#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৫০|
#শার্লিন_হাসান
আদনান বেতন পেয়েছে। ফেরার পথে একটা শপিংমলে প্রবেশ করে। মূলত ইলমার জন্য কিছু কিনার জন্য। সে যে বিয়েতে একটা শাড়ি দিলো, এরপর দাদী টাকায় শাড়ি দিয়েছে। এছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। আদনান শপিংমল ঘুরে ইলমার জন্য একটা থ্রি-পিস পছন্দ করে। ওরনাটায় তার চোখ আটকে গেছে। কালো ওরনায় ফুলের প্রিন্ট করা। এশ কালারের থ্রিপিস। আদনানের পছন্দ হতে দেরি করেনি। ইলমার জন্য রেডিমেড থ্রি-পিসটা নিয়ে নেয়।
বাইক নিয়ে বাসায় ফিরে। ইলমা সবে শাওয়ার নিয়ে এসেছে। আদনান ইলমার দিকে শপিং ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলে, “বিকেলে ঘুরতে বের হবো। এই ড্রেসটা পরবি।”
ইলমা শপিং ব্যাগটা হাতে নেয়। খুলে দেখে এশ কালারের একটা থ্রি-পিস। ওরনায় হাত বুলাতে, বুলাতে মুচকি হাসে ইলমা। কালো রঙের সফট ওরনায় ফুলের প্রিন্ট করা। ইলমা থ্রিপিস দেখতে,দেখতে আদনান শাওয়ার সেরে আসে।
ইলমা তখন তৃপ্তির রুমে গিয়েছে। আদনান আর ডাকেনি। তৃপ্তি বসে,বসে ইলমার দু’হাতে মেহেদি পরিয়ে দেয়। ইলমা মেহেদি রাঙানো হাত নিয়ে আদনানের সামনে আসলে আদনান ভ্রু কুঁচকে বলে, “বিয়েতে তো মেহেদি দিলি না।”
“সময় ছিলো নাকী?”
আদনান ইলমার দু’হাতে নিজের হাতে নেয়। মেহেদি রাঙানো হাত সবসময় সুন্দর হয়। আদনান ইলমার হাত দু’টো পরখ করে।
বিকেলে ইলমা তৈরি হয়। আদনানের দেওয়া থ্রি-পিস পরে। মেহেদি রাঙানো হাতে সাদা পাথরের ব্রেসলেট এবং অনামিকা আঙুলে একটা রিং পরে। বেশ সুন্দর লাগছে তাকে। আদনান ইলমাকে একনজর পরখ করে এগিয়ে আসে। ইলমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার বউ ভীষণ সুন্দর।”
আদনানের কথায় ইলমা বেশ লজ্জা পায়। আদনানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলে, “দেরি হয়ে যাচ্ছে। বেরুই।”
আদনান ঠোঁট টিপে হাসে। ইলমাকে নিয়ে বেরোয়। বাইকে বসে ইলমাকে পেছনে বসায়। বাইকে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে একটা রেস্টুরেন্টে এসে স্থির হয় দু’জন। আদনান, ইলমাকে দাঁড়াতে বলে। ইলমা দাঁড়াতে, আদনান ফোন বের করে ইলমার পিকচার্স তুলে দেয়।
ইলমাকে নিয়ে টুকটাক ফাস্টফুড খেয়ে বেরিয়ে আসে। দু’জন হাতে হাত রেখে হেঁটে এগুচ্ছে। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “শোন একটা কথা বলি।”
“কী বলো?”
“টেপলা ফারিশের জায়গা মতো অনেকগুলো লাথি দিয়েছি। এখন কী ওর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে?”
ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে রয়। কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না। আদনান ইলমাকে চুপ থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ইলমা জবাব দেয়, “ভবিষ্যতে দেখা যাবে।”
আদনান জবাব দেয়, “হলে হোক! খনিকেরপোলা আমার বউয়ের গায়ে এসিড মেরেছে।”
“বাদ দাও।”
“হ্যাঁ। এই মাসেই হসপিটালে যাব। তোর সার্জারী করাব।”
“এই তোমার কাছে তো টাকা নেই। বেতন যা পেয়েছো, আমাদের মাস চলতে হিমশিম যাবে।”
“তো?”
