গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা #পর্ব_৪

0
53

#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_৪
#লেখিকা_ছায়ালিপি

নিজের বরাদ্দ করা জায়গায় বসে কান্না করছে গালিব ‘ নিজের দেশ,ফ্যামিলি, বন্ধু সব কিছু ছেড়ে চলে যাচ্ছে সে তাই তো নিজেকে আটকাতে পারছে না। এই সব কিছু ভাবতে ভাবতে চোখ বন্ধ করে নিলো-

নিলা বাসায় আসলে তার মা মিসেস ফাতেমা জিজ্ঞেস করে ‘ কিরে মা মন খারাপ কেনো?

নিলা: মা নিলয়ের কাছে শুনলাম গালিব আর দেশে আসবে না, ও একি বারে দেশ ছেরে চলে গেছে।

এই টুকু কথা শুনে তূবা অনেক খুশি হয়ে রুমে চলে গেলো, বাকি কথা আর শুনে নি।

তূবা অনেক খুশি ‘কারণ ঐ খারাপ মানুষটাকে আর দেখতে হবে না।

———————- ———————-
❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️

টাইম স্কিপ,
৭ বছর পর-

দেখতে দেখতে ৭ বছর শেষ হয়ে গেছে, তূবা আজ প্রথম কলেজে যাবে। নিলা নিলয় দুইজন জব করে, তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে প্রায় চার বছর। নিলয় বলে দিয়েছে গালিব ছাড়া সে বিয়ে করবে না, আর এদিকে গালিব সে তার কর্ম জীবন নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে। সেটা জাপানের একটি কলেজে ইংলিশ প্রফেসর হিসেবে আছে। এই ৭ বছরে একটি বার ও গালিব দেশে আসেনি। নিলা গালিবকে খুব গালাগালি করে যে- তোর জন্য আমার বিয়েটা আটকে আছে তুই একবার আয় না দোস্ত। গালিবের এক কথা নিলয় আর তোকে ভালোবাসেনা বুঝলি, যদি ভালবাসত তাহলে কবেই বিয়ে করে নিত এত বাহানা দিত না। নিলার পিছন দিক দিয়ে তূবা যাচ্ছিলো, গালিব দেখে বলে কি রে তোর পিছনে ঐ মেয়েটা কে। নিলা দেখে তূবা দারিয়ে আছে। নিলা বললো ওটা তূবা-

গালিব তো অবাক, লিটিল বার্ড এত বড় হয়ে গেছে? তূবা এখন আর সেই পিচ্চি নেই এখন তার হাইট ৫ ফিট ৩ ইঞ্চি দুধে আলতা গায়ের রঙ, চুল গুলো কমর ছেরে পরেছে। গালিব মনে মনে বললো লিটিল বার্ড তো অনেক বড় হয়ে গেছে।

নিলা কি রে কি ভাবছিস?

গালিব কিছু না আচ্ছা ভালো থাক আমি গেলাম অন্য সময় কথা হবে।

তূবা কলেজে যাচ্ছে খুব ভয় করছে তার’প্রথম দিন কাউকে সে চিনে না। কলেজের গেটের সামনে দারিয়ে আছে তূবা’ সামনের দিকে তাকিয়ে’ পিছন থেকে একজন বলে উঠলো এইযে আপু শুনছেন-

তূবা পিছনে ঘুরলো- জ্বি বলেন কি বলতে চান?

ফাস্ট ইয়ার এর ক্লাস কোন দিক হচ্ছে একটু বলবেন প্লিজ, আসলে আমি আজ নতুন তার উপরে লেট হয়ে গেছে।

তূবা: আমি নিজেও নিউ স্টুডেন্ট তাই জানিনা।

মেয়েটি এবার বললো হাই! আমি মাস্তারা খান অনি হাত বারিয়ে, তূবা আহমেদ হাত বারিয়ে বলো।

দুজন এক সাথে হাটতে শুরু করলো, তূবা অনিকে একবার দেখে নিলো মেয়েটা তার থেকেও বেশি লম্বা দেখতে মিলিটারির মত। কিছুক্ষন পরে কয়েকজন মেয়ে কে দেখে তারা রুমে চলে গেলো। তারা একসাথেই বসেছে, আজ তাদের প্রথম দিন তাই সব টিচাররা শুধু পরিচয় হয়ে চলে যাচ্ছে। ক্লাস শেষ করে দুই জন এক সাথে বের হলো।

অনি: তূবা কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি!

