আমার_বোবাফুল(৪০.২) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
62

#আমার_বোবাফুল(৪০.২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

|৪০–শেষার্ধ|
“ রকস্টার সাহেব ,এ্যানি থিং রং? এভাবে তাকিয়ে আছেন যে?”

বর্ণ’র ভাবান্তর হলো কই?দৃঢ় চোয়ালে তাকিয়েই রইলো কঠোর দৃষ্টি ফেলে। টেবিলের কিনারা হাতের মুঠোয় এমনভাবে চেপে ধরলো যেনো গুঁড়িয়ে রেখে দিতে পারলেই তৃপ্তি মিটতো।দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে জবাব দিলো,

“ এক্সকিউস মি ডক্টর!এরা আমার চোখ। এদের মালিক আমি। যখন যেভাবে ইচ্ছে তাকাতে পারি! কৈফিয়ত দিতে হবে?”

“ এ্যাবসিলিউটলি নট!”

ক্ষণকাল স্থির চেয়ে ঠোঁটে ঠোঁট টিপে মৃদু হেসে দুদিক মাথা নাড়ল মেহরাব।এহেন কঠোর প্রত্যুত্তরে অপমানিত বোধ করলো না বরং কেনো যেনো হাসি পেলো।ইম্যাচিউর দের মতো লাগছিল বর্ণ’র হাবভাব। প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চারা সামান্য কারণে যেভাবে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে; অনেকটা তাদের মতো মনোভাব! বর্ণ’র নজর এড়ায়নি মেহরাবের হাসি।গলা ঝেড়ে কেঁশে মেহরাব বললো পুণরায়,

“ কী খাবেন রকস্টার?”
“ কেনো? আপনি খাইয়ে দেবেন?”

অদ্ভুত কথাবার্তায় বর্ণ নিজেও খানিক চকিত হলো। ঘোরের মাঝে অবুঝের মতো কীসব বলে যাচ্ছে। তার ব্যক্তিত্বের সাথে আদৌ এসব যায়?বিরক্তিতে ‘চ’ বাচক শব্দ তুলে কপালে আঙুল ঘঁষে।
রাগলে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভাংচুর, সামনের জনকে তি-ক্ত আ/ঘা/তে জর্জরিত করতে একটুও বিবেকে বাঁধে না। অনুশোচনাও হয়না ।তবে, ডক্টর মেহরাবের প্রতি সে বিশেষ কৃতজ্ঞ। আফটার অল, ফুলকে সুস্থ করার পেছনে তার অবদান রয়েছে।নচেৎ…

মেহরাবের নজর গেলো বর্ণ’র ডান হাতের দিকে। দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসে।গত রাত খোলা দরজা রেখে উদম পিঠে ঘুমে বুদ হয়েছিল নিজ কক্ষে।ভোর বেলা মায়রা’র বিস্মিত কন্ঠে ঘুম ছুটে,

“ মেহরাব পিঠে কী হয়েছে’রে তোর?চার আঙুলের ছাপ মনে হচ্ছে।এটা মানুষের নাকি কোন জন্তুর?”

ব্যাথা অনুভব হচ্ছিলো তার কিন্তু পিঠ হাতড়ে দেখেনি।আপুর কথায় আয়নায় পিঠ পিছে দেখে সত্যিই ‘চার আঙুলের কালসিটে ছাপ পড়ে আছে।’ যার সম্পূর্ণ ক্রেডিট রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’র।যাক, তবুও মন্দ নয় সিঁড়ি গড়িয়ে হাত-পা,নাকসিড় ভাঙে হসপিটাল বেডে শুয়ে পড়ার চেয়ে।


