আমার_বোবাফুল(৬৮) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
53

#আমার_বোবাফুল(৬৮)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

সিক্রেট হিসেবে সেবার আব্বু-আম্মুর মাঝে দুষ্টুমিষ্টি একটুকরো প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়েছিল সুখ। আব্বুকে অভিনয় করে দেখিয়ে বুঝাল- কীভাবে একটা যুবক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আম্মুর দিকে চেয়ে থেকেছিল।আর আম্মুকে বুঝাল- এতো এতো মানুষের ভিড়ে একটা মেয়ে আব্বুকে লাভ লেটার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল।কত্তো বড় সাহস তার!অতঃপর বাকিটা ইতিহাস!

ঘরটা তখন ফুলে ফুলে সাজানো।তাই তো এর নাম বাসর ঘর।সাদা বিছানায় গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লাভ শেপ, তার মুখোমুখি তুহফা নামের মেয়েটি নববধুর রূপে বসা। লজ্জায়, আড়ষ্টে ঢোক গিলছে বারবার।বুকের ভেতরের ধুকপুক শব্দটা কানে স্পষ্ট।

দরজা খোলার শব্দে থরথরিয়ে কেঁপে উঠে সে।মাহির ধীরে ডোর লক করে এগিয়ে এলো।বসল তুহফার খানিক দূরত্বে। নিরবতার মিনিট খানেক পর তুহফা নড়চড়ে বসে।বেড সাইড টেবিল থেকে দুধের গ্লাসটা এগিয়ে দিল মাহিরের দিকে। মৃদু গলায় বলল,“ আপনার জন্য।”

“ তোমার জন্য নয় কেনো?”

প্রশ্নে তুহফা থমথম খায়। কী করে বলবে- এটা দু’জনের জন্যই, সমান অর্ধেক অর্ধেক।মাহিরের বোন দুষ্টুমির ছলে বলে গেছে ‘এতে নাকি ভালোবাসা বাড়ে’!তবে তুহফা “ অর্ধেক খেয়ে বাকিটা আমার জন্য রেখে দিন।” কথাটি মুখ ফুটে বলতে লজ্জা পেলো। তাই প্রত্যুত্তরে যৌন রইল।

তুহফার মনের ঝড় মাহির বুঝলো কী বুঝল না কে জানে।সে গ্লাসটা হাতে নিল।এক চুমুকে কিছুটা খেয়ে পুণরায় গ্লাস তুহফার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,“ এটা শেষ করো।শুনেছি এঁটো খেলে ভালোবাসা বাড়ে। দীর্ঘ এক অপেক্ষা, যোজন যোজন দূরত্ব মাড়িয়ে বিয়ে তো হয়েই গেলো। এরপর দু’জনের মাঝে যদি ভালোবাসায় খাদ থেকে যায়, তবে তো সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হবে।এটা কী করে হতে দেওয়া যায়?”

মাহিরের আদেশ মতো তুহফা বাকিটা খেয়ে গ্লাস রেখে দেয় যথাস্থানে।হাতে হাত ঘঁষছে। কপালে,গলায় ঘামের উপদ্রব হয়েছে। মাহির তাকে আগাগোড়া পরখ করল।বধূ মুখখানা ঘোমটা’র আড়ালে। মুখশ্রী দেখা দুষ্কর।গলা পরিষ্কার করে বলল,“ ওরা কিছু শিখিয়ে দেয়নি?”

স্বর এলোমেলো হয় তুহফার, “ দ্ দিয়েছে তো।”

“ কী কী শিখলে?”

“ প্রথমে সালাম দিতে বলা হয়েছিল।”
“ দাওনি তো?”

অপরাধী গলায় মিনমিনে সে বললো,“ খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।এখন দেই? আসসালামু আলাইকুম!”

“ হুম… ওয়ালাইকুমুস সালাম। তারপর?”
“ তারপর ঘোমটা তুলুন আমার।”

মাহির হাসল।কোণা চোখে চেয়ে বলল,“ আমাকেই তুলতে হবে?”

“ বলল তো এমনই।”

দূরত্ব ঘুচিয়ে নেয় মাহির।ঘোমটা তুলতে গেলেই বাঁধার সম্মুখীন হলো।ঝট করে তুহফা ঘোমটা টেনে ধরে বলল,“ পূর্ব শর্ত আছে!”

