#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৮|
#শার্লিন_হাসান
গোধূলির শেষ লগ্ন। আকাশে অন্ধকার নেমে রাতের জানান দিতে বেশি দেরি নেই। ইলমা,তৃপ্তি ছাঁদে বসে আড্ডা দিচ্ছে তিনতালা এবং চারতালার মেয়েদের সাথে। তাঁদের আবার বেশ ভাব আছে। মাঝেমধ্যেই আড্ডা দেওয়া হয় ছাঁদে এসে। তারা সংখ্যায় পাঁচজন। তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো, অবন্তী মেয়েটা। যে তিনতলার ভাড়াটিয়া। তবে শেখ পরিবারের সাথে নিবিড় সম্পর্ক আছে। তার মূল কারণ অবন্তীর বাবা এবং তারেক মাহমুদ শেখ তারা ভালো বন্ধু।
আরো দু’টো মেয়ে আছে, তাজবিহা এবং শিমুল। তারা তিনজন আবার তৃপ্তি এবং ইলমার দু-এক বছরের সিনিয়র। বয়সের দিক দিয়ে সবার ছোট ইলমা। বিল্ডিংয়ের ছোট ছোট বাচ্চারা ছাঁদে দৌড়াদৌড়ি করছে। একপ্রকার হৈচৈ অবস্থা। বেঞ্চের উপর বসে তারা পাঁচজন কথা বলছে। সবাই নিজেদের কলেজ এবং ভার্সিটি লাইফের অভিজ্ঞতা বলছে। কেমন কাটছে দিনকাল। এর মাঝে তাজবিহা বলে উঠে, “এই মেলা হচ্ছে। তোমরা যাবা?”
বাকীরা তাকায় তাজবিহার দিকে। তৃপ্তি জবাব দেয়, “বাবাকে বলব। সময় হবেনা তার। আমাকে আর ইলমাকে এক ছাড়বেনা।”
তৃপ্তির কথায় শিমুল জবাব দেয়, “তাহলে আদনানকে বলো।”
আদনানের কথা উঠতে ইলমা মৃদু কেশে উঠে। তৃপ্তি জবাব দেয়, “ওর এসবে আগ্রহে নেই।”
“যাওয়া লাগবেনা।”
ইলমার কথায় অবন্তী জবাব দেয়, “আরেহ্, আংকেলকে বলো। নাহলে আদনানকে রাজী করাও। সমস্যা কোথায়?”
অবন্তীর কথায় তৃপ্তি জবাব দেয়, “আচ্ছা দেখি। লাটসাহেব রাজী হবে বলে মনে হয়না।”
“আমার বিশ্বাস রাজী হবে। শত হোক বোনের আবদার। ফেলতে পারবেনা।”
অবন্তীর আশ্বাস দেওয়া কথায় তৃপ্তি খানিক হাসে।
তখন শিমুল অবন্তীকে বলে উঠে, “অবন্তী আপু তোমার বিয়ে-শাদির দাওয়াত পাচ্ছি কবে? ভাইয়ার খবর কী?”
শিমুলের কথায় অবন্তী মৃদু হাসে। লাজুক দেখায় তার সেই হাসি। তৃপ্তি সেই লাজুক হাসি দেখে আওড়ায়, “খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের দাওয়াত পাচ্ছি বুঝি।”
ওদের দুষ্টমিতে অবন্তী জবাব দেয়, “ইনশাআল্লাহ। এই মাসেই হয়ত বিয়ে হবে আমাদের। তোমাদের ভাইয়া চাকরী জয়েন করেছে ছয়মাস হলো। একটু সময়ের ব্যপার আছেনা!”