এন্টারটেইনমেন্ট নিউজে একটা বিষয় চোখে পড়ছে। হেডলাইন – ‘‘ রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ এখন ঢাকায়”।
ইতোপূর্বে পরিচয় গোপন রেখে এখানে তার পদধূলি পড়লেও বোধকরি আড়াল থেকে তার ঢেকে রাখা মুখখানি কেউ দেখে নিয়েছে এবারে। ভিডিও করে নেটে প্রকাশ ও করেছে।শেরাটন ঢাকা হোটেলে কাল সন্ধ্যা বেলায় ফ্যান’রা সবে ঘিরে রেখেছিল বেশখানিকটা সময়। অটোগ্রাফ
ও দিয়েছে অহরহ।নিজের ইমেজ সতেজ রাখতে বর্ণ আবার পটুদের শীর্ষে। মেজাজ খোয়া যাক, বিরক্তে মাথার শিরা ছিঁড়ে যাক দাঁতে দাঁত চেপে অধর থেকে নজর কাঁড়া হাসি সরাতে ভুল হয়না তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামনে।আজ ইন্টারভিউ আছে সন্ধ্যা -৭টায়! লোকেশন ঢাকার আশে-পাশেই।

বর্ণ’র সুঠাম দেহে পরিধানে আছে কুচকুচে কালো লেদার জ্যাকেট, সিলভার এমব্রয়ডারি করা হোয়াইট টি-শার্ট, ফেডেড ব্লু জিন্স,পায়ে চকচকে ব্ল্যাক স্নিকার। পুরুষটির হাঁটার ধরন, চোখের সূচালো ক্ষুরধার দৃষ্টি, এমনকি প্রতিটি স্টেপ-ই গাম্ভীর্য আত্মবিশ্বাস পূর্ণ; তাতে আভিজাত্য লেপ্টানো। আইজা ছেলের দিকে মোহিত চোখে বেশ অনেক্ষণ চেয়েছিলেন।মনে মনে দোয়া করে দেন –ছেলে তার সব দিকেই পারফেক্ট,মাশা-আল্লাহ!খালি মাত্রাতিরিক্ত রাগী অথচ বর্ণ’র চলনে-বলনে সহজে বোঝা যায় না।তিনিও বুঝতেন না।যদি না সেদিন অভ্র’র সাথে দেখানো সেই নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়া না দেখতে পেতেন।বর্ণ কিন্তু জেদি, –নিষেধের প্রতি তার শুরু থেকেই একটু বেশিই আকর্ষণ।

খানিক পরেই বেরোবে ইন্টারভিউয়ের উদ্দেশ্য। হসপিটাল এসেছিল বর্ণ।কোন বিশেষ কারণ নেই।ব্যাস, পা-দুটো যেনো অবচেতনেই হোটেল ছেড়ে এখানে উপস্থিত হয়েছে।

সুখ তখন হুইলচেয়ারে।ডান পা টা হাঁটু থেকে পায়ের পাতা অব্দি আজো ব্যান্ডেজে চুপানো।বর্ণকে দেখা মাত্রই মুখ লুকিয়ে আইজার আঁচলের তলদেশে চলে গেল। বর্ণ একঝলক তাকে দেখে আম্মুর দিকে চায় প্রশ্নাতীত। ভদ্রমহিলা বললেন,

“ ডক্টরের পরামর্শে করিডোর ঘুরিয়ে আনছি। অনেক দিন তো পড়েছিল বেডে। এখন একটু রুম ছেড়ে বের হওয়া প্রয়োজন নয়কি?”

সুখের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন আইজা। রুবাইয়্যাত ফ্ল্যাটে গেছে কোন দরকারে। সাইমাকেও সাথে নিয়েছে।নূরা তামিজ সাহেবের সাথে বাহিরে।

ধীর ধীর চোখে মুখের সামনে থেকে আঁচল সরালো সুখ।চোখ তুলে একবার বর্ণকে দেখে নজর নামিয়ে নিলেও –মানুষটি দৃষ্টি সরায় না। একদৃষ্টে চেয়েই রইলো। চুলগুলো আগের তুলনায় খানিক বেড়েছে সুখের।কানের লতি অব্দি ডেকে আছে। হলদেটে ফর্সা মুখশ্রীটা ফ্যাকাশে রক্তশূন্যের মতো লাগছিল। শুষ্ক ঠোঁটজোড়া নিষ্প্রভ।চোখের দৃষ্টিতে চঞ্চলতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর,সব যেনো ধূ ধূ মরুভূমি।

