#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৫|
#শার্লিন_হাসান
‘আরেহ্ আরেহ্ মায়ের থেকে মাসীর দরদ বেশি দেখা যাচ্ছে।’
নির্মাণ ওদের কথা-কাটাকাটি দেখে হা হয়ে যায়। কতটুকু একটা মেয়ে কীভাবে তর্ক করছে আদনানের সাথে। নির্মাণ আদনানকে থামিয়ে বলে, ‘ভেতরে চল। খুদা লাগছে।’
‘তুই যা। এই মেলিচার বাচ্চা বড় ভণ্ড।’
‘আর একটা কথা বাড়ালে তোমার চোখ দু’টো কাটা চামচ দিয়ে তুলে এখানকার সেফকে দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়াব।’
ইলমার থ্রেট শোনে বাকীরা থতমত খেয়ে যায়। নির্মাণ তখনো আদনানকে টানছে ভেতরে যেতে। আদনান রক্তচক্ষু করে বলে, ‘প্রেমিকনারী বেশি বাড় বেড়েছিস। তোর আর তোর বাপের কী কী ক্ষতি করতে পারি তোর ধারণাও নেই।’
‘এরপর এই কথাটা বললে তোর খবর আছে। সর এখান থেকে মাতাল কোথাকার।’
ওদের ঝগড়া শুনে ম্যানেজার এবং দু’জন ওয়েটারও চলে আসে। কী হয়েছে বুঝার চেষ্টা করছে। আশেপাশে সবার নজর এদিকে। আদনানের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। ইলমা বেশ বিরক্ত। আদনানের তো সেল্ফ রেসপেক্ট নেই তারটাও খোয়ানোর ধান্দায় নেমেছে। আশপাশের পরিস্থিতি আঁড়চোখে বুঝার চেষ্টা করে কিছুটা চিৎকার করে আদনান বলে
‘এই মেলিচার বাচ্চা।’
‘ওটা মেলিচা না ম্যালিসা হবে মূর্খ কোথাকার।’
সিরিয়াস টাইমে বানান ভুল ধরাতে আদনান আরো রেগে আগুন। সে তো সবসময় মেলিচা বলেই ডাকে। ওতো শুদ্ধ উচ্চারণ করেনা। তাও মেলিচার বাচ্চা ভুল ধরবে। আজকে ভুলটা না ধরলে কী এমন ক্ষতি হতো। কেউ কেউ মিটিমিটি হাসছে। নির্মাণ অবাক না হয়ে পারছেনা। আদনানকে ঠেলেঠুলে ভেতরে নিয়ে যায়। তাও যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে কী জেনো বলছিল সে। রিয়ান, মাহিম দু’জনে হতবাক হয়ে ইলমাকে দেখছে। প্রীতি অবাক হওয়া কন্ঠে বলে, ‘বাবাহ্ তোর এতো সাহস? কীভাবে বললি?’
‘আরেহ ও তো মাতাল। আমার সাথে কথা কাটাকাটি হলেই থ্রেট দিবে। আমিও দেই তখন চুপ হয়ে যায়।’
‘মোরাল অব দ্যা স্টোরি আদনান ইলুকে ভয় পায়।’
মাহিমের কথায় ইলমা পাত্তা দেয়না। তাঁদের খাবার চলে আসতে খাওয়া শুরু করে সবাই। এই বিষয় নিয়ে আর কথা হয়নি।
ভেতরে আসতে রিয়ানা আদনানকে জিজ্ঞেস করে, ‘মেয়েটা কে? এতোক্ষণ ধরে ঝগড়া করছে কেন?’
রিয়ানার কথায় আদনান বিরক্তিতে ‘চ’ উচ্চারণ করে। নির্মাণ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। আদনান ঠান্ডা পানীয় খেয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। রিয়ানা আর প্রশ্ন তোলেনি। তাঁদের খাবার চলে আসতে খেয়ে নেয় সবাই। সব শেষে রাহা জিজ্ঞেস করে, ‘ওই মেয়েটা কে আদনান?’
‘কাজিন।’
শান্তস্বরে জবাব দেয় আদনান। রিয়ানা পুনরায় বলে, ‘তোমার বেশ জুনিয়র । ‘
‘আদনানের প্রেমিকনারী।’
মাঝখান দিয়ে কথাটা বলে নির্মাণ। সাথে সাথে আদনান চোখ রাঙিয়ে তাকায়। রিয়ানা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। বাকীরাও তাকিয়ে আছে। আদনান সবার উদ্দেশ্য বলে, ‘ও সদরঘাটের প্রেমিকনারী। ওর ছেলেবন্ধু আছে। প্রেমিক আছে চার-পাঁচটা হবে। সেজন্য প্রেমিকনারী বলে ডাকি।’
‘তুই শিওর প্রেমিক আছে চার-পাঁচটা?’
