#আমার_বোবাফুল(৪১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
গ্রাউন্ড ফ্লোরে ফাঁকা রুম অবশিষ্ট নেই।সুখকে রাখা হবে সেকেন্ড ফ্লোরে। রুবাইয়্যাত নিজের নিকটে, নিজেদের বেড রুমে রাখতে চাইছিলেন মেয়েকে।তামিজ সাহেবও সম্মতি দেন।পরে তুহফা বললো “সুখের সাথে সেকন্ড ফ্লোরে কোন একটা রুমে নাহয় সে-ই থাকবে”। আইজার মনে ধরলো কথা খানা।ছোট জা কে বুঝিয়ে রাজি করালেন ভদ্রমহিলা। সারাদিন মেয়ের কাছেই তো থাকবে,ব্যাস রাতের কিছু ঘন্টারই তো ব্যাপার। রুবাইয়্যাতের ভয় তখন অন্য কোথাও –আর তা হলো সাইমা।
অভ্র’র পাশের রুম পরিস্কার করা হয়েছে।বেডের চাদর পাল্টে, পারিপার্শ্বিক সকল জিনিস মুছে-ধুয়ে একদম ঝকঝকে পরিষ্কার।যদিও সপ্তাহে দুবার করে বাড়ির প্রতিটি ফাঁকা রুমগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয়।
হুইলচেয়ার সমেত সুখ ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে। অপলক চেয়ে রয় স্বচ্ছ গ্লাসে। হসপিটাল থাকা কালীন সময়ে তার সামনে আয়না তুলে ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল ডক্টরের। সেখানে থাকতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখা হয়নি।
ব্যালকনির থাই গ্লাস খোলা। বিকেলের সূর্যের ক্ষীণ রশ্মি কিছুটা রুমে এসে ঠাঁই নিয়েছে আবছা।সুখ কাঁদছে না আজ।চোখে কোন দুঃখ নেই,নেই কোন হতাশা। নির্বাক চাহনি স্থির।একবার মাথায় হাত বুলিয়ে নেয়।যেই ঝরঝরে কালো রেশমী চুলগুলো আগে পুরো পিঠে চড়ে বেড়াতো, তা এখন …
হয়না কিছু –অল্প শোকে কাতর,অধিক শোকে পাথর!সুখ বুঝি তেমন পাথরে রূপ নিয়েছে। তার বহুদিনের যত্নে গড়ে তুলা শখের চুল আর নেই অথচ তাকে একটুও হাহাকার ছুঁতে পারছে না। অথচ এই চুল তার অনুমতির চেয়ে কিঞ্চিৎ ছেঁটে দেওয়া হয়েছে বলেই একদিন কেঁদেকেটে বুক ভাসিয়েছিল।
“ সুখ পাখি এমন মন মরা হয়ে আছিস কেনো রে?দেখতে কিন্তু একটুও ভালো লাগছে না!”
তুহফা ড্রেসিং টেবিলে হেলান দিয়ে বসলো।সুখের মুখশ্রী এখন দেখা যাচ্ছে না আয়নায়।সে হাসলো শুষ্ক।
তুহফা পুণরায় বলে হতাশ কন্ঠে,
“ শুধু ঠোঁট বাঁকিয়ে অল্প একটু হাসলে হবে?হাত নেড়ে প্রাণ খুলে কথা বল!জানিস,বাড়ির প্রত্যেকে কতো মিস করেছি তোকে।রামসা, আতিফ ভাই, আসলাম পালোয়ান সবাই তোর ফিরে আসাতে কত্তো খুশি। অথচ তুই কারো সাথে কোন কথাই বললি না। দাদুর সাথেও না।তুই আন্দাজ করতে পারছিস বুড়িটাও বহুত মিস করেছে তোকে।”
হুট করে মেঝেতে নেমে এসে সুখের বরাবর হলো। চুলগুলো আলতো হাতে কপাল থেকে সরিয়ে ফ্যাকাশে হাস্য হীন মুখটা চিবুক ধরে উপরে তুলে বললো তুহফা,
“ চুল কেটে ফেলা হয়েছে দেখে মন খারাপ? দুঃখ পাসনা।সব আগের মতো হয়ে যাবে; বি কনফিডেন্স।”
নূরা এলো টমিকে নিয়ে।তুহফার কাছ থেকে নিজের দিকে সুখকে ঘুরিয়ে টমিক কোলে তুলে দিলো,
“দ্যাখো দ্যাখো.. কীভাবে তোমার কোলে চুপটি করে আছে টমি’টা।এই বজ্জাতিন আমার চেয়ে তোমায় বেশি ভালোবাসে,দেখতে পাচ্ছো ?”
