#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_২২
#সমৃদ্ধি_রিধী
হোসনেআরার ঘরের দরজা আটকে রুমঝুম, পুনম, জাইমা, জেরিন খাটে বসা। রুমঝুম বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদছে। পুনম জেরিন, জাইমার মুখের দিকে তাকিয়ে পুনরায় রুমঝুমের দিকে তাকায়। রুমঝুমের মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। পুনম পানি খেয়ে গলা ভেজায়। রুমঝুমকে বলে,
“এভাবে কেঁদে কি হবে? লাভ আছে কোনো? তুমিই তো না বলেছো। একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিবে না? এমন বোকামি তো আমিও করি না।”
“আমাকে সেদিন ওইভাবে মেরেছে কেনো? না মারলে কি আমি না বলতাম? সব ওই আরিপ্পার দোষ।”
জাইমা রুমঝুমের কাছে এসে বলে, “আরিফ ভাইয়া তোমাকে মেরেছে? কেনো?”
রুমঝুম বললো সবটা। পুনম মুখ কুচকে বলে,
“ব্যথা পেয়েছো না অনেক?”
“তো?”
পুনম মুখ কুচকে বলে, “সত্যিই আরিফ তোমাকে মেরেছে?”
“হ্যাঁ।”
পুনম মুখ কুচকে বলে, “তুমি তাও ওকে ভালোবাসো? বিয়ে করতে চাও?”
“হ্যাঁ।”
“আত্মসম্মান নেই তোমার?”
“তুমি বুঝবে না।”
“তোমার গায়ে হাত তুললো, ও এখন অন্য জায়গায় বিয়ে করছে সেই শোকে তুমি মরে যাচ্ছো। পাগলের কারবার এনা!”
“বললাম না তুমি বুঝবে না?”
“তোমার মামা আমাকে মারা তো দূর! আমার গায়ে একটা টোকা মারলেও আমি বিয়ে করতাম না। আর তুমি শলার বাড়ি খেয়েও বিয়ে করতে চাও?”
“মনে হয় নতুন বাড়ি খেয়েছি?”
পুনম চোখ বড় বড় করে বলে, “আগেও খেয়েছো?”
“কত খেলাম আরিফ ভাইয়া, ইসরাত আপুর মার।”
“মার খেয়েও রিলেশনে ছিলে?”
“রিলেশনে থাকাকালীন মার খাইনি। মানে দুইবার খেয়েছি, রিলেশনে যাওয়ার আগে কাজিন হিসেবে উড়াধুরা মাইর খেয়েছি। বড় ভাই হিসেবে মারতো তখন।”
“উড়াধুরা মার খেয়ে রিলেশনে গিয়েছো? মনে হয়নি যে ছেলে খালাতো বোনকে মারে তার সাথে কিসের প্রেম?”
“আরেহ আমার আরিফ ভাইয়ার মার খাওয়ার অভ্যাস আছে। ওর কত রিমোট কন্ট্রোল কার ভেঙেছি তারপর মাহাদী, আমি, রিমি আপু মার খেয়েছি।”
পুনম রুমঝুমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
“তোমাকে তো বোন বলে বোঝাতে পারবো না। আমি বলি শোনো। মা এইসব মাইর দেওয়া ছেলেকে বিয়ে করার জন্য কাঁদতে নেই। আল্লাহ তোমাকে বাঁচিয়েছে মা। আরিফ তোমাকে বিয়ের পর আরো মারতো। এখনই বেঁচে গিয়েছো শুকরিয়া আদায় করো। ওকে সাপোর্ট করে, ভালোবেসে তুমি ভায়োলেন্ট, এগ্রেসিভ বিহেভিয়ারকে সমাজে প্রোমোট করছো। ওকে ভুলে যাও।”
“তুমি মামাকে রেখে আরেক লোক বিয়ে করো। মামাও সমাজে ভায়োলেন্স ক্রিয়েট করে। হুদাই থাপ্পড়ায়, হুদাই চিল্লায়।”
পুনম উঠে গেল। “যে বোঝে না তাকে বোঝানো যায় না। তোমার কথা শুনে আমার বমি পাচ্ছে ছিহ। এমন মার খাওয়ার পরও ভালোবাসা থাকে? থু! আল্লাহ আসলেই বমি পাচ্ছে।”
রুমঝুম নাক টেনে বলে, “তোমার মনে হয় সুখবর আছে। আলহামদুলিল্লাহ।”
জাইমা অবাক হয়ে বলে, “এত তাড়াতাড়ি?”
