আমার_বোবাফুল(অন্তিম’১) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
60

#আমার_বোবাফুল(অন্তিম’১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

আলট্রা লেভেলের কোন চোর-ডাকাতের সাথে সুখের সম্পর্ক নেই বলে আঁচল তুলে দিয়েছিল মুখের উপর। অথচ বর্ণ হার মেনে নিল না। একটানে তাকে কোলের উপর আঁচড়ে ফেলল। এরপর গাড়ির ব্রেক কষে বলল, “পারমিশন নয়।দ্যাট ওয়াজ জাস্ট অ্যা ফর্মালিটি,ইয়ার।”

অতঃপর অধর জোড়া পুরুষালী অধরের দখলদারিত্বে চলে গেল।সুখ আবেশে ছটফটিয়ে উঠে। পুরুষটার ছোঁয়া খুব একটা খারাপ লাগে না যদিও,তবে দমবন্ধকর এক অনুভূতির সাথে পরিচয় ঘটে। দীর্ঘ এক চুম্বন শেষে ছাড়া পায় সুখ। নিঃশ্বাসের উপর নিঃশ্বাস উঠে গেছে।ধীরে মাথাটা বর্ণ’র বুকে এলিয়ে দিল। চুপটি করে থাকল মুখ ফাংশুটে করে।তা দেখে বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল নিঃশব্দে।বলল অবুঝ গলায়,

“সেদিন আমার রুমে,বেডের মাঝে একটা বোবাফুল কেঁদে কেটে বুক ভাসিয়েছিল, মনে পড়ে তার কথা?”

মুখটা আরো ফাংশুটে হয়ে এলো সুখের। ঘনঘন দুদিক মাথা ঝাঁকিয়ে ‘উহু’ বুঝিয়ে দাঁত বসিয়ে দিল বর্ণ’র বুকে।মিছে আর্তনাদে বর্ণ চেঁচিয়ে উঠে, “আউচ, জানবউ হৃদয় চিনচিন করছে তো ব্যথায়। পাষাণীর মতো এভাবে যখন তখন কামড়াকামড়ি করতে আছে?কিছুমিছুর ক্রেভিংস উঠে যে।রাত নামুক,বাড়ি পৌঁছাই আগে?”

চোখ খিচে বুকে মুখ লুকায় সুখ।এই পুরুষ জঘন্য রকমের অসভ্য।আগে জানলে ভালোই বাসতো না সে!গাড়ি পুণরায় স্ট্যার্ট দিতে দিতে শব্দ করে হেসে ফেলল বর্ণ।মুখ নামিয়ে কপালে চুমু এঁকে দেয় বউয়ের।

সেদিনও বর্ণ কাছে আসতে চাইলে সুখ নাকচ করে দিয়েছিল।কী ভেবে বর্ণ এক ইশারায় মেনে নিল তার চাওয়া। নিজেকে দমিয়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।ফিরে এসে দেখতে পেল- বেডের মাঝে ক্রন্দনরত সুখকে।সেকী কান্না!চোখের পানি, নাকের পানি এক করে ফেলেছে। অশ্রু মুছতে মুছতে গাল প্রায় র/ক্তি/ম।এর কারণ? কারণ ছিল এটাই- সে না হয় নিষেধ করেছে।বর্ণ কেনো বরাবরের মতো জোরপূর্বক কাছে এলো না?আদর দিল না কেনো?

নিশি রাত।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১ টা’র ঘরে। ছোট বড় একাধিক ভবনের মাঝে রাস্তায় প্রান্তরে সাত তলা একটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে প্রকাণ্ড। ভবনের তৃতীয় তলা, রুম নাম্বার ৫০৩। ভেতর থেকে ভাংচুরের শব্দ ভেসে আসছে।সেই সাথে মেয়েলি একটা ভয়ার্ত স্বর, “আগুন… আগুন… ছেড়ে দাও ওকে। আগুনে কেউ আছে। পুড়ে যাচ্ছে ও। প্লীজ ওকে বাঁচাও।আ-মায় মুক্তি দাও।আ’ম স্যরি।আগুন.. আগুন”

এলোমেলো চুলের,মলিন বরনের মেয়েটা দুহাতে বালিশ চেপে যথাসাধ্য সেঁটে গেল খাটের সাথে; পারলে হেড বোর্ডে ঢুকে যায়।একসময় মাথা চুলকাতে চুলকাতে হুঁ হুঁ কেঁদে উঠলো।ফের বলল নিভু নিভু গলায়, “আগুন…ওখানে আগুন!”

