আমার_বোবাফুল(২৬) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
65

#আমার_বোবাফুল(২৬)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

বর্ণর বাঁ হাতের কব্জিতে ব্যান্ডেজ। টনটনে ব্যাথায় ঈষৎ বেদনাসিক্ত হাত। ব্যাথা গুলো শরীর অবধি-ই সীমিত,এখনো মন কাবু করতে পারেনি।অবচেতন মনে বাঁ হাত চোখের সামনে এপিঠ-ওপিঠ করে ক্ষীণ হেসে বললো অন্যমনস্কে,

“ জানিস মাহির এই হাতে ছোট’কে প্রথমবার আমিই গুটিগুটি কদমে হাঁটতে শিখিয়েছি। পড়ালেখার বয়সে স্কুলে প্রবেশ করার আগেও আবার এই হাতের মুঠোয় তার হাত চেপে ক্লাসে দিয়ে এসেছি অগণিতবার।সেদিন এই হাতেই আমি ওকে..

বর্ণ থামল।চোখ বুজে ফেললো তড়িৎ।সেভাবেই নিজের উপর তাচ্ছিল্য হেসে অল্পক্ষণ পর ধীর লয়ে চোখ মেলে ডান হাত দেখিয়ে বললো পুণরায়,

“ ছোটবেলায় এই হাতে আম্মুর আঁচল আঁকড়ে পিছু পিছু ঘুরঘুর করতাম। আমার অভিমানিনী মায়ের মুখে কতোবার ভাতের লোকমা তুলে দিয়েছি বেহিসাবী সব। সেদিন এই হাতই আম্মুকে আঘাত করতে উঠেছিল মাহির!তুই ভাবতে পারছিস?আমি.. লিমিট ক্রস করে গেছি না?ভালো ছেলে থেকে বঞ্ছিত হয়েছি বহু আগেই, যেটুকু বেঁচে ছিল তাও সেদিন তছনছ করে দিয়ে এসেছি”

মাহির মাথা নত করে চুপ রয়।অনু পরিমাণ ইস্যুতে অ-পরিকল্পিত অ্যাগ্রেসিভ হয়ে যাওয়ার ব্যাধি আছে বর্ণ’র।এই উগ্রতা, নিষ্ঠুরতা সে পৃথিবীর যে-কারো সামনে উপস্থাপন করে আনন্দ পেলেও –কখন জানি পরিবারকে তার হিংস্র আচরণে দুঃখ দিয়ে দেবে এই শঙ্কায় বাড়ি মুখী হওয়ার মনোভাব দেখাতো না সে। অথচ সেদিন সেই শঙ্কাটাই সত্যি ফলে গেলো।
মাহিরের ধারণা, বর্ণ’র কাছে গোটা দুনিয়া একদিকে আর তার পরিবার অন্যদিকে।

বর্ণ’ নিরস গলায় বলে উঠলো আবারো,

“ এই মুখ নিয়ে আম্মুর সামনে দাঁড়াবো কোন সুখে?আব্বুকে কী জবাব দেবো?বাকিদের?নোপ.. আমি আর ফিরবো না বাড়িতে।ইয়্যু ক্যান গো নাউ!”
.
তামিজ শিকদার পারলে নিউজপেপার ঢুকে যেতেন। নেহায়েৎ সেটা অসম্ভব বলে সম্ভব হচ্ছে না। ভদ্রলোক চোখের উপর মেলে ধরা কাগজে নেত্রদ্বয় এমন ভাবে স্থির রেখেছেন, সুখের মনে হচ্ছে –এই মূহুর্তে ভুবন ভেসে গেলেও উনার কোনপ্রকার হেলদোল পাওয়া যাবে না। অবশ্য তার মন মিথ্যেও ভাবতে পারে।

খোলামেলা গার্ডেন।বাহারি ফুলের সুবাসে মাতোয়ারা চারপাশ।ওই দূরে একটি আমলকী গাছে তিনটে হলদিয়া পাখি কিচমিচ করছে।প্রকৃতিতে বইছে মৃদু কোমল হাওয়া।সেই হাওয়া ছুঁয়ে গিয়ে সুখের কপালে আঁচড়ে আসা ছোট ছোট চুল উড়িয়ে দিচ্ছে।কোমরে হাত রেখে সুখ আব্বুর পাশে দু মিনিট যাবৎ দাঁড়িয়ে আছে অথচ ভদ্রলোকের কোন নড়চড় নেই। ছোট ছোট আঁখি পল্লব ঘনঘন ঝাপ্টে তামিজ শিকদারের চোখের অগ্রভাগে হাত ঝাঁকায় সুখ। সঙ্গে উচ্চারণ করে একটি অক্ষর,

“ বাঃ ”

শব্দটি শুনতে এমন লাগে -যেনো সদ্য কথা বলতে শেখা কোন শিশু আধোঁ আধোঁ স্বরে ডাকছে।তামিজ শিকদার তড়াক করে কাগজ নামিয়ে পাশে তাকালেন।পরপরই ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফোটে,

“ আমার আম্মু নাকি?কখন এলো আমার মা-টা?”