সুখ আকম্মাৎ চাইলো চোখ নামিয়ে। সত্যিই টমি চুপটি করে বসে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তার চোখের দিকে মুখ বাড়িয়ে রেখেছে।নিরবে কিছু একটা বুঝিয়ে দিচ্ছে যেনো। নিষ্পাপ প্রাণীদের এই অদ্ভুদ বোবা ভাষা কিছুটা সুখ বুঝে। কেননা,তাদের সাথে অল্পবিস্তর সুখের ভাষাও মিলে যায়।
আলতো হাতে মাথায় বুলিয়ে দিতেই মুখ নুইয়ে নেয় টমি।সুখ চোখ তুলে নূরার দিকে চাইতেই বাচ্চা মেয়েটা উচ্ছাস নিয়ে বলে উঠল,
“ ওহ্ নো সুখ! তোমায় এই হেয়ার কাটে একদম বেবি বেবি লাগছে! আমার তো কিউট একটা বেবি ভেবে কুট্টুস করে কিসি দিতে ইচ্ছে করছে!”
অভ্র আসছিল দরজা থেকে এক পা ,দু’পা ফেলে।নজর ডুবে আছে ফোনে। কিবোর্ডে চলতে থাকা চঞ্চল আঙুল থমকে গেলো হঠাৎ। ভ্রু কুঁচকে মাথা তুলে সামনে তাকালো। অতঃপর দ্রুত কদমে নূরা’র পাশে এসে মাথায় গাট্টা মেরে টুলে বসে ব্যাঙ্গ করে শুধায়,
“ আয়নায় নিজের থোবড়া দেখেছিস?বাইরে বেরোলে বেবি বলে লোকে কতোবার গাল টেনে দোকানে নিয়ে ললিপপ কিনে দেয় হিসেবে আছে ফাজিল?”
বর্ণ’র কাছ থেকে কালো সানগ্লাসটা নিয়েছে আজ।মাথায় আটকানো ছিল। অভ্র’র গাট্টা সইতে না পেরে গ্লাস খানা ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেলো টুপ করে। অচিরেই ক্ষিপ্র হয়ে উঠে নূরা। অভ্র’র পেটে কিল, ঘুষি বসিয়ে বললো রাগত স্বরে,
“ হাড় কিপ্টে তুমি!নিজে কখনো কিনে দিয়েছো?”
“ এই ধানি লঙ্কা কতো বড় না-শোকর দেখেছো সুখ আপি! আমার বাবার খেয়ে, আমার বাবার টাকায় পড়ে কী না আমাকেই কিপ্টে ডাকে?একে তো গাট্টি বোঁচকা হাতে ধরিয়ে বাড়ির বাহিরে ছুঁড়ে…
চুল উড়িয়ে চোখে সানগ্লাস ঠেসে কোমরে হাত রাখে নূরা। পরপর অপর হাতে তুড়ি বাজিয়ে দাম্ভিক গলায় গম্ভীর স্বর বলল,
“ অভ্র বিহেভ ইউ্যুরসেল্ফ। ডোন্ট ক্রস লিমিট!”
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হেসে ফেললো সুখ। আগের হাসির চেয়ে এবারে প্রাণোচ্ছল দেখালো।তা দেখে অভ্র’র পেটে কুনুয়ের গুঁতো দিয়ে নূরা খুশিতে লাফিয়ে উঠে,
“ ইয়াহু.. সুখ মিষ্টি করে হেসেছে। আমার কথায় হেসেছে।”
•
বেডে শুতে চাইছে সুখ।অভ্র, তুহফা চিন্তায় পড়লো। সুখের পুরো শরীরে আঘাতের ক্ষত চিহ্ন আর প্লাস্টেড।কোথা থেকে ধরবে তারা?যদি ব্যাথা পায়?