“ওয়াও! কংগ্রাচুলেশনস আপু। তোমাদের দু’জনকে বিয়ের সাজে পাশাপাশি দেখার অপেক্ষায় আছি।”
ইলমার কথায় অবন্তী, ইলমার কাঁধে হাত রেখে বলে, “পড়াশোনা করো মনোযোগ দিয়ে। এরপর আংকেলকে বলব তোমার জন্য রাজপুত্র এনে দিতে।”
ছাঁদে এসেছে আদনান। অবন্তীর বলা শেষ কথাটুকু তার কানে বেজেছে। মূহুর্তে বিরক্তি নিয়ে বলে, “শ্লীর ঘরের শ্লী। সদরঘাটের প্রেমিকনারী, আমার কপাল ফাটিয়ে এখন বসে বসে রাজপুত্র নিয়ে পরিকল্পনা।”
ত্রস্ত পায়ে ছাঁদের একপাশে গিয়ে দাঁড়ায় আদনান। কিছুটা ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে। মাথার ব্যাথা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কমেনি। তার জীবনে এমন মার কেউ দিয়েছিল বলে মনে হয়না। কতবড় সাহস হলে সোজা শক্ত প্লেট তার নরম কপাল বরাবর ছুঁড়ে মেরেছে। ইলমার সাহসের কথা ভেবেই আদনান অবাক না হয়ে পারেনা। যেই দুঃসাহস এখন অব্দি কেউ দেখাতে পারেনি, সেটা ইলমা করে দেখিয়েছে। ভাবতেই নাক মুখ কুঁচকায় আদনান। পরক্ষণে ভাবে, যদি মেয়েগুলো মনে করে আদনান তাঁদের দেখার জন্য এসেছে। নাহ! ভেবেই আদনান ফোন স্ক্রোল করতে ব্যস্ত হয়ে পরে। তার ইনবক্সে থাকা কিছু নারীদের জানিয়েছে “সে অসুস্থ।” এখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নারীদের যত্ন এবং ভালোবাসা মেশানো আফসোস দেখবে।
ইলমা আদনানকে দেখে বিরক্ত হয়। চায়না এই মুখটা দেখতে তাও আশেপাশে ঘেঁষতে থাকে। যেহেতু আজান পড়ে যাবে, সেজন্য ইলমা উঠে দাঁড়ায়। তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বলে, “চল ভেতরে যাই। আজান পড়ে যাবে।”
বাকীরাও বিদায় জানিয়ে যে যার বাসায় চলে যায়। তৃপ্তি এবং ইলমা চারতালার সিঁড়ি বাইতে বাইতে অবস্থা খারাপ। তৃপ্তি তাড়াতাড়ি হেঁটেই ভেতরে চলে গেছে। ইলমা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। অল্পতেই হাফিয়ে গেছে সে। তিনতালায় আসতে পেছন দিয়ে কারোর পায়ের ধ্বনি কানে আসতে ইলমা বুঝে আদনান আসছে তার পেছন দিয়ে। সেজন্য মাথার গোমটা আরেকটু টেনে দ্রুত পা ফেলে নিচে নামতে থাকে।
দোতালার সিঁড়ির কাছে আসতেই আচমকা পা বেঁকে বসে পড়ে ইলমা। হুট করে এমন হওয়াতে নিজেই অবাক হয়। পা মচকে গেছে ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ে। উঠে দাঁড়াতে গেলে অনুভব করে ব্যাথা পেয়েছে।
আদনান ইলমার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে যায়। সিঁড়িতে বসে আছে ইলমা। দেখেই বিরক্ত হয় আদনান। ইলমাকে পাশ কাটিয়ে চলে আসে সে। কোনরকম উঠে দাঁড়ায় ইলমা। আদনানের পেছন পেছন মেইন দরজার সামনে আসে। আদনান খেয়াল করেনি ইলমা যে তার পেছনে। দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে পুনরায় দরজা লাগিয়ে দেয়। যার ফলস্বরূপ দরজার সাথে ইলমার মাথা বা’রি খেয়েছে জোরেসোরে। তীব্র শক্তি দিয়ে দরজা জোরে বা’রি দিতে আদনান তাড়াতাড়ি দরজা খোলে। ইলমা ক্ষেপা বাঘিনীর মতো তাকিয়ে আছে। আদনান সেই চাহনি দেখে আরো বিরক্ত হয়। তখন ইলমা আঙুল নাচিয়ে বলে, “চোখ কী পকেটে রেখে হাঁটো? ফাল’তু একটা। দিলে তো মাথা ফাটিয়ে। এখন আবার সঙ সেজে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছো।”
ইলমার কথায় আদনান দ্বিগুন তেজ দেখিয়ে বলে, “এ্যাই মেলিচা বেশি বেড়ে গেছিস তুই। নাটকবাজ কোথাকার।”
ইলমা পাশ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্রিজ থেকে বরফ এনে
সোফায় বোসতে পেছন দিয়ে ইনান মাহমুদ আসেন। বাবাকে দেখে ইলমা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। কপালে বরফ ঢলতে গিয়েও ঢলেনি। ইনান মাহমুদকে দেখে আদনান রুমের দিকে চলে যায়। ইলমাকে দেখে ইনান মাহমুদ জিজ্ঞেস করেন, “কপালে কী হয়েছে?”
