#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_৩১
#সমৃদ্ধি_রিধী
আরিফ মহোদয়ের সকালে ব্যুরোতে যেতে হয়েছিল। ওখানের কাজ শেষ করে ও ঝড়ের গতিতে বাসায় চলে যায়। সেখান থেকে একেবারে রেডি হয়ে পাঠাও রাইড দিয়ে মসজিদে আসার পথে ঘটে বিপত্তি। মেইড রোডে বাইক এক্সিডেন্ট হয়। বিপদ খুব অল্পের উপর দিয়েই চলে গিয়েছে। বাইকার পায়ে ব্যথা পেয়েছে, প্লাস্টার করতে হয়েছে। আর আরিফের ডান হাত ভেঙে গিয়েছে। আপাতত আরিফের হাত গলায় ঝুলানো। সাথে ওর মোবাইলও ভেঙ্গে গিয়েছে।
আরিফ হসপিটাল থেকে মাহতাবকে কল করায় মাহতাব আরিফকে নিয়ে এসেছে। ভাঙা হাত নিয়ে রুমঝুম আর আরিফের গাড়ির সামনে ফটোশুট করা হয়নি। রুমঝুমের মনই খারাপ হয়ে গিয়েছে। কোনো ফটো না তুলেই সরাসরি বিয়ে পড়ানো হয়। আরিফ তো কাবিননামার স্বাক্ষরও করেছে বাম হাতে। মাঝে আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। আরিফ আর নওশাদের মধ্যে মারাত্মক ঝামেলা হয়েছে।
আরিফের এক কথা। “আপনার জন্য আমার এখন এই অবস্থা। আপনি চাননি বলে এত বাঁধা এসেছে। নিশ্চয়ই নামাজ কালাম পড়ে দোয়া করেছেন যাতে আমার বিয়েটা না হয়।”
“থাপ্পড় খাবি কিন্তু।”
“আপনি একজন সম্মানীয় সিআইডি অফিসারের গায়ে হাত তুলতে পারেন না।”
নওশাদ সাথে সাথে গালে একটা চড় মারে। আরিফ ফুঁসে উঠে।
“আমি আর জীবনেও আপনার বাসায় যাবো না।”
“যাস না। তোকে বাসায় নেওয়ার জন্য আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি না।”
“এমন মামা আমি বাপের জন্মেও দেখি নাই।”
“তোর বাপের জন্ম হয়েছে কয়দিন যে দেখবি।”
“আপনি মামা হওয়ার যোগ্য না।”
“তুই ভাগিনা হওয়ার যোগ্য। একশোতে দুইশো?”
“বেটার দ্যান ইউ।”
“পাগলের সুখ মনে মনে।”
“শিক্ষক নামের কলঙ্ক।”
“জালিয়াতি করে সিআইডি অফিসার হয়েছিস।”
“আপনি আমার সাথে এভাবে ঝগড়া করছেন কেনো? মনে হচ্ছে আপনি আমার বন্ধু?”
“তুই আমার পিছনে পড়ে আছিস কেনো?”
“আর থাকবো না পড়ে।”
“আল্লাহ বাঁচিয়েছে।”
“পিছনে না পড়ে এখন থেকে সামনে পড়ে থাকবো। দেখে নিয়েন কিভাবে।”
“বেয়াদব।”
পুনম যদি নওশাদকে টেনে অন্যপাশে না নিয়ে যেতো তবে ওদের ঝামেলা চলতেই থাকতো। বিয়ে পড়ানোর পর আরিফ এবং রুমঝুম কমিউনিটি সেন্টারে যায়নি। বড়রা সবাই কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছে, কিন্তু ওদের দেখাদেখি কাজিন গ্রুপের আর কেউ-ই যায়নি। আরিফ, ঝুমঝুমসহ সবাই সরাসরি আরিফদের বাসায় চলে এসেছে। পুনমও আসতে চেয়েছিল কিন্তু নওশাদ দেয়নি।
বাসায় আসার পর ইসরাত আরিফকে ভাত খাইয়ে দিয়েছে। রুমঝুম ইসরাতকে ওকেও খাইয়ে দিতে বললেও ইসরাত জেদ করে খাইয়ে দিলো না। রুমঝুম মুখ কালো করে বসে ছিল অনেকক্ষণ। পরে ইসরাত আবার এসে খাইয়ে দিয়ে যায়। আরিফদের বাসার ড্রয়িংরুম অনেক বড়। সবাই গোল হয়ে বসা। আরিফ, রুমঝুম সোফায় বসা। বাকিটা কার্পেটে বসা। ইসরাত ঘুমাতে চলে গিয়েছে। শাওন সেন্টারে। আরিফ শুরু থেকেই চুপচাপ ছিল। রুমঝুম জাইমা, জেরিনের সাথে কথা বলতে বলতে আরিফের দিকে তাকায়। আরিফ সোফার হাতলে মাথা রেখে, বুকের উপর ভাঙা হাত রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রুমঝুম আরিফের ঝুলে থাকা পা কোলে তুলে নেয়। তাহিয়া বিরক্ত হয়ে বলে,
“ওকে উঠতে বলো।”
রুমঝুম ঠোঁটে আঙুল চেপে বলে, “হুশ, ঘুমাচ্ছে ঘুমাক।”
“ঘুমাতে হবে কেনো এখন? রাতে কি করবে?” জাইমা বলে।
“বুঝো না?” জেরিন শয়তানি হাসি দিয়ে বলে।
রুমঝুম চোখ রাঙিয়ে তাকায়। “দেখছিস না হাত ভেঙে ফেলেছে। আর কি?”
