করেছে। ছোট্ট পরিবার কত সুখ, আনন্দ তাঁদের মাঝে। তবে অশান্তির শেষ নেই। ব্যক্তিগত,ফ্যামিলিগত।
সবাই একসাথে নাশতা খেতে বোসে। শুধু আদনান আর ইলমা এখনো আসেনি। তৃপ্তি গলা ছেড়ে ডাকে ইলমাকে। সাথে সাথে উপস্থিত হয় সে। তখন তৃপ্তি এবং আদনানের বাবা তারেক মাহমুদ শেখ কন্ঠস্বর উঁচু করে আদনানকে ডাকে। কিন্তু কোন প্রতিত্তোর আসেনা। ইলমা চুপচাপ তৃপ্তির পাশে বসে। দৃষ্টি মেঝেতে সংযত করে রেখেছে। আদনানকে বার কয়েক ডাকার পরেও কোন সাড়া শব্দ পায়নি কেউ।
ঈশিতা এ নিয়ে মাথা ঘামায়না। তারেক মাহমুদ তৃপ্তিকে আদেশ করে বলে, “যাও আদনানকে ডেকো আসো।”
তৃপ্তি মুখের উপর নাকচ করে দেয়। তাতেই তারেক মাহমুদ রাগে ফুঁসে উঠেন। ইনান শেখ ইলমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করে উঠে যেতে। নাহলে এক্ষুনি এলাহি কান্ড বেঁধে যাবে। ইলমারও ইচ্ছে করছে না করে দিতে। কিন্তু বেয়াদবি হবে। কেউ তো জানেনা দুপুরের ঘটনা। তারেক মাহমুদ ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বলতে যাবেন তখন ইলমা উঠে দাঁড়ায়। দ্রুত গতিতে বলে, “আমি যাচ্ছি।”
কথাটা বলে সে ত্রস্ত পায়ে আদনানের রুমের দিকে যায়। দরজায় নক করতে কোন রেসপন্স করেনা আদনান। ইলমা বার কয়েক নাম ধরে ডাকে। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পুনরায় দরজায় করাঘাত করতে বুঝে দরজা খোলাই আছে। হয়ত আদনান ঘুমাচ্ছে। একরাশ জড়তা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে বা’জে ভ্যাপসা একটা গন্ধ নাকে ঠেকতে কেঁশে উঠে সে। ভেতরের সব ঘুলিয়ে আসছে। তমসাবৃত রুমটা দেখে শুষ্ক ঢোক গিলে ইলমা। রুমের বাজে গন্ধটা সিগরেটের। আদনান তার রুমের দরজা জানালা আজীবন বন্ধ করে রাখে। বাইরের আলো বাতাস কিছুই আসেনা সেজন্য এমন গন্ধ হয়ে থাকে। আদনান ধূমপান করে এটা অবিশ্বাস্যের কিছু না। ইলমা দেওয়াল হাতড়ে সুইচের নাগাল পেতে লাইট এবং পাখা উভয়ই অন করে। যেহেতু শীত রেশ এখনো যায়নি ফ্যান ঘুরতে শীতের কাঁপুনি অনুভব হয়। খাটের দিকে নজর যেতেই দেখে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে আদনান। দেখেই বিরক্তি আর বিতৃষ্ণা এসে চোখে-মুখে ভীড় জমিয়েছে। ইলমা কাছাকাছি যেয়ে চিৎকার করে ডাকে,
“আদনান শেখ উঠুন। আপনাকে নাশতা খাওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে।”
একবার ডেকে বিরক্তি নিয়ে আদনানের রুমের দেওয়ালে চোখ বোলায় ইলমা। রুমটাও এক নাম্বারের বস্তি করে রেখেছে। সিগরেটের গন্ধে ভেতরের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম। ইলমা চিৎকার করে আর একটা ডাক দিতে আদনান উঠে বোসে। ইলমাকে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যায় সে। চোখেমুখে উপচে পড়ে বিরক্তির রেশ। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “ফ্যান ছেড়েছিস কেন? শরীরে কারেন্ট বেশি নাকী?”
