#আমার_বোবাফুল(৫৯)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
বিগত হয়েছে সপ্তাহ খানেক।সুখ এখনো ক্যাসেল-এ।বাড়ি ফেরার কথা উঠতেই আসফিয়ান বর্ণ’টা এমন ভাবে এড়িয়ে যায় যেন শুনতেই পায়নি;সুখ নামের কোন অস্তিত্ব এখানে বর্তমান আছে তা তার হাব-ভাবে অনু পরিমাণও ঠাহর করা মুশকিল হয়ে পড়ে ওই মূহুর্তে।সুখ কেঁদেছে খুব। অভিমানও করেছে বটে,কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ীত্ব পায়নি তারা।বর্ণ নিকটে এসে থুতনি ধরে মুখখানা উপরে তুলে,নাকের ডগা’য় আলতো ঠোঁটের পরশ দিতেই অভিমান ভুলে মুখটা লাজে বেসামাল হয়ে উঠে তখুনি।কী লজ্জাময়, অস্থির সেই অনুভূতি!
নিজের ফোন রেখেই সেদিন ছুটে এসেছিল নিবাস ছেড়ে; সাথে আনা হয়নি। বর্ণ’র ফোন থেকে ভোরে আম্মু-আব্বু উভয়ের সাথে অনেক্ষণ কথা বলেছে আজও, বর্ণ জাগার আগেই। পুরুষ’টার আচরণে সুখ শঙ্কিত।বর্ণ বলেছে– সে জেগে উঠার আগে, অথবা তার অগোচরেই যেনো সুখ যাদের সাথে যা আলাপ করার সব সেরে নেয়।
বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে রাখে সুখ।একা একা এই জনমানবহীন বাড়িতে আর কতোক্ষণ থাকা যায়?ব্যলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল।ওই যে ব্যলকনির ঠিক নিচ দেশে থৈ থৈ নদীর স্বচ্ছ পানি!সুখের ধারনা, ক্যাসেল-য়ের অর্ধেক নদীর পানির উপর নির্মিত। ঐদিকে, ক্যাসেলের পিছনে এই কয়দিনে কখনো যাওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, কক্ষ ছেড়েই সে তেমন একটা বের হয়নি। কারণ আছে অনেকগুলো। তন্মধ্যে কিছু কারণ বেশ লজ্জাদায়ক।
নদীর পানিতে হুটহাট পা ভেজাতে ইচ্ছে হলো সুখের। কিন্তু একা বের হওয়ার সাহস হলো না, নিষেধ আছে বর্ণ’র। অগত্যা রুমেই ফিরে এলো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি আয়নায় দেখে হেসে ফেলল সুখ।তার পড়নে বর্ণ’র শার্ট এবং ট্রাওজার।শার্ট এতোটাই ঢিলে হয়েছে যে– কাঁধ ছেড়ে,হাত বেয়ে গলে পড়ে যাওয়ার জোগাড়।যদিও একেবারে পড়বে না, এই আত্মবিশ্বাস সুখের আছে। ট্রাওজার তো প্লাজুর চেয়েও জঘন্য অবস্থা।কোমর থেকে গলে পড়ে যেতে চায় ক্ষণে ক্ষণে। চুলগুলো খোলা করে নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেক্ষণ পরখ করল সে।বর্ণ আসছে না এখনো।কথা ছিল আধঘন্টার মধ্যেই ফিরে আসবে।সুখ এখানে যতদিন আছে ততদিন বর্ণ এখানেই চিপকে ছিল।খুব প্রয়োজন বাহিরে গেলেও আধঘন্টার আগেই ফিরে এসেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই এই কয়দিন স্বপ্নের মতোন কেটেছে সুখের।
•
বর্ণ এসেছিল নিবাসে দু’টো কারণে। তন্মধ্যে একটি, উন্নত শিক্ষা গ্রহণের জন্য অভ্র’কে সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে।ভিসা এবং পাসপোর্ট রেডি,মাহিরের কাছে গচ্ছিত আছে সব।আইজা এতে মনক্ষুণ্ণ হলেও অভ্র’র মনে অসীম উল্লাস। বিদেশে পড়তে যাবে এটা তার অন্যতম ড্রিম।
মাহিরকে অথৈ সাগরে ডুবিয়ে বর্ণ চলে গেছে।দুটো বাক্য আওড়ে এখন দুই শিকদারের সামনে জড়োসড়ো বসে আছে সে। বাক্য দুটো ছিল এমন–
” আঙ্কেল, আমি তুহফাকে পছন্দ করি।তাকে বিয়ে করতে চাই।”
বস পাশে ছিল বলে সাহস করে কথাটি বলা মাত্রই নিষ্ঠুর, পাষণ্ড লোকটা বাবা,চাচ্চুর হাতে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে তৎক্ষণাৎ।তার পিছু তামিজ সাহেবও গিয়েছিল কোন কারণে। পুণরায় ফিরে এসে মাহিরের মুখোমুখি সোফায় বসল। আযাদ সাহেব গম্ভীর মুখে বললেন,
” কী বলছিলে তখন?”