জেরিন, জাইমা আর আরিফকে ডাকলো না। আরিফ তিন ঘন্টা রুমঝুমের কোলে পা দিয়ে ওভাবেই ঘুমিয়ে উঠলো। “এর সাথে হিসেব রাতে আছে। এখন নিশ্চিন্তে ঘুমাক একটু,” এসব ভেবেই রুমঝুম মনেমনে পৈশাচিক হাসি দেয়।
______________________
পুনম বাসায় ফিরার পর থেকেই নওশাদের সাথে কথা বলছে না। কপাল কুচকে বিছানায় শুয়ে মোবাইল টিপছে। নওশাদ পুনমকে লক্ষ্য করে ভালো মতো। দরজা লাগিয়ে, লাইট নিভিয়ে বিছানায় বসে। পুনম নওশাদের দিকে কোনো প্রকার পাত্তা না দিয়ে মোবাইল টিপতে থাকে।
নওশাদ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে, “রেগে আছো কেনো?”
পুনম জবাব দিলো না। নওশাদ বলে, “আরিফদের সাথে যেতে দেইনি বলে রাগ?”
“নাটক কম করেন।”
নওশাদ অন্ধকারে হাসলো। চিৎ হয়ে শুয়ে পুনমের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। পুনম রেগে গিয়ে বলে,
“আমার মোবাইল নিয়েছেন কেনো?”
“আমার কথা শুনো।”
“শুনবো না।”
“আরিফের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে দেখোনি? তাও তুমি যেতে চাচ্ছিলে কেনো?”
“আপনার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে তো আমি কি করবো? জাইমা, জেরিন সবাই গিয়েছে। আমিও সবার সাথে মজা করতাম। তা না করে বুড়োদের মাঝে সেন্টারে নিয়ে বসিয়ে রেখেছিলেন।”
“এত মজা করতে হবে না।”
“স্বৈরাচার।”
“ভালো। মামি হয়েছো, সম্মানে বড়। ওদের সাথে সবসময় হেহে করো বলেই তো বোকা বানাতে পারে। একটা ওয়েট নিয়ে চলতে হবে না?”
“এত ওয়েটের দরকার নেই। বয়সের তুলনায় ডাক বড় হয়ে গিয়েছে। ভালো লাগে না।”
“ওয়েট বজায় রেখে চলতে হয়, নাহলে বুঝো না তোমাকে বোকাসোকা পেয়ে কিভাবে পঁচায়।”
“আরিফ ঠিকই বলে। আসলেই প্যাঁচ লাগায়।” মনে মনে বলে পুনম উঠে যায়। লাইট জ্বালিয়ে টেবিলের কাছে যায়। নওশাদ আধশোয়া হয়ে বসে।
“কি করছো? টেবিলে কি?”
পুনম স্কেল নিয়ে নওশাদের সামনে আসে। নওশাদ কপাল কুচকে বলে,
“স্কেল এনেছো কেনো?”
“আপনি না ফেল করলে আপনার স্টুডেন্টের হাতে মারেন?”
“জ্বি?”
পুনম হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “ওদের মতো আমাকে একটা দিন তো।”
“কেনো?”
“দিন আগে।”
“তুমি তো আমার স্টুডেন্ট নও। কেনো মারবো তাহলে?”
“আমি বলেছি তাই। আমি আপনার শক্তি পরীক্ষা করতে চাই।”
“না, আমি মারবে না।”
“আমি বলেছি মারবেন।”
“না।”
“আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি।”
“এভাবে সেধে কে মার খায়?”
“আমি ওদের কষ্টটা ফিল করতে চাই।”
“এত দরদী হতে হবে না।”
“দিবেন কিনা?”
“তুমি কেঁদে দিবে।”
“আমি বাচ্চা?”