বর্ণ সুখকে ডাকে না।সে যানে মেয়েটা সাড়া দেবে না।ইচ্ছাকৃত হাতের ঘড়ি আর ওয়ালেট ফ্লোরে ফেলে দিলো হঠাৎ। স্রোতে ভেসে যাওয়ার মতো ঘড়ি স্লিপ খেয়ে খানিক দূরে চলে যায়; প্রায় বেডের নিচে।

“ সাবধানে বর্ণ!দেখলে তো পড়ে গেলো। দাঁড়াও ঘড়ি আমি এনে দিচ্ছি।”

আইজা ছেলের বেপরোয়া পনায় হতাশ হয়ে সুখকে স্থির রেখে পিছিয়ে গিয়ে ঘড়ি তুলে নিতে যান।ওয়ালেট হুইলচেয়ারে নিকটেই পড়েছে।বর্ণ আচমকা ঝুঁকে গেলো সেদিক। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা হাতে তুলে তড়িৎ উঠে না গিয়ে ফট করে সুখের দিকে ফিরে। সেসময় সেও আড়চোখে চেয়েছিল বোধকরি। বর্ণ’র চক্ষু হাসলো। অধর যুগল দেখা যায়নি মাস্কের আড়ালে।

“ আই মিসড্ ইউ্যু ফ্লাওয়ার কুইন! আই ফেল্ট অ্যান ইম্পটিন্যাস ডিপ ইন মাই হার্ট!সত্যি বলছি, এমন অনুভূতির সাথে আমি কিন্তু পরিচিত ছিলাম না, ফুল!ড্যু ইউ্যু নো, হোয়াই দিস ইজ হ্যাপেনিং?”

সুখের কার্ণকৌঠরে পৌঁছালো বর্ণ’র আবেশ মাখা ফিসফিস স্বর?তার কী বিষ্ময়ে, প্রফুল্লে বা হতবাকে আনন্দাশ্রু বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়, বহুকালের আকাঙ্ক্ষা এতো দিনে পূরণ হয়েছে বলে? অথচ.. সে তখন পাথুরে চোখে অদৃশ্যে তাকিয়ে।কোন প্রতিক্রিয়া নেই, সীমাহীন অত্যাধিক উচ্ছ্বাসের ঘাটতি ছিল তার সুশ্রীতে।বর্ণ কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছিল কী না বোঝা বড় দায়, তবে সুখের নিথর মুখশ্রীকে বোবা চোখে চেয়েছিল অল্পক্ষণ। কোথাও একটা অদৃশ্য দহন হচ্ছিল কী বর্ণ’র অন্তঃস্থলের গহীনে?একটা চিনচিনে সূক্ষ্ম ব্যাথার উপদ্রব হয়েছিল হৃৎপিণ্ডে?হুটহাট মনে পড়েছে কী সেদিন সুখের ক্রন্দনরত কথাগুলো –“এমন একদিন দিন আসবে, যেদিন আপনি আমার হাত চাইবেন।আমায় ডাকবেন কিন্তু সেদিন আমি পাগলা প্রেমিকা হয়ে সাড়া দেবো না!” ?


কাল থেকে মাহির কিছু একটা বলতে চাইছে কিন্তু সাহসে ধরছে না বর্ণ’র সামনে মুখ খুলতে। আড়চোখে চায়। সিটে মাথা হেলিয়ে বরাবরের মতো বর্ণ চোখ বুজে। কিন্তু ঘুমন্ত নয়। হঠাৎ করেই মুখ খুললো,

“ কিছু জানতে চাস!”

সুযোগ যেনো নিজেই ধরা দিলো। স্ট্রেয়ারিং-য়ে হাত চালাতে চালাতে মাহির গলা খাঁকারি দিয়ে মৃদু গলায় কৌতুহল মিশিয়ে বললো,

“ বস, ম্_মিশ্মিকে কী শাস্তি দিয়েছেন?”

“ জানা খুব প্রয়োজন!”

