#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৭|
#শার্লিন_হাসান
বেশ কয়েকদিন কাটার পর,ফারিশের বিয়ের দাওয়াত এসেছে শেখ বাড়িতে। ইনান শেখ তো যাবেন না। তারেক মাহমুদ হয়ত যাবেন। যেহেতু বিয়েশাদিতে ইনান শেখ যাবেন না সেজন্য ভাবলেন, ফাইজা এবং ইজাজকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঘুরে আসবেন। সেজন্য, সকাল থেকেই সবকিছু গুছিয়ে রাখছেন।
আজকে দুপুরের দিকে বাকীরা ফারিশদের বাসায় যাবে। শুধু যাবেনা ইলমা,আদনান এবং ইনান শেখরা। আদনান এবং ইলমা নাশতা সেরে একজন ভার্সিটি, অন্যজন নিজের কর্মস্থলে চলে গেছে।
বাকীরা ধীরেসুস্থে, রওনা হবে। তারেক মাহমুদের যাওয়ার ইচ্ছে ছিলোনা। শুধুমাত্র ফরিদা পারভীনের জন্য যেতে হচ্ছে। ইনান শেখ
তো যাবোন না। ফাতিহার বাবা নেই, দুই ভাই আছে। দু’জন যদি না যায় তাহলো কেমন দেখায়? সেজন্য তারেক মাহমুদ যাচ্ছেন।
ইলমা ভার্সিটি থেকে ফিরতে,ফিরতে তিনটা বেজে গেছে। আদনানের ছুটি চারটায়। আসতে আরো একঘন্টা দেরি। ইলমা এসে ব্যাগটা রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায়। পুরো বাড়িটা খালি। সে একাই আছে। ফ্রেশ হয়ে, চা বসায় ইলমা। নিজের রুমে গিয়ে ফুলের টবে পানি দেয়।
তার চা নিয়ে বসতে,বসতে আদনান চলে আসে। ইলমা স্বামী সেবা করতে ব্যস্ত হয়ে পরে। ইলমা আদনানের পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে, আদনান ইলমার দিকে বাইকের চাবি আর ফোনটা ছুঁড়ে মারে। আদেশ করে বলে, “ফোনটা চার্জে বসা তো।”
“এভাবে ছুঁড়ে মারছ কেন? সুন্দর ভাবে দেওয়া যায়না?”
“তুই যখন পানির বোতল ছুঁড়ে মারিস তখন?”
ইলমা জবাব দেয়না। ফোন চার্জে বসিয়ে খাটের উপর শুয়ে পড়ে। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তার। আদনান এসে দেখে ক্লান্ত ইলমা শুয়ে আছে। সেজন্য আর জ্বালায়না। নিজেও টায়ার্ড থাকায়, ইলমাকে ঠেলে পাশে শুয়ে পড়ে।
মাগরিবের আজান পড়তেই আদনান উঠে যায়। পাশে, মসজিদ আছে সেখানে চলে যায়। ইলমা বাড়িতেই নামাজ পড়ে।
সন্ধ্যায় আদনান, ইলমাকে নিয়ে বাইরে বেরোয়। দু’জন বাইকে করে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে।
আদনান ইলমাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসে কফি খাওয়ার জন্য। দু’জন বসে টুকটাক গল্প করতে,করতে কফি শেষ করে।আদনান বিল পে করে ইলমাকে নিয়ে বেরোয়। আদনান সামনে,ইলমা পেছনে দু’জন দুজনের হাত ধরা। তবে, আদনান ফোনের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা করছিলো। সামনের দিকে নজর নেই। তবে ইলমার নজর সামনে যেতে সে হকচকিয়ে যায়। আদনানের টানের সাথে ইলমা গিয়ে বারি খায় মধ্য বয়স্ক মহিলার সাথে। মহিলার হাতে থাকা দু’টো শপিং এবং পার্স নিচে পড়ে যায়। ইলমা আদনানের হাত ছেড়ে ব্যাগগুলো উঠিয়ে দিতে বসে পড়ে। আদনান দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে ইলমার দিকে। ইলমা ব্যাগ গুলো উঠিয়ে দেয়। কিছু বলার আগে মহিলা ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “স্যরি, আপনাকে দেখতে পাইনি।”
আদনান সবিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে দু’জনের দিকে। মহিলা ব্যাগগুলো হাত নিয়ে ইলমার দিকে তাকায়। পাশে ফিরতে দেখে আদনান। ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে মহিলা বলে, “শাহরিয়ার আদনান শেখ না?”