পুনম বিকৃত ভঙ্গিতে বলে, “কিসের সুখবর? যা তা কথা বলবে না একদম।”
“তোমার সুখবর তুমি রাখো। বমি বমি পেলে মামাকে জানাও। কিন্তু আরিপ্পা কিভাবে বিয়ে করতে পারে? আমাকে আম্মু, আপু কিছু বলেওনি। ওই তৌহিদা ভালো না খালামণি বলেছে। আরিফ ভাইয়া তাও কিভাবে ওকে বিয়ে করছে? কালকে এনগেজমেন্ট,
শুক্রবার নাকি বিয়েও। ও পারবে আমাকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করতে? ভালোবাসতে?”
পুনম বিরক্ত হয় ভীষণ। রুমঝুমকে বলে, “তোমাদের মধ্যকার সমস্যা তোমরা সলভ আউট না করে শুধুশুধু জেদ দেখাচ্ছো কেনো? আমাদের কাছে কেঁদে লাভ কি? তাছাড়া তুমি না আরিফকে বুঝিয়েছো ওকে বিয়ে করার জন্য?”
“আরিফ ভাইয়া জানে না আমি কেমন? বলদামি মনে হয় প্রথম করেছি? আগেও কত করেছি। সবসময় আমাকে বুঝিয়েছে, এবারও বোঝালে কি হতো?”
জাইমা বলে, “তুমি বলছো আরিফ ভাইয়া তোমাকে বোঝাতে যায়নি?”
রুমঝুম চুল খামচে ধরে কাঁদতে থাকে। জেরিন বলে,
“তোমাদের রিলেশন নাকি বহুদিনের? ঠিক কতদিনের?”
“ছয় বছর।”
“ওওহ আল্লাহ গো! আমরা বুঝলামও না। তোমরা তো সেই রকমের ডাকাত।” জাইমা মাথায় হাত দিয়ে বলে।
“চুপ কর।”
পুনম বলে, “আমি এতদিন তোমার মামার সাথে অনেক তর্ক করেছি এটা বলে বাপ বউ পিটায় বলে কি ছেলেও পিটাবে নাকি? এখন দেখছি ওদের কথা ঠিক। আরিফও তোমাকে মারে। তোমার মামা কথা অনুযায়ী আরিফ তো ওর বাপের মতোই হলো না? তুমি আবার বড় আপার মতো সাপোর্টও করছো।”
“আন্দাজে কথা বলো না তো! আরিফ ভাইয়া মোটেও খালুর মতো না। আমার থেকে ওকে তোমরা বেশি চিনবে?”
“খালুও খালামণিকে থাপ্পড় মারে, আরিফ ভাইয়াও তোমাকে মারে। একই হলো না?” জেরিন বলে।
“আরিফ ভাইয়া কঠিন মাইর আমি, ইসরাত আপু, রিমি আপু, মাহতাব ভাইয়া, মাহাদী ভাইয়া সবাই খেয়েছে। এগুলো কমন ছিল। বড় খালামণির বাসায় যাওয়া মানেই আরিফ ভাইয়া, ইসরাত আপুর মার খাওয়া। আমার তাই গায়ে লাগে না।”
“বড় আপা কিছু বলতো না?” পুনম বলে।
“খালামণি পরে কঠিন মার দিতো। আরিফ ভাইয়া আগে ভাই হিসেবে যেমন ছিল, রিলেশনে যাওয়ার পর পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল। আগে পান থেকে চুন খসলেই দিতো, রিলেশনে যাওয়ার পর ফুলের টোকাও দেয়নি। আরিফ ভাইয়ার সাথে আমার রিলেশন আমার সতেরো বছর বয়স থেকে। সতেরো থেকে তেইশ বছর পর্যন্ত আমাকে আরিফ ভাইয়া প্রতি পদে পদে সাপোর্ট করেছে। আমি কত খারাপ টাইম ফেস করেছি জানো? আরিফ ভাইয়া সবসময় সাপোর্ট করে গিয়েছে। আমাকে কখনো কিছুতেই না করেনি। আমি কত জ্বালিয়েছি, কতকিছু করেছি কিছুই বলেনি। ওর আইডি আমার ফোনে টিপিক্যাল গার্লফ্রেন্ডের মতো লগ ইন করা ছিল। চেয়েছি, দিয়েও দিয়েছে। আমাকে কিছুই বলেনি। মানে ফুল প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট যাকে বলে।
রিলেশনে যাওয়ার পর মাইর খেয়েছি দুইবার। কেনো জানো? ভার্সিটিতে ডান্স পারফরম্যান্স করেছিলাম সিনিয়রের সাথে। ও আমাকে নিষেধ করেছিল, তারপরও ওকে অনেক ইয়ে সিয়ে করে মানিয়ে টানিয়ে করেছি। পরে যখন নাচের ছুতোয় ওই সিনিয়রের ব্যাচ টাচের স্বীকার হয়ে আরিফ ভাইয়ার কাছে গিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেছি তখন আমাকে দিয়েছে স্টিলের স্কেলের দিয়ে দুটো বাড়ি।”
পুনমের গায়ে হাত তোলার বিষয়টা পছন্দ হলো না। বলে, “অন্যভাবেও শাসন করা যেতো না? গায়েই হাত তুলতে হবে কেনো?”