অদূরে মধ্যবয়সী এক ভদ্রমহিলা আঁচলে মুখ চেপে কাঁদছে। চোখের সামনে মেয়ের এই অবনতি প্রত্যক্ষ করা কোন মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে সম্ভব-অসম্ভব, চেষ্টা -অপচেষ্টার উর্ধ্বে ‘নিয়তি’ বলেও কিছু একটা আছে।তার জোরেই সামিয়া আজ মানসিক হসপিটালে দাঁড়িয়ে।মেয়ে কিছুটা শান্ত হয়ে আসতেই‌ ধীরে এগিয়ে গেলেন তিনি।অতি সাবধানে কদম বাড়াতে বাড়াতে বললেন, “মিশ্মি, বাচ্চা আমার।কাম ডাউন। চারপাশে তাকিয়ে দেখো।আগুন নেই কোথাও।”

বড্ড ক্লান্ত হয়ে আছে মেয়েটির দেহ। ঢুলুঢুলু চোখ তুলে তাকায়।হ্যাঁ, এই মেয়েটাই মিশ্মি।পুরো দুনিয়ার কাছে সে এখন মানসিক রোগী। ঝলসে যাওয়া শরীর সার্জারি করে, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে বিদেশে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে বাবা-মা তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে তো এনেছে, তবে সে হারিয়েছে মানসিক ভারসাম্য, নিজের অস্তিত্ব।এই মিশ্মির চেহারার সাথে আগের চেহারার আকাশ-পাতাল তফাৎ।হতে পারে সার্জারিতে গোলমাল। যেদিন থেকে জ্ঞান ফিরেছে সেদিন থেকেই ‘আগুন.. কেউ আছে আগুনের ভেতর। পুড়ে যাচ্ছে সে।ওকে বাঁচাও।’ এমনই চিৎকার চেঁচামেচি করে, ভাংচুর শুরু করে। নিজের অস্তিত্ব লুকিয়ে ফেলতে ভীষণ তাড়া থাকে তখন।স্বজনদের কাউকে চেনেনা।রাত দিন মিশ্মির জপা কথাগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ। শক্তপোক্ত কোন ক্লু নেই হাতে। সন্দেহভাজন কাউকে চোখেও পড়ছে না। সন্দেহের তীর আসফিয়ান বর্ণ’র দিকে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।কারণ- মিশ্মিকে খোঁজে পেতে আর তার চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি ইত্যাদিতে বর্ণ’র অবদান রয়েছে প্রচুর।

শাড়ির আঁচলে মিশ্মিকে লুকিয়ে ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর বৃথা চেষ্টা চালিয়ে গেলেন সামিয়া। বিদেশ থেকে অপুষ্টিকর, শুকিয়ে কাঠ অনুরূপ শরীরের মিশ্মিকে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে,নিজেদের সাথে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দিনকে দিন মানসিক অবস্থা অবনতি হচ্ছিল মিশ্মির। ভাঙচুর, নিজেকে শেষ করে দেওয়ার খুব তাড়া যেনো তার! উপায়ান্তর না পেয়ে ছয়/সাত মাস আগে এখানে রেখে গেছে তাকে। মা’র আঁচল থেকে ধীরে মাথা তুলে নির্বোধ শিশুর মতো মিশ্মি প্রশ্ন করে, “কে তুমি?”

রোজ এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় সামিয়াকে।আজ উত্তর পেলে,কাল পুণরায় ভুলে যায় মিশ্মি।ধরে আসা গলায় সামিয়া বলে, “মম’কে চেনো না?”

“মম?এটা কী?”

“মা!”
“ওহ্,তুমি আমার মা হও?”