শেজানের কথায় আদনান জবাব দেয়, ‘তোর কী মনে হয় এখনকার জেনারেশনের ছেলে-মেয়েদের চার পাঁচটা গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড থাকা অস্বাভাবিক কিছু?’
‘সবাই কিন্তু এক হয়না। তুই নিজের মতো করে সবাইকে বিচার করছিস কেন?’
শেজানের কথায় আদনান কিছুক্ষণ চুপ থাকে। দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দেয়, ‘ওই মেলিচার বাচ্চাকে আমি হারে হারে চিনি।’
‘আমার মনে হয়না ওর প্রেমিক আছে।’
নির্মাণের কথায় আদনান রেগে তাকায়। বাকীরা আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। নিশাত জবাব দেয়, ‘ওকে দেখে ভদ্রই মনে হলো। পোশাকআশাক কিন্তু শালীন।’
মূহুর্তে সবাই ইলমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মাঝখান দিয়ে নির্মাণ বলে, ‘এরকম মেয়েগুলো ওয়াইফ হিসাবে পারফেক্ট। মেয়েটার তেজ দেখে আমি ফিদা।’
আদনান রেগে জবাব দেয়, ‘চোপ। ওই মেলিচার বাচ্চাকে নিয়ে আর একটাও কথা না। শ্লী সদরঘাটের প্রেমিকনারী আমাকে অপমান করার ফল হারে হারে টের পাবে।’
‘ওর পুরো নাম কী?’
কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে নির্মাণ। আদনান দেরি না করে জবাব দেয়, ‘ ওর নাম সদরঘাটের প্রেমিকনারী।’
‘শ্লা। তোর নাম তোর কাছে রাখ। রিয়েল নাম বল।’
‘ওইটা বলা যাবেনা।’
আদনানের লুকোচুরি দেখে নির্মাণ ভ্রু কুঁচকায়। রিয়ানা তার দিকে তাকিয়ে আছে। নির্মাণ মাঝখান দিয়ে বলে, ‘এতো লুকাচ্ছিস কেন? ও তো তোর প্রোপার্টি না, অন্য কারোর। হয়ত ভবিষ্যতে আমাদেরও হতে পারে।’
ব্যাস! আদনান রক্তচক্ষু করে তাকায়। বাকীরা হতবাক! নির্মাণ থতমত খেয়ে বলে, ‘তোর গার্লফ্রেন্ড আছে ভাই।’
‘মেলিচা, তৃপ্তি দু’জনই ভালো মেয়ে। নম্র, ভদ্র। আমি চাইনা ওদের মাঝে খারাপের ছোঁয়া লেগে পচন ধরুক।’
খুবই শান্ত মেজাজে জবাব দেয় আদনান। বাকীরা মৃদু হাসে। শেজান বলে বোসে, ‘তৃপ্তি নাহয় তোর বোন তোর দায়িত্ব আছে। আর মেলিচা? ওকে নিয়ে এতো ভাবার কী আছে?’
‘আর একটাও কথা না।’
সবাই চুপ। আদনান জীবনে কারোর প্রশংসা করেনা। বন্ধুমহলে তো ভুলেও না। কিন্তু আজকে করলো তার বোন তৃপ্তি আর সদরঘাটের প্রেমিকনারী মেলিচার।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাইকে উঠে বসে আদনান। উদ্দেশ্য একটা শপে যাবে। রিয়ানা রাহা এবং নিশাতের সাথেই চলে যায়।
শাহরিয়ার আদনান শেখ,
অনেকগুলো প্রেম করবে কিন্তু
কোন মেয়েমানুষকে বাইকের পেছনে বসাবে না।
গাড়িতে নিজের পাশের সীটে বসাবে না।
মেয়েমানুষকে ছবি তুলে দিবেনা।
মেয়েমানুষের হাতে খাবার খাবেনা।
মেয়েমানুষের সাথে ঘুরতে যাবেনা।
এরকম অসংখ্যা মেয়েবাদী পয়েন্ট আছে। অনেকগুলো প্রেম করলেও দিনশেষে সে সিঙ্গেল। কারণ তার প্রেমিকা আছে কিন্তু বউ নেই। প্লে বয় হলেও ইনোসেন্ট ভাব ধরে থাকতে পারে বেশ।
হাতের আঙুল বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে ভেতরে প্রবেশ করে আদনান। লিভিং রুমে কেউই নেই। সবাই হয়ত রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। আদনান নিজের রুমে এসে শপিং ব্যাগটা খাটের উপর রাখে। শপিং ব্যাগে কী আছে? আছে অনেক স্পেশাল কিছু স্পেশাল মানুষের জন্য। ভেবেই অধরে হাসি ঝুলে।