“দরজার সাথে বা’রি খেয়েছি।”
ইলমার কথায় ইনান মাহমুদ খুশি হোননি। পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, “সত্যি কথা বলো।”
ইলমা চুপসে যায়। এখন সত্যিটা বললে আবার তুলকালাম বাঁধবে।
এদিকে মেয়েকে চুপ থাকতে দেখে ইনান মাহমুদ কিছুটা রেগে বলেন, “কথা বলছ না কেন?”
“ওই, আদনান ভাইয়া আমাকে না দেখেই দরজা লাগিয়েছে। পেছনে ছিলাম তাই বা’রি খেয়েছি।”
ইনান মাহমুদ আদনানকে ডাক দেন। পরপর তিনটা ডাক দেওয়ার পর আদনান লিভিং রুমে আসে। ইনান মাহমুদের সাথে তার তেমন ভাব নেই। বলা যায় অনেকটা দূরত্ব আছে। আদনানের উশৃংখল চলাফেরা, অভদ্রতা, বেয়াদবির জন্য ইনান মাহমুদ তাকে পছন্দ করেননা। তেমন কথাও বলেননা। অন্যদিকে ইলমার গায়ে একটা ফুলের টোকাও তিনি সহ্য করতে পারেননা। তার মেয়ে তার চোখের মধ্যমণি। সেজন্য মাঝেমধ্যে আদনান বিরক্ত হয় ইনান মাহমুদের উপর। একবারে আদর উতলে পড়ে মেয়ের জন্য। মাঝেমধ্যে তো মুখের উপর বলতে মন চায়, “এতো ভালোবাসা তো সৎমা এনে দিলে কেন? ইলমার সাথে তো কম খারাপ আচরণ করেনি আপনার পত্নী। তখন এসব আদর কোথায় ছিলো?” কিন্তু এসব বললে তাকেই ম্রা খেতে হবে। সেজন্য নিজেও দূরত্ব বজায় রাখে। আদনান ইলমার দিকে একনজর তাকায়। ইনান মাহমুদ আদনানকে শাসিয়ে বলেন, “তুমি বড় হয়ে, কাণ্ডজ্ঞান হীন কাজ করো কীভাবে? দেখলে তো ও মাথায় ব্যাথা পেয়েছে।”
“আমার মাথার পেছনে দু’টো চোখ থাকা আবশ্যক ছিলো। দু’টো চোখ থাকলে তো আপনার আদরের কন্যাকে দেখতে পেতাম। দরজাটাও লাগাতাম না।”
“কথা ভদ্র ভাবে বলা যায়না? দিনদিন বেশীমাত্রার বেয়াদব হচ্ছ তুমি।”
“আপনার কথার ধরণ অনুযায়ী আমার থেকে এরচেয়ে ভদ্র আচরণ আশা করছেন কীভাবে?”