“হুঁ!মা তোমাকে খুব ভালোবাসে।”

“ভালোবাসে?”-ফ্যালফ্যাল চেয়ে রয় সে। ভালোবাসা কাকে বলে বুঝতে পারে না।একটু পর বলতে চাইল ক্ষীণ স্বরে, “আগুনে কেউ আছে, তাকে…”

কথা সমাপ্তির আগে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে মিশ্মি।ইনজেকশনের প্রভাব।মেয়েকে শুইয়ে দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নিজেও শুলেন সামিয়া। ডক্টরের অনুমতিতে প্রায়শই মেয়ের পাশে এসে রাত কাটান তিনি।

সময় চলে সময়ের নিয়মে।তার কোন পিছুটান নেই।কী অদ্ভুত! এরপর? এরপর বৈচিত্র্যময় এই জীবন থেকে হারিয়ে হলো- কতো শতো ক্ষণ,কতো সময়!এক মাস নয়, পাঁচ মাস নয়, বহু মাস।সামান্য ভুলে কারো জীবন বরবাদ হলো, কেউ বা খোঁজে পেলে বাঁচার নতুন আশা।কেউ ত্যাগ করল পৃথিবীর মায়া, কেউ পা পাল্টে নিল জীবনের গতিপথ। অবশেষে এটাই প্রমাণিত হয়- কারো জীবন চিরদিন এক জায়গায় থমকে থাকে না।দিনের পর রাত নামে,রাতের পর দিন। এভাবেই হায়াতের দিন থেকে একেকটা দিন বিয়োগ হয়ে, মানুষ অবচেতনেই ধাবিত হচ্ছে শেষ পরিণতির দিকে। অথচ নির্বোধ মানবকুল তখনো দুনিয়ার মোহে ডুবে বিভোর। আফসোস…

জেসি আর তার মিস্টার অ্যারোগেন্ট মিলে নতুন এক জীবনে পদার্পণ করেছে এরিমধ্যে।সেই চঞ্চল হরিণীর মতো ছটফটে মেয়েটাও মা হতে যাচ্ছে।কতো আনন্দ, প্রতিজ্ঞা, কতো যত্ন, কতোশতো স্বপ্ন,কল্পনা-যল্পনা। অতীত ভুলে তারাও পরষ্পরের কাছাকাছি এসেছিল, গভীর স্পর্শে ছুঁয়েছিল একে অপরকে।সেই ধারা জারি রেখে আজও আসে, ছুঁয়ে।তবু জেসির দুঃখ গুছে না।আজও জানতে চাইলে কুমড়ো পটাশ লোকটা মুখের উপর বলে দেয়- “তার জন্য কোন মায়া, মোহাব্বাত,ভালো লাগা, ভালোবাসা নেই। ব্যাস কোন এক আকর্ষণে দু’জনের মাঝে এতো কিছু হয়ে গেছে।”

সেদিন তো জেসি দাঁতে দাঁত চেপে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই ভাঙচুর করা শুরু করে দিয়েছিল।ম্যানার্সলেস, ইউসলেস লোক!ইজ্জত হরণের পরও নাকি বুক উঁচিয়ে বলে- তার জন্য কোন অনুভূতিই নেই।

মেহরাব তৈরি হচ্ছে হসপিটালের জন্য। সকাল ৯টা বেজে ৪৫ মিনিট।আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে একবার কাউচে সরু চোখে চেয়ে থাকা জেসিকে পরখ করল। ঘড়ির চেইন আটকানো শেষে তার দিকে ফিরল চুলে হাত বুলিয়ে।

“কী ব্যাপার, ভাবছো কী?”
“অনেক কিছুই।”

“কী কী?”
“আপনাকে বলবো কেনো?আমি চিনি আপনাকে?”