তুহফা বলল, “ তোরা এখানে থাক আমি বরং ছোট মামাকে ডাকি!”
অভ্র হেঁটে যায়, ‘‘ আমি যাচ্ছি!”
“ কী হয়েছে?”
চেনা পরিচিত পুরুষালী গম্ভীর ভরাট স্বর। স্বরের মালিক –আসফিয়ান বর্ণ।তুহফা অবাক হবে কী হবে না দ্বিধান্বিত।প্রথমত, বর্ণ রিহার্সাল থেকে আজ সময়ের পূর্বে ফিরেছে। এখন আবার সেধে সেধে রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ‘কী হয়েছে’ জানতেও চাইছে। অথচ এমন নম্রতা মূলক ব্যবহার পুরুষটি নিজের চরিত্র থেকে বিয়োগ করেছে বহুকাল।
“ সুখকে কীভাবে বেডে তুলবো বুঝতে পারছি না ভাইয়া।একটু হেল্প করবে?”
বর্ণ শীতল চোখে প্রথমে সুখের দিকে চায়।তুহফার ওড়না খামচে ধরে আছে। নিষ্প্রাণ চোখে দুদিক মাথা নেড়ে বোধহয় ‘না’ বুঝাচ্ছে।
নির্বিকার চিত্তে মানুষটা এগিয়ে আসে।সুখ ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিচ্ছিল নিজেকে।তুহফার ওড়না ছেড়ে দেয়।
“ আমি দেখছি!” বর্ণ’র গম্ভীর স্বর।
“ ডোন্ট ওয়ারি সুখ, ভাইয়া হেল্প করবে।আ.. ভাইয়া আমাকে লাগবে?”
“ নো নিড!”
তুহফা সরে যেতেই সুখ একঝলক তাকিয়ে দৃষ্টি মেঝেতে রাখলো। ভাবমূর্তি দেখে মনে হচ্ছে আজো সে বর্ণকে ভয় পাচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ বর্ণ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে খানিক কাছাকাছি গিয়ে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে।ডান হাতের বাহুতে,মাথায়, হাঁটুতে এখনো প্লাস্টেড।বর্ণ আচমকা ঝুঁকে গিয়ে কোমর স্পর্শ করতে নিলে সুখ দূর্বল হাতে ঠেলে দিলো।বর্ণ ভ্রু গুটিয়ে এবার চোখে চোখ রাখে।সুখ নজর সরায় না বরং অন্ধের মতো স্থির নেত্রে চেয়ে রইলো। বর্ণ’র হাত ততোক্ষণে পুণরায় কোমর ছুঁয়ে নিয়েছে।
“ আমি জলন্ত আগ্নেয়গিরি লাভা নয় যে ছুঁয়ে দিলেই ঝলসে যাবে।”
অথচ তার চেয়ে কম কিছুও নয় –তা বর্ণ নিজেও জানে, এবং মানে।সুখের শরীর তখন ঈষৎ কম্পিত হলেও মুখশ্রী ছিল অনূভুতি শূন্য।
এক ঝটকায় কোলে তুলে নিতেই জড় বস্তুর মতো থম মেরে বর্ণ’কে দেখলো সুখ।চোখ কুঁচকে নিলো হুট করে। বর্ণ’র কী আসে যায় তাতে? নিসংকোচে বেডে বসিয়ে দিতে গিয়ে হঠাৎ-ই আলতো ঠোঁট ঘঁষে গেলো সুখের মসৃণ কপালে।বর্ণ ঢোক গিলল বোধকরি। আড়চোখে একপল সুখকে দেখে গটগট পায়ে প্রস্থান করলো কক্ষ।
•
শিকদার নিবাসে আজ আত্মীয়-স্বজনের ঢল। আইজা’র ভাই,বোন এবং তাদের ছেলে মেয়ে। তদ্রুপ রুবাইয়্যাতে মা, দুইবোন ও তাদের ছেলে মেয়ে।সকলে সুখকে দেখতে এসেছে। প্রতিবেশীরাও দেখে গিয়েছিল গতকাল।আজও কেউ কেউ এসেছে।
সুখের বুক অব্দি চাদর টানা।হানিফা বেগম বলেছেন ওসব ব্যান্ডেজ বাঁধা শরীরের ভাঙাচোরা জায়গা যেনো মানুষকে না দেখায়।এতে নজর লাগতে পারে। পরবর্তীতে সুখের যন্ত্রনা আরো দ্বিগুন বাড়বে। বৃদ্ধার কথা রেখেছে রুবাইয়্যাত। যথাসম্ভব আঘাতপ্রাপ্ত স্থান চাদরে ঢেকে দিয়েছেন।
অনেকেরই একটা কমন প্রশ্ন “ সুখের এমন অবস্থা হলো কী করে?”