” আমি এখন সার্জারী করব না।”
” তোর কথায় হবে নাকী? এই মাসেই যাব। টাকা নিয়ে চিন্তা করছিস কেন?”
“আমার স্বামী একজন স্টুডেন্ট সেটা মনে আছে আমার।”
ইলমার কথায় আদনান ইলমার দিকে তাকায়। তবে তার ঠোঁট হাসছেনা। চোখজোড়া হাসছে! ইলমা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “কী হলো?”
“কিছুনা।”
★★★
ইনান শেখ সোফায় বসেন। আদনান এদিকটায় আসছিল। ইনান শেখকে দেখে পুনরায় রুমের দিকে যায়। ইনান শেখের সাথে তার যায়না। একটা না একটা ঝগড়া ঝামেলা হয়েই যায়। শুধু ফারিশকে মারার সময় একটু মিল হয়েছিলো। সেটা কীভাবে আদনান জানেনা। ছেলেপেলের ব্যবস্থা,প্ল্যানিং সব আদনানের করা। টাকা ইনান শেখ দিয়েছে।
আদনান রুমে ঢুকতে গেলে ইনান শেখ ইলমাকে ডাকেন। আদনান দেখে ইলমা এদিকেই আসছে। সেজন্য সে আর রুমে যায়নি। দু’জন এসে সোফায় বসতে ইনান শেখ ইলমাকে বলেন, “ডক্টরের সাথে কথা হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝিতে তোমাকে নিয়ে যাব। সার্জারী করাব।”
আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার হাতে টাকা আসলে যাব।”
ইনান শেখ আদনানের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে বলেন, “এই ছেলে তোমাকে টাকার চিন্তা করতে বলেছি? মেয়ে কী একবারে দিয়ে দিয়েছি নাকী? ওর প্রতি আমার দায়িত্ব নেই?”
“আমার থেকে বেশি না।”
আদনানের কথায় ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকায়। আদনান সেসব পাত্তা দেয়না। ইনান শেখ দু’জনকে পরখ করে মাথা নিচু করে হাসেন। তার মেয়েকে বিয়ে করার পর আদনানের বুদ্ধি বেড়েছে। দায়িত্ববোধ ও বেড়েছে।
ফরিদা পারভীন হসপিটালে আছেন। তারেক মাহমুদও আজকে গিয়ে দেখে এসেছেন ফারিশকে। যায়নি ইনান শেখ। তিনি যাবেনও না। আদনান তো কখনোই যাবেনা।
আদনানের সাথে এলোমেলো ভাবে ইনান শেখের দুদণ্ড কথা হয়েছে। তবে সুন্দর করেনা। দু’জনের একজন ত্যাড়া জবাব দিয়েছেই। ইলমা আদনানের পেছন দিয়ে রুমে আসে। দরজা লক করে আদনানকে শাসিয়ে বলে, “তুমি কী বাবার সাথে ভালো ভাবে কথা বলতে পারোনা?”
“না পারিনা।”
“বেয়াদব একটা।”
“তোর বাপ জীবনেও আমাকে তার মেয়ের জামাই মানবেনা। সেজন্য তার মন মতো হতে আমি তেল মাখতে পারব না। মানলে মানুক না মানলে আইনসভায় বসুক।”
“আল্লাহ, আমার বাচ্চাগুলো যাতে ওর মতো ত্যাড়া না হয়।”
“এই ওয়েট।”
“কী?”
“বিয়ে হলো একমাসের বেশি। তুই এখনো বমি করছিস না কেন?”
আদনামের কথায় ইলমা হতবিহ্বল হয়ে যায়। জবাব দেয়, “মানে? বমি করব কোন?”