মাহির হতাশ হয়।সে বর্ণ’র এ্যাসিস্ট্যান্ট শুধু তার এই একটি আর্টের! জন-সাধারণের আড়ালে থাকা বর্ণ’র স্প্যাশাল চরিত্র সম্পর্কে একটু আধটু ধারণা থাকলেও বেশিদূর অবগত নয়। অনেকবার সেই গ্যাং-য়ে প্রবেশের আগ্রহ দেখালেও বর্ণ’র অগ্নি শীতল দৃষ্টি দেখে মনের ভাব মনেই পুষে রেখে দিয়েছে সযত্নে।এই বস’টাও না..! চোখের ইশারায় বেশি কথা বলে। মুখের চেয়ে বেশি হাত-পা চালায়।আজব প্রাণী!

বন্ধরত চোখেই বর্ণ বাঁকা হাসে।রাত গভীর থেকে গভীরতায় ধাবিত হচ্ছে টিকটিক। ব্যস্ত শহর ধীরে ধীরে নিরবতাকে গ্রাস করছে।বর্ণ হুট করে চোখ মেলে গাড়ির বাহিরের আয়নায় দৃষ্টি নিক্ষেপণ করে।একটা বাইকার আসছে পিছু পিছু।তার কিছু দূরে চোখ হাঁটালো আরো চেনা-অচেনা বাইক চোখে পড়বে।


একটা বৃত্তাকার অগ্নি-রেখা। বৃত্তের চারপাশে উর্ধ্বমুখী দাউদাউ জ্বলছে অগ্নিশিখা।এই আগুন যেনোতেনো আগুন নয়।এটা‌ পানিতে নিভে না, বরং দ্বিগুন ধ্বংসাত্মক হয়ে স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়।এটা একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়ে না,কন্ট্রোলার যতটুকু কামনা করে ততটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকে।হলদেটে আগুনের তেজ বাড়তে বাড়তে ক্ষণে ক্ষণে র/ক্তিম হয়ে উঠে।বৃত্তের ঠিক মাঝবরাবর একটি নারীদেহ শুয়ে আছে।ঠিক শুয়ে নেই, বরং সে বাধ্য।উঠে দাঁড়ানোর সামর্থ্য হারিয়েছে।দেহের আকর্ষণীয়, মসৃন ত্বকগুলো ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ’র মতো ঝুলে গেছে; মাংস গলতে শুরু করেছে। নারীটির নাম বোধহয় মিশ্মি। বোধহয় বলার কারণ হলো –তাকে দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই –কে সে! এমনকি তার নিকটতম, আপনজনও এই অবস্থায় তাকে দেখলে শনাক্ত তো দূর,ভয়ে পিছু ছিটকে পড়বে বহুদূর।

বর্ণ তার মুখের কথা রেখেছে। সেদিন মিশ্মিকে ওয়ার্ন করা হয়েছিল ‘যদি সে কখনো কোনদিন শিকদার পরিবারের দিকে ক্ষ’তির উদ্দেশ্যে চোখ তুলেও তাকায়,তার এই সস্তার শরীর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’!মিশ্মি শেষে পায়ে পর্যন্ত পড়েছিল একটু বাঁচতে কিন্তু নিষ্ঠুর, হৃদয়হীনের মন গলাতে সক্ষম হয়নি।তার অবস্থান হয়েছে আগুনের মধ্যভাগে।খানিক দূরত্ব বজায় রেখে গোলাকার হয়ে আগুন জ্বলছে থৈ থৈ। আগুনের উচ্চতা মাথার উপরিভাগ অব্দি।সে তবু এই নাশকতা থেকে বেরোতে পারতো যদি না আগুনের আগে উঁচু দালান-সম কাঁচের মত ধবধবে স্বচ্ছ দেখতে জিনিসটা না হতো।ওটা কাঁচ না।মিশ্মি ধাক্কিয়েছিল একবার। মানবদেহ সেটায় লাগতেই ইলেক্ট্রিক শকের মতো অনুভুতি দিয়ে তাকে ছুঁড়ে ফেলেছে ফ্লোরে। দ্বিতীয় বার সাহস হয়নি তার ধারেকাছে যেতে। অতঃপর ধীর ধীরে মৃ!ত্যুকে বরণ করতে হবে নিজেরই চোখের সামনে। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না!তার পাপের পরিধি কী এতোটাই বিশাল যে পরিণত এতোটা ভয়ঙ্কর হতে হলো?