তূবা: হ্যাঁ ‘ বলো।

অনি: আমরা দুইজন বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারি? তোমাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি আমার এত সুন্দর ফ্রেন্ড মিস করতে চাই না।

তূবা: অনেক আমার কোনো সমস্যা নাই, এমন একটা মিলিটারি বান্ধবী থাকলে ভয়ে কেউ কাছে আসতে চাইবে না।

অনি : আমাদের কাছে এমনিও কেউ আসবে না।

তূবা: অবাক হয়ে- কেনো?

অনি: ঐ যে দেখছো সামনে ঐ বডিগার্ড দুটো সব সময় আমার পিছনে ছায়ার মত থাকে। আমার ভাই এদের রেখে দিয়েছে আমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেই জন্য।

তূবা: বাহ, তুমি অনেক লাকি এরকম একটা ভাই পেয়েছো।

অনি: অনি শুধু হেসে গাড়ির কাছে আসলো আর কিছু বললো না। তূবা চলো তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেই।

তূবা: আরে না আমি একা চলে যেতে পারবো।

অনি: এই তো বললে আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড, তাহলে এত বাহানা কেনো!

তূবা : আচ্ছা চলো।

দুইজন গাড়িতে উঠে তূবার বাড়ির সামনে নামলো, তূবা অনেক রিকুয়েষ্ট করলো ভেতরে আসার জন্য কিন্তু অনি আসলো না। বলে অন্য দিন আসবো। অনি চলে গেলো তূবা বাড়ির ভিতরে ডুকলো।

মিসেস ফাতেমা : এসেছিস মা! যা ফ্রেশ হয়ে নে।
তূবা: মা আপু আসেনি?
মিসেস ফাতেমা : না, কেনো রে কিছু দরকার তোর আপুর সাথে।

তূবা: আপু আসলে জানতে পারবে।

তূবা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে রেস্ট নিচ্ছে’ এদিকে অনি ফোন করেছে তার ভাইকে, দুইভাই বোন মিলে গল্প করছে-

অনি: জানিস ভাইয়া আজ প্রথম দিন আমি একটা আমার বেস্ট ফ্রেন বানায় ফেলছি।

গালিব: বলিস কি! একদিনই বান্ধবী পেয়ে গেছিস।

অনি: মেয়েটা এতটাই সুন্দর আর ভালো যে না বানিয়ে থাকতেই পারলাম না-
আচ্ছা ভাইয়া তুমি কি দেশে আসবা না, আমাকে কি একটুও দেখার ইচ্ছা করে না তোমার?

গালিব: আমি কতবার তো বলাম তুই জাপানে চলে আয়, এখানে থাক শুনলি না। এখন আবার আমার সাথে লেগেছিস দেশে যাওয়ার জন্য। তুই আসতে চাইলে বল টিকিট বুক করে দিচ্ছি।

অনি: থাক তোমাকে আসার লাগবে না। তুমি থাকো তোমার মত আমি মরে গেলে তখন এসে কান্না করিও

অনি রাগ করে ফোন কেটে দিলো, গালিব হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।

নিলা বাড়িতে এসে তূবাকে জিজ্ঞেস করলো কিরে কলেজ কেমন গেলো আজ’ তূবা বলে অনেক ভালো আপু। প্রথম দিনেই অনেক মজা করেছি, আবার একটা নতুন বান্ধবী পেয়েছি। অনি নাম আমার থেকেও লম্বা, দেখতেও মাশাল্লাহ সুন্দর। কিছুক্ষণ কথা বলে নিলা তার রুমে চলে গেলো, ব্যাগ থেকে ফোন বের করে দেখে নিলয় ১০ বার ফোন করেছে। তারাতাড়ি করে নিলয়কে ফোন দিলো-