“কমও না।”
“আপনি দিবেন কিনা বলুন। আমি নাহলে ঘুমাবো না সারারাত।”
নওশাদ স্কেল হাতে নিয়ে বলে, “শিওর?”
“হ্যাঁ। ঠিক ওদেরকে যেভাবে দেন সেভাবে।”
“দাগ পড়ে যায় কিন্তু।”
“এটাই তো চাই।” পুনম মনে মনে বলে। কিন্তু মুখে বলে,
“সমস্যা নেই।”
“না থাক।”
“আমি আপনার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিবো।”
নওশাদ দিলো ওভাবে বাড়ি যেভাবে ফেল্টুশগুলোকে দেয়। পুনম একটা বাড়ি খেয়েই হাত ঝাড়তে থাকে। এই বদ নাকি সবাই আবার দুটো করে দেয়! পুনমের নওশাদের ছাত্র ছাত্রীর কথা ভেবে কান্না পেলো। তাড়াতাড়ি করে লাল হয়ে উঠা হাতের ছবি তোলে। নওশাদ বলে,
“ছবি তুললে কেনো?”
হাত ঝাড়তে ঝাড়তে পুনম বলে, “বড় ভাইয়াকে পাঠাবো। বলবো দেখো ধরে বেঁধে কার সাথে তুলে দিয়েছো? আমি একটু শনি আঁখড়া আসতে চেয়েছি তাই আমাকে মেরেছে। আমাকে কোথাও যেতে দেয় না, পড়তে দেয় না। কিছু চাইলেই মারে। শরীরের আরো জায়গায় দাগ আছে, সবগুলোর ছবি দেওয়া যাবে না। তাই শুধু হাতের ছবি দিয়েছি। এরপর আপনি দেখবেন মজা। আমাকে ঘরে আটকে রাখা না? দেখাচ্ছি মজা।”
নওশাদ বোকা বনে গেল। খাট থেকে উঠতে উঠতে বলে,
“তবে রে!”
নওশাদকে আসতে দেখে পুনম এক ছুটে দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নওশাদও পিছন পিছন যায়। একটু পর সারা ড্রয়িংরুম ওরা ছোটাছুটি করে। যেন পুনম চোর, নওশাদ পুলিশ। পুনমকে সহসাই নওশাদ ধরে ফেলে। এমন মজা করার জন্য শাস্তিও দিয়েছে, যদিও পুনমের কাছে সেই শাস্তি শাস্তিই মনে হয়নি।
______________________
রাত সাড়ে এগারোটা বাজে। আরিফ আধশোয়া হয়ে খাটে বসে আছে। ভাঙা হাতের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মরার হাতটাকে আজকেই ভাঙতে হলো? কাবিননামায়ও বা হাতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এত বাজে হয়েছিল! বিছানায় ফুল ছিটিয়ে রাখা। মেঝেতে ফুল ছিটিয়ে রাখা। লাভ কি এইসব ফুলের? এই ফুল দিয়ে, ভাঙা হাত নিয়ে এখন রুমঝুমের সাথে ছোটবেলার মতো ফুল ছোড়াছুড়ি খেলতে হবে। আরিফ আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
নুপুরের শব্দে আরিফ ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায়। রুমঝুম হাসনাহেনার সাথে কথা বলতে রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। হাতে একটা প্লেট। আরিফ তাকিয়ে থাকে। হাসনাহেনা চলে যায়। রুমঝুম শান্ত ভঙ্গিতে ধীরে পা ফেলে রুমে আসে। দরজা বন্ধ করে বেড সাইড টেবিলে প্লেট রাখে। আরিফ দেখে তাতে আপেল, আঙুর রাখা। রুমঝুম সাড়াশব্দ না করে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। মাথা থেকে ঘোমটা খুলে রাখে। ক্লিপ খুলে চুলগুলো আরিফের চিরুনি নিয়ে সময় নিয়ে আঁচড়ে পিঠে ছড়িয়ে দেয়। চুড়ি খুলে কানে পিছনে চুল গুঁজে আরিফের মুখোমুখি বসে। হাতে প্লেট নিয়ে আপেল কাটতে থাকে।
আরিফ কপাল কুচকে রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে থাকে। রুমঝুম আপেল কাটতে কাটতে বলে,
“হাতটা কি করে ভাঙলো?”
“বলেছি না বাইক থেকে পড়ে গিয়ে।”
“বাইক থেকে পড়লে কি করে?”
“এক্সিডেন্টে।”
“সাবধানে আসা যেতো না?”
“এটাই কি আমার হাত আছে?”
“ফোন বন্ধ ছিল কেনো?”
