#আমার_বোবাফুল(৫৫•২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
থেকে-থেকে বন্য প্রাণীদের আত্মা কাঁপানো ডাক ভেসে আসছে, অথচ কোন প্রাণীর অস্তিত্ব মাত্র নেই। চকচকে আঁধার কক্ষ। কুচকুচে কালো কাচঘেরা চার দেয়াল।দেয়ালের স্ক্রিনে ধূসর কালো মণির চারটি চোখ একত্রে মেলে আছে। দৃশ্যটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি গা শিউরে ওঠা।চোখের গহীনে, রেটিনা’য় ইংরেজি অক্ষরে দুটো শব্দ–”Eye Gang!!”
প্রাণের ভয়ে হীম ধরে আসা অসাড় দেহ। বাঁ চোখে কোন রকম র/ক্ত বন্ধ হওয়ার উপযোগী ব্যান্ডেজ।তবু, লাল তরল ছুঁইয়ে-ছুঁইয়ে পড়ছে।নাক থেকে র/ক্তের রেখা ঠোঁটের কোণ বেয়ে থুতনির তলদেশে গিয়ে ঠেকেছে। দাঁতের গোড়া প্রায় নড়বড়ে।এমন নিষ্ঠুর যন্ত্রণার সহ্য ক্ষমতা লোপ পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছিল সজীব। পুণরায় জাগ্রত করার আয়োজন চলল। অতঃপর নিভু নিভু প্রদীপের মতো ক্ষীণ শক্তিতে ফের ডান চোখ মেলে। যদিও মেলতে সে চায়নি,বাধ্য করা হয়েছে।ডান চোখটা এখনো অক্ষত।কারণ আছে।বারণ সত্তেও যেই হাত ফুলের দিকে বাড়ানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে,সেই হাতের কেমন পরিণতি হবে সেটা তো নিজ চক্ষে দেখতে হবে?নয়তো মজা আসবে না!
বর্ণ’র চোখ দুটো ভয়ানক রক্তিম। সজীবের সামনে,চেয়ারে বসে আছে একদৃষ্টে তার দিকে চেয়ে। চাহনি কেমন অদ্ভুত,প্রাণ ছলকে উঠা দৃষ্টিপাত।ক্ষণে ক্ষণে ঘাড় চুলকে কী যেন বিড়বিড় করছে। অস্থির হাত দুটো মাথায় চালিয়ে চুল খামচে ধরছে।
সজীব নিঃশ্বাসটাও নিচ্ছে অত্যন্ত ধীরে। শব্দ যেনো আশেপাশে ছড়িয়ে না পড়ে। কেননা, সামনে থাকা হিংস্র মানব বলে দিয়েছে— তার একটা উঃ শব্দও যদি আসফিয়ান বর্ণ’র কানে পৌঁছায়, তবে শ্বাস ছাড়ার জন্য নালিটা আর থাকবে না।প্রাণের ভয় কার না থাকে?যতো দুঃখ হোক, হোক যতো অসহ্যকর যন্ত্রণা; দাঁতে দাঁত চেপে নিশ্চুপ হেলে রয় ছেলেটা।ক্ষমা চেয়েছে নিজের ভুলের,পায়ে পর্যন্ত পড়তে নিয়েছিল। কিন্তু… সে যে বড্ড দেরী করে ফেলেছে।
ফসফরাস!একটি রাসায়নিক মৌল(কেমিক্যাল এ্যালিমেন্ট), প্রতীক P, পারমাণবিক সংখ্যা ১৫। অত্যন্ত দাহ্য এবং বিষাক্ত।
কক্ষের একদিক থেকে হিরহিরে হাওয়া বয়ে আসছে। অন্ধকারে এর সঠিক উৎস খুঁজে পাওয়া দায়। হাওয়ার মুখোমুখি করে সাদা দেখতে অ-ধাতব পদার্থগুলো সজীবের হাতে ছোঁয়াতেই আগুনে পুড়ার মতো ধোঁয়া উঠে ঝলসাতে শুরু করে খানিক পর।সে-কী যন্ত্রনা, গলা কাঁটা মুরগির মতো ঝটপট করে উঠল ছেলেটা। অস্ফুট স্বরে গোঙিয়ে উঠে।একটু বাঁচার তৃষ্ণায় ছুটে পালাতে চায়, কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য-সাহস কোনটিই আর বেঁচে নেই।তার আর্তনাদ, চিৎকার ঘন জঙ্গলের মধ্যবর্তী দুতলা ভূতুড়ে বাড়িটির নিচে তলায়,যেটা মাটির নিচে অবস্থিত;তার সাউন্ড প্রুফ চার দেয়ালেই আবদ্ধ রইল। সাক্ষী রইল ক’জোড়া নির্দয় ,পাষণ্ড চোখ। তাদের একজন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আসফিয়ান বর্ণ।
বর্ণ’ শীতল চোখে চেয়ে থাকে।সজীবকে তড়পাতে দেখে চক্ষু তৃপ্তি মেটাচ্ছে।
‘ ও-ওর অপরাধ?’