বলা বাহুল্য,সুখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এখনো এক’কান দু’কান হয়নি।তা আজো পুলিশ স্টেশন এবং শিকদার পরিবারের মাঝেই আবদ্ধ। এবং তাদের মাঝে –যাদের হাত এর পেছনে ছিল। তন্মধ্যে একজন মিশ্মি!
মাহিরকে শিকদার নিবাসে থাকতে বলে বর্ণ বাইক নিয়ে কোথাও একটা বেরিয়েছে।জানা নেই কোন কাজে আবার কোথায় বোম ব্লাস্ট করতে গেছে।তুহফার সাথে কথা বলতে ইতিউতি করছিল ছেলেটা। অথচ বাগে পাচ্ছে না। তাছাড়া তুহফা নিজেও এড়িয়ে চলছে বিগত দু তিন মাস ধরে। অবশ্য এতে মেয়েটার কোন হাত নেই। সে-ই তো মানা করেছিল।
বাড়ি ভর্তি মেহমান।নয় বছরের নাবালক শিশু থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা পর্যন্ত এসেছে।
ড্রয়িং রুমে অভ্র এবং তার সম বয়সী ও ছোট বড় একাধিক কাজিন জমায়েত হয়েছে।তুহফাও বসেছিল।মাহির রিডিং রুম থেকে মুখ বাড়িয়ে দুবার উঁকি দিয়ে দেখতে পেয়েছে।তবে এখন দেখা যাচ্ছে না। সিঁড়ি চড়ে উপরের দিকে ওঠছে।মাহির নিজেও উঠে দাঁড়ালো।
“ তুহফা!”
আকম্মাৎ কন্ঠে নিজের নাম শুনে থমকে গেলো তুহফার পদযুগল।বুকটা চলকে উঠে ধড়পড়িয়ে। অল্পক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রয় সে। কন্ঠ টি তার ভীষণ পরিচিত। ঠোঁটে জোর পূর্বক হাসি রেখে ধীরস্থির পিছু ঘুরে।
সেকন্ড ফ্লোর। করিডোরে আপাতত দুজন ছাড়া কাউকে চোখে পড়ছে না।মাহির ইতস্তত মুখে এগিয়ে এলো।
“ কিছু বলতে চান মাহির ভাই? ”
বলতে অনেক কিছুই চাইছে মাহির।তবে, সব কী বলা যায়? হঠাৎ তুহফার এক হাত হেঁচকা টেনে পাশের ফাঁকা রুমে ঢুকে দোর আটকে দিলো।তুহফা আতকে উঠে।
“ করছেনটা কী মাহির?”
মাহির কোমল চোখে তাকাতেই চুপ হয়ে নজর সরিয়ে নেয়। শ্বাস আটকে আসছে। হৃদয় কাঁপছে; মাহির কী তা বুঝতে পারছে?
“ স্যরি.. এমন ব্যবহারের জন্য।আইজা আন্টি আসছিল। দু’জনকে একসাথে দেখলে কী না কী ভাবে!”
‘কী ভাববে?’ প্রশ্ন উদয় হলেও মুখ ফুটে করা হয়না।চোখ মুখ কঠিন করে রয়,
“ কিছু বলবেন,যেতে পারি আমি?”