“রাস্তায় উল্টে পড়ে ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”
রুমঝুম আরিফের মুখের সামনে এক পিস আপেল ধরে। আরিফ খেয়ে নেয়। রুমঝুমও এক পিস আপেল মুখে নিয়ে চিবোতে থাকে। আরিফকে আরেক পিস আপেল খাইয়ে দেয়। বলে,
“ছুটি নেই?”
“না।”
“এই ভাঙা হাত নিয়ে যাবে?”
“যেতে হবে।”
“ওহহ।”
“কয়টায়?”
“আটটায়।”
“ওহহ।”
আরিফকে আপেল, আঙুর খাওয়ায়, ফাঁকে ফাঁকে দু এক পিস খেয়ে খালি প্লেট বেড সাইড টেবিলে রেখে রুমঝুম বলে,
“ওয়াশরুমে যেতে হবে?”
“না।”
“ওকে।”
রুমঝুম উঠে গেল। আরিফ রুমঝুমকে মেরুন রঙের শাড়ি পড়ে সারা ঘরময় ঘুরঘুর করতে দেখে স্বস্তি পায়। কেনো পায় কে জানে! তবে ভীষণ স্বস্তি পায়। রুমঝুমের হাঁটার গতির সাথে নুপুরের শব্দও শোনা যাচ্ছে। রুমঝুম সাথে আনা জামাকাপড়ের ব্যাগ বিছানায় তুলে। ব্যাগে চেইন খুলে বলে,
“শুয়ে পড়ো।”
“তুই?”
“ড্রেস চেঞ্জ করে আসছি।”
আরিফ একহাতেই বালিশ ঠিকঠাক শুয়ে পড়ে। জানালা, বারান্দার পর্দা টেনে দিয়ে রুমঝুম রুমেরও লাইট নিভিয়ে দেয়। পুরো রুমে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আরিফ জিজ্ঞাসা করে,
“কি করছিস? এমন অন্ধকার করেছিস কেনো?”
“শাড়ি পাল্টাচ্ছি।”
আরিফ সোজা হয়ে শুয়ে পায়ের উপর পা তুলে ভারী শ্বাস ফেলে। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও রুমঝুমের সাড়াশব্দ নেই। আরিফ কপাল কুচকে অনেক কষ্টে আবারও আধশোয়া হয়। তখনও চুড়ির শব্দ পেলো। সাথে সাথে গ্যাসলাইটার জ্বালানোর শব্দও পেলো। সাথে সাথে একটা মোমবাতি জ্বলে উঠে।
আরিফের শ্বাস আটকে যায়। রুমঝুম পুরো ঘরে অনেকগুলো মোমবাতি জ্বালিয়ে ফেলে। মেসি হেয়ার বান করা। ব্লাউজের গলা অত্যাধিক হারে বড়। আরিফ আর রুমঝুমের পেট, কোমরের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলো না। ওর চোখ বোধহয় ঝলছে গিয়েছে। রুমঝুম ফিরলো আরিফের দিকে। হাতে মোমবাতি। আরিফের চোখ মোটামোটি ডিম্বাকৃতিক। ঢোক গিললো, ওর আলাভোলা নিব্বি খালাতো বোন থেকে সদ্য বউ হওয়া শাড়ি পড়েছে না টিস্যু?
রুমঝুম আরিফের দিকে এগিয়ে এলো। পায়ের নুপুরের শব্দ ভীষণভাবে আরিফের কানে লাগছে। রুমঝুম হাতে থাকা মোমবাতিটা বেডসাইডে টেবিলে রাখে। আরিফের চোখ পড়ে রুমঝুমের বিউটি বোনের উপর থাকা তিলে। রুমঝুম প্লেট থেকে ছুরিটা নেয়। আরিফের দিকে তাকায়। আরিফ আবারও ঢোক গিলে। এভাবে নুড কালারের লিপস্টিক দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? রুমঝুম আরিফের অনেকটা কাছাকাছি বসে। ছুরির ডগা দিয়ে আরিফের কপাল থেকে নাক পর্যন্ত আলতো করে স্লাইড করে। আরিফ পলকহীনভাবে তাকিয়ে থাকে।
রুমঝুম একটা নিলজ্জের মতো একটা হাসি দিয়ে বলে,
“আমাকে কেমন লাগছে মিস্টার আরিফ?”
আরিফ পলক ঝাপটে বলে, “সুন্দর, এই ব্লাউজ কোথায় পেয়েছিস?”
“আমার ডিজাইন করা। কোথায় পাবো আর?”