“ আমার বউয়ের মুখ আমি দেখবো এতে আবার কীসের শর্ত?মগের মুল্লুক নাকি?”

ঘোমটার অন্তরালে তুহফা ঠোঁট কামড়ে লজ্জাষ্কর হাসে‌।ধীর গলায় বলল,“ বউয়ের মুখ দেখার আগে ফিঃ দিতে হবে।”

“ হাহ্?”– মাহির রাজ্যের আশ্চর্য হলো। বান্দর গুলো কী তাকে রাস্তায় বসানোর প্ল্যান এঁটেছে!গত তিন চারদিন ধরে যেখানে যাও ফিঃ দাও দাও করে পকেট ফাঁকা করেছে প্রায়। গম্ভীর মুখে বলল,“ এমাউন্ট বলেছে?”

“ তা বলেনি।”

সজোরে মাথা নাড়ল মাহির।ওয়ালেট থেকে একটা নোট বের করে তুহফার হাতে দিল।

“ এবার ঘোমটা উন্মোচন করতে পারি বধূ রাণী?” –জবাবের অপেক্ষায় না থেকেই ঘোমটা সরিয়ে ফেলল।হাতে ধরিয়ে দেওয়া নোটের দিকে নজর যেতেই তুহফার ঠোঁট থেকে লজ্জা মিশ্রিত হাসি গায়েব। বিষ্ময় প্রকাশ করে বলল, “ দশ টাকা মাত্র?”

মাহির মেকি হতাশার ভান ধরে জবাব করে,“ পাঁচ টাকা ভাংতি নেই।”

রাতের সেসব মূহুর্ত স্মরণ করে এখন পেট চেপে হাসি পাচ্ছে তুহফার।সাথে অল্প বিস্তর আফসোস।মাহির ভাই এমন কিপ্টে আগে জানা ছিল না। আয়নায় তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিল সে।ভেজা চুলগুলো তোয়ালে চেপে মুচ্ছে। সেসময় পিছু থেকে পুরুষালী বাক্য তেড়ে এলো কটা, “ গোসল করেছো কেনো গো? যদ্দুর মনে পড়ে কাল রাতে আমাদের মাঝে বাসর-টাসর হয়নি।”

তুহফা যেন প্রতিক্রিয়া দেখাল ভুলে বসল।চুলের বিচরণ করা তোয়ালে সমেত হাতখানা থেমে গেল অবচেতনে। বিষ্ময় নিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল, “ মাহির ভাই! আপনি এসব ভাষা …”

মাহির বেড থেকে উঠে এসে সন্তর্পণে তুহফাকে নিয়ে পুণরায় বেডে আধশোয়া বসে, এরপর তাকে কোলে নিয়ে বলল গম্ভীর শাসানোর স্বরে, “ মাইর চেনো,মাইর?হোয়াট ইজ মাহির ভাই?এমন অনুভূতি মিশিয়ে ভাই ডাকছো যেন- দুজন এক মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে পৃথিবীতে খেলাধুলা করতে এসেছি।”

রিকাজ ফরাজীর প্রাণ যায় যায় দশা।জিভ না থাকায় কথা বলতে পারে না। রক্ত ছুটা স্থগিত হয়েছে মদিও। অস্ফুট স্বরে “ আঃ উঃ” করে অদূরে সটান দাঁড়িয়ে থাকা জিসানকে কিছু বলছে। জিসানের নজর অন্যত্র। আড়চোখে একবার দেখে পুণরায় দৃষ্টি সরিয়ে রাখে।রিকাজ ফরাজী’কে বলা হয়েছিল- “ বর্ণ’কে সব সত্যি বলার ফাঁকে একটা সামান্য মনগড়া মিথ্যে ব্যাখ্যা যেন যুক্ত করে। বিনিময়ে তাকে এই অন্ধকার পুরি থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু মুক্তি তো মিলল না। বরং অ-মা’নু’ষিক টর্চার দেওয়া হচ্ছে তাকে। এরচেয়ে মৃ!ত্যুই অধিক শ্রেয়।

সিয়াম মুখ বাঁকিয়ে বললো,“ কী! খুব খারাপ লাগছে? ব্রো… জন্ম থেকেই তুই নিজেই তো মানুষের সাথে বিশ্বা-সঘাতকতা’র খেল খেলে এসেছিস।আজ অন্যের থেকে নিজেই না হয় একটু সাফার কর!সয়ে নে ব্রো !সবি কপাল!”