“সেটা অবশ্য চেনো ‘না’। অপরিচিত কাউকে যা-তা শেয়ার করা ব্যাড হ্যাভিট।বলো না বরং।”

মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে জেসি। নিঃসন্দেহে মেহরাবকে বকা ছাড়া ভালো কিছু বলেনি।সে এগিয়ে এলো, জেসির মুখটা দুহাতের আঁজলায় ভরে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে ছেড়ে দিল খানিক বাদে। এরপর ভাবখানা এমন করল যেন- পথের কিনারে বসে থাকা জেসিকে দয়া দেখিয়ে একটা শুকনো চুমু দিয়েছে মাত্র।

হাতের ফাইলটা মেলে আড়চোখে জেসিকে দেখে মেহরাব জানতে চাইল, “রাগ এখনো কমেনি?”

হাত কচলাতে কচলাতে জেসি বিতৃষ্ণা নিয়ে জবাব দেয়, “নাহ্।”

“কমানোর চেষ্টাও করোনি?”
“আপনি রাগিয়ে দিয়েছেন।আমি কেনো চেষ্টা করবো?”

অগোচরে ঠোঁট কামড়ে হাসে মেহরাব।মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “তাও ঠিক।রাগিয়ে যেহেতু আমি দিয়েছি,রাগ ভাঙানোও আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।” –থেমে বলল ফের, “তো, চলো রাগ ভাঙিয়ে নিয়ে আসি?”

জেসি তড়াক করে তাকায়, “কোথায় যাবো।”

“তুমিই বলো কোথায় নিয়ে গেলে খুশি হবে?”

“ভাইয়ার কাছে!”
“ওখেই, গ্রান্টেড।”

মেয়েটা লাফিয়ে উঠে মেহরাবের গলায় ঝুলে পড়ল চোখের পলকে, “সত্যিই।”

মেহরাব দুহাতে আগলে রেখে তার চোখের চঞ্চলতা লক্ষ্য করে একদৃষ্টে চেয়ে রয়। এরপর গম্ভীর হয়ে বলল, “নো লাফালাফি।ভুলে যেও না, এখন তুমি একা নও। নিজের ভেতর আমার অংশ ধারণ করে আছো।”

“ও-ওহ্!সব আপনার? আমার কোন ক্রেডিট নেই?” –বুকে আচ্ছা মতো একটি কিল বসিয়ে দিল শেষে।

জেসিকে এই পর্যায়ে নিজের সাথে আরো শক্ত ভাবে আঁকড়ে ধরল মেহরাব।টুপ করে ঠোঁটে একটা চুমু দিল। এরপর কপালে আলতো টোকা দিয়ে বলল, “অস্বীকার করার উপায় নেই।থাকলেও থাকতে পারে একটু-আধটু!”

ঠোঁটের আগায় প্রত্যুত্তর এসে হুরহুর করলেও চুপ রইল জেসি। ঝগড়া করবে না এখন। ভাইয়ার কাছে যাবে যে। জিসান এখন একা নেই।মিহিকাকে বউ করে ঘরে তুলছে মাস খানেক হবে। টোনা টুনির সংসার হয়েছে দু’জনার।

ফাঁকা বাড়িতে মানব বলতে তুহফা’ই আছে শুধু। শশুর, শাশুড়ি,ননদ-দেবর এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে বিয়ে উপলক্ষে।তাকেও পই পই করে যেতে বলা হয়েছিল যদিও।ইদানিং শরীর দূর্বল দূর্বল লাগে,মাথা ঘুরায়। সমাগম তো একদমই সহ্য হয়না। তাই ই মূলত যাওয়া হয়নি তুহফার।কিচেনে রান্না করছিল সে। মাহিরের পছন্দের চিংড়ি আর তিত করলা।প্যানে সব উপকরণ দেওয়া প্রায় শেষ। খুন্তি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিচ্ছিল। হঠাৎ উন্মুক্ত উদরে কারো আঙুলের স্পর্শ পেতেই চমকে উঠলো। একপ্রকার ছিটকে দূরে সরে যেতে চাইল।তবে পারল না। এরআগেই দু’হাতে বন্দী হয়ে গেল সে।

“ ভয় পায় না জান।আমিই, তোমার জামাই।”

স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে তুহফা।ভয় পেয়ে গিছিল খুব। গমগমে স্বরে বলল, “আপনার না বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল?”