“তোমার কাছে কেমন লাগলেও আমার কাছে কমন তো! বোধ হওয়ার পর থেকেই আরিফ ভাইয়ার মার খাই।”
“কাজিন হলেও মারবে কেনো? তুমি নরমালাইজ করেছো বলেই আরিফ মারার সুযোগ পায়।”
“পরে অনেকবার সরি বলে কান ধরে ওঠবস করেছে না?”
“কান ধরে ওঠবস করলো আর হয়ে গেল? কিসব কথা বলো?”
জাইমা জেরিন চিৎকার করে বলে, “আরিফ ভাইয়া কান ধরে ওঠবস করেছে? আরিফ ভাইয়া? আমাদের আরিফ ভাইয়া?”
রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। পুনম মুখ কুচকে বসে থাকে। নওশাদের সব ভাগিনা, ভাগ্নি পাগল; পুনম এটা চোখ বন্ধ করে স্বীকার করবে। এইসব টক্সিক, মারপিট ওয়ালা ভালোবাসার থেকে নওশাদ পুনমের সংসার ঢের ভালো। মিষ্টি, মিষ্টি, সুখী দাম্পত্য। এত পিটাপিটিও নাই, কান ধরে ওঠবস করাও নাই। গাল ফুলাবে, নওশাদ সেই ফুলা গালে চুমু খাবে, খোঁচা খোঁচা দাড়ি ঘষে পুনমের গাল জ্বালিয়ে দিবে, পুনম তারপর আবার গাল ফুলাবে, নওশাদও আবার চুমু খাবে এটার চাইতে মজাদার সংসার হয় নাকি?
জাইমা বলে, “তারপরের কাহিনি বলো?”
“আর আরেকবার মেরেছে এখন। এখানে আসলেই আমার দেষ। আরিফ ভাইয়া আমাকে কতবার জিজ্ঞাসা করেছে সব বলার জন্য। যদি বলে দিতাম তাহলে কি এত কিছু হতো?”
“অন্যভাবেও কথা আদায় করতে পারতো আরিফ।”
“কতবার ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করেছে। আমি বলে দিলেই হতো। আমারই দোষ। আর অন্যভাবে কিভাবে বের করবে? আমাদের কি বিয়ে হয়েছে যে জোর করে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে কথা বের করবে? কিস করে কথা বের করবে? টাচিং ফাচিং বিয়ের আগে না। আর কিভাবে বের করতো? আমি যে ঘাড়ত্যাড়া মেয়ে, মাইর না খেলে জীবনেও বলতাম না।”
“আরিফ ভাইয়া তোমাকে কখনো জড়িয়ে ধরেনি? এই ছয় বছরে?” জেরিন বলে।
“হাতই ধরেনি, জড়িয়ে ধরা তো অনেক দূরে। অনেএএএএক। বিয়ের আগে কিসের জড়িয়ে ধরা, হাত ধরা? ছিহ!”
“রিং দেয়নি?”
“বিয়ের পর দিবে বলেছে। আমাকে আংটি পড়ানোর কথা ওর। ও নাকি ওই তৌহিদাকে পড়াবে।”
পুনমের আসলেই বমি পাচ্ছে সব কথা শুনে। “আচ্ছা ধরো আরিফের সাথে তোমার বিয়ে হলো। তারপর আরিফ তোমাকে মারলে?”
“জীবনেও মারবে না। জীবনেও না। আরিফ ভাইয়া আগে আমাদেরকে কিভাবে মারতো মাহাদীকে জিজ্ঞাসা করো। আগে আমি যে কারণে মার খেয়েছি, রিলেশনে যাওয়ার পর তার চেয়েও শতগুণ বেশি বাঁদরামি করেছি। আরিফ ভাইয়া ফুলের টোকাও দেয় নি বলেছি না? কাজিন আরিফ ভাইয়া আর বয়ফ্রেন্ড আরিফের মাঝে আকাশ পাতাল তফাৎ। আমরা একে অপরকে যেভাবে টেকেল দিয়েছি আমাদের বাপ মাও ওভাবে দেয়নি। আরিফ ভাইয়া জেদ করে বিয়েটা করতে চাচ্ছে জানি আমি। আরিফ ভাইয়া পার্টনার হিসেবে বেস্ট। এখন কাজিন হিসেবে মারলেও কবুল বলার পর মুহুর্ত থেকে আরিফ ভাইয়া আমাকে সবার কাছ থেকে প্রোটেক্ট করবে আমি জানি।
আর যদি বিয়ের পর মারেও আমি কি বসে থাকবো? এখন মারলেও লজিক্যালি ও আমার বড় ভাই। বড় ভাইয়ের গায়ে তো হাত তুলতে পারি না। আমাকে আম্মু বড়দেরকে সম্মান করা শিখিয়েছে। বিয়ের পর যদি মারে! ধরো একটা থাপ্পড় দিলে আমি চারটা দিবো। কিন্তু আমি শতভাগ শিওর আরিফ ভাইয়া হাসবেন্ড হলে জীবনেও এমন করবে না। পুরুষ মানুষ বিয়ের আগে এক, পরে আরেক হয়। খালুকেও টাইট দিতে পারতো। আমি কেনো যে বললাম না! আল্লাহ!”