কেটেছে সপ্তাহ খানেক।আজ মেহরাব দ্রুত ফিরেছে। আজকাল দ্রুতই ফেরার চেষ্টা করে সে।সব ঠিকঠাকই ছিল সারাদিন। হসপিটালে থাকতে জেসির সাথেও কথা হয়েছে ফোনে। ডিনার সেরে মায়রা’র পাশে কিছুক্ষণ বসে দু’জন রুমে এলো।বেডে বসতে বসতেই মেয়েটার রূপ আচানক বদলে গেল। মেহরাবের দিকে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ছেড়ে একদৃষ্টে চেয়ে আছে এখন। আবার চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়েও দেখছে।সময় সময় মায়রার সাথে ছোট থেকে একসাথে বড় হওয়ার ক্যামেরা বন্দী ছবিগুলো দেখে মেহরাব স্মৃতি চারণ করে।আজও বেডের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে কোলে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিল।জেসির দৃষ্টি অবলোকন করে হঠাৎ ভ্রু কুঁচকে চাইল, “ এ্যানি থিং রং? হ্যাপি হ্যাপিই তো ছিলে এতোক্ষণ?”

জেসির ভাবান্তর হলো কই!চোখ গোল গোল করে অসন্তুষ্টি নিয়ে তাকিয়েই রইল কেবল। প্রতিক্রিয়া না পেয়ে মেহরাব কিছু বলল না আর। দৃষ্টি ল্যাপটপে ঘুরিয়ে নিল। পরবর্তী সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই জেসি তার কলার চেপে নিজের মুখোমুখি করে বলল রোবটিক গলায়,“ সেদিন যেই ফ্লাওয়ার ভাস কিক মেরে ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করে রেখে এসেছিলেন,ওটা আমার ফেভ্রেট ছিল।”

কপালের ভাঁজ মূহুর্তেই শিথিল হয়ে গেলো মেহরাবের।থমকে যাওয়া দৃষ্টি মেলে হতবুদ্ধির মতো চেয়ে থাকে কিছুপল। এরপর নিরবে কলার ছাড়িয়ে নিয়ে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল আস্তেধীরে। চোয়ালে আলতো হাত মালিশ করে বলল নির্বিকার ভাবে,“ স্যরি।”

জেসি অল্প হাসলো জোরপূর্বক। এরপর কোমল গলায় বলল, “ না গো! শুধু স্যরিতে চিঁড়ে ভিজবে না! অনলাইনে-ওফলাইনে হন্যে হয়ে ঘুরেফিরে এটা চুজ করেছিলাম।”

“ এখন কী করতে হবে?”
“ হুবাহু এমন একটা কিনে দিয়ে মূল্য চোকাতে হবে।এর বেশী কিছু চাই না আপাতত।”

পুণরায় সে হাসে। মেহরাব মাথা নাড়ল। কপাল গুনে একখান ইডিয়ট বউ এসে জুটেছে! কিছুই করার নেই।এটাই নিয়তি ।বউকে এবং বউয়ের মেকি মন্ত্রমুগ্ধ হাসিটা পর্যবেক্ষণ করে ধীরে জবাব দিল, “ শুনে ভালো লাগলো। থ্যাঙ্কস… থ্যাঙ্কস ফর অ্যাভ্রিথিং!”


বর্ণ খুব রাতে ফিরে,রুমে সুখকে পায়নি কোথাও। মহারানীর খোঁজে মহাশয় তার রুমে চলে এলো পরপর। এখানেও সুখের দেখা নেই। কপাল গুটে গেল বর্ণ’র।ফিরে যেতে দরজার দিকে পা বাড়িয়েও আবার থেমে গেল হঠাৎ।রুমের সাথে লাগোয়া পেইন্টিং রুমের দরজা মাড়িয়ে অল্প আলো ছিটকে আসছে। চট করে দরজাটা খোলে যেতেই সুখ চমকে উঠে। ধড়ফড়িয়ে ক্যানভাসে থাকা পোট্রেট কাপড়ে ঢেকে দিয়ে পিছু ঘুরে। বুকে দুহাত ভাঁজ করে দেয়ালে হেলান দিয়ে বর্ণ চেয়ে রয় অপলক। তৃষ্ণার্ত চোখের দৃষ্টি।সুখ হাঁসফাঁস করে উঠে।লজ্জায় দু কান দিয়ে উষ্ণ ধোঁয়া বের হচ্ছে যেমন। রংতুলি ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় সুখ বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে।যেনো কাপড়ে লেগে না যায়।তবু অল্পস্বল্প ছিটা আজ লেগেছে শাড়িতে।বর্ণ কাছে এলো, ধীরে রংতুলি হাতে‌ নিল পরক্ষণে।সুখ থমকায়। মানুষটা কী এখন পেইন্টিং করবে? ভাবনার মাঝের উদর ঠান্ডা পরশ পেয়ে চমকে উঠল।উদর থেকে শাড়ির আঁচল অল্প সরে গিয়েছিল,বর্ণ রংতুলি ছুঁইয়ে দিয়েছে সেথায়।সুখ তড়িঘড়ি করে শাড়ি ঠিক করে চুপসে দাঁড়িয়ে থাকে চোখ নামিয়ে।