নিলয়: ফোন রেখে কই যাও, ফোনে পাওয়া যায় না কেনো?
নিলা: তূবার সাথে কথা বলছিলাম,এখন বলো এত বার কেনো ফোন দিছিলে।
নিলয়: গালিবকে ফোন করে কি বলেছো।
নিলা : যা শুনেছো তাই বলেছি, আচ্ছা ও কি আর কখনো আসবে না।
নিলয়: জানিনা, হয়তো বা ওর ভ্যাগ অকে নিয়ে আসতে পারে।

———————- ———————-
———————- ———————-
আজ তূবার জন্মদিন, প্রতিদিন এর মত আজ ও ফিরোজ আহমেদ তূবার ঘুম ভাঙিয়েছে। আজ তূবা ১৮ বছর পূরণ হলো, ফিরোজ আহমেদ ভাবছে কত তারাতাড়ি তার মেয়েটা বড় হয়ে গেলো। ফিরোজ আহমেদ তূবাকে একটা ছোট বক্স দিয়ে বললো, শুভ জন্মদিন মা। ফ্যামিলির কেউ জন্মদিন পালন করে না। তাই শুধু মিসেস ফাতেমা পায়াস রান্না করেছে, আর নিলা তাকে একটা ফোন গিফট করে জন্মদিন এর উইশ করেছে। আর জিসান তো ডিউটিতে এতটাই ব্যস্ত যে এস,এম,এস করে দিয়েছে। তাতে তূবার কোনো যায় আসে না, কারণ আজ না চাইতেও নিলা তাকে ফোন গিফট করেছে।
কলেজ থেকে প্রথম দিন এসে ভেবেছিলো ফোন কিনে দিতে বলবে। কিন্তু কিছু একটা মনে করে আর সেটা বলে নি-

প্রতিদিন এর মত আজ ও রেডি হয়ে বের হচ্ছিলো তূবা,

মিসেস ফাতেমা : কিরে আজ তোর জন্মদিন একটু সাজে শাড়ি পরে তো যেতে পারতি। এখন এই জুগে কি যে দিন এলো,প্যান্ট /শাট পরে চলা ফেরা করা।

তূবা: মা, এখন এই গুলোই চলে।

মিসেস ফাতেমা : বাইরে তো দেখি তোর চেয়ে ছোট ছোট মেয়েরা সেজে শাড়ি পরে কি সুন্দর করে ঘুরে বেরায়।তোর আপুকেই দেখ না শাড়ি পরলে কি সুন্দর দেখায়।

নিলা: থাক না মা, ও যেভাবে চলতে চায় চলতে দাও।

তূবা কিছু না বলে চলে গেলো, (সেদিন গালিব এর কাছ থেকে আসার পর থেকে আর কোনো দিন তূবা সাজেনি।) সেটা ভাবে জামাও পরে না। বাড়ির কেউ না জানলেও নিলা জানে তূবার এই পরিবর্তন এর কারণ।

তূবা কলেজে গেছে, অনি কেনো জানি আজ তূবার সাথে কথা বলছে না। তূবার খুব মন খারাপ হলো, আজ জন্মদিন এর দিন অনি এভাবে অকে ইগনোর করছে। আবার মনে হলো ও হয়তো বা জানে না আজ তূবার জন্মদিন। সব ক্লাস শেষ কররে অনি তূবাকে বলো আজ আমার সাথে একটা জায়গায় যেতে হবে।

অকে চলো-
গাড়ি গিয়ে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে থামলো, তূবা অবাক হয়ে বলছে, আমরা এখানে কেনো আসলাম?