আদনান হেঁসে বলে, “বমি করলে বুঝতাম আমি বাবা হতে চলেছি। ওই আগের যুগের সিনেমাটিক কাহিনী আরকী!”
“সর অসভ্য। বউ চালাতে হিমশিম সেখানে বাচ্চা চালাবে।”
“এই চুপ। এই বাড়ি আমার। বাকী প্রোপার্টিও আমার। সেখানে আমি আমার বাচ্চা পালতে পারব না?”
“নিজের টাকায় কিছু করো। বাচ্চার নাম মুখে নিবেনা।”
“আচ্ছা শোন?”
“বলো?”
ইলমার কথা শেষ হতে আদনান ইলমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। দৃষ্টি নিচু করে ইলমার মুখপানে স্থির করে বলে, “আমার মেয়ে বেবি চাই।”
“তোমার মেয়ে হলে তাকে সেফটি দিতে পারবে? তোমার মতো কোন আদনান তাকে রাস্তায় ইভটিজিং করবে। সহ্য হবে তোমার?”
আদনান চুপ। মাথাটা নিচু করে নেয়। সে যা করেছে সেটা জঘন্য ছিলো। ইভটিজিং করে মেয়েদের হয়রানি করা,বিরক্ত করা কোন সুপুরুষ এবং ভালো পরিবারের ছেলের কাজ নয়। আদনানকে চুপ দেখে ইলমা ভ্রু কুঁচকে বলে, “কী হলো?”
“ভুল করেছিলাম। অনুতপ্ত আমি। তওবা পড়েছি আর কী?”
“কী জঘন্য ছিলো ব্যপারটা।”
আদনান জবাব দেয়না। ইলমা আদনানের দিকে একনজর তাকিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। ইলমার সামান্য এড়িয়ে চলা আদনানের বুক দুমড়েমুচড়ে উঠে। অনুতপ্তে বুকটা খা খা করছে। আপাত দৃষ্টিকোণ থেকে কী জঘন্য একটা ব্যপার ইভটিজিং করা। আদনান ইলমার কাছে আসে। ইলমার দিকে তাকিয়ে নরম শীতল কন্ঠে বলে, “তুই রাগ করেছিস?”
“কেন রাগ করব?”
“ত্যাড়া কথা বলছি।”
“কিছুনা।”
“স্যরি আমি।”
“আরেহ, আমাকে স্যরি বলছ কেন? অতীত তো বাদ দিলাম। মানুষ সবসময় একরকম থাকেনা। সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।”
“বুঝলে ভালো। না বুঝলে আরো ভালো।”
আদনানের কথায় ইলমা চোখ রাঙানি দিতে আদনান ইলমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বলে, “স্যরি,স্যরি।”
“তুমি আর ভালো হলেনা।”
রাতে সবাই খেতে বসেছে। ফারিশকে বাসায় নিয়ে আসা হবে। মিলাদ পড়ানো হবে। তারেক মাহমুদের কাছে দাওয়াত দিয়ে দিয়েছে। একটা মাত্র ভাগিনা, সবাই যাতে আসে। খবরটা পাওয়া মাত্র ইনান শেখ সাফসাফা জানিয়ে দেন, “আমি কোথাও যাব না। আর না আমার বউ,বাচ্চা যাবে।”
তখন আদনান বলে, “ভালো মানুষদের বাসায় আমি যাব না। এমনিতেই ভালো মানুষদের পাশে একটু বসে, রুমে যেতে,যেতে গা চুলকানি শুরু হয়ে যায়।”
ইনান শেখ আদনানের দিকে তাকাতে আদনান ইলমার দিকে তাকায়। তার চাহনি একটু রোমান্টি টাইপের। ইনান শেখ নিজেই লজ্জা পেয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ঈশিতা তারেক মাহমুদকে বলেন, “তুমি যাবা?”