বর্ণ প্রতিরোধ করল না বরং ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো অল্প।ক্যানভাসে হাত বাড়াতে গেলেই চকিতে সুখ চেপে ধরল হাতটা। অসহায় মুখে দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে অনুরোধ করে, “ না প্লীজ।”

বর্ণ শুনে এসব অনুরোধ?নামে কোন বাঁধা?সে পুণরায় হাত বাড়িয়ে ক্যানভাস থেকে কাপড় সরিয়ে নিতেই সুখ এবার বুকে মুখ লুকালো তার।জেকেটে মুখ লুকিয়ে মিলেমিশে গেলো বর্ণ’র সাথে।

ক্যানভাস আঁকা পেইন্টিংয়ে দুটো চোখ। তীক্ষ্ণ,ঝারালো ধূসর কালো মণি চোখ।প্রশ্ন যদি হয়– আঁখি জোড়া কার হতে পারে?তবে উত্তরে উঠে আসবে– নিঃসন্দেহে আসফিয়ান বর্ণ’র!

“ ওয়াও, সো অ্যাট্রাকটিভ!”–বর্ণ শব্দ করে হেসে ফেলল সুখ জড়িয়েই। দীর্ঘ কতো দিন পর এভাবে দুনিয়া ভুলে হাসছে বর্ণ?হাসিটা ভীষণ দেখতে লোভ হলো সুখের।মাথা তুলে ড্যাবড্যাব করে দৃষ্টি ফেলল একান্ত পুরুষটির মুখশ্রীতে। অজান্তেই তার চোখে মুগ্ধতা ধরা দিল একরাশ।আজও মন বলে উঠে– বাবার পরে এমন সুন্দর পুরুষ দ্বিতীয়’টি নেই ভূবনে। অন্তত তার দৃষ্টিতে।

বর্ণ হাসি থামিয়ে সুখের চোখাচোখি চোখ রাখল। লজ্জায় পড়ে এবার সুখ নজর নামিয়ে নিল না মুটেও।সেও চেয়ে রইল অনিমেষ।দু জোড়া দৃষ্টি যেন পরষ্পরের গভীরে হারিয়ে গেল এক মূহুর্তের জন্য।

সন্তর্পণে স্তম্ভিত সুখের দুগালে আর নাকে রং মেখে দিল বর্ণ, বিড়ালের মতো রেখা। এরপর কানের কাছে মুখ নিয়ে লতিতে ঠোঁঠ ছুঁইয়ে বলল ফিসফিসিয়ে, “ মাই কিটেন!”
_
রুমে এসে সোফায় বসল সুখ।বর্ণ খুব সূক্ষ্ম চোখে একেকটা আঁকা শেষ, এমন পেইন্টিং দেখছিল।ফিরে এসে সুখের উদ্দেশ্যে বলল,“ রুমে আয় বউ।আই নিড রেস্ট।”

সুখ শুনল না সেই হুকুম।পায়ে পা তুলে বসে থাকল। বর্ণ’র চলতি পা থামিয়ে চট করে ঘাড় বাঁকিয়ে বউকে দেখল।পিছু কদম নিয়ে এলো দুধাপ। সুখের মুখোমুখি প্রায়।সে নজর তুলতেই দু’জনের চোখাচোখি হয়।বর্ণ ভ্রু নাচালো।

“ আমি কে আপনার?”