তড়াক করে পিছু ফিরল বর্ণ।কী ধারালো তরবারি’র মতো ক্ষুরধার চাহনি। আচমকা হাসি ফুটে উঠল অধর কোণে।কদম বাড়াতেই সামরিক বাহিনীর মতো সটান দাঁড়িয়ে থাকা ছয়জন কালো পোশাকধারী দু’ভাগ হয়ে মাঝে পথ করে দিল।বর্ণ এগিয়ে যায়। কিছু দূরেই প্রায় অ’র্ধমৃ’ত শরীর নিয়ে আরও একটি অস্তিত্ব টিকে আছে এই বন্ধ কক্ষে।মাথা উঁচানোর শক্তি হারিয়েছে বিধায় টেবিলে মাথা এলিয়ে রেখেছে। দৃষ্টি অদূরে যন্ত্রণাকাতর ছটপট করতে থাকা সজীবের দিকে। প্রায় অনেক্ষণ ধরে চোখের সামনে পাশবিক নি/র্যা/তন প্রত্যক্ষ করে ঢোক গিলে প্রশ্নটি করেই ফেলল।
হাতের গ্লাভস খুলে এগিয়ে দিতেই একজন সেগুলো নিয়ে নিল।বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে টেবিলে দুহাত ভর করে ঈষৎ ঝুকে গেল। ধূর্ত গলায় বলল টেনে টেনে—
‘ জো—সেফ জোয়ার্দার!ওর অপরাধ খানিকটা তোর দ্বারপ্রান্তে!বার-বার প্রতিবার এই পৃথিবীর মানুষকে বুঝাতে বুঝাতে আমি বিরক্ত।যেটা আমার সেটা শুধু আমারই! দ্বিতীয় কেউ ভুলেও চোখ তুলে তাকালে চোখ উপড়ে নেবো,হাত বাড়ালে ঝলসে দেবো আর এই দু’টোর দুঃসাহস দেখানোর বিনিময়ে বুক ছিঁড়ে কলিজাটা হাতে নিয়ে দেখব।’— ছোক ছোক শব্দ তুলল ঠোঁটে। টেবিলের বাঁ দিকে তাকায়। সেদিনের সেই স্মাইলি বল’টা স্থান পেয়েছে।এটা সেই বল– জোসেফের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একজন গার্ড বিশ্বাসঘাতকের উপর বিশ্বাসঘাতকতা করে বর্ণ’র কব্জা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা ছুঁড়ে গিয়েছিল তার জন্য। অবশ্য বেশিদূর পালাতে পারেনি।এতোই বুঝি সহজ ছিল? দীর্ঘ তিন বছরের পরিকল্পনা,সংযম পিষ্ট করে হাতের মুঠো থেকে পিছলে যাওয়া এতোই সহজ?ধরা পড়ার পর গার্ড স্যারেন্ডার করার আগ মূহুর্তে সুইসাইড করেছে,বিষ পান করে!