পুনম মনে মনে ভাবছে বিয়ের আগে যে এমন বিয়ের পর কি বদলে যায়? জেরিন বলে,
“তুমি যে বিয়ের পর, বিয়ের পর করছো আরিফ ভাইয়ার তো শুক্রবারে বিয়ে। তাও তৌহিদার সাথে।”
রুমঝুম জেরিনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার কাঁদা আরম্ভ করে। পুনম জেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
“নীলও তোমাকে মারে?”
“আল্লাহ না। নীল অনেক ভালো। রুমঝুম আপু বেহায়া আর ছোট থেকে আরিফ ভাইয়ার মার খেতে খেতে ওর কাছে নরমাল লাগলেও আমার তো এইসব নরমাল লাগে না।”
পুনম হাত বাড়িয়ে বলে, “বুকে আসো। একজনকে তো পেয়েছি আমার মতো।”
জেরিন হেসে পুনমকে জড়িয়ে ধরে আবার সরে যায়। জাইমা পুনমের হাত জড়িয়ে ধরে বলে,
“মামি একটা কথা বলি?”
“বলো?”
আগের জায়গায় সরে যায়, “থাক পরে বলবো।”
পুনম মনে মনে বলে, “পাগল!”
রুমঝুম বলে, “মামাকে বলো না আরিফ ভাইয়াকে বোঝাতে। ওর বিয়ে হলে আমি পাগল হয়ে যাবো। পুরো পাগল হয়ে যাবো।”
“আরিফ তোমার মামার কল রিসিভ করছে না।”
“আরিফ ভাইয়া, ইসরাত আপু সবার সাথে যোগাযোগ করা অফ করে দিয়েছে।” জাইমা মুখ কালো করে বলে।
“রিমি আপু আর ইসরাত আপুর কত ভালো সম্পর্ক জানো? রিমি আপুর সাথেও কথা বলে না। সব রুমঝুম আপু আর আরিফ ভাইয়ার জন্য হয়েছে।” জেরিন বলে।
“তোরা আরিফ ভাইয়াকে বোঝা না? ও সবার উপর অনেক রেগে আছে।” রুমঝুম বলে।
“পারবো না।”
“আমি বলে দিচ্ছি মামি! আরিপ্পা যদি এই শুক্রবারে তৌহিদাকে আসলেই বিয়ে করে আব্বুর হাতে একটা ছেলে আছে ওকে আমি তার পরের শুক্রবারেই বিয়ে করবো। এক বছরের মধ্যে আরিপ্পাকে মামা বানিয়ে বাচ্চার গু মুত কাঁচাবো ওকে দিয়ে।”
পুনম উঠে যায়। ওর বিরক্ত লাগছে এইসব শুনতে। রুমঝুমকে আরেকদিন জিজ্ঞাসা করবে ও ডার্ক রোমান্স পছন্দ করে কিনা! মেয়েটা অনেক ডার্ক রোমান্সের সিরিজও বোধহয় দেখে। নাহলে এতটা নরমাল মনে করছে কি করে! পুনমের তো ভালো লাগছে না। রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে বলে,
“আমি রান্না করি গিয়ে। তোমরা কথা বলো। তোমার মামা আবার দশটার ভিতর খেয়ে ফেলে।”
পুনম বেরিয়ে গেল। নওশাদকে সব বলতে হবে। নওশাদের কাছ থেকে বুঝতে হবে যে রুমঝুম যা নরমাল বলেছে তা কি আসলেই নরমাল? নাকি পুনমের মনের ভুল? নাকি পুনম মন বেশি নরম যে এইসব আচরণ ওর ভালো লাগে না। পুনম তো রুমঝুমকে বোঝানোর চেষ্টা করলো। না বুঝলে কি! নিজে না বুঝলে জোর করে তো আর বোঝাতে পারবে না।
পুনমের ভাত বসিয়ে মনে হলো রুমঝুমের কথা শুনে ওর মেজাজ অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছে। অনেক সিরিয়াস মেজাজ খারাপ। রাগ লাগছে ভীষণ। মারপিট নাকি কমন? থু! আবার জেদ করে বিয়েও করবে দুজন। মাথা মুন্ডুর ভালোবেসে একে অপরকে। মুখে ভালোবাসি, ভালোবাসি না বললেও আরিফ, রুমঝুমের অবস্থা থেকে পুনম-নওশাদের অবস্থা অনেক ভালো। অন্তত নওশাদের প্রতি পুনমের টান এতটাই বেশি নওশাদকে ছাড়া ও অন্য কাউকে কল্পনায়ও আনতে পারে না। আর ওরা জেদ করে সত্যিই বিয়ে করে ফেলছে! আবার থুতু।
_________________
ওরা চলে গিয়েছে ঘন্টাখানেক হবে। পুনম রান্নাঘরে কাজ করার সময় দরজা খোলার শব্দ পায়। ঘড়ির দিকে তাকায়। সাড়ে দশটা বাজে। নওশাদ দরজা বাহিরে থেকে তালা লাগিয়ে জবার বাসায় গিয়েছিল। পুনম গলার স্বর উঁচু করে বলে,
“এসেছেন?”