তারেক মাহমুদ বলেন, “না গেলে খারাপ দেখায়। রেডি হয়ে থেকো আমরা যাব।”
“তাহলে ফাইজাও আসুক।”
ঈশিতার কথায় ইনান শেখ বলেন, “আমরা কেউই কোথাও যাচ্ছিনা।”
ফাইজা কিছু বলার মতো পেলো না। ইলমা তখন বলে, “যাক না। ফুফুর তো দোষ নেই।”
“ওই বাসায় যাওয়ার দরকার নেই।”
“আরেহ যাক। জেঠিমার সাথে যাবে আবার চলে আসবে।”
ইলমার কথায় আদনানও সায় দেয়। ইনান শেখ আর কিছু বলেননি। সবাই যেতে তৃপ্তি আদনানকে বলে, “ভাই শোনো।”
“বল?”
“নির্মাণ কিছু বলেছে?”
আদনান চুপ থেকে বলে, “ওই শালা আমার ছোট বোনটাকে ছাড়ল না। মনে আছে সব। সময় হলে বিয়ে দেব। এর আগে শালার আশেপাশে বেশি ঘেঁষবি না।”
তখন ইলমা উঠে বলে, “নিজের যেমন বিয়ের আগে আশা ছিলো, কথা বলার;প্রেম করার। সেরকম আশা নির্মাণেরও। নিজের বেলায় পরের বোন, প্রেমযোগ্য পাত্রী আর পরের বেলায় নিজের বোন ছোট।”
“এই শালী, প্রেমিকনারী মুখ বেশি চলে তোর।”
আদনান ধমকে উঠলে ইলমা রেগে বলে, “আমার সাথে কথা বলবিনা।”
“কথায়,কথায় তুই তোকারি করবি না।”
“নিজে যে তুইতোকারি করে সেটা কী?”
“এহহ! এখন কী তোকে আমি, ‘ওগো আমার প্রেমিকনারী কই তুমি?’ বলে ডাকব?”
“প্রেমিকনারী ডাকতে বলিনি।”
“ওতো রোমান্টিক হতে পারব বা।”
“আর আসিস শাড়ি খুলার আবদার নিয়ে।”
ইলমার কথায় আদনান তৃপ্তির দিকে তাকাতে দেখে বেচারি লজ্জায় কেটে পড়ছে। আদনান ইলমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। হুট পরে ইলমার হাত এক টান দেয়। জোর কদমে রুমে এনে ইলমার হাত ছেড়ে দিয়ে ঠাস করে দরজা লাগায় আদনান। দরজার সাথে ইলমার দুই বাহু চেপে ধরে বলে, “দিনদিন বেয়াদব হচ্ছিস।”
“বেয়াদবের সাথে থাকলে বেয়াদবই তো হবো।”
“মুখেমুখে তর্ক করছিস?”
“নিজে যে আমার ভোলা ভালা ভাইকে বউ আদরের কথা শেখাও সেটা?”
“তাই বলে তুই আমার বোনকে, জামাইয়ের শাড়ি খুলার আবদারের কথা বলবি?”