গত হলো প্রায় চার সপ্তাহ ।আজ সুখ বাড়ি ফিরবে। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে রব রব একটা ভাব ফুটে উঠেছে যেমন। আইজা রান্নাঘরে।তার পাশ থেকে সানন্দে এটা ওটা রেডি করে এগিয়ে দিচ্ছে তুহফা আর রামসা।এ বাড়িতে চুলোয় আগুন ধরানোর দায়িত্ব কেবল বাড়ির বউ-দের। ধারনা করা যায়,যদি হাজারটা মেইডও তাকে,তবু রুবাইয়্যাত কিংবা আইজা-ই রান্না করবেন।

সপ্তাহের তিন দিন ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ব্যাণ্ডের সাথে বর্ণ’র রিহার্সাল থাকে।আজও আছে। অতএব সে বাড়ি নেই।হানিফা বেগমের উৎকণ্ঠা বেশি লক্ষ্য করা যায় সুখকে দেখার।অভ্র মুখ বাঁকিয়ে পাশে বসলো ড্রয়িং স্প্যাসে।

“ কী বুড়ি.. হঠাৎ দাজ্জালের দল পাল্টে পীর দরবেশ হয়ে গেলে যে? ওহ্হো.. সুখ আপিকে বহুদিন গালমন্দ করতে না পেরে হার্টের যন্ত্রণা বেড়েছে নির্ঘাত? কোথাও এ্যাটাক-প্যাটাক হয়ে যাবে নাতো বুড়ি! তোমার হার্ট কিন্তু এমনিতেই দূর্বল”

বৃদ্ধা বেজায় ক্ষেপে গেলেন।দূর্বল হাতখানা তুলে হুঁশিয়ারি দেন,

“ ছুড়ু বান্দর এটা কী দ্যাখছোস!একটা দিমু গালের নিচে।আমি কী সবসময় ওরে গালমন্দ করতাম নাকি!”

“ আদর তো করতে দেখলাম না কোনদিন! আমার চোখে কী তবে এতো দিন ছানি পড়া ছিল?”

“ অভ্র!”
“ ইয়েস.. মম!”

বাধ্যের মতো জবাব দিয়ে পিছু ঘুরে অভ্র।আইজা চোখ রাঙালেন,

“ কতোবার নিষেধ করেছি দাদুর সাথে এভাবে কথা বলতে?উনি এবাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠা!”


থমকে যাওয়া চোখে আশেপাশে তাকায় সুখ। উপর থেকে ফুল ছিটাচ্ছে তুহফা,নূরা আর অভ্র। তাদের এহেন পাগলামোতে সুখ শুষ্ক ঠোঁটে একবার নিষ্প্রাণ হেসেছিল কেবল।পর থেকেই চুপটি করে আছে।তামিজ সাহেবের হাত থেকে তুহফা হুইলচেয়ারে করে সুখকে এগিয়ে নিলো ড্রয়িং রুমের দিকে।মাথা ঘুরাচ্ছে রুবাইয়্যাতের। অনুভূতি এমন যেনো পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে।চোখ মেলে রাখা কষ্টকর।আইজা উনাকে রুমে দিয়ে এলেন।হানিফা বেগম জানতে চাইলেন সুখকে অনেক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর,

“ কেমন আছিস নাতনি?”

কন্ঠস্বর কোমল। দাদুর মুখে এমন সুর শুনতে সুখের কানদুটো সর্বদা মুখিয়ে থাকতো। অথচ আজ তেমন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।প্রায় অল্পক্ষণ পরেই ঘাড় কাত করে উত্তর দিয়েছে,

“ ভালো?”

ড্রয়িং রুমে একজন উপস্থিত ছিল আগে থেকেই,আসফিয়ান বর্ণ!সুখের চোখে চোখ পড়ল হঠাৎ করে। ঘনঘন দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে মেয়েটা দ্রুত মাথা নামিয়ে নিলো।বর্ণ এগিয়ে আসে ধীরে। ঠোঁট নাড়িয়ে নিঃশব্দে বললো বোধহয়,

“ ওয়েলকাম জানেমান ”

#চলবে🕊️

||ভুল ক্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন রিডার্স।রিচ ডাউন,রেসপন্স করুন বেশি করে। হ্যাপি রিডিং||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here