গিফট বক্সের ছবি তোলে তাঁদের গ্রুপে সেন্ড করে লিখে, ‘ফাস্ট ডেইটের জন্য গিফট কেনা ডান।’
নির্মাণ রিপ্লাই দেয়, ‘যা যা সময় এখন তোর।’
সন্ধ্যায় নাশতা সেরে সবাই খোশগল্পে মেতেছে। কিন্তু আদনানের কোন খোঁজ খবর নেই। হয়ত ঘুমাচ্ছে এখনো। ইলমা নিজের গিফ্ট গুলো আনপ্যাক করছে।
সে ছবি আঁকতে পছন্দ করে সাথে বই পড়তে। সেজন্য বেশীরভাগ বই এবং ছবি আকার সরঞ্জামের দেখা পায়। হুমায়ুন আহমেদ, সমরেশ মজুমদার আরো অনেক কালজয়ী লেখকের বই তার গিফ্ট বক্সে। সাথে হিজাব, জামাকাপড় হাবিজাবি অনেক কিছুই আছে। ইনান শেখ মেয়ের আনন্দ মিশ্রিত মুখটার দিকে বারবার তাকাচ্ছেন। তার ইলমা। বড্ড আদরের মেয়ে তার।
ইলমা তৃপ্তির সাথে জিনিসপত্র গুলো নিয়ে রুমে আসে। ইলমা বইগুলো বুকশেলফ গুছিয়ে রাখছে। তৃপ্তি জামাকাপড় গুলো আলমারিতে তুলে রাখছে। রঙ তুলি, ক্যানভাসগুলো ওয়ারড্রবের একটা ড্রয়ারে রাখে ইলমা। হুট করে তৃপ্তির নজর যায় ওয়ারড্রবের উপর থাকা একটা গিফ্ট বক্সের দিকে। ভ্রু কুঁচকে বলে, ‘আরে এটা আনপ্যাক করলি না?’
ইলমা জিজ্ঞেস করে, ‘কোনটা?’
তৃপ্তি আঙুল দিয়ে ইশারা করে উপরে। ইলমা তাকায়। মূহুর্তে চোখেমুখে উপচে পড়ে বিস্ময়। তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বলে, ‘এটা কে দিয়েছে?’
‘ওমাহ্। তোর গিফট তুই জানিস না?’
‘না।’
তৃপ্তি সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, ‘বফটফ দেয়নি তো? এই তুই কিছু লুকাচ্ছিস না তো?’
“মোটেও না। আমার বফ থাকলে সবার আগে তুই জানতি।”
“তা অবশ্য ঠিক।”
তৃপ্তির কথায় ইলমা গিফ্ট বক্সটা হাতে নেয়। দুজন বসে আনপ্যাক করতে তাতে একটা ঘড়ি আর ব্রেসলেট পায়। দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। তৃপ্ত ঘড়িটা হাতে নেয়। দেখে বেশ দামী মনে হচ্ছে। নাম খুঁজে বের করে। একটা ব্র্যান্ডের ঘড়ি সাথে পাথর বসানো ব্রেসলেটও আছে। ঘড়ি আর ব্রেসলেট সহজেই তৃপ্তির হৃদয় কাড়ে। ইলমাকে বলে, ‘যেই দিয়েছে তার পছন্দ আছে বলতে হবে।’
ইলমা চিন্তায় পড়ে যায়। ঘড়ির বক্সে দু’টো চিরকুট ও পায়। তাড়াতাড়ি একটা হাতে নিয়ে খোলে। কালো রঙের রঙিন কাগজে সাদা কালি দিয়ে লিখা, ‘আপনার জীবন ধ্বংস হোক।’
দুজনেই ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে যায়। পরের চিরকুটে লেখা,
‘যদি গিফ্টগুলো ব্যবহার না করেন। আপনাকে শুভ জন্মদিন।’
দুজনেই চিন্তিত। ইলমা বুঝতে পারছেনা কী হচ্ছে। তাঁদের বিল্ডিংয়ে অপরিচিত কেউ আসেনা। তাহলে গিফ্ট দিলো কে? তৃপ্তিও ভেবে পাচ্ছেনা। অনেকক্ষণ চিন্তা করার পর তৃপ্তি বলে, ‘রিয়ান, মাহিল,প্রীতি ওদে গিফটের সাথে মনে হয় এটাও ছিলো। তোর খেয়াল নেই।’
‘আরেহ না। তিনটা বক্স ছিলো আমার মনে আছে।’
‘সেগুলো তো একটা বড় শপিং ব্যাগে রেখেছিস। হয়ত কেউ সুযোগ বুঝে এটাও দিয়ে গেছে।’
‘তাহলে ওয়াড্রবের উপরে রাখলে আমার কেন মনে ছিলো না?’