“ও এডাল্ট। আর আমার ভাই সে তো বাচ্চা।”
“তোর আণ্ডাভাই আমার এডাল্ট বোনের থেকেও বেশি বুঝে।”
“চুপ।”
“তুই চুপ।”
দু’জন দু’জনকে ধমকা ধমকি করে সরে যায়। ইলমা আদনানের সাথে কথা বলেনা। অনেকক্ষণ দু’জন চুপ থাকে। আদনান নির্মাণকে কল দেয়। ইলমাকে শুনিয়ে,শুনিয়ে বলে, “বন্ধু বিয়ে করলাম দেড়মাসের বেশি। বউ আজ পর্যন্ত ভালোবাসি বললো না। উল্টো তিন বেলা নিয়ম করে ঝগড়া করে।”
“মেয়েমানুষ এমনি ভাই। তোর বোনও আমাকে নিয়ম করে তিন বেলা ভালোবাসি বলেনা।”
“এই শালা চুপ। তোর সাথে আমার বোনের বিয়ে সমর্থন করি, তাই বলে এই না যে প্রেম করবি আর আমি সেটা মেনে নেব।”
“নিজেও তো পরের বোনের সাথে প্রেম করতে।”
“মেলিচা আমার কাজিন ছিলো।”
“তৃপ্তি আমার বন্ধুর বোন লাগে।”
“আমার বোনকে ডিস্টার্ব করবিনা।”
“তোর বোনই আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।”
“হ্যাঁ, তোর বারোভাতারি চেহারায় যে মায়া বেশি সেজন্য আমার বোন তোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।”
“দোয়া দিলাম, তোর বউ যাতে এই জনমেও তোকে ভালোবাসি না বলে। তোর মতো শালা আর কোন দুলাভাইয়ের ভাগ্যে না জুটুক।”
আদনান কল কেটে দিয়ে বলে, “সবকয়টা নাটকবাজ। সব ড্রামা আমার সাথেই দেখায়।”
ইলমা শুনেও না শোনার ভাণ করে শুয়ে পড়ে। আদনান লাইট অফ করে ইলমার পাশে শোয়। ইলমাকে বলে, “ঘুমানোর সময় জামাইকে বুকে টেনে আদর করতে হয়। এতো পড়াশোনা করে সেই আক্কেলটুকুও হলো না তোর?”
“কানের কাছে চিৎকার করলে চড় মেরে রুম থেকে বের করে দেব।”
ইলমার কথায় আদনান হা হয়ে যায়। ইলমা তাকে লাথি মারার থ্রেট দিয়েছে? আজকে আদনানের বউ বেশি রেগেছে। আদনান ইলমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে নাক ঘেঁষে বলে, “তুই আমাকে চড় মেরে রুম থেকে বের করা আগে শরীরের ব্যাথায় পা দু’টো ফ্লোরে ফেলতে পারবি কিনা সেটা ভাব। কসম খোদার,আমাকে রাগাবি তো শরীরের ব্যাথা নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবিনা।”
আদনানের শান্ত মাথায় দেওয়া হুমকিতে ইলমা চুপসে যায়। আদনান মেজাজ হারিয়ে ইলমাকে ছেড়ে দেয়। নিজেই ঘুরে শুয়ে পড়ে। ইলমা আদনানের রাগ বুঝে। নিজেই এগিয়ে যায়। আদনানের গালে নিজের ঠান্ডা,নরম হাত স্পর্শ করে বলে, “এই রাগ করেছ?”
“তোর মুখ বেশি চলে।”
“আর কিছু বলবনা।”
কথাটা বলে ইলমা আদনানের গালে,ঠোঁটে, কপালে চুমু দিয়ে রাগ ভাঙায়। আদনান নিজেও ইলমাকে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। ইলমার মুখশ্রীতে অসংখ্য চুমুতে ভরিয়ে দেয়।
★★★
ইনান শেখ নিজের কাজে গেছেন। আদনান-ইলমা বাদে বাদবাকী সবাই ফাতিহার বাসায় গিয়েছে। সেজন্য পুরো বাসা ফাঁকা। আদনান আজকে আর কাজে যায়নি। ভার্সিটি গিয়েছে কিছু কাজে। ইলমা বাসায় একাই রয়েছে।