পাশের চেয়ারে নিউজপেপার রেখে দিলেন তিনি।সুখ কথা বললো না।ট্রে থেকে চায়ের কাপ তুলে বাড়িয়ে দিলো আব্বুর দিকে।

“ কার হাতের?” —কথার ফাঁকে চায়ের কাপে চুমুক দেন ভদ্রলোক।সেসময় চোখ বুজে নিলেন।যেনো অনুভব করতে চাইছেন কিছু একটা।সুখ নিজে এক কাপ নিয়ে পাশাপাশি বসে হাতের ইশারায় জবাব করে,

“ কিন্তু আমি বানাইনি!”
“ কিন্তু আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে এই চা আমার আম্মার হাতে বানানো!”

আব্বু কিভাবে টের পেলো,তা ভেবে সুখ অবাক হলো না। কিন্তু ভেতরের আত্মাটা প্রফুল্লে নেচে-কেচে দুলে উঠলো।মৃদু হেসে সুখ ডান হাতটা বুকে চেপে চোখ বুজলো। অর্থাৎ –কৃতজ্ঞতা!

ইতোপূর্বে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।সুখ মাঝে মধ্যেই আব্বু আর বড় আব্বু বাড়ি ফিরলে তাদের জন্য নিজ হাতে একেক রকম নাস্তা বানিয়ে পরিবেশন করে।মাঝে মধ্যেই এমন হয় বিধায় বড় আব্বুর চিনে নিতে ভুল ত্রুটি হলেও কীভাবে যেনো আব্বু অনুভব করে নিতে পারে নাস্তা গুলো সুখের হাতের তৈরি।সুখ জানে না -কোন মন্ত্র বলে দিনে রাতে আব্বুর একটা মাত্র জিহ্বা অগণিত খাদ্য স্বাদ গ্রহণ করার পরও মাঝে মাঝে তার হাতের তৈরি জিনিস কীভাবে শনাক্ত করে নেয়!তিনি সুখের আব্বু বলে নাকি একটু বেশিই ভালোবাসে বলে?

হানিফা বেগম বাড়ি থেকে বের হলেন ধীর পায়ে।গায়ে জড়ানো সাদা জমিনে কালচে খয়েরী রঙা ছোট ছোট ফুল বিছানো শাড়ি।ভাঙা কোমর,ঝুলে যাচ্ছে গায়ের ফর্সা চামড়া।বড় আব্বুকে একবার বলতে শুনেছিল সুখ –সেকালে দাদু ছিল মারাত্মক সৌন্দর্যের অধিকারিণী। আশেপাশের মানুষ তো করতোই,সেই সাথে আব্বু, বড় আব্বুও নাকি রোজ দাদুর রূপের প্রশংসা করতো। তখন তাদের বয়স ছিল অল্প।

আড়চোখে একপল তাকিয়ে অন্যত্র নজর সরিয়ে আনে সুখ।তামিজ শিকদারের আপ্যায়নে হানিফা বেগম তার মুখোমুখি চেয়ারে বসে।ভার, নেতিয়ে আসা শরীর নিয়ে চার দেয়ালে আবদ্ধ হয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল না, তাই তিনি এসেছিলেন গার্ডেনে হাঁটতে।নূরাকেও সেধেছিল আসতে।পাজি মেয়েটা তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইজার রুমে ঢুকে গেছে।

সুখের মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটা বৃদ্ধার গায়ে লাগে খুব।এ যেনো তাকে অপমান করার নামান্তর!

“ মেয়ে আমার দারুন চা বানিয়েছে আম্মা।এক কাপ খেয়ে দেখো!”

তামিজ সাহেব জার থেকে চা ঢালতে গেলে সুখ থামিয়ে দেয়।বুঝাল,

‘‘ আমি দিচ্ছি!”