আদনান জবাব দেয়, “জ্বী, ঠিক চিনেছেন।”
বিনিময়ে মহিলা মুচকি হেঁসে ইলমার দিকে তাকায়। আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “কী হয়?”
আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার বউ।”
ইলমা পেছনের মেয়েটার দিকে তাকায়। টপস এবং জিন্স পরা মেয়েটা। ছোট ছোট চুলগুলো একপাশে ক্লিপ দিয়ে ঠেকানো। গায়ের রং ধবধবে ফর্সা। ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “চলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
আদনান মুখ খুলতে যাবে তখন মহিলা বলেন, “এতো তাড়াহুড়ো করছ কেন? আদনান আমার ছেলের মতো, আর তুমি তো ছেলের বউ। নাম কী তোমার?”
ইলমা জবাব দেয়না। মহিলার নাম জেসিয়া মাহজেবিন। ইলমাকে চুপ থাকতে দেখে জেসিয়া আদনানকে বলে, “তোমার বউয়ের নাম?”
আদনান ইলমার দিকে তাকায়। সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে, “জেহেরা ইলমা ম্যালিসা।”
ইলমা জেসিয়ার দিকে তাকায়। জেসিয়ার চোখেমুখে বিস্ময়। সে চিনতে পারেনি তার গর্ভের সন্তানকে। সেই যে পাঁচ বছর বয়সে রেখে এসেছিল, এরপর আর খোঁজ নেয়নি। আদনানের আইডি স্টক করা হয় মাঝেমধ্যে। আদনানের গান,কনসার্ট সবই দেখা হয়। সেজন্য তাকে ভালো করেই চিনে জেসিয়া। তবে ইলমার সাথে তার শেষ দেখা ছিলো কোর্টে। যেদিন তাদের ডিভোর্স হয়েছিল। সেই ছোট্ট জেহেরা ইলমা ম্যালিসা আজকে বড় হয়েছে। বিয়ে করেছে। জেসিয়া মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। আদনানকে বলে, “তোমার বউকে নিয়ে আমার বাসায় এসো।”
“গর্ভের সন্তানের থেকে পরের সন্তানের জন্য বেশি প্রায়োরিটি? আপনার মেয়েকে বলুন, ” জামাই নিয়ে আপনার বাসায় যেতে।”
আদনানের কথা শেষ হতে ইলমা আদনানের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। আদনান সেসব তোয়াক্কা করেনা। জেসিয়া মাথা নিচু করে জবাব দেয়, “তার কাছে হয়ত আমি মৃ’ত। যে সম্পর্ক শেষ হয়েছে, সেদিকে না আগানো বেটার।”
ইলমা শুধু তার মায়ের দিকে তাকায়। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর মুখোমুখি হয়েছে তারা। অথচ মানুষ বলে, মায়ের থেকে আপন কেউ হয়না! এদিকে তাদের দেখো, মা-মেয়ের পরিচয়,সম্পর্ক কিছুই নেই। ইলমা আদনানকে রেখেই সামনে হেঁটে যায়। ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ভীষণ কান্না পাচ্ছে! এই কষ্টটা বুঝানোর মতো না। ইলমার নিজেকে দূর্ভাগা মনে হচ্ছে।
আদনান জেসিয়ার সাথে দু-একটা কথা বলে বিদায় নেয়। তড়িঘড়ি করে এগিয়ে আসে বাইরে। ইলমা বাইকের সামনে দাঁড়ানো। আদনান এসে বাইকে বসে, ইলমাকেও বসতে বলে। এবার ইলমা ভীষণ নিরিবিলি। চুপচাপ বাড়িতে আসে আদনানের সাথে। আদনান বাইক গ্যারেজে রেখে সব তালাবদ্ধ করে ভেতরে যায়। মেইন গেটে তালা ঝুলানো। ভেতরে গিয়ে দরজাটাও লক করে দেয়। রুমে এসে দেখে ইলমা খাটের উপর হাঁটু উঁচু করে বসিয়ে আছে। আদনান ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে নেয়। বাইরে এসে, ইলমাকে বলে, “ফ্রেশ হয়ে আয়।”
“ভালো লাগছেনা।”
আদনান এসে ইলমার হাত টেনে ধরে। ওয়াশেরুমের সামনে দিয়ে বলে, “গায়ে ধূলা বালি নিয়ে বিছানায় আসবি না।”
“তোর রুমেই আসব না আমি।”
কথাটা বলে ইলমা বেরিয়ে যায় রুম থেকে। আদনান ইলমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার সাথে তেজ দেখাচ্ছিস কেন?”