স্মাইলি বল’টা হাতে নিল বর্ণ।বলের গায়ে লেখাগুলো পড়ল চোখ পাকিয়ে। কপালের দু’পাশে শিরা ফেঁপে উঠছিল তখন।তবু, ঠোঁটের হাসি কমে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে আসফিয়ান বর্ণ ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলতে বেশ পটু।বলটা ফ্লোরে ছুঁড়তেই বারি খেয়ে পুণরায় বর্ণ’র হাতের দিকে প্রত্যাবর্তন হয়। বর্ণ সেটা ক্যাঁচ করে নিল ।জোসেফ দূর্বল কন্ঠে বলে,
‘ আমায় কখন মারবি?’
‘যেদিন হায়াতের খাতায় তোর শেষ দিন লিখে রেখেছে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা!’
‘ উ-উসিলা নিশ্চয়ই তুই… দেয়ার ইজ ন-নো ডাউট এ-এবাউট ইট!’
‘ ইয়াহ্, দ্যাট ফর শিওর!’
‘ ম-মেরে ফেল আমায়!তুই যার ন-নাম জানতে চাস তা ক-কখনোই আমি বলব না!’
‘ সেদিন বলেছিলাম এই নরক যন্ত্রণা-খানা গড়ে তুলতে আমার চারটি বছরের ধৈর্য ক্ষয় হয়েছে। তোর পাওয়ার কানসাট করে নিজের হাত করতে আরও একবছর। কাউকে ভালোবেসে আজও আশিক হয়ে ঘুরছি, আন-ফরচ্যুনেটলি ফিডব্যাক নেগেটিভ।তবু,হাল ছাড়ছি না!ছ্যাহ্.. ভাব একবার কতোটা ধৈর্যশীল আমি?’
‘ তোর ধৈর্যশীলতার গ-গুনগান আমাকে শুনানোর রিজন?’
‘ কৈফিয়ত চাস?এটা আমার রাজ্য! যখন যা খুশি বলব। এক্সপ্লেইন করব না।হয় বুঝে নে… নয়তো সঠিক সময়ের অপেক্ষা কর জোয়ার্দার!’
পরবর্তী এক মিনিটের মধ্যেই কারেন্ট শক দেয়া হয় তাকে। জোসেফ ঢলে পড়ে রয় ওভাবেই। রুখে দাঁড়াতে শক্তি নেই।এর অর্থ– এমন যন্ত্রণা নিতে নিতে যেদিন শরীর হার মেনে নেবে, কন্ঠনালি শুকিয়ে চৌচির হবে,প্রাণ পাখি চিরদিনের জন্য উড়ে যাওয়ার জোগাড় হবে,সেদিন নিশ্চয়ই সে মুখ খুলবে।বর্ণ যা ইনফর্মেশন চায় সব হড়হড় করে বলেও দেবে।আর আসফিয়ান বর্ণ ততোদিন পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে যেমন অধৈর্য-উগ্র, তেমনি আবার কিছু ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে প্রচন্ড ভালোবাসে।ওই যে বলে,সবুরে মেওয়া ফলে?
•
‘ সুখ… এ্যাই সুখ!’–তুহফার ঘুমঘুম স্বর।সুখ চমকে উঠে। তড়িঘড়ি চোখ মুছে ব্যালকনি থেকে রুমে প্রবেশ করে।দ্বার অল্প ভিড়িয়ে রাখা। অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ নিষেধ। সুতরাং,তুহফা বাহিরে দাঁড়িয়ে।ঘুমে নুইয়ে পড়তে চাইছে।সুখ এগিয়ে আসতেই বলল–
‘ তোকে রাত জাগতে নিষেধ করেছে। ঘুমিয়ে যা।’
বিহ্বল চেয়ে থাকে সুখ। এরপর জানতে চায় ইশারায়,-‘ কে?কে বারণ করেছে?’
‘ কে আবার?তোর প্রাণের হাসবেন্ড!’