মাহির গলা খাঁকারি দিয়ে লম্বা এক দম ছেড়ে তুহফার দৃষ্টিতে দৃষ্টি স্থাপন করে।কথা ভুলে গিয়ে এভাবে চেয়ে থাকলো সেকেন্ড কয়েক।তুহফা শুষ্ক ঢোক গিলে।গলা শুকিয়ে আসছে ক্রমশ।মাহিরের ওই দৃষ্টিতে কিছু তো ছিল; যা সে পড়তে অপারগ।
“ স্যরি বলার ছিল তোমায়।”
তাচ্ছিল্য হাসে তুহফা,
“ স্যরি? আমাকে? নিঃসন্দেহে আমার সাথে এমন কোন অপরাধ করেননি যার জন্য ‘স্যরি’ শব্দ’টা প্রযোজ্য!”
মলিন হেসে সজোরে উপর নিচ মাথা ঝাঁকালো মাহির। সেদিন তুহফাকে শুধু কল করতে নিষেধ করেনি।আরো একটা কথা বলেছিল। বলেছিল –“ সে একজনকে ভীষণ ভালোবাসে।তার পছন্দ নয় কোন মেয়ে ঘনঘন মাহিরকে কল করুক”!
তুহফা এক বাক্যে মেনে নিয়েছে সব।কোন জবাবদিহি,কোন প্রমাণ চায়নি। সন্তর্পণে নিজের অভ্যাস পাল্টে নিয়েছে। মাহিরকে ডিস্টার্ব করা ছেড়ে দিয়েছে।সে ততোটাও বেহায়া নয় –বিপরীত পক্ষের বারণ সত্তেও যেচে তার আশেপাশে ঘুরবে।থাকনা কিছু অপ্রাপ্তি। ভালোবাসলে কী পেতেই হবে?
তুহফা চলে আসতে পা বাড়ানোর পর মাহির একটা কথা বলেছিল, “ ‘মাহির’ –সিঙ্গেল ওয়ার্ড’টা তোমার মুখে শুনতে দারুন।ভালো লেগেছে।”
•
ডিনার টেবিলে প্লেটে হাত রেখে অন্যমনস্কে ভাত নাড়াচাড়া করে চলেছে সামিয়া।চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। মুশফিক হায়দার নেই বাড়িতে। ফিরছেন না দুদিন হতে চললো।বুয়া রান্না ঘরে। সামিয়ার মুখোমুখি হতাশ মুখে বসে আছে অনু –মিশ্মির কাজিন।
“ ফুপ্পি আর কতো কাঁদবে একটা নিষ্ঠুর মেয়ের জন্য?যে তোমাদের ছায়া টুকুও দেখতে চায়না বলে রাতের আঁধারে স্বেচ্ছায় হারিয়ে গেছে!ফুপ্পি আর কেঁদো না প্লিজ।যে না বুঝে হারিয়ে যায় তাকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তাকে কিন্তু যে নিজ থেকে হারিয়ে যায় তাকে ততোক্ষণ পর্যন্ত পাওয়া দুষ্কর যতোক্ষণ না সে চায়!”
“ আমরা ওর মনটা এতোটাই বিষিয়ে তোলেছি যে বাচ্চাটা আমাদের ছায়াও দেখতে চায়না। এমন কোন সন্তান হয় আদৌ?আমি বিশ্বাস করি না।ও..ওর নিশ্চয়ই কোন বিপদ হয়েছে অনু। আমার বাচ্চাটা অতোটাও খারাপ না।আমি..
ঠোঁট কামড়ে বুক ভাঙ্গা কান্না আটকানোর চেষ্টা করলেন সামিয়া।রাত তখন এগারোটার ঘরে। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল।অনু উঠে দাঁড়ায়,
“ আমি দেখছি!”
দোর খুলে হতবুদ্ধি চেয়ে রইলো অনু। হাতে ফুলের বুকে নিয়ে দুটো পুরুষ দাঁড়িয়ে। মুখোশের আড়ালে ছিল মুখশ্রী। দৃশ্যমান চোখদুটোর চাহনি যেনো ধারালো তরবারি।অনুর চিনতে অসুবিধা হচ্ছে।একসময় খুলে ফেলতেই রমণী বিস্মিত দৃষ্টিতে বাকহারা হয়ে চাইলো,
‘‘ রকস্টার? আসফিয়ান বর্ণ?”
#চলবে🦋
||ভুল ক্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন 🦋||