ইলমা জবাব দেয়না। সোজা নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে। চোখ বেয়ে নোনাজল টলটল করে গড়িয়ে পড়ছে। ইলমা নিজেকে সামলে নেয়নি। ইচ্ছা মতো অশ্রু বিসর্জন দেয়।
জেসিয়া মাহজেবিন। দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম ছিলো তার বর্তমান হাজবেন্ডের সাথে। জেসিয়াদের পরিবার ছিলো মধ্যবিত্ত। রুপে-গুনে কোন দিক দিয়ে কম ছিলো না সে। ঢাকা শহরেই থাকত নিম্ন এলাকায়। তার চাচাদের সাথে দাদার বাড়ি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। কেস চলছিল। সেখান থেকে জেসিয়ার বাবার সাথে পরিচয় হয় ইনান শেখের। জেসিয়াকে এক দেখায় তার পছন্দ হয়। বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হলো জেসিয়ার বাবা রাজী হয়। জেসিয়ার প্রেমিক তখন স্টুডেন্ট ছিলো। বলা ভালো, তারা সেম ব্যাচ ছিলো। ছেলের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না। তবে তাঁদের প্রেম গভীর ছিলো। জেসিয়া অপেক্ষা করতে চেয়েছে, কিন্তু ইনান শেখের সাথে তার বিয়েটা একপ্রকার জোর করেই দেওয়া হয়। প্রথম,প্রথম সব মানিয়ে নিতে পারেনি জেসিয়া। ইনান শেখের সাথে যে খুব একটা ভালো ব্যবহার করত তাও না। জেসিয়ার মন পড়েছিল, সেই প্রেমিকের কাছে। ইনান শেখ ব্যপারটা জানলে, জেসিয়াকে সবাই বোঝায়। এরপর সিদ্ধান্ত আসে, হয়ত বেবি নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের ছয়মাসের মাথায় জেসিয়া কনসিভ করে। এরপর ইলমার জন্ম হয়। প্রথম,প্রথম সব ভালোই কেটেছে। সবাই ধরে নিয়েছে, হয়ত ইলমার জন্য হলেও জেসিয়া সব মেনে নিয়েছে। কিন্তু জেসিয়ার সাথে তার প্রাক্তনের কন্টিনিউস কথা চলত। প্রাক্তন টাকার সমস্যায় পড়লে জেসিয়া টাকা পাঠাত। এমনকি নিজের গোল্ডের চেইন বিক্রিও টাকা দিয়েছে প্রাক্তনকে। কয়েকবছর সব সুন্দর কাটে। এদিকে জেসিয়ার প্রাক্তন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেদিন জেসিয়া ইনান শেখের হাত ছেড়ে প্রাক্তনের হাত ধরতে দুবারও ভাবেনি।
ছেড়ে দিয়েছে সাজানো সংসার,ফুলের মতো মেয়েটার সঙ্গ।
কান্না করতে,করতে ইলমার মাইগ্রেনের ব্যাথা শুরু হয়। উঠে দাঁড়ায়। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে আসে। হুট করে আকাশ গর্জন দিয়ে উঠে। ইলমা দৌড়ে ব্যালকনিতে যায়। মৃদু ঠান্ডা হাওয়া বইছে। মাথার ব্যাথা তীব্র হওয়াতে ইলমা একটা ঘুমের ঔষধ সাথে মাইগ্রেনের ঔষধ খেয়ে, লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আদনান ইলমাকে ডাকছে দরজা খোলতে। অনেক রাত হয়ে গেছে, ডিনার করার জন্য। সেদিকে ইলমার হেলদোল নেই। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে আদনান নিজের রুমে চলে যায়।