“কিন্তু গেলাম না।বাড়িতে এমন সুন্দরী বউ ফেলে, অন্যের বউ দেখে আমার লাভটা কোথায়?”

সেকথার উল্টো পিঠে কিছু বলল না তুহফা।তাড়া দিল, “রান্না পুড়ে যাবে। ছাড়ুন এবার?”

“ রান্না কার জন্য? আমাদের জন্য নিশ্চয়ই?”
“জ্বী মশাই। এবার শান্তিতে রান্না করতে দিন আমায়। কখন এলেন?রুমে যান আমি ঠান্ডা শরবত নিয়ে আসছি!”

“জান গো, একা যেতে ভীষণ ভয় লাগছে।বুকে হাত রেখে একবার অনুভব করো- ভয়ে কলিজাটা লাফিয়ে বেড়াচ্ছে!”

“হোয়াট?”

তুহফা নাক কুঁচকায়। বাচ্চা নাকি?দিন দুপুরে রুমে একা যেতে ভয় পাচ্ছে!নাটক! মাহির প্রত্যুত্তর না করে গ্যাস অফ করে দিতেই মেয়েটা রেগে গেল, “গ্যাস বন্ধ করে দিলেন কেনো?খাবেন কী?”

ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে সরু চোখে তাকাল মাহির।সেই দৃষ্টি অবলোকন করে তুহফা নিজের দিকে একঝলক চায়। পরপর চোখের দৃষ্টিতে মাহিরকে সাবধান করল- যেন নজর সংযত রাখে। অথচ মাহির এক ঝটকায় পাঁজাকোলা করে নিল তাকে। কিচেন থেকে বেরোতে বেরোতে বলল, “আজ ভাত খেয়ে পেট পুজো করবো না।পুরো বাড়ি ফাঁকা আছে।এই তো সুযোগ।বউয়ের সাথে হাডুডু খেলবো, চুমু খাবো আর…!”

জীবন কতোই না অদ্ভুত! সূচনালগ্নে আমরা সমাপ্তির জন্য যা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখি, সময় সময় উপসংহারে এসে তার বিপরীতও ঘটে।যা আমাদের কল্পনাতীত।এই যেমন আসফিয়ান বর্ণ।যাকে শাস্তি দিতে আজ সে হাজারো অধিক সদস্য নিয়ে গঠিত ‘আই গ্যাং’ এর চীফ।যাকে তিলে তিলে শেষ করবে বলে দীর্ঘ তিন বছর ব্যয় করে জঙ্গলের গহীনে মাটির নিচে টর্চার হাউস গড়েছে।আজ তাকেই নিজের ভাইয়ের পরিচয়ে নিবাসের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়েছে।সেটা অবশ্য শুধু এবং শুধুমাত্র মা’র মুখের দিকে চেয়ে। ওই ভদ্রমহিলার দীর্ঘ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে।যেই ছেলের জন্য তিনি আজও পথ চেয়ে বসে থাকেন। অপেক্ষার ফল নাকি মিষ্টি হয়, সরবে মেওয়া ফলে।বর্ণ জোসেফকে শেষ করে দিলে মায়ের অপেক্ষা সব বৃথা চলে যেতো না? তবে এতো সবের মাঝে সে তার কথা অটুট রেখেছে। পৃথিবীর বুক থেকে জোসেফ জোয়ার্দার নামটা মুছে দিয়েছে, সেই মূহূর্ত থেকে নতুন এক চরিত্রের সূচনা করেছে।তার নাম– ‘আব্রাহাম রণ’!

হুটহাট নতুন এক সদস্যের আগমন।যার দাবি সে এই পরিবারেরই রক্ত।আযাদ শিকদারের সন্তান।সকলের দৃষ্টিতে যখন একেরপর প্রশ্ন,অবুঝ’পনা।ঠিক তখনই হানিফা বেগম মুখ কুঁচকে প্রশ্ন করলেন, “আইজা কী চলতাছে এখানে? এই ছোকরা বর্ণ দাদুভাইয়ের জমজ মানে? তুমি জমজ ছেলে পয়দা করছিলা কবে? আমি জানি না ক্যান?”

#চলবে🦋

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here