গলা খাঁকারি দেয় মাহির।মুখ ফস্কে যখন বলেই ফেলেছে এখন আর পিছু হটা শোভা পায় না।বলল মাথা নিচু করে বিনয়ী স্বরে,” আমি তুহফাকে বিয়ে করতে চাই!”
” এসবের জন্যই তোমাকে এই পরিবারের একজন সদস্য করা হয়েছিল? বিশ্বাসের এই প্রতিদান দিলে?যদি বলি এখনি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও? দ্বিতীয় বার যেনো আমাদের মেয়ের আশেপাশে তো দূর তার নামও মুখে নেওয়া সাহস না দেখাও!”
ভদ্রলোকের স্বর কোমল হলো না বরং দ্বিগুণ কঠোর শুনাল।অদূর থেকে তুহফা দ্রুত রিডিং রুমের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে চোখ বুজে।চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।হাত,পা কাঁপছে তার, অবিশ্বাস্য-অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু শ্রবণেন্দ্রীয় হওয়া মাত্রই।বন্ধরত চোখে মৃদু হাসল সে।মামারা মানুক বা না মানুক,এখন আর কোন আফসোস নেই তার। অবশেষে মাহির বলেছে,সে তুহফাকে পছন্দ করে। ভালোবাসার মানুষের পক্ষ থেকে এই স্বীকারোক্তিটাই তার শ্রেষ্ঠ পাওয়া।এতেই সে সন্তুষ্ট। এরচেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
•
আয়না দেখার ফাঁকে সুখ দুহাতের দিকে চোখ রাখে।হাত ভর্তি মেহেন্দি’র আঁকিবুঁকি।তালুতে আসফিয়ান বর্ণ’র নাম লেখা।পায়ে আলতা রয়ে গেছে এখনো। এগুলো কাল বর্ণ পড়িয়ে দিয়েছে নিজ হাতে। টকটকে লাল শাড়ি পড়িয়েছে, কুঁচি ধরেছে, সাজিয়ে দিয়েছে।পুরোটা সময় কাঠ পুতুল হয়ে বসেছিল সুখ। বর্ণ’র যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে সাজিয়ে তুলেছে তার বউফুলকে। এরপর? সামনে বসিয়ে অপলক চোখে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থেকেছে। সেসব স্মৃতি মনে করেই দু’হাতে লজ্জায় আপনাআপনি মুখ লুকালো সুখ। অন্তঃকরণ দুরুদুরু করে উঠে।
এই কয়দিনে একটা বিষয় সুখকে বড্ড অস্বস্তিতে ফেলেছে।তা-হলো বর্ণ’র জামা শরীরে বহন করা। এসব গায়ে রেখে বর্ণ’র সামনে সে মুটেও যেতে চায়না।মাটি ফাঁক করে লুকিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে।আর যখন ওই বেহায়া পুরুষটা ধূর্ত চোখে দুষ্টু ইঙ্গিতে হেসে চেয়ে থাকে, তখন তো ইচ্ছে করে ধরিত্রী থেকেই হাওয়া হয়ে যেতে। কিন্তু এছাড়া উপায় নেই।তার কোন জামা কাপড়ই যে এখানে নেই। শাড়িটা কাল কাভার্ড থেকে বের করেছিল বর্ণ।
কাভার্ডের কথা মথায় আসতেই চোখ কুঁচকে নিল সে। ওখানে বর্ণ’র জামা ছাড়া মেয়েলি কোন জিনিস ইতোপূর্বে চোখে পড়েনি তার।তবে মানুষটা কোত্থেকে বের করল ওটা?