ফোন হাতে ইলমাকে কল দেয়। ফোন সাইলেন্ট থাকায় ইলমা টের পায়নি। ঘন্টা খানেকের মাঝে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়।
আদনান ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেছে। তারেক মাহমুদকে কল দিয়ে চাবির কথা জিজ্ঞেস করে। বাড়ির প্রতিটা রুমের এক্সট্রা করো চাবি থাকে। চাবির খোঁজ করে, সেটা খুঁজে বের করে তারেক মাহমুদের রুম থেকে। এসে ইলমার দরজার সামনে দাঁড়ায়। একগুচ্ছ চাবি নিয়ে একটার পর একটা চেক দিয়ে যাচ্ছে ইলমার রুমের দরজায়। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে দরজার লক খুলে ভেতরে যায় আদনান। অন্ধকার রুম। আদনান দেওয়াল হাতড়ে সুইচ টিপে। লাইট অন হতে দেখে ইলমা ঘুমাচ্ছে। আদনান এগিয়ে গিয়ে ইলমার পাশে বসে। আলতো করো ইলমার গালে থাপ্পড় দেয়। ডাক দেয়, “মেলিচা, খাবার খাবিনা?”
ইলমা সাড়াশব্দ দেয়না। আদনানও আর ডাকেনা। ইলমার চুলে কিছুক্ষণ, বিলি কেটে দিয়ে বাইরে আসে। একাই ডিনার করে নেয়। খাবার শেষ করে ইলমার পাশে শুয়ে পরে।
★★★
আদনান সকাল,সকাল ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে নেয়। কিচেনে গিয়ে চা বসায়। ব্রেড, জেলি সব রেডি করে নেয়। নাশতা রেডি করে ইলমার রুমে যায়। ইলমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় ইলমা ঘুমের জন্য চোখে দেখছেনা। আদনান তাকে বসাতে,আদনানের কাঁধে মাথা রাখে ইলমা। আদনান খেয়াল করে তার বউয়ের চোখমুখ সব ফুলে গেছে। আদনান ইলমাকে পরখ করে কপালে চুমু দিয়ে বলে, “ফেলে আসা কোন কিছুর দিকে ফিরে তাকাতে নেই। হোক সেটা সম্পর্ক কিংবা প্রিয় মানুষ।”
ইলমা সে কথা কানে তোলেনি। ফ্রেশ হতে চলে যায়। আদনান বসে,বসে ইলমার আসার অপেক্ষা করে।
ঘড়িতে সময় দেখে। একটু পর ব্যাংকে যেতে হবে। ইলমা আসতে আদনান নাশতা সাজিয়ে দেয়। ব্রেডে জেলি লাগিয়ে ইলমার প্লেটে দিচ্ছে। আদনানের যত্নে ইলমা নিরবে দেখছে। মনে,মনে হাসছে।
নাশতা শেষে আদনান রেডি হয়ে চলে যায়। ইলমা রান্নাবান্না করে নেয়।
★★★
বিকেলে ইলমা কিচেনে নাশতা বানাচ্ছিলো। কাজ হাতে উঠছে না তার। কিচেনে এঁটো প্লেট কয়টা পড়ে আছ। ইলমার ইচ্ছে হচ্ছেনা সেগুলো ধোঁয়ার। আদনান তো পারে একটু কাজে হেল্প করতে। অনেকক্ষণ ভেবেচিন্তে ইলমা ঠিক করে, “আদনানকে দিয়ে বাসন মাজাবে। খুব তো ভাব লাট সাহেবের।”
যেই ভাবা সেই কাজ। দৌড়ে রুমে আসে ইলমা। আদনান ফোন স্ক্রোল করছিলো। ইলমা তাকে দেখে ইনিয়েবিনিয়ে বলে, “কিচেনে আসো। মাছ তেলে ফুটছে, আমার ভয় করছে গ্যাস অফ করতে।”
“এই ঢঙ করবি না। তুই রান্না পারিস।”
“না আসলে নাই। মাছ পুড়বে,কিচেন পুড়বে,বিল্ডিং পুড়বে আমার কী?”