আরিফ ঢোক গিলে। বড় গলা, ছোট নেটের হাতা, এইসব কি ডিজাইন করে এই মেয়ে? বকুল যখন ফ্যাংশন ডিজাইনিং পড়ার বিপক্ষে ছিল এবং ভর্তি ফি আর টিউশন ফি দিতে নারাজ ছিলো তখন এইসব শেখার জন্য নিজের প্রথম ইনকামের টাকা দিয়ে রুমঝুমের এডমিশন ফি আর প্রথম টিউশন ফি দিয়েছিল আরিফ? প্রথম ইনকামের টাকার তো জানাজা পড়ে দিলো। আরিফের সেই টাকার জন্য বড্ড মায়া লাগলো।
“ডিজাইন ভালো লাগেনি?”
“ভালোই কিন্তু এখন এইসব কেনো পড়েছিস?”
রুমঝুম ছুরি সরিয়ে নেয়। আরিফের গালে আঙুলের ডগা আঁকাআকি করে বলে, “আমি না তোমার বউ সোনা? বউকে কেউ তুই করে বলে? তুমি করে বলতে হয় না?”
আরিফের মনে হলো ও উল্টাপাল্টা কিছু খেয়েছে, নাহলে রুমঝুম উল্টাপাল্টা কিছু খেয়েছে। রুমঝুম আরিফের গালে আঙুলের বুলিয়ে দিয়ে বলে, “তুমি করে কথা বলবে, ঠিক আছে? এখন কি বলছিলে বলো।”
“এখন এটা পড়েছো কেনো?”
“কোনটা?”
আরিফ ঢোক গিলে বলে, “এই পাতলা শাড়িটা? এই খোলামেলা ব্লাউজ?”
আরিফের শার্টের বোতামে হাত রেখে রুমঝুম লাজুক হাসি দিয়ে বলে, “কেনো? পড়লে কি হবে?”
“আমার তো হাত ঠিক নেই।”
“হাত ঠিক থাকলে কি হতো?”
“বুঝো না কি হতো?”
“না তুমি বলো কি হতো?”
আরিফ ঢোক গিলে। খাপছাড়া গলায় বলে, “এসিটা একটু ছাড়ো তো।”
রুমঝুম এসি ছাড়ে। আরিফের কাছে এসে বসে। আরিফ রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে হাসফাস করে উঠে। বাম হাত দিয়ে শার্টের প্রথম বোতাম খুলে ফেলে। বড় বড় করে দু’বার শ্বাস ফেলে। রুমঝুম আরিফের গা ঘেষে বসে।
মুখে, গলায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, “সেদিন তো আমার ভার্সিটির সামনে গিয়ে বড্ড ভাব দেখাচ্ছিলে। আমাকে চিনতেই পারছিলে না?”
“মজা করেছিলাম।”
“আমাকে দেখেই মাহতাব ভাইয়াসহ চলে গিয়েছে। অনেক মজা করেছো। এত বড় মজা কেউ করেইনি।”
রুমঝুম আবারও বেহায়ার মতো হাসি দিয়ে বলে,
“আচ্ছা সুন্দর লাগছে না আমাকে দেখতে?”
“খুব।”
“আর কেমন লাগছে?”
“অনেক, অসম্ভব সুন্দর লাগছে।”
“কি করতে ইচ্ছে করছে?”
“তোমার কপালে একটা চুমু খাই?”
রুমঝুম হেসে বলে, “চুমু খাবে?”
আরিফ মাথা ঝাঁকায়। রুমঝুমের হাসি হঠাৎ থেমে গেল। আরিফের শার্টের কপাল মুঠোয় নিয়ে ওকে ঝাঁকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“তোর এমন কয়জনকে সুন্দর লাগে রে? হ্যাঁ? কয়জনকে সুন্দর লাগে? কয়জনকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে?”
আরিফ ভ্যাবাচ্যাকা খায়। রুমঝুম প্লেট থেকে ছুরি নেয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“এত যখন চুমু খেতে ইচ্ছে করে, একে ওকে শুধু চুমায়তেই মন চায়! এক কাজ করি ঠোঁট দুটো কেটে ফেলি। না থাকবে ঠোঁট, না থাকবে চুমু খাওয়ার ইচ্ছা।”
রুমঝুম সত্যি সত্যি ছুরি নিয়ে আরিফের ঠোঁটের দিকে হাত বাড়ালে আরিফ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। রুমঝুম চোখ গরম করে তাকিয়ে বলে, “আজকে আমি কাটবোই।”
আরিফ চোখ বড় বড় করে দুদিকে মাথা নাড়ে। রুমঝুম আরিফের বুকে থাবা দিয়ে বলে, “ঠোঁটে ঠোঁট চেপে লাভ নেই তো। তোর কি শুধু ঠোঁট কাটবো? তোর আরো কি কি কাটবো তুই শুধু দেখ।”
আরিফ মাথা পিছিয়ে চোখ বড় বড় করে বলে,
“আর কি কাটবি?”