এগিয়ে কাভার্ডের দরজা খুলল। অর্ধেক বর্ণ’র জামাতে ভরপুর।বাকি অর্ধেকে আরেকটা দরজা আছে। নিঃসন্দেহে ওখানেও মহাশয়ের জামা কাপড়ই থাকবে।তবে,দেখা হয়নি আগে।কী মনে করে সুখ ওই দরজাটাও খুলে ফেলল। পরপর চমকায় সুখ, বিষ্ময়ে হতবাক হয়। এখানে সব শাড়ি আর শাড়ি।সাদা কাগজে ইংরেজিতে চারটি শব্দ— ‘অনলি ফর ইউ সুইটহার্ট’! থমকে চেয়ে রইল সুখ। আনমনে শাড়িগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখল।মনে হলো,শাড়িগুলো একটার চেয়ে অন্যটা নজর কাড়া।
অন্যমনস্ক সুখ দেখতেও পেলো না খানিকক্ষণ ধরে রুমের দ্বারে হেলান দিয়ে পুরুষালী এক অস্তিত্ব তার কার্যকলাপ, লাজ রঙা মুখশ্রী পরখ করছিল সূক্ষ্ম চোখে। পুরুষটি নিঃশব্দে পা মাড়িয়ে এগিয়ে এলো।
ঘাড়ের পিছু উষ্ণ শ্বাসের উপস্থিতি টের পেয়ে চমকে পিছু ঘুরল সুখ। মূহুর্তেই কপাল গিয়ে সংঘর্ষিত হলো বর্ণ’র শক্ত চোয়ালে। অল্পক্ষণ স্থির থেকে সুখ সরে এলো।বর্ণ তখনো চেয়ে আছে।সুখ জানতে চায় কাভার্ডের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে,” এগুলো এখানে কতোদিন ধরে আছে?”
” অনেকদিন।” –হেঁয়ালি ছাড়া জবাব।সুখ ফের প্রশ্ন করে,
” আমি আসার আগে থেকে?”
‘হ্যাঁ’ বোধক উত্তর পেয়েছিল সে। অতঃপর বিষ্ময়ভরা চোখে জানতে চাইলো,” আমি এখানে আসবো, আপনি শুরু থেকেই জানতেন?”
এক ঝটকায় কাছে চলে আসতেই সুখ দিশেহারা হয়ে কাভার্ডের সাথে সেঁটে গেল চোখ খিচে।বর্ণ হাসল বোধহয় ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে।এক ভ্রু তুলে সুখের কোমরের পাশে, কাভার্ডে রাখল আলগোছে।ফুলের অস্থিরতা, কাঁপা কাঁপিটা যেন তাকে আনন্দ জোগাচ্ছে। পিটপিট করে সে দৃষ্টি মেলতেই বর্ণ ফিসফিসিয়ে বলল,” হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না।”
“এতো দিন বলেননি যে?” –সুখের কথাটি লিপ রিডিং করে তাকে উপর নিচ পর্যবেক্ষণ করে বর্ণ দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচিয়ে বলে,” পারফেক্ট!এতেই মানিয়েছে তোকে।মনে হচ্ছে আসফিয়ান বর্ণকেই গায়ে জড়িয়ে আছিস…
সুখ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সজোরে শ্বাস টানে। চেনা পরিচিত একটা ঘ্রাণ নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করছে ধীরে ধীরে।সুখ সংকোচিত হয়ে আচানক বর্ণ’র কলার চেপে ধরে,তার নিজের দিকে টেনে আনলো। এরপর ঘনঘন নিশ্বাস ছেড়ে বুকে,ঘাড়ে শুঁকে শুঁকে হঠাৎ ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে ছলছল চোখে দৃষ্টিপাত করল।এই ঘ্রাণ আব্বুর গায়ের। তারমানে…
ইশারায় বলল,” আপনি নিবাসে গিয়েছিলেন? আমাকে নিয়ে যাননি কেনো? ওদের ছাড়া একলা এখানে আমি ভালো নেই!বুঝেন না আপনি?”
” সয়ে যাবে।” –বর্ণ’র হাতে ফোন ছিল। নোটিফিকেশনের শব্দ ফোন স্ক্রিনে দৃষ্টি রাখে।একটা মেসেজে নজর যেতেই সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই দ্রুত কদমে কক্ষ ত্যাগ করে।সুখও ছুটল পিছু;জামা না পাল্টেই।
টমিকে কোলে রেখে,বাহিরে গাড়িতে হেলান দিয়ে নূরা দাঁড়িয়ে,পাশে জিসান।নূরাকে দেখতেই বর্ণ’র আগে ছুটে এলো সুখ। দীর্ঘদিন পর কাছে পেয়ে হাঁটু মুড়ে বসে জাপটে ধরে তাকে।নূরা নিজেও সুখের গলা জড়িয়ে মুখ উঁকি দিয়ে বর্ণকে দেখার চেষ্টা করল।বর্ণ অবাক হলো কী না বুঝা গেল না,তবে স্থির চোখ দুবোনকে পরখ করে নূরাকে বলল,” এখানে কীভাবে এলি?”
নূরা ঠোঁট উল্টে সুখের দিকে তাকাল। এরপর বলল চড়া গলায়,” তোমার গাড়ির ঢিকিতে লুকিয়ে এসেছি। কোন সমস্যা?”
জিসান চোখ তুলে তাকায়। চোখাচোখি হলো বর্ণ’র সাথে। দু’জনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।উপস্থিত চার জনের মাঝে অবাক যা হওয়ার সব ভিড় করেছে সুখের মুখে। হতবিহম্বল হয়ে চেয়ে থাকল সে।বর্ণ ঘাড় চুলকে বলল কাঁধ ঝাঁকিয়ে,” কেনো?”