কথাটা বলে ইলমা মুখ বাকিয়ে রুম থেকে বেরোয়। আদনান বিস্ময় নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ফোনটা রেখে দ্রুত পায়ে কিচেনে যায়। দরজায় উঁকি দিতে দেখে ইলমা দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। আদনান ধমকে বলে, “নাটকবাজ। মেয়েমানুষ এতো ঢঙ্গি হয় কী করে?”
“আরেহ ভেতরে আসো।”
আদনান ভেতরে যায়। গ্যাসের সামনে দাঁড়াতে দেখে কোন মাছ ভাজা হচ্ছেনা। ইলমা পাশে দাঁড়িয়ে আছে উৎসুক হয়। আদনান ইলমার দিকে নরম হয়ে তাকায়। শীতল কন্ঠে বলে, “এভাবে আমাকে কিচেনে ডেকে আনার মানে কী?”
ইলমা চোখ দিয়ে ইশারা করে প্লেটের দিকে। আদনান সেদিকে তাকিয়ে বলে, “প্লেটে কী সমস্যা?”
ইলমা জবাব দেয়, “তুমি মাজবে এগুলো।”
“অসম্ভব। একটা চড় মেরে ঢঙ সব বের করে দেব।”
“এই কথায়,কথায় চড়ের থ্রেট দিলে রান্না বন্ধ।”
“আরেকটা বিয়ে করব।”
“আবার বলো?”
“চারবিয়ে করব।”
“তুই আমার সাথে কথা বলবিনা। কর চারবিয়ে। রুমেও আসবিনা।”
কথাটা বলে ইলমা হাতে থাকা বাটিটা আদনানের দিকে ছুঁড়ে মারে। বাটি এসে আদনানের বুকের সাথে বা’রি খায়। ইলমা সেদিকে নজর না দিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে যায়। আদনান কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ইলমার যাওয়া দেখে। স্টিলের বাটি হওয়ায় তেমন পাত্তা দেয়নি আদনান। আদনান ধীরেসুস্থে রুমে আসে। ইলমা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। আদনানও সেখানে যায়। খুব যত্নে পেছন থেকে গিয়ে ইলমার ঘাড়ে থুঁতনি রাখে। আদনানের উপস্থিতি টের পেতে ইলমা নড়েচড়ে উঠে। এমন নড়াচড়া দেখে আদনান শক্ত করে ইলমার পেটে হাত রেখে জড়িয়ে ধরে। নরম কন্ঠে বলে, “এতো রাগ?”
আদনানের কথায় ইলমা মুখ বাঁকিয়ে জবাব দেয়,
“তোমার বন্ধু নির্মাণ কিন্তু যথেষ্ট সুদর্শন।”
“নজর ঠিক কর শালী। আমি এখনো বেঁচে আছি।”
“যার চার বিয়ের শখ, তাকে আমার দরকার নেই।”
“ওটা কথার কথা। তুই ছাড়া অন্য নারী সব আমার খালা লাগে।”
“তুমি যদি সত্যি আমাকে ভালোবাসতে, তাহলে আমার সব কথা শোনতে।”
“তাই বলে বাসন মাজব?”
#চলবে
(অবশেষে সেই পার্টটা আসলো।🫣)
আদনান ইলমাকে নিয়ে লেখা বই “বুকপকেটের মায়াবিনী” অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন https://www.facebook.com/share/153ciYupU5/
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