বুক ধুকপুক করে উঠে অচিরেই।বলার মতো কিছু পেল না সুখ।ঢোক গিলে অন্যত্র নজর সরিয়ে নেয়। হাসবেন্ড,অর্থ স্বামী। সৃষ্টিকর্তার পর মানুষের মধ্যে যার আসন সকলের শীর্ষে।তুহফা বলল–
‘ কতো মহান তোর হাসবেন্ড।দিন রাত রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করা উচিত তোর!’–মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ।সুখ ভ্রু কুটি করে প্রশ্নাতীত তাকায়।সে ফের বলল দাঁতে দাঁত চেপে,
‘ আমার সুন্দর স্বপ্ন,মজার ঘুম ভাঙ্গিয়ে তোকে ঘুম পাড়ানী গান শুনাতে পাঠিয়েছে রে ভাইয়া!সবি কপাল!’
অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে সুখের। পরপর ঠোঁটে আঙুল চেপে হাসি গায়েব করে মুখটা গম্ভীর করল।তুহফা চলে যেতে পা চালিয়েও হঠাৎ ঘুরে ফিরে,বলল নরম গলায়–
‘ আর… অশ্রু ঝরাতে নিষেধ করেছে।তুলে রাখ সামনে নাকি প্রয়োজন হবে!’
বলার ফাঁকে লক্ষ্য করল সুখের ফোলকো চোখদুটো। খুব কেঁদেছে নিশ্চয়ই।আগ বাড়িয়ে কোন প্রশ্ন করে না তুহফা।এটা তাদের কপোত-কপোতীর ব্যপার।তার তৃতীয় পক্ষ হয়ে বাঁ হাত ঢুকানো মুটেও শোভনীয় দেখাবে না।
এটা বর্ণ’রই রুম। সেদিনের পর আর নিজের রুমে যাওয়ার সাহস করেনি। লাভের লাভ তো কিছুই হবে না তাতে।নেওটার মতো ঠিকই পুরুষটা পিছু চিপকে থাকবে।সুখ দরজা আটকে ধীরে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ল। মস্তিষ্কে ঘুরছে তুহফার বলা শেষোক্তিটি।
”অশ্রু তুলে রাখ, সামনে প্রয়োজন হবে!”
কী হতে চলেছে সামনে? মানুষটা আবার কী করবে?ভেবে উত্তর খোঁজে পায়না সুখ।
বর্ণ ফিরল গভীর রাতে। ঘড়ির কাঁটা তখন ৩টা ছাড়িয়েছে। সুখের চোখে ঘুম ছিল না।তবু,চোখ বুজে ঘুমের মতো পড়ে রইলো নিশ্চুপ। কক্ষের আলো নেভানো হয়নি। পারফিউমের কড়া ঘ্রাণ ম-ম করছে চতুর্দিক।বর্ণ এসে তার সামনে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসল আস্তে করে।গালে হাত রেখে ঘুমের ভাব ধরে পড়ে থাকা কোমল ফুলের দিকে তাকিয়ে রইল নেশাক্ত চোখে। দৃষ্টিতে ঘোর তৃষ্ণা।মুখটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আনে, তপ্ত শ্বাস আঁচড়ে পড়ছিল সুখের কপালে। গলা শুকিয়ে আসে অচিরেই,শুষ্ক ঢোক থরথর কেঁপে উঠে সুখ।চোখ খিচ মেরে থাকে দম আটকে।কী করতে যাচ্ছে লোকটা?বর্ণ ছুঁয়েনি তাকে, ফুঁ দিয়ে কপালের ছোট ছোট চুলগুলো উড়িয়ে দিয়েছে কেবল। এরপর গালে হাত রেখে আবারও তাকিয়ে থাকে নিষ্পলক।এক হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেয় ঠোঁটের কোণ। কেমন শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি,চোখ বুজে রাখা কষ্টকর।
ভোরের আযানের ধ্বনিতে মুখরিত আশপাশ।টুপ করে কপাল বেয়ে চোখের কার্নিশে এক বিন্দু তরলের উদয় হল।বর্ণ চোখ মেলল হুট করেই।বেডে হাত রেখে,সেই হাতে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়েছিল ফুলকে দেখতে দেখতেই। অপর হাতে চোখের কার্নিশ ছুঁলো।পানি… কিন্তু বর্ণ’র চোখ শুষ্ক, কাঁদেনি সে।তবে? ঠোঁট কামড়ে সামনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। সুখের চোখ বন্ধ অথচ পাপড়ি ভেজা। প্রায় অনেক্ষণ চেয়ে থাকার মাঝে বর্ণ আচমকা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে ।হাত বাড়িয়ে সুখের ভেজা পাপড়ি ছুঁয়ে, চোখের সামনে এনে শব্দ করে ঠোঁট চেপে চুমু আঁকে তাতে।মুখটা কানের গোড়ায় এনে ফিসফিস করে–
‘ লুক লাইক অ্যা ”শিশির ভেজা পুষ্পরাণী”, মাই সাইলেন্ট ফ্লাইওভার কুইন!’