ফরিদা পারভীন সব বাকীরাও আসে লিভিং রুমে। ফাইজা ইনান মাহমুদকে থামিয়ে বলেন, “ইলমা পেছনে থেকে বলতে পারলো না, দরজা লাগিয়ো না।’ সেটা তো বললে না তুমি।”
ফাইজার কথায় আদনান বেশি বিরক্ত হয়। তার পক্ষে কথা বললেও তার পছন্দ না ফাইজাকে। একবিন্দুও না। তার কাছে অসহ্য মহিলা একটা! ফরিদা পারভীন সবার উদ্দেশ্য বলেন, “এই ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে ঝামেলা করন লাগে নাকী? তোরা এক কবরে গেলেও থাকতি পারবি না। যুদ্ধ করবি, যুদ্ধ।”
আদনান প্রস্থান করে। তারেক মাহমুদ ইনান শেখকে বলেন, “আদনানকে কিছু বলে লাভ নেই। বেয়াদব একটা।”
ইলমা রুমে চলে আসে। বাকীরাও যে যার মতো রুমে যায়। ইনান শেখ রুমে এসে বোসতে ফাইজা এসে তাকে বাঘিনীর মতো ধরে। দরজা লক করে বলেন, “ইলমাকে এতো মাথায় তোলার কী আছে? দোষ ওর কম ছিলো নাকী? আমার ছেলেকে তো ওতো আদর করো না তুমি।”
“এই সরো। তোমার এসব কথাবার্তা শোনার জন্য বসে নেই আমি। আমার মেয়ে তোমার কী এমন ক্ষতি করেছে, যে ওকে সহ্য করতে পারোনা তুমি।”
“সহ্যের কথা উঠছে কেন? ওর অন্যায় তুমি চোখে দেখো না।”
“ফাইজা আর একটা কথাও না। যদি বলো তাহলে রুম থেকে বেরিয়ে যাও।”
“আমার সমস্যা ঠিক এই জায়গায়। ইলমা তোমার জীবনের সব। আমি আর আমার ছেলে কিছুনা।”
“তুমি যেটা মনে করতে পারো।”
“ইনান তুমি বেশি বলছ না? ইলমার জন্য তোমার চোখে যত টান, আমার ছেলের জন্য ততো টান দেখিনি আমি।”
ইনান শেখ সেসব তোয়াক্কা করেননা। রুমের দরজা খুলে বাইরে আসেন। ইলমার রুমের দরজায় নক করতে ইলমা জবাব দেয়, “দরজা খোলা আছে।”
ইনান শেখ ভেতরে প্রবেশ করেন। ইলমা পড়তে বসেছে। সামনের চেয়ার টেনে মেয়ের মুখোমুখি বসেন তিনি। ইলমা বাবাকে দেখে জিজ্ঞেস করে, “কিছু বলবে?”
“নাহ। পড়ালেখা কেমন চলছে মা?”