বাচ্চাটা ঠোঁট উল্টেপাল্টে তখুনি কেঁদে ফেলল মেকি।সুখের উদ্দেশ্যে বলল,” দেখলে সুখ?আমি বর্ণকে দুবার বলেছিলাম– আমাকে সুখের কাছে নিয়ে যাও।’ তখন সে কী বলেছে জানো?”
দুদিকে মাথা ঝাঁকায় সুখ। অর্থাৎ সে জানে না।নূরা শুধায়,” বলেছে সুখের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। বর্ণ কী আমার সাথে অন্যায় করেনি এটা?”
সুখ মৃদু হেসে তাল মেলাল। ইশারায় বুঝিয়ে দেয়,” খুব অন্যায় করেছে।”
সরু দৃষ্টিতে বর্ণকে চেয়ে থাকতে দেখে জিসানের কপালে ভাঁজ পড়ল। গন্তব্য আলাদা হলেও,একই সাথে তাদের পথচলা।এই দৃষ্টিতে যে কিছুর ইঙ্গিত আছে,তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কী? পরক্ষণে ভুলবশত সুখের দিকে নজর যেতেই হকচকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে আনলো সে।ও এই ব্যাপার! সুখের দিকে যেখানে চোখ তুলে তাকানো নিষিদ্ধ, সেখানে কীসব পুরুষালী পোশাক আশাক পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে মেয়েটা। ওদিকে সজ্ঞানে হোক বা বেখেয়ালে নজর দিলে আসফিয়ান বর্ণ’র আচরণ আর ভদ্রলোকের মতো থাকবে না। জিসান চাপা শ্বাস ছেড়ে বলল,” আমি যাচ্ছি।নূর এখনই বাড়ি ফিরবে নাকি…”
তড়িতে জবাবটা নূরা দিল,” না আমি এখন ফিরবো না।বাড়িটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। এখানে না ঘুমালে আমার আত্মা শান্তিতে থাকবে না।”
•
সোফায় বসে কয়েকটা ফাইল সামনে রেখে, তন্মধ্যে একটা মেলে দেখাদেখি করছিল মেহরাব। সেসময় জেসি বেরিয়ে বাথরুম থেকে।সদ্য গোসল সেরেছে।ভেজা চুল, মুখশ্রীতে কণা কণা পানির ছাপ।বক্ষস্থলের জামা ঈষৎ ভিজে গেছে।ভেজা চুলের আগা ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে পানি পড়ছিল। হঠাৎ মাথা ঝাড়া দিতেই মেহরাবের ফাইলে গিয়ে পড়ল ছিটা ছিটা জল। তৎক্ষণাৎ রেগে সে মাথা তুলে সামনের রমণীকে দেখে এক মূহুর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল। পরক্ষণে সম্বিত ফিরতেই কঠোর গলায় বলল,” এই মেয়ে দূরে যাও। পানির ছিটা যেনো এদিকে না আসে।”
ভোরের একটা ব্যবহারে মেহরাবের উপর বেজায় চটেছিল জেসি। এখন এমন গাম্ভীর্যতায় দ্বিগুণ মেজাজ খোয়ালো।আরও কাছে গিয়ে সর্বস্ব দিয়ে চুল ঝাড়া মেরে ছিটা ছিটা পানিতে ফাইল ভিজিয়ে দিয়ে বলল,” ওদিকে গেলে কী করবেন শুনি!”
মেহরাব উঠে এলো ধীরে।রাগল না আজ। শীতল কন্ঠে বলল,” বাড়াবাড়ি করছো তুমি মেয়ে!মেরে পুঁতে রেখে দিলেও এখানে কিন্তু তোমার ভাই বা হিরো বাঁচাতে আসতে পারবে না।”
জেসি হাসল,” ভাইয়া স্বয়ং না থাকলেও তার টিম আমার আশেপাশেই। একবার ছুঁয়েছেন অভিযোগ করলেই সেকেন্ডের ব্যবধানে দেখবেন আপনার অস্তিত্বই বিলীন!”
ভ্রু বেঁকে গেল মেহরাবের। তাচ্ছিল্য হেসে বলল,” হুমকি দিচ্ছো? তোমার ভাই গুন্ডা নাকি?”
মূহুর্তেই জেসির মুখের রঙ পাল্টে গেল। আগ্রাসী ভাবভঙ্গিতে আঙুল তুলে বলল,” ডক্টর… আমার ভাইয়াকে একদম গুন্ডা বললেন।খুব খারাপ হবে বলে দিলাম।”
#চলবে🦋