বন্ধরত চোখের পাতা কাঁপছে সুখের। ঠোঁট একপেশে চেয়ে থাকে বর্ণ একটানা। এরপর বলে গেল স্বতঃস্ফূর্তে–
-” গেট রেডি!আজ একটা গল্প শুনাব তোকে।”
খানিকটা বিরতি। এরপর বলা শুরু করে,
” জীবনের প্রতি কখনো ইন্ট্রেস্টেড ছিলাম না। প্রাণের জন্য মায়া, কাকে বলে ভুলেই বসেছিলাম প্রায়। কিন্তু যখন থেকে হৃদয় তোকে চাইতে লাগল। তোকে নিজের করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে শুরু করল। ঠিক তখন থেকে তোকে…এই বুকের খাঁচায়… বাহুডোরে শক্ত করে জড়িয়ে রেখে হাজার বছর বাঁচতে লোভ জন্ম নিয়েছে!এ-কী হয়ে গেল আমার বলতে পারিস? সার্প্রাইজিং ইয়ার! এমন হোক আমি কখনো চাইনি! ইয়্যু নৌ হোয়াট? প্রতিনিয়ত তোর প্রেমে উন্মাদ হচ্ছি আমি! ভালোবাসা? এই ভালোবাসায় এতো সুখ কেনো ফুল?”–সুখের চোখের দিকে তাকাল। কমফোর্টারের উপর থেকেই ভেতরের কোমল দেহটির কম্পন নজর এড়ায় না। সুখের আঁখি পল্লব বন্ধ ,তবু কার্নিশ ভিজে উঠছে।বর্ণ ফের বলে,-” খুনাক্ষরেও যদি আগে জানতে পারতাম। তবে এই আসফিয়ান বর্ণ তোর আগে থেকেই তোকে ভালো বাসা শুরু করে দিতো ফুল, আমার বোবাফুল!”
অনেক চেষ্টা,বহু শাসন-বারণ উপেক্ষা করে বেঈমান চোখ দুটো আজ ঝরঝর করে অশ্রু ছেড়ে দিল। ঠোঁট কামড়ে ধীরে চোখ খুলল সুখ। কান্নারা দলা পাকিয়ে গলার কাছে আটকে যেতে চায়। শোয়া থেকে উঠে বসে দু’হাতে মুখ ঢেকে বর্ণ’র দিকে চেয়ে থেকেই ফুঁপিয়ে উঠল।
বর্ণ চেয়ে থাকে নিরলস। নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে চোখ মুছে দিতে গেলে ঝট করে সুখ ধরে ফেলল। ছুঁড়ে ফেলল না হাতটা, বরং নিজের দু’হাতে আঁকড়ে ধরে ঠোঁটের নিকটে এনে চেপে ধরল অনেক্ষণ। এরপর–
#চলবে🥀
সুখ কেন বর্ণকে চায়না তা জানতে পারবেন সামনে।গেস করুন কেন? ||