“ভালো।”
“মন দিয়ে পড়ো, সামনে টেস্ট এক্সাম আসছে।”
“পড়ছি বাবা।”
ইনান শেখ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। রুম থেকে বেরিয়ে তারেক মাহমুদের সাথে বোসে খোশগল্পে মেতে উঠেন। সবসময় তাদের দুই ভাইয়ের বন্ডিং দারুণ। ইনান শেখ তাদের নতুন হাউজ নিয়ে কথা তোলেন। তারেক মাহমুদ ভাইয়ের কথায় সায় দিয়ে বলেন “নতুন বাড়ির কাজ শেষ হলে, এই বিল্ডিংয়ের পাশে যে মাঠ সেটাও বাড়ির কাজ ধরব।”
“নাহ্। ওইটা থাকুক আদনানের জন্য। সব তুমি করে দিলে ও তাহলে কী করবে? দায়িত্ব আর স্বপ্ন দু’টো জিনিস ওকে উপলব্ধি করতে হবে।”
“ওর থেকে আমি কিছুর আশা করিনা ইনান। ও জীবনে কিছুই করতে পারবেনা। ওর মতো বখাটে ছেলে দু’টো দেখিনি আমি।”
“এসবের কারণ কী ভাইয়া? আদনানকে বুঝাও তুমি। এখনো সময় আছে ভালো হওয়ার।”
“দেখোনা ত্যাড়া জবাব দেয়। ওর সাথে কথা বলা মানেই মুখ নষ্ট করা।”
তারেক মাহমুদের কথায় ইনান শেখ কিছু বলার মতো খুঁজে পাননি। ফরিদা পারভীন এসে বলেন, “আদনানরে বিয়ে করাই দাও। যখন বউয়ের দায়িত্ব নিবো সব ঠিক হইয়ে যাইব।”
“আরেহ মা। এসব কী বলছ তুমি? ওর যা জেদ, পরে দেখা যাবে দুইদিন ভালো, তিন নাম্বার দিকে বউকেও চড় থাপ্পড় মে’রে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিবে। বদনাম হবে আমাদের।”
“ওর কাছে মেয়ে বিয়ে দিবে কে? শুধু বাপের টাকা দেখে? ওর মতো বেয়াদবের কাছে কোন ভালো, জ্ঞানী বাবা তার মেয়ে তুলে দিবেনা।”
★★★
ঘড়ির কাটা রাত সাড়ে দশটা। সবে ডিনার করে রুমে ফিরেছে আদনান। ঠিক দশটায় ডিনার করার টাইম তাঁদের। সাড়ে দশটার মাঝেই সবাই যে যার রুমে।
রিয়ানা কল দিয়েছে। আদনান কল রিসিভ করতে রিয়ানা জবাব দেয়, “আগামী কালকে মিট করতে পারবে?”
“কেন কী হয়েছে?”
“আর্জেন্ট।”
“এখন বলো।”
“আরেহ তুমি কী না, কী বলো।”
“এই নাটক বন্ধ করে বলো কী বলবে।”
“বিয়ে করতে চাই।”
“হোয়াট!! মাথা ঠিক আছে তোমার?”
“কেন তুমি বিয়ে করবে না?”
“রিয়ানা তুমি পাগল? আমি এখনো স্টুডেন্ট! বাপের টাকায় চলি, সেখানে তোমাকে বিয়ে করে তোমার দায়িত্ব নেওয়া চারটি খানি কথা না।”
“তো কী হয়েছে?”
“আমি এখন বিয়ে করছিনা। তোমার বিয়ে করার শখ হলে নতুন কাউকে দেখতে পারো। তোমার বাপকে বলো ছেলে এনে দিতে। এছাড়া তুমি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাইছ কেন?”
“তেমন কারণ নেই। ইচ্ছে হয়েছে সেজন্য।”
“এসব কেমন ইচ্ছে?”
“জানিনা।”
রিয়ানার কথা অদ্ভুৎ শোনালো। আদনানের খটকা লাগে। পুনরায় জিজ্ঞেস করে, ‘এনিথিং রঙ?”
“নাহ্। সিরিয়াস নেওয়ার কিছু নেই। জাস্ট বললাম তোমায়।”
“আচ্ছা। ব্রেকআপ করতে চাও?”
“কেন, আমাকে ভালো লাগছেনা?”
“এরকম কিছুনা। যদি ব্রেকআপ নিতে চাও আমার কোন সমস্যা নেই।”
“এই রিলেশন আমি সিরিয়াস নিয়েছি আদনান। তুমি ভালো হয়ে যাও। আমি অপেক্ষা করব তোমার জন্য।”
“পরে তুমি কষ্ট পাবে। আমাকে সিরিয়াস নিওনা আর না আমার জন্য অপেক্ষা। আদনানের কাছে মেয়েমানুষ টিস্যুর মতো। সো বি কেয়ারফুল।”
কথাটা বলে আদনান কল কেটে দেয়। ব্যালকনিতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আকাশের পানে তাকায়৷
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