সুখ উঠে গিয়ে নিজ হাতে কাপে চা ঢেলে এগিয়ে দেয় দাদুর দিকে। বৃদ্ধা নেওয়ার সময় নাক কুঁচকে মুখাকৃতি এমন করলো যেনো সে একটা উচ্ছিষ্ট!
সুখ মন খারাপ করলো না।সয়ে গেছে এসব।তার ভীষণ ইচ্ছে হয় দাদুর আদর পেতে।তাকে জড়িয়ে ধরতে।জানা নেই দাদু সবার চেয়ে তাকে অন্য নজরে কেনো দেখে।এতো বৈষম্য কেনো তাও বুঝে উঠতে পারে না।
.
রাতের বেলা খাবারের পাঠ চুকিয়ে সরাসরি কক্ষে গেলো না সুখ।আব্বুকে মেডিসিন সেবন করিয়ে অনেকক্ষন পাশে বসলো।সাথে যুক্ত হলো আম্মুও। তাদের আলোচনার মূখ্য বিষয় –সুখের টেস্ট পরিক্ষা সামনে।গত দু’দিন আগে নতুন টিউটর এসেছে,নাম ইফরা!তার কাছে পড়তে অনূভুতি কেমন লাগে,সেকি ভালো করে বুঝিয়ে পড়াতে পারে, এই-ওই কথা হচ্ছে তিন জনের মধ্যে।যদিও এই বিষয়ে আরো দুবার আলোচনা হয়ে গেছে ইতোপূর্বে। একসময় সুখ বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসে।

বেখেয়ালে এলোমেলো কদম রেখে সিঁড়ি পার করছে তুহফা। হৃদয় ভার হয়ে আছে তার।আজ মাহিরকে অনেক.. অনেক বার কল করেছিল সে।অযুহাত – ভাইয়ার খোঁজ নেওয়া।মাহির কল তুলেনি প্রথম প্রথম।খানিক আগে আরেকবার ট্রাই করেছে সে,সাথে টেক্সট পাঠিয়ে দিলো,

“ মাহির ভাই আপনি কী ভীষণ ব্যস্ত?অথবা আমার কল কী আপনার বিরক্তির কারণ?”

এরপর কল ওখান থেকেই দিয়েছিল মাহির। কথোপকথনের শুরুতে বর্ণকে নিয়ে কথা হলেও মাহির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে পাঁচ শব্দের একটি অযাচিত বাক্য বলে দিয়েছে অকপটে,

“ আমাকে আর কল দিওনা তুহফা!”

ব্যাস, এটুকুই।তুহফার প্রত্যুত্তর করার সময় নেয়নি লোকটা।মুখের উপর কল কেটে দিয়েছে।

তুহফার বুকের ভেতর অসহ্যকর যন্ত্রণা হচ্ছে।জানে না কেনো; কিন্তু হচ্ছে। আচ্ছা,মাহিরের উপর এই মূহুর্তে অভিমান করলে,তা জায়েয হবে? নিশ্চয়ই না!

বাহুতে হাতের টান পেয়ে তুহফা চকিতে তাকায়। কিন্তু হাঁটা থামালো না।ধীর লয়ে এগিয়ে চললো সামনে। তদ্রুপ সুখও হাঁটলো পায়ে পা মিলিয়ে পাশাপাশি।

“ তুমি আপসেট?একটুর জন্য পা পিছলে পড়ে যেতে!”

সুখের ইশারা বুঝে তুহফা হেসে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা চালায়।

“ আরে তেমন কিছু না।একটা টপিক নিয়ে চিন্তিত!তোর না সামনে টেস্ট এক্সাম রে; প্রিপারেশন কেমন?”

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঁখিতে সন্দিহান চোখে চেয়ে রয় সুখ।ঢের বুঝেছে,তুহফা প্রসঙ্গ এড়াতে চাইছে।তাই জবাব করে ইশারায়,

“ ভালোই!”
.
অভ্র’র জ্বর নেমেছে।গলা ব্যাথাও সেরে গেছে প্রায়।গত দু’দিন ধরে তার মাঝে কোন প্রকার চঞ্চলতা দেখা যায়নি। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় হয়তো একটু শক পেয়েছে।
সুখ আর তুহফা দ্বিতীয় তলা পেরোনোর পথে তাকে দেখে গেলো।তখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল অভ্র। আজকেও নিচে খেতে যায়নি সে,সাইমা বুয়াকে দিয়ে আইজা তার রুমে পাঠিয়ে দিয়েছিল খাবার।

মাহিরের অঘোষিত রুমটায় একবার কাতর চোখে চেয়েছিল তুহফা। বন্ধ ছিল সেই রুমের দরজা।তবে তালা ঝুলানো নয়।সে সকলের অগোচরে এই রুমে মাঝে মধ্যে ঢুকে বসে।প্রতিটি কোণায় কোণায় যেনো মাহিরের ছায়া খুঁজে পায় তুহফা।

প্রচুর পড়তে হবে।সুখ বই মেলে স্টাডি টেবিলে বসে পড়ে দ্রুত।সময় রাত সাড়ে এগারোটার ঘরে।আজ থেকে রাত জেগে পড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে।আর কোনো কালকের অপেক্ষা নয়!