“জ্বি।”
পুনম চুলায় ডাল গরম করতে বসায়। ডিম সিদ্ধ করে রেখেছে, ডিমের খোসা ছাড়িয়ে নেয়। দুটো প্লেটে ভাত বাড়ে। পুনম গলার স্বর উঁচু করে বলে,
“টেবিলে আসুন, ভাত দিচ্ছি।”
পুনম সব টেবিলে নিয়ে রাখে। হাত মুখ ধুয়ে এসে নওশাদ চেয়ার টেনে বসে। প্লেটে ডিম সেদ্ধ দেখে বলে,
“ডিম সেদ্ধ করেছো কেনো?”
“কেনো কি সমস্যা?”
“কালকে না আমি বেগুন নিয়ে এসেছি?”
“হ্যাঁ তো?”
নওশাদ বিরক্ত হয়ে বলে, “তোমাকে না বলতাম আজকে ডিম ভাজি আর বেগুন ভাজি করার জন্য?”
ঝাঁঝালো কণ্ঠে পুনম বলে, “বেগুন ভাজি করতে কত তেল লাগে জানেন? বাপ দাদার তেলের ফ্যাক্টরি আছে তো দুইদিন পর পর খালি বেগুন ভাজি করবো? মাসের শেষে কোনো ভাজি টাজি খাওয়া হবে না। ডিম সেদ্ধ করেছি, ডাল করেছি ভদ্র মানুষের মতো খেয়ে উঠে যান। দুদিন পর পর শুধু বেগুন ভাজি, ডিম ভাজি, আলু ভাজি। এখন এইসব ভাজি টাজি করা হবে না। সঞ্চয়ী হতে হবে। সংসার চালানো অনেক কষ্টের। আপনি হিসেব না করে চললেও আমাকে তো হিসেব করে চলা লাগবে। বেতন না পাওয়া অব্দি ভাজি টাজি সব অফ। বুঝেছেন?”
নওশাদের মনে হলো কেউ ওর উপর বুলডোজার চালিয়েছে। ভাতের সাথে নওশাদের বাপের জন্মেও ডিম সেদ্ধও খায় না। অন্য কেউ দিলে এখন দিতো এক বাজখাঁই ধমক। কিন্তু ধমক দেওয়ার আগেই ধমক খেয়ে চুপ করে গেল। বহুত কষ্টে কোনো মতে ভাত, ডিম সেদ্ধ গিলছে। খাচ্ছে বললে ভুল হবে। পুনম খেতে খেতে বলে,
“মনে বিরুদ্ধে গিয়ে খাচ্ছেন মনে হয়?”
নওশাদ মেকি হাসে। “মনের বিরুদ্ধে গিয়ে খাবো কেনো?”
“তাহলেই ভালো।”
নওশাদ প্লেটে আঙুল নাড়ে। ওর ইনকামে সংসার চলে, তাও সাংঘাতিক পরিমাণ হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। বুলডোজারের জোর এতটাই বেশি ছিল নওশাদের মুখ থেকে এখন কিছু বেরও হচ্ছে না। নওশাদ আরো মনে মনে পরিকল্পনা করেছে নিজে বিসিএস দেয়নি তো কি হয়েছে? পুনমকে দেওয়াবে। কোনো মতে পুনমের যদি হয়ে যায়, তারপর যদি পুনম ইনকাম করা শুরু করে, এই মেয়ে যে কিপ্টার কিপ্টা নওশাদকে আজীবন ডিম সেদ্ধ দিয়েই ভাত খেতে হবে। এখন ডাল জুটে, পরে তাও জুটবে না। কোন কুক্ষণে যে পুনমকে রান্না শেখাতে গেল! এখন ওর নিজের কপাল নিজেরই থাবড়াতে মন চাচ্ছে। কোনো মতে এক লোকমা ভাত মুখে দিয়ে এক ঢোক পানি গিলে ডিম সেদ্ধ দিয়ে ভাত খাওয়া শেষ করে।
পুনম পানি খেয়ে বলে, “এতক্ষণ কি করছিলেন?”