অনি: ভিতরে চলো আগে,
তূবা আর অনি ভিতরে গেলে তূবার আরেক বার বড় রকমের সারপ্রাইজ হলো- পুরো রেস্টুরেন্ট বেলুন দিয়ে সাজানো, বড় করে লিখা Happy Birthday তুবা

কি সারপ্রাইজ কেমন লাগলো, এক মাত্র বান্ধবীর জন্মদিন আর আমি ভুলে যাবো এটা ভাবলি কি করে। তূবা অনেক খুশি হয়েছে আজ। তারপর দুজন মিলে কেক কাটলো, তূবা একটা শো-পিস গিফট করেছে।

তূবা : এত টাকা খরচ করার দরকার ছিলো না অনি, আজ তোমার অনেক টাকা নষ্ট হয়ে গেলো।

অনি: মোটেও না, এই টাকা গুলো ব্যাংকে বসে বসেও বরিং হচ্ছিলো, তাই তো তাদের নিয়ে চলে আসলাম।

তূবা : তোমাদের বড় লোকদের ভাই বড়লোকি ব্যাপার।

অনি তূবার কথায় হেসে দেয়- দুজনেই বাড়ি চলে গেলো। তূবা বাড়িতে এসে নিলাকে সব বললো, নিলা বললো তোর ভাগ্যে অনেক ভালো তাইতো এত ভালো একটা বান্ধবী পেয়েছিস।

———————- ———————-
অনি: ভাইয়া জানো আজ আমার বান্ধবির জন্মদিন ছিলো আমি অকে একটা সুন্দর সারপ্রাইজ দিয়েছি। ও অনেক খুশি আজ। মেয়েটা অল্পতেই অনেক খুশি হয়ে যায় ভাইয়া।

গালিব: তোর ও তো এই মাসে জন্মদিন তো তুই কি চাস গিফট বল আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

অনি: আমি যা চাই তুমি কি তাই দিবা আমাকে বলো?

গালিব: তুই শুধু একবার বলে দেখ।

অনি: সময় মত চেয়ে নিবো ভাইয়া ( আমি তো চাই তুমি দেশে চলে আসো ভাইয়া, এটাই আমি চাই। এটা আমার পাওয়া বেস্ট গিফট হবে)

——————————————–
——————————————–

তূবা বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছে অনি আজ অকে এত বড় একটা গিফট দিলো আর আমি ওর জন্মদিন এ কি গিফট দিবে।
কাল এ বিষয়ে অনির সাথে কথা বলতে হবে’ তূবা ঘুমিয়ে গেলো। সকালে উঠে দেখে ৮:১০ বাজে আজ অনেক দেরি হয়ে যাবে কলেজ যেতে তাই খাওয়া না করেই তূবা দৌড় দেয়।

তাড়াতাড়ি করে কলেজে ডুকতে গিয়ে কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যাচ্ছিলো, তূবা ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। আচমকা কারো হাতের স্পর্শে চোখ খুলে’ দেখে এক সুন্দর ছেলের হাতে তার হাত। কোথাও লাগেনি তো আপনার মিস-

তূবা: না না! আমার কিছু হয় নি বলে চলে যেতে নিচ্ছিলো।

হাত বাড়িয়ে – হাই আমি রাহুল, তোমার নাম কি?
আমার নাম তূবা।

রাহুল: নিউ স্টুডেন্ট?
তূবা: জ্বি, আচ্ছা ধন্যবাদ।

তূবা ক্লাস রুমের দরজার সামনে এসে হাফ ছারলো, স্যার এখনো আসেনি ক্লাসে’ তূবা অনির পাশে গিয়ে বসলো।

অনি: আজ এত দেরি হলো যে,

তূবা: ঘুম থেকে লেট উঠেছি তাই আসতে দেরি হয়ে গেলো।

হঠাৎ ক্লাসে রাহুল নামে ছেলেটি ডুকলো, সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো, শুভ সকাল স্টুডেন্ট, আমি তোমাদের বাংলা টিচারে পরিবর্তে ক্লাস নিবো। কেমন আছো সবাই।