“কাল থেকে মনোযোগ প্রয়োগ করে পড়বো ”
–বাক্যটা মস্তিষ্কে গেঁথে নেয়ার ফলে অনেক অনেক পড়া জমা হয়েছে।পড়ার স্তুপ বললে ভুল হবে না।

কিন্তু মন বসছে না পড়ার টেবিলে। খচখচ করছে ভেতরটা। ঘুরেফিরে বার বার আনমনে নজর চলে যায় ব্যালকনির বাহিরে। নিস্তব্ধতা বিরাজমান এই রাতের শহরে ওই দূর হতে হর্নের আওয়াজ ভেসে আসতেই মস্তিষ্ক সিগন্যাল দিচ্ছে –এই বুঝি কাঙ্ক্ষিত মানুষটি ফিরলো। কিন্তু বারংবার তার ভাবনা মিথ্যে প্রমাণিত হচ্ছে।

সেদিন এক নতুন বর্ণ’কে আবিষ্কার করেছে সুখ।সেই বর্ণ ‘ছিল পূর্বের চেয়েও অন্যরকম। অদ্ভুত নিষ্ঠুর, আগ্রাসী আর হিংস্র।ওই বর্ণকে সে চায়না দুঃস্বপ্নেও। চোখের তারায় প্রতিবার ভেসে উঠছে সেদিনের দৃশ্যপট।একটু ছাড়া পাওয়ার লক্ষ্যে তড়পাচ্ছিল অভ্র অথচ পাষণ্ড বর্ণ’র মাঝে একটুও মায়া কাজ করেনি তখন। কিন্তু পরবর্তীতে কেমন নমনীয়তা মিশ্রিত আহত হয়ে উঠেছিল তার মুখশ্রী।এমন কেনো হলো?সুখের মনে হচ্ছে –দুটো চরিত্র বর্ণ’র মাঝে সূক্ষ্ম ভাবে লুকায়িত।একটা হিংস্র অপরটা কোমল!
.
বিছানায় উপুড় হয়ে মরার মতো ঘুমে আচ্ছন্ন বর্ণ। আঘাতপ্রাপ্ত পা-টা কুশনের উপর আলতো ভাবে রাখা। দুহাত ছড়িয়ে আছে বেডের দুপাশে।একটা বালিশ বুকের নিচে। খালি গা।পড়নে সামান্য ট্রাউজার ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন কাপড়ের লেশমাত্র নেই। সিলিংয়ে পুরোদমে ফ্যান ঘুরছে।বাতাসে সিল্কি চুলগুলো চোখের উপর উঠে এসেছে।

চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে এক সময় বর্ণ’র ঘুম হালকা হয়ে আসে। চোখের উপর হতে চুল সরিয়ে আলস্য দৃষ্টিতে সামনে তাকাতেই বুকের ভেতরটা যেনো আচমকাই ধ্বক করে উঠলো। চিনচিনে ব্যাথার উপদ্রব হয় অন্তঃকরণে। আসমান থেকে নেমে আসা হুর পরী যেনো তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

শরীর জুড়ে কালো শাড়ির আবরণ। ফর্সা দেহে কালো রঙটা যেনো আষ্টেপৃষ্ঠে কামড়ে ধরেছে রমণীকে।খেয়ালে হোক বা বেখেয়ালে –নজর সরিয়ে আনা দায়।কোমরের উপরিভাগ অব্দি নেমে আসা‌ খোলা চুলগুলো হাওয়ার তাগাদায় দুপাশে হুটোপুটি খেয়ে দুলছে।জানান দিচ্ছ -তারা মুক্ত পাখির মতো স্বাধীন।দু ভ্রু’র মধ্যভাগে ছোট্ট কালো পাথরের টিপ। ঘন পাপড়ি বিশিষ্ট চোখ দুটো যেনো ভয়ানক গতিতে তাকে সম্মোহিত করে নিচ্ছে ক্রমশ।কপালের একপাশে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ।ঠোঁটে নিউড লিপস্টিক।অধরে খেলে যাওয়া হাসির কারণে মুক্তার ন্যায় ঝকঝকে ধবধবে সাদা দাঁত গুলো ঈষৎ দৃশ্যমান।কঠোর শাসনে শাসিত হৃদয়ে তোলপাড় শুরু করতে এটুকুই যথেষ্ট।
বর্ণ’র গলা শুকিয়ে এলো করুণ ভাবে। মূহুর্তের জন্য চোখের পল্লবটাও ফেলতে ভুলে গেলো পুরুষটি।তার এহেন বেহায়াপনায় সম্মুখে হাস্যোজ্জ্বল মুখে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা রমণী লজ্জা পেলো বোধহয়। ঠোঁটে লজ্জা মিশ্রিত হাসি টেনে মাথা কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ফেললো। পূর্বের চেয়ে এই দৃশ্যটা আরো নিদারুণ ভাবে আকর্ষিত করলো বর্ণকে।মুখ ফেড়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে তার,

“ ফুল!..বোবাফুল!”

#চলবে🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here