রুমঝুম আরিফের বাম হাত নেয়। অনামিকা আঙুল মুচড়ে ধরে বলে,
“তুমি সেটা ভাবছো সেটাই কাটবো।”
আরিফ চোখ বড় বড় করে তাকায়। রুমঝুম আরিফের আঙুল আরো জোরে মুচড়ে ধরে, উল্টে দিয়ে বলে,
“খুব শখ না আংটি পড়ার? তাও অন্য কারো?”
আরিফ আর্তনাদ করে উঠে, “ব্যথা পাচ্ছি, ব্যথা পাচ্ছি। ছাড়।”
“তুই করে কেনো বললি?”
“ব্যথা পাচ্ছি, ছাড়ো, ছাড়ো।”
“তো ব্যথা পাওয়ার জন্যই তো এভাবে ধরেছি। খুব মজা লেগেছিল না তৌহিদার হাত থেকে আংটি পড়তে? গ্র্যান্ড এনগেজমেন্ট না?”
রুমঝুম ছুরিটা নিয়ে বলে, “এই আঙুলই আমি রাখবো না।”
“ভাই ভাই তৌহিদা পড়ায় নাই আমাকে। আমি নিজে পড়েছি।”
রুমঝুম আরিফের গালে, চাপ দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে বলে,
“তোমাকে কেনো বিশ্বাস করবো বাবু? হাতে দেখেছিলাম তো আংটি।”
“আমি নিজে পড়েছি রে ভাই।”
রুমঝুম তড়িৎবেগে আরিফের ঠোঁট দুটো চেপে ধরে। ছুরি নিয়ে বলে, “এটা তো কাটবোই। চুমু খেয়েছিলিস না ওর হাতে? আমাকে জ্ঞানের কথা বলতি, হারাম, হালাল ওমাগো! ও বাবাগো! তৌহিদাকে দেখে হরমোনকে কন্ট্রোল করা যায়নি না?”
আরিফ নিজেকে ছাড়িয়ে বলে, “খাইনি চুমু। তার আগেই মামি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।”
“মামি অজ্ঞান না হলে খেতি না? খুব শখ না চুমু খাওয়ার?”
“মামিকে তো শিখিয়ে দিয়েছিলাম সময় মতো ঘুরিয়ে পড়তে। চুমু খেতাম না।”
“মামি যদি সময় মতো অজ্ঞান না হতো? তাহলে চুমু খেতি? হটিনটি কিস হয়ে যেতো এক পর্ব?”
“খেতাম না কোনো চুমুটুমু!”
রুমঝুম ছুরি সরিয়ে ফেললো। গাল ধামচে ধরে বলে,
“কেনো করেছিস এমন?”
“তোমাকে জ্বালাতে।”
নরম কণ্ঠে বলে, “ওওওহ, বাবু আমাকে জ্বালাতে করেছো? ওরে বাবারে!”
বুকে ঘুষি মেরে বলে, “কাপল ডান্স করেছিস কেনো?”
আরিফ কুঁকড়ে ওঠে। রুমঝুম আরিফের শার্টের বোতাম খুলে। আরিফ বাম হাত দিয়ে শার্ট ধরে বলে,
“শার্টের বোতাম খুলছিস কেনো?”
“হাত সরা। ডান হাত আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে গলা ঝুলিয়েছিস। হাত সরা জলদি। বাম হাত নাহলে আমি বাইড়ায় গলায় ঝুলিয়ে দিবো।”
আরিফ হাত সরিয়ে ফেলে। রুমঝুম আরিফের শার্ট খুলে ছুরির পশ্চাৎ দিয়ে বুকে বা পাশে আঘাত করে বলে,
“বুকে মাথা রাখতে দিয়েছিস কেনো?”
আরিফ ব্যথা পায় ভালোই। “আমি প্রিপায়ার্ড ছিলাম না। আমি বুঝিনি ও এমন কিছু করবে। আমি সরিয়ে দিয়েছিলাম সাথে সাথে।”
রুমঝুম আরিফের বা হাতের অনামিকা আঙুল আবারও মুচড়ে ধরে বলে, “ওরটায় নাহলে প্রস্তুত ছিলিস না, কিন্তু তৌহিদার কোমরে হাত দিয়েছিলি কেনো? আমাকে মনে ধরে না এখন? আমি কেনো খোলামেলা শাড়ি, ব্লাউজ পড়লাম, তাই না? আর তৌহিদা যে সব দেখিয়ে দিচ্ছিলো খুব মজা লাগছিলো? বাইরের করলা মধু, ঘরের মধু করলা, তাই না?”