এক ভ্রু তুলল বর্ণ।সূচালো দৃষ্টি ফেলে পরক্ষণে বাঁকা হেসে জবাব দিল,
“ সুইটহার্ট।”

সুখ মুখ কঠিন করে ইশারায় জানতে চায়,“ আর?”
“ জানে মান।”

“ আর?”
“ উমম… আশিকি!”

নড়েচড়ে বসল সুখ, “ আর?”
“ আর… বউফুল?”

সুখ এবার বলল, “ বউ!বউকে তুই তোকারি করতে লজ্জা করেনা আপনার?কান ধরে মাফ চান,আর নিজের ভুল শুধরে নিন এখনই!”

তার কথা অনুধাবন করে এক মূহুর্ত সময় ব্যয় করেনি আসফিয়ান বর্ণ।ধপ করে দু হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল সুখের সামনে,দুহাত কানে চেপে।বলল পরপর,“ ভুল করে ফেলেছি মহারানী।মাফ করে দেয়া যায় না?”

সুখ স্তব্ধ, বিমূঢ়। বর্ণ এমন কিছু করবে- তা সে দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। শুধু পরিক্ষা করতে চাইছিল- খবরদারি দেখালে বর্ণ সেদিনের মতো তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, কিংবা ধমকায় কিনা। কিন্তু এখন…

বর্ণ এই পর্যায়ে নিকটে চলে এলো তার। চোখে চোখ রেখে, দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলিয়ে একদম মুখোমুখি। ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁই ছুঁই এমন। সুখের অধর জোড়া পরষ্পর থেকে ফারাক হয়ে গিয়েছে অনেক্ষণ।বর্ণ আলগোছে থুতনিতে ধরে মুখটা অফ করে দিয়ে স্বরে মাদকতা ছড়িয়ে বলল,“ মাফ করে দিয়েছেন বউফুল!আমি অধৈর্য হচ্ছি। জবাব চাই রাইট নাউ।” –কথার ফাঁকে সামান্য ঠোঁট ছুঁয়ে গেল ঠোঁটে।একটু শিরশিরে অনুভূতিতে সুখের অন্তঃকরণ ছলকে উঠে। নিঃশ্বাসের শব্দ ভারী হয়।বর্ণ পুণরায় বলল, “ আমি কিন্তু কান ধরে আছি সুইটহার্ট।মাফ করেছেন কী না বললেন না তো?”

ঢোক গিলল সুখ।কোনো রকম উপর নিচ মাথা ঝাঁকায় আস্তে করে।বর্ণ হাসল ঠোঁট একপেশে।

“ গ্রেটিটিউড!” ঠোঁট দুটো আরো এগিয়ে নিতেই চোখ বুজে নিল সুখ।তা দেখে মনে আনন্দ পেলো যেনো ভীষণ। তৃষ্ণার্ত চেয়ে রইল। অনেক্ষণ বর্ণ’র ছোঁয়া না পেয়ে পিটপিট চোখ খুলতেই বর্ণ কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল, “ যাচ্ছি,ওখেই?”

তাকে অনুভূতির সাগরে ছুঁড়ে ফেলে বর্ণ পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে বর্ণ পালাতে চাইছে কী!হুট করে দুহাতে তার গলা জড়িয়ে ধরল সুখ। ঠোঁট নেড়ে বুঝায়,“ আমার ঠোঁট ফেটে গেছে।”

বর্ণ তার ঠোঁট ছুঁয়ে জবাব করল সন্দিহান গলায়, “ অথচ আমি ঠিকঠাকই দেখতে পাচ্ছি।”

“ কিন্তু ঠোঁট ফেটেছে আমার।”

বর্ণ নেশাগ্রস্তের মতো ঘোরলাগা চোখে চেয়ে জানতে চায়, “ ট্রিটমেন্ট চাই? মেডিসিন লাগবে?”

অত্যাধিক পরিমাণে কাঁপছে সুখের সর্বাঙ্গ।আরও একধাপ এগিয়ে টুপ করে চুমু খেলো বর্ণ’র ঠোঁটে। এরপর চোখ বুজে উপর নিচ মাথা ঝাঁকায় ‘হ্যাঁ বোধক’! মূহুর্ত ব্যয় না করে ঝটকায় কোলে তুলে নিল তাকে বর্ণ।এগুতে এগুতে বলল সম্মোহনী কন্ঠে,“ আর ইয়্যু শিওর? তাহলে শুরু করা যাক!”

#চলবে 🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here