তূবা অনি কে বলছে আরে ইনি টিচার আমি ভেবেছিলাম কোনো স্টুডেন্ট হবে হয়তো বা।

অনি: তুই স্যার কে চিনিস?
তূবা: আরে না, কলেজে ডুকতে ধাক্কা লেগেছিলো। ভ্যাগিস কিছু বলিনি নাহলে আজ কি যে হতো।

সবাই ক্লাসে মনোযোগ দিলো, আর মাঝে তূবা অনি কে বলছে-

তূবা- অনি তোমার সব থেকে প্রিয় জিনিস কি?
অনি- হঠাৎ এই প্রশ্ন কেনো?
তূবা: আরে বলো না,
অনি: আমার কাছে সব চেয়ে প্রিয় সব চেয়ে সেরা আমার ভাই। কিন্তু এখন সে আমার থেকে অনেক দূরে, আমি অনেক মিস করি ভাইকে।
তূবা: কেনো তোমার ভাই কোথায় আছে?
অনি: জাপানে থাকে, ৭ বছর হলো এখনো দেশে আসে না।
তূবা: কেনো আসে না?

অনি: ছোট বেলায় আমার মা মারা যায়, মা মারা যাওয়ার পরে আমাদের দেখাশুনা কররার কেউ ছিলো না। ভাইয়ার তখন ১০ বছর বয়স আর আমার ১ বছর, বাবা কাজে এতটাই ব্যস্ত ছিলো যে আমাদের খোঁজ রাখতো না। ভাইয়া আমার দেখা শুনা করতো, ভাইয়া বাবাকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু বাবা এসব বুঝতো না। আমি যখন হাতটে শিখি ভাইয়া অনেক খুশি হয়ে যায় বাবাকে বলতে। বাবা তখন কোনো একটা কাজে ব্যস্ত থাকায় ভাইয়ার সাথে রাগারাগি করে। ভাইয়া কান্না করতে করতে চলে আসে, পরে বাবা এলে ভাইয়া কিছু কথা বাবাকে শুনিয়ে দেয়। এতে বাবা কিছু একটা মনে করে দুইদিন পরে আমাদের জন্য একটা নতুন মা নিয়ে আসে। ভাইয়া খুশি মনে মেনে নিয়েছিলো আমার জন্য, আমাদের নতুন মা অনেক আদর করতো আমাদের কোনোদিন মায়ের অভাব বুঝতে দেয় নি। কিন্তু ভাইয়ার আর বাবার অনেক দূরত্ব বেরে গিয়েছিলো’ ভাইয়া যখন ক্লাস ৮ এ তখন এক ছেলের সাথে মারামারি করে ছেলেটাকে হসপিটাল এ নেয়া হয়। বাবাকে তার মিটিং ছেড়ে আসতে হওয়াতে। বাবা সেদিন অনেক মেরেছিলো ভাইয়াকে, সাথে অনেক বাজে ব্যবহার করেছিলো ভাইয়ার সাথে সেই থেকে ভাইয়া বাবাকে দুই চোখে দেখতে পারে না। ভাইয়া সেদিনের পর থেকে আর ওই বাড়িতে যায়নি। আর না বাবার টাকায় চলা ফেরা করেছে, আমার দাদু ভাইয়ার প্রথম জন্মদিন এ ভাইয়ার নামে দাদুর অর্ধেক সম্পতি লিখে দিয়েছিলো। তাই ভাইয়াকে বাবার কাছে কোনোদিন হাত পাততেও হয় নি। আর Hsc পরে হঠাৎ করেই ভাইয়া জাপান চলে যায়। আর আসেনি। ৫ বছর আগে বাবা এক্সিডেন করে আর হাটা চলা করতে পারে না। ভাইয়ার সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আমাকে দিয়েও বাবা অনেক বার চেষ্টা করেছে।

চলবে……….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here