“আরিফের বিয়ে নিয়েই কথা হচ্ছিলো।”
পুনম সব বলবে মনে করেও কেনো যেন বললো না। মাথা ঠান্ডা করেছে অনেক কষ্টে, আবারও রাগ উঠবে ওর। পুনম বলে,
“যাবেন না?”
“হুম যাবো। নতুন শাড়ি আছে না তোমার? রেডি হয়ে থাকবে।”
“আচ্ছা। তবে আরিফ জেদ করে ভুল করছে।”
“রুমঝুম গাধামি করেছে। এখন তুমি বলো তোমার মেজাজ এত খারাপ কেনো?”
পুনম টিকতে না পেরে সব নওশাদকে বললো।
“আচ্ছা এটা কি ঠিক? এটাকে ওরা ভালোবাসা দাবি করে? এত রাগ উঠেছে আমার! আপনি কিছু করুন না?”
নওশাদ পানি খেয়ে বলে, “ওদের মরা ওদেরকে টানতে দাও। আমি কারো ঝামেলায় নেই। আমি ঝামেলা সলভ করতে যাই, পরে সব দোষ হয়ে যায় আমার। যত দোষ, নওশাদ ঘোষ। সেজো আপাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। সেজো আপা আমাকে বাংলা সাবান ছাড়া ধুয়ে দিয়েছে। আমার এত শখ নেই সবার ঝাড়ি খাওয়ার। আমারও একটা ব্যক্তিগত জীবন আসে।”
পুনমের খাওয়া শেষ। নওশাদ বলে, “তুমি কি মাছ, মাংস রান্না ভুলে গিয়েছো?”
“না তো?”
“না ভুললে রান্না করোনি কেনো? বাজার নেই?”
“এক পদের মাছ আছে আর মুরগি আছে।”
“রাঁধলে না কেনো?”
“প্রতিদিন কিসের মাছ, মাংস খাওয়া? সঞ্চয়ী হতে হবে।”
আবারও ঝাঁঝালো কণ্ঠস্বর। নওশাদ ঠান্ডা গলায় বলে, “আচ্ছা ডিম সেদ্ধ কেনো? ডিম ভুনাই করতে? ডিম সেদ্ধ দিয়ে ভাত খাওয়া যায়?”
“আমার মেজাজ খারাপ, আমি ভাত খেতে দিয়েছি সেটা কত না! আবার ডিম সেদ্ধ নিয়ে কমপ্লেইন করছেন? ডিম ভুনা করতে মশলা কষাতে তেল লাগে না? টাকশাল আছে তো ঘরে?”
“মাশাল্লাহ আমার ইনকাম তো খারাপ না। তেল শেষ হলে কেনা যাবে না?”
“টিভি কেনার জন্য টাকা জামাচ্ছি জানেন না? টিভি কেনা লাগবে। তেলের পিছনে টাকা খরচ করতে পারবো না।”
“তোমার খেতে কষ্ট হয়নি?”
“টাকা জমানোর জন্য আমি না খেয়েও থাকতে পারি।”
“এত টাকা জমাবে কেনো?”
“টিভি দেখবো। টিভি কিনবো। বড় টিভি। ইউটিউব চালানোর মতো টিভি। বুঝেছেন?”
“তেলের দাম কত? তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।”
“আপনি কিন্তু আমার মাথা আবার গরম করে দিচ্ছেন। মাথা গরম হলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দিবো কিন্তু। বিষয়টা পছন্দ হচ্ছে না আমার।”
নওশাদ উঠে গেল। হাত ধুয়ে রুমে চলে যায়। পুনম চোখ রাঙিয়ে নওশাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। মাথা গরম করে দেয় এই নোয়াখাইল্লা বেডা। ফেনীর মধু না এটা। ফেনীর করলা একটা।
________________
আটটা বাজে। বড় কনভেনশন হলে বিরাট আয়োজন। বড় বড় লোকেদের আনাগোনা। তৌহিদা, আরিফ স্টেজে দাঁড়ানো। আরিফের মুখ শক্ত। তৌহিদা একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। ছেলেটা ওর বন্ধু। আরিফের সামনেই ছেলেটা তৌহিদাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। হাত দুটো আবার তৌহিদার কোমর ছুঁয়েছে। আর তৌহিদা খুব স্বাভাবিক। হেসে হেসে, হেলে দুলে কথা বলছে। এখন পর্যন্ত দশ পনেরোটা ছেলের সাথে তো তৌহিদার কোলাকুলি হয়েছেই, যারা সবাই ওর ফ্রেন্ড। আরিফের ফরমাল শার্ট-প্যান্ট, ব্লেজার৷ প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে সোজা হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ইসরাত স্টেজের সামনে সোফায় বসা। ওর পাশে শাওন। শাওন মুখ কুচকে বলে,
“ভাইয়া ভুল করছে না? কি মেয়ে দেখেছে তোমার বাপ নিজের ছেলের জন্য?”