আরিফ রুমঝুমের ঠোঁট থেকে গলা অব্দি তাকালে রুমঝুম চোখের সামনে ছুরি তাক করে বলে,
“ওই চোখ তুল, চোখ উপরে তুল। নিচে নামলে খবর আছে। সব উত্তেজনা একদম বের করে দিবো।”
আরিফ চোখ সরায়। রুমঝুম আরিফের চোয়াল শক্ত করে ধরে বলে, “ধরেছিস কেনো ওকে?”
“তোকে জ্বালাতে। হাত সরিয়েও ফেলেছি সেকেন্ডের মধ্যে।”
“আমাকে জ্বালাতে না। বল তোর ভালো লেগেছিল? বেশি বেশি করে ছুঁতে ইচ্ছে করছিলো? ও যে শরীর দেখাচ্ছিলো ভালো লাগছিলো?”
আরিফ দুদিকে মাথা নাড়ায়। রুমঝুম বলে, “না না স্বীকার করো সোনা। তোমার তো খুব ভালো লাগছিলো। এইযে আমি খোলামেলা শাড়ি পড়েছি আমাকেও চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিস, আবার তৌহিদাকেও চোখ দিয়ে গিলে খেয়েছিস। তোর তো লেবু, আলু, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া সবকিছুর দোষ আছে।”
“আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি শুধু তোমার দিকেই তাকিয়েছি।”
“ওমাহ তাই?”
“কসম ভাই। আমি তোমাকে জ্বালাতে, আব্বাকে শিক্ষা দিতে এইসব করেছি।”
“কেনো অন্যভাবে শিক্ষা দেওয়া যেতো না?”
“না।”
“ওওওহ আচ্ছাআআআ।”
“আমি কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি। সেইজন্যই কিন্তু আমি তৌহিদাকে বিয়ে করিনি।”
“উলি বাবালে! ভালুপাশো? খুব ভালো কাজ করেছো। কিন্তু বাবু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না। আমি তোমাকে মজা করে ফেইক আইডি থেকে মেসেজ দিয়েছি। তোমার সাথে রিলেশনে গিয়েছি প্রতিশোধ নিতে। ছোটবেলায় যে উড়াধুরা মাইর দিতে ভুলে গিয়েছি আমি? একটুও ভুলিনি।”
“মানে?”
“এইযে এই রুম! এখানে কম মার খাইনি আমি। কিছু একটা করলেই চিপায় নিয়ে মারতেন। এগুলো সব ফিরিয়ে দিতে হবে না? আমি ‘গিভ এন্ড টেক’ বিষয়টাকে ভীষণ পছন্দ করি। জুতা ছুড়ে মারা থেকে খুন্তি, শলা, স্কেল আপনার হাতে কি দিয়ে মার খাইনি! সবকিছু শোধ তো এখন তুলবো। এইযে রবিবারে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন আপনি, আমি এক কথায় কেনো রাজি হলাম? আপনি তৌহিদাকে ছুঁয়েছেন, তৌহিদার সাথে ঢলাঢলি করেছেন সেগুলোর শোধ আগে নিবো, তারপর বোধ হওয়ার পর থেকে সতেরো বছরের সব হিসেব নিবো। তারপর বালুপাশাপাশি আসবে।”
ভালোবাসা শব্দটাকে বিকৃত করে কি অবস্থা করলো!
আরিফ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। রুমঝুম আরিফের চুল ধরে মুখ উঁচু করে গলায় ছুরি চেপে ধরে বলে, “একদম মেরে ফেলবো। বোধ হওয়ার পর থেকে জ্বালিয়েই যাচ্ছিস। বহুত সহ্য করেছি, এখন আমি যা বলবো যেভাবে চলতে হবে।”
“লেগে যাবে কিন্তু।”
“লাগুক। লাগলে কি হবে?”
“মরে যাবো কিন্তু।”
“মর না! এখনই মর।”
আরিফ ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। রুমঝুম আরিফের চুল টেনে বলে, “আমাকে শাড়ি দেওয়ার কথা ছিল কার? তোর না? আমাকে মামির দেওয়া শাড়ি পড়তে হলো কেনো?”
“মামিকে শাড়ি দিয়েছে কে?”
“তুমি?”
“তো? মামি নাহলে কোথা থেকে পাবে?”
“বিশ্বাস করি না আমি।”
আরিফের ডান হাত ভেঙেছে! বা হাতে কি? রুমঝুম গলা থেকে ছুরি সরাতেই আরিফ রুমঝুমের উন্মুক্ত কোমরে হাত রেখে ওকে নিজের কাছে টেনে আনে। ডান হাতে ব্যথাও পায়। রুমঝুম চমকায়। রাগে হিসহিসিয়ে বলে,
“কোমর থেকে হাত সরা আরিপ্পা। তোর সব ঠিক আছে মানলাম আমি। কিন্তু ওই তৌহিদা পৌহিদার সাথে নাচতে গেলি কেনো? আমাকে সেটা বোঝা? নিশ্চয়ই খোলামেলা পোশাক দেখে রংঢং করতে মন চাইছিল?”