সকালে রান্নাটা শেষ করে টুকটাক কাজ সেরেছে ইলমা। ভাবছে আজকে শাড়ি পরবে। সেজন্য সাড়ে দশটার দিকে গোসল সেরে শাড়ি পরিধান করে। ইউটিউব দেখে,নিজের প্রচেষ্টায় অনেকটা সক্ষম হয়েছে সে। শাড়ি পরতে না পরতে আকাশে মেঘের ডাক পড়ে। ইলমা দৌড়ে ব্যালকনিতে যায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পরতে আরম্ভ করেছে। ইলমা দেখতে,দেখতে বৃষ্টির বেগ প্রবল হয়ে যায়। ইলমা বৃষ্টিতে ভেজার লোভ সামলাতে পারেনি। দৌড়ে গার্ডেনে যায়। শাড়ি পরিধান করেই বৃষ্টিতে ভেজা শুরু করে।
বৃষ্টিতে ভিজে যখন চুপেচুপে হয়ে যায়। তখন আগমন হয় আদনানের। বৃষ্টি মাথায় ভিজেই এসেছে। ইলমাকে শাড়ি পরে ভিজতে দেখে এক মূহুর্তের জন্য আদনানের হৃদপিণ্ড থমকে যায়। অসম্ভব লাফঝাঁপ দিতে শুরু করে। শাড়ি পড়া সুশ্রী রমণী, তার বউ। তাও এভাবে বৃষ্টি ভিজছে! আদনান শেখ আপাতত খু’ন। বাইক রেখে ইলমার দিকে এগিয়ে আসে। দু’হাতে বৃষ্টির পানি নিয়ে ইলমার চোখেমুখে ছিটিয়ে দিতে,ইলমাও আদনানের চোখেমুখে বৃষ্টির পানি ছিটিয়ে দেয়। দু’জন খুনসুটিতে মেতে উঠে। আদনান ইলমার গায়ের সাথে আঁটসাঁট হয়ে লেগে থাকা ভেজা শাড়ির ভাঁজে কোমড়ে হাত রেখে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। ইলমার লম্বা ঘন চুল বৃষ্টিতে ভিজে মিইয়ে গেছে। বৃষ্টিস্নাত মায়াবী চোখজোড়া অদ্ভুৎ সুন্দর লাগছে। আদনান নেশার ঘোরে চলে যায়। ইলমার ভেজা ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে, ঠোঁটের সবটুকু নম্রতা শুঁষে নেয়। ইলমা আদনানের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিতে আদনান শুধায়, “আমার প্রেমিকনারী আমায় কখনো ভালোবাসি বলেনি।”
আদনানের কথায় ইলমা তাকায় ঠোঁট জোড়া কিছুটা কেঁপে উঠে। ভালোবাসি বলা খুব সহজ হলেও ইলমার কাছে এই বাক্য উচ্চারণ করা ভীষণ কঠিনতম।
আদনানের প্রতি ইলমার, সেই ভালোবাসা যা কখনো মুখে বলা হয়নি। কিন্তু চোখের ভাষায় ফুটে উঠেছে। নিঃশব্দে ভালোবেসে,আশা রেখেছে যা কেবলই গোপন আকাঙ্ক্ষা রুপে ছিলো।
আদনানের আবদার পূরণ করতে ইলমা ছন্দ তুলে বলে উঠে,
❝আকুল হৃদয়ের নীরব চাহনি
অপূর্ব রুপে মাখে আশা,
আমার গুপ্ত প্রেমের সুপ্ত পিয়াসা।❞
(পরের অংশ পার্ট ৫১-৬০)
https://www.facebook.com/share/p/1Ce6gagf65/
আজকে সবাই মন্তব্য দিয়ে যাবেন। দীর্ঘ দুমাসের জার্নি ছিলো আদনান-ইলমার জুটি। মাঝেমধ্যে ছোট পার্ট দেওয়া হবে পেজে। সেজন্য এক্টিভ থাকবেন। নতুন গল্পের জুটির সাথে পরিচিত হতে সবাই এক্টিভ থাকবেন পেজে। সবশেষে আপনাদের ভালোবাসা❤️ এই জার্নিটা অসাধারণ করার পেছনে আপনাদের অবদান বেশি। প্রতিটা পার্ট শেষে সুন্দর মন্তব্য আমার লেখার আগ্রহ বাড়াতো। আপনারা জোশ এবং জোশ। ভালোবাসা অবিরাম।❤️
এই গল্পের সব পার্টের লিংক
https://www.facebook.com/share/p/12HpEugeuDf/
ইলমা-আদনানকে নিয়ে লেখা বই “বুকপকেটের মায়াবিনী” অর্ডার করত ম্যাসেজ দিন
https://www.facebook.com/share/153ciYupU5/
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