‘হয়ত খেয়াল নেই তোর।’
ইলমা মনে করার চেষ্টা করে। আজকে সারাদিন কোথায় কোথায় গিয়েছিল সে। কে দিলো। কখন দিলো? এটা নিশ্চিত যে এটা কোন পুরুষমানুষ দিয়েছে। কিন্তু কে সে?
ইলমা তৃপ্তি অনেকক্ষণ চিন্তা করে। কিছুই পায়নি। ধরে নিয়েছে কোন আগন্তুক দিয়েছে সুযোগ বুঝে। হয়ত ইলমাকে চিনে সে। কিন্তু ইলমা তাকে চিনে না। এই ব্যপারটা নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করেনা দু’জন। একটু পর বাইরে বের হবে সবাই। সেজন্য দু’জনে তৈরি হতে চলে যায়।
ইলমা একটা লং গাউন পরিধান করে। সাথে হিজাব বাঁধে। আগন্তুকের দেওয়া ব্রেসলেটটা হাতে গলিয়ে নেয়। খারাপ লাগছেনা। মানিয়েছে বেশ। একে একে শেখ পরিবারের সব সদস্য লিভিং রুমে আসে। ইনান শেখ মেয়েকে দেখে মুচকি হাসেন। ফাইজা এবং ঈশিতা আসে। আদনান আসবে কি-না সন্দেহ। সাথে আছেন ফরিদা পারভীন। ইজাজ তার বনুকে দেখে এগিয়ে আসে। হাত ধরে, হাতের তালুতে চুমু দিয়ে বলে, ‘আমার বনু।’
ইলমা মুচকি হেঁসে ইজাজের গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। ঠিক তখনি আগমন হয় আদনানের। সবার নজর এখন তার দিকে। ধূসর রঙের শার্টের সাথে অফ হোয়াইট কালারের প্যান্ট। ফর্সা গালে সুন্দর লাগছে বেশ। আসলেই ছেলেটা সুন্দর এবং সুদর্শন বটে।
তারেক মাহমুদ ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলেন। মেইন ডোরে তালা লাগিয়ে সবাই বাইরে আসে। আরেকটা ওভারকল করে ডেকে নেন। ঈশিতা,ফরিদা পারভীন, তৃপ্তি এবং তারেক মাহমুদ নিজেদের গাড়িতে করে যান। ইনান শেখ তার পরিবার নিয়ে অন্য গাড়িতে উঠে। আদনান নিজের বাইকে। মেয়েমানুষ বাইকের পেছনে উঠাতে রাজী না সে। কোন কালেই না। দেখা যাবে বিয়ের পর বউকেও কারে করে আসতে বলবে। সে বাইক নিয়ে বেরুবে।
নিরিবিলি সুনশান একটা রেস্টুরেন্টে আসে সবাই। ভেতরে খাবার অর্ডার করে বাইরে বসার মতো জায়গা আছে সেখানে আসে সবাই। মূলত আশেপাশে গাছপালা আছে ঠান্ডা মৃদু বাতাস এসে গায়ে লাগছে। সবাই টুলে বসতে তৃপ্তি আদনানকে বলে, ‘ভাইয়া একটা গান শোনাও।’
বাকীরাও তাকায় তার দিকে। ইনান শেখও সায় দেন তৃপ্তির কথায়। বলেন, ‘একটা গান গাও আদনান।’
‘মুড নেই।’
মূহুর্তে চোয়াল শক্ত করে নেয় ইলমা। কত বড় বেয়া’দব এই ছেলে। বাকীরা তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ টু শব্দ করেনি। ইলমা বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলে, ‘গার্লফ্রেন্ড বললে ঠিকই গাইতে। পরিবারের লোকেরা আবদার করেছে সেজন্য যত ঢঙ।’
‘এই মেলিচার বাচ্চা। তোর মুখ বেশি চলে।’
তারেক মাহমুদ বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আবার ঝগড়া শুরু করে দিয়েছ তোমরা?’
ফরিদা পারভীন বলেন, ‘আদনান বেশি বেয়াদব হইতাছে দিনদিন। জেরা খারাপ কিছু কয় নাই।’
ইলমা জবাব দেয়, ‘জেরা না জেহেরা।’
আদনান ধমক দিয়ে বলে, ‘ মেলিচার বাচ্চা সব জায়গায় শুদ্ধ বলতে আসবিনা। হয় নিজের নাম পাল্টা নাহলে মুখ বন্ধ রাখ।’
‘নাম আমি রেখেছি নাকী যে পাল্টাব?’
‘কে রেখেছে?’
পাল্টা জবাব দেয় আদনান। সবাই চুপ। ইলমা নিজেও চুপ। হুট করে আদনানের মনে পড়ে ইলমার মায়ের কথা।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