ইসরাত জবাব দিলো না। ওর কান্না আসছে। শাওন বলে, “রিমির সাথে দেখলাম চেঁচামেচি করেছো। কেনো?”
“এমনিতেই।”
“এত জেদের কারণ কি আমাকে বলো তো? তোমার আব্বা গালিগালাজ করেছে কেনো সেটাও বলোনি। তোমার মুডও অফ কয়েকদিন ধরে। ঘটনা বলো আমাকে।”
“বাসায় গিয়ে বলবো।”
শাওন পাশে তাকায়। হাসনাহেনা, আলামীন দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। শাওন মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। শ্বশুরকে দেখে আগে যে শ্রদ্ধা ভক্তি কাজ করতো এখন তা আর করে না।
রিমি আর ওর আব্বু এসেছে। জাইমা, জেরিন, জিসান নওশাদ, পুনমের সাথে এসেছে। বেলীও তিন ছেলেসহ এসেছে, জুঁইও সপরিবারে এসেছে। শুধু আসেনি বকুল, রুমঝুম, জবা আর মোতালেব।
রহমান রিমিকে বলে, “আরিফের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ভালো লাগলো না।”
“হুম।”
“আরিফ আরেকটু ভদ্র পরিবারে বিয়ে করতে পারতো। ছেলে হিসেবে আরিফ অমায়িক।”
“তোমার আরিফ ভাইয়াকে ভালো লাগে?”
“ভালো না লাগার মতো কিছু আছে? আদব-কায়দা ভালো, ভদ্র সবই ভালো।”
“না এমনিতেই বললাম।”
রিমি এক আঙুল দিয়ে আরেক আঙুলের নখ খুঁটে। ফারহানের সাথে কালকে রাতে আরিফ, রুমঝুমের টপিক নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। ইসরাতের সাথে কথা বলতে গিয়েছে। ইসরাত এড়িয়ে গিয়েছ, রাগারাগি করেছে। তার উপর রুমঝুম পাগল হয়ে গিয়েছে। কি একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা!
পুনম, জাইমা, জেরিনের সাথে বসা। জাইমা, জেরিন তো তৌহিদার বিহেভিয়ার, ড্রেসআপ দেখে ওকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলছে। তৌহিদা একটা গ্রাউন পড়েছে, তাও হাতা কাটা। জাইমা বলে,
“তোমার ওর ড্রেস দেখে গা জ্বলছে না?”
পুনম ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। জেরিন বলে,
“আরিফ ভাইয়ার উচিত থাপ্পড় দেওয়া। বাংলাদেশকে আমেরিকা ভেবেছে মনে হয়। বিশ্রি।”
“দেখ কিভাবে ছেলেগুলো এসেই হাগ করছে? মুসলিম পরিবারের মেয়ে হয়ে এমন কি করে হয়? আমাদের আপু এর থেকে হাজার গুণে ভালো। থু।”
পুনমের খারাপ লাগছে আসলেই। মেয়ে কি বেশি ঔদ্ধত্য আচরণ করছে।
কিছুক্ষণ পর মাইকে এনাউন্স করা হলো, আংটি পড়াবে তৌহিদা, আরিফ একে অপরকে। সব লাইটিং ওদের দিকে। পুনম নওশাদের সাথে দাঁড়ানো। নওশাদের মুখ শক্ত। নওশাদ রেগে আছে পুনম বুঝে। পুনমের খারাপ লাগছে হুট করেই। পুনম নওশাদের হাত ধরে। নওশাদ পুনমের হাতের উপর হাত দিয়ে চাপা স্বরে বলে,
“এখানে সবার সামনে হাত ধরো না। তোমার ভাগিনা, ভাগ্নিরা হাড়ে বজ্জাতে বেয়াদব। কোন সময় ছবি তুলে ফেলবে, ভিডিও টিডিও করে উল্টাপাল্টা গান লাগিয়ে মজা নিবে টেরও পাবে না।”
পুনম নওশাদের হাত ছেড়ে দেয়। যে লাইটিং করেছে! পুনমের ভীষণ চোখ লাগছে। তৌহিদার বোন বিশাল বক্তৃতা দিয়ে আরিফকে আংটি পড়িয়ে দিতে বলে। আরিফ অনেকক্ষণ আংটিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তৌহিদা বলে,
“পড়াও। সবাই দেখছে।”
আরিফ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো নিচের দিকে। আব্বু, আম্মু, মায়ের পরিবারের সবাইকে দেখে জেদ চেপে গেল। রুমঝুমের প্রতিও রাগ লাগে। আরিফ তৌহিদার হাত ধরে। ওর ঘৃণ লাগছে। বড় করে শ্বাস ফেলে তৌহিদাকে রিং পড়িয়ে দিলো। পড়িয়ে সাথে সাথেই হাত ছেড়ে দিলো। তৌহিদার গায়ে লাগে। তৌহিদা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“হাসছো না কেনো?”