“তোমাকে জ্বালাতে করেছি।”
“আমার গা থেকে হাত সরা। ওই বিশ্রি হাত দিয়ে আমার গায়ে হাত দিবি না।”
“আচ্ছা যেই শাস্তি দিবে তা মাথা পেতে নিবো।”
“দে ডান হাতের মতো বাম হাতটাও ভেঙে দেই।”
“অনেক ব্যথা বিশ্বাস কর। একটার ব্যথায় বাঁচতে পারছি না। আবার আরেকটা!”
“এই হাত দিয়েই না তৌহিদার কোমরে হাত দিয়ে ঢলাঢলি করেছিস?”
“আমি টাচ করি নাই ওকে। সত্যি, ওর কোমরে টাচ করি নাই আমি। দূর থেকে দেখতে মনে হয়েছে কোমরে হাত দিয়েছি।”
আরিফের শার্টের কলার ঝাঁকিয়ে বলে, “কেনো বিশ্বাস করবো আমি?”
“আমার জীবনে প্রথম নারী তুই, প্রথমবার ডিপলি টাচ করলাম তোকে, তোর দিকেই গভীরভাবে তাকিয়েছি। তোর পিঠের, বিউটিবোনের তিলই দেখেছি প্রথম। আর কারো দেখি নাই। কারো দিকে ওভাবে তাকাইওনি।”
রুমঝুম প্রথমে হাসফাস করে উঠলেও পরক্ষণেই আরিফের বুকে থাবা মেরে বলে, “এইসব বলে লাভ হবে না কোনো। আমি গলছি না। তুই অন্য মেয়ের সাথে নাচতে যাবি কেনো?”
“ডিউরেশন কতক্ষণ ছিল?”
“এক সেকেন্ড থাকলেও কেনো থাকবি?”
“মাহতাবকে আগেই বলেছিলাম আমি স্টেজে উঠার সাথে সাথে সাউন্ডবক্সের তার কাটতে। ও ত্রিশ সেকেন্ড কেনো সময় নিয়েছে ওকে জিজ্ঞাসা কর।”
“মাহতাব আমার জামাই নাকি তুই? কৈফিয়ত দিবে কে? তুই।”
আরিফ মাথা নুইয়ে বলে, “মাফ করে দে। নাহলে গর্দান নে।”
আরিফের চুল ধামচে ধরে বলে, “এইসব নাটক করলে বেঁচে যাবি?”
আরিফ কপাল কুচকায়। “এই তুমি কি আমাকে তুই করে বলছো? ছোটবেলার মতো?”
“বললে?”
“আমি না তোমার বড়? আমাকে তুই করে কেনো বলছো?”
“কেনো তুই করে বলাতে মারবি? ছোটবেলার মতো?”
“না মারবো না। কিন্তু বলছো কেনো?”
“এখন আমি তুই, তুমি, আপনি সব বলবো। চাইলে ছোটবেলার মতো মারতেই পারো। সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে এখন একটা দিলে আমি আরো দশটা দিবো। এখন বড় ভাইকে মারা যায় না এটা মাথায় আসবে না।”
আরিফ রুমঝুমের ঘাড়ে হাত রেখে রুমঝুমকে টেনে এনে রুমঝুমের কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,
“সরি।”
“সরি গুলে খাই?”
“তো আর কি করবো?”
“উঠো।”
আরিফ অবাক হয়ে বলে, “হুহ?”
“উঠে দাঁড়াও।”
আরিফ রুমঝুমের সাহায্যেই উঠে দাঁড়ালো। রুমঝুমকে ভালো মতো লক্ষ্য করে আরিফ। রুমঝুম আরিফের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে বলে,
“হাঁটো এভাবে।”
আরিফ রুমঝুমের কোমর জড়িয়ে ধরে। “ব্যালেন্স করতে পারবো না। হাত ঠিক থাকলে একটা কথা ছিল।”
আরিফের গলা শক্ত করে ধরে রুমঝুম বলে,
“তোমার হাত ঠিক নেই তোমার ব্যর্থতা। আমি আমার শখ তো পূরণ করবোই।”
আরিফ ভাঙা হাত নিয়েই বাম হাতে রুমঝুমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাঁটলো যতক্ষণ সম্ভব হয়েছে। রুমঝুম পরে ছেড়ে দিতে বললেও ছাড়েনি।
চলমান…..
(হ্যাপি রিডিং)