আদনানের কথায় ইলমা কন্ঠস্বরে বিরক্তি এনে জবাব দেয়,
“রুমে দুর্গন্ধ করছে।”
“তোকে জিজ্ঞেস করেছি নাকী আমি? তোর তো সাহস কম না। আমার রুমে এসে ফ্যান ছেড়েছিস।”
ইলমা সেসবের জবাব দেয়না। কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে পুনরায় বলে, “আপনাকে বাইরে আসতে বলেছে।”
“শত্রুগিরি করে এখন মিষ্টি স্বরে ডাকছিস। একটু পর তোর বাপ জেঠু মিলে আমায় বাঁশ দিবে। বুঝিনা ভেবেছিস।”
ইলমা খানিক ভেবে প্রতিত্তোর দেয়, “যে যেটা পাওয়ার যোগ্য তাকে সেটাই দিতে হয়।”
“তোর ধারণা ও নেই তোর সাথে আমি ঠিক কী কী করতে পারি। তোর আর তোর বাপের কী কী ক্ষতি করতে পারি।”
তিতাসের কথায় ইলমা ক্ষেপা বাঘিনীর মতো জবাব দেয়,
“জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব তোর। নিজেকে কী ভাবিস? আয়নায় একবারও নিজেকে দেখেছিস? দেখা যায় একটা গাঁজাখোরের মতো।”
“এই মেলিচা মুখ সামলে।”
“তোর মুখ তুই সামলে রাখ।”
কথাটা বলতে না বলতেই গন্ধে ওয়াক করে উঠে। মুখ ভর্তি বমি করে আদনানের উপর ঢেলে দেয়। আদনান ক্ষুব্ধ হয়ে চোয়াল শক্ত করে নেয়। চিৎকার করে বলে, “মেলিচার বাচ্চা, রুম থেকে বেরোহ্ নাহলে তোর খবর আছে। ছিঃ! এখন আমার গোসল করতে হবে। বলদের বাচ্চা বলদ। ম্যানার্স শিখেনি।”
ইলমা আদনানের রুমের মেঝেতে বমি করতে,করতে বেরিয়ে আসে রুম থেকে। কমন ওয়াশরুমের সামনে থাকা বেচিংয়ে গিয়ে বমি করে। উপস্থিত সবাই বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে। ইনান শেখ এবং তারেক মাহমুদ এগিয়ে আসে। ফরিদা পারভীনও আসেন। তৃপ্তি পানির গ্লাস নিয়ে এগিয়ে যায়। ঈশিতা উঠে আদনানের রুমের দিকে যায়। ভ্যাপসা গন্ধ নাকে ঠেকতে বমি এসে গলায় আটকে যায়। ‘ওয়াক’ করে উঠে।
ইলমা পানি খেয়ে ঠান্ডা হয়ে বোসতে ইনান শেখ প্রশ্ন করেন, “কী হয়েছে?”
তখন ঈশিতা জবাব দেয়, “আমি বলছি। আদনানের রুমে সিগরেটের বাজে দুর্গন্ধ। যেটা ইলমা সহ্য করতে পারেনি তাই বমি করে দিয়েছে।”
মূহুর্তে চোয়াল শক্ত করে নেয় তারেক মাহমুদ। ইনান শেখ মেয়েকে সামলাচ্ছে। ফিজা বাপ মেয়ের আদর যত্ন চুপচাপ দেখছে। তখন ফরিদা পারভীন তারেক মাহমুদকে বলেন, “ঝামেলা করিস না ও পুত। বদমাইশ টা তো ওইরহমই। কইয়া কোন লাভ আছে।”
তারেক মাহমুদ নিজেকে যথাসম্ভব সংযত রেখে জবাব দেয়, “আসুক আমার গুনধর পুত্র। তারপর বোঝা পড়া হবে।”
বাকীরা চুপ। নাশতায় মনোনিবেশ করতে না করতে আদনানের আগমন হয়। চুল এখনো ভেজা,ফোটা ফোটা পানি পড়ছে। সত্যি,সত্যি গোসল করে এসেছে আদনান। তবে এখনো তার চোয়াল শক্ত করে রেখেছে। ক্ষুব্ধ নয়নে ইলমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারেক মাহমুদ আদেশের সুরে বলেন, “বসো।”
আদনান সিঙ্গেল সোফায় বোসে। কফির মগ হাতে নিয়ে তাতে চুমুক দিতে তারেক মাহমুদ বলেন, “তুমি স্মোক করো?”
“হুম।”
সাবলীল ভাবে জবাব দেয় আদনান। বাকীরা তাকিয়ে আছে তার দিকে। তারেক মাহমুদ রাগ মিশ্রিত কন্ঠে আওয়াজ তুলেন, “স্মোক করা ছাড়বে কবে?”
“যেদিন থেকে আপনি পানি খাওয়া ছেড়ে দিবেন।”
আদনানের কথায় গুরুগম্ভীর ভাবে তারেক মাহমুদ বলেন, “পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। যেটা প্রতিদিন গ্রহণ করতে হয়। তোমার স্মোক করা ছেড়ে দেওয়ার সাথে আমার পানি পান করার কী সম্পর্ক।”
“পানি যেমন আপনার জন্য অপরিহার্য তেমনি স্মোকও আমার জন্য অপরিহার্য। চাইলেও ছাড়তে পারব না। আর কিছু বলবেন?”
ছেলের বেয়াদবিতে তারেক মাহমুদ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে উঠে। চেঁচিয়ে বলে, “কাফের হইছ তুমি? বাবা-মা গুরুজন মানো না। বেয়াদব একটা। কাজকর্ম তো করো না ফ্রি-তে খাও। লজ্জাও করেনা।”
আদনান তাতে জবাব দেয়না। ফরিদা পারভীন নাক-মুখ কুঁচকে বলেন, “অল্প বয়সে মারা যাবি নাতি। এডিন ভালা না।”
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1