আরিফ শক্ত মুখে তাকিয়ে থাকে। তৌহিদা একগাল হেসে সবাইকে দেখে ক্ষীণ স্বরে আরিফকে বলে,
“রিং পড়িয়েছো এখন একটা কিসও তো করতে পারো! না হাসো তবে এখুনি একটা কিস করো। আমার একটা প্রেস্টিজ আছে।”
আরিফ তৌহিদার হাত পুনরায় ধরলো। হাত উঁচু করে মুখের সামনে ধরে। তবে কিস করতে পারছে না। কয়েক মুহুর্ত হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তৌহিদা আবারও দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“হচ্ছেটা কি?’
আরিফের চোখে রুমঝুমের চেহারা ভাসে। আরিফের মনে হচ্ছে রুমঝুম ওর কাছে কৈফিয়ত চাইবে, “তুমি আমার হক ওই পাদ তৌহিদাকে কেনো দিলে?”
পরক্ষণেই আরিফের মনে হলো যা হচ্ছে রুমঝুমের জন্য হচ্ছে। তৌহিদার হাতের উল্টোপিঠে ঠোঁট ছোঁয়াবে তখন জাইমা চেঁচিয়ে উঠে।
“আরিফ ভাইয়া মামি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছে।”
আরিফ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। নওশাদ পুনমকে ধরে ওর গালে চাপড় মারছে। আরিফ তৌহিদার বামহাত ছেড়ে দেয়। ডান হাতে থাকা আরিফের আংটি নিয়ে নিজে হাতে পড়ে নিলো।
“এনগেজমেন্ট ডান।”
নওশাদ পুনমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। জেরিন বলে,
“সত্যিই আলহামদুলিল্লাহ নাকি?”
জাইমা বলে, “মনে তো হয়।”
আরিফ বলে, “হসপিটালে নেওয়া উচিত না?”
মাহতাব পুনমের পালস চেক করে বলে, “হসপিটালে নিতে হবে না। প্রেশার লো। মামি খাওয়া দাওয়া করে না?”
পানি ছিটানোতে পুনমের জ্ঞান ফিরে। পিটপিট করে তাকায়। নওশাদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “না খেয়ে টাকা জমানো বের করছি আমি।”
পুনমকে বসানো হয়। জুঁই বলে, “বাবুরে একটু হাসপাতালে নিয়ে যাস। গাইনি ডাক্তার দেখাস তো একটা।”
নওশাদ কটমট চোখে তাকায় পুনমের দিকে। হুদা হুদা গাইনির কাছে গিয়ে টাকা খরচ করবে কেনো? গাইনির কাছে যাওয়ার মতো কিছু হয়নি। নওশাদের টাকা গাছে ধরে তো শুধু শুধু ব্লাড টেস্ট, আল্ট্রা করবে? পুনম মাথা ধরে উঠে বসে। মাহতাব বলে,
“দরকার নেই। মামি খাওয়া দাওয়ায় অনেক অনিয়ম করে। তাই এমন হয়েছে। টেনশনের কিছু নেই।”
জাইমা জেরিনকে বলে, “আলহামদুলিল্লাহর খবর নেই মনে হয়।”
জেরিন বলে, “মাহতাব ভাইয়া লজ্জায় নাও বলতে পারে।”
“না, হবে না। মামির তো সপ্তাহ আগেই পিরিয়ড হলো।”
তৌহিদা আরিফের পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
“থার্ডক্লাসের মতো বিহেভিয়ার করেছো তুমি। মাথা ঘুরেই তো পড়েছে, এমন ভাব করেছো কেনো? আমার এনগেজমেন্ট পুরোটা ভেস্তে দিলো। তোমার থার্ডক্লাস ফ্যামিলির জন্য আমি কেনো সাফার করলাম? আজাইরা। থার্ডক্লাস ফ্যামিলি, তুমিও থার্ডক্লাস।”
আরিফ তৌহিদার দিকে তাকায়। মনে মনে বিশ্রি একটা গালি দিয়ে সেন্টার থেকেই বেরিয়ে গেল।
চলমান…..
(মন্তব্য করে যাবেন। ভেজাল লিখতে লিখতে পাগল হয়ে যাচ্ছি। যেভাবে ভেবেছি সেভাবেই লিখবো, তবে আপনাদের মন্তব্য পেলে আমার লিখতে সুবিধা হয়। হ্যাপি রিডিং)

